বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমান্টিকগিরি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্প: রোমান্টিকগিরি লেখক: Classic Boy Papon ( কলা গাছের বান্দর) -- পাপন!! আমি তোমার থেকে মুক্তি চাই?? -- কেন?? কি দোষ আমার? -- তোমার কোন দোষ নেই তবে আমি তোমার সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব না?? -- কি দোষ আমার সেটা তো বলো?? -- দেখ পাপন! তোমার মত ক্ষেত, আনরোমান্টিক আর আন স্মার্ট ছেলের সাথে আমি ভবিষ্যৎ পার করতে পারব না??? -- ( মাথা নিচু করে চুপ করে দাড়িয়ে আছি) -- সরি!!!! আমি চলে যাচ্ছি, তুমি ভালো থেকো?? কথা গুলো বলে সিফা চলে গেলো আর আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে সাদা মেঘের আনাগোনা দেখতে লাগলাম যেমন সাদা মেঘ গুলো একপাশ থেকে অন্য পাশে চলে যাচ্ছে। তেমন সিফা আমাকে ছেড়ে অন্য কারো হাত ধরতে চলে গেলো......... কথা গুলো আজকের নয়, সেই দুই বছর পুরনো কথা। যা মনে পরলে আজও আমার ঘুম হয় না। তাই আমি নেশার মত খুজে ফিরি কোথায় ভালবাসার কমতি দেখা দিলো। সেই খানেই নিজেকে সপে দেই............ আমি পাপন, এবার সিভিল ইন্জিনিয়ারিং ৩য় বর্ষে পরি। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটা করি। আর সেটা হলো কন্টাক্ট নিয়ে প্রেম করি। কি বুঝলেন, খারাপ কিছু। তা না যদি কখনো কেউ প্রেম করে কষ্ট পায়, নিজেকে শেষ করতে চায়। আমি ওই পরিবারের থেকে কন্টাক্ট নিয়ে সেই মেয়ের মনে প্রেম উৎপন্ন করে দিয়ে বন্ধু হয়ে বিদায় নেই। আর বুঝিয়ে দিয়ে যায়, সবার আগে পরিবার, পরে প্রেম। বুঝিয়ে দেই ভালবাসা শুধু কষ্ট না, সত্যিকারের ভালবাসা কখনো কাদায় না। আর আমার কাজ করাটা সম্ভব হয়েছে সিফার জন্য। ও আমাকে ক্ষেত, আনরোমান্টিক আর আনস্মার্ট বলার কারনে নিজেকে বিপরীত অর্থে প্রমান করে দেখিয়েছি??এখন আমি স্মার্ট, রোমান্টিক আর অনেক স্টাইলিস। তবে এই ২ বছরের মাঝে সিফার সামনে কখনো যাই নি তবে দূর থেকে অনেকবার দেখেছি । কারন আমি তো ওরে সত্যিকারের ভালবাসতাম আর ও অন্য কারো হাত ধরে পার করে দেয় সময়। ভর্সিটির পুকুর পারে বসে আছি। আজ একজন আমার সাথে দেখা করতে আসার কথা। আমার এক বন্ধুর কাছে আমার এই সব প্রেম ঠিক করার কথা শুনে, আমাকে ফোন দিয়ে আমার সাথে দেখা করতে চায়। আমি ওনাকে ভার্সিটিতে আসতে বলছি। অবশ্য ওনি আমাকে ওনার অফিসে যেতে বলছে তবে আমাস কাজ করার স্টাইলটা আমার মত। তাই আমি ওনাকে এখানে ডেকে আনলাম....... -- এই যে শুনো?? -- জ্বি বলেন?? -- তুমি পাপন?? -- আপনি? -- আমি আফতাব রহমান, কাল তোমার সাথে ফোনে কথা বললাম?? -- হুম বসেন?? -- তোমার সম্পূর্ণ পরিচয় পত্রটা একটু জানার দরকার ছিলো?? -- নাম জানেন এটাই অনেক কিছু জেনে গেছেন?? -- বুঝলাম না কিছু?? -- বুঝতে হবে না, আমাকে বিশ্বাস করলে কাজটা আমি হাতে নিবো??? -- মনে হচ্ছে না তুমি পারবে?? -- ধন্যবান আন্কেল, আমি গেলাম?? -- মানে?? -- আমি আপনার কাজটা হাতে নিতে পারব না?? -- কেন কি হলো?? -- আমি বিশ্বাসের উপর কাজ করি আর আমার কাজে কোন বাধা দেওয়া আমার পছন্দের না। -- দুঃখিত আমি বুঝতে পারি নি, তুমি এতো রাগ করবে??আচ্ছা তুমি কাজটা নাও, কেউ তোমাকে কোন প্রশ্ন করবে না। আমি কথা দিচ্ছি?? -- আচ্ছা এবার কাজটা বলেন?? ওনি বলতে শুরু করলেন.......... আমার দুই মেয়ে, এক ছেলে। ওদের মা আজ ৫ বছর আগেই সংসার মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। এখন বড় ছেলে একটা বিয়ে করে দেশের বাইরে বউ নিয়ে থাকে। আমার ছেলেটাই সবার বড়। ও না জানিয়ে বিয়ে করে। এতে আমি সাময়িক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। মেয়েদের দিকে তেমন একটা খেয়াল রাখতে পারি নি। হঠাৎ কিছুদিন আগে আমার বড় মেয়ে বিষ খেয়ে সুইসাইড করতে চেষ্টা করে কিন্তু তারাতারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কারনে বেচেঁ যায়। তাই তেমন কোন সমস্যা দেখা দেয় নি। এখন ভালোই আসে, পরে শুনতে পারি ও একটা ছেলেকে ভালোবাসতো আর ছেলেটা ওরে ধুকা দেয় তাই এমন করছে? এবার তুমি বাচাও বাবা, যদি আমার মেয়েটা আবার কিছু করে ফেলে?? -- বুঝলাম, এবার আপনি ঠিক কি করতে বলছেন?? -- ওর ভালো বন্ধু হয়ে ওর মন থেকে প্রেমটা মুছে দাও?? -- আপনার কাজ হয়ে যাবে? শুধু আপনি আপনার মেয়ের প্রতিদিন কোথায় যায় এর একটা তালিকা, ওর পছন্দ অপছন্দ আর ওর একটা ছবি আজ রাতের মাঝে মেইল করে পাঠিয়ে দিয়েন???? -- আচ্ছা বাবা। -- তাহলে আমি আসি?? -- তোমার ফিস?? -- হা হা হা হা হা হাসতে হাসতে চলে আসলাম কারন আমি তো এইসব কাজের জন্য টাকা নেই না। যা করি মন থেকে করি। রাতে শুয়ে শুয়ে ই-মেইল চেক করছি। হুম আফতাব সাহেবের থেকে একটা মেইল আসলো। ওনার বড় মেয়ের নাম নীলিমা। কাল থেকে কাজে লেগে যেতে হবে। কিন্তু ওনি ওনার ছোট মেয়ের সম্পর্কে কিছুই বলে নি........ রাস্তায় দাড়িয়ে আছি কারন এই রাস্তা দিয়েই নীলিমা আসবে, ভার্সিটি যাওয়া জন্য। এই তো নীলিমা আসছে, যাই একটু ভাবটা দেখে আসি..... -- এই যে মিস. চাশমিশ? কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি?? এতো বড় লোকের মেয়ে আজকাল হেটে কলেজ যায়??(আমি) -- আপনি কে??(নীলিমা) -- নামটা বলব নাকি......... -- নাকি মানে?? -- কিছু না?? -- আপনার নাম কি?? -- যদি বন্ধু হন তবেই বলব?? -- ফ্লাট করছেন তাই না। -- বুঝতে এতো দেরি হলো?? -- তবুও ভালো, বুঝতে তো পারলাম?? -- এবার বন্ধু হয়ে যান?? -- কেন হবো?? -- বন্ধু হতে কি কারন লাগে?? -- তা নয় তবে চেনা পরিচয় তো থাকতে হবে?? -- আমি তো তোমাকে খুব ভালো ভাবেই চিনি?? -- তাই নাকি, তাহলে একটু বলবে আমি কে?? -- তুমি নীলিমা, এবার অনার্স বাংলা বিভাগে ২য় বর্ষে পরো আর সব থেকে বড় কথা হলো কিছু দিন আগে সুইসাইড করতে গেলে কিন্তু মরো নাই। -- ওই তুমি কে বলো তো?? -- তোমার রোমান্টিক হিরু?? -- তাই না, এখন কিন্তু আমার ভয় করছে?? -- কেন কেন?? -- তুমি আমার এত কিছু জানো আর আমি তোমাকে চিনি না, কিডন্যাপার না তো?? -- আরে হুম, আমার বন্ধুত্ব দিয়ে কিডন্যাপ করব?? -- খুব ভালো কথা বলতে পারো তো?? -- হুম জানি, এবার আমার বন্ধু হয়ে যাও তো?? -- মাত্র ১ দিনেই?? -- হুম সমস্যা কি?? -- না না আস্তে আস্তে পরিচয়টা বেড়ে যাক, তার পর না হয় বন্ধু হলাম??? -- হা হা হা চলো তোমাকে ভার্সিটি পর্যন্ত দিয়ে আসি?? এবাবে প্রায় ২ সপ্তাহ চলতে থাকলো, আস্তে আস্তে ওর বিশ্বাসের যোগ্য হয়ে উঠলাম। এখন ও আমাকে তুই করে বলে, মানে একজন অন্যজনের অনেক ভালো বন্ধু। এবার সময় করে ওরে বুঝাতে হবে ভালোবাসা শুধু প্রেমিক বা প্রেমিকার মাঝে হয় না,পরিবারের সবার সাথেই হয়। আমি ওর সাথে ওর ভার্সিটির মাঠি বসে আছি.......... -- কিরে হঠাৎ চুপ করে আছিস কেন??(নীলিমা) -- কই না তো??(আমি) -- এতো দিন তো তুই আমাকে জ্বালাস আর আজ তুই কি না ঠান্ডা হয়ে আছিস?? -- বাদ দে তো, ঠিক আছি?? -- তা তো দেখতেই পারছি?? -- হুম,আচ্ছা তোর কাছে ভালোবাসা মানে কি রে? -- হঠাৎ এই প্রশ্ন করলি কেন পাপন?? -- আগে আমার কাছে ভালবাসার উত্তর ছিল এক রকম আর এখন অন্যরকম??? --দুইটাই বল?? -- আগে ভাবতাম ছেলেদের সাথে যেই সম্পর্ক হয়, হয়ত ঐটাই ভালবাসা। আর এখন মনে হয়,ভালবাসা একটা পবিত্র সম্পর্ক, যা শুধু মাত্র দুইটা ছেলে মেয়ের মধ্যে হয় না, পরিবারের মায়ার বাধনই ভালোবাসা। -- বাব্বা তুই তো ভালোই রোমান্টিক হয়ে গেছিস?? -- হুম তোর সাথে থাকতে থাকতে?? -- হা হা হা হা -- হাসবি না, তোর সাথে সময় কাটাতে কাটাতে আমিও একটু রোমান্টিকগিরি শিখে গেছি?? -- তাই না??? -- হুম এবার চল তো?? -- কোথায়?? -- আজ তোর সাথে একজনের দেখা করাব?? -- কোথায় যাবো এটা তো বলবি?? -- আয়, তারপরই বুঝবি??? ও আমাকে টেনে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো। ও একটা রিকশা ডাক দিলো আর ওর বাাড়ির ঠিকানা বলল। -- কিরে তোর আব্বুর সাথে দেখা করাবি নাকি?? -- আগে চুপচাপ চল তো?? আর কোন কথা হলো না, ওর বাড়ির সামনে এসে রিকশা থামলো। অনেক বড় লোক ওরা, তবে ওদের ব্যবহার দেখে তা বুঝায় যায় না। ও আমাকে নিয়ে বাড়িতে গেলো........... -- তুই এখানে একটু বস তো, আমি একজন কে নিয়ে আসছি??(নীলিমা) আমি চুপচাপ বসে রইলাম, বসে বসে ঘরটা ভালো করে দেখছিলাম। হঠাৎ যা ঘটলো আমি পুরাই অবাক হয়ে গেলাম। সিফা কোথায় থেকে ঝড়ের বেগে এসে আমাকে চড় মারলো আর জড়িয়ে ধরলো........ -- সিফা?? -- মনে রাখস তাহলে?? -- হুম?? -- ভাবলাম হয়ত ভুলেই গেছো, কত কষ্ট দিছো তুমি জানো??? তোমাকে ২ বছর আগে পরিবর্তন হতে বলছি বলে, এমন ভাবেই পরিবর্তন হলে যে আমাকে ছেড়ে চলে গেলে?? তোমার যেন রাগ হয় তাই আমি আমার বন্ধুর হাত ধরে বসে সময় কাটাতাম। কিন্তু কখনো তুমি একবার আসলে না, আমাকে শাষন করলে না??? নিজের নাম্বার, ঠিকানা সবই পরিবর্তন করে ফেলেছ?? দুইটা বছর তো অনেক কষ্ট দিলে আর এখন রোমান্টিকগিরি করে বেড়াও?? -- তুমিই তো চেয়েছ আমি পরিবর্তন হই?? -- হুম চেয়েছি??সবার মত আমিও তোমাকে পরিবর্তন করতে চাইছি?? -- তাই তো পরিবর্তন হয়েছি?? -- পরিবর্তন হতে বলেছি, আমার থেকে হারাই যাইতে বলি নি?? -- এই যে আমি কিন্তু এখানে আছি??(নীলিমা) সিফা আমাকে ছেড়ে দিলো........... -- আমি কিছুই বুঝতে পারছি না?? (আমি) -- আমি বলছি, সিফা আমার ছোট বোন। তোরে ও অনেক ভালবাসে। কিন্তু তুই বুঝতে পারিস নাই। ও তোমাকে আনরোমান্টিক, ক্ষেত,অানস্মার্ট বলছে বলে তুই নিজেকে পরিবর্তন করতে ঠিকানা, নাম্বার সবই পরিবর্তন করে ফেলেছিস। আর নিজেকে এতো পরিবর্তন করলি যে কোথাও তোকে খুজে পায় নি?? পরে আব্বু অনেক চেষ্টা করে তোর খুজ বার করে?? ওনি তোকে বলে নীলিমা সুইসাইড করতে চেয়েছিলো কিন্তু এই কাজটা আমি না সিফা করতে চেয়েছিলো। যদি তোকে প্রথমে সিফার কথা বলতাম তাহলে হয়ত তুই এখানে আসতি না, তাই এই প্লেন করলাম??(নীলিমা) -- সব মাথার উপর দিয়ে গেলো, এবার তুই তো আমার সাথে রোমান্টিকগিরি করলি??(আমি) -- তাই, তোর থেকেই সব শিখা?? (নীলিমা) -- আমাকে আর ছেড়ে যেও না, খুব ভালবাসি যে তোমাকে??(সিফা) -- না আমি পারব না?? (আমি) -- কেন??(সিফা) -- যদি আমাকে ভালবাসতেই হয় তাহলে ২ বছর আগের ক্ষেত পাপনকেই ভালবাসতেই হবে??(আমি) -- আমি তাতেই রাজি?? -- ওরে কাছে এনে বললাম। আর দেরি কিসের, চলো দুজনের রোমান্টিকগিরি শুরু করে দেই....... এখান থেকে আবার নতুন করে শুরু হয়ে যায় আমাদের রোমান্টিকগিরি........ বি:দ্র: সব কথা মনের কথা না, কিছু কথা এমনি রাগে বলে ফেলি তাই বলে রাগ করাটা ঠিক না। পছন্দের মানুষ চাইবেই আপনাকে পরিবর্তন করতে। তাই এটা মনে পুষে রাখতে নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now