বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ছায়াময়

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ছায়াময়..... ; ; ; কানে হেডফোন, হাত দুটো প্যান্টের পকেটে,মানকি টুপি পরে মুখ ঢেকে দেয়া,ভোর কুয়াসার ভেতরও চোখে বড় সাইজের একটা সানগ্লাস মাঝেমাঝে হাতের রুমাল দিয়ে কুয়াসায় ভিজে যাওয়া সানগ্লাস মুছতে হচ্ছে।এত সব কিছুর কারন হল সামনের মেয়েটা।ফলো করছি তো তাই........ এর আগে একাধিক বার বকুনি খাইছি মোহনা নামের ওই মেয়েটার কাছে।দোষ হচ্ছে পিছু নেয়া।এক বছর ধরে এটাই করছি।বকুনি খেতে খেতে এখন আর গায়ে লাগে না। তাও যাতে নিরিবিলি ফলো করা যায় তাই এমন ছদ্দ নেয়া।মোহনার উদ্দেশ্য কোচিং, আর আমার উদ্দেশ্য ওর পিছু নিয়ে ওকে পৌঁছে দেয়া।সরাসরি বলতে পারিনা তাই এটা করে যাচ্ছি। যদি ওর থেকে কোন সাড়া পাওয়া যায়।ততক্ষণে হেডফোনের গান চেঞ্জ হয়েছে..... যেওনা চলে বন্ধু, আমায় একা ফেলে....... এই সময় এই গান, মন চাইতেছে দৌড়ে গিয়ে জাপটে ধরি।কিন্তু সে সাহস কই? তখনি পা পিছলে গেল।দুপা সামনে ছড়িয়ে দিয়ে পশ্চাৎদেশ মাটিতে ভর দিয়ে বসে আছি।এ অবস্থার জন্য দায়ি কলার ছোলা।যে বেয়াক্কেল এখানে এটা রাখছে শালার যেন কোনদিন বিয়ে না হয়।বদদোয়া দিচ্ছি আর আশপাশ দেখছি। না কেউ দেখেনি।তাড়াতাড়ি উঠেই পেছন ঝাড়তে ঝাড়তে ছুটলাম।কিন্ত মোহনাকে আর দেখছি না।মিনিটের ব্যবধানে কই যাবে।চশমা টা খুলে হাতে নিয়ে এদিক ওদিক করছি...... হঠাৎ কেউ পেছনে কেশে উঠলো! চমকে গেলাম।মোহনা........ --............... ( কোন কথা নেই শুধু চোখের ভ্রু জোড়া উপর নিচ করল।বোঝাতে চাইছে কি সমস্যা? ) --............... ( মাথাটা কেবল নেড়ে বোঝালাম কিছু না) -- রাস্তা মাপ..... -- জ্বী...! -- বললাম বিদেয় হও বোঝনা? -- জ্বী... -- কি জি জি করছ যাও......... সেদিনের মত বিদায় নিতে হল।শেষমেশ ধরা খেলাম আবারও! ; ফোন নাম্বার ম্যানেজ করছি আরো ছয় মাস আগে। কিন্তু কখনো কল করার সাহস হয়নি।প্রতিদিন ভাবি আজ কল করব কিন্তু সেই আজটা আর আমার হয়না।আর আজকে যে স্টাইলে ধরা টা খাইছি তাতে করে প্রেস্টিজ পুরা প্লাস্টিক হয়ে গেছে।কি করা যায় ভাবছি..... নাহ কিছুদিন আর ওর আশপাশেও যাব না।এক দুই করে ছয় দিন পার করে দিলাম।মনটা কে শিকল দিয়ে বেধে সাগরে ফেলে দিছি।ছয়টা দিন মনে হয় যেন ছয় বছর হয়ে গেছে।না পেরে আবার গেলাম... ; দুই ঘন্টা অপেক্ষা করেও মোহনার দেখা মিলল না।বাড়ি চলে এলাম।পর পর তিন দিন এমন হল।এমন কখনো হয়নি যে মোহনা পড়া মিস করে বাসায় থাকে।সেদিন রাতে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসলো... -- হ্যালো....? -- চলে যাচ্ছি, আর হয়তবা দেখা হবে না।আপনাকে খুব মিস করব।গত ছয় দিন আপনি আমাকে ফলো করেন নি।খুব মিস করেছি আপনাকে। বাবার বদলি হয়েছে অনেক আগেই।মাকে পড়ার অজুহাত দিয়ে এখানে আমি থাকতে বাধ্য করেছিলাম।কিন্তু আর পারছি না।বাবা সব কিছু ঠিক করে ফেলেছেন।আগামিকাল চলে যাচ্ছি।আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আসেন নি আপনি। ভাল থাকবেন..... -- মোহনা তু.......( লাইন কেটে দিয়েছে কথাটা শেষ করতে পারিনি ) পরে অনেক বার চেষ্টা করেও কন্টাক্ট করতে পারলাম না।ওর নাম্বারটাতে ফোন দিয়ে বন্ধ পেলাম।হাজারটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।অবাক লাগছে মোহনা নিজে আমাকে ফোন করেছে।আমার নাম্বার পাবে কোথায়? আর আমাকে এত কথা বলবে কেন।ভালবাসে আমাকে? সব কিছুই অজানা রয়ে যাবে? আর কোনদিন দেখা হবে না? ঘড়িতে রাত এগারটার সংকেত দিচ্ছে।এখন বাইরে যেতে পারব না।সকালে কিছু একটা করতে হবে মোহনা চলে যাওয়ার আগে।সারা রাত ঘুম হল না টেনশনে।ভোরের দিকে চোখটা কেমন বুজে আসলো..... দরজায় মা এসে ডাক দিয়ে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিল। ততক্ষণে সকাল দশটা...... মোহনার বাসার দিকে ছুটলাম।অনেক দেরি হয়ে গেছে ততক্ষণে....... ; ; সেদিন ওদের কাউকে পাইনি। অপেক্ষা করেছি মোহনা যোগাযোগ করবে।কিন্তু করেনি আমি করতে চেয়েছি কিন্ত ওদের কোন ফোন নাম্বার বা এড্রেস কিছুই জানি না।যে নাম্বার গুলা ছিল সব বন্ধ। ; ; এখন আর কারো জন্য পথে অপেক্ষা করতে হয়না।সময়টা থেমে থাকে নি।তিন বছরে গ্রাজুয়েশনটা কমপ্লিট হয়ে গেল।অনেক দিন থেকে ঘুরে বাড়াচ্ছি।মা আর বাবাকে আমার বিয়ে নিয়ে কথা বলতে শুনলাম সেদিন।যদিও আমাকে কিছু বলেনি।বাবা আমাকে বলল তার সাথে ব্যাবসায় যোগ দিতে।আমার ইচ্ছা আরও পরে সেটা করার। -- ওই প্রহর...?...... প্রহর......? আরে ওঠ... -- কি হল মা.... -- বাসায় মেহমান আসছে।আর সন্ধায় কেউ ঘুমায়? -- এই সময় মরতে কে আসছে? -- ধুর উঠবি তুই.....! -- তুমি যাওনা মা। -- আচ্ছা.... গেলাম। আবার ঘুমিয়ে পড়লাম।কিছুক্ষন পর কানে কেউ এমন জোরে চিমটি কাটলো... একলাফে উঠে বসলাম।ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম মোহনাকে নিজের ঘরে দেখে।কল্পনাও যা করিনি কখনো..... -- হ্যালো....? ঘোড়ার মত চোখ মেলে ঘুমাচ্ছেন নাকি এবার? দেব আর একটা? -- হ্যা...? তু.... তুমি? -- চিনতে পারছেন না? নাকি পরিচয় দিতে হবে? হঠাৎ গিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।মনে হয় কোন ঘোরের ভেতর আছি। না হয় স্বপ্ন দেখছি। -- কি করছেন? আন্টি চলে আসবে ছাড়েন। আবার হঠাৎ ছেড়ে দিলাম।বিব্রত বোধ করছি।কি করে বসলাম! একটা ঘোরের মাঝে আছি। -- আ... আম সরি....... -- হইছে নিচে আসেন।সবাই নিচে আছে... -- আসছি... ; মোহনা বেরিয়ে গেল।রেখে গেল সেই নয়ন জূড়ানো হাসিটা। আর গন্ধটা....... ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেস হলাম।কি হচ্ছে এখনো বুঝতে পারছিনা।নিচে নেমে মোহনার বাবা মা সবাইকে দেখলাম।সবার সাথে কথা বললাম।ওনারা রাতে থেকে সকালে আবার বিদায় নিল.....মোহনা থেকে গেল আমাদের বাড়িতে। -- মা কি হচ্ছে বলবে আমাকে? -- কি আর হবে।তুই মেয়েটাকে পছন্দ করিস মোহনাও করে।আর আমাদেরও সবার পছন্দ হইছে।তাই........ -- তুমি ওকে পেলে কি ভাবে? -- তোর বাবা দেখেছিল তুই মেয়েটাকে ফলো করতি..... আমাকেও বলল তোর বাবা।দুইজনে ওদের বাড়ি গেলাম কথা বললাম ওরা তখন শুধু সময় চেয়েছিল। ওরা যখন চলে যাবে মোহনা অনেক কান্না করছিল।আমি ওকে বুঝিয়ে পাঠিয়েছিলাম।তারপর আমার সাথে ও সব সময় যোগাযোগ রাখতো। সময়ের সাথে সাথে আজকের এই অবস্থা..... -- মা থ্যাংক ইউ........!লাভ ইউ মা.....( মাকে জড়িয়ে ধরলাম।) -- আরে তোর বাবাই তো সব করল..... -- বাবাকে তুমি আমার হয়ে থ্যাংকস দিও।তোমরা গ্রেট বাবা মা.... এহেম... এহেম.... পেছনে সেই কাশির আওয়াজ, যেটা শুনেছিলাম তিন বছর আগে যখন ফলো করতাম। -- তোরা কথা বল আমি আসছি..... ; -- আব্বু আম্মুর সাথে তুমি গেলেনা যে! -- গেলে খুশি হতেন? -- জানি না... -- ফলো কেন করতেন? -- জানি না... -- তখন জড়িয়ে কেন ধরলেন? -- জানি না... -- জানেন কি? -- তুমি কি এখন থেকে এখানে থাকবা? -- হুমম..... কোন সমস্যা হবে? -- না না... -- তাহলে...? -- কিছু না..! -- আমার এক্সাম শেষ। তাই এখানে আসছি।আন্টি অনেক করে বলল। আবার চলে যাব কিছু দিন পর। -- চলে যাবে কেন? -- তা থাকব কেন? -- থাকতে পার তো..... -- কেন পারি সেটা তো বলেন? -- মোহনা.... আমি..... -- হুমম বলেন.... -- তুমি কি সত্যি চলে যাবে? -- আপনি কোন লেভেলের গাধা হ্যা? কে আপনাকে গ্রাজুয়েশন সার্টিফিকেট দিছে হ্যা? -- কি বলছ এসব? -- একটা মেয়েকে ভালবাসেন সেটা চার বছরেও বলতে পারেন না! এমন কি বিয়ে ঠিক হইছে তারপরও না! -- ভয় করে... যদি ফিরিয়ে দাও। -- আরে... আমাদের বিয়ে কিছুদিন পর। -- তাইলে বলি হ্যা? -- বলতে হবে না... -- মোহনা আই লাভ ইউ... জান না কত ভালবাসি তোমায়! কতটা মিস করেছি তোমাকে এতদিন। কখনো ভাবিনি আবার দেখা হয়ে যাবে।আর যখন হয়েছে, কোথাও যেতে দেব না। -- তা কি করবেন? -- তুমিইই তো বললে বিয়ে...... -- বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে আমার ঠেকা পড়ছে! -- এএএএহ বেকার মেয়েকে বিয়ে করতে আমার ঠেকা পড়ছে যেন! -- এই আপনার লজ্জা শরম নাই, বউকে দিয়ে কাজ করাতে চান? -- একদমইইইই নাই... -- শয়তান একটা... ; কিছুদিন যাবত বাবার সাথে বিজনেস এ আছি।পুরোটা বুঝে উঠতে যে সময় তারপরই মোহনার বাবা মা আসবে। দু মাস পর.... আমি দাড়িয়ে আর মোহনা বিছানায় বসে।একই ঘরে,শুধু ঘর না বাসর ঘর..... এর সামনে গিয়ে বসলাম। অনেক বসে আছি। আমি কিছু বলছিনা দেখে মোহনা মাথে উচু করে চাইলো আমার দিকে। --............ ( কিছু বললাম না ভ্রু জোড়া উপর নিচ করে বোঝালাম এখন কি করবা? --............ ( লাজুক হাসিটা দিয়ে বুঝিয়ে দিল আজ আর কিছু করার নেই ) -- আজও তুমি বলনি ভালবাস... -- সব বলতে হয় নাকি? -- হুমম,বল... -- নাহ বলব না... -- তাই? -- উমম -- আচ্ছা..... এই না....... ভালবাসি! ; ; ; লেখা : পারভেজ ইমরান (প্রহর)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now