বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ ( চ্যাপ্টার - ৫ )

"গোয়েন্দা কাহিনি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৫ দীর্ঘ এক মুহূর্ত নীরবতা . . . যতদূর চোখ যায়, কোন নৌকা বা জাহাজের চিহ্নও নেই। আর কতক্ষণ থাকতে হবে এ-দ্বীপে ? রবিন মিলফোর্ড: “তোমার নৌকা গেল। দামি অনেক জিনিসপত্র গেল আমাদেরও।” মুসা আমান: “হ্যাঁ,” গম্ভীর হয়ে আছে মুসা। “অনেক দামি।” একে অন্যের দিকে চেয়ে আছেদুই গোয়েন্দা। দু’জনের মনে একই ভাবনা। এক সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল দু’জনে, –“ওগুলো তো তুলে আনতে পারি আমরা !” বিষণ্ণতা ঝেড়ে ফেলল পাপালো। হাসল। পাপালো হারকুস: “নিশ্চয় পারি। চল। আমি সাহায্য করব তোমাদেরকে।” তাড়াহুড়ো করে ডুবুরির পোশাক পরে নিলো আবার রবিনআর মুসা। পানিতে নামল। হেঁটে চলল। ডুব দিল গভীর পানিতে এসে। পাশাপাশি ভেসে আছে মুসা আর রবিন। তল থেকে পাঁচ ফুট ওপরে। বিচিত্র শব্দ তুলে ব্রীদিং টিউব থেকে বেরিয়ে ওপরে উঠে যাচ্ছে বুদবুদ। পাশ দিয়ে অলস ভঙ্গিতে ভেসে চলে গেল এক ঝাঁক সাগর-কই, ঢুকে পড়ল সামনে দেয়ালের গর্তে, হারিয়ে গেল অন্ধকারে। মণি ছাড়া বিশাল এক চোখের মত দেখতে লাগছে সুড়ঙ্গ-মুখটাকে। এক কোণ থেকে আরেক কোণের দৈর্ঘ্য বারো ফুট। চোখের মাঝামাঝি জায়গার উচ্চতা ফুট পাঁচেক। ধারগুলো মসৃণ, শেওলা জন্মাতে পারে না স্রোতের জন্যে। সুড়ঙ্গ-মুখের বিশ ফুট দূরে পড়ে আছে পাপালোর নৌকাটা। দুলছে। জায়গা বদলকরছে ধীরে ধীরে। এগিয়ে আসছে এদিকেই। সেদিকে একবার চেয়েই চোখ ফিরিয়ে নিলো রবিন। নৌকার প্রতি খেয়াল দেবার সময় নেই এখন। দুই গোয়েন্দার হাতে টর্চ।সুড়ঙ্গে ঢুকতে ইতস্তত করছে। পাপালোর কথামত, কোন বিপদ নেই গুহায়। কম্পাস খুঁজতেএসেছিল সে। পায়নি। উঠে যাবার সময়ই নজরে পড়েছে সুড়ঙ্গ-মুখটা। কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে এসেছে ওটার কাছে। ঢুকে পড়েছে। ভেতরের দিকে প্রথমে সরু হয়ে, তারপর ধীরে ধীরে প্রশস্ত হয়ে গেছে সুড়ঙ্গ। খানিকটা এগিয়ে পেছনে ফিরেচেয়েছে পাপালো। সুড়ঙ্গ-মুখ দেখা যাচ্ছে, ইচ্ছে করলে ফিরে যাওয়া যায়। কিন্তু ফেরেনি সে। সামনে কি আছে, দেখার ইচ্ছে। দম ফুরিয়ে আসতেই টনক নড়েছে পাপালোর। সামনে অন্ধকার, কি আছে কে জানে ! পেছনে তাকিয়ে দেখেছে, অনেক দূরে আলো। এতদূর যেতে পারবে না, তার আগেই দম ফুরিয়ে যাবে। পাপালো হারকুস: “আতঙ্কে ঠাণ্ডা হয়ে আসছিল হাত-পা,” দুই গোয়েন্দাকে বলছে পাপালো। “কিন্তু মাথা গরম করলাম না। ফিরে যাবার চেষ্টা করলে মরবো। সামনে এগোলে হয়ত বেঁচে যাব। সুড়ঙ্গটা কোন গুহায় গিয়ে শেষ হলে বাতাস পেয়ে যেতে পারি। প্রাণপণে সাঁতরে চললাম। খানিকটা এগোতেই আলো চোখে পড়ল। ভরসা পেলাম। আলোর দিকে উঠতে লাগলাম। ভুসস করে মাথা ভেসে উঠল পানির ওপরে। দম নিয়ে তাকালাম চারদিকে। আবছা অন্ধকার। একটা গুহায় ঢুকেছি আমি। দ্বীপের তলায়। শেওলায় ঢাকা একটা পাথুরে তাকে উঠে বসলাম। জিরিয়ে-নিয়ে নামব ভাবছি, এই সময়ই হাতে লাগল শক্ত জিনিসটা। শেওলার ভেতরে আটকে আছে। কৌতূহল হল। তুলে নিলাম। ও মা ! সোনা ! তালগোল পাকানো মোহর ! গুহার তলায় অন্ধকার। দেখাযায় না কিছু। আমার বিশ্বাস, আরও গুপ্তধন আছেওখানে।” পানির তলায় গুহা, জলদস্যুর গুপ্তধন, আর কি চাই ! সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল দুই গোয়েন্দা, ঢুকবে ওখানে। কোনরকম সরঞ্জাম ছাড়া পাপালো যদি পারে, আধুনিক ডুবুরির সরঞ্জাম নিয়ে ওরাঢুকতে পারবে না কেন ? তাড়াতাড়ি চলে এসেছে এখানে। কিন্তু সুড়ঙ্গ-মুখের চেহারা দেখেই ভয় ঢুকে গেছে মনে। ইতস্তত করছে ভেতরে ঢুকতে। এই সময় ওপর থেকে নেমে এলো পাপালো। দুই গোয়েন্দার পাশ কাটিয়ে সুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ল সুড়ঙ্গে। আর দ্বিধা করার কোন মানে হয় না। যা থাকে কপালে, ভেবে, ঢুকে পড়ল দু’জনে। পাপালোকে দেখা যাচ্ছে। অনেক সামনে রয়েছে সে। ওর মত তাড়াতাড়ি সাঁতার কাটতেপারছে না দুই গোয়েন্দা। পাথুরে দেয়ালে ঘষা লাগলে ছাল চামড়া উঠে যাবে। টিউবকিংবা পিঠের ট্যাংকের ক্ষতি হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হচ্ছে ওদের। মাঝে মধ্যে উপরের দিকে টর্চের আলো ফেলছে ওরা। হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল পাথরের দেয়াল। উঠতে শুরু করল দুই গোয়েন্দা। বিশ ফুট . . . তিরিশ ফুট . . . আচমকা মাস্ক বেরিয়ে এলো পানির ওপরে। টর্চের আলো ফেলল দু’জনে। একটা পাথরের তাকে উঠে বসেআছে পাপালো। পা দুটো ঝুলছে পানিতে। মাথার চার পাঁচ ফুট ওপরে গুহার ছাত এবড়োখেবড়ো, রুক্ষ ! পিচ্ছিল শেওলায় ঢাকা তাকেপাপালোর পাশে সাবধানে উঠেবসলো দুই গোয়েন্দা। পাপালো হারকুস: “দ্য হ্যাণ্ডের পেটে এসে ঢুকেছি আমরা। কেমন লাগছে গুহায় ঢুকে ?” রবিন মিলফোর্ড: “বেশ ভালইতো ! আমাদের আগে নিশ্চয় এখানে কেউ ঢোকেনি !” চারদিকে টর্চের আলো ঘুরিয়ে আনল একবার রবিন। নির্দিষ্ট কোন আকার নেই গুহাটার। পানির সমতল থেকেছাতের উচ্চতা একেক জায়গায়একেক রকম, চার থেকে ছয় ফুটের মধ্যে। গুহার এক প্রান্তে দু’দিকের দেয়াল অনেক কাছাকাছি, মাঝে পরিসর কম। আলো আসছে ওদিক থেকেই। টর্চ নিভিয়ে নিলো ওরা। আবছা আলো গুহার ভেতরে। পাথরে পাথরে ধাক্কা খেয়ে কুলকুল শব্দ তুলছে পানি। দেয়ালের গা আঁকড়ে ধরে আছেসরু শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ। ঢেউয়ের তালে তালে দুলছে, ওঠানামা করছে ভয়াবহ কোন অজানা দানবের রোম যেন। শিউরে উঠল রবিন। রবিন মিলফোর্ড: “নিশ্চয় কোন ফাটল আছে গুহার ছাতে।আলো আসছে ওপথেই।” গুহার দূরতম প্রান্তের দিকে চেয়ে বলল সে। পাপালো হারকুস: “ফোয়ারা!” প্রায় চেঁচিয়ে উঠল পাপালো। “এবার বুঝেছি। ওই ফাটল দিয়েই পানি ছিটকে বেরোয় ঝড়ের সময়। কেউ জানে না, তলায় একটা গুহা আছে। লোকের ধারণা, ফাটলটা সাগরের অতলে কোথাও নেমে গেছে।” রবিন মিলফোর্ড: “ঠিক ঠিক!” মনে পড়ল, দু’রাত আগে ঝড়ের সময় কি করে পানি ছিটকে উঠেছিল টিলার চূড়ার ছিদ্রদিয়ে। অনেক আগেই ওই ফোয়ারা আবিষ্কার করেছে লোকে। জানত না, কেন শুধু ঝড়ের রাতেই পানি ছিটায় ওটা। “একটা কথা !” হতাশ কণ্ঠে বলল রবিন। “আমরাই যদি গুহাটা প্রথম আবিষ্কার করে থাকি, গুপ্তধন আসবে কোথা থেকে এখানে ?” মুসা আমান: “তাই তো !” গুঙিয়ে উঠল মুসা। “এটা তো ভাবিনি !” পাপালো হারকুস: “আমরাই প্রথম নই, তাই বা জানছি কিকরে ? এত হতাশ হবার কিছু নেই। একটা মোহর যখন পেয়েছি, আরও পাবার আশা আছে। রবিন, টর্চটা দাও তো,দেখে আসি।” ওপরে বসে ধীরে ধীরে পানিরতলায় আলো নেমে যেতে দেখল দুই গোয়েন্দা। মুসা আমান: “মোহর লুকানোরজন্যে এরচে ভাল জায়গা আর হয় না। কিন্তু রবিন, মনে হয় তোমার কথাই ঠিক। আমাদের আগেও কেউ এসেছিল এখানে।” তলায় নেমে গেছে পাপালো। এদিক ওদিক আলো নড়তে দেখল মুসা আর রবিন। সময় কেটে যাচ্ছে। পাপালো আর ওঠে না। নিচে আলো নড়াচড়া করছে। নাহ্, দম রাখতে পারে বটে গ্রীক ডুবুরির ছেলে। ঝাড়া আড়াই মিনিট পরে উঠে এলো পাপালো। উঠে বসল দুই গোয়েন্দার পাশে। পাপালো হারকুস: “ঠিকই বলেছ, রবিন। গুপ্তধন নেই এখানে। শামুক-গুগলির সঙ্গে কিছু কিছু এ- জিনিস আছে।” মুঠো খুলে দেখাল সে। অবাক হয়ে দেখল দুই গোয়েন্দা, পাপালোর হাতে দুটো মোহর। মুসা আমান: “ইয়াল্লা !! গুপ্তধন নেই, তাহলে এগুলোকি !” উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে কিশোর। লাঞ্চের সময় ফেরারকথা, অথচ বিকেল হয়ে গেল, এখনও ফেরেনি রবিন আর মুসা। কোন অঘটন ঘটেনি তো? ম্যাগাজিনটা টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়াল কিশোর। জানালার সামনে এসে দাঁড়াল। উপসাগরের পুরো উত্তর প্রান্তটা চোখে পড়েএখান থেকে। কিন্তু কই, কোন ছোট পালের নৌকা তো চোখে পড়ছে না ! ঘরে এসে ঢুকল মিসেস ওয়েলটন। হাতে দুধের গ্লাসআর বিস্কুট। টেবিলে নামিয়ে রাখল। মিসেস ওয়েলটন: “নিশ্চয় খিদে পেয়েছে তোমার, কিশোর,” পেছন থেকে বলল বাড়িওয়ালী। “নাও, এগুলো খেয়ে নাও। রবিন আর মুসা ফেরেনি এখনও?” কিশোর পাশা: “না,” ঘুরে দাঁড়াল কিশোর। “লাঞ্চের সময়ই ফেরার কথা,এখনও ফিরছে না ! কোন বিপদেই পড়েছে মনে হয় !” মিসেস ওয়েলটন: “এত ভাবছ কেন ? হয়ত বড়শি ফেলে মাছ ধরছে। ভুলেই গেছে ফেরার কথা।” বেরিয়ে গেল বাড়িওয়ালী। নিশ্চিন্ত হতে পারল না কিশোর। বসে পড়ল টেবিলের সামনে। বিস্কুট চিবোতে চিবোতে ম্যাগাজিনটা টেনে নিলো আবার। কঙ্কাল দ্বীপ নিয়ে লেখা ফীচারের জায়গায়জায়গায় পেন্সিল দিয়ে দাগ দিয়েছে। আবার দেখতে লাগল ওগুলো। ভাবনা চলছে মাথায়। বাইশ বছর আগে বজ্রপাতে মারা গেছে স্যালি ফ্যারিংটন। সুযোগটা নিয়েছে মেলভিলের পার্কের মালিক। গুজব ছড়িয়ে দিয়েছেস্যালির ভূত দেখা গেছে প্লেজার পার্কে। তারপর ? প্রায় বিশ বছর আর ভূতের দেখা নেই। হঠাৎ করেই দেখাদিতে শুরু করেছে আবার বছরদুই আগে থেকে। দেখেছে অশিক্ষিত, কুসংস্কারে ঘোরবিশ্বাসী জেলেরা। তাদের কথায় বিশ্বাস করে কঙ্কাল দ্বীপে লোক যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এলো সিনেমা কোম্পানি। প্লেজার পার্কে কয়েকটা দৃশ্য শূটিং করবে। তাদেরকে উত্যক্ত করা শুরুহল। কেন ? দ্বীপে ক্যাম্প করে তারা কার কি ক্ষতি করছে ? মালিক বিরূপ নয় তাদের ওপর, তাহলে ভারাই দিত না। তাহলে কে ? ঝটকা দিয়ে খুলে গেল দরজা।ভাবনার জগত থেকে ফিরে এলোকিশোর। ঘরে এসে ঢুকল জোসেফ গ্র্যাহাম। উত্তেজিত। জোসেফ গ্র্যাহাম: “কিশোর,পাপালো হারকুসকে দেখেছ ?” কিশোর পাশা: “সকালে দেখেছি। ওর নৌকায় করে সাঁতার কাটতে গেছে রবিন আর মুসা। ফেরেনি এখনও।” জোসেফ গ্র্যাহাম:”সারাদিন পাপালোর সঙ্গে!” প্রায় চেঁচিয়ে উঠল জোসেফ। “ওরা দু’সেট একোয়ালঙ নিয়েগেছে ! প্র্যাকটিস করবে বলে, দিয়ে দিলাম !” কালো হয়ে গেছে তার মুখ। “ওই হারামি গ্রেসানটার সঙ্গে গুপ্তধন খুঁজছে না- তো ওরা ?” জবাব দিল না কিশোর। চেয়ে আছে জোসেফের মুখের দিকে। সতর্ক হয়ে উঠেছে। জোসেফ গ্র্যাহাম: “ওদেরকেখুঁজতে যাওয়া দরকার। ওই গ্রেসানটার বাচ্চা এমনিতেই যা করেছে, তার ওপর আরও কিছু . . . ” থেমে গেল সে ! কিশোরের দিকে তাকাল। “আমি চললাম খুঁজতে।” কিশোর পাশা: “আমিও যাব,” সর্দি লেগেছে, ভুলে গেল কিশোর। তার এখন ভাবনা, তিন বন্ধুকে খুঁজে বের করা। জোসেফ গ্র্যাহাম: “এসো,” বলেই ঘুরে দাঁড়াল জোসেফ। জেটিতে বাঁধা আছে ছোট একটা মোটর বোট। উঠে বসল জোসেফ আর কিশোর। ইঞ্জিন গর্জে উঠল। ছুটে চলল বোট। ‘এমনিতেই যা করেছে . . . ‘ কথাটার মানে কি, জানার কৌতূহল হচ্ছে কিশোরের। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে পারলনা। কথা বলার মেজাজে নেই জোসেফ। থমথমে গম্ভীর মুখ। হুইলে চেপে বসেছে আঙুল। মোহরের নেশায় আর কোন দিকেই খেয়াল নেই তিনজনের। গোটা পঞ্চাশেক মোহর খুঁজেপেয়েছে। কোমরের থলেতে ঢুকিয়ে রেখেছে ওগুলো পাপালো। জোয়ার এসেছে, প্রথম খেয়ালকরল পাপালো। পাপালো হারকুস: “চল, বেরিয়ে পড়ি। আর মোহর নেই এখানে।” মুসা আমান: “ঠিক। গত আধ ঘণ্টায় আর একটাও পাইনি। খিদেও লেগেছে। চল, যাই।” আগে আগে চলল মুসা। সুড়ঙ্গ-মুখে আটকে থাকা নৌকাটা প্রথম দেখতে পেল সে-ই। ওপরের দিকটা এপাশে।সুড়ঙ্গের ছাতের একটা খাঁজে ঢুকে গেছে মাস্তুলের আগা। বাইরে থেকে ধাক্কা দিচ্ছে স্রোত। শক্ত হয়ে আটকে গেছে নৌকা। টর্চের আলোয় সব পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে রবিন। সামনের দৃশ্য সে-ও দেখল। এগিয়ে গেল দু’জনে। ধাক্কাদিল নৌকার গায়ে। নড়াতে পারল না। পারবেও না, বুঝে গেল। ঠিক এই সময় ওদের পাশে এসে থামল পাপালো। এক মুহূর্ত চেয়ে রইল নৌকাটার দিকে। বুঝে গেল যা বোঝার। ডিগবাজি খেয়ে ঘুরল। তীরেরমত ছুটে চলে গেল গুহার দিকে। তার দম ফুরিয়ে গেছে। গুহায় ফিরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। মুসা আর রবিনও খেয়াল করল এতক্ষণে, ট্যাংকে গ্যাস ফুরিয়ে এসেছে। আরেকবার প্রাণপণ চেষ্টা করল নৌকাটা সরানর। ব্যর্থ হয়েপাপালোর পথ অনুসরণ করল। মিনিট দুয়েক পর . . . তাকে বসে আছে তিন কিশোর। কোমর ছাড়িয়ে উঠে এসেছে পানি। পাপালো হারকুস: “ভালমতো ফাঁদে আটকেছি আমরা ! জোয়ার যতই বাড়বে, নৌকাটা আরও শক্ত হয়ে আটকাবে।” মুসা আমান: “হ্যাঁ,” বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল মুসা। “এমন কাণ্ড ঘটবে, কে জানত?” রবিন মিলফোর্ড: “আমি কিন্তু আগেই খেয়াল করেছিলাম। স্রোতের টানে ধীরে ধীরে সরে আসছে নৌকাটা। গুরুত্ব দিইনি তখন ব্যাপারটাকে। যা হবারতা-তো হল, এখন কি করব ?” দীর্ঘ নীরবতা . . . কেউ কোন পরামর্শ দিতে পারল না। পাপালো হারকুস: “জোয়ার নামার সময় হয়ত টানের চোটেনেমে যাবে নৌকাটা।” মুসা আমান: “কিন্তু কয়েক ঘণ্টা থাকবে জোয়ার ! তারপরও যদি নৌকা না নামে।” রবিন মিলফোর্ড: “ততক্ষণ আমরা বাঁচব কিনা তাই বা কে জানে !” রবিনের গলায় আতঙ্ক। “আরও বড় সমস্যা আসছে !” পাপালো হারকুস: “কি বললে?” ঝট করে রবিনের দিকে ফিরল পাপালো। রবিন মিলফোর্ড: “দেখ !” হাতের টর্চের আলো পড়েছে ছাতে। “ভেজা ভেজা। শেওলা লেগে আছে।” মুসা আমান: “তাতে কি ?” রবিন মিলফোর্ড: “জোয়ারের সময় ওখানে উঠে যায় পানি,” রবিনের গলা কাঁপছে। “খাঁচায় ভরে ইঁদুরকে পানিতে চুবিয়ে রাখলে যা হয়, আমাদেরও সেই অবস্থা হবে !” কারও মুখে কথা নেই আর। গুহার দেয়াল ছলাৎ- ছলাৎ বাড়ি মারছে পানি। ধীরে ধীরে উঠে আসছে ওপরে .. . পাপালো হারকুস: “শোন ! মোহর পেয়েছি, এটা ফাঁস করব না আমরা।” রবিন মিলফোর্ড: “কেন ? এখানে কি করতে এসেছি, বলতে হবে না ?” পাপালো হারকুস: “বলব ডুবেডুবে সাঁতার কাটছিলাম। হঠাৎ নজরে পড়ে গেল গর্তটা! বুঝলাম সুড়ঙ্গ। ভেতরে কি আছে দেখার জন্যে ঢুকে পড়লাম। মোহর পেয়েছি বললে ফিরে এসে আবার খোঁজার সুযোগ হারাব।” আর ঢুকতে চাই না আমি। মোহরের বস্তা পড়ে থাকলেও না। যার খুশি এসে নিয়ে যাক।” মুসা আমান: “আমারও একই কথা। এত ভাবছ কেন ? যা মোহর ছিল, সব তুলে নিয়েছি আমরা। আর নেই। জোয়ারের সময় কোনভাবে এসে পড়েছিল হয়ত। ভেবো না, সিন্দুক-ফিন্দুক নেই এখানে।” পাপালো হারকুস: “তা হয়ত নেই, কিন্তু বালির তলায় আরও মোহর থাকতে পারে। এটাই আমার শেষ সুযোগ। আরেকটা নৌকা কিনতে হবে, বাপকে বাঁচাতে হবে। ক’টা মোহর পেয়েছি ? চল্লিশ ? পঞ্চাশ ? তিন ভাগের এক ভাগ ক’টা হবে ? নৌকাই তো কিনতে পারব না।” রবিন মিলফোর্ড: “ঠিক আছে।আপাতত ব্যাপারটা ফাঁস করবনা আমরা। আরেকবার খুঁজে দেখার সুযোগ . . . ” মুসা আমান: “মুসা আমান আর আসছে না এই গুহায় ! তুমি আসতে চাইলে আসতে পার, পাপালো। কোথায় মোহর পেয়েছি কাউকে না বললেই তোহল।” পাপালো হারকুস: “মোহর পেয়েছি, এই কথাটাও গোপন রাখতে চাই এখন। একবার কেন, আরও দশবার আসতেও ভয় পাব না আমি। কপাল খারাপ তাই বিপদে পড়ে গেছি। কে ভাবতে পেরেছিল, সুরঙ্গ-মুখে এসে নৌকা আটকাবে ? এমন ঘটনা সব সময় ঘটে না।” মুসা আমান: “জোসেফ আর কিশোর কতখানি কি করছে, কে জানে ! কোষ্ট গার্ডকে খবর দিতে গিয়ে থাকলেই সেরেছে।ফিরে এসে আর পাবে না আমাদেরকে।” রবিন মিলফোর্ড: “নৌকাটা সরাতে শক্তি দরকার। ভেঙে ফেলতে হবে, কিংবা শাবল দিয়ে চাড় মেরে বের করে নিতে হবে।” মুসা আমান: “অনেক সময় লেগে যাবে তাতে,” ঢেউয়ের ধাক্কায় কাত হয়ে গেল মুসা। আগাছা আঁকড়ে ধরে সামলে নিলো। “তাক থেকেই ফেলে দেবে দেখছি ! . . . হ্যাঁ, যা বলছিলাম। কমসে কম দু’ঘণ্টা তো লাগবেই। ততক্ষণে আমরা শেষ !” রবিন মিলফোর্ড: “কিশোর জেনেছে আমরা এখানে আছি। কিছু একটা ব্যবস্থা করে ফেলবেই ও। ঠিক বের করে নিয়ে যাবে আমাদের, দেখ।” পাপালো হারকুস: “সেই প্রার্থনাই কর।” তীর থেকে শ’খানেক ফুট দূরে ভাসছে এখন মোটর বোট।ইঞ্জিন নিউট্রাল। হাল ধরেছে কিশোর। জোসেফ ডুবুরির পোশাক পরছে। জোসেফ গ্র্যাহাম:”পাগলামির সীমা থাকা উচিত!” আপনমনেই বিড়বিড় করল জোসেফ। ওয়েট বেল্ট আঁটল কোমরে। বোটের কিনারে গিয়েদাঁড়াল। ফিরে চাইল। “এখানেই থাক। পরিস্থিতি দেখে আসি আমি। কোষ্ট গার্ডকে খবর দেয়ার সময় আছে কিনা কে জানে !” ফেস মাস্ক টেনে দিল সে। একটা আণ্ডারওয়াটার টর্চ হাতে নিয়ে নেমে গেল পানিতে। বড় একা একা লাগছে কিশোরের। দক্ষিণে অনেক দূরে এক সারি নৌকা, মাছ ধরা শেষ করে ফিরে চলেছে ফিশিং-পোর্টে। এদিকে কেউ আসবে না। গুহায় আটকা পড়ে মরতে বসেছে তিন বন্ধু। ওদেরকে কি উদ্ধার করতে পারবে শেষ পর্যন্ত ? অতি ধীরে গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে যেন সময়। কিশোরের মনে হল এক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে। ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখল, জোসেফ গেছে মাত্র পাঁচ মিনিট আগে। আরও পাঁচমিনিট পরে ভেসে উঠল জোসেফের মাস্কে ঢাকা মুখ।দ্রুত উঠে এলো সে বোটে। মাস্ক সরাল মুখ থেকে। চেহারা ফ্যাকাসে, উদ্বিগ্ন।জোসেফ গ্র্যাহাম:”সাংঘাতিক শক্ত হয়ে আটকেছে ! কোথাও ধরে যে টানদেব, সে জায়গাই নেই। কোষ্ট গার্ডকেই খবর দিতে হবে। শাবল কিংবা ক্রো-কারছাড়া হবে না।” জোসেফের মুখের দিকে চেয়ে আছে কিশোর। কিশোর পাশা: “তাতে তো অনেক সময় লাগবে ! কমপক্ষে দু’ঘণ্টা !” আস্তে মাথা ঝাঁকাল জোসেফ। জোসেফ গ্র্যাহাম: “তা-তো লাগবেই। কিন্তু আর কি করার আছে ? বড় কোন গর্ত নেই টিলার। থাকলে ও পথে দড়ি নামিয়ে দিয়ে টেনে তোলা যেত।” জোসেফের কথা কানে ঢুকছে কিনা কিশোরের, বোঝা গেল না। নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে সে। কিশোর পাশা: “মিস্টার গ্র্যাহাম ! নৌকাটাকে টেনে বের করে আনলেই হয় !” জোসেফ গ্র্যাহাম: “টেনে বের করব ! কি করে ?” কিশোর পাশা: “মোটর বোটের সাহায্যে। খুব শক্তিশালী ইঞ্জিন এই বোটটার। নোঙরেরদড়িও অনেক লম্বা। নোঙরের একটা আঁকশি নৌকায় গেঁথে .. . ” জোসেফ গ্র্যাহাম: “কিশোর,তুমি একটা জিনিয়াস !! ঠিক বলেছ ! এখুনি যাচ্ছি আমি!” জোসেফ গ্র্যাহাম: “আমি যাচ্ছি। দড়ি ধরে তিনবার টানব। ফার্স্ট-গিয়ারে দিয়ে আস্তে আস্তে জোর বাড়াবে। নৌকাটা সুড়ঙ্গ-মুখ থেকে খসে এলে বুঝতেই পারবে। থেমে যাবে তখন। গুহায় ঢুকে ওদেরকে বের করে আনব আমি . . . আর হ্যাঁ, টানতে টানতে হঠাৎ যদি সামনে লাফ দিয়ে ছুটতে শুরু করে বোট, বুঝবে, নৌকা থেকে নোঙর খসে গেছে। এখানে নিয়ে আসবে আবার বোট। আমার ওঠারঅপেক্ষা করবে। ঠিক আছে ?” মাথা ঝোঁকাল কিশোর। নেমে গেল জোসেফ। আবার অপেক্ষার পালা। দড়ি ধরে বসে রইল কিশোর। দুরুদুরু করছে বুকের ভেতর। একবার টান পড়ল দড়িতে। নোঙর গাঁথছে হয়ত জোসেফ। এক মিনিট কাটল . . . দুই মিনিট . . . হঠাৎ টান পড়ল দড়িতে। জোরে জোরে, তিন বার। লাফ দিয়ে উঠে এলো কিশোর। ড্রাইভিং সিটে বসেই গিয়ারদিল। ধীরে ধীরে চলতে শুরুকরল বোট। তারপর থেমে গেল হঠাৎ করেই। টান টান হয়ে গেছে দড়ি। [[চলবে]] {কেমন লাগছে আমার দেয়া ৩ গোয়েন্দার গল্প গুলা প্লিজ Comment করুন ৷Comment করলে বুঝতে পারি আপনি গল্পটা পড়ছেন কিনা ৷ আর বেশি বেশি Comment পাওয়ার জন্যইতো গল্প গুলা দিই ৷ আর যদি ভাল লাগে তবে রিটিং এবং ক্রেডিড দিন ৷ ধন্যবাদ}


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার -৬)
→ তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার ৩)
→ তিন গোয়েন্দা - কঙ্কাল দ্বীপ (চ্যাপ্টার ২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now