বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সোমা ও ইমন
--এহসান তানিম
১।
আপনি কি প্রতিদিন এখানে দাঁড়িয়ে থাকেন নাকি? সোমা জিজ্ঞাসা করল ছেলেটিকে।
~না,প্রতিদিন না,সপ্তাহে তিন দিন দু বেলা।
-কেন?
~তোমার জন্য!
-আপনি আমাকে তুমি করে বলছেন কেন? আমি তো আপনার পরিচিত কেউনা!
~ভালোবাসার মানুষকে তুমি করে বললে গুনাহ নাই। আর তুমি তো আমার আপন মানুষই।
-দাঁত দেখানো বন্ধ করেন।আপনার দাঁত মোটেও সুন্দর না।আর হাতে এটা কি? গন্ধে তো সিগারেট বলে মনে হচ্ছে না!
~হুম।এটা গাঁজা।
-বাহ!দিন দুপুরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাঁজাও খান!
~খাওয়ার মধ্যে গাঁজাটাই খাই।পান সিগারেট কম খাই।
-তাহলেতো আপনি ছেলে হিসেবে উচ্চ পর্যায়ের খারাপ!
~একটা ভাল কাজ করবা? একটা খারাপ ছেলেকে ভাল বানাবা?
-আমি তো রিহাব খুলে বসি নি!
~আমরা কি পাশাপাশি হাটব?
-যোগ্যতা নিয়ে আসেন।
~কি রকম?
-ভালো ছেলে হয়ে আসেন।
~ভালো ছেলের সঙ্গা কি?
-চিন্তা করে বের করেন।না হয় কাউকে জিজ্ঞাসা করে নিয়েন।
ইমন অনেকখন চিন্তা করল।পর পর চারটা গোল্ডলিফ পুড়িয়েও পেল না ভাল ছেলের সঙ্গাটা।ভাইকে ফোন দিতে হবে।সোহেল ভাই। ভাই অনেক চিন্তাবীদ মানুষ।
-ভাই ভাল পোলার সঙ্গা কি?
-কেন?
-কও না ভাই,লাগবো।
-শুধু সঙ্গা না সঙ্গা সহ উদাহরন?
-শুধু সঙ্গা কও ভাই।
-যে বা যাহারা পরিষ্কার জামা পইরা বলদার মত উপ্রের বুতাম মাইরা রাস্তায় মাথা নিচু কইরা হাঁটে এদের ভালোছেলে বলে।
-বলদা?
-হ।বলদা।কেরে?তুই ভাল ছেলের সঙ্গা দিয়া কি করবি।
-না ভাই এমতেই।আচ্ছা রাখি।
এখন কি তারে বলদা হতে হবে!ভাল জামা পড়ে উপরের বোতামমেরে মাথা নিচু করে হাটতে হবে! মহল্লার ছোট ভাইদের কাছে মুখ দেখাবে কেমনে? আরো কিছুক্ষন চিন্তা করল ইমন।গোল্ডলিফ কোম্পানির আরো কিছু লাভ করিয়ে উঠে দাঁড়ালো। নাহ,তবুও ওকে বলদা হতে হবে।তবুও যদি সোমাকে পাওয়া যায়।ওর জন্য বলদা হতেও সুখ। বোকা বোকা হাসিটা আবার ফিরে এল ইমনের মুখে।গুন গুন করে স্বরচিত গান গেয়ে হাটতে লাগলো সোডিয়ামে আলোভরা রাস্তার ফুটপাতে।
"খোদার কসম তোরে আমি বড্ড ভালোবাসি
তুইযে আমার আন্ধার রাইতের পূর্ন চাঁদের হাসি।
তোর লাগি বলদা হয়ে
ঘুরব পাশে পাশে
তুই ছাড়া জীবন আমার
১৬ আনা মিছে!"
২।
এক মনে হাটছে ইমন।আজ রোদটা একটু বেশিই পড়ছে।বশিরের টং এর দোকানে সোহেল ভাই বসে আছে। আল্লাহর ৩০টা দিনের ২৪টা ঘন্টা তাকে এখানে দেখা যায় আজকাল সোহেল ভাইয়ের ছায়া এড়িয়ে চলতে চাই সে।কিন্তু হল না!
~কিরে!ঠান্ডা লাগাইছস?
-না তো ভাই!কেন?ইমন জিগ্গাসা করল সোহেল ভাই কে।
~তাইলে এমন ফুল শার্ট হাতের বোতাম, কলারের বোতাম মাইরা যাস কই?
-ভাই ট্রায়াল দিতাছি।
বোকা বোকা হাসিটা ফিরে এল ইমনের মুখে।
~ট্রায়াল!
-হ ভাই,ভালো ছেলে হবার প্রশিক্ষন চলতেছে।
~তোরে এ বুদ্ধি দিলো কোন বলদে? তুই কি দিন দিন বলদ হই যাইতেছস? আমি কি কয়েকটা বলদ নিয়া ঘুরুম?
-ভাই তুমিই তো বললা যে উপ্রের বোতাম মেরে ঘুরলে ভালো ছেলে হওয়া যায়!
~তোর চৌদ্দগুষ্টির মধ্যে কেউ হেমায়েত পুর ছিল?
-না তো ভাই,কেন?
~তাইলে তুই যাবি।শিঘ্রীই যাবি। আমি দেখতেছি। ফকফকাইয়্যা দেখতাছি।তোর ভবিষ্যৎ পুরাই আন্ধারে ঘেরা।ঐ মাইয়্যা তুরে শেষ করব।
"ঐ মাইয়্যা" তাকে শেষ করবে কিনা যানে না তবে সে যে শেষ হচ্ছে তা বুঝতে পারছে ইমন।গত কয়েকটা রাত তার ঘুমটা হয়নি।আজ হবে।আজ দেখা হওয়ার দিন।আজ রোববার।
~সোমা!
-কি সমস্যা?
~কই কোন সমস্যা নাই তো!তোমার নাম কি শুধু সমস্যাই পড়লে নিতে হয়?
-নাহ,সমস্যা যদি আমার নাম ধরে ডাকে তাহলে সমস্যা হয় আর কি! তবে আপনাকে দেখতে আজ অনেক ভাল লাগছে।
~তাই?তোমার ভাল লাগছে!
-হুম।আপনি বাংলা ছবি তে নাম লিখাননি কেন? দিলদারের জায়গাটা এখনো খালি পড়ে আছে।
~তুমি কি দুষ্টুমি করতেছ? নাকি সিরিয়াস?
-ধুর!আপনারসাথে দুষ্টুমি করতে যাবে কোন সুখে???
ইমন কিছুনা বলে অন্যদিকে ফিরে হাটতে লাগল। ইমন কি বেশি কষ্ট পেল? চিন্তা করছে সোমা।আজকাল তার চিন্তায় কেন জানি এ ছেলেটা চলে আসে।কেন জানি।এই কেন জানি টা কেন তা এখনো জানা হল না সোমার। সোমাকি ইমনকে একটু ডেকে বলবে,এই বোকা আমি তো দুস্টুমি করেছি। তোমার সাথে তো আমার দুস্টুমির সম্পর্ক। আমি না করলে কে করবে তোমার সাথে?আইজ্জুনীর মা?
দুজন পাশাপাশি হাটতে লাগল। দুজনের মনেই একই গল্প চলছে।কিন্তু কেউই মুখ ফুটে বলছে না।কে আগে বলবে? সোমা ইমনের দিকে তাকালো। দেখল ইমন আগে থেকেই
তাকিয়ে আছে তার পানে।
৩।
"পাখি যেমন বাতাসের কাছে যায়,সাগর যেমন তীরের কাছে যায়,তেমনি পুরুষ মেয়েদের কাছে যাবেই যাবে।"
অনেকখন পর কথা বলল সোহেল ভাই। স্থান, মোড়ের টং এর দোকান। সোহেল ভাই এর পাশে বসে আছে ইমন।গত কয়েকদিন ধরে সোমার সাথে দেখা হচ্ছে না। তাই সোহেল ভাই এর কাছে আসা। যদি কোন বুদ্ধি বের হয়!সোহেল ভাইয়ের অনেক বুদ্ধি।
-কথাটা বুঝলাম ভাই,কিন্তু সারমর্মটা বুঝি নাই।
-বুঝস না কেন? তোগো মাথায় কেন যে আল্লাহ এত কম ঘিলু দিয়া পাডাইছে।আরে ব্যাটা তোর এখন যে অবস্থা ওইডা একটা গভীর ভাবে বিশ্লেষন করলাম।
-হুম বুঝছি ভাই।কিন্তু সোমার সাথে দেখা করাটা দরকার আমার।
-কেন?
-ভাই,গত দুইটা রাইত ঘুমায়নাই!
-ওহ!সোমাদের ডিস্পেন্সারির নামকি!
-ওদের তো ডিস্পেন্সারি নাই ভাই!
-তো তোর ঘুমের লগে ওর সম্পর্ক কি? নাকি হাতে বানানো গুলি বেঁচে? কত কইরা?
-ধুর ভাই,তুমি এডা বুঝলে আর এ বয়সেও একলা থাকতা?ওরে দুইদিন দেখিনা বলেই চোখ বুজতে পারি না।
-হুম!আইচ্ছা চল।
-আন্টি স্লামালাইকুম!
-ওলাইকুম।তোমাদের তো বাবা চিনলাম না!কি চাও?
-আন্টি আমরা পাশের কলনীর। আমরা একটা সামাজিক জনসচেতনতা তৈরীর কাজ করছি। বলা শুরু করল সোহেল ভাই।ধরেন যে আমরা রাস্তায় ময়লা ফেলি,তারপর বাথরুম থেকে এসে হাত ধুঁই না সাবান দিয়ে তারপর ধরেন যে ,আন্টি সোমা নাই?
-সোমা?
-আমরা আরো অনেক ভালো কাজ করি।এলাকায় বুয়া লাগলে কারো আমরা জোগাড় করে দিই আন্টি ।সোমা?
-হ্যা,আছে।কিন্তু সোমাকে কিভাবে চিনো তোমরা?
-আন্টি সোমাপু জানে তো আমাদের! আমরা যে ভালো ছেলে ভালো কাজ করি!আমার সাথের ছেলে এটা, ইমন।খুব ভালো ছেলে। ওর ছোট বোন সামাপুর সাথে পড়েন।চিকেন পক্সের জন্য গত এক সপ্তাহ কলেজ যেতে পারেনি। খালাম্মা বলল সোমাপুর কাছ থেকে নোট গুলা নিয়ে
-আচ্ছা,আমি সোমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি আর বাবা,তুমি,আমারে একটা বুয়া জোগাড় কইরা দিও তো।খুব উপকার হবে!
-আন্টি আপনি কোন টেনশন করিয়েন না। সোহেল ভাই এ কাজগুলা খুব সুন্দর করে পারে।গত সপ্তাহেও ২জনকে বুয়া জোগাড় করে দিছে! ইমন বলল। তার দিকে সোহেল ভাই তাকিয়ে আছে।চোখের দৃষ্টি দিয়ে কাউকে পোরানো গেল এতোক্ষনে ছাই হয়ে যেত!
সোমার দিকে তাকিয়ে আছে ইমন।
সোমাও।
দুজনের দৃষ্টি একই সরলরেখায় মিলিত হয়েছে।সরলরেখাটির নাম ভালোবাসা। ভালোবাসার সরলরেখায় দুটি বিন্দুকে রেখে মধ্যবিন্দু সোহেল সরে দাঁড়ালো।
মাঝে মাঝে সোহেলদেরও ভালোবাসতে ইচ্ছা হয় এমন ভালোবাসার জ্যামিতি দেখে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now