বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আয়না ভ্রম

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আয়না ভ্রম --আসিফ মুক্ত আয়নাটা বেশ ভালো, এ্যান্টিক মেটালে বাঁধাই করা এবং সপ্তাহ খানেক আগেই নিউ মার্কেট থেকে বেশ ভালো দামেই কেনা হয়েছিল সেটা আর তার দু সপ্তাহ পরেই আয়নার সামনে দাঁড়াতে ভয় পায় শিমুল । আয়নার সামনে দাঁড়ালেই এপারের শিমুলের দিব্যদষ্টি এতটাই খুলে যায় যে তিনি একজন শিশু হয়ে যায় আর ওপারের শিমুল তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের গালিগালাজ! গালিগালাজ শুনতে ইচ্ছা না হলেও গালিগালাজ গুলো শুনতে হয় তাকে। আয়নায় থাকা শিমুল চরিত্রটি বাস্তবে থাকা শিমুলের অবচেতন মনের সষ্টি, তাই ঐ শিমুলের এক একটা বানী ওহির মতই নাজিল হয় শিমূলের ওপরে। গালি শোনা কিংবা নাজিল হওয়া ওহীর পাঠোদ্ধার চালাচ্ছে শিমূল। এই নিয়ে তিন দিন হল। সকালে গোসল সেরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে গালির বোঝা ঘাড়ে নিয়ে বের হয় সে। বাসে ওঠার আগে শামীমের দোকানে দাঁড়িয়ে কড়া লিকারের এক কাপ চা খেয়ে নেয় সে। কড়া লিকারের চা তিব্বতী পাঁচনের মত কাজ করে। চা খেয়ে বাসে উঠেই শিমুল এবারে ছক আঁকা শুরু করে কেন আয়নার শিমুলের আচরণটা এরকম তীব্রতর হচ্ছে। বাসের হর্ন যেনো আরো গভীরে পৌঁছাতে সাহায্য করছে শিমুলকে। শিমুল ভাবনা গাছের শেকড়েও পৌঁছাতে পেরেছে তাই খুব দ্রুত। আয়নার প্রতিচ্ছবি তার ভাবনায় ছাপ ফেলছে গত তিন দিন থেকে আর সেই সাথে শিমূল তার স্ত্রীর আঁধারী সত্য জানতে পেরেছে তিন দিন হল। বিয়ের সময় শিমূলের বউকে পার্লারে নিয়ে গিয়েছিল শিমূলের মামাতো বোন বর্ষা। বর্ষা শিমূলকে বলেছে এই বিয়ের আগেও সীমার বিয়ে হয়েছিল। পার্লারটা বর্ষার পূর্ব পরিচিত। তাই যে মেয়েটা সীমাকে সাজিয়েছে সে নাকি বর্ষাকে বলেছে এই কথাটা। সীমা শিমূলের পূর্ব পরিচিত হলেও তার যে আগে একবার বিয়ে হয়েছিল সে কথা শিমূল জানতোই না। সীমার আগে একবার বিয়ে হয়েছিল এ কথা জেনে শিমুলের রাগ হয়ার কথা ছিল কিন্তু তা না হয়ে ঠিক কোন কারনে আয়নার আরেকটি চরিত্রের উদ্ভব ঘটলো সেটা বেশ চিন্তার বিষয়। শিমূল তাই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে আজকে অফিস সেরেই মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। অফিসের কাজ ঠিক ঠাক মত শেষ করেই শীমূল চলে যান দবির সাহেবের চেম্বারে। দবির সাহেব বেশ বড় ডাক্তার, শান্তি নগরে তার চেম্বার। অনেক অপেক্ষার পর শীমূল যখন দবির সাহেবের চেম্বারে ঢূকলো, সে দ্যাখে একটা টিয়াপাখিকে টেবিলের ঊপর বসিয়ে তাকে লাল লাল মরিচ খাওয়াচ্ছেন দবির সাহেব। শিমূলকে বসতে বলেই বললেন, বল বাচ্চা কি সমস্যা তোমার? শিমূলকে বাচ্চা বলাতে সে রাগ না করে মনে মনে ভাবে, বেশ! পাগলের ডাক্তার পাগল তো হবেই! শিমূলের কিছু না বলার আগেই দবির সাহেব ধারনা করেন এই লোক বেশ চাপেই আছেন। দবির সাহেব আবারো শিমুলকে বলে ওঠেন বলুন আপনার কি সমস্যা? শিমুল একে একে সব ঘটনা বলতে থাকে দবির সাহেবের সামনে। দবির সাহেবও মনযোগী শ্রোতা হিসেবে শুনে যাচ্ছেন সব কিছু। আয়নাচরিত শেষ করে শিমূল বলে, এখন আমি কি করতে পারি? আয়নাটা মোটেও আমার পিছু ছাড়ছে না। দবির সাহেব সব মনযোগ দিয়ে শুনে শিমুলকে বললেন, আপনি কি আমাকে কিছু গোপন করলেন? মানে কিছু বলতে যেয়েও বলেননি? এই প্রশ্নটা শুনে খানিকটা আঁতকে উঠলেও চোখমুখে কোনোরুপ ছাপ ফেলেনি শিমূল। দবির সাহেব এবার বেশ জোর দিয়ে বললেন, আপনার বিয়ের আগের কোনো ঘটনাই আপনাকে প্রভাবিত করছে। আমি হলফনামায় লিখে দিতে পারি। শিমুল এই কথার উত্তর না দিয়ে ঝড়ের বেগে দবির সাহেবের চেম্বার থেকে বের হয়ে আসে। শান্তি নগরের রাস্তা ধরে হেটে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কোনায় ফুটপাতে বসে পড়ে শিমুল সাহেব হিসাব মিলাতে। সব কিছু কিভাবে ঠিক হবে ভাবতে যেয়ে শিমুলের মনে পড়ে তার আর রেবার প্রেমের কথাও। তাদের প্রতিশ্রুতিগুলো সোনালী রঙে জ্বলজ্বল করছে চোখের তারায়। কোথা থেকে কোথায় নেমে এসেছিল শিমুল আর রেবা। শেষমেশ কিছুই হল না! তবে কি সীমার ব্যাপারটাও ঠিক এরকমই কিছু একটা? সীমাও কি মেলাতে পারেনি তার আকাশের ঘুড়ির রঙটা? হয়তবা নাটাই ছিল কিন্তু সুতো শেষ। এই ভাবনায় পড়ে কখন যে প্যাকেট খালি করেছে সিগারেটের তা টেরই পায়নি সে। বাসার দিকে পা বাড়িয়েছে শিমুল, রাত আটটা বাজছে। বাসায় ফিরে তার ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে যায় সে। এক সপ্তাহ হল বিয়ে হয়েছে তাদের আর এই সময় টুকুর মধ্যেই কি পরিমাণ সংসারী হয়েছে সীমা। ঘর গুছাচ্ছে সীমা। ফ্যানের বাতাসে বারবার তার গোছানো চুল অগোছালো হয়ে যাচ্ছে। শাড়ি পড়েছে সীমা। হঠাত আয়নায় শিমুল দেখতে পায় সীমার পেট। পার্লারের মেয়েটা নাকি বর্ষাকে বলেছিল বিবাহিত মেয়েদের মত পেট নাকি সীমার। আর এই ভাবনায় পড়ে গত তিন দিন ধরে অস্থির ছিল শিমুল। অস্থিরতা থেকে তাকে বের করে আয়না। আয়নার শিমুল যেটা কি-না তার নিজেরই তৈরি। ভাবনা শেষে ঘোর কাটতেই শিমুল দেখতে পায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কপালে টিপ দিচ্ছে সীমা। শিমূল ধীর পায়ে এগিয়ে যায় আয়নার দিকে তাদের দুজনের একসাথে প্রতিচ্ছবি তৈরীর আগ্রহে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now