বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেঘের কোলে রোদ
লিখেছেন- শোভন আহমাদুজ্জামান
অনুবাদ ক্রেডিট : সাবিহা বিনতে রইস
রোদ আর প্রকৃতি তুমুল ঝগড়া করেই যাচ্ছে।রাত বাজে ১২টা।বাসার সবাই ভয়ে কুকরে আছে,কাছে যাওয়ার সাহস কারো হচ্ছে না।আর ওদেরও থামার নাম নেই।২জনের মুখে যা আসছে,তাই বলে যাচ্ছে।বড় আপা চেষ্টা করেছে ২বার কিন্তু এর ফল আরো খারাপ হয়েছে।আপা তাই অন্য ঘরে বসে কাঁদছে আর ভাবছে কি হলো পাগল ২টার।কখনও তো এত সিরিয়াস কিছু হয়না!ঝগড়া তো কতই হয়,কিন্তু আজ যেন আর থামার নাম নেই।তার মাঝে আজ প্রকৃতির জন্মদিন,এই রাতে কি করে রোদ ওর সাথে এতটা খারাপ ব্যবহার করে যাচ্ছে! না হয় প্রকৃতির দোষ ছিলো,কিন্তু আজ অন্তত এড়িয়ে গেলে হত না.... রোদ নিজের ঘরে বসে বসে কাদছে আর ভাবছে,আজ এটা কি করলো ও!তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার আজ জন্মদিন,আর ও কিনা আজই এমন কিছু করলো যে প্রকৃতি বলেছে ও জীবনেও রোদের মুখ দেখতে চায় না।যেই প্রকৃতি এক বেলা খাই না,এক মূহুর্তের জন্য চোখের আড়াল হতে দেয়না,যার জন্য সে একটাও বন্ধু করেনি,রোদ যে তার একমাত্র বন্ধু...তাকে কিনা আজ যা ইচ্ছা তাই বলে গালি দিলে বলেছে তোর মুখ আমি দেখতে চাইনা আর। ঘটনার শুরু এভাবে...রোদ নিজের ঘরে দরজা লাগিয়ে প্রকৃতির জন্য স্পেশাল গিফট রেডি করছিলো,ওই সময় হঠাৎ হইচই করে প্রকৃতি ওকে ডাকছিলো!রোদ কাজে এতটাই মনোযোগে ছিলো যে এভাবে দরজায় ধাক্কা শুনে ওর রাগ উঠে গিয়েছিলো।দরজা খুলে কিছুনা শুনে না বুঝে গালি দিয়ে দিয়েছে প্রকৃতিকে।আর প্রকৃতি বলেছে ওর ফোনে কে যেন বার বায় কল দিয়ে,ম্যাসেজ দিয়ে বাজে কথা বলছে। এটা শুনে রাগের মাথায় রোদ বলেছে তোর এত ঝামেলা ক্যান? তোকেই ক্যান এই গুলা করে?তুই খারাপ মেয়ে তাই এমন করে!এতেই প্রকৃতির মাথায় আগুন ধরে যায়। কি আবোল তাবোল বলে রোদ এইসব!কি করে রোদ এগুলো বলতে পারলো!রোদ তার আপন ভাই,তার কাছের বন্ধু, আর সে বলে কিনা রোদ খারাপ মেয়ে! তার পর যা হবার তাই হলো এতক্ষন।বাড়ির সবাই নিশ্চুপ হয়ে যে যার ঘরে কাঁদছে প্রকৃতি ভাবছে এটা কি হলো আজ।তার বার্থডে সবসময় স্পেশাল হয়।আর আজ কি হলো এটা? ওর মরে যেতে ইচ্ছা করছে।ও জীবনেও আর রোদের মুখ দেখতে চাইনা।রোদ নামের কেউ নেই ওর জীবনে রোদ মনে মনে ভাবছে সে আর এই বাড়িতে থাকবে না।সে আর কোন ভাবেই এই মুখ প্রকৃতিকে দেখাখে পারবে না।রাগের মাথায় সে অনেক বড় ভুল করে ফেলেছে...আসলে সে এতটা খারাপ না।কিন্তু আজ কি যে হলো,যে সে এত বড় একটা ভুল করে বসলো। আসলে একটা ব্যাপার কিছুদিন থেকেই রোদকে ভেতরে ভেতরে কুরে কুরে খাচ্ছিলো।বিষয়টা হিয়াকে নিয়ে। হিয়া প্রকৃতির সবচেয়ে কাছের একমাত্র ফ্রেন্ড।আর ভীষণ কিউট দেখতে,খুব সুন্দর ভাবে গুছিয়ে কথা বলে।আর ওর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসটি হলো চোখ..অদ্ভূত মায়াকাড়া চোখটির দিকে তাকালেই বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে।মনে হয় চোখ দুটো কিছু বলতে চায়। রোদ জীবনে অনেক মেয়ে দেখেছে,কিন্তু হিয়া সবার থেকে আলাদা। আর হিয়ার কথা প্রকৃতিকে বলতেই রেগে ওঠে সে।বলে কোনভাবেই ওইমেয়ের সাথে সে তার ভাইয়ের বিয়ে দিবেনা,কখনও রিলেশণ করতে দিবে না ওর সাথে..আজ থেকে হিয়ার এ বাসায় আসা বন্ধ।এটা শোনামাত্রই রোদের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।সে বুঝতে পারেনা যে প্রকৃতির কি সমস্যা।কেন সে বুঝতে চাই না যে রোদ হিয়াকে কতটা ভালোবাসে! প্রকৃতি ভাবছে রোদ হিয়াকে পছন্দ করে বলেই তার ভাই তার কাছে থেকে দূরে চলে যাচ্ছে!এখন সে হিয়াকে নিয়ে ভাবে।একসময় রোদ আর তাকে টাইম দিবে না,তাকে নিয়ে ভাববে না।এইসব নিয়ে প্রকৃতি রোদের সাথে খারাপ বিহ্যেভ করেছিলো।তাই রোদের মেজাজ খারাপ ছিলো।আর সেটারই শোধ নিলো এখন।কিন্তু বোকা টা কেন বোঝে না যে সে তাকে খুব খুব ভালবাসে।তাই সে তাকে কারো সাথে শেয়ার করতে চাইনা।কিন্তু সে এখন বুঝতে পেরেছে তার ভাই আর তার নাই।ভালোবাসা জিনিসটাই এইরকম,একবার হয়ে গেলে তা আর কোন বাধা মানতে নারাজ।তাই তো রোদ আজ প্রকৃতিকে এত খারাপ কথা বলতে পারলো...যে রোদ প্রকৃতিকে ছাড়া এক মুহুর্ত থাকতে পারতো না,সে আজ তার মুখ না দেখতেও রাজী। হায়রে ভালোবাসা! যার কারনে হিয়ার কাছে হেরে গেল প্রকৃতি! হিয়া রাত ১২টা থেকে কল দিচ্ছে প্রকৃতিকে,কিন্তু ফোন বন্ধ।আজ তার জন্মদিন,কিন্তু সে প্রকৃতিকে উইশ করতে পারলো না।রোদকে কল দিরো,কিন্তু সেই ফোনও অফ।হিয়া কিছুই বুঝতে পারছে না।বড় আপাকে ফোন দিবে কি? নাহ,এখন অনেক রাত! হয়ত বড় আপা ঘুমাচ্ছে। কিন্তু রোদের কি সমস্যা?তার ফোন অফ কেন এটাই হিয়া বুঝতে পারছে না। আছ প্রকৃতির জন্মদিন।আর হিয়া যদি তার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর জন্মদিনেই উইশ না করতে পারে,তাহলে কিসের বেস্ট ফ্রেন্ড! আর একটা কথাও সে ভাবছে,আজ প্রকৃতিকে জানাবে যে সে রোদকে ভালোবাসে।প্রকৃতির মত নিয়ে তবেই রোদকে বলবে সে।কিন্তু বদটার ফোনটাই তো অফ! একটু পর একটি ম্যাসেজ এলো হিয়ার ফোনে,প্রকৃতি দিয়েছে! আজকের পর থেকে আমাকে আর তুই কল দিবিনা,বাসায় আসবি না। তোর আর আমার ফেন্ডশিপ আর নেই...ম্যাসেজটিদেখে হিয়ার মনে ঝড় শুরু হলো।সাথে সাথেই প্রকৃতিকে কল দিলো সে,কিন্তু ফোন আবার অফ।হিয়া কিচ্ছু বুঝতে পারে না কি হয়েছে..ওদিকে রোদের ফোনও অফ!কিন্তু কি করবে সে এখন...ধুর কিচ্ছু ভালো লাগচ্ছে না।সারারাত আর ঘুমাতে পারলো না হিয়া! সারারাত ঘুমাতে পারেনি রোদ।ও ভেবেছিলো ভোর হওয়া মাত্রই কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে চলে যাবে সে।আর কোনদিনও ফিরবে না।তাই সে বিছানা থেকে উঠেই রেডি হয়ে প্রকৃতির দেয়া একটি ছোট্র পুতুল পকেটে নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে।তারপর সারাদিন রাস্তার এখানে ওখানে ঘুরে বেড়ালো রোদ।কোথাও একমূহুর্ত শান্তি নেই।আসলে এভাবে কখনও বের হয়নি রোদ।সবসময় প্রকৃতি সাথে থেকেছে।আজ ওর কিচ্ছু ভালো লাগছে না।তারপর রোদ সরি লিখে প্রকৃতিকে এসএমএস করে,,আবারো ফোন অফ করে দেয় রোদ। সারাদিন পর নদীর পাড়ে বসে ভাবছিলো রোদ,হিয়াকে ভালোবাসার জন্যই ওদের মাঝে এমন হলো।এই মেয়ে মোটেই শুভ নয়।তাকে মন থেকে মুছে ফেলতে হবে। হঠাত্ কি মনে করে মোবাইল টা অন করে রোদ..আর তখনই দেখতে পায় প্রকৃতির ম্যাসেজ। "ওই গাধা,কুত্তা,হারামী তোর জন্য কি আজ জন্মদিনেও আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে?তুই জানিস না তোর আনা কেক ছাড়া আমি অন্য কেক কাটি না?এবার জন্মদিনে কি কেক কাটা হবে না?ম্যাসেজ টা পড়া মাত্রই বাসায় আসবি,না হলে তোকে কান মলা দিয়ে মেরেই ফেলবো! ম্যাসেজ টা পড়া মাত্রই হু হু করে কেদে ওঠে রোদ।আর দেরি না করে একটা রিকসা নিয়ে ফুলের দোকানে যায় রোদ।সেখান থেকে ১০০টি লাল গোলাপ,,আর কেকের দোকানে যে অ্যাংরি বার্ড কেকটির ওর্ডার দেওয়া ছিলো,সেটি নিয়ে বাসায় ফেরে রোদ। বাসায় ফিরে দেখে মহা কান্ড।বাসা ভর্তি মানুষ..আর প্রকৃতি পরীর মত সেজে আছে।সে তার দেওয়া অ্যাঞ্জেল ড্রেস টা পরেছে,সাথে জাদুর কাঠিটিও আছে।রোদ বাসায় ফেরা মাত্রই প্রকৃতি জাদুর কাঠিটি দিয়ে তাকে একটি বাড়ি দেয়,বলে এত্তক্ষন লাগে আসতে!রোদ কিছুই বুঝতে পারে না,কি হচ্ছে বাসাতে। এত্তক্ষন সে খেয়াল করে নি যে তার পাশেই হিয়া দাড়িয়ে আছে।আজ মেয়েটা লাল শাড়ী,লাল টিপ আর হাত ভর্তি লাল চুড়ি পড়েছে!ওকে লাল টুকটুকে বউয়ের মত দেখাচ্ছে আরে হিয়া,কেমন আছো?কখন এসেছো?জিজ্ঞাসা করে রোদ...ভালো আর আমি দুপুরে এসেছি।সেই তখন থেকে অন্তত ৫০০বার তোমার ফোনে ট্রাই করেছি..যাক সেটা তো আর তোমার মাথা ব্যাখ্যা না! -এ্যাই বিয়ের আগেই এইসব কি শুরু করলি তোরা? -বিয়ে!কার বিয়ে?কিসের বিয়ে? বলে রোদ! -তোর আর হিয়ার বিয়ে!প্রকৃতি বলে। -কি আবোল তাবোল বকছিস?আমি কেন হিয়াকে বিয়ে করবো? -ভালোবাসিস তাই -কে বলেছে আমি হিয়াকে ভালোবাসি?আমি জাস্ট ওকে পছন্দ করি... এটা শুনে হিয়া কাদঁতে কাদঁতে ঘরে চলে যায়। হাতের কাঠিটি দিয়ে রোদকে বাড়ি মেরে বলে প্রকৃতি,খুব ভাব হয়েছে না?তোকে কান মলে মেরেই ফেলবো তুই আমার বান্ধবীকে কাদিয়েছিস! যা এখনি গিয়ে হিয়ার কাছে মাফ চাহ,আর ওকে তোর ভালোবাসার কথা বল! রোদ বাধ্য ছেলের মত হিয়ার ঘরের দিকে পা বাড়ালো,আর পেছন থেকে এক দৃষ্টিতে তার চলে যাওয়া দেখতে থাকে প্রকৃতি।হঠাত্ তার বুকের মাঝে হাহাকার সৃষ্টি হয়...চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়ে জল। ওর এত দিনের আপন মানুষ টা আজ আর শুধু ওর একার থাকলো না...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now