বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ১

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১ লিসবনের হোটেল ভাস্কোদাগামা। পাশাপাশি দুটি কক্ষ। ৭১১ নং কক্ষে থাকে রবীন সিং রাফায়েল ওরফে আহমদ মুসা এবং ৭১২ নং কক্ষে থাকে লছমন লিওনার্দো ওরফে হাসান তারিক। দুজন দুকক্ষে থাকলেও দুজনেই এখন আহমদ মুসার কক্ষে দুচেয়ারে বসে। তাদের সামনে টেবিলে উচ্ছিষ্ট খাবার, কয়েক মিনিট আগে তারা খাবার শেষ করেছে। দশটায় তাদের এয়ারপোর্টে পৌছতে হবে বলে খাবার খাওয়া তারা আগেই সেরে নিয়েছে। বেয়ারা এসে এখনো উচ্ছিষ্টগুলো নিয়ে যায়নি। বেয়ারা এসে গেল। উচ্ছিষ্ট খাবার আর বাসনপত্র গোছাতে গোছাতে বলল, ‘স্যার, আপনাদের পরিচিত কে একজন এসেছিল। আপনারা কক্ষে আছেন কিনা জিজ্ঞেস করল। কিন্তু আমি ‘আছেন’ বলার পর তারা ঘরে প্রবেশ না করে তাড়াতাড়ি চলে গেল।’ ‘এটা তুমি কখনকার ঘটনা বলছ?’ জিজ্ঞেস করল রবীন সিং রাফায়েল ওরফে আহমদ মুসা। ‘এই তো স্যার ৫ মিনিটও হয়নি।’ বলল বেয়ারা। ‘কি রকম চেহারা বলত?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘বলা যায় পর্তুগীজ চেহারাই। তবে মুখ অপেক্ষাকৃত লাল। মোটামুটি লম্বা-চওড়া।’ বলল বেয়ারা। আহমদ মুসা বেয়ারাকে বখশিশ দিয়ে বলল, ‘একটু দেখবে, তাকে দেখা যায় কিনা। পেলে নিয়ে আসবে।’ বেয়ারা চলে গেল। বেয়ারা চলে যেতেই হাসান তারিক বলে উঠল, ‘আমি নিশ্চিত ভাইয়া, শত্রুরা আমাদের খোঁজ পেয়ে গেছে।’ ‘তাইতো মনে হচ্ছে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘তাহলে?’ ভাবছিল আহমদ মুসা। বলল, ‘আমার মনে হয় ওরা লবীতে অপেক্ষা করছে। এমনও হতে পারে ওরা হোটেলের চারদিকেই পাহারায় আছে।’ ‘দুজন মুসলমান আমরা, একথা তারা নিশ্চিত জানেন। তাই আমার মনে হয় মাত্র দুজন মুসলমানকে ধরার জন্যে ওদের এতকিছু করা স্বাভাবিক নয়।’ বলল হাসান তারিক। ‘তোমার কথাই ঠিক। কিন্তু আমাদের ভাবতে হবে খারাপটার কথা।’ আহমদ মুসা বলল। ‘এখন তাহলে আমাদের কি করণীয়?’ বলল হাসান তারিক। ‘আমাদের করণীয় হলো আজোরস দ্বীপপুঞ্জে পৌছে যাওয়া। তার আগে কোন সংঘাতে জড়িয়ে না পড়া, যা আমাদের আজোরস যাত্রায় কোন বিঘ্ন ঘটাতে পারে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কিন্তু সংঘাত আসন্ন মনে হচ্ছে ভাইয়া।’ বলল হাসান তারিক। ‘দেখা যাক। তুমি রেডি তো এয়ারপোর্ট যাত্রার জন্যে?’ ‘হ্যাঁ ভাইয়া। ব্যাগটা রেডি করে রেখেছি।’ ‘ধন্যবাদ, তবে শুধু এয়ারপোর্ট যাওয়ার জন্যে রেডি নয়, লড়াইয়ের জন্যেও রেডি হবে। যাও, ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে এস। হোটেলের বিল পরিশোধ করে এসেছি। চেক আউটও হয়ে গেছে। আমি বেরুচ্ছি।’ হাসান তারিক উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘আসুন, আমিও বের হচ্ছি।’ আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই করিডোরে বেরিয়ে এল। দুজনের হাতে দুটি ব্যাগ। ‘আমরা কি সোজা লবি হয়ে বের হবো ভাইয়া?’ হাসান তারিক বলল। ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’ বলে লিফট রুমের দিকে হাঁটা শুরু করল আহমদ মুসা। হাসান তারিকও তার পেছনে হাঁটা শুরু করল। তারা দুজন যখন লিফটের সামনে এসে দাঁড়াল, ঠিক তখনি লিফট থেকে বেরিয়ে এল বেয়ারা সেই দুজন লোককে সাথে নিয়ে। আহমদ মুসা অপরিচিত দুজনের দিকে একবার তাকিয়েই বুঝতে পারল, বেয়ারা ওয়ার্ল্ড ফ্রিডম আর্মির দুজন লোককে তাদেরই ঘরে নিয়ে আসছে। বেয়ারার সাথে ছফুটের মত লম্বা ও জিমন্যাষ্টের মত স্বাস্থ্যের অধিকারী যে লোকটি আহমদ মুসার সন্ধানে হোটেলে ছুটে এসেছে তার নাম মারিও জোসেফ। আর তার সাথের লোকটি হলো, তার দক্ষিণ হস্ত, সেই সিলভা। যাদেরকে আহমদ মুসা এড়াতে চাচ্ছে, তাদের একদম মুখোমুখি হয়েও আহমদ মুসার চোখে-মুখে চাঞ্চল্যের সামান্য ছায়াও পড়ল না। হাসিমুখে সে বলল, ‘বেয়ারা, আমাদের খোঁজ করছিলেন যারা তাদেরকে কি পেলে?’ ‘স্যার, এরাই তো তাঁরা, আপনাদের কাছে নিয়ে যাচ্ছিলাম।’ বলল বেয়ারা খুশি হয়ে দ্রুত কণ্ঠে। বেয়ারার কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা হ্যান্ডশেকের জন্যে নেতা গোছের লম্বা-চওড়াজন অর্থাৎ মারিও জোসেফের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘ওয়েলকাম, আমি রবীন সিং রাফায়েল এবং আমার সাথি লছমন লিওনার্দো। আপনারা নাকি আমাদের খোঁজ করছিলেন?’ ‘আপনারা কি আজ রাত ১২টার প্লেনে আজোরাস যাচ্ছেন?’ জিজ্ঞেস করল মারিও জোসেফ। আহমদ মুসা একটুও ভ্রু কুচকালো না, মুখে সামান্য ভাঁজও পড়ল না। প্রশ্নের সংগে সংগেই সহজ ও সরল কণ্ঠে বলল, ‘হ্যাঁ যাচ্ছি তো?’ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল মারিও জোসেফের। বলল, ‘আপনাদের দুজনকে আমাদের সাথে একটু যেতে হবে।’ ‘কোথায়?’ আহমদ মুসার কণ্ঠে কৃত্রিম বিস্ময়ের সুর। ‘আমাদের অফিসে।’ বলল মারিও জোসেফ। ‘আপনাদের পরিচয় কিন্তু দেননি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি এ্যান্টেনিও। লিসবনের এই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অফিসার আমি।’ বলল মারিও জোসেফ। এক কৌতুকের হাসি ফুটে উঠল আহমদ মুসার মুখে। বলল, ‘এমন ক্ষেত্রে আপনার আইডেনটিটি কার্ড দেখিয়ে এ ধরনের কথা বলা উচিত। তা আপনি দেখাননি।’ ‘মাফ করবেন। আপনি সে ধরনের কেউকেটা নন বলেই দেখানো হয়নি। চলুন আপনারা।’ বলল মারিও জোসেফ। ‘যদি বলি যাব না আমরা। এক ঘন্টার মধ্যে আমাদের এয়ারপোর্টে পৌছতে হবে। আপনারা চাচ্ছেন প্লেনটা আমাদের ফেল হোক।’ আহমদ মুসা বলল। খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল মারিও জোসেফের মুখ। বলল, ‘ধন্যবাদ। আমাদের সন্দেহকে আপনারা সত্য প্রমাণ করেছেন। আপনারা যাবেন না আমরা জানতাম। এজন্যে নিয়ে যাবার সব ব্যবস্থাই করে এসেছি। হোটেল কর্তৃপক্ষও আমাদের সহযোগিতা করবেন। সুতরাং না গিয়ে আপনাদের উপায় নেই।’ বলল কঠোর কণ্ঠে মারিও জোসেফ। ‘সব বুঝলাম। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না আমাদের কেন যেতে হবে? আমরা কি কোন অপরাধ করেছি?’ বলল আহমদ মুসা। তার কণ্ঠে কৃত্রিম ক্ষুদ্ধতার সুর। ‘এটা হোটেল। এখানে আমরা সব কথার আসর বসাতে পারি না। অফিসে চলুন, সবই জানতে পারবেন।’ বলল এ্যান্টেনিও ছদ্মনামের মারিও জোসেফ। আহমদ মুসা ভাবছিল। লোকটি যা বলেছে সব সত্যি। ওরা আট-ঘাট বেঁধেই এসেছে। আর এই হোটেলে ওদের সাথে লড়াইয়ে নামার মধ্যে কোন মংগল নেই। তাতে পর্তুগাল হয়ে আজোরাস যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পর্তুগালের পাসপোর্টে পর্তুগাল হয়ে আজোরস দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার অনেক সুবিধা। এ সুবিধা আহমদ মুসা হাতছাড়া করতে চায় না। সুতরাং এই আজোরস যাওয়ার পথ যতটা নিরুপদ্রব হয় সে ধরনের ব্যবস্থাই করতে হবে। আহমদ মুসা এটাও ভাবল যে, আজোরস যাওয়ার পথে শুরুতেই ওদের হাতে বন্দী হবার মধ্যেও ঝুঁকি আছে। আজোরস দ্বীপপুঞ্জে যাওয়াই যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তো আসল কাজই পন্ড হয়ে যাবে। অবশেষে আহমদ মুসা ভাবল, ওদের হাতে বন্দীও হওয়া যাবে না, কিন্তু এই মুহূর্তে কোন ঘটনাও ঘটানো যাবে না, এই উভয় সংকটে আহমদ মুসা ধৈর্য্য ও অপেক্ষারই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। মারিও জোসেফ থামলে আহমদ মুসা তাকাল হাসান তারিকের দিকে। মুখে একটু হাসি টেনে বলল, ‘লছমন কি বল, এদের সাথে যাওয়ার জন্যে রেডি?’ হাসান তারিকের ঠোঁটেও হাসি ফুটে উঠল। বলল, ‘রেডি, তবে ঠিক সময়ে প্লেন আমাদের ধরতে হবে।’ ‘শুনেছেন তো মি. এ্যান্টেনিও? আমাদের প্লেন ছাড়ার আর মাত্র ৪০ মিনিট বাকি। চলুন।’ বলল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক আগে আগে চলল। তাদের পেছনে মারিও জোসেফরা। হোটেল থেকে বেরিয়ে এল তারা। গাড়ি বারান্দায় একটা পাজেরো জীপ এবং একটা মাইক্রো দাঁড়িয়েছিল। দুগাড়ি ঘিরে লোকরা দাঁড়িয়েছিল। মারিও জোসেফ সেখানে পৌছেই লোকদের উদ্দেশ্য করে বলল, ‘দুজনকে দুগাড়িতে তুলে তোমরা ওঠ গাড়িতে।’ বলে মারিও জোসেফ নিজে গিয়ে জীপের ড্রাইভিং সিটে উঠল। লোকরা আহমদ মুসাকে জীপে এবং হাসান তারিককে মাইক্রোতে তুলতে গেল। আহমদ মুসার হাতে ছিল একটা হ্যান্ড ব্যাগ, হাসান তারিকের হাতেও একটা। আহমদ মুসা জীপে ওঠার আগে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল। বলল হাসান তারিককে লক্ষ্য করে, ‘লছমন, আমার ব্যাগটাও তোমার কাছে থাক।’ বলে আহমদ মুসা কয়েক ধাপ এগিয়ে তার হাতের ব্যাগ হাসান তারিকের হাতে তুলে দিল। তারপর পেছন ফিরে জীপের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে আবার থমকে দাঁড়িয়ে মুখ পেছন দিকে ঘুরিয়ে হাসান তারিককে লক্ষ্য করে বলল, ‘লছমন, ব্যাগটা বন্ধ করতে ভুলে গেছি। তুমি বন্ধ করো।’ ‘ঠিক আছে। বুঝেছি।’ ওদিক থেকে বলল হাসান তারিক। আহমদ মুসার ঠোঁটে এক টুকরো হাসি ফুটে উঠল। গাড়িতে উঠে বসেছে আহমদ মুসা। দুটি গাড়ি ছুটে চলেছে শহরতলীর দিকে। গাড়ি ষ্টার্ট দিতেই ওরা সব সিগারেট ধরিয়েছে। দুদিকের দুটি জানালা খুলে দেয়ার পরও গাড়ি ভরে গেছে সিগারেটের ধোঁয়ায়। আহমদ মুসা প্রতিবাদ করল। বলল, ‘আপনারা গাড়িকে গ্যাস চেম্বার বানিয়ে ফেললেন, এটা কোন ভদ্রতা?’ আহমদ মুসার এ কথা নিয়ে ওদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা শুরু হলো। প্রথমেই মারিও জোসেফ বলল, ‘তাহলে বুঝুন হিটলার কতটা ভদ্র ছিল এবং তার গ্যাস চেম্বারগুলো কেমন ছিল!’ ‘বস, সিগারেটের ধোঁয়াকে যে গ্যাস বলে তার পক্ষে হিটলারী গ্যাস সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব নয়।’ একজন বলে উঠল। সে থামতেই আরেকজন বলল, ‘সিগারেটের ধোঁয়া যার কাছে গ্যাসের মত অসহ্য সে মুসলমান না হয়ে পারে না। আপনি ঠিকই সন্দেহ করেছেন বস।’ এই কণ্ঠ থামতেই আরেকজন বলে উঠল, ‘বস, একে আসল গ্যাস চেম্বারের স্বাদ পাইয়ে দিতে হবে।’ ‘মনে হচ্ছে ঈশ্বর তোমাদের আশা পূরণ করবেন।’ বলল মারিও জোসেফ। এইভাবে তাদের আলোচনা চলতেই থাকল। আহমদ মুসার ঠোঁটে ফুটে উঠল আগের সেই হাসি। হাসিটা ধীরে ধীরে কঠিন এক সিদ্ধান্তে পরিণত হলো। ঘড়ি দেখল আহমদ মুসা। দশ মিনিট গাড়ি চলেছে। তার মানে বিমান বন্দরে রিপোর্ট করার আর মাত্র ৩০ মিনিট বাকি। আহমদ মুসা পকেট থেকে ‘মাউথ-নোজ গ্যাস কভার’ বের করল। এটা ক্ষুদ্রাকারের এক ধরনের গ্যাসমাস্ক। এর কার্যকারিতা পাঁচ দশ মিনিটের বেশি থাকে না। রাস্তা-ঘাট, কল-কারখানা এবং বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আকস্মিক কোন গন্ধময় পরিবেশের সৃষ্টি হলে এটা ব্যবহার করা হয়। আহমদ মুসা গ্যাসমাস্কটি পরে নিল। হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল গাড়িতে। মারিও জোসেফ বলে উঠল, ‘হেসো না, ফাঁসির আসামীও মুক্তির স্বপ্ন দেখে।’ গ্যাসমাস্কের সাথেই মার্বেলের মত কালো রংয়ের গ্যাসের ডিনামাইট বের করেছিল আহমদ মুসা। আহমদ মুসার গ্যাসমাস্ক নিয়ে হাসি ঠাট্টারত কেউই এটা খেয়াল করেনি। গ্যাস-ডিনামাইটের কালো শরীরের এক জায়গায় জ্বল জ্বল করে জ্বলছিল একটা লাল বিন্দু। এটাই গ্যাস-ডিনামাইটের ট্রিগার পিন। পিনটি খুলে নিলেই গ্যাস-ডিনামাইটের বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণ ঘটে মানে গ্যাস-ডিনামাইটটি তার ভয়ংকর গ্যাস নিঃসরণ শুরু করে। এ গ্যাস-ডিনামাইট আলফ্রেড নোবেলের ডিনামাইটের মত সবকিছু ধ্বংস করে না, কিন্তু ছয় বর্গগজের মধ্যে কোন জীবনের অস্তিত্ব রাখে না। এ কারণেই জীবন ধ্বংসের এ নিরব-অস্ত্রকে ডিনামাইট নাম দেয়া হয়েছে। হাতের মুঠোর মধ্যে লুকানো জীবন ধ্বংসী এ মারণাস্ত্রের ট্রিগার পিন খুলতে গিয়ে কেঁপে উঠল আহমদ মুসা। হৈ হুল্লোড়, হাসি ঠাট্টায় ব্যস্ত এ জীবন্ত মানুষগুলোর জীবন কি এতই সস্তা যে, আগামী কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তারা ধ্বংস হয়ে যেতে পারবে! ওদের সুন্দর পৃথিবী, মমতায় গড়া ওদের পরিবার থেকে ওরা চিরতরে একেবারে বিনা নোটিশে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে কেন! পরক্ষণেই আহমদ মুসার মন থেকে কে যেন বলে উঠল, পৃথিবীর মানব বাগান যিনি সৃষ্টি করেছেন সেই ‘মহা তিনি’ই সৃষ্টির সাথে ধ্বংসকে একই সাথে জুড়ে দিয়েছেন। ভূমিকম্প, বন্যা, জলোচ্ছাস, ঝড়-সাইক্লোন-হ্যারিকেন, মহামারি এই ধ্বংসেরই এক একটি মহা অস্ত্র। আগাম নোটিশ দিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে এরা আসে না। আবার মন থেকেই আরেকজন বলে উঠল, হত্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংস তো এক জিনিস নয়। মন থেকে এরও উত্তর এল সংগে সংগেই। বলা হলো, গাছকে রক্ষার জন্যে আগাছা তো মানুষই ধ্বংস করে। না করলে আগাছাই গাছকে শেষ করে দেয়। মানব সমাজেও রয়েছে এ ধরনের অসংখ্য আগাছা। যারা আহমদ মুসা ও হাসান তারিককে ধরে নিয়ে যাচ্ছে এরা ষড়যন্ত্রকারী এবং সন্ত্রাসী নামের আগাছা, এদের হত্যা করতে না পারলে এরাই হত্যা করবে আহমদ মুসা ও হাসান তারিককে। ওরা আহমদ মুসাকে আসল গ্যাস চেম্বারের স্বাদ পাইয়ে দিতে চায়। ওদের সুযোগ দিলে ওরা এটাই করবে। আর এ জালেমরা জুলুমের জিন্দানখানা সাও তোরাহ দ্বীপে যাবার পথে বাধা। এই আগাছাদের বিনাশ না হলে এক ইঞ্চিও আহমদ মুসা এগুতে পারবে না। শুধু তাই নয়, জীবন দিয়ে মাশুল দিতে হবে অন্যায় দুর্বলতার। আহমদ মুসা জেগে উঠল মুহূর্তের ভাবাবেগ থেকে। কঠোর হয়ে উঠল আহমদ মুসার মুখ। ঠিক এই সময়েই মারিও জোসেফ বলে উঠল, ‘ডন সিলভাকে বলে দাও, আমরা অফিসে যাচ্ছি না। এসব ঝামেলা অফিসে নিয়ে লাভ নেই। সামনে পাইনের পার্কটায় যেতে বল। আর বলে দাও কথাবার্তায় সময় খরচ করার প্রয়োজন নেই। কাপড় খুলে দেখবে খাতনা আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে সোজা বুকে কয়েকটা গুলী ঢুকিয়ে দেবে। ব্যস।’ থামল মারিও জোসেফ। তার থামার সাথে সাথেই জীপটা হঠাৎ বাঁক নিয়ে আরেকটা রাস্তায় প্রবেশ করল। আহমদ মুসা বুঝল তাদেরকে পাইনের পার্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কঠিন একটা হাসি ফুটে উঠল আহমদ মুসার ঠোঁটে। গ্যাস- ডিনামাইট দুহাতের মুঠোতে নিয়ে খুলে ফেলল লাল পিনটা। তারপর সামনের সিটের নিচ দিয়ে কাল বলটা গড়িয়ে দিল সামনে। এক সেকেন্ড, দুসেকেন্ড করে গড়িয়ে চলল সময়, ঠিক দশ সেকেন্ডের মাথায় গাড়ির ষ্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল। ড্রাইভিং সিট থেকে মারিও জোসেফ দূর্বল তন্দ্রালূ কণ্ঠে বলল, ‘ডন, তুমি ড্রাইভিং সিটে এস, হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল শরীর।’ ‘হঠাৎ এ রকম হলো কেন? মনে হচ্ছে আমার শরীর তোমার চেয়েও খারাপ। উঠে দাঁড়াবার শক্তি আমার নেই।’ টেনে টেনে দুর্বল কণ্ঠে বলল ডন। ‘কি বললে?’ তড়াক করে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করে চিৎকার করে বলে উঠল মারিও জোসেফ, ‘গুলী কর, খুন কর এই লোককে।’ বলে মারিও জোসেফ নিজেই পকেট থেকে রিভলবার বের করার চেষ্টা করল। কিন্তু তার আগেই আহমদ মুসা পাশের ঝিমুনি আক্রান্ত লোকটির হাত থেকে ষ্টেনগান কেড়ে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘যে যেখানে যেভাবে আছ বসে থাক। একটু বেয়াদবী করলে মরবে গুলী খেয়ে।’ বলে আহমদ মুসা পিছু হটে গাড়ি থেকে নেমে এল। বন্ধ করে দিল গাড়ির দরজা। পেছনের গাড়িটা প্রায় এসে পড়েছে। আহমদ মুসা তার ষ্টেনগান তুলল গাড়িটাকে লক্ষ্য করে। সংগে সংগে গাড়ি থেকে চিৎকার শোনা গেল, ‘ভাইয়া, গুলী করবেন না। আমি গাড়ি চালাচ্ছি।’ আহমদ মুসা ষ্টেনগানের ব্যারেল নিচে নামিয়ে ট্রিগার থেকে তর্জনি সরিয়ে নিল। বলল সেই সাথে চিৎকার করে, ‘ভেতরের খবর কি?’ ‘সবাই ঘুমিয়েছে কিংবা............।’ হাসান তারিক কথা শেষ না করেই থেমে গেল। গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে ছুটে এল হাসান তারিক। ফিসফিস করে বলল, ‘ভাইয়া, খোলা ব্যাগের মাধ্যমে আপনি যে মেসেজ দিয়েছিলেন, তা সংগে সংগেই আমি বাস্তবায়ন করেছি।’ ‘ধন্যবাদ হাসান তারিক। আমি দুশ্চিন্তায় ছিলাম যে, তুমি বিষয়টা তাড়াতাড়ি ধরে ফেলতে পারবে কিনা। আলহামদুলিল্লাহ।’ বলে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত জীপের কাছে এল। নিজের মুখের গ্যাসমাস্ক ভালোভাবে মুখে-নাকে সেট হয়ে আছে কিনা দেখে জীপের দরজা খুলে ফেলল। এগুলো লাশের দিকে। পাশে এসে দাঁড়াল হাসান তারিক। দুজনে লাশগুলো রাস্তায় নামিয়ে ফেলল। ‘হাসান তারিক, ব্যাগগুলো নিয়ে এস তোমার মাইক্রো থেকে।’ বলে আহমদ মুসা এগুলো জীপের ড্রাইভিং সিটের দিকে। হাসান তারিক মাইক্রো থেকে দুটি হ্যান্ড ব্যাগ নিয়ে এসে আহমদ মুসার পাশের সিটে উঠে বসল। আহমদ মুসা গাড়ি ষ্টার্ট দিল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এয়ারপোর্টে রিপোর্ট করার আর মাত্র ২৫ মিনিট বাকি হাসান তারিক।’ ‘ইনশাআল্লাহ আমরা ঠিক পৌছে যাব ভাইয়া।’ বলল হাসান তারিক। ‘কিন্তু সামনে গিয়ে এ গাড়িটা ছেড়ে দিয়ে কোন ট্যাক্সি-ম্যাক্সি নিতে হবে হাসান তারিক। এ গাড়িটা পুলিশের পরিচিত হবে নিশ্চয়। সুতরাং এ গাড়ি এয়ারপোর্টে নেয়া যাবে না।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঠিক বলেছেন ভাইয়া। এয়ারপোর্টে কি কোন ঝামেলা হতে পারে? কি ভাবছেন আপনি?’ বলল হাসান তারিক। ‘মুসলমানদের আজোরস দ্বীপপুঞ্জে যাওয়া বন্ধ। কোনভাবে ওরা সন্দেহ করেছে আমরা মুসলমান, ওরা নিশ্চিত হবার জন্যেই আমাদের ধরে নিয়ে যাচ্ছিল। আমরা আহমদ মুসা ও হাসান তারিক এটা ওরা জানে না। সুতরাং এয়ারপোর্টে নতুন কোন ঝামেলা হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া যে নাম আমরা এ্যান্টোনিওদের বলেছি, সে নামে আমাদের টিকেট নয়। টিকেটে আমাদের পর্তুগীজ-স্পেনীয় নাম রয়েছে। আর পর্তুগীজ পড়তে না পারলেও পর্তুগীজ ভাল বলতে পারি আমরা।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আপনার কথা সত্য হোক ভাইয়া। আমাদের যাত্রার অবশিষ্ট সময় আল্লাহ নিরুপদ্রব করুন।’ বলল হাসান তারিক। আহমদ মুসার গাড়ি সেই রোডে উঠে আসার পর কিছু দূর এগিয়ে একটি ট্যাক্সি ষ্ট্যান্ড দেখে জীপটি রাস্তার পাশে ছেড়ে দিয়ে আহমদ মুসারা নেমে পড়ল। তারপর একটা ট্যাক্সি নিয়ে ছুটল লিসবন এয়ারপোর্টে। আজোরস দ্বীপপুঞ্জের টেরসিয়েরা দ্বীপের ‘লিজে’ এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন কাউন্টার। কাউন্টারে আহমদ মুসা এবং তার পেছনে হাসান তারিক দাঁড়িয়ে। ইমিগ্রেশন অফিসার আহমদ মুসা ও হাসান তারিকের পাসপোর্ট নাড়াচাড়া করে বলল, ‘আপনাদের টিকেট দেখি।’ আহমদ মুসা তার হাতে দুটি টিকেট তুলে দিল। লোকটি টিকেটের পাতা উল্টিয়ে দেখল। তারপর বলল, আপনাদের কার নাম রুইজর্জ এবং কার নাম পেড্রো পোর্টিট? ‘আমি রুইজর্জ, আর ও পেড্রো পোর্টিট।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আপনাদের নাম পর্তুগীজ, কিন্তু আপনারা তো এশিয়ান?’ অফিসার লোকটি বলল। ‘পর্তুগালে আফ্রিকান, রাশিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের লোক বাস করে। তাদের সাথে অনেক এশিয়ানও।’ হেসে বলল আহমদ মুসা। ‘তা ঠিক।’ অনেকটা বিব্রত কণ্ঠেই বলল অফিসার লোকটি। একটা দম নেবার পরই সে আবার বলে উঠল, ‘আচ্ছা আপনারা রবিন সিং রাফায়েল ও লছমন লিওনার্দো নামের দুএশিয়ানকে চেনেন?’ আহমদ মুসা মনে মনে আঁৎকে উঠল এই ভেবে যে, ‘লিসবনের তাদের সব খবরই তাহলে আজোরস-এ পৌছে গেছে।’ কিন্তু আহমদ মুসার এই আঁৎকে উঠা ভাব মুখের চেহারায় সামান্যও প্রকাশ পেল না। অফিসার লোকটি থামতেই আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘না, এমন নামের কাউকে আমরা চিনি না। ওরা এই বিমানে যাবে কিনা সেটা যাত্রীদের তালিকা দেখলেই তো জানা যায়।’ ‘ওরা খুব সাংঘাতিক লোক এবং মুসলমান। যাত্রী তালিকায় ঐ দুজনের নামে কোন যাত্রী নেই। নিশ্চয় ওরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ছদ্মনাম ব্যবহার করছে। কোন ছদ্মনাম নিয়েই ওরা প্লেনে উঠেছে।’ বলল অফিসার লোকটি। থেমেই আবার বলে উঠল লোকটি আহমদ মুসাদের পাসপোর্ট ও টিকিট ফেরত দিতে দিতে, ‘যাই হোক। সন্দেহ করে তো আমরা সব লোককে হেনস্তা করতে পারি না। আপনারা যান। ধন্যবাদ।’ আহমদ মুসা ও হাসান তারিক পাসপোর্ট ও টিকিট নিয়ে ইমিগ্রেশন থেকে বেরিয়ে লাগেজ লাউঞ্জে প্রবেশ করল। হাসান তারিক আহমদ মুসাকে ফিসফিস করে বলল, ‘ইমিগ্রেশন অফিসারটি নেহায়েত ভদ্রলোক। আমি তো ভাবছিলাম, উনি বলে বসবেন যে, আপনাদের নাম পরিচয় যে ঠিক তা প্রমাণের জন্যে আসুন আপনাদের ফিজিক্যাল টেষ্ট দিতে হবে। প্রমাণ করতে হবে আপনারা মুসলমান নন।’ ‘দেখলে না লোকটার চেহারা? সে খাঁটি পর্তুগীজ নয়। ‘আজোরী’ সে। মানে আজোরসের মানুষ সে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আজোরী’রাও পর্তুগীজ?’ বলল হাসান তারিক। ‘পর্তুগীজ নয়, মিক্সড পর্তুগীজ। পর্তুগীজরা যখন এই বিজন দ্বীপপুঞ্জ দখল ও বসতি গড়ে, তখন তারা প্রচুর স্প্যানিশকে এখানে নিয়ে আসে। পরবর্তীকালে নর্থ আমেরিকান আদিবাসি এবং এস্কিমোরাও বেশ সংখ্যায় নানাভাবে এখানে এসে ছিটকে পড়ে। সব মিলিয়ে ‘আজোরী’রা একটি মিশ্র জাতি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাই হবে। কিন্তু ভাইয়া, এই যে ফাঁড়াটা কাটল, এটাই শেষ ফাঁড়া নয় বলে মনে হচ্ছে।’ বলল হাসান তারিক। ‘কোন সন্দেহ নেই এ ব্যাপারে হাসান তারিক। ওয়ার্ল্ড ফ্রিডম আর্মি (WFA) নিশ্চিত যে, হোটেলে আমাদের ধরতে যাওয়া দুগাড়ির লোকদের হত্যা করে আমরা বিমানে উঠেছি লিসবন থেকে আজোরসের ‘লিজে’ আসার জন্যে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাহলে তো প্রকৃত বিপদ আমাদের জন্যে বাইরে অপেক্ষা করছে!’ বলল হাসান তারিক। ‘ঠিক অনুমান করেছ হাসান তারিক!’ আহমদ মুসা বলল। হাসান তারিক থমকে দাঁড়াল। বলল, ‘বেরুবার আগে তো কিছু তাহলে ভাবতে হয়। আসুন একটু দাঁড়ানো যাক।’ আহমদ মুসাও দাঁড়িয়ে পড়ল। মুখোমুখি হলো দু’জন। ‘ঠিক বলেছ হাসান তারিক। একটু ভাবা প্রয়োজন। তবে বিকল্প কিছু করার সুযোগ খুব একটা আছে বলে মনে হয় না।’ ‘কেন?’ বলল হাসান তারিক। ‘বিমান বন্দর থেকে বেরুবার একটাই পথ এবং সে পথটাই যদি ওরা আগলে থাকে!’ আহমদ মুসা বলল। ‘তাহলে শুরুতেই তো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হবে!’ বলল হাসান তারিক। ‘কিন্তু আমরা সহজেই চিহ্নিত হয়ে যাব, এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে আমাদের মিশনের ক্ষতি হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমিও তাই ভাবছি ভাইয়া। কিন্তু বিকল্প নেই আপনিই তো বললেন।’ বলল হাসান তারিক। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘হয়তো আমরা বেশি বেশিই ভাবছি। হয়তো কেউ আমাদের পথ আগলে নেই।’ ‘যদি থাকে তাহলে কি হবে, সেটাই তো আলোচনার বিষয়।’ হাসান তারিক বলল। ‘যে বিষয়ের উপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, এসব বিষয় নিয়ে আর ভেবে কি হবে। রণাঙ্গনই বলে দিবে সৈনিকের ভূমিকা কি হবে। এস, অন্য বিষয়ে একটু ভাবি।’ বলে আহমদ মুসা লাউঞ্জের একটা চেয়ারে গিয়ে বসল। হাসান তারিক গিয়ে বসল তার পাশে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ১ বাকি অংশ
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ২
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৩
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৪
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৫
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৬
→ গুলাগ অভিযান চ্যাপ্টার- ৭ (শেষ)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now