বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিন্সেস এমেন্ড্রা এন্ড দ্য সোর্ড অফ এক্সেলেন্সি-০৫

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তারপর...’ মিস আন্না এতটুকু বলে থামলেন। চারপাশে জড়ো হওয়া উৎসুক মুখগুলো দেখলেন একবার। রুবাইর মনে হলো, কৌতূহল পরীক্ষা করছেন তিনি। তাই চুপচাপ অপেক্ষা করতে লাগল। আজ সকাল পর্যন্ত মিউজিয়ামে আসার ইচ্ছে ছিল না তার। তারপর কে যেন ভেতর থেকে তাড়া দিয়ে বলল, ‘তোমার যাওয়া উচিৎ রুবাই! নয়তো আরেকবার অনুশোচনায় পড়বে!’ ‘তারপর...রাজকুমারী এমেন্ড্রা ফিরে চলল। দেবতা এপোলো একটুও বাধা দেননি। কারণ, মেয়েটির সাহস এবং সরলতায় মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হয়ত প্রেমেও পড়ে গিয়েছিলেন তার...তার কপালের তিনটি রাজতিলকের...’ রুবাই কপাল ছুঁয়ে নিজের তিল তিনটির কথা ভাবে। তার কাছে মনে হচ্ছে, এসব কিছুই ঘটছে না! সব স্বপ্ন! ‘রাজকুমারী ফিরতি পথ ধরল। মন ভারাক্রান্ত। তবু রাজ্যে বিশৃঙ্খলতা দেখা দিতে পারে, এই চিন্তায় ছুটে চলল সে। ক্লান্ত দেহ অত ধকল সামলাতে পারেনি। ফলে, পা ফসকে যায় তার। পাহাড়ের অনেক উঁচু থেকে ঝুলছিল সে। পরে এক যুদ্ধ-ফেরত সৈন্যের সাহায্যে বেঁচে যায় সে যাত্রা। সৈন্যটি কোন এক রাজ্যের যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসছিল। নিজের নাম জানায়, ফিবাস!’ রুবাই আনমনে হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির সেই মেম্বারের কথা ভাবে। তার নামও ফিবাস ছিল। কাকতালীয় নিশ্চয়ই! তবু কোথাও খুঁতখুঁতে একটি ভাব থেকে যায়। মিস আন্না তখনও বলে চলেছেন, ‘ফিবাস ছেলেটিকে রাজকুমারীর ভালো লেগে যায়। তাই সে তাকে নিজের সাথে রোডসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। ফিবাস খুশী মনেই মেনে নেয়। তারপর শুরু পথচলা। সময়ের সাথে-সাথে তাদের মাঝে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মন দেয়া-নেয়া হয়। এমেন্ড্রা ও তার বাবার শোক ভুলতে বসে। মিস আন্না তার কাহিনী চালিয়ে গেলেনঃ এদিকে, দেবী আফ্রোডাইটি কিন্তু থামেননি। তার মাথায় তখন একটিই চিন্তা। শোধ নিতে হবে। চরম শোধ। একদিন এমেন্ড্রাকে স্বপ্ন দেখালেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, ফিবাস আর কেউ নয়, বরং দেবত্ব হারানো এপোলো। তার ঘাড়ের জ্বলজ্বলে সোনালী-রঙ্গা বীণা চিহ্নটিই এর প্রমাণ। এমেন্ড্রা বিশ্বাস করল না। দুঃস্বপ্ন ভেবে এড়িয়ে গেলো। সে তার ভালবাসাকে অবিশ্বাস করে কিভাবে? একদিন সকালে, এমেন্ড্রা ঘুম থেকে উঠে দেখল ফিবাস তার পাশে নেই। ভাবল, হয়ত খাবার জোগাড় করতে গেছে। সে আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠে দাঁড়াতেই দেখল, বিরাট একটি সিংহ দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। সে চমকে গেল। অবশ্য ভয়ে স্তব্ধ হলেও, উপস্থিত বুদ্ধি হারাল না। বরং এক ঝটকায় কোমরের খাপ থেকে সামর্থ্যের তরবারিটি খুলে নিলো। তারপর সমূলে ঢুকিয়ে দিল সিংহটির বুকে! কিন্তু এ কী! সিংহটি মানুষের গলায় আর্তনাদ করে উঠল! লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। তারপর পরিণত হলো মানুষে! আতঙ্কিত এমেন্ড্রা এগিয়ে গিয়ে দেখল, মানুষটি আর কেউ নয়, তার প্রিয়তম ফিবাস! যাকে সে ভালবাসত। পৃথিবীর বুকে তার একমাত্র আপনজন! কিন্তু সে তো একটি সিংহকে আঘাত করেছিল! তাহলে? বেচারি চেঁচিয়ে কেঁদে উঠল, ‘ওহ ফিবাস! ওহ প্রিয়তম ফিবাস, আমি...আমি তোমাকে আঘাত করেছি? আমি তোমাকে কী করে আঘাত করলাম? কী করে, আমি পারলাম? আমি...ওহ ফিবাস!’ তারপর সে চিৎকার করে ডাকল, ‘দেবী আইসিস! সাড়া দাও, দেবী আইসিস! দোহাই লাগে! সামনে এসো! কে এমন সর্বনাশ করল আমার?’ দেবী আইসিস এলেন। ভক্তের কষ্টে তার নিজের চোখ জোড়াও ভিজে উঠেছে! তাকে বিষন্ন লাগছে খুব। নরম গলায় বললেন, ‘তুমি ষড়যন্ত্রের শিকার এমেন্ড্রা! আফ্রোডাইটি তার শোধ নিয়েছে! আমার অজান্তেই, তোমার চোখে মায়া-ধুলো ছিটিয়েছিল সে। তাই তুমি দেবতা এপোলোকে সিংহের রূপে দেখেছিলে!’ এমেন্ড্রা বিমূঢ়ের মত তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর দ্রুত হাতে ফিবাসের ঘাড়ের চুল সরালো। হ্যাঁ, কোন সন্দেহ নেই! ফিবাসই এপোলো! কিন্তু... ‘দেবতা এপোলো তোমাকে ভালবেসে ফেলেছিলেন, এমেন্ড্রা! তাই তোমাকে তরবারিটি নিতে দিয়ে, নিজের দেবত্ব হারালেন। হারালেন অমরত্ব। তোমাকে সঙ্গ দিলেন তিনি। আফ্রোডাইটির হার হলো। কিন্তু সে তা মেনে নিতে পারেনি! এখন এপোলো স্বর্গরাজ্যে ফিরে গেছেন। আর কখনও মর্ত্যের মানুষ তার দেখা পাবে না। তুমি একা। বিধ্বস্ত। তোমার মানসিকতা ভেঙ্গে দিয়েছে আফ্রোডাইটি! যাতে...’ এমেন্ড্রা ঝট করে উঠে দাঁড়ালো। তার এলোমেলো চুল বাতাসে উড়ছে। সুন্দর মুখ রাগে বিকৃত! ভয়ংকর দেখাচ্ছে তাকে! সে আকাশের দিকে চোখ তুলে তীব্র গলায় বলল, ‘কুচক্রী আফ্রোডাইটি, তোমাকে অভিশাপ দিলাম আমি। আমার জীবনের সমস্ত ভাল কাজের বিনিময়ে তোমাকে অভিশাপ দিলাম। আমার সমস্ত ভালবাসার চাইতে দ্বিগুণ পরিমাণ ঘৃণা দিয়ে অভিশাপ দিলাম। অভিশপ্ত তুমি। তোমার জীবনে কখনও ভালবাসা আসবে না। কারণ থাকলেও, কেউ ভালবাসবে না। তোমার সৌন্দর্যের নোংরা মায়ার ফিরেও তাকাবে না। তোমাকে অভিশাপ দিলাম, আফ্রোডাইটি। যত কষ্ট আমাকে দিয়েছ, তার কোটি গুণ কষ্ট তোমার হবে। কষ্টে বুক ফেটে যাবে তোমার। চোখের জল শুকিয়ে যাবে! তুমি মৃত্যুর জন্য হাঁসফাঁস করবে! কুচক্রী, ষড়যন্ত্রকারী দেবী, তুমি ধ্বংস হও! ধ্বংস হও তুমি!’ তারপর সে ফিবাসের মৃতদেহের উপর আছড়ে পড়ে কাঁদতে লাগল। নিজেকে দুষলো কখনো, কখনো বা অভিশাপ দিল আফ্রোডাইটিকে। তারপর আবার আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে কাঁদল। অনেক কাঁদল। চটপটে এক তরুণী জানতে চাইল, ‘তারপর? তারপর কী হয়েছিল, মিস আন্না? তরবারিটি কোথায়? আর এমেন্ড্রা? তার কী ঘটেছিল শেষ পর্যন্ত?’ জবাবটি এলো রুবাইয়ের কাছ থেকে। ‘তারপর...দেবী আইসিসের নির্দেশে, এমেন্ড্রা নিজ রাজ্যে ফেরে। সাথে সামর্থ্যের তরবারি। অবশ্য মেয়েটি তরবারিটিকে ঘেন্না করত। তবু...রাজ্য চালাতে সেটির প্রয়োজন ছিল বিধায় ধ্বংস করেনি তা। অত্যন্ত সফল একজন রাণী ছিল সে। শক্ত সুনিপুণ ব্যবস্থায় রাজ্য শাসন করেছিল প্রায় ষাট বছর। তার মৃত্যুর পর, তরবারিটি আর কেউ কখনোই দেখেনি!’ ‘এমেন্ড্রা দিনের-বেলা থাকত নির্লিপ্ত এক রাণী। প্রজা-দরদি, অন্যায়ের প্রতি কঠোরতম শাসক। যার কোন ভাবাবেগ নেই। কিন্তু, রাতের বেলা বদলে যেত সে। শোক করত। মায়ের জন্য। বাবার জন্য। ফিবাসের জন্য! তার আর্তনাদের শব্দ নাকি সুদূর অলিম্পাস পর্বতেও পৌঁছাতো। বুক ফাটা সেই আর্তনাদের শব্দে আফ্রোডাইটি অনুশোচনায় পুড়তেন। এপোলো চোখ মুছতেন লুকিয়ে। আর দেবরাজ জিউস বিচলিত হতেন প্রচ-। রাতের পর রাত তার সেই আর্তনাদে ভারী হত আকাশ, বাতাস, পৃথিবী। তবু কাঁদত সে। কেঁদেই যেতো! কেঁদেই যেতো...’ রুবাই থামল। দেখল, আশেপাশের সবাই চোখ মুছছে। মিস আন্না নিজেও বিষন্ন চোখে তাকিয়ে আছেন তার দিকে। রুবাইর মনে হলো, তার এই চোখ জোড়া ভীষণ পরিচিত। মিস আন্না মৃদু গলায় বললেন, ‘তবে এমেন্ড্রা জানত না, যে সে আবার পৃথিবীতে আসবে। জানতো না, যে ফিবাসকেও খুঁজে পাবে। ঐতিহাসিকদের মতে, একদিন শনির রাহুকে ঘিরে ফেলবে মঙ্গল এবং বৃহস্পতি! হঠাৎ প্রচ- ভূমিকম্প হবে। সূর্যের রঙ বদলে তাকে দেখাবে তরল সোনার মত। সামর্থ্যের তরবারিটি ভেঙ্গে যাবে, শেষ মালিকের হাতে। সেদিন, এমেন্ড্রা তার হারানো ভালবাসার মুখোমুখি হবে।’ কথাগুলো বলে রুবাইর দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন তিনি। রুবাই অবাক হয়ে আবিষ্কার করল, মিস আন্নাকে হুবহু দেবী আইসিসের মত লাগছে। সে কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুলতেই, মিস আন্না একটি শোকেসের দিকে আঙ্গুল তাক করলেন। ‘এই তো, সেই সামর্থ্যের তরবারি!’ সবাই তার নির্দেশিত দিকে তাকাল। কাঁচের সুদৃশ্য একটি বাক্স। তার ভেতর নরম ভেলভেটের বিছানায় তরবারিটি শুয়ে আছে যেন। কালের কষাঘাতে সৌন্দর্য অনেকটাই ম্লান। জায়গায় জায়গায় জং পড়ে গেছে। সবাই যখন তরবারিটি দেখতে ব্যস্ত, মিস আন্না মাটিতে জোরে-জোরে তিনবার পা ঠুকে দিলেন। এক্রোপোলিস মিউজিয়ামের দর্শনার্থীরা টের পেল, মেঝে দুলছে। যেন ঢেউ বহুল সাগরের পানি। কে যেন চেঁচিয়ে বলল, ‘ভূমিকম্প! ভূমিকম্প! বেরোও সবাই!’ হুড়মুড় করে বেরুতে গিয়ে কেউ-কেউ আহত হতে লাগল। রুবাই ধাক্কাধাক্কি না করে ধীরে-ধীরে এগোচ্ছিল। হঠাৎ বড় একটি কাঠের তাক খসে পড়ল তার উপর! তারপর সব অন্ধকার। *** ‘এমেন্ড্রা! এমেন্ড্রা, কোথায় তুমি?’ কে যেন নরম গলায় ডাকছে। রুবাই নিজের অজান্তেই সাড়া দিল। গলায় ধুলো ঢুকে যাওয়ায় কাশছে। ‘ফিবাস...তুমি এসেছ?’ ‘হ্যাঁ! কিন্তু তুমি কোথায়?’ ‘এখানে, কয়েকটি তাকের নীচে!’ এমন বিপদজনক পরিস্থিতির কবলে পড়ে সে ভুলেই গেছে যে ফিবাস নামের কারো এখানে আসা কিংবা তাকে ‘এমেন্ড্রা’ বলে ডাকা স্বাভাবিক ঘটনা নয়! রুবাই হাত বের করার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না! কাঠের তাক আর ছোট্ট একটি বেদীর মাঝের ফাঁকটুকুতে আটকে গেছে তার শরীর। অসহায় চোখে চারপাশে তাকায়। আবছা আলোয় কিছু একটা চোখে পড়ে তার। সামর্থ্যের তরবারি! সেই অভিশপ্ত তরবারি! যার জন্য শেষ হয়েছিল রাজকুমারীর ভালবাসা! সেই খুনে তরবারিটি! রুবাই হাত বাড়িয়ে তরবারিটি টেনে নেয়। প্রচ- রাগে কাত হয়ে থাকা তাকগুলোর উপর আঘাত করে তা দিয়ে! ধাতব কিছু ভাঙ্গার কর্কশ শব্দ কানে আসে। সেই সাথে কাঠের বেশ বড়-সড় একটি টুকরো তার মাথায় এসে লাগে। বেচারি একদিনের মাঝে দ্বিতীয়বার জ্ঞান হারায়। ***


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now