বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গিফ্ট বক্স

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গিফ্ট বক্স ================= *** মোহাম্মদ আহাদ *** ১৫ই জানুয়ারি , সকাল ............................ সকাল ১০টা । মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো শারলিনের । মোবাইল হাতে নিয়ে তারিখটা দেখতেই একটা মিশ্র অনুভূতি হল তার । আজ দুইটা ঘটনা ঘটবে । আজ বিকালে পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসবে । আর মাসের ১৫ তারিখ বলে তার বারান্দায় একটা গিফ্ট বক্স থাকবে । বক্সে থাকবে ২টা বড় আর একটা ছোট গোলাপ । এবং সাথে থাকবে এক টুকরা কাগজে টাইপ করা কোন কবিতা বা গানের কয়েকটি লাইন । গত দেড়বছর ধরে এমনটাই হয়ে আসছে । যেহেতু তারা দোতলায় থাকে তাই খুব সহজেই রাস্তা থেকে বক্সটা শারলিনের বারান্দায় ছুড়ে দেওয়া সম্ভব । প্রথম প্রথম অবশ্য শারলিন খুব বিরক্ত হত কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সে এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে । এখন বরং প্রতিমাসেই সে ১৫ তারিখের জন্যে অপেক্ষা করে । বক্সটা কে পাঠায় তা জানার জন্য নানা রকম ভাবে চেষ্টা করেও সে ব্যর্থ হয়েছে । একবারতো সে সারারাত জেগে বারান্দায় বসে ছিল । ভোরের দিকে অসাবধানতাবশত তার চোখদুটো কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল , চোখ খুলতেই দেখে পায়ের কাছে একটা বক্স পড়ে আছে । শারলিন সবসময়ই আশা করত একদিন বক্সের প্রেরক তার সামনে এসে নিজের পরিচয় দিবে । কিন্তু আজ পর্যন্ত এমন কিছু হয় নি । শারলিন ঠিক করে রেখেছিল আজ আর বারান্দায় যাবে না সে । যেহেতু আজ সন্ধায় পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসবে আর অপর প্রান্তের মানুষটা তার কাছে শতভাগ অপরিচিত তাই বেনামি উপহার সে আর গ্রহণ করবে না । কিন্তু তার অবচেতন মনটা কিছুতেই বারন মানতে চাইছে না । মনের ইচ্ছার কাছে পরাজিত হয়েই একসময় বারান্দা থেকে বক্সটা নিয়ে আসলো সে । বক্সটা খুলতেই প্রতিবারের মত তিনটা গোলাপ আর একটুকরা কাগজ বের হয়ে আসলো ।আজ লেখা ছিল- "তুমি জানো কোথায় আমার কেমন কাঁপে বুক আজও আমি তোমার চোখে একলা আগন্তুক !! " ১৫ই জানুয়ারি , বিকেল .............................. ড্রয়িংরুমে বসে আছে শারলিন । পাত্রপক্ষও উপস্থিত । ছেলের নাম আবিদ হোসেন । বুয়েট থেকে পাশ করা ইন্জিনিয়ার । ছেলে দেখতে ভালো , ভদ্র , মার্জিত । ছেলের ফ্যামিলিও ভালো । এরকম ছেলেকে অপছন্দ করার কোন কারন নেই । উদ্ভট কোন প্রশ্ন কিংবা আবদার ছাড়াই মেয়ে দেখার পর্ব শেষ হল । হঠাত শারলিনের বাবা বলে উঠলো ,' তোমাদের কিছু বলার থাকলে তোমারা আলাদা কথা বলে নিতে পার । " কিন্তু আবিদ অথবা শারলিন কারোই এ ব্যাপারে কোন উৎসাহ দেখা গেল না । মুরুব্বিরা কথা বলে বিয়ের দিন ঠিক করলেন ১৪ই ফেব্রুয়ারি । ১৪ই ফেব্রুয়ারি ...................... বিশাল এক খাটের উপর ঘোমটা টেনে বসে আছে শারলিন । আজ সন্ধায় আবিদের সাথে তার বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে । বিয়ে নিয়ে কোনরকম উচ্ছ্বাস কিংবা দুশ্চিন্তা কিছুই কাজ করছে না তার মনে । কবুল বলার আগ পর্যন্ত সে ভাবছিল বক্সের প্রেরক তার সামনে এসে নিজের পরিচয় দিবে । কিন্তু না , কেউ আসে নি । স্বাভাবিকভাবেই বাবার পছন্দ করা ছেলেকে বিয়ে করেছে শারলিন । অবশ্য আর কীইবা করার ছিল তার ? যার নাম পর্যন্ত সে জানে না , যার অস্তিত্ব কয়েকটা গোলাপ আর কয়েকটুকরা কাগজের মাঝেই সীমাবদ্ধ তার জন্য আর যাই হোক পরিবারের মতের বিরোধিতা করে অপেক্ষা করা আমাদের সমাজে সম্ভব না । এরকম বিভিন্ন জিনিস ভাবতে শারলিন যখন মগ্ন ছিল ঠিক তখনই রুমে ঢুকলো আবিদ । স্বামীগিরি না ফলিয়ে শারলিনকে বলল ,"গত কয়েকদিন অনেক ধকল গেছে ; ড্রেস চেন্জ করে ফ্রেস হয়ে শুয়ে পড় । আবিদের এরকম আচরণে বেশ অবাকই হল শারলিন । বাসররাতে স্বামীর কাছ থেকে এরকম আচরণ কোন মেয়েই প্রত্যাশা করে না । এখন থেকে জীবনের বাকি অংশটুকো এরকম অনুভূতিশুণ্য একজন মানুষের সাথে থাকতে হবে ভাবতেই আরো বেশি বিমর্ষ হয়ে গেল শারলিন । ১৫ই ফেব্রুয়ারি ........................ খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গে গেল শারলিনের , দেখলো আবিদ তখনো গভীর ঘুমে । এত সকালে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত হবে কীনা বুঝতে না পেরে বারান্দায় গেল সে । বারান্দায় ঢুকেই আতকে উঠলো সে । বারান্দায় পড়ে আছে একটা গিফ্ট বক্স । বক্সের প্রেরক তার শ্বশুরবাড়ির ঠিকানাও জেনে ফেলেছে দেখে বেশ অবাক হল সে । এখানেও কী তার জন্যে প্রতি মাসে একটা বক্স পড়ে থাকবে ? এর কী ব্যাখ্যা দিবে সে আবিদকে ?? আবিদ কী বিশ্বাস করবে যে সে প্রেরককে একবিন্দুও চিনে না ??? এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে বক্সটা হাতে তুলে নিয়েছে তা বুঝতেই পারে নি শারলিন । বারান্দায় রাখা রকিং চেয়ারটায় বসে বক্সটা খুলল সে । যথারীতি তিনটি গোলাপ বেরিয়ে এল । তবে আজকের গোলাপগুলোর বিশেষত্ব হল প্রতিটি গোলাপই কালো রঙের অর্থাত গোলাপগুলো অতিদূর্লভ ব্ল্যাক রোজ প্রজাতির । আর আজকে একটার পরিবর্তে কাগজ দুইটা । ভাজ করা কাগজ দুইটার উপর প্রথম ও দ্বিতীয় লেখা । প্রথম কাগজটাতে একটা গান- "ভালোবেসেছি তোমাকে প্রথম চোখের আলোতে এসেছ যখন ছিলে হৃদয় জুড়ে প্রতিক্ষণে ভালবাসা তো হয়না মনের বিপরীতে !!" আর দ্বিতীয় কাগজটায় একটা টাইপ করা চিঠি । চিঠিটা পেয়েই প্রথমে নিচের দিকে তাকালো শারলিন । কিন্তু প্রেরকের নামের অংশটুকো খালি দেখে কিছুটা হতাশই হল সে । কিছুটা কৌতুহল কিছুটা বিরক্তি নিয়ে চিঠিটা পড়তে শুরু করলো সে - "শারলিন, আমি জানি আমার পরিচয় জানতে তুমি কতটা আগ্রহী । আমি এটাও জানি আজ আমার গিফ্ট বক্সটা হাতে পেয়ে তুমি কতটা বিব্রত । কথা দিচ্ছি , তুমি না চাইলে এরপরে আর কখনোই তোমাকে কোন গিফ্টবক্স পাঠাবো না । আর তোমাকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখে গিফ্টবক্স পাঠানোর কারন হল , তোমাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম কোন এক মাসের ১৫ তারিখে লাল শাড়ি পরিহিত অবস্থায় । সেদিনই আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি । তোমাকে প্রেমিকা হিসেবে পেতে চেয়েছি অনেকবার কিন্তু সাহসের অভাবে তা আর সম্ভব হয় নি । আজ তুমি নতুন এক সংসারের সদস্য । আশা করব , তোমার নতুন সংসারে তুমি তোমার নিজের মত করে অনেকটা ভালো থাকবে । ইতি ভালো করে খেয়াল করতেই শারলিন বুঝলো 'ইতি' লিখাটার নিচে একটা সাদা স্টিকার লাগানো । আলতো করে স্টিকারটা তুলতেই দেখলো সেখানে লিখা আছে ,"আমার পরিচয় জানতে চাইলে বক্সের ভিতরের অংশটুকো দেখ । " বক্সের দিকে তাকিয়ে শারলিন দেখলো বক্সের ভিতরের দেয়ালে একটা কাগজ লাগানো । বক্সটা ছিড়ে ভিতরের কাগজে তাকাতেই শারলিন দেখলো সেখানে লেখা আছে -"চিঠির প্রেরক শারলিনের স্বামী আবিদ হোসেন " এটা পড়েই দৌড়ে রুমে চলে গেল শারলিন । দেখলো আবিদ হাসি হাসি মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে আছে । অশ্রুসজল চোখে আবিদের বুকে ঝাপিয়ে পড়লো শারলিন । আর বললো ,"আমার গিফ্ট বক্স দিতে যেন কখনো ভুল না হয় !!!"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now