বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ ‘ডগ’ নামের লোকটা সোফিয়া সুসানের সামনে এসে দাঁড়াল। তার হাতের ষ্টেনগানটা সে কাঁধে ঝুলাল। তারপর দুহাত বাড়িয়ে সুসানকে ধরে দাঁড় করাতে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই স্প্রিং এর মত উঠে দাঁড়াল ভিক্টর রাইয়া। প্রচন্ড এক ঘুষি চালাল ‘ডগ’কে লক্ষ্য করে। ঘুষিটা তার চোখের নিচটাকে আহত করল। ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এল সেখান থেকে। ডগ এর নিচু হয়ে যাওয়া হাতটা ঘুরে এল ভিক্টর রাইয়ার দিকে। দুহাত তার জড়ো হলো। তারপর তা গিয়ে আঘাত করল ভিক্টর রাইয়ার কপালে। ভিক্টর রাইয়ার দেহটা টলে উঠে ঘুরপাক খেয়ে পড়ে গেল মেঝের উপর। চোখের পলকে ঘুরে গেল ডগ এর দুহাত আবার সুসানের দিকে। পড়ে গিয়ে টলতে টলতেই আবার উঠে দাঁড়াচ্ছিল ভিক্টর রাইয়া। বলছিল সে, ‘আমি বেঁচে থাকতে আমার মেয়ের গায়ে হাত দিতে পারবে না কুকুর।’ ঠিক সে সময়েই চোখের পলকে বেরিয়ে এল ডেভিড ডেনিম-এর হাত পকেট থেকে রিভলবার সমেত। রিভলবার থেকে একটা গুলী বেরিয়ে এল। তা গিয়ে আঘাত করল ভিক্টর রাইয়ার ডান হাতের কব্জীকে। বলে উঠল ডেভিড ডেনিম সেই সাথে, ‘এ কিছু নয় ভিক্টর রাইয়া, আমার ডগের গায়ে হাত তোলার ছোট্ট শাস্তি। একটু অপেক্ষা কর সুসানের পর তোমার পালা আসছে।’ ভিক্টর রাইয়া আর্তনাদ করে উঠে বাম হাত দিয়ে ডান হাতটা চেপে ধরে বসে পড়েছিল। সোফিয়া সুসান ডগ-এর হাতকে পাশ কাটিয়ে চেষ্টা করল তার আহত পিতার দিকে ছুটে আসতে। কিন্তু ডগ তার বাঁ হাত দিয়ে খামচে ধরল সুসানের সার্টের কলার এবং একটা হ্যাচকা টান দিয়ে টেনে নিল নিজের দিকে। সার্টের বাম পাশটা ছিড়ে কাঁধের নিচে নেমে গেল। সোফিয়া সুসানের বাঁম কাঁধটা আহত ছিল। ওখানে আঘাত পাওয়ায় ককিয়ে উঠল সে। কিন্তু কঁকিয়ে উঠলেও সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েই তার ডান হাতের ঘুষি চালাল ডগ-এর বাম চোখের সেই আহত জায়গাতেই। কমান্ডো সুসানের এ ঘুষিটা খুবই কার্যকর হয়েছিল। থমকে গিয়েছিল ডগ। সে দুহাতে চেপে ধরেছিল তার বাম চোখটা। কিন্তু পরক্ষণেই দুহাত তার নেমে এল চোখ থেকে। তার রক্তাক্ত চেহারা ভয়ংকর হয়ে উঠল। কুস্তির প্রতিপক্ষের মতই সে ঝাঁপিয়ে পড়ল সুসানের উপর। কমান্ডো সুসান চকিতে নিজেকে সরিয়ে নিল। ডগ উপুড় হয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল গিয়ে সোফার উপর। সঙ্গে সঙ্গে সুসান তার ডান হাতের কনুইটাকে তীব্র বেগে ছুড়ে দিল ডগ-এর পিঠের ডান পাশটা লক্ষ্যে। আঘাত করেই ডগ-এর ষ্টেনগানটা কেড়ে নিল। কিন্তু ষ্টেনগান নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াবার আগেই ডেভিড ডেনিমের রিভলবারের গুলী গিয়ে বিদ্ধ করল সোফিয়া সুসানের ডান হাতকে। তার হাত থেকে ষ্টেনগান পড়ে গেল। ‘জীম, তুমি ষ্টেনগানটা সরিয়ে নাও। ডগটা এখনি উঠবে। তার কাজটা শেষ করা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব।’ বলল ডেভিড ডেনিম জীমকে লক্ষ্য করে। জীম তার ষ্টেনগান আহমদ মুসাদের দিকে তাক করে মূর্তির মত দাঁড়িয়েছিল। তার দৃষ্টি সে মুহূর্তের জন্যে আহমদ মুসাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেনি। ডেভিড ডেনিম-এর নির্দেশ পেয়ে সে নড়ে উঠল। মাথা ঘুরিয়ে সে তাকাল সুসানের কাছে পড়ে থাকা ষ্টেনগানের দিকে। আহমদ মুসা এই সুযোগেরই অপেক্ষা করছিল। পিছমোড়া করে বাঁধা আহমদ মুসার দুহাত নড়ে উঠল। তার হাতের খোলা বাঁধনটি খসে পড়ল হাত থেকে। চোখের পলকে আহমদ মুসার দুহাত ছুটে গেল জীমের ষ্টেনগানের দিকে। কেড়ে নিল ষ্টেনগান। কেড়ে নিয়েই আহমদ মুসা ব্রাশ ফায়ার করল দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনকে লক্ষ্য করে। জীম ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ততক্ষণে আহমদ মুসার ষ্টেনগানের ব্যারেল ঘুরে এসেছে জীমকে লক্ষ্য করে। ওদিকে হাসান তারিক ঝাঁপিয়ে পড়েছে ডেভিড ডেনিমের উপর। সে তার রিভলবার তুলছিল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে। ডেভিড ডেনিম আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে ট্রিগার টিপতে যাচ্ছিল। হাসান তারিক তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ায় ডেভিড ডেনিমের হাতটি বেঁকে যায় এবং সেই সাথে ফায়ারও হয়ে যায়। বুলেটটি গিয়ে বিদ্ধ হয় ডেভিড ডেনিমের দুচোখের সন্ধিস্থলে। মাথাটা এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যায়। ওদিকে ডগ উঠে দাঁড়িয়ে তার ষ্টেনগান হাতে তুলে নিয়েছিল। তার ষ্টেনগানের ব্যারেল ঘুরছিল আহমদ মুসার দিকে। কিন্তু তার আগেই সে আহমদ মুসার তৃতীয় ব্রাস ফায়ারের শিকার হলো। হঠাৎ উৎকর্ণ হয়ে উঠল আহমদ মুসা। বাইরে অনেকগুলো পায়ের শব্দ। এদিকেই ছুটে আসছে। আহমদ মুসা নিজের জ্যাকেটটি খুলে সোফিয়া সুসানের দিকে ছুড়ে দিয়ে ছুটল দরজার দিকে। বলল, ‘হাসান তারিক তুমিও এস।’ আহমদ মুসা দরজায় পৌছার আগেই কয়েকজন দরজায় এসে গিয়েছিল। প্রত্যেকের হাতেই ষ্টেনগান। দরজায় যারা এসে দাঁড়িয়েছিল তারা ভেতরের অবস্থা বুঝার জন্যে একটু সময় নিয়েছিল। এ সময়টুকুই ছিল আহমদ মুসার জন্যে বোনাস সময়। আহমদ মুসা দরজার দিকে এগুনো অবস্থাতেই তার ষ্টেনগানের ট্রিগার টিপে দরজার উপর দিয়ে ঘুরিয়ে নিল। পাঁচজন ওরা এসে দাঁড়িয়েছিল দরজায়। দরজার উপরই স্তুপ হয়ে পড়ে গেল ওদের লাশ। আহমদ মুসা ও হাসান তারিক দুজনেই গিয়ে দরজায় দাঁড়াল। দুজন দুদিকে উকি দিল। আহমদ মুসা উকি দিয়েছে বাঁ দিকে। এদিকেই নিচে নামার সিঁড়ি। আহমদ মুসা দেখল সিঁড়িমুখ থেকে একটু এদিকে দুজন দাঁড়িয়ে। দ্বিধাগ্রস্তভাবে ওরা এগিয়ে আসছিল। ওদের ষ্টেনগানের ব্যারেল কিছুটা নিচু। আহমদ মুসা ওদের দেখেই বলে উঠল, ‘ষ্টেনগান হাত থেকে ফেলে দাও।’ ওরাও দেখে ফেলেছে আহমদ মুসাকে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওরা। ওদের ষ্টেনগান উঠে আসছে আহমদ মুসা লক্ষ্যে। কিন্তু লক্ষ্য পর্যন্ত উঠে আসার সুযোগ পেল না ওদের ষ্টেনগান। তার আগেই আহমদ মুসার ষ্টেনগান থেকে ছুটে যাওয়া এক ঝাঁক গুলী দুই ষ্টেনগানধারীর দেহকে ঝাঁঝরা করে দিল। হাসান তারিক আহমদ মুসার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। ‘হাসান তারিক, তুমি দুপাশের ঘরগুলো দেখ, কোন কাগজ-পত্র পাওয়া যায় কিনা। আমি এদের সার্চ করে দেখি।’ বলল আহমদ মুসা। আহমদ মুসা ঘরে প্রবেশ করল। দেখল, সোফিয়া নিজের ছেঁড়া জামাটা ছিড়ে ফেলে সেই টুকরো দিয়ে তার পিতা ভিক্টর রাইয়ার হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধার চেষ্টা করছে। তার পিতা বাঁ হাত দিয়ে সহযোগিতা করছে। কিন্তু দুই বাম হাত মিলেও কাজটা ভালভাবে করতে পারছে না। আহমদ মুসা দ্রুত গিয়ে বলল, ‘সুসান দাও মি. রাইয়ার ব্যান্ডেজটা আমি বেঁধে দেই।’ বলে সুসানের হাত থেকে কাপড় নিয়ে ভিক্টর রাইয়ার হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধতে বাঁধতে বলল, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ মি. রাইয়া, বুলেটটা কব্জীর হাড়কে আঘাত করলেও তা পাশ কেটে গেছে। বড় রকমের ফ্রাকচার মনে হয় হয়নি।’ ‘ঈশ্বরের আগে ধন্যবাদ আপনার প্রাপ্য আহমদ মুসা। আমরা কৃতজ্ঞ।’ বলল ভিক্টর রাইয়া আবেগ জড়িত কণ্ঠে। আহমদ মুসা ভিক্টর রাইয়ার ব্যান্ডেজ শেষ করে সোফিয়া সুসানের দিকে এগুতে এগুতে বলল, ‘আমি যেটা করেছি, সেটা ঈশ্বরই করিয়েছেন। সুতরাং সব প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য মি. রাইয়া।’ আহমদ মুসা মেঝে থেকে সুসানের ছেঁড়া জামা তুলে নিয়ে একটু ছিঁড়ে নিয়ে বলল, ‘তোমার হাতটা দাও সুসান।’ আহমদ মুসার দেয়া জ্যাকেটটা পরতে পারেনি সুসান। বাঁম কাঁধটা আহত থাকায় বাঁ হাত নাড়ানো তার জন্যে কষ্টকর ছিল। ডান হাতটা গুলী বিদ্ধ হওয়ায় সেটাও কাজ করছিল না। তবুও বাম হাত দিয়ে কষ্ট করে জ্যাকেটটা সে ধরে রেখেছিল গায়ের উপর। ধীরে ধীরে সে তার ডান হাতটা আহমদ মুসার দিকে এগিয়ে দিল এবং বলল, ‘ঈশ্বর কিন্তু সবাইকে দিয়ে কাজ করান না।’ ‘হ্যাঁ, ঠিক। আপনাকে দিয়ে আল্লাহ আজ মূল কাজটি করিয়ে নিয়েছেন এজন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কিভাবে?’ বলল সোফিয়া সুসান। ‘আপনি’ ডগকে কাবু করে ও জীমকে আমাদের সার্বক্ষণিক পাহারা থেকে সরিয়ে এনে আমাদেরকে এ্যাকশনে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ হাসল সোফিয়া সুসান। বলল, ‘লড়াই-এর পথ দেখানো আর লড়াই করা এক জিনিস নয়। যাক। আমি বিস্মিত হয়েছি, আপনাদের বাঁধা হাত কখন কিভাবে খুলে গেল?’ ‘পিছমোড়া করে বেঁধে দুজনকে যদি একই জায়গায় নিরিবিলি রাখা হয়, তাহলে তাদের বাঁধন খোলা সমস্যা হয় না। আমাদেরকে বেঁধে ওরা পাশের ঘরে রেখেছিল।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। আপনাদের বাঁধন খোলা না থাকলে, আপনারা সাহায্য করতে না পারলে সর্বনাশ রোধ করা যেত না। মরতেও হতো আমাদের দুজনকেই। আব্বা ঠিকই বলেছেন। সত্যিই আমরা কৃতজ্ঞ।’ বলল সোফিয়া সুসান। আহমদ মুসা ততক্ষণে সোফিয়া সুসানের ব্যান্ডেজ বাঁধা শেষ করে ফেলেছে। সুসানের কথার উত্তরে কোন কথা না বলে আহমদ মুসা লাশগুলোর পকেট সার্চ শুরু করে দিল। জীম থেকেই সে প্রথম কাজ শুরু করল। হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধার পর সোফিয়া সুসান আহমদ মুসার জ্যাকেটটা কষ্ট করে হলেও পরতে পারল। জ্যাকেট পরে নিয়ে সোফিয়া সুসান বলল, ‘সার্চে আমিও আপনাদের সাহায্য করতে পারি।’ বলে সোফিয়া সুসান সার্চের জন্যে ডেভিড ডেনিমের দিকে এগুলো। ‘আসলে আপনি কি চাচ্ছেন আহমদ মুসা?’ প্রশ্ন করল ভিক্টর রাইয়া আহমদ মুসাকে। ‘সাও তোরাহ দ্বীপ সম্পর্কে জানতে চাই, জানতে চাই সাও তোরাহ দ্বীপে ওদের যাতায়াতের মাধ্যম মিনিসাব-এর গতিবিধি সম্পর্কে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘মিনি সাব এর গতিবিধি দিয়ে কি করবেন। সাও তোরাহ যাবার জন্যে কি মিনিসাব ব্যাবহার করতে চান?’ জিজ্ঞাসা ভিক্টর রাইয়ার। ‘ঠিক তাই।’ বলল আহমদ মুসা। ‘কেন, যে কোনভাবেই তো সাও তোরাহ যাওয়া যায়।’ সোফিয়া সুসান বলল। ‘যাওয়া যায়, কিন্তু তাতে মিশন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। আকাশ পথ কিংবা সী-সারফেস দুপথের যে দিক দিয়েই যাওয়া হোক ওদের চোখে ধরা পড়তে হবে। তাতে তারা বন্দীদেরকে নিয়ে পালাবার সুযোগ পাবে মিনি-সাব এ করে। অথবা বন্দীদের হত্যা করে তারা আমাদের মিশনটাকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে।’ বলল আহমদ মুসা। ‘বুঝেছি।’ বলল সোফিয়া সুসান। তারপর তাকাল তার পিতা ভিক্টর রাইয়ার দিকে। বলল, ‘তাহলে আব্বা তুমিই একটা ব্যবস্থা কর না ‘মিনি-সাবে’র। সেটাতে চড়ে ওঁরা যাবেন।’ ‘মিনি-সাব বা সাবমেরিন আমাদের গোয়েন্দা বিভাগের নেই। নৌবাহিনীর আছে। কিন্তু সেসব ডিফেন্স কমান্ডোর অধীন।’ বলল ভিক্টর রাইয়া। ‘হ্যাঁ, আমরা কমান্ডো ইউনিটও মিনি-সাব ব্যবহার করি। কিন্তু এ মিনি-সাবগুলোর যাতায়াত কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হয়। নিশ্চয় সাও তোরাহ দ্বীপে এ্যালাও করবে না। তবে সাও তোরাহের জন্যে বিশেষ প্রোগ্রাম তৈরী করা যায় আজ এদের যে ভয়াবহ রূপ দেখলাম তার ভিত্তিতে।’ সোফিয়া সুসান বলল। ‘না সুসান, এভাবে প্রোগ্রাম তৈরী করলেও তা কোন কাজ দেবে না। কারণ এ খবর ফাঁস হয়ে যাবে এবং সাও তোরাহ সাবধান হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত আমি শুনেছি, সাও তোরাহ দ্বীপের আকাশ থেকে তোলা গোয়েন্দা ফটোতে সাও তোরাহ দ্বীপে কোন ডেক বা কোন জেটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি মানুষের বসবাসযোগ্য কোন স্থাপনাও নয়। এই অবস্থায় তোমাদের মিনি সাব ওখানে পৌছলেও লাভ হবে না। ওদের ঘাঁটি খুঁজে পাওয়া যাবে না।’ বলল আহমদ মুসা। সার্চ করা ফেলে সোফিয়া সুসান সোজা হয়ে দাঁড়াল। তাকাল সে আহমদ মুসার দিকে। তার চোখে বিস্ময় বিমুগ্ধ দৃষ্টি। কিছু বলার জন্যে সে মুখ হা করেছিল। কিন্তু তার আগেই তার পিতা ভিক্টর রাইয়া বলে উঠল, ‘ঠিক বলেছেন। এমন গোয়েন্দা ছবি আমিও দেখেছি। আপনার কথা ঠিক।’ ভিক্টর রাইয়া থামতেই সোফিয়া সুসান বলে উঠল, ‘আপনি এত কিছু চিন্তা করছেন? এত দুরদৃষ্টি আপনার? আপনি তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা বললেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে কমান্ডো অপারেশন কমান্ড থেকে। সেখান থেকে তথ্য ফাঁস হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘তোমার কথাই হয়তো ঠিক। কিন্তু একটু আগে ডেভিড ডেনিমের কাছ থেকে জেনেছ ওরা টাকা দিয়ে সবকিছুই কিনে থাকে। এটা সত্য হলে এদের কেনার হাত কোন পর্যন্ত পৌছেছে কিনা কি করে জানবে? সুতরাং সন্দেহ থেকেই যায়।’ মুখ ম্লান হয়ে গেল সোফিয়া সুসানের। ছোট্ট করে বলল, ‘স্যরি মি. আহমদ মুসা। আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য যে, তাদের শ্রেষ্ঠ সন্তানরাও বিক্রি হয়।’ বলে আবার সার্চ করায় মনোযোগ দিল সোফিয়া সুসান। ‘এটা আপনার জাতির একার দুর্ভাগ্য নয়। পৃথিবীর বহুদেশের বহুজাতির অসংখ্য শ্রেষ্ঠ সন্তান ইহুদীবাদীদের টাকার কাছে বিক্রি হয়েছে অথবা ওদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে। শতাধিক বছর ধরে জর্জ ওয়াশিংটন আব্রাহাম লিংকন-টমাস জেফারসনের দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওদের কুটবুদ্ধির দ্বারা ডোমিনেটেড হয়েছে, ওদের স্বার্থের বাহন সেজে শান্তির নামে অশান্তির ধ্বজা উড়িয়েছে দুনিয়ায়। সবে সে দেশটি মুক্তি লাভ করেছে ওদের অক্টোপাশ থেকে। অনেক দেশ এখনও মুক্তি পায়নি। তোমাদের আজোরস তারই একটু ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত।’ বলল আহমদ মুসা। আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে সোফিয়া সুসান। তাকাল আহমদ মুসার দিকে। আবেগে তার চোখ-মুখ ভারী হয়ে উঠেছে। বলল, ‘মার্কিনীদের এই মুক্তির একটা নিমিত্ত আপনিও ছিলেন। আমরা এবং আমাদের জাতীয় মর্যাদা কোথায় পৌঁছেছে তার কিছুটা তো আজ জানলেন। আপনি কি আমাদের আজোরসকে সাহায্য করবেন।’ আবেগে রুদ্ধ হয়ে গেল সোফিয়া সুসানের কণ্ঠ। দুচোখে তার টলটল করতে লাগল অশ্রু। ম্লান হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘এ সুযোগ যদি আমার ভাগ্যে ঘটে, আমি আনন্দিত হবো সুসান।’ সোফিয়া সুসান সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে কোমর বাঁকিয়ে বাও করল আহমদ মুসাকে। তার দুচোখ থেকে নেমে এল দুফোটা অশ্রু। চোখ মুছে আবার সার্চের কাজ শুরু করল সোফিয়া সুসান। আহমদ মুসা ও সোফিয়া সুসান মোট ১৪টি মৃতদেহ সার্চ করল। কিন্তু আশ্চর্য কারও পকেটেই কিছু পেল না। একেবারে শূন্য পকেটগুলো। পকেটে তাদের মানিব্যাগ আছে, কিন্তু তাতে টাকা ছাড়া আর কিছুই নেই। এ সময় ফিরে এল হাসান তারিকও। বলল, ‘দুতলার সবগুলো কক্ষই বেড রুম। এই হলঘরের পাশে একটা অফিসরুম রয়েছে, সেখানে টেবিল, চেয়ার ও একটি কম্পিউটার। কম্পিউটারটিও শূন্য।’ ‘ঠিক ওদের পকেটের মত।’ বলল আহমদ মুসা। বলেই একটু ভাবল আহমদ মুসা। তারপর আবার বলে উঠল, ‘আমার মনে হচ্ছে মি. ভিক্টর রাইয়া ও সোফিয়া সুসানের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর তারা তাদের সব ডকুমেন্ট সরিয়েছে, কম্পিউটারও খালি করেছে।’ ‘কেন?’ বলল ভিক্টর রাইয়া। ‘আপনাদের হত্যার পর প্রশাসনের অন্তত একটা অংশ থেকে রিটালিয়েশন হতে পারে, এ ভয়েই তারা তাদের পরিচয়ের সব রকম চিহ্ন গোপন করে ফেলেছে।’ ‘ঠিক বলেছেন মি. আহমদ মুসা। এটাই এর একমাত্র ব্যাখ্যা।’ বলল ভিক্টর রাইয়া। ভিক্টর রাইয়া দাঁড়িয়েছিল ডেভিড ডেনিমের লাশের পাশে। তাকাল আহমদ মুসা ভিক্টর রাইয়ার দিকে কিছু বলার জন্যে। ভিক্টর রাইয়ার দিকে তাকাতে গিয়েই আহমদ মুসার নজর পড়ল ডেভিড ডেনিমের গলায় থাকা একটা চকচকে জিনিসের উপর। পাশেই দাঁড়িয়েছিল সোফিয়া সুসান। আহমদ মুসা সোফিয়া সুসানকে জিজ্ঞেস করল, ‘মি. ডেভিডের গলায় চকচকে ওটা কি?’ ‘সোনার একটা ক্রস।’ বলল সোফিয়া সুসান। ‘ইহুদী ডেভিডের গলায় খ্রীষ্টের ক্রস!’ বলে আহমদ মুসা দ্রুত এগিয়ে একটু ঝুঁকে পড়ে সোনার ক্রসটা সোনার চেন থেকে ছিঁড়ে নিল। ধরল চোখের সামনে। বলল স্বগত কণ্ঠে, মোটা-সোটা এতবড় ক্রস তো কারও গলায় কখনও দেখিনি। আর একজন কট্টর ইহুদীবাদী ক্রস পরবে এটাও অবিশ্বাস্য ঘটনা। বলে উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগল আহমদ মুসা ক্রসটিকে। হঠাৎ ভ্রুকুচকে গেল আহমদ মুসার। সে দেখল ক্রসের দুপাশেই লম্বা-লম্বি জোড়া লাগানোর মত সোজা সরল রেখা। আহমদ মুসা ক্রসটা দুহাতে ধরে জোড়ার মত লাইনের দুপাশে দুহাতের দুআঙুলের নখ সেট করে দুদিকে টান দিল। সংগে সংগে দুভাগ হয়ে গেল ক্রসটি। ভেতর থেকে বেরিয়ে এল দুটি ফাইবার চীপ। চীপ দুটি হাতে তুলে নিল আহমদ মুসা। বিস্ময় তার চোখে-মুখে। চোখ বুলাল চীপস দুটির উপর। দেখল দুটিতেই কয়েকটি ইংরেজী বর্ণ ও কয়েকটি করে ইংরেজী অংক খোদাই করা। পড়ল আহমদ মুসা। প্রথমটিতে লেখা ‘FAMS 00654123’ এবং দ্বিতীয়টিতে খোদাই করা হয়েছে ‘FAST 00456321’ সবাই দেখছিল আহমদ মুসাকে। সবার চোখে-মুখে বিস্ময়। ক্রসও কোন কিছু লুকানোর আধার হতে পারে তাহলে! ‘ওগুলো মনে হচ্ছে ফাইবার চীপস। ওগুলোতে কিছু লেখা আছে?’ বলল সোফিয়া সুসান। আহমদ মুসা কোন কথা না বলে চীপস দুটি তুলে দিল সুসানের হাতে। ওরা একে একে সবাই দেখল চীপস দুটিকে। সর্বশেষে হাতে পেল ভিক্টর রাইয়া। ভিক্টর চীপস দুটিতে চোখ বুলিয়েই বলে উঠল, ‘চীপস দুটি গুরুত্বপূর্ণ কোড নাম্বার বহন করছে।’ ‘জি সেটা পরিষ্কার। কিন্তু কোড নাম্বার কিসের হতে পারে?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘চীপসের কোডে ৮টি ডিজিট থেকে ধরে নেয়া যেতে পারে ওগুলো কোন লককে আনলক করার কোড নাম্বার। সে লক কম্পিউটারেরও হতে পারে। কিন্তু বর্ণমালাগুলো দ্বারা কি বুঝাচ্ছে তা জানতে পারলে রহস্যের সমাধান সহজ হতো।’ বলল ভিক্টর রাইয়া। গভীর চিন্তায় ডুবে গিয়েছিল আহমদ মুসা। সে চীপস দুটি ভিক্টর রাইয়ার হাত থেকে নিয়ে আবার নজর বুলাতে লাগল। উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগল ভালো করে। এক জায়গায় গিয়ে তার চোখ আটকে গেল। দেখল, প্রথম চীপসের শেষ ডান প্রান্তে সোনালী রংয়ের চীপসে সোনালী রংয়ের একটা এ্যারো আরও ডান দিককে মানে বাইরের দিককে ইংগিত করছে। এর বিপরীত দৃশ্য দ্বিতীয় চীপসটিতে। সেটার বাম প্রান্তে একটি এ্যারো। এ্যারোর মাথা ভেতর দিকে, মানে কোডকে ইংগিত করছে। আহমদ মুসা দেখাল এ্যারোটি সকলকে। বলল, ‘দুচীপসের দুকোডের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। যে চীপসের এ্যারো বাইরের দিককে ইংগিত করছে, সেটা প্রথম ব্যবহার করতে হবে এবং যে চীপসের এ্যারো ভেতরমুখি হয়ে কোডকে ইংগিত করছে সেটা দ্বিতীয়, একে প্রথমটার পরে ব্যবহার করতে হবে।’ হাসি ফুটে উঠল ভিক্টর রাইয়ার মুখে। বলল, ‘আপনার রহস্যভেদী জ্ঞান অতুলনীয়। এখন বাকি থাকল বর্ণমালাগুলোর অর্থ উদ্ধার।’ হঠাৎ আহমদ মুসার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে সে স্বাভাবিক হয়ে গেল। তারপর চীপসগুলো ক্রসে পুরে পকেটে রাখতে রাখতে বলল, ‘রহস্য উদ্ধার যখন শুরু হয়েছে, তখন শেষও শীঘ্রই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ কথা শেষকরে একটু থেমেই আবার বলে উঠল, ‘না এখানে আর দেরি নয়। আপনারা আহত। চলুন আমরা যাই। যাবার সময় নিচের ফ্লোরটা একটু দেখে যেতে হবে। বলেই তাকাল হাসান তারিকের দিকে। বলল, ‘তুমি আগে চলবে সাবধানে, দেখে-শুনে। শত্রু লুকিয়ে থাকতে পারে সুযোগের অপেক্ষায়। আর পেছন দিকটা দেখার দায়িত্ব আমার।’ নির্দেশের সাথে সাথেই ষ্টেনগান হাতে নিয়ে হাঁটতে শুরু করল হাসান তারিক। ভিক্টর রাইয়া ও সোফিয়া সুসানও হাঁটতে শুরু করেছে। আহমদ মুসা হাঁটতে শুরু করেই আবার থমকে দাঁড়াল। বলল, ‘দাঁড়াও হাসান তারিক।’ দাঁড়িয়ে পড়ল সবাই। ‘হাসান তারিক, ডেভিড ডেনিমের মৃতদেহ রেখে যাওয়া যাবে না। তুলে নিয়ে সাগরে ডুবিয়ে রাখতে হবে, অথবা অন্য কোথাও লুকাতে হবে যাতে তার মৃতদেহ কেউ না পায়।’ ‘কেন? এর কি প্রয়োজন? সবার মৃতদেহই তো থাকছে।’ আহমদ মুসা কথা শেষ করতেই বলে উঠল সোফিয়া সুসান। ‘তার লাশ এখানে থাকলে আজর ওয়াইজম্যান অবশ্যই জেনে যাবে যে, ডেভিড ডেনিমের গলায় ক্রসটা নেই, তখন সে অবশ্যই সন্দেহ করতে পারে যে, দুটি কোড নাম্বার শত্রুর হাতে পড়ে গেছে। তার ফলে এই কোড দিয়ে আর কোন লাভ হবে না।’ বলল আহমদ মুসা। সোফিয়া সুসানের বিমুগ্ধ দৃষ্টি আহমদ মুসার উপর। বলল, ‘কিন্তু একথাও তো মনে করতে পারে টাকার লোভেই কেউ ক্রসটা নিয়ে গেছে।’ ‘টাকার লোভ থাকলে এতগুলো মানিব্যাগ তারা নেয়নি কেন? তাছাড়া আজর ওয়াইজম্যান জানে যারা এই লড়াই করেছে, তারা টাকার জন্যে লালায়িত নয়।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ।’ বলল সোফিয়া সুসান। অসীম মুগ্ধতায় আলোকিত সোফিয়া সুসানের গোটা চেহারা। ‘আমারও ধন্যবাদ গ্রহণ করুন আহমদ মুসা। আপনাকে যতই দেখছি, ততই অভিভূত হয়ে পড়ছি।’ ভিক্টর রাইয়া বলল। ভিক্টর রাইয়া যখন কথাগুলো বলছিল, তখন এদিকে কান না দিয়ে আহমদ মুসা এগিয়ে গিয়ে ডেভিড ডেনিমের লাশ কাঁধে তুলে নিচ্ছিল। ছুটে এল হাসান তারিক। ‘আপনি জানেন ভাইয়া, এ ধরনের ভার বইতে আমার খুব ভাল লাগে।’ বলে আহমদ মুসার হাত থেকে ডেভিড ডেনিমের লাশ ছিনিয়ে নিয়ে তা নিজের কাঁধে তুলে নিল। সোফিয়া সুসান তার আহত হাত দিয়েই একটা ষ্টেনগান তুলে নিল এবং গুলীর ম্যাগাজিনটা পরীক্ষা করল। তারপর বলল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে, ‘এবার মি. হাসান তারিকের দায়িত্ব আমি পালন করব।’ বলে সামনে এগিয়ে সবার সামনে সে হাঁটতে লাগল। ‘ধন্যবাদ সুসান। তুমি সত্যিই একজন কমান্ডো।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ভুলে যাচ্ছেন বোধ হয় যে, আপনি আহমদ মুসা। সাধারণ কারও জন্যে আপনার মুখ থেকে এতবড় প্রশংসা মানায় না।’ ‘এটা প্রশংসা নয়, সত্যের স্বীকৃতি।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আপনার এই কথা এবং সবকিছু আমার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছে। ভয় হচ্ছে স্বপ্ন না আবার ভেঙে যায়।’ আবেগে গলাটা কাঁপল সুসানের। বলেই দ্রুত চলতে শুরু করেছে সুসান। সবাই চলতে শুরু করল। আহমদ মুসাও।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার-১ বাকি অংশ
→ গুলাগ থেকে টুইনটাওয়ার চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now