বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ড্রাঙ্কেন মুন — ০৭ (শেষ)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ১২. ওদের দেখে মনে হলো কেউ যেন ওদের এইমাত্র গাড়িচাপা দিয়েছে। সান্দ্রা হাঁটু ভেঙ্গে মাটিতে বসে পড়লো। -এসবের মানে কি? সব খুলে বল প্লিজ। অনুনয় করলো নিমা। -আচ্ছা বলতেছি। বলেই একটা লম্বা দম নিয়ে আমি বলতে শুরু করলাম। -সম্রাট অশোকের সময়ে নয়মানবের একটা সিক্রেট সোসাইটি ছিল। এসম্পর্কে তোরা জানিস। তাদের সময়ে একটা মহাজাগতিক সমস্যার সৃষ্টি হয় যার কারণে পৃথিবীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। এর গ্রাভিটেশন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য সেই নয়মানব এ্যালকেমি ব্যবহার করে এই ফুটবল সাইজের এন্টিম্যাটার তৈরি করে এখানে যা ব্যবহার করে তারা মধ্যাকর্ষণকে ঠিক রাখে ও তাই আজ আমরা বেঁচে আছি! -তাহলে এর সাথে তোর সম্পর্ক কি? সান্দ্রা জিজ্ঞেস করে। -ঐযে বললাম, আমি ও আমার পূর্বপুরুষরা এই সিক্রেটের রক্ষক। সেই নয়মানব এই সিক্রেট রক্ষা করার জন্য একটা রক্ষক পরিবারকে দায়িত্ব দেয়। তাদের ডিএনএ তে কিছু পরিবর্তন করে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। বংশানুক্রমে আমার বাবা রক্ষক ছিলেন, এখন তার মৃত্যুর পর আমি হয়েছি! আমি এসব ঐ দ্বিতীয় স্বর্ণপাত থেকে জানতে পারি। যেটা আমার বাবা বানিয়ে ঐখানে রেখেছিলেন। ওটায় সে সময় হতে আজ পর্যন্ত সব রক্ষকদের নামের তালিকা আর তাদের কর্তব্য সম্পর্কে দিক নির্দেশনা আছে। শেষ নামটা আমার বাবার। হয়তো তার ইচ্ছা ছিল আমাকে দেওয়ার। কিন্তু তার আগেই মারা যান তিনি। -তোর কথামতো এই জিনিসটা এন্টিম্যাটার হলে, আর তার মধ্যাকর্ষণ ক্ষমতা থাকলে আমাদের তো এর ভিতরে টেনে নেওয়ার কথা। কারণ আমরা এটার সবচেয়ে কাছে অবস্থান করছি। অলক যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করে। আমি ওর যুক্তির ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দিলাম -এর কারণ হলো মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বলের মধ্যে সবল নিউক্লিয় বলের ক্ষমতা মধ্যাকর্ষণের তুলনায় প্রবল। এই হলঘরটা কেন্দ্রমন্ডলের খানিকটা উপরে আছে আর এই অবস্থানের কারণেই পৃথিবী ৬৬.৫ ডিগ্রিতে নিজ অক্ষে আবর্তন করে! এন্টিম্যাটার এর ম্যাটারের প্রতি আকর্ষণ খুব প্রবল। কিন্তু এই আকর্ষণ দূরত্ব বাড়ার সাথে সাথে সমানুপাতে বাড়তে থাকে। তাই পৃথিবী পৃষ্ঠে আমরা মধ্যাকর্ষণ বেশি অনুভব করি এখানের তুলনায়। ১৩. -কিন্তু ম্যাটার আর এন্টিম্যাটার তো একসাথে রাখলে তা পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়! এটা টিকে আছে কি করে? এবার সান্দ্রার জেরা শুরু… । -এন্টিম্যাটারকে শূণ্যে রাখলে তা বিস্ফোরিত হয় না। তাই এই বড় গোলক বা স্পেশাল এন্টিম্যাটার কনটেইনার বা ধারক বানানো হয়েছে তা রাখার জন্য। আমি বুঝিয়ে বললাম। -এখন বুঝতে পারছি প্রথম পাওয়া স্বর্ণপাতের কথা! সান্দ্রা বলল। অলক আর নিমা মাথা নেড়ে ওকে সায় দিলো। আগুনের আভায় সবার মুখ উত্তেজনায় চকচক করছে। -কিন্তু আরেকটা বিষয় বুঝতেছি না। পরিভ্রমণ ভয়ংকর মানে কি? নিমা এবার আসল প্রশ্নটা করলো। আমি খানিকটা চুপ থেকে বললাম, -ব্যাপারটা হলো ড্রাঙ্কেন মুনের সময় সেই আয়নার আলো এখানে এসে এই এন্টিম্যাটারের উপর পরে আর প্রত্যেক রক্ষক কিছু ক্ষমতার অধিকারী হয়। তারা তখন নিজের ইচ্ছেমতো টাইম ও স্পেসে ট্রাভেল করতে পারে। চাইলে অন্যান্য প্রানী বা বস্তুকে ট্রাভেল করাতে পারে! -তারমানে তুইও? -হুম। আমি শ্রাগ করে বললাম। -এখন কি হবে? অলক চিন্তিত হয়ে বললো। -ফিরে যাব আমরা। নিমার উত্তর। কিন্তু আমার ভিতরে কেউ প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে ওদের মেরে ফেলার জন্য। আমি ঘুরে তীব্র স্বরে বললাম -না, তোরা এখান থেকে জ্যান্ত ফিরে যেতে পারবি না। তাহলে গ্রাভিটির গোপণীয়তা ফাঁস হয়ে যাবে। আর পৃথিবীতে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। আই হ্যাভ টু কিল ইউ অল। -কি বলছিস এসব, লিও? আমাদের মেরে ফেলবি! অলক যেন নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না। -হুম। আমি রক্ষক, দায়িত্ব পালন করতেই হবে। তাতে তোদের মেরে ফেলতে হলেও! -তুই উন্মাদ, তুই বদ্ধ উন্মাদ! আমরা তোর জানের বন্ধু! মেরে যখন ফেলতে চাস তো এখান আনলি কেন? নিমা ভয়ে ভয়ে বলে। -আমার কিছু করার নেই। আগে শুধু লিও ছিলাম। এখন রক্ষক! আমাকে মাফ করে দিস। বলে আত্মরক্ষা করার জন্য আমার আনা একমাত্র রিভলবারটা উঁচু করে ওর দিকে তাক করলাম। -প্লিজ লিও! সান্দ্রা অনুনয় করলো। ওর চোখে আমি কোনো ভয় বা অন্য অনুভূতি পেলাম না। সেখানে ছিলো লিও নামের কারো জন্য তীব্র ভালোবাসা। কিন্তু আমি রক্ষক। দায়িত্ব পালন করতেই হবে। -বিদায়! আমি বললাম। ১৪. আজ আমি ৭০ বছরে পা দিয়েছি। খুব শীঘ্রই হয়তো পৃথিবী থেকে বিদায় নেবো। তার আগে দায়িত্ব দিয়ে যাবো আমার ছেলের কাছে। সেদিনের পর পৃথিবীতে ফিরে আমি রক্ষক হলের গোপণীয়তা আরো বাড়িয়ে দিয়েছি। উন্নত করেছি গোপনীয়তার প্রযুক্তিকে। সব পরিস্থিতি খুব ভালভাবেই সামাল দিয়েছিলাম ড্রাঙ্কেন মুনের ক্ষমতার সাহায্যে। তবু মাঝে মাঝে আমি রক্ষক হলে ফিরে যাই। গভীর বিষন্নতা আর ভালোবাসা নিয়ে তাকিয়ে থাকি তিনজন মানুষের দিকে যারা আজ আমার কারণে স্থির সময়ের ফাঁদে আটকা পড়ে আছে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now