বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১০.
মাথাটা এখন একটু হালকা হালকা লাগছে। নিজেকে অদ্ভূত আর অনেক হালকা মনে হলো। নিজের সাথে অন্য কারো বা কোনো শক্তির অস্তিত্ব অনুভব করছি। অসীম এক সজীবতা ভর করেছে আমার ভিতরে। চারটে হৃদস্পন্দনের কম্পন অনুভব করতে লাগলাম। চোখ খুলে তাকাতেই চারপাশের অবস্থা দেখলাম। নিমা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে, অলক আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আর সান্দ্রা কই? তখনই বুঝতে পারলাম আমার মাথা ওর কোলের উপরে।
আমি উঠে বসলাম। মনে হচ্ছে আমার ওজনটা হঠাৎ করেই যেন অনেক কমে গিয়েছে।
-সাবধানে!
নিমা ভাঙ্গা গলায় বলল।
-মানে?
-এখানে মধ্যাকর্ষণ শক্তি অনেক কম!
-ও আচ্ছা। মুন ওয়াক করতে হবে মনে হয়।
-হ্যাঁ।
ধাক্কা লাগার কারণে আমার ইনফ্রারেড চশমা ভেঙ্গে গিয়েছে। তাই অন্ধকারে হাতরে হাতরে ব্যাকপ্যাকটা থেকে টর্চলাইটটা বের করে জ্বালিয়ে ধরলাম। সবাই কমবেশি আহত হয়েছে। সবার চশমা আর হাতঘড়ির অবস্থা দফারফা। কিন্তু আমি ওদিকে না দেখে চারপাশের আলোর প্রতিফলন গুলোর দিকে তাকালাম। দেয়ালে কয়েকটা পাথর থেকে আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে। আমাদের কাছেই একটা ড্রেনের দেখা পেলাম। একরকম হেলে-দুলেই কষ্ট করে ড্রেনটার কাছে গেলাম। ওজন কম হওয়ায় হাঁটতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। ড্রেনটা একরকম ঘন, তরল পদার্থে ভর্তি। গন্ধ নিয়ে বুঝলাম জ্বালানি তেল। তারপর পকেট থেকে ম্যাচ বের করে ড্রেনের তেলে আগুন দিলাম। দাউ দাউ করে জ্বলে আগুনটা সারা ড্রেনে ছড়িয়ে পড়লো অনেকদূর পর্যন্ত আর চারপাশ আলোকিত করে তুলল। বিস্ময়ে আমাদের সবার মুখ দিয়ে অস্ফূট শব্দ বের হয়ে আসলো।
১১.
আমরা বিশাল একটি হল ঘরে দাঁড়িয়ে আছি। আগুনের ড্রেনটা আয়তাকার ভাবে, হলের দেয়ালের গায়ে গায়ে সারা ঘরে বিস্তৃত আছে। ঘরটি প্রায় একটা ফুটবল মাঠের সমান। চারপাশের দেয়ালে অনেক নকশা করা আর চিত্র আছে। ঘরের মাঝখানে একটা বিশাল হালকা আলোকিত কাঁচের গোলক দেখতে পেলাম। প্রথম কয়েক মিনিট আমরা নীরবে পার হলো। নীরবতা ভঙ্গ করল সান্দ্রা।
-ওটা কি?
-জানি না।
ক্লান্ত কন্ঠে বলল অলক।
-চল কাছে গিয়ে দেখি।
-আচ্ছা।
বলে ওর পিছু পিছু আমরা গোলকটার দিকে এগোলাম। ঘরের অন্যান্য জিনিসের চেয়ে ওটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হলো সবার কাছে।
কাঁচের গোলকটা মাটি থেকে কয়েক হাত উপরে শূণ্যে ভাসছে। ওটার ভিতরে আবার একটা ফুটবলের সাইজের আলোকিত গোলক ভাসছে। আমি ধীরে ধীরে সব কিছুর উত্তর পেয়ে গেলাম। আমার ভিতরে কেউ একজন বারবার বলছে ওদের মেরে ফেলতে। কিন্তু আমি দাঁড়িয়ে ওদের দেখতে লাগলাম। অলক হাত দিয়ে ধরে দেখতে চাইলো গোলকটাকে। কিন্তু তার আগেই আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম
-খবরদার! ভুলেও ধরিস না।
-কেন?
-ওটা একটা ফোর্সফিল্ড। একইসাথে একটা এন্টিম্যাটার ধারক!
-মানে কি? তোর মাথা ঠিক আছে তো?
নিমা বলল।
-না, আমি ঠিকই বলছি। ওটা কার্বন পার্টিকেলের এন্টিপার্টিকেলের একটা সমন্বিত পদার্থ। প্রতিপদার্থ বা এন্টিম্যাটার সৃষ্টি হয় সেই বিগ ব্যাং এর সময় থেকে। এই এন্টিম্যাটার এর গুনের কারণেই আজ সব মহাজাগতিক সৃষ্টি তার কক্ষপথে থাকে, সব বস্তু ভূমিতে আঁটকে থাকে। যাকে নিউটন মধ্যাকর্ষণ বলে গিয়েছেন।
-তুই এসব কি করে জানলি?
অলক অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে। আমি সবার মুখের দিকে একবার তাকাই। তারপর বলি
-কারণ আমি আর আমার পূর্বপুরুষগণ এইসব সিক্রেট ও গ্রাভিটির রক্ষক!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now