বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ড্রাঙ্কেন মুন — ০৪

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৬. রাত্রে যখন ঘুমানোর আয়োজন করেছি তখনই ব্যাপারটা মাথায় আসলো। এতো সাধারণ ব্যাপার আগে মাথায় আসেনি দেখে অবাক হলাম। হয়তো সাধারণ দেখেই চোখে পড়েনি। ব্যাপারটা হল নতুন পাওয়া স্বর্ণ প্লেটটার সাথে আমাদের বর্তমান কালের অফিসিয়াল সিলের খুব মিল রয়েছে। সিলে যেরকম অক্ষরগুলো বাইরে বের হওয়া থাকে, এখানেও তাই ঘটছে। এটা যদি সিলই হয়ে থাকে তাহলে, ওটায় যা লেখা আছে তা বাস্তবে হলো উলটো! আমি তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে কাপড়ে দেয়ার নীল রংটা এনে প্লেটটার একপাশের লেখাগুলোর উপর লাগালাম। তারপর একটা কাগজে ছাপ দিতেই লেখাগুলো স্পষ্টভাবে ফুঁটে উঠলো। আমি একা কাজটা করতেছিলাম। বাকিরা ঘুমাচ্ছিলো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম লেখাটার দিকে। স্পষ্ট করে আমাদের বর্তমান বাংলা অক্ষরে লেখা। একটা লিস্ট। লিস্টে অনেক মানুষের নাম লেখা। একদম শেষ নামটা পড়ে আমার প্রায় দম বন্ধ হয়ে এলো। কোনো মতে নিজেকে সামলে আমি তাড়াতাড়ি সোনার পাতটার অপর পৃষ্ঠার লেখাটা বের করলাম। এবার আমার আর কিছু বলার ক্ষমতা নেই। আমি তাড়াতাড়ি সব কালি পরিষ্কার করে সোনার পাতটা আগের মত রেখে দেই। ওরা কেউ না থাকায় খুব ভালো হয়েছে। সিল দেওয়া কাগজের লেখাগুলো আরেকবার ভালোভাবে পড়ে আমি কাগজটা আগুনে পুড়িয়ে ফেলি। ৭. পরদিন সবাই মিলে প্রথমে পাওয়া সোনার পাতটার নকশা অনুসারে আয়না বসাতে শুরু করলাম। তার আগে অবশ্য আয়নার টুকরাগুলোকে পরিষ্কার করে নিতে হয়েছিল। নকশাটায় উপরে আর নিচে দুইদিকে অ্যারো কি দেওয়া ছিল। ঐটাকেই আমরা উত্তর-দক্ষিণ ধরে কাজ করতেছিলাম। আয়নার অবস্থানগুলো যেন আমাদের পাতালঘরের জন্যই বানানো হয়েছিল। একদম জায়গামত রাখা গেল আয়না গুলোকে। সব শেষের আয়নাটাকে বাইরে রাখতে কারন আলো আসবে ওখান থেকেই। মানে সূর্য বা চাঁদ থেকে আলো প্রথমে বাইরে রাখা আয়নাটায় পড়বে। সেখান থেকে প্রতিফলিত হয়ে ভিতরে রাখা একটি আয়নায়। সেখান থেকে আরো একটি। এভাবে চলতে চলতে সবশেষে আলো চাবিটার উপর পড়বে। আর তাতেই চাবিটার ভিতর আলো গিয়ে একটি নির্দিষ্ট মেকানিজমে লকটা খুলবে। এটাই ব্যাখ্যা করে আমাদের বলেছিল সান্দ্রা। কিন্তু লকটা খুললো না। খুলবেও না। কারণটা আমি জানি। ওদের হয়তো বলতাম না। কিন্তু এবার নিমা বের করলো সমাধান। ও বলল -আমাদের মাতাল চন্দ্রের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। -কেন? অলক জিজ্ঞেস করলো। এবার আমি বললাম -কারন ড্রাঙ্কেন মুন বা ব্লাডি মুনের সময় একটা নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘের আলোকরশ্মি আসে চাঁদ থেকে যা শুধু ঐ তিথিতেই চাঁদ থেকে বিচ্ছুরিত হয়। -ও আচ্ছা। পরবর্তী ড্রাঙ্কেন মুন কবে? সান্দ্রা জিজ্ঞেস করে। অলক ল্যাপটপে খানিকটা ব্রাউজ করে বলে -২৬ মার্চ, ২০১৫। মানে কালকে! -ওয়াও। আমাদের দেখি লাক খুব ভালো। কিন্তু আরেকটা সোনার পাতের কি হবে? সান্দ্রা জিজ্ঞেস করে। -জানি না। বের করতে পারিনি ওটার মানে। অলক বলল। আমিও গোপনে একটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। এখন শুধু ড্রাঙ্কেন মুনের জন্য অপেক্ষার পালা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৭ (শেষ)
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৬
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৫
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৩
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০২
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now