বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৫.
সেদিনই লোক ভাড়া করে জায়গাটা খুঁড়তে লাগলাম আমরা। প্রায় ৬ গজ বাই ৬ গজের একটা চৌকো পাথরের ব্লক বের হলো মাটিতে। এর পাশে আর কিছুই নেই। আর পাথরের ব্লকটা মাটির অনেক নিচে চলে গিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি। শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে বিদায় করে দিলাম।
আমরা চারজনে তারপর পাথরের ব্লকটা পরিষ্কার করলাম। পরিষ্কারের সময় একটা সুইচে চাপ পড়ায় ব্লকটার একপাশ দিয়ে ছোট আরেকটা ২০ বাই ২০ ইঞ্চির ব্লক বের হয়ে আসে। এটা অবশ্য কাঠের তৈরি। ব্রিফকেস টাইপের একটা বক্স। ভিতরে অনেকগুলো কাচের আয়না একটার উপর একটা আর একদম নিচে একটা সোনার পাতলা বার পেলাম আমরা। সোনার বারটার দুই পিঠেই অনেক কিছু লেখা। কিন্তু কি লেখা তা পড়তে পারলাম না। এমনকি অলকও বুঝতে পারলো না কি লেখা আছে। এরকম লেখা নাকি ও প্রথম দেখছে। মজার ব্যাপার হলো লেখাগুলো বাইরের দিকে বের হয়ে আসা। এরকম হওয়ার নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। যতোই সময় পার হচ্ছে, প্রাচীন যান্ত্রিক কলাকৌশল দেখে ততোই অবাক হতে হতে এখন আর এসব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না আমাদের। বড় পাথরের ব্লকটায় ডানপাশে আরেকটা ছোট কি-হোল পেলাম আমরা, একটা কাঠ দিয়ে ঢাকা ছিল। সেটা পেয়েই তাড়াতাড়ি ক্রিস্টালের চাবিটা ঢুকালাম আমরা কি-হোলে। ঠিকভাবে ঢুকলোও। কিন্তু কোনো দিকে মোচড় দেওয়া গেল না। বেশি জোরাজুরি করলাম না আমরা। চাবিটা ভেঙ্গে যেতে পারে। ওদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসছে। তাই সবাই আজকের মত সবকিছু ইস্তফা দিয়ে ঠিকভাবে পাতাল ঘরে তালা মেরে উপরে উঠে এলাম।
রাতে খাবার খাওয়ার সময় সান্দ্রা “ইউরেকা” বলে লাফিয়ে উঠলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম
-কিরে? তোর কি হয়েছে?
-পেয়েছি!
-আরে বাপ, কি পেয়েছিস তা তো বল!
-কিভাবে চাবি দিয়ে খোলা যাবে!
-কি খোলা যাবে?
নিমা মুরগির রান চিবোতে চিবোতে বলল।
-আরে ঐযে লকটা আমরা খুলতে পারিনি পাতাল ঘরে।
অলক হা করে তাকিয়ে আছে। আমিও বিস্ময়ের ধাক্কা কাটিয়ে বললাম
-কিভাবে?
-এটা একটা পার্সিয়ান লকিং সিস্টেম। আরবরাও এটা ব্যবহার করতো। মনে আছে আমরা অনেকগুলো আয়না পেয়েছি?
-হুম। তো?
এবার অলকের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেল।
-তো ব্যাপারটা হলো আয়নাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে বসিয়ে আলোক রশ্মিকে ক্রমশ প্রতিফলিত করে নিয়ে চাবিটার উপর ফেলতে হবে। তাহলেই লকটা খুলে যাবে।
-তাই নাকি?
অলকের কন্ঠে হালকা অবিশ্বাস।
-হুম, এতেই হবে। চল সবাই!
-কোথায়?
নিমা জিজ্ঞেস করলো।
-আয়নাগুলো বসাবো!
-কিভাবে?
-প্রথম যে সোনার পাতটা পেয়েছিলাম, তার উপরের নকশাটাই হলো আয়না বসানোর জায়গা। এখন বুঝতে পেরেছি! ওটা দেখে দেখে বসালেই হবে।
-এই অন্ধকারে? হবে না। কালকে। খাবারটা খাও ঠিকমত।
-ধুরো!
সান্দ্রা খানিকটা মনঃক্ষুন্ন হল। কিন্তু নিমা যা বললো তা মেনে নিলো। ওর ছেলেমানুষী ভাবটা এখনো গেল না। কিন্তু সান্দ্রার এই আবিষ্কারের কারণে কোনো একটা বিষয় আমার মনে বার বার দাগা দিচ্ছে। কিন্তু ব্যাপারটা কি ধরতে পারলাম না।
৬.
রাত্রে যখন ঘুমানোর আয়োজন করেছি তখনই ব্যাপারটা মাথায় আসলো। এতো সাধারণ ব্যাপার আগে মাথায় আসেনি দেখে অবাক হলাম। হয়তো সাধারণ দেখেই চোখে পড়েনি।
ব্যাপারটা হল নতুন পাওয়া স্বর্ণ প্লেটটার সাথে আমাদের বর্তমান কালের অফিসিয়াল সিলের খুব মিল রয়েছে। সিলে যেরকম অক্ষরগুলো বাইরে বের হওয়া থাকে, এখানেও তাই ঘটছে। এটা যদি সিলই হয়ে থাকে তাহলে, ওটায় যা লেখা আছে তা বাস্তবে হলো উলটো! আমি তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে কাপড়ে দেয়ার নীল রংটা এনে প্লেটটার একপাশের লেখাগুলোর উপর লাগালাম। তারপর একটা কাগজে ছাপ দিতেই লেখাগুলো স্পষ্টভাবে ফুঁটে উঠলো। আমি একা কাজটা করতেছিলাম। বাকিরা ঘুমাচ্ছিলো।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলাম লেখাটার দিকে। স্পষ্ট করে আমাদের বর্তমান বাংলা অক্ষরে লেখা। একটা লিস্ট। লিস্টে অনেক মানুষের নাম লেখা। একদম শেষ নামটা পড়ে আমার প্রায় দম বন্ধ হয়ে এলো। কোনো মতে নিজেকে সামলে আমি তাড়াতাড়ি সোনার পাতটার অপর পৃষ্ঠার লেখাটা বের করলাম। এবার আমার আর কিছু বলার ক্ষমতা নেই। আমি তাড়াতাড়ি সব কালি পরিষ্কার করে সোনার পাতটা আগের মত রেখে দেই। ওরা কেউ না থাকায় খুব ভালো হয়েছে। সিল দেওয়া কাগজের লেখাগুলো আরেকবার ভালোভাবে পড়ে আমি কাগজটা আগুনে পুড়িয়ে ফেলি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now