বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩.
এবছর আমরা জব করার পাশাপাশি প্রস্তর ফলকটির উপর কাজ করতে শুরু করলাম। ঢাকায় একটা ফ্ল্যাট কিনে নিয়ে তাতেই নিজেদের ল্যাবরেটরি বানালাম। আমাদের কাজ করতে হতো খুব সাবধানে। কারণ এব্যাপারে কোনো কিছু ফাঁস হলে মিডিয়া বা সরকার সেটা নিজের কুক্ষিগত করবেই।
সবার প্রথমে ফলকটির বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ছবি তুলে আলাদা করে রাখলাম। পেন্সিল স্কেচের সাহায্যে পাতের লেখা কাগজে ফুটিয়ে তোলা হল। সোনা অক্ষয় ধাতু। তাই প্রাচীন সোনার তৈরি মুদ্রায় আজও সেই যুগের অবস্থার ধারণা পাওয়া যায়। মাটির চাপে ফলকের লেখা ও নকশা খানিকটা থেৎলে গেলেও সিংহ ভাগ আজও অক্ষত আছে।
নিমা পাতটি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছিল ইন্টারনেটে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ও কোনো তথ্যই পায়নি ওটার সম্পর্কে কোনো বই বা ওয়েবসাইটে। আমি একটা ইনফ্রাসনিক স্ক্যানার বানিয়ে পাতটা স্ক্যান করে একটা থ্রিডি ফুটেজ বানালাম। তাতে একটা সুবিধাও হয়েছে। পাতের লেখা, নকশার পাশাপাশি একটা চাবি দেখতে পেয়েছিলাম। স্ক্যান না করলে হয়তো এর ভিতরের লুকিয়ে রাখা চাবিটাও পেতাম না।
ওদিকে অলক আর সান্দ্রা মিলে লেখাটার পাঠ উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। অলকের সাহায্যে সান্দ্রা একটি আনুমানিক সাইন-ল্যাঙ্গুয়েজ এর ট্রান্সলেটর বানায় যেটার সাহায্যে আমরা লেখাটার খানিকটা অর্থ বের করতে পেরেছিলাম। সোনার উপর লেখা ছিল---
“অশোক্য এবং নয়, মাতাল চন্দ্রের নবম তিথি। ভূধরের টান, কম্পমান ষিষট্টি পাঁচ। পরিভ্রমণ ভয়ংকর। রক্ষক সাবধান!”
প্রথমে মনে হয়েছিল কথাটার আগামাথা কিছুই নেই অথবা অনুবাদ ভুল। কিন্তু নিমা জানালো সম্রাট অশোক এই ভারতীয় উপমহাদেশের রাজা ছিলেন। খ্রীষ্টপূর্ব ৩০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন সম্রাট অশোক মৌর্য্য। একটা মিথ আছে যে সম্রাট অশোক বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষা নেয়ার পরপরই গঠন করলেন ৯ সদস্যের একটি দল- পৃথিবীর ইতিহাসের সবচাইতে গোপন। যাদের দায়িত্ব ছিলো জ্ঞান সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করা। তাও এমন সব জ্ঞান যা সাধারণ মানুষের কাছে বা ভুল মানুষের হাতে গেলে তা হতে পারে মানবসভ্যতার জন্য হুমকি। নয়জনে লিখলেন নয়টি বই। যাতে কুক্ষিগত করা হলো কিছু বিদ্যা। বিষয় নয়টি হল প্রপাগান্ডা ও সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার, ফিজিওলজি, মাইক্রোবায়োলজি, আলকেমি, কমিউনিকেশন, গ্র্যাভিটেশন, কসমোলজি, লাইট, সোশিওলোজি।
এবার মাতাল চন্দ্রের কথায় আশা যাক। মাতাল চন্দ্র বা ড্রাঙ্কেন মুন নামে গুগলে সার্চ দিয়ে জানতে পেরেছিলাম। এখন অবশ্য একে ব্লাডি মুন বলা হয়। চাঁদ ও সূর্যে যখন গ্রহন লাগে অর্থাৎ নিজ কক্ষপথে আবর্তন কালে সূর্য ও চাঁদের মাঝে যখন পৃথিবী চলে আসে তখন চাঁদ পৃথিবীর কারণে অন্ধকারে থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে এর ব্যাতিক্রম হয়। কিছু কিছু তিথিতে চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্যের আলো দ্বারা পৃথিবীকে ঘিরে আলোক রিং এর সৃষ্টি হয়। সূর্যালোকের ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে এই রিং-এ একটি পরিসীমা গঠিত হয়। সূর্যালোক আমাদের বায়ুমন্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় হালকা বর্ণালী বেগুনী, সবুজ অংশ মূলত আউট ফিল্টার হয়। এই একই প্রভাব বা উপায় দ্বারা, দিনের সময় আমাদের আকাশ নীল করে তোলে। এদিকে বর্ণালী এর লাল অংশ অন্তত প্রভাবিত হয়।এই লাল আলো প্রথম বায়ুমণ্ডল যখন প্রবেশ করে, এটা ভূপৃষ্ঠের দিকে নিচু (প্রতিসৃত) হয়। এটা পৃথিবীর অন্য দিকে প্রস্থান করে আবার এটি নমিত হয়। এই ডবল নমন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের দিকে লাল আলো পাঠায় আর আমরা চাঁদকে লাল দেখি।
ভুধরের টান বলতে মনে হয় মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে বুঝানো হয়েছে। নকশাগুলো আর “কম্পমান ষিষট্টি পাঁচ। পরিভ্রমণ ভয়ংকর। রক্ষক সাবধান!” এর কোনো মানে আমরা বের করতে পারিনি।
৪.
আর কিছু বের করতে না পেরে আমরা শেষে সিদ্ধান্ত নেই সেখানে ফিরে যাওয়ার যেখানে এসব শুরু হয়েছিল, আমার গ্রামের বাড়িতে। আসার আগে কাজে লাগে এমন সব জিনিস সাথে করে নিয়ে এসেছি। অলক, সান্দ্রা আর নিমা নিজেদের বাড়িতে গিয়েছে দেখা করে আসার জন্য।
বাড়িতে আসার চতুর্থ দিন। কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। আসলে হয়নি বললে ভুল হবে। খানিকটা হয়েছে। সোনার ফলকটার থ্রিডি ইমেজ দেখে সান্দ্রা বুঝতে পারলো এটা একটা পাজল বক্স টাইপের কিছু। গ্রিক, রোমানদের সিক্রেট সোসাইটিগুলো এই ধরণের পাজল ব্যবহার করতো তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা কোনো গোপন বিষয়ের অস্তিত্ব লুকিয়ে রাখার জন্য। সান্দ্রা ছোটবেলা থেকেই পাজল মিলানোতে খুব দক্ষ ছিল। তাই ও পাথরটা নিয়ে অনেক্ষন ঘাটাঘাটি করে। আলট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে পাথরটা পরীক্ষা করার সময় আমরা কিছু সরু ফাটল দেখতে পাই ফলকটার পাথরের অংশে। খুব চিকন পিন দিয়ে ফাটল গুলো পরিষ্কার করার পর তা মোবাইলের ডায়াল বক্সের আকার নেয়। আলতো করে একটা ডায়ালের উপর চাপ দিতেই খানিকটা ধূলা বের হয়ে এসেছিলো আর আমরা সবাই লাফিয়ে পিছনে সরে গিয়েছিলাম। চাপ দেওয়ার কারণে কিনা জানিনা, ডায়াল এর জায়গাটুকু উপরে উঠে আসে আর একটি ইমেজ পাজেলের আকার নেয় সেটা। সান্দ্রা ঘন্টা খানেকের মধ্যে ডায়ালগুলো এদিক্ সেদিক নাড়িয়ে সমাধান করে ফেলে। সমাধানের পর সেটার উপর একটা খাঁজকাটা বৃত্ত দেখতে পাই আমরা। বৃত্তটা ধরে নিমা চাপ দিতেই তা আগের জায়গায় বসে যায় আর আরেকবার ধূলা উড়িয়ে সোনার ফলক আর পাথরের আলাদা হয়ে যায়। মাঝখানে পাথরের খাঁজ থেকে একটা প্রাচীন চাবি বের হয়ে আসে। আমরা সবাই অবাক হয়ে তাকিয়েছিলাম। কারণ চাবিটা ছিল কাচ বা হিরার কোনো ক্রিস্টালের তৈরি। মনে মনে নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিলেও পরে দোষ দিয়েছিলাম। কারণ চাবি পেলেও তার তালা বা দরজা এখনো পাইনি।
আমরা চিন্তা করলাম যেখানে ফলকটা পেয়েছিলাম সেখানে ও আশপাশের এলাকা আলট্রাসনিক সাউন্ড স্ক্যানার দিয়ে সার্চ করে দেখবো, যদি আরো ফলক বা অন্যকিছু পাওয়া যায় নাকি। সারাদিন পুরো এলাকা চষে বেড়িয়েও কোনো লাভ হলো না। কোনো প্রয়োজনীয় সংকেত পেলাম না স্ক্যানার থেকে। হতাশ হয়ে সবাই আমাদের সেই গোপন খেলাঘরে গিয়ে বসলাম। এটা ছিল একটি পাতালঘর যা আমি ছোটবেলায় লুকোচুরি খেলতে গিয়ে খুঁজে পাই। ভেন্টিলেশনের সুবিধা আছে। আমাদের শুধু আলো জ্বালিয়ে নিতে হতো।
গল্প করতে করতে মনের খেয়ালে আমি স্ক্যানারের সুইচে চাপ দিয়ে ফেলি। খানিকক্ষন পরেই বিপবিপ এর তীক্ষ শব্দে আমরা চমকে উঠি সবাই। স্ক্যানারের একটা বৈশিষ্ট্য হলো যতো বড় জিনিস লোকেট করতে পারবে ততো তীক্ষ শব্দ হবে। এবার মনে হয় বড় কিছুই ধরা পড়েছে স্ক্যানিং-এ।
ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা হতবাক হয়ে পড়েছিলাম। যার খোঁজে সারা গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছিলাম আর তা কিনা আছে আমার বাড়ির নিচেই!
অলক তো রসিকতা করে বলল
-ওয়াহ! বাসা তোর বলে বলে আবার গুপ্তধন পেয়ে আমাদের ভাগিয়ে দিস না!
-হাহাহা। দেব না!
আমি চোখ টিপে বললাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now