বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ড্রাঙ্কেন মুন — ০১

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ড্রাঙ্কেন মুন -আবদুল্লাহ ইউশা ১. ২৫ মার্চের রাত ১১.৩০ টা। আমরা চারজন আমাদের ল্যাবের টেবিলটা ঘিরে দাঁড়িয়ে আছি। আমি, নিমা, অলক আর সান্দ্রা মিলে আমাদের সব গ্যাজেটস আর প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো শেষবারের মতো চেক করে দেখছি। একটু ভুল হলে অনেক বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এতদিনের গবেষণা কিছুতেই ভণ্ডুল হতে দেয়া যাবে না। আমি সবকিছু দেখে ওদের দিকে তাকালাম। সবার চোখেই উত্তেজনার স্পষ্ট ছাপ। শুধু সান্দ্রাকে একটু চিন্তিত দেখাচ্ছে। আমি হাত দিয়ে টেবিলে টোকা মেরে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে বললাম… -তোরা এখনও শিওর যে এটা করতে চাচ্ছিস? অলক মাথা নেড়ে বলল -হুম। -এতে কিন্তু আমাদের ফিরে না আসার চান্স খুব বেশি। -আমরা জানি। … সান্দ্রার দৃঢ় উত্তর। -আচ্ছা,তাহলে আমরা এখন শুরু করতে পারি। আমরা ইনফ্রারেড গগলস পড়ে নিলাম। অতঃপর আমি হাতে স্বর্ণ-ফলকটা নিয়ে সামনে এগোলাম। ২. ঘটনার শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৯ বছর আগে। আমরা তখন ক্লাস ফাইভে পড়ি। মানুষের জীবনে অনেক চাওয়া পাওয়া থাকে। সেই চাওয়া পাওয়ার সাধারণ জীবনে যদি হঠাৎ করে অস্বাভাবিক কিছু হয়ে পড়ে তখন জীবনটাই বদলে যায়। আমাদের সাথেও এমনটাই হয়েছিল। তখন বরিশাল আজকের মত এতো উন্নত ছিল না। তখন অধিকাংশ স্থানই জঙ্গল আর নালায় ভরা ছিল। আমি আমার দাদাবাড়িতে বড় হয়েছি। সেখানের স্কুলেই পড়াশোনা আর ওদের তিনজনকে বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলাম। আজও অবধি আমাদের বন্ধুত্ত মলিন হয়নি। একদিন স্কুলের ক্লাস শেষে আমি বাসায় ফিরেছিলাম। কিশোর বয়সে মাথায় নানা রকম চিন্তা ভাবনা উদিত হত। তারই এক বাস্তব প্রয়োগের কারণে আমি, নিমা আর অলক আমার বাসার পিছনে জড়ো হলাম। আমার দাদাবাড়ি ছোটখাটো এক রাজপ্রাসাদ। কারণ আমার দাদার দাদা জমিদার ছিলেন। সেই জমিদারি ভবনের পিছনে আমরা তিনজনে মিলে মাটি খুঁড়তে লাগলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ছোট এক পুকুর বানাবো যেখানে আমরা মাছ পালতে পারবো। মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে অলকের শাবল একটা একটা পাথরে বাড়ি খেল। আমরা পুকুর বানানোর জন্য পাথরটা উঠাতে চাইলাম। কিন্তু খানিক্ষন পরে বুঝলাম ওটা সাধারন ইট পাথরের চেয়ে একটু বড়। অনেক চেষ্টা করার পর আমি পাথরটা মাটি থেকে তুলতে পেরেছিলাম। কাঁদামাটি লেগে খুব বাজে দেখাচ্ছিলো। আর অনেক ভারী ছিলো পাথরটা। আমরা তিনজনে একসাথে ধরে ওটা খানিকটা দূরে ফেলে রেখে আবার খোড়াখুড়িতে মন দিয়েছিলাম। হঠাৎ চোখে আলোর ঝলকানি লাগতে লাগলো আমার। ওরাও ব্যাপারটা খেয়াল করলো। আলোক উৎসের সন্ধানে এদিক সেদিক তাকাতেই দেখলাম গাছের ফাঁকা দিয়ে আমাদের সদ্য পাওয়া পাথরটার উপর আলো পড়ছে আর তাতে প্রতিফলিত হয়ে আমার চোখে লেগেছে। কৌতুহলি হয়ে কাছে গিয়ে দেখলাম পাথরটার এক জায়গায় ময়লা উঠে গিয়েছে আর সেখানে সোনালি আভা দেখা যাচ্ছে। তাই তাড়াতাড়ি পানি এনে ধুঁয়ে ফেলতেই আবিষ্কার করলাম পাথরটার এক পাশ পুরো সোনালি রঙ। পরে অবশ্য জেনেছিলাম জিনিসটা সোনা। সেই কিশোর বয়সে এর চেয়ে বড় রোমাঞ্চ আমাদের আর কিছুই ছিলো না। গুপ্তধন আবিষ্কারের উন্মাদনায় সেদিন আমরা রাতে ঘুমাতে পারিনি। পাথরটা লুকিয়েছিলাম আমাদের গোপন খেলাঘরে। পরদিন সান্দ্রাকে ডেকে আমরা পাথরটা দেখিয়ে সবাই কসম করেছিলাম পাথরটার কথা কাউকে বলবো না। সবার বাসা কাছাকাছি হওয়াতে প্রায় প্রতিদিনই সবাই মিলে পাথরটা নিয়ে জল্পনা কল্পনা করতাম। পাথরটা একটি আয়তাকার ঘনবস্তু যার উপরের অর্ধেক সোনায় ঢাকা ছিলো। পরে ভালো করে পরিষ্কার করার পর তাতে কিছু নকশা আর অদ্ভুত ধরনের লেখা খুঁজে পাই সোনার উপরে। সেদিন সবাই সিদ্ধান্ত নেই রহস্যের সমাধান করবো। আমার বাবার বিশাল লাইব্রেরির অ্যাডভেঞ্চারের বইগুলো আমাদের সেই প্রেরণা যুগিয়েছিল। ক্লাস টেনে উঠে সবাই বুঝতে পারলাম পাথরটার মহত্ব। এটা একটা প্রস্তর ফলক। প্রস্তর ফলক হলো প্রাচীন কালের রাজা-বাদশাদের আদেশনামা বা কোনো গুরুত্ত্বপূর্ণ ঘটনার লিখিত বিবরণ। যদিও কিছুই বুঝতাম না কিন্তু একটা প্রেরণা ছিল একদিন হয়তো একদিন সমাধান করতে পারবো। ততদিনে অবশ্য ফলকটার নিরাপত্তা হাজার গুণ বাড়ানো হয়েছিল। যুগের কালক্রমে হাতে ইন্টারনেট আসলো আর আমরাও আধুনিক হতে শুরু করলাম। সবাই সচ্ছল পরিবার আর মেধাবী হওয়ার কারণে আমাদের ইচ্ছানুযায়ী পরবর্তী কর্তব্য বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না। ইন্টার পাশের পর আমি ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ, সান্দ্রা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং, অলক প্রাচীন ভাষাশিক্ষা আর নিমা প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা তে ভর্তি হয়েছিলাম। এখন আমরা জব করা শুরু করেছি সবাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৭ (শেষ)
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৬
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৫
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৪
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০৩
→ ড্রাঙ্কেন মুন — ০২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now