বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-76,77,78,79

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-76,77,78,79 লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) বেচারি মারগারেট। এত বছর পর প্রথমবারের মতো জীবন্ত জগতে ফিরে চোখ খুলতেই ও আমাকে ওর গলা চিপে ধরতে দেখেছিলো। যতই যাদুশক্তির অধিকারী হোক না কেন এমন দৃশ্য স্বভাবতই ওর হৃদপিণ্ডটা কাঁপয়ে দিয়েছিলো। ভয়ে দ্বিকজ্ঞিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ও ড্রয়িংরুম থেকে বেরিয়ে ছুটে সোজা কিচেনের ডিপ ফ্রিজে ঢুকে পড়ে। ভাগ্য ভালো যে মারগারেট ফ্রিজের ভেতরে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার ব্যাপারটা সম্পর্কে অবগত ছিলো না। মধ্যযুগে ওর জীবদ্দশায় পোল্যান্ডে ফ্রিজ আসবে কোথা থেকে? ও ফ্রিজটাকে নিছক একটা লুকানোর জায়গা ভেবে ঢুকে পড়েছিলো। এখন ও টের পাবে কত ধানে কত চাল, আর ফ্রিজে ঢুকলেই জমে তাল।আমার ভয় ছিলো মারগারেট হয়তো জাদুবলে লকটা খুলে ফেলবে। তাই রান্নাঘরের ভারী ওভেন আর ডিশ ক্লিনারটা বয়ে এনে ফ্রিজের ডালার উপর রাখলাম। এবার আর কিছুতেই ফ্রিজটা খুলবে না। ফ্রিজের দেয়ালে একটা আলতো লাথি বসিয়ে দিয়ে ওকে বুঝিয়ে দিলাম আমি ওর অবস্থান জেনে গেছি। ও ভয়ে সর্বশক্তিতে চেঁচালো আর ফ্রিজের ডালায় ধাক্কাতে শুরু করলো। আমি হো হো করে হেসে উঠলাম। ওর চিৎকার আমার কানে রক মিউজিকের মতোই সুরেলা শুনালো। চেঁচাতে চেঁচাতে এক সময় ও ক্লান্ত হয়ে চুপ মেরে দিলো। তারপর শুরু করলো মিনতি। পোলিশ ভাষায় ও বলল, “সাঞ্জে আমি মনিকাই। কেন তুমি আমায় মারতে চাইছো? আমি তোমার কি ক্ষতি করেছি?তোমায় আমি ভালিবেসেছিলাম। এটাতো কোন অন্যায় নয়। তবে কেন আমায় এ শাস্তি দিচ্ছো? ” হায় রে বোকা মারগারেট। আমাকে ধোকা দেয়া এতো সোজা না। মনিকার ভাব নিয়ে আমার মন গলাতে চাইছে। কিন্তু যত্ত সমস্যা হয়েছে ওই ভাষাতত্বে। মনিকা এতো ভালো পোলিশ জীবনেও বলতে পারবে না। কিন্তু মারগারেট অবলীলায় পোলিশ বলে যাচ্ছে। ওর এসব বৃথা প্রচেষ্টা দেখে আমার নিতান্তই হাসি পেলো। আমি: “দেখো মারগারেট, আমি ভালো করেই জানি তুমি কে। এসব ভান ধরে কাজ হবে না। তুমি আমার বন্ধু আদিনকে মেরেছো। আমার সন্তানতুল্য মনিকাকে আমার হাত দিয়ে খুন করিয়েছো। ভেবেছিলে এসব করে তুমি পার পেয়ে যাবে। কিন্তু না। আজ তোমাকে মরতেই হবে। তুমি মরবেই।” ওর ছদ্দবেশ কাজ করছে না দেখে ও এভার স্বরূপে আবির্ভূত হলো, মারগারেট: “দেখো সাঞ্জে। পৃথিবীতে একজনকে বেঁচে থাকতে হলে অন্যজনকে মরতেই হয়। আমি শুধু বেঁচে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমায় অন্যায়ভাবে হত্যা করে। এতগুলি বছর পর আমি আবার যখন আজ বেঁচে উঠেছি তখন তুমি আবার আমায় হত্যা করতে নেমেছো। এটাই কি তোমার বিবেক? ” ভুতের মুখে রাম নাম। যে নিজেই একরাতের ব্যবধানে দুই দুইজন মানুষকে খুন করেছে সে আমার বিবেক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! গেলো মাথা বিগড়ে। আমি: “হা আমি বিবেকহীন অমানুষ। আর তুমি খুব বিবেকসম্পন্ন মানবতা দরদী তাই না? তোমার বিবেক নিয়ে ফ্রিজেই জমে মরো। ঠিক যেমন করে তুমি আমার বন্ধুদের মেরেছিলে।” ওর সাথে কথা বলার সকল ইচ্ছা আমার মন থেকে উবে গেলো। অনেক হয়েছে। এবার ওকে একা একা শান্তিতে মরতে দেওয়া উচিৎ। আমি কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে ড্রয়িংরুমের রক্ত পরিষ্কার করলাম। মনিকার কাটা আঙ্গুলটা কুড়িয়ে নিলাম। তারপর আংটি সহই ওটাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। যাক বাবা। এখন আর আমায় অভিশপ্ত আংটিটা সার্বক্ষণিকভাবে পড়ে থাকতে হবে না। ওদিকে ফ্রিজের ভেতর মারগারেট চিৎকার করেই চলেছে। আশাকরি আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ও জমে কাঠ হয় যাবে। আমার অফিসে যাবার সময় ও হয়ে এলো। কাপড় বদলে অফিসের পথ ধরলাম। আজ আর নাস্তা করা হলো না। অফিসের কর্মচারীরা আজকে খুবই প্রফুল্ল। আজ যে আমি ইন্সপেক্টর মনিকাকে সাথে করে নিয়ে আসি নি ওদের সবারই প্রায় একই প্রশ্ন ছিলো। মনিকা কি বাল্টিসে আছে না চলে গেছে। ও থাকলে তো সবাইকে আট্যেনশন থাকবে হবে। কখন হুট করে অফিসে ভিজিট দিতে চলে আসবে কে জানে। কিন্তু আমি ওদের সবার কাছে মিথ্যা বললাম। মনিকা কাল রাতেই চলে গেছে। ওরা সবাই খুশি মনে রিলাক্স মুডে যার যার কাজে চলে গেলো। এতগুলি লোকের সামনে মিথ্যা বলতে যেয়ে আমার কপাল বেয়ে দরদর করে ঘাম ঝরলো। ক্ষানিকের জন্যে মনে হলো মিথ্যাচারই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন। সারাদিন অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে কটেজে ফিরলাম। আজ থেকে আমার কটেজ অশরীরী মুক্ত। কিন্তু মনিকার জন্যে সত্যিই অনেক খারাপ লাগছে। আমার লক্ষি মেয়েটা। দু চোখ বেয়ে অজান্তেই জল ঝরতে লাগলো। শ্রাবণের অবাধ বৃষ্টি। কটেজে ফিরে প্রথম কিচেনে গেলাম মারগারেটের কি হাল হয়েছে তা দেখতে। ফ্রিজটা তো বন্ধই মনে হচ্ছে। এবার ভালয় ভালয় মারগারেট ভেতরে থাকলেই হলো। ওভেন আর ডিশ ক্লিনার দুটো ফ্রিজের ডালার উপর থেকে সরিয়ে দিলাম। তারপরএকটা কিচেন নাইফ তুলে বাগিয়ে ধরলাম। এতক্ষণেও যদি মারগারেট মরে না গিয়ে থাকে তো এই চাকু দিয়ে ওকে গেঁথে দেব। তবুও বুকটা দুরুদুরু করছে। কি হবে যদি ফ্রিজটা খুলে দেখি মারগারেট ওখানে নেই? যদি ও তার যাদু বিদ্যা কাজে লাগিয়ে এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে থাকে? কিংবা ফ্রিজ খুলতেই একটা মোক্ষম আক্রমণে আমায় শেষ করে দেয়? দুর! বদ্ধ ফ্রিজে কেউ সারাদিন ধরে বেঁচে থাকতে পারে না কি? হয়তো ও সত্যি সত্যিই জমে কাঠ হয়ে আছে। আমি মিছেমিছিই ভয় পাচ্ছি। যা হবার হবে ভেবে এক টানে ফ্রিজের ডালাটা খুলে ফেললাম। নাহ। ও ঠিক ঠিকই মরে গেছে। জমে কাঠ না, একদম জমে পাথর। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশটা কটেজ থেকে সরাতে হবে। আদিনের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসাররা যদি কোন কারণে ফেরৎ এসে মনিকার লাশটা দেখে ফেলে তো আমায় নির্ঘাত গারদে ঢুকাবে। ঠিক করলাম মনিকার লাশটা আজ রাতের আধারেই গুম করে দিবো। বিশাল কটেজের যেকোন এক কোনে সাড়ে তিন হাত নীচে পুতে দিলেই হলো। ওর ব্যাবহার্য কাপড় চোপড়, জিনিসপত্র আজ রাতেই পুড়িয়ে দেবো। কাল থেকে আমার জীবনে আরেকটি নতুন দিন শুরু হতে যাচ্ছে। ওর লাশটা জমে অসম্ভব ভারী হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় আমি ওকে বাহিরে বয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। তাই লাশটা গলার জন্যে ফ্রিজের বাহিরে রেখে দিলাম। কিচেনের কাজ আপাতত শেষ। এবার গেস্টরুমে যেয়ে মনিকার ব্যবহার্য জিনিসপত্র বের করে নিতে হবে। কিচেন থেকে একটা বস্তা নিয়ে গেলাম গেস্টরুমে।ডাকিণী-১, পর্ব-৭৭ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) ওতে একে একে মনিকার জিনিসপত্র ভরতে লাগলাম। প্রথমে শুরু করলাম বাথরুম থেকে। ওর শাম্পু, ফেইসওয়াশ, লোশন, ন্যাপকিন, স্যান্ডেল, ব্যাবহৃত অন্তর্বাস সবই একে একে বস্তায় ভরলাম। তারপর বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে ওর ক্লজিটের কাপড় চোপড়, বিছানার কভার, জুতা, মুজা, চিরুনি, আয়না, হাতঘড়ি সবই ভেতরে পুরলাম। তখনই ওর আই ফোনটা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। ওটা বের করে মনিকার সাম্প্রতিক কার্যাবলী দেখতে লাগলাম। আজ সকালে গুগল প্লাসে লিখেছে, “সাঞ্জের সাথে অসাধারণ সময় কাটছে। ভাবছি আরো একটা সপ্তাহ বাল্টিসে কাটিয়ে দেবো।” ওই পোষ্টে ২০ লাইক ও ১১ কমেন্ট। তারপর ও গত শুক্রবার আমাদের বীচ ভ্রমণের ছবিও গুগলে আপলোড করেছে। আমাকে নিয়ে অন্য কয়েকটা সামাজিক যোগাযোগের মাধম্যে ওর আরো কয়েকটা পোষ্টও আছে। তারমানে ওর বন্ধুরা ইতিমধ্যেই জেনে গেছে যে সে আমার এখানে থাকছে! এখন যদি ও গুম হয়ে যায় তো এসব পোষ্টের বদৌলতে সন্দেহের সবগুলি আঙুল আমার দিকেই তাক হবে। তারপর পুলিশ এসে কটেজে কয়েকটা ডোবারম্যান ছেড়ে দিলেই হলো। যত গোপনেই, যতগভীরেই দাফন করি না কেনো, ওরা মনিকার লাশটা সহজেই খুড়ে বের করে ফেলবে। আমি ফেসে গেছি। ভয়াবহ ভাবে ফেঁসে গেছি। এর থেকে মুক্তির আর কোন পথ নেই। হতাশ হয়ে গেস্টরুমের বিছানায় ধপ করে বসে পড়লাম। যখন ভাবছিলাম সব শেষ তখনই লাইব্রেরী থেকে একটা করুণ কান্নার ধ্বনি শুনতে পেলাম! বিলাপের সুরটা আমার কাছে খুবই পরিচিত মনে হলো। আরে! এটা তো আলেসের কান্না! লাইব্রেরীতে ও কি করছে? ওকি তবে পরপারে ফিরে যায় নি? গেস্টরুম থেকে বেরিয়ে দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে।আমি দৌড়ে গেলাম লাইব্রেরীতে। লাইব্রেরীতে যেয়ে দেখি, আলেসের ডায়ারীটা পড়ে আছে টেবিলে, আর এর পৃষ্টাগুলি দমকা বাতাসে একে একে উল্টাচ্ছে! আশ্চর্য! এটা তো আলেসই তাহলে! কিন্তু ও যায় নি কেনো? ডায়ারীর দিকে এক দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই ব্যাপারটা বুঝে গেলাম। আলেস আংটিটা আনতে বলেছিলো তার নিজের মুক্তির জন্যে নয়। তার ভালবাসার মার্টিনীর মুক্তির জন্যে। ও মার্টিনীকে ছাড়া ওপারে যাবে না। প্রকৃতপক্ষে এদের ভালবাসার বাধন এতটা জোরালো যে ওরা একজন অপরজন কে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারে নি। তাই মার্টিনীর মুক্তিকেই প্রকারান্তরে আলেস তার নিজের মুক্তির মতোই দেখে আসছিলো। কিন্তু আংটিটা উদ্ধারের পর মার্টিনী সহ অন্য মেয়েদের মুক্তি হলেও আলেসের ইহলৌকিক বন্ধনটা এখনো রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ওর আটকে থাকার কারণ ওই আংটিটা নয়, নইলে ও অন্য মেদের সাথেই প্রিস্টের কবরে বন্দি থাকতো, এ কটেজে মুক্ত হয়ে ঘুরতো না। যে জিনিসটা আলেসকে এখাবে বেধেঁ রেখেছে সেটা হলো এই ডায়ারী। নিজের জীবনের শেষ অধ্যায়গুলির স্মৃতিযুক্ত এ ডায়ারীটাই ওকে এই বদ্ধ কটেজে হাজার বছর ধরে বন্দি করে রেখেছে। কিন্তু এতোদিন আমি ওর উপস্থিতি টের পাইনি কেন? ওকে আমি এতোদিন খুঁজলাম কিন্তু ও ধরা দিলো না কিন্তু আজ নিজে থেকেই তার উপস্থিতি ঘোষনা দিচ্ছে! ব্যাপারটা কেমন জানি গোলমেলে! মারগারেটের আত্মার প্রভাবেই কি ও নিশ্চুপ হয়ে ছিলো! কিন্তু এতদিন তো জানতাম খারাপ আত্মাগুলি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে! এখন দেখছি এরা একে ওপরের উপরেও প্রভাব বিস্তার করে! কিন্তু তা কি করে সম্ভব? মনিকা তো ওকে সেই প্রথম থেকেই অনুভব করে আসছে। সেদিন মনিকাকে একা রেখে আমি অফিস গেলে মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কারণ আমি নিজের অজান্তেই মারগারেটের বাহন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যেসব জায়গায় যেতাম মারগারেট ও চলে আসতো সাথে সাথে। আমার ও মারগারেটের অনুপস্থিতিতে মনিকা লাইব্রেরীতে আলেসকে অনুভব করে ও ভয় পেয়ে যায়। ভয়ে দিশেহারা হয়ে ও আমায় ফোন দেয়, তাড়াতাড়ি অফিস থেকে ফিরে আসার জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ যে সেরাত আমায় স্টারদের সেইফ হাউসেই কাটাতে হয়। শেষরাতে আমি কটেজে ফিরতেই সাথে করে মারগারেটও ফিরে আসে এবং মনিকাকে লাইব্রেরীতে ওর বই পড়তে দেখে ফেলে। তারপর মেয়েটাকে ভয় দেখিয়ে অজ্ঞান করে দেয়। তার কয়েকদিন পরে মনিকা অভিযোগ করেছিলো যে, বেসমেন্ট থেকে কে যেনো ওর নাম ধরে ডাকছে। ওটাও আলেসই ছিলো। বেসমেন্ট থেকে কেবল আলেসই ডাকতে পারে। ওটা ওরই আস্তানা। ওখানে মারগারেটের কোন প্রভাব নেই। সবিশেষে বেসমেন্টে আদিনের মোমবাতিটা নিভে যাওয়ার কারণও এই আলেস। সে মোমবাতি নিভিয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছিলো কিন্তু আমি ও আদিন ব্যাপারটাকে নিছক দমকা বাতাসের কারসাজি ভেবে ভুল করেছিলাম। আমাদের আগেই বুঝা উচিৎ ছিলো যে বদ্ধ বেসমেন্টে দমকা বাতাস কখনোই নিজে থেকে সৃষ্টি হয় না। যদি না অন্য কেউ সেই বদ্ধ বাতাসে ঢেউ না তুলে। আলেস আগেও ছিলো এখনো এই কটেজেই আছে। কেবল এতদিন ও আমায় এড়িয়ে চলছিলো মাত্র। আমার উপস্থিতিতে লাইব্রেরীতে ও নিজেকে নিরব রেখেছিলো, তাছাড়া বেসমেন্টে দুরাত ঘুমালেও ও আমায় কোন দুঃস্বপ্ন দেখায় নি। তবে কি এতোদিন আমার সাথে এমন কিছু ছিলো যা আলেসকে আমার থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিলো? হা, অবশ্যই। ওই আংটি! আলেসের চরম অনিহা থাকা সত্তেও তার কপালে আংটির ছ্যাকা দিয়েছিলো। এরপর থেকে ওই আংটিপরা যে কাউকেই ও প্রিস্ট ভেবে ভয় পায়, ও তাদের থেকে দুরে সরে থাকে। ওই আংটির ভয়েই ও আমায় এড়িয়ে যাচ্ছিলো। এখন আংটিটা আমার হাতে নেই বলেই ও আমায় এখানে টেনে এনেছে। পৃষ্টা উল্টাতে থাকা ডায়ারীটাই আলেসের মুক্তির পথ নির্দেশ করছে। ডায়ারীটাকে পুড়িয়ে দিলেই আলেস মুক্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমাবে। এগিয়ে গিয়ে আলেসের ডায়ারীটা হাতে তুলে নিলাম! এত সুন্দর ডায়ারীটা এভাবে পুড়িয়ে দিতে একটুও ইচ্ছা করছিলো না। ডায়ারীটা নিয়ে লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে এলাম। উদ্দেশ্য ছিলো ওটাকে পুড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু না। ঠিক তখনই আমার কটেজের কলিংবেলটা বেজে উঠে। আশ্চর্য! এই অসময়ে আবার কে এলো! ওদিকে কিচেনের কোণে মনিকার লাশটা পড়ে আছে। যদি আগুন্তুক এটাকে দেখে ফেলে তো আমার কেল্লাফতে। বাকিটা জীবন চোদ্দশিকের ভেতরে পঁচে মরতে হবে।আলেসের ডায়ারীটা স্টোভের পাশে রেখে দ্রুত মনিকার লাশটা টেনে এনে একটা কিচেন রেক এর পেছনে লুকিয়ে ফেললাম। তারপর দুরুদুরু বুকে এগিয়ে গিয়ে দরজাটা খুলে দিলাম। আমি এতক্ষণ ঠিক এদেরই ভয় পাচ্ছিলাম। পুলিশ! একটা ছয় ফুট উঁচু বিশাল দেহী অফিসার আর রুক্ষ চেহারার তার মহিলা ডেপুটি। ওদের দেখে আমি এতটাই ভড়কে গিয়েছিলাম যে ওদের সাথে কথা বলতেও ভুলে যাই। ওরাই প্রথম কথা বলা শুরু করে, পুলিশ: “সরি ম্যাম, আপনাকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্যে। কিন্তু আমরা সত্যিই দুঃখিত। আমরা আপনার বেডরুমের সীলগালা খুলে দিতে ও আপনার বেডরুম থেকে জব্দ করা মালামাল গুলি ফেরত দিতে এসেছি।” আমি: “ওহ, আচ্ছা আচ্ছা। ভেতরে আসুন। ” ওরা প্রায় একঘন্টা সময় নিয়ে বেডরুমটা ভাল করে ফের পরীক্ষা করলো প্রথম দফায় ফেলে যাওয়া কোন সম্ভাব্য সুত্রের আশায়। তারপর বেডরুমে পড়ে থাকা সকল কাঁচের টুকরা সতর্ক হাতে সরালো। মেঝেতে জমাট বাধা আদিনের রক্ত ভাল করে ধুয়ে মুছে সেখানে ডিজইনফেক্টেন্ট ছড়িয়ে দিলো। তারপর একটা লাগেজে করে আমার বেডরুম থেকে জব্দ করা জিনিসপত্র গুলি ফেরত দিয়ে গেলো। ওরা চলে যেতে যেতে বিকাল ৯টা বেজে গেলো। ওরা চলে গেলে আমি যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। ভাগ্যিস ওরা মনিকার মৃতদেহটা দেখতে পায়নি। কৌতুহলবশত আমার ফেরৎ পাওয়া মাল গুলি পুলিশের দেওয়া লিস্টের সাথে মিলিয়ে দেখতে লাগলাম! আরে! ওগুলোর মধ্যে তো আদিনের সেই জাদুবিদ্যার বইটা রয়েছে। যেটা ও এনেছিলো মারগারেটের আত্মাকে আমার দেহে প্রবেশ করানোর জন্যে। হঠাৎ আমার চোখের সামনে একটা সরল সমীকরণ মিলে গেলো! লাইব্রেরীতে আংটির ছ্যাকা খাওয়া আলেসের আত্মা, কিচেনে মনিকার মৃতদেহ, ড্রয়িংরুমের পেডাল ডাস্টবিনে সেই জাদুকরী আংটি, আর আমার বেডরুমে সদ্য ফেরৎ পাওয়া আদিনের জাদুবিদ্যার বই। এগুলি সব একত্রে মিলালেই পাওয়া যাবে মনিকাকে খুনের দায় থেকে মুক্তি। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মনিকার দেহে আলেসের আত্মাটাকে ঢুকিয়ে দিবো। এতে আমি যেমন খুনের দায় থেকে মুক্তি পাবো, আলেসও নতুন জীবন ফিরে পাবে। খুনের দায় থেকে বাঁচার জন্যে এটাই একমাত্র উপায়। আত্মা প্রতিস্থাপনের জন্যে প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ আমার কটেজের ভেতরই বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বেডরুম থেকে বইটা নিয়ে এসে লাইব্রেরীতে রাখলাম। কিচেনে ঢুকে মনিকার দেহটাকেও সন্তর্পণে লাইব্রেরীতে বয়ে এনে টেবিলের উপর শুইয়ে দিলাম। ওর দেহটা তখনো জমাট বাধাই আছে! তবে ইতিমধ্যেই ওটা থেকে অনেকটা বরফ গলে কিচেনের ফ্লোর ভাসিয়ে দিয়েছে। ড্রয়িংরুমের ডাস্টবিনের সব ময়লা হাতড়ে মনিকার কাটা আঙুলটা বের করলাম। আংটিটা ওটার সাথেই লেগে ছিলো। আঙুল থেকে আংটিটা বের করে নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে এলাম। এবার কাজ শুরু করা যাক।লাইব্রেরীতে সবকিছুই তৈরি করে বইটা খুলে বসলাম। সমগ্র বইটাই দুর্বোধ্য হিব্রু ভাষায় লেখা। বইয়ের মাঝামাঝিতে একটা পৃষ্টা ভাঙা। সম্ভবত কেউ একজন একে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলো। এই পৃষ্টায় হিব্রু লেখার সাথে গালিচায় শোয়ানো একটা লাশের স্কেচ আকাঁ। তারপাশেই হিজিবিজি টানা ইংলিশ হরফে একটা মন্ত্রের উচ্চারণ লেখা রয়েছে। সম্ভবত লেখাটা আদিনের। বুঝলাম এটাই সেই আত্মা ঢুকানোর মন্ত্র। আমি ওটা দেখে দেখে সঠিক উচ্চারণে মুখস্থ করে নিলাম। তারপর পৃষ্টা উল্টাতেই আদিনের হস্তাক্ষরে সহজ ইংরেজিতে লেখা কার্যপ্রণালী পেয়ে গেলাম। আদিনের প্রতি কৃতজ্ঞতায় মনটা ভরে গেলো। ছেলেটা আমার জন্যে এতো কিছু করেছে। কিন্তু শেষমেষ ও নিজের জন্যে কিছুই করতে পারলো না। কার্যপ্রণালী অনুসারে, প্রথমে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে দেহটা ধুইয়ে নিতে হবে। তারপর দেহের কপালে যে আত্মাটা প্রবেশ করানো হবে তার নাম পবিত্র কাঠ কয়লা দিয়ে লিখতে হবে। তারপর দেহটাকে চিৎ করে শুইয়ে মুখটা হাঁ করিয়ে রাখতে হবে। সবশেষে মন্ত্রটা পাঁচবার ঐ আত্মার নাম ধরে জপতে হবে। বাস। এইটুকুই! মন্ত্রটা গুনগুন করে আওড়াতে আওড়াতে কিচেনে গেলাম জগ ভরে বিশুদ্ধ পানি আনতে। ততারপর স্টোররুম ঘেটে কতগুলি ভাঙা কাঠের টুকরো এনে স্টোভে পুড়িয়ে কাঠ কয়লা বানিয়ে নিলাম। তারপর ওগুলি নিয়ে লাইব্রেরীতে ফিরে আসলাম। লাইব্রেরীতে ফিরে মনিকার দেহটাকে ভালো করে পানি দিয়ে ধুইয়ে পবিত্র করে নিলাম। তারপর ওর কপালে লিখলাম কাঠ কয়লার কালিতে লিখলাম “ALACE” । তারপর আংটিটা ওর আরেকটি অক্ষত আঙুলে পরিয়ে দিয়ে মন্ত্র পড়া শুরু করলাম। প্রতিবার মন্ত্র পড়ার শুরুতে ও শেষে আলেস ভন্টেইজিয়ান নামটা উচ্চারণ করতে ভুললাম না। কেন জানি ভয় হচ্ছিলো আলেসকে ঢুকাতে যেয়ে যদি অন্য কাউকে ঢুকিয়ে বসি তাহলে তো সর্বনাশ হয়ে যাবে। যদি মারগারেট আবার ঢুকে পড়ে ওতে! নাহ। তা কি করে সম্ভব। মারগারেট মনিকার দেহে তার দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, না ওই আংটিটা পড়ে ছিলো, না কপালে ওটার ছ্যাকা খেয়েছিলো। তারমানে ওর আত্মাটা মৃত্যুর সাথে সাথে চিরায়ত নিয়মেই পরপারে পারি জমায়। ফ্রিজে কেবল মনিকার দেহটা পড়ে থাকে। এখন এই দেহে ভালয় ভালয় আলেসকে ঢুকাতে পারলেই হলো। মন্ত্র পড়া শেষ হলে তীর্থের কাকের মতো লাশটার দিকে চেয়ে রইলাম একটু প্রাণের স্পন্দন পাওয়ার আশায়। সময় টিকটিক করে বয়ে যেতে শুরু করলো। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা পেরিয়ে গেলো। না আলেস চোখ খুলছে, না একটু শ্বাস নিচ্ছে। সম্ভবত আমার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আদিন কি তবে একটা ফাও বই এনে আমায় ইম্প্রেসড করার চেষ্টা করছিলো? কিন্তু ও যদি ফ্রড হয়ে থাকে তবে কেনো মারগারেট ওকে খুন করবে? নিশ্চই ওর পরিকল্পনাটা কার্যকর ছিলো বলেই মারগারেটের আতেঁ ঘা পড়েছিলো। তাই সে ওকে রাস্তার কাঁটা ভেবে সরিয়ে দিয়েছে। সমস্যাটা সম্ভবত আমার কারণেই হয়েছে। আমার মন্ত্র উচ্চারণে ভুল থাকতে পারে। কিংবা আলেস এ দেহে ঢুকতে চায় নি, ও কেবল পরপারে মার্টিনীর কাছে ফিরে যেতে চাইছে। অথবা জমে থাকা দেহটা আত্মার অনুপ্রবেশের জন্যে মোটেও উপযুক্ত নয়। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। হতাশ হয়ে লাইব্রেরীর মেঝেতে বসে পড়লাম। হতাশা আর ক্লান্তি আমায় চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো খানিক্ষণ জিরিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম পুরো প্রক্রিয়াটার পুনরাবৃত্তি করবো। তবে লাইব্রেরীতে নয়। বেসমেন্টে। ওখানে নিশ্চিতভাবে আলেসের উপস্থিতি ও প্রভাব সর্বউচ্চ পরিমাণে রয়েছে। তাই ওখানে কাজ করলে ও কিছুতেই এই প্রক্রিয়া থেকে পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। তবে তার আগে মনিকার দেহটা কিচেনে নিয়ে গিয়ে কুসুম গরম পানিতে স্নান করিয়ে আনবো। এতে ওর জমাটা বাধা দেহটা পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। আরেকটি জিনিস খেয়াল হলো। মনিকার কপালে কাঠ কয়লায় লেখা আলেসের নামটা আমি ইংরেজিতে লিখেছি। কিন্তু আলেস তো ইংরেজি জানে না। ঠিক করলাম ওটা মুছে দিয়ে পোলিশ ভাষায় ওর নামটা লেখবো। ঠিক যেমন ওর ডায়ারীতে লেখা আছে, “আলেস ভন্টেইজিয়ান”। এত কিছু করার পরেও যদি কাজ না হয় তবে আদিনের মায়ের বাপ। আমি ওর বইটা ছিড়ে কুটিকুটি করে ইঁদুর দিয়ে খাওয়াবো। হুহ। আমার সাথে ফাজলামো? ভারি জমে থাকা দেহটা আবার কিচেনে বয়ে নিয়ে গেলাম। তারপর সিংকের গরম পানির কল ছেড়ে ওর দেহে ঈষদুষ্ণ গরম পানির ধারা বইয়ে দিলাম। এভাবে আরো আধাঘন্টা পানি দেওয়ার পর ওর দেহটা নমনীয় উষ্ম আর আদ্র হয়ে এলো। এবার ফের কাজ শুরু করা যেতে পারে। ওর দেহটা কাঁধে করে বেসমেন্টে বয়ে নিয়ে গেলাম। এবার বরফ জমে না থাকায় ওর দেহটা বেশ হালকা লাগছে। বেসমেন্টে এসে দেহটাকে ঠিক আলেসের সেলের ভেতরেই চিৎ করে শুইয়ে দিলাম। তারপর সংশোধিত কার্যপ্রণালীতে আবার রিচুয়ালটা সম্পন্ন করলাম। পাঁচবার স্পষ্ট উচ্চারণে মন্ত্র পড়ার পরেও মনিকার দেহে আলেসের কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। আমি একাগ্রচিত্তে অপেক্ষা করতে লাগলাম, এক ঝাঁক আশায় বুক বেঁধে। এই বুঝি আলেস চোখ খুলে উঠে বসবে। কিন্তু প্রথম দশ মিনিট তেমন কিছুই হলো না। অপেক্ষা করতে করতে আমার মাথা বিগড়ে গেলো। সব রাগ গিয়ে পড়লো আদিনের ওই বইটার উপর। শালা অকাজের বই। তোকে আজ ছিড়েই ফেলবো। যখনই বইটা ছিঁড়ার জন্যে হাত বাড়ালাম তখনই নিস্তব্দ বেসমেন্টে একটা ক্ষীণ নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেলাম। সাথে সাথেই আমি কান খাড়া করলাম। কয়েক মুহুর্ত পরে আবার শুনে বুঝতে পারলাম শব্দটা মনিকার দেহ থেকেই আসছে। এগিয়ে গিয়ে আমি মনিকার ঝুকে মনিকার নাকের কাছে হাত রাখলাম। আরে! এই তো! শ্বাস নিচ্ছে! এবার আমি ওর মাথাটা আমার কোলে তুলে নিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলাম। এই তো লক্ষী মেয়ে। জেগে উঠো। প্লীজ। এই তো হচ্ছে। ওর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার ক্রমাগত দ্রুত হল। ওর হাতটা ধরে আমি ওর পালসরেটটা চেক করলাম। একটু দ্রুত তবে স্বাভাবিকের প্রায় কাছা কাছি। এবার আমি ওর নাম ধরে ডাকতে লাগলাম। আমি: “আলেস, আলেস ওঠো। আর কতকাল এভাবে ঘুমিয়ে থাকবে তুমি? এবার তো উঠো। আলেস!!!!” দু তিনবার ডাকতেই ও চোখ মেলে তাকালো। কেমন ঘোলা আর শূন্য সেই দৃষ্টি। ওতে প্রত্যাবর্তণের আনন্দের চেয়ে বিষাদই যেনো বেশী ছিলো। খানিক্ষণ তাকিয়ে থেকেই ও হড়হড় করে আমার কোলেই বমি করে দিলো। আহারে বেচারি। নতুন দেহে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। আমি ওর পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলাম। বমি করা শেষে ও অনেক্ষণ কাশলো। বুঝতে পারছি। ওর খুব কষ্ট হচ্ছে এ দেহে। তারপর কিছুটা ধাতস্থ হয়ে গেলেই আমায় ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে টলমলো পায়ে উঠে দাড়ালো। ওর কান্ড দেখে আমি ভিষণ অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি: “কি ব্যাপার? তুমি ঠিক আছো আলেলেলে,,,,,” ওকে প্রশ্ন করতে যেয়ে ওর চোখের দিকে তাকিয়েছিলাম। চেয়ে দেখি ও কটমট চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে যেন জ্যান্ত খেয়ে নেবে! আমার মনে খটকা লাগলো। আমার উপর এতটা রেগে আছে কেনো ও? ওর তো আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিৎ। আমার জন্যেই এত বছর পর একটা অক্ষত দেহে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এতে আমার উপর চটে যাওয়ার কি হলো? আচ্ছে, ও কি সত্যিই আলেস? না কি মারগারেট এই সুযোগে ফিরে এসেছে আমার উপর তার দ্বিতীয় মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে?আলেসের ক্রুদ্ধ দৃষ্টি আমার অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিলো! আমি ভেবেছিলাম ও আমায় আক্রমণ করে বসবে। কিন্তু না। তার বদলে ও পোলিশ ভাষায় খেঁকিয়ে উঠলো, “আমায় ফিরিয়ে আনলে কেনো। আমি তো ফিরতে চাই নি। আমি শুধু পরপারে চলে যেতে চেয়েছিলাম। এ দুনিয়ার প্রতি আমার ঘৃনা ধরে গেছে।” আমি: “ওহ গড! দেখ আলেস, তোমার মৃত্যুর পর অনেকটা সময়ই পেরিয়ে গেছে। পৃথিবীটা আগের চেয়েও অনেক বেশী বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষজন বদলে গেছে, সেই সাথে সমাজও। আমার বিশ্বাস তুমি এই নতুন সময়ের সাথে সঠিকভাবেই মানিয়ে নিতে পারবে। এর জন্যে আমি তোমাকে সর্বউচ্চ সাহায্য করবো।” আলেস: “কিন্তু আমার মার্টিনীর কি হবে? ও যে আমার জন্যে পথ চেয়ে বসে আছে।” আমি: “ওতো হাজার বছর ধরে তোমার জন্যে অপেক্ষা করেছে। তারমানে আরো ৪০-৫০ বছর ও সহজেই অপেক্ষা করতে পারবে। এর মধ্যেই তোমার জীবনকালও শেষ হয়ে যাবে। তুমি স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যুবরণ করে ওর কাছে পৌছে যাবে।” আলেস: “আরো ৪০-৫০ বছর! আমি যে আর একটা মুহুর্তও ওর জন্যে অপেক্ষা করতে পারছি না।” আমি: “আমি সত্যিই দুঃখিত আলেস। এটা ছাড়া আমার কোন উপায় ছিলো না। তুমিই কটেজে থেকে যাওয়া একমাত্র আত্মা ছিলে। তুমি আমার বন্ধুপ্রতিম হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছো। প্লীজ। আমার অবস্থাটা বুঝার চেষ্টা কর। আমাকে ক্ষমা করে দাওওওও,,,,,,,” কথাগুলি বলতে বলতে আমি কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। সত্যিই তো। আমি আলেসকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এক ফাঁদে আটকে দিয়েছি যখন ও মুক্ত হতে চাইছিলো। সব দোষ আমার। আমার কান্না দেখে আলেস এগিয়ে এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। আমিও ওর ঊষ্ম বাহুডোরে নিজেকে এলিয়ে দিলাম। ও আমার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিলো। ওকে আমার খুব আপন মনে হলো। যেন শত বছরের পরিচিত বন্ধু। হঠাৎ অনুভব করলাম ও আমার ঘাড়ে চুমু খাচ্ছে! ওকে বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা দুটোই আমার ছিলো না। কেবল মুখে বললাম, “চলো আলেস। এবার উপরে যাওয়া যাক।” ও আলিঙ্গন ভেঙ্গে ওর ডায়ারীটা কুড়িয়ে নিয়ে সেটা ছিড়ে কুটিকুটি করলো। বুঝলাম ও নিশ্চিত করতে চাইছে যে এবার মারা গেলে আর কোন কিছুই ওকে এই কটেজে আটকে রাখতে পারবে না। »চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now