বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-৭১,৭২,৭৩,৭৪,৭৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-৭১,৭২,৭৩,৭৪,৭৫ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) হঠাৎ ঝনঝনিয়ে ভারী ঝাড়বাতিটা আদিনের মাথায় ভেঙে পড়লো। আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। কিন্তু পরক্ষণেই স্তম্ভিত ফিরে পেয়ে ওর কাছে দৌড়ে গেলাম। “আদিন! আদিন তুমি ঠিক আছো? ” কিন্তু বলা বাহুল্য ও ঠিক ছিলো না। ঝাড়বাতির কাঁচটা ভেঙে ওর পুরো মাথায় গিথেঁ আছে, একটা চোখ বেরিয়ে এসেছে, পুর মুখ রক্তে লাল হয়ে গেছে। কি ভয়ানক দৃশ্য। রাগটা আমার মধ্যে আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে শুরু করলো! রাগে চিৎকার করে উঠলাম, “মারগারেট, তোকে আমি নরকে পাঠাবো বীচ।” পরক্ষণেই আবার সেই খিলখিল হাসি। মাথায় যেন আগুন ধরে গেছে। আমার রাগটা বাড়াতেই যেন হাসিটা আরো উচ্চতর হলো। রাগের যাই মুখে আসলো তাই বলে আমি মারগারেটকে গালি দিতে লাগলাম। ডান হাতটা সেই সুযোগে নিজের মতো করে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে।ওটা আদিনের হাত থেকে পড়ে যাওয়া সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কুড়িয়ে নিলো। তারপর আমি আবার চিৎকার করার জন্যে মুখ খুলতেই হাতটা এক ঝটকায় ট্যাবলেটটা মুখে পুরে দিলো। বিষ্ময়ের প্রথম ধাক্কা সামলাতে প্রায় সব মানুষই ঢোক গিলে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়। আমিও তাই করলাম। কিন্তু আত্মঘাতী ভুল হয়ে গেলো। ঢোক গিলতে যেয়ে ট্যাবলেটটাকেও পেটে চালান করে দিলাম। ঘটনার আকর্ষিকতায় আমি সম্পূর্ণ হতভম্ব হয়ে গেলাম। আবারো মারগারেট আমার ক্রোধকে ব্যবহার করলো। আমি দ্রুত রাগকে নিয়ন্ত্রণে আনলাম। কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমি সায়ানাইড ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছি। কিছুক্ষণের মধ্যেই নিশ্চিত মৃত্যু। তারপরেই মারগারেট দেহটা দখল করে নিবে। প্রচন্ড কান্না আসছিলো আমার। না পারলাম আদিনকে বাঁচাতে না পারলাম নিজেকে। হতাশায় মুষড়ে পড়ার মতো অবস্থা। এইটুকু সময়ের মধ্যেই হাত পা অবশ হয়ে আসতে শুরু করেছে। বিশ্বাসঘাতক ডান হাতটার দিকে তাকালাম। মৃত্যুর আগেই ওটা থেকে আংটিটা খুলে ফেলতে হবে। কিন্তু দুষ্ট হাতটা আমার নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। ওটা শক্ত করে মোঠ ধরে আছে। মোঠ করা হাত থেকে আমি কিছুতেই আংটিটা খুলে আনতে পারবো না। বা হাত দিয়ে ডান হাতের মুঠো খুলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই খুলছে না। ধস্তাধস্তিতে বরং আরো দ্রুত দুর্বল হয়ে যেতে লাগলাম। তারপর একসময় হাল ছেড়ে দিলাম। নাহ। ওটা খুলা সম্ভব না। তার বদলে ঝাড়বাতির একটা বড় ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো কুড়িয়ে নিলাম। ভেবেছিলাম ওটা দিয়ে হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে বাদ দিয়ে দেবো। এমন বিশ্বাসঘাতক হাত রেখে লাভ কি? চোখ বন্ধ করে কব্জিতে দিলাম এক ঘা। কিন্ত কাঁচটা ঝনঝনিয়ে ভেঙে পড়লো। ভাঙা কাঁচ আমার হাতের কব্জিতে একটা গভীর ক্ষত সৃষ্টি করলো। বুঝলাম হাতের কাছে থাকা এসব কাচ দিয়ে হাড় কাটা যাবে না। মোল্লার দৌড় যেমন ঐ মসজিদ পর্যন্ত, তেমনি এসব কাচের কাটার ক্ষমতাও চামড়া আর মাংসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হাত কাটতে হলে আমাকে স্টোররুমে যেয়ে চাকুটা নিয়ে আসতে হবে। উঠে দাড়িয়ে স্টোররুমে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু ততক্ষণে সায়ানাইডের প্রতিক্রিয়ায় আমার পায়ে পেরেসিস হয়ে গেছে। দাড়াতেই আবার ধপাস করে পড়ে গেলাম। পড়বি তো পড়, একদম ঝাড়বাতির ভাঙা কাঁচগুলির উপর। অনেকগুলি সুচালো ভাঙ্গা কাচের টুকরা আমার পিঠের মাংস ভেদ করে এক সাথে গেঁথে গেলো। আর ব্যাথা সহ্য করতে পারলাম না। আমি আর্তনাদ করে উঠলাম। কিন্তু মারগারেটের হাসি আমার আর্তনাদকে ছাপিয়ে গেল। একটানা বাজতেই থাকলো, “হিহিহিহিহিহি।” আমার তো একদম কানে তালা পড়ার জোগাড়। আমি মারা যাচ্ছি আর ও হাসিতে ফেটে পড়ছে। যেনো শিওরে দাড়ানো কোন এক শকুনী মৃতপ্রায় মানুষের মৃত্যু প্রতিক্ষায় ক্ষণ গুনছে। আমি জীবনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নিয়ে নিলাম। ভাঙ্গা কাঁচগুলি হাড় কাটিতে না পারলেও মাংস ভালই কাটতে পারে। এগুলি দিয়ে হাত কাটা অসম্ভব হলেও গলা কাটা খুবই সহজ। বিড়বিড় করে বললাম, “আমার নিজের গলা কেটে হলেও তোমার প্রত্যাবর্তণ প্রতিহত করবো মারগারেট। আমার দেহটা তুমি কখনোই পাবে না।” বা হাতে বড় দেখে আরেকটি কাঁচের টুকরো তুললাম। বাহ। ভালই ধারালো দেখছি। শেষবারের মতো ডান হাতের দিকে তাকালাম। হাতটা তখনো মুঠো ধরে আছে। কিছুতেই আংটিটা খুলতে দিবে না। জীবনের শেষ দৃশ্যটা দেখে নিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে ফেললাম। নিজের গলা কাটার সময় আমি কখনোই সেটা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারবো। আমার সে সাহস নেই। মনের গহীনে মায়ের হাসি মাখা সেই মুখটা ভেসে উঠলো। সবকিছুকেই পাশ কাটিয়ে আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল রইলাম। এমনিও মরছি ওমনিও মরছি। আমার কাছে এখন দুটোই সমান। বা হাত দিয়ে ভাঙ্গা কাঁচটা গলা মাঝ বরাবর স্থাপন করলাম। তারপর ওটা সজোরে গলায় ঠেসে ধরে ঘসতে শুরু করলাম। ঘাড় বেয়ে বয়ে যাওয়া গরম রক্তের ধারাই বলে দিচ্ছে যে কাঁচটা কাজ করছে আমি মারগারেটের প্রবেশ ঠেকাতে নিজেকেই শেষ করে দিতে বসেছিলাম। কিন্তু কাঁচটা গলার চামড়া কেটে যখনই শ্বাসনালীর উপর চাপ দিতে শুরু করেছিলো তখনই আংটিপরা ডান হাতটা সক্রিয় হয়ে উঠে। ওটা হঠাৎ করেই আমার কাঁচ ধরা বাম হাতে প্রচন্ড জোরে একটা থাবা বসিয়ে দিলো। আমি কখনোই এর জন্যে প্রস্তুত ছিলাম না। হাত থেকে কাঁচের টুকরাটা ফসকে গিয়ে দুরে ছিটকে পড়লো। সেই সাথে উৎকট হাসিটাও পাল্লা দিয়ে চলল। আমার শরীরে ইতিমধ্যেই কাঁপুনি ধরে গেছে। কাঁপুনির সাথে সাথে মুখে ফেনা জমেছে। আর কোন পথ নেই। অবশেষে আমি মারগারেটের কাছে হেরে গিয়েছি। আমার ক্রোধই আমায় হারিয়ে দিয়েছে। আর কিছুই করার নেই দেখে চোখ বন্ধ করে নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়ার চেষ্টা করলাম। চিরনিদ্রার অপেক্ষায়। কিন্তু তখনি বিষ্ময়কর ভাবে আমার মস্তিষ্ক ঘুরে দাঁড়ালো। দুমাস আগের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। আমার রজঃস্রাব নিয়মিত ঘটানোর জন্যে আমি একবার কেমিস্টের দোকান থেকে এনাফাইলো-টক্সিন কিনেছিলাম। দোকানি জোর করে এক ডোজ আন্টি-হিস্টামিন ও সাথে দিয়েছিলো। পোল্যান্ডের আইন অনুযায়ী কেউ যদি কেমিস্টের দোকান থেকে কোন টক্সিন কেনে থাকে তবে তাকে অবশ্যই সেই টক্সিনের একটা নির্দিষ্ট পরিমান আন্টিডট কিনতেই হবে। অনাকাঙ্খিত বীষক্রিয়া প্রতিরোধেই এই আইন করা হয়। আদিন যদি বৈধ কোন কেমিস্টের দোকান থেকে সায়ানাইড ট্যাবলেটটা কিনে থাকে তবে ওর সাথে অবশ্যই এক ডোজ আন্টিডট ও কিনেছে। আন্টিডটটাও খুব সম্ভব ওর পকেটেই আছে। দ্রুত ওর পকেট হাতড়াতে লাগলাম। প্রথম পকেটে শুধুই মানিব্যাগ। পরের পকেটে আরেকটি সায়ানাইড ট্যাবলেট। তৃতীয় পকেটেই সেই কাঙ্খিত আন্টিডট, সোডিয়াম থায়োসালফেট আমাইনো নাইট্রেটের একটা ভায়াল ও দুটো সিরিঞ্জ। ভায়াল থেকে আন্টিডট সিরিঞ্জটায় ভরতে লাগলাম। অক্সিজেনের অভাবে মাংসপেশিতে ইতিমধ্যেই ল্যাকটিক আস্যিড জমে শক্ত হতে শুরু করেছে। সেই সাথে বুকের বা পাশে একটা চিনচিনে ব্যাথা ঈঙ্গিত দিচ্ছে যেকোন সময় আমার মায়োকার্ডিয়াল ফেইলোর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একটা ইঞ্জেকশন লোড করা যে কি দুর্ধর্ষ কাজ তা কেবল আমিই জানি। ইঞ্জেকশনটা লোড শেষে নিজের গলা হাতড়ে জুগুলার শিরার অবস্থানটা নিশ্চিত করে নিয়ে , সুইটা গেঁথে দিলাম। ইঞ্জেকশনটা পুশ করার পরেও আমার অবস্থার বিশেষ কোন পরিবর্তন হলো না। বুঝতে পারছি ইঞ্জেকশনটা কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় নিবে। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত আমার কোষ কলায় বেঁচে থাকার মতো অক্সিজেন থাকবে তো? অনেক দেরী হয়ে গেছে। হয়তো ওটা আর পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। চোখ দুটো মুদে আমি আবারো ঘুমিয়ে পড়লাম। আমি নিশ্চিত ভাবে জানতাম না এ ঘুমটা আর ভাঙবে কি না। প্রায় দু ঘন্টা পর আমার ঘুম ভাঙলো। প্রথমে কিছুই মনে করতে পারছিলাম না। কিন্তু আদিনের লাশের দিকে চোখ যেতেই সব মনে পড়তে শুরু করলো। হৃদয়টা হাহাকার করে উঠলো। আমিই আদিনকে এই মৃত্যুর মুখে ডেকে এনেছি। আমিই ওর মৃত্যুর জন্যে দায়ী। ছেলেটার সংসার জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে গেলো। ব্যার্থ মনোরথে আমি পুলিশের কাছে ফোন দিলাম। আদিনের লাশটার একটা ব্যাবস্থা করতে হবে যে। দশ মিনিটের মধ্যেই দুটো পুলিশ কার ও একটা আম্বুল্যান্স আমার কটেজে এসে হাজির হলো। প্যারামেডিকরা আমার গলাটা ব্যান্ডেজ করে দিলো আর আদিনের লাশটা তুলে আম্বুল্যান্সে করে নিয়ে গেলো। আমি আর নিজেকে সামলাতে পারলাম না। হুহু করে কেঁদে উঠলাম। ছেলেটা একটু পাগলাটে হলেও মানুষ হিসেবে সত্যিই অনেক ভালো ছিলো। একজন মহিলা পুলিশ অফিসার এসে আমায় জড়িয়ে ধরে সান্তনা দিলো। কিন্তু আমার হৃদয়টা কিছুতেই বাধ মানলো না। আমার স্তম্ভিত ফিরে পেতে অনেকটা সময় লেগে গেলো। কিছুটা শান্ত হয়ে গেলে আমি ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে পড়লাম। কয়েকজন পুলিশ অফিসার তখনো আমার বেডরুমে দুর্ঘটনার সুত্র অনুসন্ধান করছে। কিছুক্ষণ পর একজন অফিসার এসে আমায় রূঢ় কণ্ঠে বলল, “মিস সাঞ্জে। দুর্ঘটনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আপনাকে এখন আমাদের সাথে হবে। আপনি দ্রুত তৈরি হয়ে নিন।” আমার অবস্থা তখন অবর্ণনীয়! এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে আমি কোথাও যেতে চাই না। তাছাড়া গত সপ্তাহে স্টারদের সাথে আমার একটু ও ভালো সময় কাটেনি। এবার পুলিশের সাথে যে কি হবে তা এক ঈশ্বরই ভালো জানেন। আমি এসব ভেবে আমি প্রতিবাদ করে উঠলাম। “দেখুন মিঃ অফিসার। আমি এখন কোথাও যেতে পারবো না। আমি ক্লান্ত ও আহত। আপনাদের উচিৎ মানবিক দিক বিবেচনায় আমাকে এখানে ছেড়ে যাওয়া।” অফিসার: “দেখুন মিস সাঞ্জে। দুর্ঘটনাটা আপনার কটেজেই ঘটেছে। আপনি ঝাড়বাতি টাঙাতে দুর্বল তার ব্যবহার করেছেন বলেই আজ এই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে। আপনি কিছুতেই এর দায় এড়াতে পারেন না। আমি: “মিঃ অফিসার। কটেজটা আমি পোলিশ সরকারের কাছ থেকে কিনেছি। ঝাড়বাতিটা আমি এই কটেজে আসার আগে থেকেই লাগানো ছিলো। সরকারি রক্ষণাবেক্ষণকারীরাই ওটা লাগিয়েছিলো। এর জন্যে আপনারা কিছুতেই আমাকে দোষারোপ করতে পারেন না।” অফিসার: “তবুও দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে আপনাকে একবার আমাদের ওখানে যেতেই হবে। আপনিই এর একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। ” হঠাৎ মনে পড়লো, সমগ্র ঘটনাই তো আমি ভিডিও করেছিলাম। ওই ভিডিওটা দিয়ে এই নাছোড়বান্দা পুলিশদের হয়তো হঠানো যেতে পারে। আমি দৃঢ় কন্ঠে বললাম, “দেখুন মিঃ অফিসার। আমি কিছিতেই আদিনের মৃত্যুর সাথে জড়িত নই। আর এই দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ দিতেও আমার ঘোর আপত্তি। সাক্ষ দেওয়ার জন্যে আমি দুর্ঘটনাটা ফের মনে করতে চাই না। আমি ওটা যত দ্রুত সম্ভব ভুলে যেতে চাই।” এবার অফিসার গলা চড়ালো, “আপনি কিছুতেই এটা করতে পারেন না মিস সাঞ্জে। আপনাকে অবশ্যই পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। যত কষ্টই হোক। আপনি যতই ব্যাপারটা ভুলে যেতে চান না কেন সাক্ষ্য আপনাকে দিতেই হবে।” আমি: “সাক্ষ্য দেওয়ার বদলে আমি যদি আপনাদের দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ ভিডিও ফোটেজ দিয়ে দেই তবে কি কাজ চলবে? ” অফিসারের চেহারাটা লকলকিয়ে উঠলো, “কোথায় ওটা, আমাদের দেখান তো মিস সাঞ্জে।” আরো ঘন্টা খানেক পরে অফিসারগণ তদন্ত কার্য সমাপ্ত করে ভিডিওটার একটা কপি নিয়ে চলে গেলো। সারাটা দিন এসব ঝামেলায় জড়িয়ে থাকায় আর লাঞ্চ করতে পারিনি। তাই আজ বিকাল ৭টার মধ্যেই তাড়াতাড়ি ডিনার সারলাম। অফিসাররা আমার বেডরুম সীলগালা করে দিয়ে গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওখানে ঢুকা নিষেধ। তাই খাওয়া শেষে আমি ড্রয়িংরুমে কাউচের উপর শুয়ে পড়লাম। কিন্তু মনিকার জন্যে মনটা খচখচ করতে লাগলো। মেয়েটা সেই যে সকালে বেরিয়েছে, এখনো ফিরে নি। কোন ঝামেলায় পড়লো না তো? ফোনটা হাতে নিয়ে ওকে কল দিলাম,,,মনিকাকে ফোন দিতে যেয়ে দেখি ও ফোন ধরছে না। অনেক চিন্তা হলো মেয়েটার জন্যে।! কিন্তু আমারও তো মানুষের শরীর। ক্লান্তি যে আমার উপরও ভর করে। বিশেষ করে এমন একটা বিদঘুটে দিনের পর। তাই মনিকাকে খোজা বাদ দিয়ে আমি কাউচের উপর দেহটা এলিয়ে দিলাম। মারগারেটের আবির্ভাবের পর কতদিন আমি ওই ঝাড়বাতিটার নিচ দিয়ে হেটে গেছি। বুঝলাম কেবল এই আংটিটার জন্যেই ঝাড়বাতিটা আমার মাথায় পড়ে নি। আভ্যন্তরিণ ক্ষত না থাকার শর্তটা বারবার আমার জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। স্থির করলাম নিশ্চিত মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত ব্যাতিত কখনই আমি আংটিটা খুলবো না। কিন্তু আজকের এই ঘটনাটা আদিনের পরিবারের উপর কি দুর্বিষহ প্রভাব ফেলবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা খেয়াল নেই। কিন্তু দুঃস্বপ্ন আর আমার পিছু ছাড়লো না। স্বপ্নে দেখলাম আমি কাউচের উপর ঠায় ঘুমিয়ে আছি। পেছন থেকে মনিকা পা টিপেটিপে এসে আমার ছুরিটা ঠিক হৃদপিণ্ড বরাবর আমূলে বসিয়ে দিয়েছে। মাঝরাতে চিৎকার করে জেগে উঠলাম। কি অদ্ভুত। ঘুম থেকে জেগে মনিকার জন্যে খুবই দুশ্চিন্তা হলো। ওদিকে ফের ঘুমিয়ে পড়তেও ভয় করছে। আবার না জানি কোন দুঃস্বপ্ন দেখি।তারপরেই হঠাৎ মনে পড়লো বেসমেন্টের কথা। গতরাতে বেসমেন্টে ঘুমিয়েছিলাম। একটা দুঃস্বপ্নও দেখিনি। আজ আবারো ওখানে যেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেই হলো। আর কোন দুঃস্বপ্ন দেখতে হবে না। কাউচ থেকে একটা কোশন নিয়ে চলে গেলাম বেসমেন্টে। ঘুটঘুটে অন্ধকার ভয়াবহ বেসমেন্টটাই এখন আমার কাছে স্বর্গতুল্য মনে হচ্ছে। আলেসের স্মৃতি স্বরণে ওর সেলে ঢুকে, কুশনে মাথা রেখে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। আমার ভাবনাটা সঠিকই ছিলো। বাকিটা রাত কোন দুঃস্বপ্ন ছাড়াই এক ঘুমে কাটিয়ে দিলাম। বেসমেন্টে চুইয়ে ঢুকা সকেলের স্নিগ্ধ আভায় ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই আবারো সেই পুরাতন চিন্তাটা পেয়ে বসলো। মনিকা ঠিক আছে তো। দুড়ধাড় করে সিড়ি ভেঙে উপরে উঠে এলাম। কটেজে ফিরতেই দেখি মনিকা ড্রয়িংরুমে বসে গুনগুনিয়ে গান গাইছে। যাক বাবা, ও ঠিকই আছে তাহলে। আমি এগিয়ে যেয়ে ওকে সুপ্রভাত জানালাম। “গুডমর্নিং হানি। কখন আসলে? কাল সারাটা দিন কোথায় ছিলে? ফোনও ধরনি। আমি তো এদিকে দুশ্চিন্তায় মরি। ” মনিকা: “ওহ সাঞ্জে ডার্লিং। গির্জা থেকে ফেরার পথে একটা হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে দেখা হয়ে গেলো। ওর সাথে সারাদিন ঘুরার পর আমরা একসাথে ডিনার করি। তারপর রাতটা ওর ওখানেই কাটিয়ে দিয়েছি। হিহিহিহিহি! আজ সকালে ও আমায় কটেজের ফটকে গাড়িতে করে নামিয়ে দিয়ে গেছে। ” আমি ওর নাক টিপে দিয়ে বললাম, “যাহ। ভালোই ডেটিং শিখেছো দেখছি। কিন্তু আমার ফোনটা ধরলে কি এমন দোষ হতো? সারাটি রাত আমায় কতটা টেনশন করিয়েছো তুমি জানো?” মনিকা: “ওহ ডার্লিং, তুমি যখন অমন শক্তিশালী বলিষ্ঠ কোন ছেলের সাথে ঘুমুতে যাও তখন ফোন রিসিভ করার মতো সামান্য একটা কাজও প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠে। কিন্তু একি! তোমার গলায় ব্যান্ডেজ কেনো? কি হয়ে হয়েছে ওখানে” আমি: “ও কিছু না। সামান্য কেটে গিয়েছে আর কি।” ভদকার গন্ধে ওর মুখ মৌ মৌ করছিলো। মদ ছাড়ার পর থেকে আমি আর এর গন্ধ সইতে পারি না। বেশীক্ষণ ওই গন্ধ শুকলে হয়তো পাগল হয়ে ঐ বাজে জিনিসটা আবার খেয়ে ফেলতে পারি। তাই আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “আচ্ছা ডার্লিং, বুঝলাম। এখন লক্ষী মেয়ের মতো এখানে বসে অপেক্ষা করো। আমি ব্রেকফাস্ট বানিয়ে আনছি।” আমি ঘুরতেই ও আমার হাত ধরে টেনে কাউচে ওর পাশে বসিয়ে দিলো। মনিকা: “না না ডার্লিং। ওসব ব্রেকফাস্টে আমার অরুচি ধরে গেছে। আজ তোমায় দিয়েই ব্রেকফাস্ট করবো। ” আমি: “যাহ দুষ্টু। কি যে বলে না,,,,” মনিকা ওর লাল টুকটুকে স্কার্টটা টেনে কোমড় অবধি উঠিয়ে দিলো। প্রথমেই চোখ গেলো ওর গুপ্ত ত্রিভুজে। আরে! ও স্কার্টের নিচে কোন প্যান্টি পড়েনি। সবটাই বেরিয়ে রয়েছে। এই মেয়েটার বুঝি লজ্জা শরম বলে কিছু নেই। তারপর চোখ পড়লো ওর মসৃণ উরুতে। সেখানে স্কচ টেপ দিয়ে দুই উরুতে দুটো বিয়ার কেন আটকানো। ও একটা ক্যান খুলে আমায় দিলো আরেকটি নিজে খেতে শুরু করলো। কিন্তু স্কার্ট আর টেনে নামালো না। আমি: “দেখ ডার্লিং আমি তো মাস খানেক হলো আলকোহল ছেড়ে দিয়েছি। তাই এখন আর এটা খেতে পারছি না। আমি সত্যিই দুঃখিত। ” মনিকা: ” গতরাতের অসাধারণ অভিজ্ঞতার জন্যে কৃতজ্ঞতা সরূপ ছেলেটা বিয়ার ক্যান দুটো আমায় উপহার দিয়েছে। তুমি যদি একটা না খাও তো খুব কষ্ট পাবো। আজকে অন্তত খেয়ে নাও তারপর থেকে ছেড়ে দিও। প্লীজ।” আমি: “আচ্ছা বাবা, এই যে খাচ্ছি। ” ছোট্ট এক ঢুক গিলে নিলাম। বহুদিন পর আলকোহল খেতে পেয়ে দেহটা যেন আরো খাবার জন্যে মোচড় দিয়ে উঠলো। এক নিঃশ্বাসে ক্যানটা সাবাড় করে দিলাম। কিন্তু ক্যান শেষ করতেই একটা অপরাধবোধ আমার মাথায় ঝেকে বসলো। আমি আম্মুর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম আর কখনো মদ ছোয়েও দেখবো না। কিন্তু আজ সেটা ভেঙ্গে ফেলেছি।আর এই মেয়েটাই বা কি! ঠিক বিশ্বাস হতে চায় না এতো লক্ষী একটা মেয়ে শুধু এক জোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে নিজেকে বিলিয়ে দিলো। ও যা বেতন পায় তাতে প্রতিদিন অমন এক ডজন বিয়ার ক্যান ও নিমিষেই কিনতে পারে। একজন অচেনা পুরুষের কাছে ওর এতটা সহজলভ্য হওয়ার কি দরকার ছিলো তা আমার মাথায় ঢুকলো না। কেন জানি মনে হলো মনিকা নিছক একজোড়া বিয়ার ক্যানের জন্যে দেহ বিলায় নি। ও এই ভয়াবহ কটেজ থেকে একরাতের জন্যে নিষ্কৃতি চাইছিলো মাত্র মনিকা: “কি ভাবছো সাঞ্জে? এইটুকু খেয়েই মাথা ধরে আসছে বুঝি? হিহিহিহিহি। ” মনিকার এহেন প্রশ্নে আমি আবারো বাস্তবে ফিরে এলাম। আবার চোখ পড়লো ওর অনাবৃত ত্রিভুজটার দিকে। আমি: “কি যে বলো না মনিকা, সাঞ্জে অমন আরো একশোটা ক্যান খেয়েও ঠিকই সারাদিন অফিস করতে পারবে। হিহিহিহিহি। মনিকা: “এই না হলে আমাদের সিইও ম্যাডাম। দ্য সুপার সেক্সি আনসিংকেবল সাঞ্জে। হিহিহিহিহি। ” আমি: “হিহিহিহিহি। আচ্ছা মনিকা, তুমি আজ পেন্টি পড়লে না কেনো? ” মনিকা: “পেন্টি পড়ে কি লাভ ডার্লিং? মেয়েদের যৌনিকে সবসময়ই পুরুষের জন্যে তৈরী রাখাই ভালো।” আমি: “যাহ দুষ্টু। ” তারপর মনিকা হঠাৎ ওর ক্যানটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললো, “আমার ক্যান থেকে আরো কয়েক ঢুক গিলে নাও ডার্লিং। তোমায় খুব তৃষ্মার্ত দেখাচ্ছে।” কিন্তুু ততক্ষণে মায়ের সাথে করা ওয়াদা ভঙ্গের অনুশোচনা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিলো। আমি দৃঢ় কন্ঠে তা প্রত্যাহার করলাম, “নাহ মনিকা, আমি আর খাবই না।” মনিকা ক্যানের বাকিটা বিয়ার ওর অনাবৃত যৌনিতে ঢেলে দিয়ে বলল, ” এই নে রে যৌনি। তুই ই খা বাকিটা। আজ তোর জন্যেই কপালে ফ্রি বিয়ার জুটলো। ” ওর হাস্যকর বাচনভঙ্গি দেখে আমি হুহুহুহুহু করে হেসে উঠলাম। কিন্তু ও সেটাকে যৌনতার প্রতি গ্রীন সিগনাল ভেবে ভয়ানক ভুল করলো। ও বলল, “সাঞ্জে ডার্লিং। আমার ওখানটা একটু চুষে দাও না প্লীজ। ” আমি: “যাহ। কি বলছো এসব। মাথা খারাপ হলো না কি? ” ও খপ করে আমার চুল মুঠো করে ধরে মাথাটা ওর তলপেটের কাছে টেনে নিয়ে গেলো। তারপর খেকিয়ে উঠে বলল, “চুষবি না কেন বীচ? চেয়ে দেখ কি সুন্দর যৌনি। তোর যৌনিটা আরো হাজারবার দুধ দিয়ে ধুলেও আমারটার মতো এতো সুন্দর হবে না। ” আমার চুলের উপর প্রচন্ড টান পড়ছে। চরম অনিচ্ছা সত্বেও আমার মুখ ওর যৌনিদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মুখটা ওর যৌনির এতটা কাছে চলে গেছে যে ওর বিদঘুটে গন্ধটা স্পষ্ট টের পাচ্ছি। ওর পিউবিক হেয়ার গুলি সেই অচেনা পুরুষের বীর্যে মাখামাখি হয়ে লেপ্টে আছে। আমার পেট উল্টে বমি আসতে চাইলো। অনেক কষ্টে সেটা থামালাম। তারপর আমি চিৎকার করে প্রতিবাদ জানালাম, “দেখো মনিকা, আমি এঙ্গেইজড। আমি আমার বাগদত্তার প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাই। প্লীজ আমার সাথে এমনটা করো না। প্লীজ। ” ও পাল্টা খেকিয়ে উঠলো, “এঙ্গেইজড তাই না? পুরুষের প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাও। কিন্তু কেন? কোন পুরুষই বিশ্বস্ত নয়। ওরা সুযোগ পেলেই অন্য মেয়েকে চেখে নেয়। একটা মামুলি পুরুষের জন্যে তুমি আমায় হতাশ করতে পারো না সাঞ্জে। তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম সেদিন থেকেই আমি তোমায় মনে প্রাণে চেয়ে আসছি। আজ আমি সে চাওয়া পুরণ করবই।” আমি সমস্ত শক্তি দিয়ে ওর যৌনি থেকে মাথা সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু ও কোমড় উঁচু করে ওর যৌনিটা আমার মুখে ঘসে দিলো। সাথে সাথে একগাদা দুর্গন্ধময় আঠালো তরল আমার সারা মুখে লেপ্টে গেলো। ওয়াক ওয়াক। ছিঃ, ,,,, আমার মাথার ভেতর রাগটা চাড়া দিয়ে উঠলো। কিন্তু এবার আমি সতর্ক। আর মারগারেটকে আমার ক্রোধের সুযোগ নিতে দেবো না। মনিকাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে আমায় এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ওর উপর রাগ করে নয়। আমি এবার ওকে কাতর কন্ঠে বললাম, “মনিকা প্লীজ। আমার বাগদত্তা মোটেও বিশ্বাসঘাতক নয়। প্লীজ। আমাকে ওর সামনে নীচু করে দিও না। ” কিন্তু তখনই মনিকার চোখ গেলো আমার ডান হাতে পড়ে থাকা মারগারেটের আংটির দিকে! “ওহ, এটা তোমার সেই বাগদত্তার দেওয়া আংটিটাই? খুল বলছি। ওটা এখন খুলে ফেলো। খুলে ফেলো বলছি। অন্যের এঙ্গেইজমেন্টের আংটি পড়ে আমার সাথে সেক্স করা যাবে না।” ও সেই আংটিটা টেনে খুলতে লাগলো। আমি হাতটা প্রাণপণে মুঠো করে ধরলাম যেনো ও কিছুতেই আংটিটা খুলতে না পারে। অতপর আমি মরিয়া হয়ে বললাম, “মনিকা, প্লীজ, বিশ্বাস করো আমি সমকামী নই। সমকামী ভালবাসার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, আমার ব্যাক্তিগত জীবনের জন্যে ওটাকে যথার্থ মনে করি না।” মনিকা: “সমকামী নও তো কি হলো? আজ থেকে সমকামী হয়ে যাবে। নাও। এবার চোষা শুরু করো।” আমি: “আমি এটা চুষতে পারবো না। আমার বমি হয়ে যাবে। প্লীজ আমাকে ক্ষমা করো। ” মনিকা: ” বারে! সেদিন বীচে তুই ঘুমিয়ে পড়লে আমি তোর যৌনিটা চুষে দিয়েছিলাম। তবে আজ কেন তুই আমারটা চুষতে পারবি না? ” সেদিন বীচ থেকে ফেরার সময় বিকিনি ঢিলা হয়ে যাওয়ার রহস্যটা এখন বুঝতে পারছি। মনিকা আমার ঘুমন্ত দেহের সাথেও যৌনতায় লিপ্ত হয়েছিলো! ঠিক যেমন শয়তান প্রিস্টটা আলেসের মৃতদেহের সাথে সঙ্গম করেছিলো। এই ভাবনাটা আমার মাথায় আগুন ধরিয়ে দিলো। সুযোগসন্ধানী মারগারেটের পরোয়া না করেই আমি আবার ক্রোদ্ধ হয়ে উঠলাম। রাগে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে আমি খাটি বাংলায় হুঙ্কার দিয়ে উঠলাম, “কি বললি রে মাগি, তুই আমার ঘুমন্ত দেহের সাথে সেক্স করেছিস। তোকে আজ আমি মেরেই ফেলবো।” ধা করে একটা ঘুষি বসিয়ে দিলাম মনিকার চোয়ালে। প্রথমত ও আমার মুখে ভিনদেশী চিৎকার শুনে হৎচকিয়ে গিয়েছিলো। তার উপর সাঞ্জের দুনিয়া কাঁপানো ঘুষি। ও কাউচের উপর একদম চিৎ হয়ে পড়লো। রাগের মাথায় আমি লাফিয়ে ওর বুকের উপর উঠে বসলাম। আমার অজান্তেই আংটিপরা হাতটা মনিকার গলা চেপে ধরেছে। মনিকা বাধা দেওয়ার সুযোগই পেলো না। ওর গলা দিয়ে গড়গড় শব্দ বেরুতে শুরু করলো। অনুভব করলাম আমার নিচে পড়ে থাকা ওর দেহে কাঁপুনি শুরু হয়ে গেছে। আমি ডান হাতটা কিছুতেই ওর গলা থেকে সরাতে পারছি না। বা হাত দিয়ে ডান হাতটাকে ছাড়িয়ে আনতে চাইলাম। কিন্তু ওটা প্রচন্ড জোরে মনিকার গলা আকড়ে আছে। আমি কিছুই করতে পারলাম না। মনিকাও তার হাত দুটো দিয়ে আমার ডান হাতটা ছাড়ানোর সর্বউচ্চ চেষ্টা চালালো। কিন্তু আমাদের তিন তিনটে হাতকে উপেক্ষা করে ডান হাতটা তার কাজ চালিয়ে গেলো। আমি আর মনিকার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। মৃত্যুযন্ত্রণায় ওর চোখ দুটো যেন ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। মনিকা অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়ছড় শব্দে প্রস্রাব করে দিলো। অবশেষে একসময় ওর দেহটা কাঁপুনি থামিয়ে একদম স্থির হয়ে গেলো। বুঝলাম ও আর এই পৃথিবীতে নেই। আমারই চোখের সামনে পরপর দুদিনে আমার দুজন বন্ধু প্রাণ হারালো মারগারেটের হাতে। এতোক্ষণ ছাড়ানো না গেলেও মনিকা মারা যাবার সাথে সাথে ডান হাতটা সুবোধ বালকের মতো ওর গলা ছেড়ে উঠে এলো। কিন্তু মনিকার নিষ্প্রাণ হাত দুটো তখনো আমার ডান হাতটাক্র আকড়ে ধরেছিলো। মৃত্যুর ঠিক আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ও এই হাতটা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যে লড়ে গেছে। বিষ্ময়ের ঘোর কাটতেই আমি মনিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। “মনিকা, আমি সত্যি দুঃখিত মনিকা, আমি কখনোই তোকে মারতে চাইনি। তোকে যে আমি আমার মেয়ের মতো ভালবাসিরে।” কিন্তু মনিকা আর ফিরলো না। ও ঠায় শুয়ে রইলো। ওর বিষ্ফোরিত চোখ দুটো অবাক বিষ্ময়ে আমারই দিকে তাকিয়ে আছে। আমি ওকে জড়িয়ে চিৎকার করে কেঁদে উঠলাম, “মনিকা রে রে রে রে,,,,,,” আবেগআপ্লুত হয়ে আমি ডান হাতটা থেকে নজর সরিয়ে নিয়েছিলাম। আমি জানতাম মারগারেট আমার ক্রোধকেই কেবল ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু এখন জানলাম ও আমার যেকোন উচ্চ আবেগকেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সেটা রাগ হোক, বা দুঃখ। মনিকাকে হারানোর ব্যাথায় কাতর হয়ে আমি যখন ওকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলাম তখন আমার ডানহাতটা নিঃশব্দে হাত থেকে আংটিটা খুলে ওর হাতে পড়িয়ে দেয়। আমি ওকে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে ধিরেছিলাম। হঠাৎ ওর নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শুনতে পেলাম! আশ্চর্য! ওকি তবে বেঁচে আছে? ডানহাতটা এনে পরীক্ষা করার জন্যে ওর নাকের কাছে ধরিলাম! আরে হা! ও তো নিঃশ্বাস নিচ্ছে! ওয়াও! কিন্তু পরীক্ষা করার সময় আমার ডান হাতের দিকে নজর যেতেই মনটা আতঙ্কে ছেয়ে গেলো। হাতটা একদমই খালি। কোন আঙ্গুলেই আংটিটা পড়ানো নেই! কোথায় গেলো আংটিটা? হায় হায়! এটা মনিকার হাতে গেলো কি করে! বুঝলাম মারগারেট আমার দেহে নয়, এবার মনিকার দেহে ফিরে আসতে চাইছে। ওকে আমার থামাতেই হবে। দ্রুত ওর হাত থেকে আংটিটা খুলতে গেলাম, কিন্তু ততক্ষণে ওর আংটিপরা হাতটা মুঠো হয়ে গেছে। কিছুতেই আংটি খুলতে দেবে না। ওদিকে ওর শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে। যেকোন সময় ও চোখ মেলে জেগে উঠবে। অগত্যা ওর মুঠো করা হাতের আংটিপরা আঙ্গুলটাকে মোচড়ে ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করলাম। মটমট করে হাঁড় ভাঙ্গার শব্দ হলো। কিন্তু ওর আঙ্গুলটা কিছুতেই বিচ্ছিন্ন করতে পারলাম না। ওটা বেকায়দায় ভেঙ্গে গিয়ে উল্টোদিকে ঝুলে আছে। ওদিকে ওর চোখ পিটপিট করা শুরি করে দিয়েছে! যেকোন সময় চোখ খুলে জেগে উঠবে! সাঞ্জে বেঁচে থাকতে তোকে কিছুতেই চোখ খুলতে দেবে না শয়তান। ওর ঝুলে থাকা আঙুলটাকে আমি কামড়েই ছিড়ে ফেললাম। ফিংকি দিয়ে ওর হাত থেকে রক্ত বেরিয়ে আসতে লাগলো। ভেবেছিলাম দেহ থেকে আংটিটা বিচ্ছিন্ন করে দিলেই ও আবার নিথর হয়ে যাবে। কিন্তু আমার ধারণা ভুল ছিলো। আসলে আংটিটা প্রয়োজন মৃতদেহে আত্মাকে প্রবেশ করাতে। মনিকার দেহে মারগারেটের আত্মা ইতিমধ্যেই প্রবেশ করে ফেলেছে। তাইতো ওর শ্বাস প্রশ্বাস চালু হয়েছে। এখন কালক্ষেপণের মাধ্যমে ওর আত্মাটা নতুন দেহের নিয়ন্ত্রণ নিতে শিখছে। তাই শুধু আংটিটা বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে ওকে আর থামিয়ে দেওয়া যাবে না। ওকে থামাতে হলে আবারো খুন করতে হবে। ওর গলাটা আবার টিপে ধরতে গেলাম। হাতটা ওর গলা স্পর্ষ করা মাত্র ও চোখ খুলে তাকালো। আমি খুবই দ্বিধান্বিত ছিলাম, মনিকা কি সত্যিই মরে গিয়ে মারগারেটকে দেহে জায়গা করে দিয়েছে? নাকি এটা সত্যি সত্যিই মনিকা, কোন ভাবে আমার ভয়ঙ্কর ডান হাতটার কবল থেকে বেঁচে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই দ্বিধাটা কেটে গেলো। মনিকা না মরলে কি আমার হাতটা ওর গলা ছেড়ে দিতো? মোটেও না। তারমানে ওটা মারগারেটই। সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে আবার মনিকার দেহে ঢুকা মারগারেটের গলা চিপে ধরতে গেলাম। কিন্তু তখনই মারগারেট ত্রাহি চিৎকার ছেড়ে উঠে বসলো। আমি সভয়ে পিছিয়ে গেলাম। হলিউডে অনেক মুভিতে দেখেছি মৃত মানুষ জেগে উঠলে জম্বি হয়ে যায়। তখন জ্যান্ত মানুষকে খেতে শুরু করে দেয়। মারগারেটও কি তাই করবে? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আমার কি করা উচিৎ। ও আমাকে ভড়কে দিয়েছিলো ক্ষাণিকের জন্যে। আমি যখন আতঙ্কিত হয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলাম ও সেই সুযোগে ড্রয়িংরুম থেকে ছুটে বেরিয়ে যায়। আমিও দ্রুত আতঙ্ক কাটিয়ে ওর পিছু ধাওয়া করি। আমি: “তোকে আজ কিছুতেই ছাড়বো না মারগারেট। মেরেই ফেলবো।” ও এক ছোটে কিচেনে ঢুকে পড়লো। কিচেনের পেছনে একটা জানালা আছে। ও সহজেই ওটা গলে বেরিয়ে যেতে পারে। যত দ্রুত সম্ভব ছুটে যেয়ে কিচেনে ঢুকে পড়লাম। প্রথমেই চোখ গেলো জানালাটার দিকে। ওটা ভেতর থেকেই বন্ধ আছে। তারমানে ও এখনো কিচেনেই আছে! কিন্তু কোথায়! হয়তো কিচেনের কোন তাকের আড়ালে লুকিয়ে আছে। অসাবধানতা বশত ওর কাছে চলে গেলেই কিচেন নাইফটা বুকে সেঁধিয়ে দিবে। কিন্তু আমিও এর শেষ না দেখে ছাড়ছি না। হয় ওকে মেরে আমার বন্ধুদের মৃত্যুর বদলা নিবো, নইলে অন্যদের মতো ওর হাতে নিজের প্রাণটা বিসর্জন দিয়ে পরপারে পাড়ি জমাবো। কিচেনের একটা একটা করে প্রতিটা রেকের পেছনটা আমি ভালো করে চেক করলাম। কিন্তু মারগারেটকে কোথাও পেলাম না। আশ্চর্য! হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো নাকি ডাইনীটা? ঠিক তখনি একটা মৃদু গোঙ্গানি আওয়াজ ভেসে এলো। বুঝলাম আঙুল হারানোর ব্যাথ্যা ওকে কষ্ট দিতে শুরু করেছে। ভালো করে কান পাতলাম। আরে! ওটাতো রান্নাঘরের কোনে রাখা ডিপ ফ্রিজটা থেকে আসছে। বুঝলাম ঘুঘু এবার নিজেই এসে ফাঁদে ধরা পড়েছে। গুটিগুটি পায়ে নিঃশব্দে ফ্রিজের কাছে চলে গেলাম। হা। এই তো গোঙ্গানিটা আবারো শোনা যাচ্ছে। মুখে একটা আকর্ণ বিস্তৃত হাসি ফুটলো। মনেমনে বললাম এবার তোমার পরপারে যাওয়ার পালা মারগারেট। তারপর ফ্রিজের লকটা বাহিরে থেকে শক্ত করে লাগিয়ে দিলাম। »চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now