বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-৬৬,৬৭,৬৮,৬৯,৭০

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-৬৬,৬৭,৬৮,৬৯,৭০ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) ও আমাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ফোনটা কেটে দিলো। আমি ভেবেছিলাম মনিকার সাথে ডিনার করে সকালের মনোমালিন্যের ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলবো। কিন্তু আদিন বাধঁ সাধলো! মনিকা দুদিন পরেই চলে যাবে। আজ যদি ওর সাথে ডিনার না করি তো ব্যাপারটা খুবই অসৌজন্যমূলক দেখায়। কিন্তু পাগলা আদিনটা যে কি? কিচ্ছু বুঝতে চাইলো না। সৌজন্যতার খাতিরেই মনিকাকে আবারো মিথ্য বলতে হবে দেখছি। আমি: “এই মনিকা। একটু আগে আমার একটা ফোন এসেছিলো। আমার এক ক্লোজ ফ্রেন্ড আক্সিডেন্ট করেছে। আমার ওকে দেখতে যেতে হবে। আমি সত্যিই দুঃখিত।” মনিকা: “ওহ গড! ওকে আমার পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে ভুলবে না কিন্তু।” আমি: “হা জানাবো। তবে আমার ফিরতে দেরী হবে। সম্ভবত তোমাকে আজ একাই ডিনার করতে হবে। আমি এর জন্যে ক্ষমা প্রার্থী। ফ্রিজে সব কিছু আছে। যা পছন্দ হয় খেয়ে নিও। আরেকটা কথা, আমি ফিরে আসার আগে পর্যন্ত দয়া করে ঐ লাইব্রেরীর ধারে কাছেও যেও না।” মনিকা: “এসব নিয়ে তুমি ভেবো না। আমি ভালই থাকবো।” আমি: “নিজের প্রতি খেয়াল রেখো।” মনিকার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বেডরুমে এসে কাপড় বদলে বেরিয়ে পড়লাম। হেটেই যেতে হবে। গাড়িটাকে খুব মিস করছি। আমি আমার গাড়ির দুর্ঘটনা নিয়ে জুয়া খেলতে চাই নি। তাই আমার গাড়ির কোন বীমাপত্র করাই নি। এই গাড়িটা আমার গচ্চা গেলো। এসব ভাবতে ভাবতে কুয়োর পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম। গাড়িটা খুয়ানোর জন্যে মারগারেটের উপর প্রচন্ড রাগ হলো। রাগে আচ্ছন্ন হয়ে অবচেতন মনে ফের ভাবতে শুরু করলাম, কুয়োয় আরেকটি বার নামা উচিৎ। একটা শক্ত দেখে দড়ি নিয়ে গাড়ির বনেটে বেধে রেখে আসবো। তারপর একটা ক্রেন এনে ওটাকে টেনে তুলবো। মারগারেট। তোমাকে দেখিয়ে দেবো আমার গাড়িটাকে আমি কতটা ভালবাসি। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে কুয়োর কাছে চলে গেছি খেয়াল ছিলো না। যখন হুঁশ হলো তখন নিজেকে সেই মৃত্যুগুহার মুখের সামনে ঝুকে দাড়ানো অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। আবারো মারগারেট আমার ক্রোধ কে ব্যবহার করে আমাকে তার শিকার ক্ষেত্রের খুব কাছে টেনে এনেছে। উপলব্ধি করলাম আমাকে দ্রুত এখান থেকে সরে আসতে হবে। কিন্তু কুয়ো থেকে পেছনে ফিরতেই পা পিছলে কুয়োর দিকে হেলে পড়লাম! কুয়োর নিচ থেকে আবারো সেই শয়তানী হাসিটা শোনা গেলো। প্রাণপণে কুয়োর কিনারা আকড়ে ধরে ঝুলে রইলাম। ঠিক নিচেই আমার জন্যে মারগারেট অপেক্ষা করছে। কোন ক্রমে যদি হাত ফসকে ভেতরে পড়ে যাই তো নিশ্চিত মৃত্যু। দু হাতের উপর ভর করে দেহকে উপরে টেনে তুলার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। হঠাৎ আকড়ে থাকা হাতের আঙুলের উপর প্রচন্ড চাপ অনুভব করলাম। মনে হলো কে যেনো পা দিয়ে মাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি দাঁতে দাঁত চিপে ব্যাথাটা সহ্য করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু চাপের ফলে আঙুলগুলি অসার হয়ে আসতে লাগলো। বুঝলাম মারগারেট আমায় নিচে ফেলে দেবার চেষ্টা করছে। ঠিক টখনই ওর বই থেকে মুখস্থ করা অশুভ আত্মা তাড়ানোর মন্ত্রটা মনে পড়ে গেলো। বার কয়েক আওড়াতেই হাতের উপর জেকে বসা প্রচন্ড চাপটা সরে গেলো। এই সুযোগে আমি হাচড়ে পাচড়ে উঠে এলাম মৃত্যুর কিনারা থেকে। তারপর আর এক মুহুর্তও দাঁড়ালাম না ওখানে। সোজা হেটে প্রধান ফটক ধরে বেরিয়ে গেলাম। আমি এই মনস্তাত্ত্বিক খেলায় বারবার হেরে যাচ্ছি। মারগারেট বরাবর ই আমার ক্রোধের সুযোগ নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রচন্ড হতাশাজনক লাগছে ব্যাপারটা। কিন্তু ওই কটেজ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরে মনটা অনেকটাই ভালো হয়ে গেলো। মুক্ত বাতাসে রাস্তা ধরে হাঠতে হাঠতে এক সময় পৌছে গেলাম কাঙ্খিত ফাস্টফুড দোকানে। ভেতরে ঢুকে দেখি আদিন এক কোনের টেবিল বুক করে বসে আছে আমার অপেক্ষায়। হাসি মুখে এগিয়ে যেয়ে বললাম, “দুঃখিত। আমি অনেকি দেরী করে ফেলেছি।” আদিনকে এতে মোটেও সন্তুষ্ট মনে হলো না। ও কোন ভুমিকা না করেই বলল, “সাঞ্জে, এবার সব কিছু খুলে বলো তো। ঠিক কি হচ্ছে ওখানে।” আমি ওকে প্রথম থেকে শুরু করে সবকিছু একে একে বললাম। লাইব্রেরীতে আলেসের ডায়ারী খুজে পাওয়া, তার সুত্ধরে প্রিস্টের কাছে পৌঁছানো, তারপর প্রিস্টকে মেরে মেয়েগুলিকে মুক্ত করা, তারপর মারগারেটের প্রাদুর্ভাব। শুধু বললাম না যে আংটি পরে থাকার জন্যে মারগারেট সব সময় আমার সাথেই ঘুরে বেরায়। কেন জানি মনে হলো এটা বললে ও হয়তো আমার সাথে ফ্রি হয়ে কথা বলতে চাইবে না। ও সব শুনে বলল “প্রিস্টকে মেরে তুমি এক দুঃসাহসিক কাজ করেছো সাঞ্জে। এমন অসাধারণ কাজের জন্যে আমি তোমাকে সাধুবাদ জানাই। তবে ঐ রাতে সেই মেয়েগুলির আত্মার সাথে প্রিস্টের চেয়েও ভয়াবহ এক পিশাচীকে তুমি মুক্ত করে দিয়েছো। এর জন্যে তোমাকে ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে। ও বারবার তোমায় হত্যা করার চেষ্টায় লিপ্ত আর তুমি প্রায় প্রতিবারই ভাগ্য ও বুদ্ধির জোরে বেঁচে যাচ্ছ। কি হবে যদি একবার ভাগ্য মুখ তুলে না তাকায়? কি হবে যদি আগামীকাল তুমি রাগে অন্ধ হয়ে তোমার বুদ্ধির মাথে খেয়ে বসো। আমি আশা করি তুমি ব্যাপারটা বুঝিতে পারছো। আমি বলতে চাইছি, যদি এভাবে চলতে থাকে তো একবার না একবার তুমি ওর শিকারে পরিণত হবেই।” এক নিঃশ্বাসে এতগুলি কথা বলে এবার ও ঢকঢক করে পানি গিলতে লাগলো। ও আমার প্রকৃত অবস্থাটা বুঝতে পেরেছে।যতই উৎরে যাই না কেনো একবার না একবার মারগারেটের কাছে নতি শিকার করতেই হবে। আমি ব্যাগ্র কন্ঠে বললাম, “আদিন। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার কি আর কোন উপায় নেই? ” আদিন হতাশ কণ্ঠে বলল, “আমি ঠিক জানি না। তবে জানার চেষ্টা করবো। সেজন্যে আমাকে আবারো তোমার কটেজে বেরাতে নিয়ে যেতে হবে। ” আমি চিৎকার করে বললাম, “কক্ষনো না। তুমি এমনিতেই একবার আমার কটেজে গিয়ে প্রাণ হারাতে বসেছিলে। আমি আবার তোমার প্রাণের ঝুকি নিতে চাই না। তাছাড়া তোমার ওসব ফাও লোক দেখানোর ট্রিক্স গুলি আলেসের উপরই কাজ করেনি। মারগারেট তো আলেস থেকেও বেশী ভয়ঙ্কর। ও তো তোমায় পরোয়াই করবে না । স্রেফ এক টিপে মেরে ফেলবে। ” ও মৃদু হেসে বলল, “আমায় মেরে ফেললে ফেলবে। তাতে তোমার কি? আমার জন্যে কোন কালে তোমার হৃদয়ে কোন দরদ ছিলো না কি? ” আমি: “দেখ আদিন। আমি ঠাট্টা করছি না । কটেজটা ভয়ানক। আমি কিছুতেই তোমাকে সেখানে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো না। ” আদিন: ” তবে কি আমি ঠাট্টা করছি? তুমি না নিয়ে গেলে আমি চুরি করে হলেও ঐ কটেজে ঢুকবো। ” আমি: “আমি তোকে পুলিশে দেবো শয়তান।” আদিন: “ইউ ফাকিং বীচ, আই ডোন্ট কেয়ার।” আমি: “ইউ মাদার ফাকার। কাম এন্ড ফাক ইউর মম্মা।” এই সব বাজে কথা বলতে বলতে আমি প্রচন্ড উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলাম। ক্রোধে কাঁপতে কাঁপতে বুঝিতেও পারলাম না কখন আমার আংটি পরা ডান হাতটা টেবিল থেকে একটা কাঁটা চামচ তুলে নিয়েছে! তারপরই অদৃশ্য কোন একজনের নির্দেশে হাতটা আদিনের গলার দিকে সাঁ করে ছুটে গেলো, কাঁটা চামচটা গেঁথে দিতে। মনে হচ্ছিলো যেন আমার হাতের নিজস্ব একটা প্রাণ আছে। ওটা নিজে থেকেই কাজ কছে। কপাল গুনে আদিন যথা সময় হাতটা খপ করে ধরে ফেললো নইলে একদম রক্তারক্তি কাণ্ড হয়ে যেতো। ও আমার হাতটা ধরে খুটিয়ে খুটিয়ে পরীক্ষা করতে লাগলো। তারপর হাতটা এক ঝটকায় ছেড়ে দিয়ে সবিষ্ময়ে আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাস করলো, “সাঞ্জে, হু আর ইউ? ” আমি ওর আর কথা বাড়ানোর সুযোগ না দিয়ে বললাম, ” আমি অত্যন্ত দুঃখিত আদিন। আমার কটেজ খালি হওয়া মাত্র আমি তোমায় আসতে বলবো। শুধু মেহমানটা কে বিদেয় হতে দাও।” ওর মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ফুটলো। ও বলল, “এইতো ভালো মেয়ের মতো কথা বলছো।” আমি: “আচ্ছা আদিন, এবার তবে উঠি। আমার অনেক কাজ পড়ে আছে। তুমি কিছু মনে করো না। কেমন? ” আদিন আমার দিকে তাকিয়ে একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল, “এখনই উঠবে? তুমি তো কিছুই খেলে না। এতো তাড়া কিসের শুনি? ” “দুঃখিত, কাজ আছে।” একথা বলেই আমি ঘুরে হাটতে শুরু করলাম। আদিনের দিকে ফিরেও তাকালাম না। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুতেই মনে পড়লো মনিকাকে কটেজে একা রেখে এসেছি। যতবারই ওকে একা ফেলে এসেছি ততবারই ও একটা না একটা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে দ্রুত পা চালালাম। কটেজে ঢুকে প্রধান ফটকের সামনে থমকে দাঁড়ালাম। সামনেই সেই অভিশপ্ত কুয়ো। একটা লম্বা শ্বাস নিলাম। তারপর এক দৌড়ে কুয়োটাকে পাশ কাটিয়ে যেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। তারপর স্বাভাবিক ভাবেই হেটে গেলাম কটেজের সদর দরজা পর্যন্ত। দরজায় বেল টিপতেই মনিকা উদভ্রান্তের মতো দরজা খুলে বেরিয়ে এসেই আমায় জড়িয়ে ধরলো। ওর উষ্ম আলিঙ্গনে অনুভব করলাম ওর দেহটা কাঁপছে! “কি ব্যাপার মনিকা? কোন সমস্যা হয়েছে।” ও তোতলাতে তোতলাতে বললো, “তোমার বেসমেন্ট থেকে কে যেন আমায় নাম ধরে ডাকছিলো। এখন আমার খুব ভয় করছে।” বেসমেন্ট থেকে! বেসমেন্ট তো আলেসের আস্তানা! তবে কি আলেস এখনো যায় নি? তবে কি ও মারগারেটের সাথে জোট বেধেঁছে! আলেস যদি থেকেই থাকে তবে ও হয়তো আমায় সাহায্য করতে পারবে। কেন জানি মনে হলো আলেসই আমায় মারগারেটের হাত থেকে মুক্তির এক মাত্র উপায়। ঠিক করলাম আজ রাতে বেসমেন্টে ঘুমাবো। জীবনের শেষ দুঃস্বপ্নটা দেখার আশায়। এসব ভাবতে ভাবতে ভয়ার্ত মনিকার পিঠ চাপড়ে সান্তনা দিয়ে বললাম, “অসব কিছু না ডার্লিং। একা থাকতে যেয়ে তোমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আমি এসে গেছি তো। এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। ” মনিকা আজ একটু তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লো। আমি ফ্রীজ থেকে দু টুকরা পিজা খেয়ে বেডরুমে ফিরে আসলাম। প্রায় সারাটা দিন আমি বাথরুমে যাই নি। কিন্তু এবার যে যেতেই হবে। এটা আমার কটেজ, মারগারেটকে এখানে থাকতে হলে আমার ভয়ে তটস্থ হয়েই থাকতে হবে। আমি কেন ওকে উল্টো ভয় পাবো? এসব বলে মনকে প্রবোধ দিলাম। বাথরুমে ঢুকতেই দেখলাম আয়নাটা জোড়া লেগে আছে। আমি এক নজর দেখেই ওটা থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলাম। তবে বাথরুমে আর কোন উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলো না। বাথরুম থেকে বেরুতেই নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। বালিশ আর বিছানার চাদর নিয়ে চললাম বেসমেন্টের দিকে। আজ রাতটা ওখানেই ঘুমাবো। বেসমেন্টের দরজা খুলতেই একটা মৃদু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। কে যেনো বিলাপ করে কাঁদছে। কিন্তু আমি যেই সিড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করলাম কান্নাটা থেমে গেলো। বেসমেন্টে আলেসের বন্দিশালায় ঢুকে আবারো বিছানা পেতে শুয়ে পড়লাম। মনে মনে শুধু আলেসকে ডাকছি। তারপর গলা চড়িয়ে পোলিশ ভাষায় বললাম “দেখো আলেস। আমি তোমার জন্যে অনেক কষ্ট করেছি। প্রতিদান হিসেবে তুমি আমায় মারগারেটকে তাড়াতে সাহায্য কর। প্লীজ। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। ” অন্ধকারে শুয়ে থাকতে থাকতে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম। কিন্তু বিষ্ময়কর হলে সত্য, আমি সেরাতে আমি কোন স্বপ্নই দেখি নি। সকালে অনেক দেরীতে ঘুম থেকে উঠলাম। প্রায় দশটা বাজে। এতো লম্বা ঘুম ঘুমিয়ে আমি নিজেই বিষ্মিত! মনিকা হয়তো ইতিমধ্যেই ঘুম থেকে উঠে আমায় খুজতে শুরু করে দিয়েছে। তাড়াহুড়া করে উঠে বেরিয়ে এলাম বেসমেন্ট ছেড়ে। মনিকার অলক্ষেই আমার বেডরুমে ফিরে গেলাম। তারপর বাথরুমে যেয়ে হাত মুখ ধোয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। কিন্তু ভুলেও আয়নার দিকে তাকালাম না। বাথরুম থেকে বেরিয়ে কিচেনে গিয়ে ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে লাগলাম। তখনই মনিকা আমার পেছনে এসে দাড়ালো। “কি ব্যাপার সাঞ্জে ডার্লিং। আজ এতো দেরীতে ঘুম থেকে উঠলে যে।” আমি: “আর বলো না ডার্লিং, উইকএন্ডে স্বভাব বিগড়ে যায়। আলস্য পেয়ে বসে। কিছুতেই ঘুমটা ভাঙতে চায় না। ” কথা বলতে বলতেই খেয়াল হলো ও অসম্ভব সুন্দর করে সেজেছে। একটা উত্তেজক লাল রঙের খোলামেলা জামার সাথে ম্যাচিং লিপস্টিক, নেইলপলিশ আরো কত কি। আমি: “ওয়াও। মনিকা। তোমায় আজ অসাধারণ লাগছে ডার্লিং।” মনিকা: “অবশেষে তোমার চোখে পড়লাম তাহলে। হিহিহিহিহি। থ্যাংকস হানি। আমি: “মোস্ট ওয়েলকাম। কোথাও বেরাতে যাচ্ছ না কি?” মনিকা: “বারে! আজ রোববার না? আজ যীশুর কাছে প্রার্থনা করতে গীর্জায় যেতে হবে যে।” প্রার্থনা করতে গেলে এতো সাজ গোজ লাগে! দেখে তো মনে হয় প্রার্থনা করতে নয়, বরং যীশুর সাথে ডেটিং করতে যাচ্ছে। কি আজব ধার্মিকতা! আমাদের দেশেও এমন অনেক আজব ধার্মিক মেয়ে আছে। শরীরে রঙ বেরঙের ডিজাইন ওয়ালা টাইট বোরকা, মুখে কয়েক কেজি ময়দার মাখামাখি, ঠোটে রক্ত লাল লিপস্টিক। পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে গায়ে কড়া পারফিউম আর পায়ে ঝুনঝুন নুপুর। এদের ধার্মিকতা স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্যে না কি পুরুষের সন্তুষ্টির জন্যে তা আজো আমার কাছে এক অভেদ্য রহস্য। খানিক ভেবে আমি বললাম, “ঠিক আছে মনিকা। তবে তুমি নাস্তাটা সেরে যাও। ” মনিকা: “দুঃখিত ডার্লিং। আমি তোমায় ঘুমে রেখেই নাস্তা সেরে নিয়েছি। তোমার আরামের ঘুমটা হারাম করতে চাই নি। ” আমি: “ওহ আচ্ছা। ভালো করেছো। চল তোমায় এগিয়ে দিয়ে আসি। ” মনিকা: “এগিয়ে দিয়ে আসতে হবে কেনো? আমি কি কচি খুকি? ” আমি: “না না। তা বলি নি। গাড়িটা নেই তো। তাই তোমাকে প্রধান ফটকটা পার করে একটা ট্যাক্সিতে উঠিয়ে দিয়ে আসবো। এখানকার ট্যাক্সিওয়ালারা তো আর ইংলিশ জানে না। পরে দেখা যাবে তুমি গির্জার কথা বলেছো আর ওরা তোমাকে নাইটক্লাবে নিয়ে গেছে।” মনিকা: “হিহিহিহিহি। চলো তবে। ” আসলে আমি চাইছিলাম মনিকাকে কুয়োটা পার করে দিয়ে আসতে। সেদিনের মতো যদি কোন সমস্যা হয় তবে ওকে যেনো আমি সাহায্য করতে পারি। মনিকাও রাজি হয়ে গেছে। ভালই হলো। নাস্তা সেরে কোন সমস্যা ছাড়াই ওকে কটেজের বাহিরে নিয়ে গিয়ে একটা ট্যাক্সিতে তুলে দিয়ে আসলাম। কিন্তু কটেজের ভেতরে ফের একা একা ঢুকতে সাহস হলো না। মারগারেট তো এটাই চেয়েছিলো। কটেজে আমায় একা পেয়ে অক্ষত রেখে খুন করবে। মেরুদণ্ড বেয়ে ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেলো। ভয়ে আমার জমে যাওয়ার দশা। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো! আরে! কটেজটা তো এখন ফাঁকাই আছে। এই সুযোগে আদিনকে নিয়ে আসলে কেমন হয়! হয়তো ও ভুত তাড়াতে আবারো ব্যার্থ হবে, কিন্তু ওর উপস্থিতিতে আমার ভয়টা কিছুটা হলেও কমবে। খানিকক্ষণ ইতস্তত করে শেষমেশ আদিনকে ফোন দিলাম,,,,,, আমি: “হ্যালো আদিন। তুমি কি এখন আমার কটেজে আসতে পারবা?” আদিন: “তোমার যদি কোন আপত্তি না থাকে তো এক্ষুনি রওনা দিচ্ছি। ” আমি: “ঠিক আছে। তুমি চলে আসো তাড়াতাড়ি। আমি অপেক্ষায় আছি।” আধাঘন্টার মধ্যেই ওর ফোর্ডটা চলে এলো। কিন্তু এবার আর ও গাড়িটা সোজা গ্যারেজে রেখে এলো। কুয়োর পাশ দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো দুঃস্বাহস দেখালো না। তবে আমরা কুয়োর পাশ দিয়ে হেটেই কটেজে ঢুকলাম। ও একটা বিশাল লাগেজ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। ভেতরে কি আছে তা দেখার জন্যে আমি প্রচন্ড কৌতুহল অনুভব করলাম। ও কটেজের সদর দরজার সামনে দাড়িয়ে ল্যাগেজটা খুললো। ল্যাগেজটা যত্তসব উৎকট রিচুয়াল জিনিসপত্রে ঠাসা। ল্যাগেজটা থেকে ও একটা পুরাতন চামড়ার বই, কতগুলি ছোট মাটির ঘটি, এক প্যাকেট মোমবাতি বের করলো। সদর দরজা খুলাই ছিলো। ও দরজা গলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। আমিও ঢুকছিলাম পেছন পেছন। কিন্তু ও আমায় মানা করে দিলো। “সাঞ্জে। আমি একটু সময় তোমার কটেজে একা থাকপ্তে চাই। যদি তুমি কিছু মনে না করো। ” আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম “ঠিক আছে।” কিন্তু মনটা খচখচ করতে লাগলো। বুঝতে পারছি না আমার অনুপস্থিতিতে ও ঠিক কি করতে চাইছে আমার কটেজে। আমি বাহিরে একা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে লাগলাম। অপেক্ষার প্রহর সত্যিই খুব বিরক্তিকর। হঠাৎ মনে হতে লাগলো আদিনকে আমার কটেজে এভাবে একা ঢুকতে দেওয়া উচিৎ হয় নি। মাত্র কদিন হলো আমি ওকে চিনি। ওর সম্পর্কে আমার তেমন ভালো ধারনাও নেই। মাস কয়েক আগেও ও একজন ভবঘুরে ছিলো। নানান উল্টোপাল্টা কাজে ওর জুড়ি মেলা ভার। আমার কটেজে ও যেকোন সময় লঙ্কাকাণ্ড বাধিয়ে দিতে পারে। এসব যখন ভাবছিলাম তখনই ভেতর থেকে আদিনের ডাক শুনতে পেলাম। “সাঞ্জে, দয়া করে কি একটু ভেতরে আসবে? ” ইতস্তত পদক্ষেপে ভেতরে ঢুকলাম। কিন্তু আদিন কোথায় গেলো! ওকে তো দেখছি না! আমি হাক ছাড়লাম, “আদিন কোথায় তুমি?” আদিন: “ড্রয়িং রুমে বসে আছি। তাড়াতাড়ি আসো তো।” হঠাৎ কি মনে হতেই আমি আমার ফোনটা বের করে ভিডিও তুলতে লাগলাম। ভাল খারাপ যাই ঘটুক না কেন আমি এর ভিডিও ডুকুমেন্ট রাখতে আগ্রহী। আমি ড্রয়িংরুমে যেয়ে দেখি আদিন সোফায় বসে আছে। আমি ড্রয়িং রুমে ঢুকতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু দরজার সামনেই ও আমায় হাত তুলে ইশারা করে থামিয়ে দেয়। ড্রয়িংরুমের ভেতরটায় ভাল করে তাকাতে যেয়ে দেখি মেঝেতে, মাটির ঘটির মধ্যে সামান্য পানি রেখে তার উপর একটা মোমবাতি বসানো রয়েছে। ঘটির মধ্যে পানির লেভেল এমন ভাবে রয়েছে যেনো মোমবাতির তিন ভাগের দুভাগ পানিতে ঢুবে থাকে, কিন্তু বাকী একভাগ জ্বলন্ত অংশ সহ পানির উপরে থাকে। এবার আদিন আমার সামনে মোমবাতিটা জ্বালিয়ে দিলো। মোমবাতিটা ঠায় দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবেই জ্বলতে লাগলো। তারপর ও আমাকে ইশারায় ভেতরে ডাকলো। আমি ভেতরে ঢুকতেই মাটির ঘটিতে রাখা জলে বড় ঢেউ উঠে তা মোমবাতির জ্বলন্ত অংশের উপর দিয়ে বয়ে গেলো। তারপর ঘটিতে একটা ভেজা, নিভে যাওয়া মোমবাতি পড়ে থাকলো। তারপর ও আমায় নিয়ে অন্যকক্ষ গুলিতে ঢুকলো। সবগুলি কক্ষেই ড্রয়িংরুমের মতো মাটির ঘটিতে মোমবাতি জ্বলছিলো। সেগুলিও আমি ঢুকা মাত্র একই ভাবে নিভে গেলো। তারপর আদিন আমায় নিয়ে বেসমেন্টে ঢুকলো। কিন্তু আমরা সেখানে ঢুকে দেখলাম ওখানকার মোমবাতিটা ইতিমধ্যেই নিভে আছে। তারপর সবশেষে আমরা গেলাম আমার বেডরুমে। সেখানেও বেসমেন্টের দশা। মোমবাতি আগে থেকেই নিভানো! বলা বাহুল্য আমার ভিডিও ক্যামেরা সবই রেকর্ড করছিলো। আমি কিছুই বুঝতে না পেরে দপ করে বিছানায় বসে পড়লাম। হতাশ কন্ঠে বললাম, “এসব কি হচ্ছে আদিন। আমি আর সইতে পারছিনা। আমি কটেজটা বিক্রি করে দেবো ভাবছি।” আদিন বলল, “ভাবো তো, তুমি কটেজটা যার কাছে বিক্রি করবে তারও তো একই হাল হবে। তুমি নিজে যা সইতে পারছো না তা কেনো অন্যের ঘাড়ে চাপাবে? এটা মোটেও ঠিক হবে না।” আমি: “কিন্তু আদিন, আমি এর চেয়ে বেশী আর কি ই বা করতে পারি? ” আদিন: “নিরাশ হয়ো না সাঞ্জে। আমার কাছে এর সব কিছুরই ব্যাখ্যা আছে। তোমার সহায়তা পেলে আমরা এ সমস্যাটা সমাধান করে ফেলতে পারবো।” আমি: “কি ব্যাখ্যা আছে? আর সমাধানটাই বা কি? ” আদিন: “শোন তাহলে। প্রতিটা কক্ষে মোমবাতি জ্বলার মানে হলো এসব কক্ষে কোন প্রেতাত্মার প্রভাব নেই। কিন্তু তুমি প্রবেশ করা মাত্র মোমবাতিগুলি নিভে যেয়ে প্রেতাত্মার প্রভাবের কথা জানান দিয়েছে। ও তোমাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। তুমি মারগারেটের পোষকদেহ হিসেবে কাজ করছো।” আমি: “কিন্তু বেসমেন্ট আর বেডরুমে তো মোমবাতি জ্বলছিলো না। তুমি কিভাবে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিবে? ” আদিন: তোমার আন্দাজ মতো এই বেডরুমেই যেহেতু মারগারেটকে ফ্যাসিতে ঝুলানো হয়েছিলো তাই এখানে তার স্বভাবসুলভ প্রভাবই বিদ্যমান। তাই মোমবাতিটা নিভে গিয়েছিলো। কিন্তু বেসমেন্টের ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। ওটা মারগারেট হতে পারে, কিংবা সেখানে নির্যাতিত অন্য কারো আত্মাও হতে পারে, আবার একটা মামুলি দমকা বাতাসের কারসাজিও হতে পারে। ” আমি: “ঠিক আছে। বুঝলাম। কিন্তু আমি কিভাবে মারগারেটের বাহক হতে মুক্ত হতে পারি? একটা না একটা উপায় তো নিশ্চয় আছে?” আদিন: “দেখো সাঞ্জে। রেস্টুরেন্টে তুমি যখন আমাকে মারতে গিয়েছিলে তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম যে তুমি একটা বাহিক মাত্র। আসলে মারগারেট দৃষ্টির অলখ্যে সকল কলকাঠি নাড়ছে। তাই আজ আসার সময় আমি একটা ব্যবস্থা ঠিক করেই এসেছি।” আমি অধীর আগ্রহে জিজ্ঞাস করলাম, “তাই আদিন! কি ওটা? ” আদিন: দেখো সাঞ্জে, আমাদের দেহটা অনেকটা কম্পিউটারের হার্ডওয়ারের মতো। উপযোক্ত পদ্ধতিতে যেমন কম্পিউটারের একটা অপারেটংসিস্টেম পাল্টে অন্য অপারেটিংসিস্টেম ইন্সটল দেওয়া যায় তেমনি উপযুক্ত পদ্ধতিতে আমাদের দেহ হতে একটা আত্মা বের করে অরেকটা আত্মা ভরে দেওয়া যায়। এগুলি উচ্চতর কালো জাদুবিদ্যার বিষয়।” আমি: ” হা। মারগারেটও তাই চায়। আমার দেহটাকে দখল করে নিতে,,,,” বলতে বলতে আমার গলাটা ধরে এলো। সত্যিই আমার দেহটাকে আমি অত্যন্ত ভালবাসি। এটাই আমার জীবন্তজগতের অস্তিত্ব। এটা অন্য একজন ব্যবহার করবে তা ভাবতেও আমার কষ্ট হচ্ছে। আদিন আমায় সান্তনা দিয়ে বলল, “ভেবো না সাঞ্জে। তুমি যেমন আছো তেমনই থাকবে। তবে আমার একটা প্লান আছে। এটা কাজ করতেও পারে আবার নাও করতে পারে।” আমি: “কি সেটা? ” আদিন: “আংটি পড়া অবস্থায় তোমাকে অক্ষত দেহে মেরে ফেলবো। এতে তোমার আত্মা পরপারে যাওয়ার বদলে এখানেই আটকে পড়বে। অপরদিকে মারগারেটের জন্যে তো।আর দেহে প্রবেশ করা সহজতর হবে। তারপর ও তোমার দেহে প্রবেশ করা মাত্র আমি আংটিটা খুলে নেবো। তারপর ঠিক আগের মতোই অক্ষত রেখে ওকেও মেরে ফেলবো। এতে ওর আত্মাটা পরপারে চলে যেতে বাধ্য হবে। তারপর তোমার দেহতে তোমার আত্মাকে ফেরৎ আনবো! ” আমি: “এই প্লানটা ভুলে যাও আদিন। তুমি কখনই আমায় মারতে পারবে না। এটা একটা পাগলের প্লান। তোমার আগের প্রচেষ্টার মতোই এটাও পন্ড হবে। মাঝখান থেকে আমার প্রাণটা গচ্চা যাবে।” আদিন: “এর থেকে ভালো কোন প্লান কি তোমার মাথায় আছে? প্লীজ। তুমি বিশ্বাস করো আমার প্লানটা কাজ করবে। এই যে আমার হাতে চামড়ার বইটা দেখছো এতে মৃতদেহে আত্মা প্রবেশ করানোর মন্ত্র লেখা আছে। ওটা পড়লেই তুমি তোমার দেহে ফেরত আসবে। আর এই যে দেখ পকেটে করে সায়ানাইড ট্যাবলেট নিয়ে এসেছি। একটা খেয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়। আমি খুব শীঘ্রই তোমায় জাগিয়ে তুলবো।” আমি: “না না আদিন। আমি তোমার মতো একটা মাথা মোটা পাগল নই। আমি তোমার মত একটা পাগলের কথায় সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করছি না। আমি আমার দেহ, আমার পরিবার, আমার জীবনকে প্রচন্ড ভালবাসি। আমি তোমার মতো একটা ছন্নছাড়া ভবঘুরে নই। ” আদিন একটা ট্যাবলেট সামনে বাগিয়ে ধরে এক পা আগে বাড়লো। আমি সভয়ে পিছিয়ে গেলাম। বুঝতে পারছি খেতে না চাইলে ও জোর করে ট্যাবলেটটা মুখে পুরে দেবে। ক্যামারাটা তখনো ওর দিকেই ফোকাস করা ছিলো। ও এগিয়ে আসতে আসতে ঘরের মাঝখানে ঠিক ঝাড়বাতিটার নিচে চলে আসলো। ঠিক যেখানে মারগারেটকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়। অমনি ভারী ঝাড়বাতিটা সশব্দে ওর মাথায় আছড়ে পড়লো। আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম, না আ আ আ আ আ »চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now