বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-৬১,৬২,৬৩,৬৪,৬৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-৬১,৬২,৬৩,৬৪,৬৫ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) প্রথম অধ্যায় নরবলিদান ও আত্মহনন এ ঈশ্বরের জন্যে আত্ম উৎসর্গ, ও বলিদান প্রথার বিশদ বর্ণনা দেওয়া আছে। অধ্যায়ের এক জায়গায় নিজ শিশু বলিদানকে সবচেয়ে মহিমান্বিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘৃণায় মুখ বাঁকালাম। এই নরবলি প্রায় সব ধর্মেই রয়েছে। মায়া সভ্যতায় সনাতন ধর্মে সূর্যগ্রহণের দিন সূর্যদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নরবলি দেওয়া হতো। প্রাচীন রেড ইন্ডিয়ানরা আমেরিকায় বহিরাগত নাবিকদের বলি দিয়ে তাদের মাংস খেত এই ঈশ্বরের সন্তুষ্টির জন্যেই। এখনো আধুনিক ভারতে প্রায় প্রতি বছরই কতিপয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী তাদের কন্যা সন্তানকে ঈশ্বরের নামে বলিদান করেন আরেকটা পুত্র সন্তানের আশায়। খৃষ্ট ধর্মের কথা আর নাই বললাম। খৃষ্ট ধর্মের জন্মই হয়েছে ক্রুশে ঝুলিয়ে বলিদানের মাধ্যমে। তাই এ ধর্মের বলিদানের কথা কখনোই বলে শেষ করা যাবে না। প্রাচীন রোমে বড়দিনে যীশুর ক্রুশ বিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে মহিমান্বিত করতে হাজার হাজার হাবশী দাসকে ক্রুশে ঝুলিয়ে বলি দেওয়া হতো। উপলব্ধি করলাম ঈশ্বরের এই একনিষ্ঠ পূজারীরাই ঈশ্বরকে নরখাদক ও শিশুঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর চেয়ে তো নাস্তিকতাই ভালো। নাস্তিকরা ঈশ্বরকে বিশ্বাসই করে না তাই তাদের দ্বারা ঈশ্বরের অপমানিত হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। তাদের মতে যার অস্তিত্বই নেই তাকে কিভাবে অপমান করবে? ঈশ্বরের অপমান করে অতি ধার্মিকেরাই, নানাবিধ উৎকট ধর্মীয় আচার ব্যবস্থার মাধ্যমে। দ্বিতীয় অধ্যায় আত্মাবাদ আত্মাবশীকরণ এ পৃথিবীর প্রাণী, মানুষ গাছপালার আত্মার একটা জামিতিক হিসাব দেওয়া আছে। এখানে বলা হয়েছে যদি জীব জন্তু ও মানুষের মোট জীবন্ত আত্মার পরিমান, গাছপালার মোট জীবন্ত আত্মার পরিমানের চেয়ে বেশী হয়ে যায় তবে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। এই উক্তিটি অত্যন্ত বিজ্ঞানভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য মনে হলো। যদিও আত্মিক দিক থেকে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তবুও লেখিকা সেই অন্ধকার আচ্ছন্ন মধ্যযুগেই গাছপালার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তার এ উপলব্ধি নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবিদার। তাছাড়া এই অধ্যায়ে অশুভ আত্মার ক্ষতি থেকে বাঁচতে কতগুলি মন্ত্র দেওয়া হয়েছে। ছোট দেখে একটা মন্ত্র আমি মুখস্থ করে নিলাম। বলা তো যায় না। কাজে লাগলেও লাগতে পারে। তৃতীয় অধ্যায় মৃত্যুপুরী ও প্রত্যাবর্তন এ মৃত্যুর পর প্রাকৃতিক নিয়মে আত্মার পরপারে যাত্রা প্রতিহত করার ৭ টি পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো আমার মধ্যমায় পরা আংটি টা। এই অধ্যায়টা পড়ে এই আংটিটার রহস্য আমার কাছে সম্পূর্ণরূপে উদঘাটিত হলো। আমি এতো দিন প্রিস্টকেই আংটির মালিক ভেবে ভুল করে এসেছিলাম। কিন্তু আমার আরো আগে বুঝা ঊচিৎ ছিলো যে ওই মাথামোটা সেক্স পাগল প্রিস্টের পক্ষে এমন চমৎকারি আংটি বানানো অসম্ভব। এই আংটিটা বানিয়েছিলো এই বুদ্ধিমতি মহিলাটাই। এই আংটিটা প্রিস্টের যৌনদাসী সংগ্রহের জন্যে বানানো হয়নি। ম্যারগারেট নিজের আত্মাকে সংরক্ষণ করতেই এই আংটিটা বানিয়েছিলো। প্রিস্ট হয়তো পরে কোনভাবে ওটা দখল করে নেয়। আংটিটা মধ্যমা থেকে খুলে চোখের সামনে ধরলাম। আংটির মাঝখানের ঐ উজ্জ্বল লাল পাথরটা দিনের আলোয় ঝিলিক দিয়ে উঠলো! কি অসাধারণ এই আংটির ক্ষমতা। কিন্তু আমার মধ্যমায় আংটির সাদা দাগ পড়ে গেছে। ব্যাপারটা আমার ভালো লাগলো না। আমার হাতে কেবল আমার বাগদত্তার আংটির দাগ থাকবে, অন্য কারো নয়। মারগারেটের আংটিটা তাই মধ্যমার বদলে কনিষ্ঠায় পড়তে গেলাম। কি আশ্চর্য! ওটা কনিষ্ঠায়ও একদম মাপ মতো আটোসাটো হয়ে বসলো। কিন্তু যে আংটিটা মধ্যমায় আটো সাটো হয়ে বসে সেটার তো কনিষ্ঠায় ঢিলা হওয়ার কথা! কনিষ্ঠা থেকে আংটিটা খুলে এবার বুড়ো আঙুলে পড়লাম। এবারো মাপে মাপে বসলো, একটু টাইট ও না আবার একটু ঢিলাও না। হঠাৎ মনে পড়লো বেসমেন্টের বন্দিশালায় আলেসের দেখানো সেই স্বপ্নের কথা। সেরাতে আমি আলেসের স্থলে ফাঁসিতে ঝুলে মারা গিয়েছিলাম। আমার দেহটাকে কুয়োয় চুবিয়ে লাইব্রেরীতে শুদ্ধ করে প্রিস্টের ভোগের জন্যে এনে দেওয়া হয়েছিলো। আমার অশরীরীর সামনেই ও আমার দেহকে ভোগ করতে শুরু করেছিলো। স্পষ্ট মনে আছে ওর বিশাল দেহের নীচে আমার দেহটা একদম ঢাকা পড়ে গিয়েছিলো। ও একবার আমার মৃতদেহের হাতটা ওর হাতের মুঠোয় ধরেছিলো। চোখ বন্ধ করে সেই দৃশ্যটা মনে করার চেষ্টা করলাম। হা !! মনে পড়েছে। ওর বিশাল হাতের মুঠোয় আমার হাতটা খাঁচায় ঢুকানো টিয়াপাখির মতোই আটকে যায়! ওর হাতটা আমার হাতের থেকে দুই তিন গুন বড় ছিলো। ওর বিশাল হাতে বসানো সেই বড় পরিধির আংটিটাই যখন আমার হাতে উঠে আসে তখন ওটা তার আকৃতি বদলে ছোট হয়ে যায়! এতে খানিকের জন্যে আমার মনে হয় যে, প্রিস্ট আর আমার হাতের আকৃতি আঙুলের আকৃতি বুঝি সমান। কিন্তু হাত দুটো কখনোই সমান ছিলো না। এই আংটির এক অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটা যার হাতেই যায় তার হাতের আকৃতিই ধারণ করে! অসাধারণ! বইটা পড়ে জানতে পারলাম এই আংটিটা মৃত্যুর সময় যদি কেউ পড়ে থাকে তবে তার আত্মাটা পরপারে যাত্রা না করে ভুখন্ডে মুক্ত হয়ে ঘুরবে। তবে কপালে উত্তপ্ত আংটির ছ্যাকা দেওয়া থাকলে, মৃত্যুর সময় ঐ আংটিটা হাতে পড়ানো না থাকলেও আত্মা পরপারে পাড়ি দিবে না, যদি না সেই আত্মা পাড়ি দিতে একান্ত উদগ্রীব হয়।এবার মার্গারেটের প্রেতের কপালের সেই পোড়া দাগটার রহস্য খুলে গেলো। আমি যখন আলেস বা মার্টিনীর আত্মাকে দেখেছিলাম তখন তাদের কপালে আংটির ক্ষত চিহ্নটা ছিলো না। কিন্তু গাড়ির আয়নায় বা স্বপ্নে যতবারই মারগারেট আমায় দেখা দিয়েছে ততবারই ওর আত্মার কপালে আংটির ক্ষত চিহ্নটা সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিলো। এর কারণ হলো অন্য মেয়েগুলিকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রিস্টের নির্দেশে জোর করে কপালে ছ্যাকা দেওয়া হয়। কিন্তু মারগারেট নিজেই নিজের কপালে আংটির ছ্যাকা দেয়। বুদ্ধিমান মহিলাটা হয়তো কোনক্রমে টের পেয়ে গিয়েছিলো যে প্রিস্ট ওর কাছ থেকে আংটিটা ছিনিয়ে নিতে চলেছে। তাই ওর এই অদ্ভুত কান্ড। উত্তপ্ত আংটি দিয়ে নিজের কপাল পুড়িয়ে সে তার আত্মার পরপারে যাত্রার পথ রুদ্ধ করে। সত্যি মহিলাটার সাহসের তারিফ করতে হয়। কিন্ত পরবর্তীতে প্রিস্ট আংটিটা দখল করে নেয় আর ওকে হত্যা করে।আমি সম্ভবত জেনে ফেলেছি কিভাবে ওকে কিভাবে হত্যা করা হয়। আমি গতরাতে আমার বেডরুমের ঝাড়বাতিটার সাথে ওকে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে দেখেছি। বেসমেন্টে সেরাতে আলেস আমাকে স্বপ্নে পুরো ব্যাপারটা দেখিয়েছিলো। আমার বেডরুমের ঠিক মাঝখানে আজকের ঝাড়বাতিটার স্থলে সেদিন একটা লোহার আংটা টানানো ছিলো। ছাদে ফাঁসিতে ঝুলানোর পর কুয়ো আর লাইব্রেরীতে শুদ্ধিকরণ শেষে আলেসের দেহটা সেই আংটা উল্টো খানিকক্ষণ ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু মারগারেটের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। আলেসের মতো ম্যারগারেটের বিচার জনসম্মুখে করা হয়নি। খুব সম্ভবত মারগারেট গীর্জার একজন সেবিকা ছিলো। গীর্জার সেবিকাকে যদি জনসম্মুখে ডাকিনীবিদ্যা চর্চার জন্যে জনসম্মুখে বিচার করা হতো তবে তা গির্জার মান সম্মানকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতো। তাই বিচারের বদলে প্রিস্ট ওকে চার দেয়ালের ভেতরে সেই আংটার সাথেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু বুদ্ধিমতী মারগারেট ব্যাপারটা অনুমান করতে পেরে তার আগেই কপালে আংটির ছ্যাকা দিয়ে রাখে। ওর বিশ্বাস ছিলো আটকে থাকা আত্মাটাকে হয়তো কোন একদিন অন্য কারো দেহে ঢুকাতে পারবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। ওর প্রিস্ট ওর আংটিটা ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয় নি, সে ওটাকে তার পারলৌকিক যৌনদাসী সংগ্রহের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার শুরু করে। আর ওর লাশটা কুয়োতে ফেলে দেয়। তাইতো বদ্ধ কুয়োর জলের উপর ওর এত নিয়ন্ত্রণ। প্রিস্ট প্রথমে অসহায় মেয়েগুলির জীবদ্দশায় কপালে সেই আংটি দিয়ে ছ্যাকা দিতো। তারপর তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরে ফেলতো। অবশেষে কতগুলি বশীকরণ মন্ত্র পড়তে পড়তে তাদের মৃতদেহের সাথে মিলিত হতো। এভাবেই সে সারাটি জীবন ধরে অশরীরী যৌনদাসী সংগ্রহ করে গেছে। বার্ধক্যে মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে এসে প্রিস্ট নিজ দেহটাকে মমি করে রাখার জন্যে তার অনুসারীদের অসিয়ত করে যায়। কারণ সেও মারগারেটের মতোই প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে প্রচন্ড আশাবাদী ছিলো। প্রিস্টের মৃত্যুর পর তার অনুসারীরা তার কথা মতো তার দেহটাকে পাইনের আঠায় চুবিয়ে মমি বানিয়ে রাখে। কিন্তু ওরা মিশরীয় মমির মতো দেহের আভ্যন্তরিণ নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেয় নি। প্রকৃতপক্ষে এটা কোন সাধারণ মমি ছিলো না। ওটা একটা আস্ত মমি ছিলো। অন্য মমি গুলির মতো এর আভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও নাড়িভুঁড়ি কেটে বাদ দেওয়া হয়নি। ব্যাপারটা আমার সেদিনই বুঝা উচিৎ ছিলো। আমি যখন ওর খোলা মুখে প্রস্রাব করি তখন তার সবটুকুই ওর খাদ্যনালী হয়ে পাকস্থালীতে গিয়ে পৌছে। কিন্তু মিশরীয় মমির মতো যদি প্রিস্টের আভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বের করে নিয়ে গলাটা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হতো তবে সবটুকু প্রস্রাবই মুখ ভরে গড়িয়ে পড়তো। ওরা আস্ত দেহ মমিকরণের এক অসাধারণ পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলেছিলো যা ফারাওদের থেকেও আরো উন্নততর। তারপর প্রিস্ট সেই মমিদেহে ফিরে আসার প্রচেষ্টা চালায়। ও সম্ভবত সফল ও হয়। কিন্তু এতে ওর অনুসারীরা প্রচন্ড ভয় পেয়ে যায়। ভয়ার্ত অনুসারীরা তাকে ধরে লোহার কফিনে বন্দি করে, তাতে তালা লাগিয়ে আংটি সহই কবরে দাফন করে দেয়। ফলে অন্য মেয়েগুলির আত্মার মতোই মারগারেটও আংটিটার সাথে কফিনে আটকা পড়ে। বদ্ধ কফিনে প্রিস্ট আবারো দম আটকে মারা যায়। কিন্তু মৃত্যুর সময় আংটি পরা থাকায় ওর আত্মাটা পরপারে যাওয়া থেকে রেহাই পায়। তার বদলে ওটা কফিনে আটকে পড়ে অন্য মেয়ে গুলির আত্মার উপর নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। সহস্র বছর পর আমি যখন সেই কফিনটা খুলে ফেলি তখন বাতাসের সংস্পর্শে প্রিস্টের দেহটা পুনরায় ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠে। প্রিস্টের আত্মাটা আংটিটাকে অবলম্বন করে আবার ওর দেহে প্রবেশ করে। দেহ ফিরে পেতেই ওর আদিম ক্ষুদাটা উথলে উঠে। ও আমার দিকে হাত বাড়ায়। ও আমায় ভোগ করতে চেয়েছিলো। তবে জীবন্ত নয়, মৃত। জীবনে অসংখ্য মৃতদেহকে ভোগ করতে করতে মৃতদেহ ভোগ করা ওর কাছে একটা নেশা হয়ে উঠেছিলো। সে জীবন্ত নারীদের চেয়ে মৃত নারীকেই ভোগ করে বেশী তৃপ্ত হতো। কারণ মৃতদেহ লাগামহীন ভোগে বাধা দেয় না। তাই সেরাতে কফিনের ভেতর সে প্রথমেই আমায় ভোগের বদলে মারতে উদ্ধত হয়। মৃতদেহের প্রতি এই বিকৃত আসক্তিটা কিছু মানুষের মধ্যে আগেও ছিলো, এখনো আছে। মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের ভাষায় একে নেক্রোফিলিয়া বলে। অত্যাধুনিক মেডিক্যালগুলির অন্ধকার মর্গের ভেতর ধোপাদুরস্তর পোশাকধারী সাড়ে তিন হাত লম্বা ডিগ্রীওয়ালা অনেক ডাক্তারকেই পাওয়া যাবে যারা শুধু যৌনবিনোদনের জন্যেই মর্গে রাত কাটায়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ২০০৭ সালের প্রতিবেদন অনুসারে প্রতি ১২ জন মর্টিশিয়ান ও ফরেন্সিক ডাক্তারের মধ্যে অন্তত একজন নেক্রোফিলিয়ায় আক্রান্ত। যুগ বদলেছে, নতুন প্রযুক্তির পৃথিবী উদ্ভাসিত হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মনের কালিমা এখনো কমেনি। আজো একটু ভালো করে খুঁজলেই আমাদের বর্তমান সমাজে প্রিস্টের মতো আরো অনেক নিকৃষ্ট মানসিকতার লোককেই পাওয়া যাবে। সমাজে এদের সংখ্যাই বেশী। ভালো মানুষের সংখ্যাই বরং এখন হাতে গোনা। এই মুষ্ঠিমেয় ভালোরা নিঃস্বার্থভাবে একাগ্রচিত্তে অসংখ্য খারাপের সাথে লড়ে যাচ্ছে বলেই মানব সমাজ এখনো টিকে আছে। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম ভালো আর খারাপের এ অসম লড়াইয়ে সাঞ্জে সর্বদাই ভালোদের পক্ষে থাকবে। ভালোর পক্ষে থাকবো, সর্বস্ব দিয়ে হলেও ভালো কাজে সাহায্য করে যাবো। ঠিক যেমন সে রাতে মার্টিনী আমায় সাহায্য করেছিলো। ও ঈঙ্গিতে আমায় বুঝিয়ে দিয়েছিলো ঠিক কি করতে হবে। তারপর আর যায় কোথা? দিলাম প্রিস্টকে ঘেচাং করে। প্রিস্টের হাত থেকে আংটিটা কেটে পড়তেই মেয়েগুলির আত্মা মুক্ত হয়ে যায়। তারপর মুক্ত আত্মাগুলি একসাথে পরপারে পাড়ি জমায়। কিন্তু একজন থেকে যায়। আংটির মায়ায় ও ছুটতে থাকে আমার পেছন পেছন। মারগারেট। এই বিষ্ময়কর আংটির নির্মাতা। আংটির বাধন থেকে মুক্ত হয়ে অন্য মেয়েগুলির আত্মা যখন পরপারে পাড়ি দেয় তখন মারগারেট সবার পেছনে পড়ে থাকে। উদ্দেশ্য একটাই। পুনরায় জীবন্ত জগতে ফিরে আসা। তবে ও প্রিস্টের মতো পুনরুত্থানের জন্য নিজ দেহকে মমি করে রাখে নি। রাখার সুযোগটাও ছিলো। ওর দেহটা তার অজান্তেই কুয়োর নীচে পচে গিয়েছিলো। কুয়োর সেই পঁচা দুর্গন্ধের কথা মনে পড়তেই গা গুলিয়ে উঠলো। নিজের দেহে ফেরার সুযোগটা হারিয়েও ভেঙ্গে পড়েনি। জীবদ্দশায় ও একজন উচ্চমানের ডাইনী ছিলো। মরে গিয়েও ওর সে ক্ষমতা বিন্দুমাত্র কমেনি। ও সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য কারো দেহে ফিরে আসতে চাইছিলো। আমার দেহে। ওর আংটিটা পড়ে থাকার কারণে ও আমার পিছু পিছু চলতে থাকে, একটা অদৃশ্য ছায়ার মতো। বইটাতে আংটির সাহায্যে আটকে পড়া আত্মার পুনরুত্থানের জন্য কতগুলি শর্ত দেওয়া আছে। মারগারেট শুরু থেকেই এসব শর্ত মেনে আসছিলো। প্রথম শর্ত হলো একটা মৃতদেহ যাতে কোন বাহ্যিক বা আভ্যন্তরিণ ক্ষত থাকবে না। ২য় শর্ত, যে আংটি পরিহিত অবস্থায় আত্মাটা মারা গিয়েছিলো সেই আংটিটা মৃতদেহের হাতে পরানো থাকবে। এতোক্ষণ আমি শুধু মারগারেটের পরিচয় জানতে পেরেছিলাম। কিন্তু ওর উদ্ভট আচরণের কারণ আমার কাছে অজানাই থেকে গিয়েছিলো। কিন্তু এই শর্ত দুটো ওর আচরণের রহস্য আমার কাছে উন্মুক্ত করে দিলো। ঊভয় শর্তানুযায়ী আমিই হলাম ওর উপযুক্ত টার্গেট। আমার একটা নিরোগ দেহ আছে, একই সাথে আংটিটাও মধ্যমায় পরানো রয়েছে। তাই ও আমাকেই বাছাই করেছিলো। ও আমার দেহে ফিরে আসতে চাইছে। সেই কবরস্থান থেকেই মারগারেট আমাকে অনুসরণ করছিলো। প্রথম দিকে ও আমায় সাহায্য করেছিলো কেবল প্রথম শর্ত পুরণের জন্যেই। সেদিন গির্জা থেকে ফিরার পথে ওরই ইঙ্গিতে ইগনিশন ছাড়াই গাড়িটা স্টার্ট নিয়েছিলো। গাড়িটা তখন স্টার্ট না নিলে আমি হয়তো সেই ছুরি বাগিয়ে ধরা টিনএজ মোটরসাইকেল আরোহীর হাতে ধরা পড়তাম। এতে আমার ছুরিকাহত হওয়া সহ ভয়ানক আভ্যন্তরীণ আঘাতের সম্ভাবনা ছিলো যা আমার দেহকে মারগারেটের প্রত্যাবর্তণের অনুপযোগী করে তুলতো। তারপর আমি ড্রাইভ করতে করতে ঘুমিয়ে গেলে ও নিজে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমায় কটেজে পৌছে দেয়। এতে আমার দেহটা দুর্ঘটনাজনিত আঘাত থেকে রক্ষা পায় ও তার ব্যবহার উপযোগী থাকে। এজন্যেই আমি ওকে গাড়ির ড্যাশবোর্ড মিররে দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু কটেজে ফিরে ও আমায় মেরে ফেলতে চাইছিলো। এমন পদ্ধতিতে যাতে আমার দেহে আঘাতের পরিমান সর্বনিম্ন হয়। কিন্তু সেদিন সকালে মনিকা এসে তার সেই পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেয়। মনিকার আগমনে মারগারেট খানিকের জন্যে তার প্লান স্থগিত রাখে। ও আমাকে কটেজে একা রেখে মারতে চাইছিলো। কিন্তু মনিকা তার প্রধান বাধা হয়ে উঠে। ও আমায় মারতে চেষ্টা করলে মনিকা হয়তো আমার জন্যে সম্ভাব্য সাহায্য নিয়ে আসতে পারে, এ ধারণা থেকেই ও মনিকাকে ভয় দেখানো শুরু করে। যেনো মনিকা কটেজ ছেড়ে চলে যাও। প্রথম দিন ওকে লাইব্রেরীতে আটকে ফেলাটা একটা সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিলো। কিন্তু আমি মনিকাকে লাইব্রেরীর দরজা সম্পর্কে মিথ্যা বলে আশ্বস্ত করায় ও থেকে যায়। এভাবেই মনিকা এই বিপদে জড়িয়ে পড়ে। তবে একটা ব্যাপার আমার কাছে এখনো পরিষ্কার নয়। এ ঘটনার পর মনিকা সেদিন অফিসে না যেয়ে কটেজে একা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আমিও ওকে ফেলে কটেজে একা ফেলে রেখে অফিসে চলে যাই। স্বভাবতই মারগারেট ও চলে আসে আমার সাথে। কিন্তু আমি অফিসে থাকতেই মিনকা আমায় ফোন দিয়ে দ্রুত ফিরতে অনুরুধ করেছিলো। কটেজে নাকি খুব সমস্যা হচ্ছে। মারগারেট আমার সাথে সাথেই চলছিলো। আমি অফিসে হলে সে ও অফিসেই থাকার কথা। অন্যদিকে আলেসও আংটি থেকে মুক্ত হয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। তবে আমার ও মারগারেটের অবর্তমানে কে সেদিন কটেজে সমস্যা করছিলো? কে মনিকাকে ভয় দেখিয়েছিলো? তবে কি কটেজে তৃতীয় কোন এক অশরীরীর আবির্ভাব হয়েছিলো? কিন্তু কে এই তৃতীয় জন? যাহোক। সে হিসাব পরে মিলানো যাবে। তারপর স্টার আমাকে অফিস থেকে গ্রেফতার করে তাদের সেইফ হাউসে নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একজন স্টার আমাকে মৃত্যুদণ্ডের ভয় দেখিয়েছিলো। মারগারেট ওটাকে সত্যি ভেবে নেয়। ও ভেবেছিলো ওরা সাক্ষ না দিলে ওরা হয়তো আমায় সত্যি সত্যিই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবে। এতে আমার ঘাড় ভেঙ্গে যেয়ে দেহটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তাই ইন্টারোগেশন রুমে আমি ঘুমিয়ে পড়লে সে আমার আংটি পরা হাতে নিজের প্রভাব বিস্তার করে, আমার অজান্তেই সাক্ষ্য লিখে দেয়। বুধবার সন্ধায় গির্জার ছাদে আমি ঘুমিয়ে পড়লেও মারগারেট তো আর ঘুমায় নি। প্রিস্টের কবরের মধ্য থেকে সে গির্জার পাশের বিল্ডিং এ ঢুকা আততায়ীকে দেখতে পেয়েছিলো। ও সেই ঘটনার সরল সাক্ষ্য স্টারদের লিখে দেয়। ফলে স্টাররা সন্তুষ্ট হয়ে আমাকে ছেড়ে দেয় ও আমি কটেজে ফিরে আসি। মারগারেটও আমার সাথেই ফিরে আসে। ইতিমধ্যেই মনিকা হয়তো কৌতুহল বশত লাইব্রেরীতে ফের ঢুকে পড়ে। সেখানে কাকতালীয়ভাবে সে মারগারেটের বইটা খুজে পায় ও পড়তে শুরু করে। কটেজে ফিরতেই মারগারেট ব্যাপারটা টের পেয়ে যায়। বইটা তার দুরভিসন্ধিকে মনিকার কাছে উন্মোচন করে দিতে পারে ভেবে মারগারেট ওকে বইটা পড়তে দিতে চায় নি। আমি যখন কটেজের বিভিন্ন কক্ষে মনিকার খোজে তল্লাসি চালাচ্ছিলাম ও তখন লাইব্রেরীতে মনিকা কে ভয় দেখায়। ভয় পেয়ে মনিকা অজ্ঞান হয়ে যায় ও তার জ্বর চলে আসে। কিন্তু তারপরেও মনিকা কটেজ ছেড়ে চলে যাচ্ছে না দেখে মারগারেট বাধ্য হয়েই ওর ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নেয়। আলেসের অশরীরীর যেমন সর্বউচ্চ প্রভাবযুক্ত স্থান ছিলো বেসমেন্টের বন্দিশালা, তেমনি মারগারেটের অশরীরীর উচ্চ প্রভাবযুক্ত স্থান হলো কুয়োর ভেতর আর তার চারপাশে। শুক্রবার সকালে আমি আর মনিকা অফিসে যাওয়ার পথে কুয়োর কাছাকাছি হতেই মারগারেট মনিকার উপর বান মারে। ও হয়তো চাইছিলো মনিকাকে চিরতরে শেষ করে দিতে। কিন্তু আমি মনিকাকে নিয়ে ওর প্রভাবযুক্ত অঞ্চল থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে আসায় ও সেদিন বেঁচে যায়। তবে ওর সামান্য রক্তবমি হয়। এ ঘটনার পর মারগারেট আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ও মনিকার উপস্থিতিতেই আমাকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার অফিস থেকে ফিরে আবার যখন বিদ্যুতের কার্ড আনতে যাচ্ছিলাম, মার্গারেট তার প্রথম পদক্ষেপ উঠায়। ও গাড়িটাকে কুয়োয় ফেলে আমাকে ডুবিয়ে মারতে চেয়েছিলো। বুদ্ধিটা ভালই ছিলো। সীটবেল্ট বাধা থাকায় কুয়োর দেয়ালে গাড়ির ধাক্কায় আমার আভ্যন্তরীণ আঘাতের সম্ভাবনা সর্বনিম্ন ছিলো। আর ডুবে মরলে আমার আভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অক্ষতই থাকতো। তারপর সকালে যে যাদুর সাহায্যে ও মনিকাকে বমি করিয়েছিলো সেই একই পদ্ধতিতে আমায় বমি করিয়ে নিলেই দেহটা ওর ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠতো। কিন্তু আমি পড়ন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে আসলে ওর এত সুন্দর পরিকল্পনাটা ভেস্তে যায়। তারপর আমি টাবে গোসল করতে ঢুকলে ও আবারো আমাকে খুন করার চেষ্টা করে। ও প্রথমে আয়না ভাঙ্গার শব্দ শুনিয়ে আমার মনযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেয়। তারপর টাবে ফেলে খুন করতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু আমি উপস্থিত বুদ্ধি আর দৈহিক শক্তি বলে ট্যাব ফাটিয়ে সেখান থেকে জান্ত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই। কটেজের ভেতর খুব একটা সুবিধা করতে না পেরে মারগারেট আমায় ওর সর্বউচ্চ প্রভাব যুক্ত অঞ্চল তথা কুয়োয় নিয়ে চুবিয়ে মারতে সচেষ্ট হয়। সেরাতে মনিকার খুঁজে আমি যখন কটেজের বাহিরে এসেছিলাম মারগারেট তখন আমার সামনে মনিকার কুয়োয় ঝাপ দেওয়ার মিথ্যা নাটক উপস্থাপন করে। আমিও বোকার মতো কুয়োর কাছে দৌড়ে যাই মনিকাকে বাচাতে। কিন্তু বলাবাহুল্য ওটা মনিকা ছিলো না। মনিকা তখন বাথরুমে ছিলো। মনিকা জানতোও না যে আমি ওকে খুজছি। সে বাথরুম থেকে বেরিয়ে নিশ্চিন্তে পর্ণ দেখতে বসে যায়, যখন আমি ওর চিন্তায় উন্মাদ হয়ে যাচ্ছিলাম। মারগারেট এই সুযোগটা নিতে চাইছিলো। ও আমায় বারবার কুয়োয় ঝাঁপানোর অনুরুধ জানাতে থাকে। কিন্তু ভাষাগত সমস্যার কারণে আমার মনে খটকা লাগে। সুইডিশ মেয়ে মনিকা কখনোই মারগারেটের মতো এতো ভালো পোলিশ বলতে পারতো না। অপরদিকে মারগারেটও মনিকার মতো ইংলিশ বলতে পারতো না। তাই মারগারেট বাধ্য হয়েই তখন আমাকে পোলিশ ভাষায় ডাকছিলো। ওর আশা ছিলো আমি হয়তো ওর ফাঁদে পা দিয়ে বোকার মতো কুয়োয় ঝাপ দিবো। আমি ভাষাগত সমস্যাটা উপেক্ষা করলেও পাগলের মতো কুয়োয় ঝাঁপ দেওয়া থেকে আমি বিরত থাকি। এর পরিবর্তে কটেজে ফিরে আসি দড়ি আর টর্চ আনতে। কিন্তু ভাগ্যক্রমে মনিকাকে কটেজের ভেতরই পেয়ে যাই। ফলে সেদিন আর কুয়োয় ঢুকা হয় নি। তারপর সেরাতে আমি ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ঘুমাতে চলে যাই। আমি ঘুমিয়ে পড়লে মারগারেট আবারো আমার উপর প্রভাব বিস্তার করে। স্বপ্নে আমায় কুয়োয় যেতে ঈঙ্গিত করে। আমিও বোকার মতো ভেবে বসি কুয়োটাই হলো সব রহস্যের মূল চাবিকাঠি। তারপর ঘুম ভাঙলে ও আবারো আমায় খুন করার চেষ্টা করে। তবে এবার গলায় হেডফোনের তার পেঁচিয়ে। কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধির জোরে আমি তখন মরতে মরতে বেঁচে যাই। চুলের কাঁটার উপযুক্ত ব্যবহার আমায় সে রাতে প্রাণে বাঁচিয়ে দেয়। এভাবে সুবিধা করতে না পেরে মারগারেট আমার আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। আজ সকালে উঠেই আমি বাথরুমে যেতে চাইনি। গতরাতে টাবে চুবানি খাওয়ার পর ওখানে যাওয়ার কোন ইচ্ছাই ছিলো না। সাতসকালে আম্মুর সাথে বিয়ে নিয়ে কথা বলতে বলতে আমার মাথা বিগড়ে গিয়েছিলো। রাগের চোটে কোন কিছু না ভেবেই আমি বাথরুমে ঢুকে পড়ি। মারগারেট একটা সাংঘাতিক আবিষ্কার করে বসে। ও বুঝে যায় রাগলে আমি নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। তাই রাগলে ও সহজেই আমার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। আর আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে ওর সামান্য একটা ইশারাতেই আমি অতি সহজে প্রাণ দিয়ে দেবো। তারপর ও আয়নার প্রতিবিম্বে আমার কপালে ক্ষত চিহ্নটা দেখিয়ে আমাকে আরো রাগিয়ে তুলে। রাগে আমি চিৎকার করে উঠি ও আয়নাটা ভেঙে ফেলি। এ পদ্ধতিতে ও প্রথম প্রচেষ্টায়ই সাফল্য পেয়ে যায়। বাথরুমে ভাঙ্গচুরের শব্দ শুনে মনিকা ব্যাপারটা দেখতে আসে। কিন্তু রাগে অন্ধ আমি, ওর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করি। খানিক পরে ওকে কাঁদতে দেখে আমার মধ্যে প্রচন্ড অনুশোচনাবোধ জেগে উঠে। কিন্ত এই অনুশোচনা আমায় শান্ত করার বদলে আমার রাগটাকে আরো উষ্কে দেয়। তারপর মারগারেট আমার রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে আমাকে ওর কুয়োতে নিয়ে যায়। সেই মৃত্যুগুহাতে। সেখানে ও আবারো আমাকে চুবিয়ে মারার চেষ্টা করে। কিন্তু আবারো আমি উপস্থিত বুদ্ধির জোরে, গাড়ির ট্রাশ বেলুনকে অবলম্বন করে আমি ভেসে উঠি। তারপর অনেক কষ্টে কুয়োর দেয়াল খুঁড়ে খুঁড়ে খাজ বানিয়ে তা বেয়ে বেরিয়ে আসি। অনেকক্ষণ কুয়োর ঠান্ডা পানিতে থাকার ফলে আমার হাইপো থারমিয়া ও কনকাশন হয়। কিন্তু হাইপোথারমিয়া হলে এক্সাইটেটরী নিউরোট্রান্সমিটার যেমন আসেটাইল কোলিন, এপিনেপ্রিন ইত্যাদি কাজ করা কমিয়ে দেয়। ফলে সহজে রাগ উঠে না। রাগ না উঠলে ও আমাকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারবে না। তাই মারগারেট আমার হাইপোথারমিয়াকে যাদুবলে মনিকার দেহে স্থানান্তরিত করে। তাই কটেজে ফিরে মনিকাকে আমি ঠান্ডা দেহে লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতে দেখি। তারপর মাথা খানিকটা ঠান্ডা হলে আমি লাইব্রেরীর রহস্যটা ধরতে পারি ও বইটা পড়তে আগ্রহী হই। কিন্তু মারগারেট আমায় বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। ও লাইব্রেরীর দরজা আটকে দেয়। কিন্তু আমার হাতুড়ির ঘা এর সামনে দরজাটা দাড়াতেই পারে না। এক বাড়িতেই শেষ। কে মেরেছে দেখতে হবে না! সাঞ্জে যে হলো হাতুড়ি মাস্টার থরের আম্মা। তারপর বইটা পড়ে সবকিছুই আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়। এখন লাইব্রেরীতে বসে বসে দুটো প্রতিজ্ঞা করলাম। ১, সবর্দা রাগ দমন করে রাখবো। কিছুতেই ওই ডাইনীকে আমার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দেবো না। ২, সব সময় ছুরিটা সাথে রাখবো। কোন ভাবে যদি মারগারেট আমাকে অনিবার্য মৃত্যুর মুখে ফেলে দেয় তো এক টানে নিজের গলাটা কেটে দেবো। প্রয়োজন হলে আমি আত্মহত্যা করবো তবুও আমার দেহে অন্য কাউকে ঢুকতে দেবো না। লাইব্রেরীর চার দেয়ালের ভেতর থেকে আবারো খিলখিল হাসি শুরু হলো। মনে মনে বললাম হাসো মারগারেট, হাসো। তোমার সকল ষড়যন্ত্র আমার কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই তোমাকে এখান থেকে বিদায় করার একটা না একটা উপায় বের করেই ফেলবো। তোমাকে প্রিস্টের কাছে ফেরৎ পাঠিয়ে শেষ হাসিটা কিন্তু আমিই হাসবো।লাইব্রেরীর হাসিটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। আমি কি মারগারেটকে কোন জোকস বলেছি না কি? এখানে এতো হাসার কি হলো? আমি ঝুকে বসে বইটা পড়ছিলাম। হঠাৎ বইটার পাতায় এক ফোটা তাজা রক্ত আবিষ্কার করলাম! ব্যাপার কি! বইয়ে রক্ত এলো কোত্থেকে! অনুভব করলাম নাকের পাশ দিয়ে যেনো একটা পিঁপড়া হেটে যাচ্ছে। নাকে হাত দিতেই কেমন ভেজা ভেজা লাগলো। হাতটা সরিয়ে চোখের সামনে ধরতেই হাতে রক্তের ছোপ লেগে থাকতে দেখলাম। আরে! আমার নাক দিয়ে রক্তের ধারা বইতে শুরু করেছে! হঠাৎ খুব অসুস্থবোধ হলো! মনে হলো চারপাশেসবকিছুই যেনো দুলছে! তারপরেই গলা থেকে একদলা রক্ত, বমি হয়ে বেরিয়ে আসলো। বুঝতে পারছিলাম লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। ভেবেছিলাম ডেস্ক থেকে উঠে হেটে বেরিয়ে যাবো। কিন্তু নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতেই মাথা ঘোরে মেঝেতে পড়ে গেলাম! বুঝলাম একই পদ্ধতিতে ও খানিক আগে মনিকাকেও কাবু করেছিলো। এখন আমার পালা। হামাগুড়ি দিয়ে দরজার দিকে এগুতে লাগলাম। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ যেনো আমার শরীরের উপর কয়েক মন ওজনের পাথর চাঁপা দিয়েছে! আমার শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। কিছুতেই লাইব্রেরীর দরজার ধারে কাছেও যেতে পারছি না। হামাগুড়ি দিয়ে দু এক ফুট এগুতেই জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে ড্রয়িংরুমে কাউচের উপর শুয়ানো অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। কি আশ্চর্য! আমায় এখানে কে আনলো! আমি তো লাইব্রেরীতে পড়ে ছিলাম। খুব সম্ভবত মনিকা। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে পড়া আংটিটার দিকে নজর গেলো। এর জন্যেই যতো সমস্যা। ইচ্ছা করলো ওটা খুলে ফেলে দেই। কিন্তু এই আংটি খুলে ফেললেই কি আমি মারগারেটের হাত থেকে মুক্তি পাবো? কই? মনিকা তো আংটি পড়েনি! তাই বলে মারগারেট কি ওকে ছেড়ে দিয়েছে? এই আংটি খুলে ফেললে বরং ওর সুবিধাই হবে। আংটি পরা থাকায় ও আমায় এমন ভাবে মারতে চাইছে যেনো কোন আভ্যন্তরীণ ক্ষত না থাকে। আংটি খুললে ম্যারগারেটের জন্যে আভ্যন্তরীণ ক্ষত থাকা বা না থাকা সমান হয়ে যাবে। ও যখন দেখবে যে কোন ভাবেই আমার দেহে প্রবেশ করতে পারছে না তখন ও খুব সম্ভব আমায় মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিবে। আর তখন যে কোন এক ভাবে আমায় মেরে ফেললেই হলো। এসব ভাবতে ভাবতে আমি উঠে বসলাম। কাউচে উঠে বসতেই মনিকা দু কাপ কফি হাতে রুমে ঢুকে বলল, “এই নাও। কফিটা খেয়ে নাও। ” আমি ব্যাস্ত কণ্ঠে বললাম, “মনিকা, আমি সত্যিই দুঃখিত। সকালে আমার ওভাবে কথা বলা উচিৎ হয় নি,,,,” ও আমায় থাামিয়ে দিয়ে বলল, “ওসব কিছু না ডার্লিং। আগে কফিটা খেয়ে নাও। তারপর সব কথা শুনবো।” আমি: “ধন্যবাদ ডার্লিং। ” কফি খাওয়ার পর ও আমার সামনে চেয়ার টেনে বসে বলল, “হা। এবার সব কিছু খুলে বলো। ” আমি তখনো ওকে সব কিছু খুলে বলতে তৈরি ছিলাম না। ও খুব সম্ভব এই সোমবারেই চলে যাবে। আজ ওকে এসব বলে বিব্রত না করলেই ভালো। আমি ব্যাপারটা চেপে যেয়ে বললাম, “দেখ মনিকা। সকালে আমার মা ফোন দিয়েছিলো। আমাকে পরিবার থেকে বিয়ে করার জন্যে প্রচন্ড চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর ফলে তখন আমার মেজাজটা বিগড়ে যায় ও আমি চিৎকার করে উঠি। তারপর তুমি ভুল সময়ে নক করে বস! আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তোমার দিকে খেঁকিয়ে উঠি। সকালের এহেন ঘটনার জন্যে আমি সত্যিই দুঃখিত! ” মনিকা: “ওহ আচ্ছা। কিন্তু তুমি লাইব্রেরীর ব্যাপারটা কিভাবে ব্যাখ্যা করবে? ” আমি: আসলে লাইব্রেরীতে যে কি হচ্ছে আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আমি এ ব্যাপারে কিছু জানা মাত্রই তোমাকে জানাবো।” ও একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, “তুমি কি সত্যিই কিছু জানো না? না কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছো? ” আমি প্রসঙ্গ পাল্টাতে বললাম, “তোমার কাছ থেকে লুকানোর কি আছে ডার্লিং। তুমি তো ইতিমধ্যেই আমার সব কিছুই দেখে ফেলেছো।” ও হেসে বলল, “দেখলে কি হবে? এখনো তো অধরাই রয়ে গেলো।” ওর কথায় আমরা দুজনই হেসে উঠলাম। তখনই বেডরুম থেকে আমার ফোনটা বেজে উঠলো। আদিন ফোন করেছে। ধরবো কি ধরবো না খানিক ইতস্তত করে অবশেষে ফোনটা রিসিভ করলাম। আমি: “হ্যালো আদিন! কেমন আছো? ” আদিন: “যেমন থাকার কথা। কিন্তু তুমি কেমন? ” আমি: “ভালো না। সমস্যাগুলি দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে ।” আদিন: “আজ তো উইকএন্ড। ডিনারে চলে আসো ম্যাকডোনাল্ডে। ” আমি: “বাসায় মেহমান ছিলো যে! ওকে সাথে নিয়ে আসবো? ” আদিন: “ওকে কি সমস্যার ব্যাপারে সব খুলে বলেছো? ” আমি: “না। ও দুদিনের জন্যে এসেছে। কি দরকার ওকে এসবে জড়ানোর। ” আদিন: “তাহলে ওকে সাথে আনার দরকার নেই। তুমি একাই চলে আসো। আমি অপেক্ষা করছি।” »চলবে…


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now