বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ডাকিণী-১, পর্ব-৫১,৫২,৫৩,৫৪,৫৫
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।)
কিন্তু এই পাজি মেয়েটা দেখছি আমায় সে সুযোগটাও দিবে না। সেদিন অফিস শেষে ওকে জোর করে নিয়ে গেলাম ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ই,সি,জি রিপোর্টে হৃদপিণ্ডের গতি স্বাভাবিকই আসলো। আমি হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। কিন্তু মনিকা আমায় এতো সহজে ছেড়ে দিবে না। ও আমার হাত ধরে গাড়িতে নিয়ে গেলো। তারপর নিজে গাড়িটা ড্রাইভ করে গেল একটা সুপারমার্কেটে। সেখানে ও কতগুলি বিকিনি সুট থেকে বেছে বেছে গোলাপি রঙের একজোড়া বিকিনি কিনলো। কিন্তু আমার নীল রঙের বিকিনিটাই বেশী পছন্দ হয়েছিলো। কিন্তু ও জোর করে আমার হাতে গোলাপিটা ধরিয়ে দিতে দিতে বলল, “গোলাপি যে আমার ভালবাসার রঙ। এ রঙের বিকিনিতেই তোমায় বেশী মানাবে।” অবশেষে বাধ্য হয়েই গোলাপিটাই নিলাম। আমি তখনো জানতাম না যে ও কোন ভালবাসার কথা বলছে। কেনাকাটা হয়ে গেলে ও নিজে বিল পরিশোধ করলো। তারপর ও বীচ বরাবর গাড়ি ছোটালো। বীচে পৌছতে পৌছতে প্রায় বিকাল ৮টা বেজে গেলো। আমরা বীচের পাশেই একটা ফোড স্টোর থেকে কিছু ফাস্ট ফুড আর সফট ড্রিংক্স কিনে ডিনার সারলাম। ড্রিংক্স খাওয়ার পর খেয়াল করলাম আমার গ্লাসের ঠিক যে অংশে মুখ লাগিয়ে ড্রিংক্স খেয়েছি ঠিক সেই অংশে মুখ দিয়ে মনিকা গ্লাসের অবশিষ্ট তলানিটুকু চেটে চেটে খাচ্ছে। যদিও ওর গ্লাসে পুরোটাই ড্রিংক্স বাকি ছিলো। ব্যাপারটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক লাগলো। চোখে বিষ্ময় নিয়ে আমি ওর কীর্তি দেখতে লাগলাম। চোখাচোখি হতেই ও আমার দিকে তাকিয়ে একটা উত্তেজক হাসি ছাড়লো। আমি খাবারের উপর আমার দৃষ্টি নামিয়ে নিলাম। খাবার শেষে আমরা ফোডস্টোরের বাথরুমে যেয়ে নিজ নিজ কাপড় বদলে বিকিনি গুলি পড়ে নিলাম। খানিক পরে মনিকার হাত ধরে বীচের উদ্দেশ্যে হাটা দিলাম। আজ উইকএন্ডের পারম্ভ বলে বীচটা লোকে লোকারণ্য। মনিকা আমাকে বীচের অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে নিয়ে গেলো। আমরা দুজনই বীচের বালিয়াড়ির উপর শুয়ে পড়লাম। বিকালের মিষ্টি রোদ আর মৃদুমন্দ হাওয়া আমাদের উষ্ম অভ্যর্থনা জানালো।
একটা ক্লান্তিকর ভয়ঙ্কর সপ্তাহ শেষে বালির বিছানাটাই আমার কাছে স্বর্গতুল্য মনে হলো। শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম খেয়াল নেই। সন্ধার গোধূলিতে মনিকার বাহুডোরে আমার ঘুম ভাঙলো। বাব্বা! আমি অন্তত দুঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটিয়েছি! আমি উঠে বসতেই মনিকা আমার গালে চুমু খেয়ে আমায় শুভ সন্ধা জানালো। প্রত্যুত্তরে আমি মৃদু হেসে ওর নাকটা টিপে দিলাম। তারপর সাগরে একটা ডুব দিয়ে শরীরে লেগে থাকা বালি ছাড়িয়ে নিলাম। সন্ধা হয়ে এসেছে। এবার ফেরার পালা। আমরা দুজন এবার গাড়ির দিকে হাটা দিলাম। হাটার সময় আমার বিকিনির বাধনটা কেমন যেন ঢিলা মনে হলো। কিন্তু আমার স্পষ্ট মনে আছে ফুডশপের বাথরুমে আমি এগুলি শক্ত করেই বেধেছিলাম। ব্যাপারটা নিয়ে আমি আর বেশী মাথা ঘামালাম না। গাড়িতে উঠে আমি ইঞ্জিন স্টার্ট দিলাম। ফিরে চললাম সেই কটেজটার দিকে। কটেজের গ্যারেজে গাড়ি পার্ক করার বদলে আমি ড্রাইভ করে প্রধান ফটক ধরে সোজা ভেতরে ঢুকে গেলাম। কুয়োটার পাশ দিয়ে ধিরে ধিরে হেটে যাওয়ার পরিবর্তে, গাড়ি চালিয়ে দ্রুত পাশ কাটানোই আমার কাছে অনেকটা নিরাপদ মনে হলো। গাড়িটা একদম আমার কটেজের সদর দরজার সামনে পার্ক করলাম। তারপর মনিকা কে নিয়ে ঢুকে পড়লাম সেই হউন্টেড কটেজে। বাড়িতে ঢুকতেই ইলেক্ট্রিক মিটারের বিপবিপ শব্দে কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। ওটা বেজে বেজে জানান দিচ্ছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। আমাকে শীঘ্রই একটা বিদ্যুতের প্রিপেইড কার্ড নিয়ে আসতে হবে। নইলে হয়তো আজ রাতেই কটেজটা অন্ধকার হয়ে যাবে। ধ্যাত। আমার কি যে হলো। ইদানিং কিছুই মনে থাকে না। গত উইকএন্ডে মালকাওয়ালরুশে আব্বু আম্মুর সাথে থাকার সময় ঠিক করেছিলাম কটেজে ফিরে প্রথমেই একটা প্রিপেইড কার্ড কিনব। তখনই মিটার লো দেখাচ্ছিলো। তারপর পুরো এক সপ্তাহ কেটে গেছে। ব্যাপারটা আমি বেমালুম ভুলে বসে আছি। মনিকাকে বললাম, “ডার্লিং তুমি রুমে যেয়ে রেস্ট নাও। আমি একটা কার্ড নিয়ে এক্ষুনি ফিরছি।”
মনিকা খুশি মনেই গেস্টরুমে চলে গেলো। আমি গাড়িটা ফের স্টার্ট দিয়ে ঘুরিয়ে নিলাম। রাত নামায় চারিদিক অন্ধকার হয়ে এসেছিলো। তাই গাড়ির হেডলাইট টেইল লাইট জ্বেলে দিলাম। তারপর আস্তে আস্তে ড্রাইভ করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম প্রধান ফটকের দিকে। কুয়োটার কাছাকাছি আসতেই হেডলাইটের আলোয় রাস্তার মাঝখানে আম্মুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। কি আশ্চর্য! আম্মু এখানে এলো কিভাবে! আসার আগে একবার জানিয়ে আসা উচিৎ ছিলো ওর। আমাকে বাড়ি না পেয়ে, না জানি কতক্ষণ এখানে অপেক্ষায় বসেছি ছিলো। মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রাণটা আকুতি মিনতি করে উঠলো। গাড়ির ব্রেক চেপে ধরে থামিয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য! ব্রেকটা কাজ করছে না! গাড়িটা সোজা আম্মুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে! আম্মুটাও রাস্তা ছেড়ে সরছে না। ঠায় দাড়িয়ে আছে রাস্তার মাঝখানে! হায় হায়! গাড়িটা কি আম্মুকে আজ পিষেই ছাড়বে! আবারো ব্রেক চাপলাম। কাজ হলো না। এবার প্রাণপণে স্টিয়ারিং হুইলটা ঘুরাতে শুরু করলাম। সাথে সাথেই পাগলা গাড়িটার নাক ঘুরে গিয়ে কুয়োর দিকে স্থির হলো। রাস্তা ছেড়ে গাড়িটা এবার তীর বেগে কুয়োর দিকে ছুটলো,, কুয়োটা চোখের সামনেই ধেয়ে এগিয়ে আসছে। প্রাণপণে ব্রেক চাপছি, স্টিয়ারিং ঘুরাচ্ছি। কিন্তু অপলটা আজ বেঁকে বসেছে।ও একটা পাগলা গণ্ডারের মতো কুয়োর দেয়ালে নাক গেঁথে দিলো। ধাতু ভাঙ্গার এক বিশ্রী মড়মড় আওয়াজ। গাড়ির ভেতর আমার এক তালগোল পাকানো অবস্থা। খানিক থিতু গয়ে নিলে গাড়ির জানালা দিয়ে চারপাশটা দেখতে সচেষ্ট হলাম। হায় খোদা! বিপদ এখনো কাটেনি! গাড়িটা প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতো জোরে যে কুয়োর দেয়াল ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। গাড়িটা নাক নিচু করে কুয়োর মুখে কোন রকমে আটকে আছে। একটু এদিক সেদিক হলেই সোজা ভেতরে পড়ে যাবে। কপাল ভালোই বলতে হবে। সীটবেল্ট বাধা থাকায় আমার মাথা স্টিয়ারিং হুইলে ধাক্কা খায় নি। তবে ড্যাশবোর্ডে হাতটা প্রচন্ড জোরে আছড়ে পরেছে। বা হাতের কব্জিটা সম্ভবত মচকে গেছে। ব্যাথায় ওটা নাড়াতেও পারছি না। এবার আমার কাছে আদিনের সেদিনকার দুর্ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হলো। আলেস কোন কারণে আমার উপর বিগড়ে গেছে। ও এখন আমার ক্ষতি করতেই বেশী আগ্রহী। হঠাৎ কুয়োর নিচ থেকে অশুভ খিলখিল হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। কিন্তু কেন জানি ওটাকে বড় অদ্ভুত লাগলো। আলেসের হাসি আমি আগেও শুনেছি। লাইব্রেরীতে আমি যখন আলেস আর মার্টিনীর প্রেমের অংশটুকু পড়ছিলাম, ও তখন দরজার ঠিক অপাশ থেকেই হেসে উঠেছিলো। কিন্তু সে হাসির সাথে আজকের হাসির এতটুকু মিল নেই। কেন জানি মনে হচ্ছিলো ওটা আলেস নয়। ওটা আলেস হতে পারে না। ও আমার ক্ষতি করতে চাইবে কেনো? আমি তো ওর কথা মতো জীবন বিপন্ন করে সেই আংটিটা নিয়ে এসেছি। ওর তো কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা। গাড়িটা আবার চলতে শুরু করায় আমার চিন্তায় চ্ছেদ পড়লো।ওটা সোজা কুয়োর ভেতরের দিকে গড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে হাসির শব্দটাও যেন ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। শব্দ শুনে মনে হচ্ছে যে মহিলাটা হাসছে, সে যেনো কুয়োর দেয়াল বেয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসছে। মরিয়া হয়ে গাড়ির দরজা খুলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু দরজাটা খুলল না। আমার হাড় মজানো পরিশ্রমের টাকায় কেনা গাড়িটা আমাকে উপেক্ষা করে এক অদৃশ্য সত্তার নির্দেশ মেনে চলছে। ভাগ্য ভালো যে জানালার কাঁচটা নামানো ছিলো। সীটবেল্ট খুলেই খোলা জানালা দিয়ে দেহটাকে বাহিরে ছুড়ে দিলাম। ঠিক তখনই গাড়িটা হুড়মুড় করে নিচে পড়ে গেলো। আমি কুয়োর কিনারায় কোন মতে ঝুলে রইলাম। অনন্তকাল লাগলো গাড়িটার পতন ধ্বনি শুনতে। ঝপ করে পানিতে গাড়ি পড়ার একটা বিকট শব্দ। তারপর সব কিছু শান্ত হয়ে গেলো। আমি হাচড়ে পাচড়ে কুয়োর মুখ থেকে উঠে দাঁড়ালাম। উঠে দাড়াতেই চোখ গেলো কটেজের দিকে। মনিকা গাড়ি আছড়ে পড়ার তীব্র শব্দ শুনে বেরিয়ে এসেছে। আমাকে এই অবস্থায় দেখতে পেয়ে ও আতংকে চিৎকার করে উঠলো। চোখে মুখে রাজ্যের কৌতুহল নিয়ে ও আমার দিকে দৌড়ে আসতে লাগলো। আমি জানিনা ওকে কি বলে বুঝ দেবো। আজ বিকালেই এই গাড়িটা সে নিজে চালিয়ে দেখেছে। তাই ব্রেক ফেলের কৈফিয়ত এখানে কাজ করবে না। একবার ভাবলাম ওকে সব কিছু খুলেই বলব। কিন্তু পরক্ষণেই সে ভাবনা নাকোচ করে দিলাম। আজ সকালে ওকে আমি বাচ্চাদের মতো কাঁদতে দেখেছি। কেন জানি মনে হচ্ছে ওর মানসিক অবস্থা খুবই দুর্বল। ওকে এসব বলে আরো মানসিক চাপে ফেলা উচিৎ হবে না। ও দৌড়ে এসে আমাকে ঝাপটে ধরে ফুঁপিয়ে উঠলো। ঠিক আমার লক্ষী মেয়ের মতো। আমিও আদর করে ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিলাম। অনেকটা সময় আমরা কেউই কথা বললাম না। এভাবে কিছুক্ষণ বাহুবন্ধনে থাকার পর আমি অনুভব করলাম ও আমার স্তনবৃন্তে ওর মুখ ঘসছে।
আমি এর জন্যে মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। আমি আলিঙ্গন ভেঙে ওর হাত দুটো ধরলাম। ঈষৎ অন্ধকারে ওর চোখের পানি দেখতে না পারলেও ওর ফোঁপানোটা স্পষ্ট শুনতে পারছি। আহা। বেচারি। সেদিন আমরা এক সাথে যেয়ে কার্ড কিনে আনলাম। অজানা শংকায় দুজনই একা থাকতে ভয় পাচ্ছিলাম। কটেজে ফিরার পথে কুয়োর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমি স্পষ্ট শুনলাম, কে যেন ওটার ভেতর থেকে আমার নাম ধরে ডাকছে। কিন্তু আমি বাজি ধরতে পারি ওটা আলেসের কণ্ঠ নয়। এইতো গত সপ্তাহে এক রাতে আলেস আমাকে বেসমেন্টে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলো। সে কন্ঠস্বর আমি ভাল করেই চিনি। কিন্তু এর সাথে আজকের এ ডাকের কোন মিল নেই। আজকের ডাকটা অনেকটা রুক্ষ, অনেকটা ধমকের মতো। কিন্তু সেরাতের ডাকটা ছিলো মোলায়েম আর তাতে সাহায্যের আকুতি ঝরছিলো। আমি কি মনে হতেই মনিকার দিকে তাকালাম। ও কি এই ডাকের কথাই আজ সকালে বলেছিলো? কিন্তু এখন তো ওর চেহারা প্রায় স্বাভাবিক। তবে কি ও এই ডাকটা শুনতে পারছে না? যেমন সকালে আমি ওর ডাকটা শুনতে পাইনি। এসব ভাবতে ভাবতেই আমরা কটেজে পৌছে গেলাম। কিন্তু রহস্যের কোন সুরাহা করতে পারলাম না। কটেজে পৌছেই আমি কার্ডটা ইন্সটল করলাম। যাক। এবার নিশ্চিত হওয়া গেলো। কার্ডটা ইন্সটল করতেই মিটারের বীপ বীপ শব্দ থেমে গেলো। গোটা কটেজটাকেই এক অদ্ভুত নিঃশব্দতা গ্রাস করে নিলো। কেবল বহু দুরে ঐ কুয়োটার ভেতর থেকে একটা একঘেয়ে ডাক ভেসে আসছিলো। সাঞ্জে সাঞ্জে সাঞ্জে সাঞ্জে,,,,,,, যেটা আমি ছাড়া আর কেউই শুনতে পাচ্ছিলো না। আজ রাতে আমাকে একবার কুয়োটা চেক করতে হবে। মনিকা ঘুমিয়ে যাবার পর। আমি দেখতে চাই এর ভেতরে আমার জন্যে ঠিক কি অপেক্ষা করছে। কে ডাকছে আমায় ওর ভেতর থেকে। তবে তার আগে আমার গোসল করা প্রয়োজন। বীচের বালি আর সাগরের নোনা জল লেগে আমার সারা দেহ চটচট করছে। বাথরুমে ঢুকে বিকিনিটা খুলে ফেললাম। তারপর স্বভাবতই চোখ গেলো আয়নার দিকে। এইতো আমি। জীবন্ত, রক্ত মাংসে গড়া। কিন্তু আমি আয়নায় একটা অশরীরীকে দেখতে চেয়েছিলাম। আলেস। ওর সাথে কথা আছে আমার। আমি জানতাম মানুষ বেচে থাকলে বদলে যায়। কিন্তু আলেস আমায় দেখিয়ে দিলো যে মানুষ মরার পরেও বদলাতে পারে।ও আজ বন্ধুত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমায় কুয়োয় ফেলে খুন করতে চাইছিলো। এর জন্যে ওকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে। আয়নার দিকে তাকিয়ে রাগে চিৎকার করে উঠলাম, “আলেস, ইউ হমোসেক্সুয়াল বীচ। আমি তোকে খুন করব। তোকে পরপারে প্রিস্টের কাছে পাঠাবো শয়তান।”
আমি সাধারণত শাওয়ার নিয়েই গোসল শেষ করি। বাথটাবে ঢুকি না। তবে মেজাজটা খুব গরম হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিলাম আজ টাবে গোসল করবো। টাবের পাইপ আটকে কল ছেড়ে দিলাম। টাব টা আস্তে আস্তে পানিতে ভরে উঠতে লাগলো। আমি ততক্ষণে স্মৃতির আধারে ডুব দিলাম। ছোটবেলায় আমি যতবার গোসল করতাম, টাবেই করতাম। সেই ছোট্ট সাঞ্জে প্রায় ঘন্টা খানেক ধরে টাবের পানিতে দাপিয়ে ,শেষে মায়ের বকুনি খেয়ে ক্ষান্ত দিতো। মাঝে মাঝে অভিও এসে যোগ দিতো। দুজন মিলে পানি ছিটিয়ে পুরো বাথরুম ভিজিয়ে দিতাম। তারপর ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলাম। কৈশরের পারম্ভে একদিন অভি আমার সাথে টাবে গোসল করতে অসম্মতি জানালো। সেদিন আমি অনেক কেঁদেছিলাম। সেদিন আম্মু বলেছিলো ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেলে নাকি একসাথে গোসল করা উচিৎ নয়। স্বভাবতই মায়ের আদেশ নিষেধ অমান্য করতেই আমার যত আনন্দ। তবে অনেকদিন হলো এই নিষেধটা অমান্য করতে পারিনি। সত্যি বলতে কি, সেই সুযোগই পাই নি। মনেমনে প্রতিজ্ঞা করলাম, একবার বিয়েটা হয়ে যাক, তারপর অভিকে আমি প্রতিদিন দুঘণ্টা করে টাবে চুবানি দিবো। দেখতে দেখতে টাবটা ভরে উঠলো। ধুলো ময়লা শ্রান্ত দেহটা টাবের পানিতে ডুবিয়ে দিলাম। অভিকে এখন প্রচন্ড মিস করছি। ওর সাথে কাটানো প্রতিটা মুহুর্তই আমার কাছে এক একটা স্বর্নমুদ্রার মতোই অমূল্য। অভির কথা ভেবে টাব থেকে খানিকটা পানি ছিটালাম। তারপর শুয়ে শুয়ে শরীরে সাবান মাখতে লাগলাম। হঠাৎ বাথরুমের আয়নাটা সশব্দে ঝনঝনিয়ে ভেঙে পড়লো। আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি করে উঠতে যেয়ে পা পিছলে টাবের মধ্যেই পড়ে গেলাম। নাক মুখ দিয়ে গলগলিয়ে পানি ঢুকে গেলো। টাব থেকে আবার উঠার চেষ্টা করলাম। এবার অদৃশ্য কেউ একজন আমায় ধাক্কা দিয়ে টাবে ফেলে মাথাটা পানির নিচে চেপে ধরলো। আমি যতোই জোরাজোরি করলাম কোন লাভই হলো না। কিছুতেই মাথাটা পানি থেকে বের করতে পারলাম না। নাকে মুখু পানি ঢুকে যাওয়ায় আমার প্রচন্ড কাশি পাচ্ছিলো। কাশতে যেয়ে বিরাট ভুল করে বসলাম। পানির নিচে কখনোই কাশতে নেই, এতে পানি সরাসরি ফুসফুসে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই উপদেশ বাণীটা কাশি দেওয়ার ঠিক পর মুহুর্তেই আমার মনে পড়লো। কিন্তু ততক্ষণে আরো অনেকটা পানি গিলে ফেলেছি। দ্রুত দম ফুরিয়ে আসছে। মাথার উপর অদৃশ্য চাপটা ক্রমাগত বাড়ছেই। মনে হচ্ছে পানিতে চুবিয়ে নয়, চেপে মাথা ফাটিয়ে আমায় মারবে। হায় খোদা। এই কি ছিলো কপালের লিখন! যে সাঞ্জে অকুল বাল্টিক সাগর সাঁতরে চষে ফেরে সে আজ নিজের বাথটাবে মাত্র এক হাত পানিতে ডুবে মরছে! ধীরে ধীরে চোখ দুটো বুজে এলো। হয়তো আর কখনোই ওগুলো খুলবে না। প্রায় মরতেই বসেছিলাম সেদিন। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। টাবের তলে পানি নিষ্কাশনের পাইপ টা আমি খানিক আগেই প্লাগ দিয়ে নিজ হাতে আটকেছিলাম। কোনভাবে যদি প্লাগটা খুলতে পারি তবে পানিটুকু দ্রুত বেরিয়ে যাবে আর আজকের মতো প্রাণটা রক্ষা পাবে। দুপায়ের পাতা দিয়ে প্লাগটা আকড়ে ধরলাম। তারপর এক মোচড়েই খুলে ফেললাম। প্লাগ খুলতেই হুরমুড়িয়ে টাবের পানিটুকু বেরিয়ে যেতে শুরু করলো। কিন্তু টাবের পানি যে হারে নিষ্কাশন হচ্ছে তার থেকেও দ্রুতগতিতে আমার দেহের অক্সিজেন নিঃশেষিত হচ্ছে। টাবের পানি নিষ্কাশনের জন্যে আমি অপেক্ষা করিতে পারবো না। বেঁচে থাকতে হলে তার আগেই আমাকে শ্বাস নিতে হবে। প্রথমে দু পা গুটিয়ে বুকের কাছে নিয়ে আসলাম। অনেকটা মায়ের পেটে শিশুরা যেমন থাকে ঠিক তেমন। তারপর দেহের সকল শক্তি একত্রিত করে টাবের দেয়ালে লাথি মারলাম। এবার কাজ হলো। গোটা টাবটাই এবার সশব্দে ভেঙে পড়লো। টাবে জমানো পানিটুকু বাথরুমের মেঝেতে প্লাবনের সৃষ্টি করলো। পানি সরে যেতেই হাঁ করে শ্বাস নিয়ে ফুসফুসটাকে সচল করলাম। যাক বাবা। আজকের মতো বেঁচে গেছি। আর বাঁচবোই না কেনো? কত শক্তিশালী প্রিস্টকেই প্রস্রাব খাইয়ে দিয়ে এসেছি। আর এটাতো পুঁচকে আলেস। ওকে তো তুষের মতো উড়িয়ে দিবো। দাঁতে দাঁত চেপে আলেসকে একটা গালি দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু তখনই বাথরুমের দরজাটায় খটখট আওয়াজ হলো! কি ব্যাপার? নক করলো কে? ওপাস থেকে মনিকার ভয়ার্ত কণ্ঠ শুনতে পেলাম। “সাঞ্জে, সাঞ্জে ডার্লিং তুমি ঠিক আছো তো। ভেতরে এতো শব্দ কিসের?” এই সেরেছে। মনিকা বাথটাব ভাঙ্গার শব্দে জেগে উঠে চলে এসেছে। এখন ওকে ভাঙ্গা টাবটার ব্যাপারে কি কৈফিয়ত দিবো? সত্যিটা লোকানো প্রায় অসম্ভব। আজ হোক কাল হোক সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়ই। মনিকা এখানে আশার পর থেকেই আমি ওকে মিথ্যা বলে আসছি। লাইব্রেরীর দরজা আটকানো নিয়ে মিথ্যা, কুয়োর অভ্যন্তরীণ অশরীরী ডাকটা নিয়ে মিথ্যা, গাড়ি আক্সিডেন্ট নিয়ে মিথ্যা। এখন এই টাব ফাটানো নিয়েও একটা মিথ্যা বলতে হবে। এভাবে যদি মিথ্যার রেলগাড়িটা চলতেই থাকে তো খুব শীঘ্রই আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবো। বাথরুমের দরজায় দড়াম দড়াম আওয়াজ আমার ভাবনার ইতি টানলো। মনিকা আমার সাড়া না পেয়ে এবার দরজা ভাঙতে উদ্ধত হয়েছে। এই মেয়েটাকে শীঘ্রই থামাতে হবে। এবার আমি হাক ছাড়লাম, “মনিকা, আরে মনিকা, কি করছো? লজ্জা শরমের মাথা খেয়েছো না কি? আমি ঠিক আছি। শুধু একবার পা পিছলে বাথরুমে পড়ে গেছিলাম এই যাহ।” মনিকা আবার প্রশ্ন ছুড়লো, “ডার্লিং, তুমি নিশ্চিত যে তুমি ঠিক আছো? তোমার কোন সাহায্য লাগলে আমায় নিসংকোচে বলতে পারো।”
ওর গলা শুনে মনে হলো ও আমার সান্তনা বাণীতে একটুও আশ্বস্ত হতে পারিনি। বরং আরো ভয় পেয়েছে। এবার আমি ওকে ধমকের সুরে বললাম,”উহঃ মনিকা। আমি ঠিক আছি। গেস্টরুমে যেয়ে অপেক্ষা করো। আমি আসছি। খানিক নিশ্চুপ থাকার পর ওকে শ্লথ পদক্ষেপে চলে যেতে শুনলাম। ও চলে যেতেই আমি উদুল গায়েই হুরমুড়িয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলাম। আবারো মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে এসেছি। আমিই সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষ। নইলে মৃত্যুকে এতোবার, এতো কাছ থেকে ধোকা দিতে পারতাম না। ক্লজিট থেকে নতুন তোয়ালে বের করে গাঁ মুছলাম। বাথরেমে রাক এর উপর রাখা নিত্য ব্যাবহারের তোয়ালেটা আনতে যাওয়ার মতো সাহসটুকুও সেই মুহুর্তে আমার ছিলো না। বিছানায় বসেই কাপড় পড়লাম। সাদা টিশার্ট আর একটা সাদা থ্রি কোয়ার্টার। শুনেছি সাদা বস্তু অপশক্তিকে দুরে রাখতে সাহায্য করে। সেই ধারণা থেকেই এগুলি পড়া। এরপর মনিকার সাথে দেখা করতে গেস্টরুমের দিকে পা বাড়ালাম। কিন্তু গেস্টরুমে যেয়ে ওকে পেলাম না। কি আশ্চর্য! ও গেলো কোথায়? ও কি লাইব্রেরিতে গিয়ে সেই উদ্ভট বই টা পড়তে শুরু করেছে? দৌড়ে আবার লাইব্রেরীতে এলাম। লাইব্রেরীটাও ফাঁকা। মেয়েটা তবে গেলো কোথায়? হঠাৎ খেয়াল হলো কুয়োর ওদিক থেকে একটানা সাঞ্জে সাঞ্জে ডাকটা থেমে গেছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম। আজ সকালে কুয়ো থেকে মনিকাকে ডাকছিলো, সাথে সাথেই ওর রক্তবমি শুরু হয়েছিলো। সন্ধায় আমার নাম ধরে ডাকলো, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি বাথটাবে ডুবে মরতে বসেছিলাম। ওই ভয়াল ডাকটা তবে অশুভ কিছুরই ইঙ্গিত বহন করে! আর ডাকটার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, যাকে ডাকে কেবল সেই শুনতে পায়। এই ডাকটা আমি আর মনিকা দুজনে শুনলেও কখনোই এক সাথে শুনি নি। আরে! এই ব্যাপারটা তো আমার মাথায় আসে নি! সকালে ডাকটা মনিকা শুনতে পেলেও আমি শুনি নি। সন্ধায় আমি শুনলাম কিন্তু মনিকা টের পেলো না। এখন ডাকটা আমি আর শুনতে পাচ্ছি না। তার মানে এখন মনিকা ওটা শুনতে পাচ্ছে? হায় হায়! ও কি তবে সেই মরণ ডাকে সাড়া দিয়ে কুয়োটার দিকে হাটা ধরেছে? কটেজ ছেড়ে দৌড়ে বেরিয়ে এলাম। আসার সময় সদর দরজাটা খুলা দেখে আর সন্দেহ রইলো না যে মনিকা এখন কুয়োর দিকেই যাচ্ছে। রাতের চাঁদনি আভায় কুয়োর ভাঙা দেয়ালের সামনে একটা নারী মুর্তিকে ঝুকে থাকতে দেখলাম। হায় খোদা! ও কি কুয়োয় ঝাপ দিতে যাচ্ছে। প্রাণপণে সেদিকে ছুটতে ছুটতে চেঁচালাম, “না না, মনিকা, দাড়াও। সরে এসো ওখান থেকে। প্লীজ। আমার কথা শুনো।” কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ছায়ামূর্তিটা আমার চোখের সামনেই কুয়োর ভেতরে ঝাপ দিলো। আমি চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গেলাম কুয়োটার কাছে।”মনিকা, মনিকা। এ কি করেছো তুমি মনিকা? ” একটা সময় কুয়োর কাছে পৌছে গেলাম। কুয়োর মুখের কিনারায় নীচু হয়ে হাঁক ছাড়লাম। “মনিকা কোথায় তুমি? সাড়া দাও মনিকা।” কুয়োর ভেতর থেকে মনিকার কাঁদো কাঁদো কন্ঠ ভেসে এলো। “এইতো আমি সাঞ্জে। এখানে ঝুলে আছি। আমায় টেনে তুলো প্লীজ।” তবে ওর মুখের ভাষা ছিলো পোলিশ। আশ্চর্য! মনিকা একটা সুইডিশ মেয়ে। ও ভাঙ্গা ভাঙ্গা পোলিশ বলতে পারতো। কিন্তু কাজ চালানোর জন্যে তা কখনোই যথেষ্ট ছিলো না। তাই আমরা আমাদের মধ্যেকার কথাবার্তায় ইংলিশই ব্যবহার করতাম। কিন্তু আজ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ও শুদ্ধ পোলিশ ভাষায় কথা বলছে! কিভাবে সম্ভব? কিন্তু তখন এতো কিছু মাথায় ঢুকে নি। মনিকা বিপদে পড়েছে। ওকে সাহায্য করতে হবে। কেবল এই চিন্তাই মাথায় ছিলো। আমি ইংরেজিতে বললাম, “মনিকা, হ্যাং দেয়ার ফর আ হোয়াইল। আই উইল বি রাইট ব্যাক উইথ রোপ & আ টর্চ লাইট, ইন নো টাইম।” মনিকা আবারো পোলিশ ভাষায় চেচালো, “হা হা। ভেতরে নেমে আসো। এটা মোটেও গভীর নয়। আমি তোমার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।” ভয়ে এই মেয়েটার হয়তো উল্টাপাল্টা বকতে শুরু করেছে। আমি বলি অপেক্ষা করো, আলো আর দড়ি নিয়ে আসছি। কিন্তু ও বলে ভেতরে আসো, কুয়োটা গভীর না। কি যে হলো মেয়েটার। আমি আবার ইংরেজিতে চেঁচালাম, “মনিকা ডার্লিং। তোমার মাথা ঠিক আছে তো? ” ও পোলিশ ভাষায় পাল্টা চেঁচালো, “হা আমি তোমায় দেখতে পাচ্ছি। এবার নেমে এসো।” বুঝলাম ওর মাথাটা পুরোই গেছে। এখানে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ওর সাথে প্যাঁচাল পাড়লে শুধু সময়ক্ষেপণই হবে। কাজে লাগতে হলে আমাকে কটেজে ফেরৎ যেয়ে, স্টোররুম থেকে দড়ি আর টর্চ লাইট নিয়ে আসতে হবে। কটেজের দিকে ফের দৌড় দিলাম। কটেজে ঢুকতেই আমি অবাক! মনিকা ড্রয়িং রুমে বসে মুভি দেখছে। “আরে মনিকা! তুমি এখানে এলে কিভাবে?” ও এবার ইংরেজিতে বলল, “এখানে আসবো কিভাবে মানে? আমি তো এখানেই ছিলাম। শুধু তোমার খুজ পাচ্ছিলাম না। যাক তবে। এখন তুমি চলে এসেছো। এবার বলতো তোমার কি হয়েছে? তোমাকে খুব উৎকন্ঠিত মনে হচ্ছে।” আমি ওর কোথায় কান না দিয়ে বললাম, “খানিক আগে তুমি কোথায় ছিলে? আমি তোমাকে সারা কটেজ জুড়ে খুঁজেছি। কোথাও পাইনি। ” ও জোর দিয়ে বলল, “কেন? আমি তো আমার রুমেই ছিলাম। তোমার চোখে সিরিয়াস সমস্যা হয়েছে ডার্লিং। ছেলেদের দিকে তাকাতে তাকাতে তোমার চোখ এখন আর মেয়েদের দিকে তাকাতেই পারে না। তবে আমার মনে হয় এবার চোখ দুটোর রুচির পরিবর্তন ঘটিয়ে মেয়েদের দিকেও তাকানো উচিৎ। ” একথা বলেই ও তার টপ টেনে নিচে নামিয়ে স্তন যুগল অনাবৃত করে দিলো। কিন্তু এসবে আমার আগ্রহ নেই। আমি শুধু জানতে চাই, ও যদি এখানে হয়ে থাকে তবে ওই কুয়োর মধ্যে কে? আমি ধমকের সুরে বললাম, “দেখো মেয়ে, আমি একটু আগে সবগুলি কক্ষ চেক করেছি। এমন কি তোমার গেস্টরুমটাও। তুমি কোথাও ছিলে না।” মনিকা সংবেদনশীল কন্ঠে বলল, “তুমি আমার বেডরুমে ঢুকেছিলে। ইউ বীচ। তাহলে আরেকটু কষ্ট করে আমার বাথরুমে ঢুকলে না কেনো? আমি তো বাথরুমেই ছিলাম। তুমি চলে এলে দুজনে একসাথে গোসল করতাম। তখন আর পড়ে যাওয়ার ভয় থাকতো না।” ওহ শীট। আমি ওর গেস্টরুমটা চেক করলেও তার সাথে সংযুক্ত বাথরুমটা চেক করিনি। ও হয়তো তখন বাথরুমেই ছিলো। তাই খুজে পাইনি। কিন্তু ঐ কুয়োর ভেতরে তবে কে আটকে আছে? সেটা জানার একমাত্র উপায় হলো ওখানে প্রবেশ করা। মনিকা ঘুমিয়ে গেলেই আজ যাবো ওখানে। ওখানে যেই থাকুক না কেন, হয় ভালোয় ভালোয় চলে যাবে নয়তো ঝেটিয়ে বিদায় করবো। ঠিক প্রিস্টকে যেমন বিদায় করেছিলাম।
এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ টিভির দিকে চোখ গেলো। মুভিটায় একটা আড্যাল্ট দৃশ্য চলছে। আমার এসব খুব একটা ভালো লাগে না। কিন্তু মনিকা এসবের অন্ধ ভক্ত। ও এবার আমায় সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়ে বসলো, ” 69 পজিশনটা পছন্দ হয়েছে ডার্লিং? চলো ট্রাই করি।” আমি জানি ও খুব মনোক্ষুন্ন হবে। কিন্তু সত্যিই এখন আমার এসব ভালো লাগছে না। একে তো পরিশ্রান্ত তার উপর ভৌতিক কান্ডকারখানা। আমি মনেমনে প্রচন্ড বিরক্ত। তাই বললাম, “এসব কি মনিকা? এখন রাত প্রায় দুটো বাজে। এখন তোমার ঘুমানোর কথা। রাত জাগলে শরীর খারাপ করবে।” প্রত্যুত্তরে ও কামার্ত কন্ঠে বলল, “এই মুভিটা আমার নিচ টা ভিজিয়ে দিয়েছে। আমি এর শেষ না দেখে ঘুমাচ্ছি না। তুমিও আসো না আমার সাথে। এই উত্তেজক মুভিটা একা দেখে মজা পাচ্ছি না। ”
»চলবে…
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now