বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ডাকিণী-১, পর্ব-৪১,৪২,৪৩,৪৪,৪৫
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।)
আমি একদম হাল ছেড়ে দিয়ে মারা পড়তে বসেছিলাম। একে তো লোহার কফিনের ভেতর অক্সিজেনের সল্পতা তার উপর গলা চেপে ধরা প্রিস্টের পুরুষ্ট হাত। বাঁচার কোন আশাই দেখছিলাম না। তখনই হঠাৎ মনে পড়লো, আমি যে স্কার্টটা পরেছি তার বেল্টের পকেটে একটা সুইস পকেট নাইফ আছে। প্রিস্টের আঙুল ওটা দিয়ে এক পোঁচে কেটে দেয়া যাবে। এটা আঙুল টেনে ছেড়ার থেকে অনেক সহজ হবে। বুঝতে পারছিলাম আমার সময় খুব দ্রুতই ফুরিয়ে আসছে। আর সর্বউচ্চ ত্রিশ সেকেন্ড এভাবে শ্বাস না নিয়ে টিকে থাকতে পারবো। তারপরই সব শেষ। সমস্ত মনযোগ একত্রিত করে নিজের কটিদেশ হাতড়ে ছুরিটা বের করে নিয়ে এলাম। ছুরির ফলাটার ফোল্ড খুলতেই যেন সমস্ত শক্তি নিঃশেষিত হল। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। হাত যেভাবে কাঁপছে তাতে প্রিস্টের আঙুল কাটতে যেয়ে হয়তো নিজের ঘাড়ের শিরাটাই কেটে দেবো, কিংবা ছুরির ফলাটা আমার শিরদাঁড়ায় গেঁথে যাবে। উহঃ। আমি এতো কিছু ভাবতে পারছিনা। শুধু একটা কথাই মনে আসছে। যে করেই হোক শয়তানটাকে শেষ করতে হবে। এতে যদি ওর সাথে আমাকেও মরতে হয় তাতেও আমার কোন আপত্তি নেই। আমার ঘাড়ে আকড়ে থাকা সেই মধ্যমাটাকে ঠাওরে চোখ বন্ধ করে দিলাম এক টান। হঠাৎ আমার গলায় চাপ কমে গেল। চেপে ধরা হাত দুটো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এতক্ষণ পর শ্বাস নিতে পেরে মুখ হা করে পৃথিবীর সবটুকু বাতাস বুকে ভরে নিতে চাইলাম। ঠিক তখনই ধা করে কফিনের ডালা খুলে গেলো। আমার নীচে প্রিস্টের দেহে যেন খিচুনি শুরু হয়েছে। প্রাকৃতিক শুদ্ধ বাতাস আমার বুকটা ভরিয়ে দিলো। আমার চারদিকে বাতাসে ঘুর্ণী অনুভব করলাম। সমগ্র কফিনটা ঘিরেই যেন একটা ঘুর্ণীঝড় জন্ম নিয়েছে! তারপরই একটা বিষ্ময়কর বজ্রপাত! কিন্তু প্রাকৃতিক বজ্রপাতের সাথে এর তফাৎ হলো, সাধারণ বজ্রপাত গুলি আকাশ থেকে মাটিতে আঘাত হানে। কিন্তু এ বজ্র কফিনে পড়ে থাকা আংটি থেকে উৎপন্ন হয়ে সোজা আকাশে হারিয়ে গেলো। সাথে সাথেই প্রিস্টের দেহটা একদম নিথর হয়ে গেলো। ও সম্ভবত এই মাত্র নরকে পাড়ি জমিয়েছে। ওর উচিৎ সাজার ভার আমি স্রষ্টার হাতেই ছেড়ে দিলাম। ওদিকে আমার ঘাড়ের একপাশে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছিলাম! হাত দিয়েই বুঝতে পারলাম ওখান থেকে গলগলিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। তবে এটা নিশ্চিত আমার গলার শিরাটা কাটা পড়েনি। ওটা কাটলে গলগলিয়ে নয় বরং ফিংকি দিয়ে রক্ত পড়তো। তবুও নিজেকে খুব ক্লান্ত লাগছে। শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও মাথাটা এখনো ঘুরছে। বার দুয়েক কফিন থেকে উঠার চেষ্টা করতেই জ্ঞান হারিয়ে ওটার ভেতরেই পড়ে গেলাম।
ভোরের নতুন সূর্যালোক আমার চোখ ধাঁদিয়ে দিলো। জ্ঞান ফিরতেই কফিনের ভেতর থেকে উঠে বসলাম। ঘাড়ে এখনো ব্যাথা করছে। সেখানে হাত দিতেই জমাট বাধা রক্তপিণ্ডের উপস্থিতি টের পেলাম। প্রথমে কিছু বুঝতে না পারলেও ধিরে ধিরে গতরাতের সবকিছুই মনে পড়লো। আমার নিচেই সেই শয়তানের নিথর দেহটা পড়ে আছে। তার পাশেই আংটি পরা মধ্যমাটা সহ আরো দুটো বিচ্ছিন্ন আঙুল। মধ্যমাটা তুলে নিয়ে ভাল করে নেড়ে চেড়ে দেখলাম। তারপর আস্তে করে টান দিতেই আংটিটা সেখান থেকে বেরিয়ে এলো। এই ছোট্ট একটা আংটি কি অসাধারণ খেল দেখালো। আজরাতের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার স্মৃতি হিসেবে ওটা চিরকাল আমার কাছেই থাকবে। ওটা আমার মধ্যমায় পড়লাম। বাহ! বেশ সুন্দর ফিট হয়েছে তো! আমার আর প্রিস্টের মধ্যমার আকার প্রায় সমানই তো দেখছি। আংটিটা তাই আমাদের দুজনের হাতেই সমানভাবে ফিট হয়েছে। আমার হাতে ওর মৃত্যু লেখা ছিলো বলেই হয়তো আমাদের দুজনের আঙুলের মাপ এক। কথাটা মনে আসতেই আবারো তাকালাম প্রিস্টের মুখের দিকে। শুধু নিশ্চিত হতে চাইছিলাম যে ও সত্যিই মারা গেছে। দেখলাম ওর মুখটা হা হয়ে আছে। সেই মুখ দিয়ে কালসেটে দাঁত গুলি ভয়ানক ভাবে বাহিরে বেরিয়ে আছে। চেহারায় মৃত্যু যন্ত্রনার সুস্পষ্ট ছাপ। অবশেষে ও নরকে পৌছলো তাহলে। আমার মুখের দুষ্ট হাসিটা আরো চওড়া হলো। এবার সময় এসেছে ওকে ভেজানোর। বাহ। কি সুন্দর মুখটা হাঁ করে আছে। যেন আমারই প্রতীক্ষায়। প্রথমে চারপাশটা একবার ভাল করে দেখে নিলাম। কেউ নেই দেখে প্রিস্টের বুকের উপর পা ছড়িয়ে বসে স্কার্টটা কোমরের উপর টেনে তুললাম। তারপর শিশিশিশিশিশিশি,,,,,,,,,, একদম ওর হা করা মুখের মধ্যে। জীবনে আমি হাজার বার প্রস্রাব করেছি। কিন্তু কখনই এতটা তৃপ্তি পাই নি। আ আ আ আ আ আ আ আহহহহহহহহহহহহহ। কি প্রশান্তি,,,,,,,, কাজ শেষে ওর কফিনের ডালাটা নামিয়ে দিলাম চিরজীবনের জন্যে। আরো সহস্র বৎসর পর হয়তো কেউ একজন একে খুলে আমারই মতো বিষ্ময়ে নির্বাক হয়ে যাবে! তখন ওরা কল্পনাও করতে পারবে না একে মারতে আমার কতটা কষ্ট হয়েছিলো। তবে ইদানীং যে হারে ডেভেলপার কম্পানি গুলি কাজ শুরু করেছে, তাতে সহস্র বৎসর দুরে থাক, আগামী দুমাসের মধ্যেই এখানে হয়তো একটা বিল্ডিং উঠে যেতে পারে। ধ্যাত। এসব আজেবাজে ভাবনায় সময় নষ্ট করার মানেই হয় না। সূর্য উঠেগেছে। তড়িঘড়ি করে এখান থেকে বেরুতে হবে। নইলে গার্ডরা ধরে ফেলবে। এই অর্ধনগ্ন অবস্থায় গোরুস্থানে ধরা পড়লে আমার দেয়ার মতো কোন কৈফিয়তই থাকবে না। হায় খোদা! আমি তো প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। একটা গার্ডকে তো আমি কাল রাতেই সাইজ করে দিয়েছি। ও কি এখনো বাধা আছে ঠিক মতো, না কি ছাড়া পেয়ে তার সঙ্গী সাথিদের নিয়ে আসছে। এখন এসব দেখার সময় নেই। প্রিস্টের কবরে মাটি ভরাট করতে হবে। তারপর সবার নজর এড়িয়ে আলগোছে এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। দ্রুত কোদাল হাতে কাজে নেমে পড়লাম। কোদালের হাতলে পেঁচানো ব্রা টা কাল রাতে কোপানোর সময়ই ঘর্ষণে ছিড়ে গেছে। নগ্ন হাতলের ঘর্ষণ শুধু দাঁতে দাত চেপে হজম করলাম। তবে কবর খুড়ার চেয়ে কবর ভরাট করা অনেক সহজ। স্তুপ করা আলগা মাটিটা কেবল টেনে গর্তে ফেলে দিলেই হয়। যে কবর খুঁড়তে রাতে দু ঘন্টার ও বেশী সময় লেগেছিলো তা আজ সকালে মাত্র দশ মিনিটে ভরে ফেললাম। সমস্ত জিনিসপত্র একে একে কুড়িয়ে ফের সাইড ব্যাগে ভরলাম। এখানে কাজ শেষ। এবার ফেরা যাক। ফেরার আগে কাল রাতের সুখি গার্ডটা কে একবার দেখতে হবে। দেখা হলে ওর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নিবো। ও ক্ষমা করুক আর না করুক শুধু আমার নামে মামলা না করিলেই হলো। পোল্যান্ডের আইন খুবই কড়া। এখানে সিকিউরিটির লোকজনের গায়ে হাত তুললে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বউচ্চ ২৫ বছরের জেল হওয়ার বিধান রয়েছে। বাঘ ছুলে আঠারো ঘা, আর পুলিশ ছুলে জেলের রুটি খা। তাই বাঘ বা পুলিশ, এদের কারো গায়েই হাত তোলা ঠিক না। ওকে যে গাছের নিচে বেধেঁ রেখেছিলাম তার কাছে পৌছতেই আমার আত্মাটা শুকিয়ে গেলো। ওখানে কেউ নেই। শুধু আমার ছেড়া শার্ট আর পেন্টি পড়ে আছে। বড্ড ভুল হয়ে গেছে। সাথে অন্তত দুই প্রস্থ দড়ি রাখা উচিৎ ছিলো। একমাত্র যে দড়িটা এনেছিলাম সেটা এখনো গীর্জার ছাদে ঝলছে। আর একটা দড়ি থাকলেই হাঁদাটা কে বাধতে এতো বেগ পেতে হতো না। আরো বড় ভুল হয়েছে বাধতে যেয়ে। আমার শার্ট দিয়ে না বেধে ওর প্যান্ট দিয়ে বাধলেই ভালো হতো। আসলে রাতের আধারে ওর প্যান্টের ব্যাল্ট খুলার ঝামেলায় যেতে চাইনি। তাই বলে পুরুষের প্যান্টের ব্যাল্ট খুলতে আমি একটুও অনভিজ্ঞ নই। অভির বেল্ট তো আমি চোখ বন্ধ করে খুলতে পারি। কিন্তু এটা একটা গার্ডের বেল্ট। পোল্যান্ডে সিকিউরিটির লোকেরা যোগাযোগের জন্যে বাংলাদেশী পুলিশদের মতো ইয়া বড়বড় ওয়াকিটকি ব্যবহার করে না। ওদের বেল্টেই ক্ষুদে ট্রান্সমিটার লাগানো থাকে। নিকষ আধারে বেল্ট হাতড়ানোর সময় ভুল করে যদি ঐ ট্রান্সমিটারের বাটনে একটা টিপ পড়ে ওটা সচল হয়ে যেতো তাহলেই খেল খতম ছিলো। যা হবার ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। এবার এখান থেকে যাওয়া যাক। যখনই উঠতে যাচ্ছিলাম তখন এক ঝাঁক গার্ডের হুইসেলের শব্দে আমু আৎকে উঠলাম। এই যাহ। তীরে এসে আজ তরী ডুবলো। গার্ডগুলি দেখছি এদিকেই আসছে। সিমেট্রির প্রধান ফটক থেকে সোজা সেই গাছটা বরাবর। তবে এখনো ওরা আমাকে দেখে ফেলার মতো এতটা কাছে নয়। এক দৌড়ে আমি গাছটার নিচে থেকে আমার ব্রা আর পেন্টিটা কুড়িয়ে আনলাম। আমি কোন সুত্র ফেলে যেতে চাই না। তারপর এক দৌড়ে আরেকটি কবরের নাম ফলকের নিচে গাঁ ঢাকা দিলাম। গার্ড গুলিও হাবাগোবার মতোপ্রধান ফটক ছেড়ে সবাই এক সাথে এসে সেই গাছটার নীচে ভিড় করলো। ওরা জানতেও পারলো না ওদের গাফেলতির সুযোগ নিয়ে আমি সেই কখন গোরস্তান থেকে বেরিয়ে এসেছি। সিমেট্রি থেকে বেরিয়েই একটা মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হলাম। আমার গাড়িটা সিমেট্রির পশ্চাৎ গেটে গীর্জা প্রাঙ্গণে পার্ক করেছিলাম। কিন্তু বেরিয়েছি প্রধান ফটক দিয়ে। তারমানে আমাকে এই অর্ধনগ্ন অবস্থায়ই প্রায় দু ব্লক ঘুরে আমার গাড়িটার কাছে পৌছতে হবে! এতো ভোরে রাস্তায় কাউকে দেখছি না। মাঝে মাঝে দু একটা গাড়ি সাঁ করে ছুটে চলে যাচ্ছে। হায় খোদা। আর একটু সাহায্য কর। একবার শুধু গাড়ির নাগালটা পেলেই হলো। ড্রাইভ করে সোজা কটেজে চলে যাবো।
ইতস্তত ভাবে ফুটপাত ধরে পা বাড়ালাম। প্রায় অর্ধেকটা পথ কোন বাধা ছাড়াই পেরিয়ে এসেছিলাম। ঐ তো গির্জার ছাদটা দেখা যাচ্ছে। ইচ্ছা করছিলো দৌড়ে ছুটে যাই সেখানে। সেদিকে আরো দ্রুত পা চালালাম। কিন্তু কোত্থেকে যে চারটে মটোর সাইকেলে করে কতগুলি টিনএজ ছেলে পেলে এসে উদয় হল। ওরা আমায় ঘিরে বাইকে চড়ে চক্কর দিতে লাগলো। টিনএজ বয়সে যৌনাকাঙ্ক্ষা চরমে পৌছে। আমি নিজেও এই বয়সটা পেরিয়ে এসেছি। রাস্তায় এক অর্ধনগ্ন মেয়েকে দেখে এদের আকৃষ্ট হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু এই স্বাভাবিক আচরণটাই আজ আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের কারো সাথেই সময় কাটানোর ইচ্ছা বা ধৈর্য আমার নেই। একটা পরিশ্রান্ত রাতের পর আমায় কটেজে ফিরে একটা ভালো ঘুম দিতে হবে। ওরা আমায় ঘিরে ফুটপাতের চারদিকে চক্রাকারে ঘুরছে আর আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করছে। এদের মধ্যে থেকে যদি একটা বাইকওয়ালা কে মাটিতে ফেলতে পারি তবে এই চক্রে একটা ছিদ্র সৃষ্টি হবে। সেই ছিদ্র গলে বেরিয়েই আমাকে গীর্জার দিকে দৌড়াতে হবে। আশাকরি ওরা খানিকক্ষণ তাদের পড়ে যাওয়া সাথিদের নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে। আশাকরি সেই সময়টুকুর সধ্য ব্যবহার করে আমি গীর্জার ভেতর গাড়ির কাছে পৌছে যাব। একবার গাড়িটা স্টার্ট দিতে পারলেই হলো। এদের সামনে দিয়েই বীরের মতো বেরিয়ে যাওয়া যাবে। যে ই লাগতে আসবে তাকেই পিষে চ্যাপটা বানিয়ে ফেলবো। একটা নীল বাইককে প্রথমে টার্গেট করলাম। ওতে মাত্র একজন আরোহী। তাই ঘুর্ণয়মান বাইকগুলির মধ্যে একে ফেলাই সবচেয়ে সহজ হবে। পাঁক খেতে খেতে এরা ধীরে ধীরে চক্রের পরিধি কমিয়ে আনছে। নীল বাইকটার উপর আমি সার্বক্ষণিক চোখ রাখছি। ওটা আমার প্রায় নাগালের মধ্যেই। হঠাৎ এক পা সামনে এগিয়ে ওটার হ্যান্ডেল ধরে দিলাম এক হেচকা টান। আরোহী বাইক সহ উল্টে মাটিতে পড়ে গেলো। আমার কপাল ভালই বলতে হবে। পড়ে যাওয়া বাইকে বেধেঁ আরেকটি বাইক হুমড়ি খেলো। কিন্তু অন্য দুটো বাইক এখনো আমাকে ঘিরে ঘুরেই যাচ্ছে। পড়ে যাওয়া বন্ধুদের প্রতি ওদের কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। কিন্তু ও দুটোর মধ্যে বেশ খানিকটা ফাঁকা যায়গা রয়েছে। ঐ ফাঁকা যায়গাটা লক্ষ করেই আমি ঝাঁপ দিলাম। রাস্তার উপর ডিগবাজি খেয়ে খানিকটা গড়িয়ে গেলাম। দু কুনুইয়ের বেশ কয়েকটা জায়গায় চামড়া ছিলে গেলো। আমি সব কিছু উপেক্ষা করে উঠে দাড়িয়ে দিলাম এক ভোঁ দৌড়। আমার ধারণা ভুল ছিলো। ছেলে গুলি আহত বন্ধুদের জন্যে সময় নষ্ট করে নি। বরং তাতক্ষণাত আমাকে গালি দিতে দিতে পিছু ধাওয়া করলো। বাইকের শব্দটা ক্রমেই নিকটতর হচ্ছে। আমি ঘাড় ফিরিয়ে পেছনে তাকালাম না। শুধু রুদ্ধশ্বাসে গীর্জাপাণে দৌড়,,,,,হাপাতে হাপাতে গীর্জার গেট গলে ভেতরে ঢুকলাম। এতো বড় একটা সাইড ব্যাগ নিয়ে দৌড়ানো সত্যিই কষ্টকর। আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেখে ছেলে দুটো গীর্জার গেটের সামনে বাইক থামিয়ে খানিকক্ষণ ইতস্তত করলো। এই সুযোগে আমিও গাড়ির কাছাকাছি পৌছে গেলাম। খানিক পরেই ওরা সব ধিদ্ধা ঝেড়ে ফেলে বাইক চালিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়লো। ওরা হয়তো ভাবছে বৃহষ্পতিবার বলে গীর্জাটা ফাঁকাই থাকবে। ফাঁকা গীর্জায় আমাকে ইচ্ছামত ভোগ করতে পারবে। কিন্তু ওদের সে আশায় গুড়েবালি। আমি ইতিমধ্যেই গাড়িতে উঠে বসেছি। গাড়িটাকে এতটা আপন আর কখনো মনে হয় নি। আমার অপেল, আমার লক্ষি স্পিডস্টার। পকেট থেকে চাবি বের করেই ইগনিশনে ঢুকিয়ে মোচড় দিলাম। গাড়িটা একটু কেশেই আবার বন্ধ হয়ে গেলো। আবার মোচড় দিলাম। কিন্তু এবারো স্টার্ট নিলো না। এসব কি হচ্ছে! আমার গাড়িটা কখনোই আমার সাথে এমনটা করেনি। দু বছর ধরে ব্যবহার করছি। প্রতিদিনই এক কিক এ স্টার্ট হয়! কিন্তু আজকে! আজকে যখন সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন তখনই স্টার্ট ফেল করছে! ছেলে দুটো গাড়ি থেকে মাত্র দশ ফিট ব্যবধানে আছে। এদের একজনের হাতে একটা বড় ছোরা সূর্যালোকে ঝিকমিক করছে। আমি শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে আবারো চাবিটা মোচড় দিতে চাইলাম। অনেকটা পথ দৌড়ে আসায় আমার শরীরটা তখনো কাঁপছিল। তাই মোচড় দেয়ার সময় তাড়াহুড়োয় চাবিটা বেরিয়ে এসে হাত থেকে পড়ে গেলো। আমি মরিয়া হয়ে গাড়ির মেঝেতে চাবির খুজে হাতড়াচ্ছিলাম। তখনই কোন এক জাদু বলে গাড়িটা ইগনিশন ছাড়াই নিজে থেকেই স্টার্ট নিলো। ব্যাপারটা নিয়ে তখন এতো কিছু ভাবি নি। ভাবলে পরে হয়তোটা ঝামেলায় পড়তে হতো না। গাড়ি স্টার্ট নিতেই আমি খুশি মনে স্টিয়ারিং হুইল ধরলাম। প্রথম গিয়ার ফেলে আক্সেলারেটরে পা মেঝে পর্যন্ত দাবিয়ে দিলাম। গাড়িটা লাফিয়ে আগে বাড়লো। গাড়ির নাকের গোঁতো খেয়ে একটা মটরসাইকেল আরোহী ছিটকে দশ হাত দুরে গিয়ে পড়লো। অপরজন সংঘর্ষ এড়াতে হেচকা টানে বাইকের নাক ঘুরালো।
কিন্তু এতেই ওর কাল হলো। বাইকটা তাল সামলাতে না পেরে শূন্যে ডিগবাজী খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়লো। নিজেকে তখন জেমস বন্ডের মা মনে হচ্ছিলো। খালি হাতেই একপাল ছেলে পেলে কে কেমন শায়েস্তা করলাম! বিড়বিড় করে নিজেই নিজেকে বললাম, “সাঞ্জে দ্য গ্রেট।” গীর্জার গেটের কাছে এসে গাড়িটা একটু থামিয়ে, জানলা দিয়ে মুখ বের করে ছেলে দুটোকে দেখলাম। একজন চিৎ হয়ে শুয়ে আছে, সম্ভবত অজ্ঞান। অপরজন উঠে বসেছে, আর আমার দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি চিৎকার করে ওদের উদ্দেশ্যে বললাম, “ফাক ইয়ো বেবিজ।” ওরা পোলিশ হলেও আশাকরি এইটুকু ইংরেজির মানে ওরা ঠিকই বুঝতে পারবে। আপন মনে হাসতে হাসতে গাড়ি ছুটালাম। হঠাৎ চোখ গেলো ড্যাশবোর্ড মিররের দিকে। মিররে দেখলাম আমার পাশের সিটেই একজন মধ্য বয়ষ্কা মহিলা বসে আছে। তার কপালে একটা বিশাল গোলাকার পোড়া দাগ! তবে ওটা ঘাড় ঘুরাতেই আবার মিলিয়ে গেলো। এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণটাই আমার কল্পনা হতে পারে। প্রিস্ট এখন প্রকৃতপক্ষেই মৃত। কপালে আংটির ছ্যাকা খাওয়া সকল মেয়েরাই এখন মুক্ত। কাল রাতের সেই অদ্ভুত বজ্রপাতের সাথে সাথে আমি ওদের চলে যেতে দেখেছি। তাই গাড়ির পাশের সিটে কোন মেয়ের আত্মা উপস্থিত থাকা একেবারেই অযৌক্তিক। আমার অতিশিঘ্রই কটেজে ফিরা দরকার। পরিশ্রান্ত মস্তিষ্কে এসব ঊল্টাপাল্টা দেখে দেখে গাড়ি চালালে আক্সিডেন্টের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। হঠাৎ অনুভব করলাম স্টিয়ারিং হুলটা নিজে থেকেই ঘুরতে শুরু করেছে। আমি জানি না ওটা কিসের প্রভাবে। তবে একজন নির্ভরযোগ্য কো-ড্রাইভার পেয়ে আমি গাড়ি চালানোর দ্বায়িত্বে গাফেলতি শুরু করলাম। সারারাতের পরিশ্রম শেষে কটেজে ফিরার তর সইছিলো না। তাই চলন্ত গাড়িতেই স্টিয়ারিং হুইলে মাথা ফেলে ঘুমিয়ে পড়লাম. ঘুম থেকে জেগে দেখি আমার গাড়িটা কটেজের ফটকের সামনেই দাড়িয়ে আছে। এতকিছুর পর ঘরে ফিরতে পেরে মনটা খুশিতে নেচে উঠলো। মনে হচ্ছে যেন বিশ্ব জয় করে এসেছি। গেট খুলে ভেতরে ঢুকে, গ্যারেজে গাড়িটা পার্ক করলাম। তারপর হেটে হেটে কুয়োটার পাশে এসে দাড়ালাম। কুয়োর সামনে দাড়িয়ে, নীচের দিকে মুখ করে হাঁক ছাড়লাম, “আলেস, আমি ফিরে এসেছি আলেস। তুমি কি শুনতে পাচ্ছো? এখনো কি আছো এখানে?” একই প্রশ্ন আমি লাইব্রেরী, বেডরুম, এমনকি বেসমেন্টে গিয়েও করলাম। কিন্তু কোন সাড়া পেলাম না। বাথরুমের আয়নাটা খালি। কটেজটা জুড়ে এক অনাকাঙ্খিত শূন্যতা। ও সম্ভবত চলে গেছে না ফেরার দেশে। মেয়েরা স্বার্থপর হয় জানতাম। কিন্তু তাই বলে এতটা হবে তা আশা করিনি। আমি না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কি এমন ক্ষতি হতো? আলেস আমাকে বিদায় জানানোর সুযোগটাও দিলো না। ভাবতেই চোখ বেয়ে দু ফোটা জল গড়িয়ে পড়লো।শূন্য কটেজে আমি একা একাই স্নান করলাম। সারাটি সময় আমি শুধু আয়নার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ও এলো না। গোসল করে কবরস্থানের কাঁদামাটি ছাড়াতেই মনটা কিছুটা ভাল হলো। উপলব্ধি করলাম জীবনে কেউই স্থায়ি হয় না। সবারই কেই এক সময় চলে যেতে হয়। এটাকে মেনেই তো জীবন।মনেমনে পরপারে আলেস মার্টিনীর সুখী জীবন কামনা করলাম। গোসলে শেষে যেই না তোয়ালে জড়িয়ে বেরিয়ে এসেছি তখনই কলিংবেলটা বেজে উঠলো। ধ্যাত। এই অসময়ে আবার কে এলো? বিরক্তি তখন চরমে। বিড়বিড় করে গালি দিতে দিতে দরজা খুললাম। আরে! এতো মনিকা! মনিকা শেরল্ড। ডেভরনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শক। ওর কাজই হলো ইউরোপের যেসব দেশে ডেভরনের শাখা রয়েছে সেগুলি ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করা, আর অব্যাবস্থাপনা সমুহকে খুজে বের করে মিউনিখের হেড অফিসে রিপোর্ট করা।এই সময়ে ওকে আমি একটু ও আশা করি নি। ও এসেই খুশিতে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ও বলল, “সাঞ্জে ডিয়ার। এতোদিন পর আবার তোমার সাথে দেখা। শুনলাম তুমি নতুন বাড়ি কিনেছো। তাই হোটেল ছেড়ে সোজা তোমার ওখানেই চলে এলাম। তাড়িয়ে দিবে না তো?” নিত্যান্ত সৌজন্যতার খাতিরেই আমি ওকে ভেতরে নিয়ে আসলাম। আরে মনিকা ডার্লিং। তুমি কি যে বল না। একা একা কটেজে বিরক্তি ধরে গিয়েছিলো। তুমি আসায় বরং প্রাণে বাচলাম। তুমি একটু বসো, আমি মাত্র কিচেন থেকে নাস্তা নিয়ে আসছি। নাস্তা খেয়েই দুজন এক সাথে অফিসে যাবো। তুমি একটু অপেক্ষা কর। যাহ সেরেছে।ভেবেছিলাম গোছল শেষে ঘন্টা খানেক একটা ঘুম দেবো। মনিকা আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। কিচেনে নাস্তা বানাতে বানাতে ওর সাথে আমার প্রথম দেখাটা মনে পড়ে গেলো। আমাদের প্রথম দিনটা প্রচন্ড অসৌজন্যমূলক ছিলো। সেদিন ছিলো সোমবার। প্রতি সোমবারই আমরা অফিসের একটু তাড়াতাড়ি গোছিয়ে ফেলে, ৪:৩০টা থেকে ৫:০০টা পর্যন্ত কনফারেন্স রুমে বসে আড্ডা দেই। কার উইকএন্ড কেমন কাটলো এটাই থাকে আড্ডার প্রধান বিষয়বস্তু। এই আড্ডায় অফিসের দারোয়ান থেকে ধরে সিইও সবাই অংশ নেয়। পদাধিকার বলে আমিই এর সভাপতি থাকি। হিহিহিহি। তো সেদিন মার্কো কথা শুরু করেছিলো। “এই উইকএন্ডে বউকে নিয়ে ওয়ারশো গিয়েছিলাম ভাইয়ের বাড়ি। কি যে বলব গায়েজ, ওখানে এত্ত ছোট ছোট আপার্টমেন্ট যে আমার বউ ঠিক মতো পা ছড়িয়ে শুতেই পারে নি। সেক্স করা তো দুরেই থাক। সেক্স ছাড়া আমার উইকেন্ডটা একদম মাটি হয়ে গেলো।” আড্ডায় আমি সেক্সুয়াল কিছু নিয়ে কথা উঠতে দিতে চাইছিলাম না। তাই ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দিয়ে বলেছিলাম, “এই সেক্স ছাড়া তোমার মাথায় কি আর কিছু নেই মার্কো? সেক্স করতে না পারলেও তো তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে পেরেছো। ওটা নিয়েই তোমার তো খুশি হওয়া উচিৎ।” পাশেই বসা ছিলো ফিনিশ সুন্দরি সুজানা লুইজি। ও আমাদের অফিসের আক্যাউন্টেন্ট। সে মনেমনে মার্কো কে পছন্দ করতো তবে ওর বউ থাকায় খুব একটা সুবিধা করতে পারে নি। মার্কোর কথা শুনে সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বললো, “কি রে মার্কো? তোর বউ হাতি না কি রে? আস্ত একটা আপার্টমেন্টেও ধরে না! ” এবার ওর কথার খেই ধরলো আমাদের অফিসের সাক্ষাৎ গোপালভাঁড় জোভিন এভিকোভিচ। ও আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল, “আর বলবেন না ম্যাড্যাম। দুবছর আগে আমি আর মার্কো গ্রীষ্মের ছুটিতে আফ্রিকার একটা গেইম রিজার্ভে গিয়েছিলাম। ওখানে অসংখ্য জীবজন্তুর মাঝে মার্কোর একটা হাতিকে পছন্দ হয়ে গেলো। আর যায় কোথা? আফ্রিকা থেকে বিয়ে করে সোজা পোল্যান্ডে নিয়ে এলো।” জোভিনের কথায় সারা কনফারেন্স রুমে হাসির রোল উঠলো। মার্কো খেপে গিয়ে মুঠো পাকিয়ে জোভিনকে ঘুসি দেখালো। এমন হৈ হোল্লড় সময় কনফারেন্স কক্ষে মনিকা প্রবেশ করে। এসেই বলে উঠে, “আমি কান্ট্রি ইন্সপেক্টর মনিকা শেরল্ড। আপনারা এখানে অফিস ফাঁকি দিয়ে কি করছেন তা দেখতে এসেছি। আপনারা সবাই যার যার কক্ষে ফেরৎ যান। নতুবা আমি মিউনিখে এটা নিয়ে রিপোর্ট করতে বাধ্য হবো।” ও তার এখতিয়ার থেকে বেশী কিছু বলে ফেলেছে। ওর কাজ হলো পরিদর্শন আর রিপোর্ট। ও কখনই কোন অফিসের কর্মচারীকে নিজ কক্ষে ফেরৎ যাওয়ার আদেশ দিতে পারে না। আমি এখানকার সিইও। এখানে কেবল আমার আদেশই চলবে। ওর এহেন ব্যবহার সেদিন আমার আত্মসম্মানে প্রচন্ড আঘাত করে। আমার অফিসে দাঁড়িয়ে, আমার সামনে, আমার কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা ওকে কে দিয়েছে?
আমার প্রচন্ড ইচ্ছা হচ্ছিলো ওর টুটি চেপে ধরি। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “মিসেস মনিকা। আপনি মিউনিখে যা ইচ্ছা রিপোর্ট করতে পারেন। আপনার সে এখতিয়ার আছে। তবে এটা আমার অফিস। এখানে যে কাউওকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া স্বীকৃত অধিকার আমার আছে। এই মুহুর্ত আপনি এখান থেকে বেরিয়ে যান, নতুবা আমার সিকিউরিটি আপনাকে বের করে দিতে বাধ্য হবে।” আমার ইঙ্গিত পেয়েই অফিসের বিশালদেহী মেক্সিকান দারোয়ান আলবার্তো মনিকার ঠিক পেছনে এসে দাঁড়ালো। ওর ভাব ভঙ্গিতে মনে হলো মনিকাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার জন্যে তার আর তর সইছে না। চরম অপমানিত হয়ে মনিকা সেদিন অফিস থেকে গটগট করে বেরিয়ে গিয়েছিলো। সেদিনের ঘটনাটা অনেক দুর পর্যন্ত গড়াতে পারতো। কিন্তু অফিস শেষে আমি আর মনিকা একসাথে ডিনার করে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলি। ডিনার করতে করতে ও নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত বলে। ওর একটা স্বামী আর দুটো সন্তান ছিলো। ওর চার বছরের সংসার জীবন একটা ঝড়ে ভেঙ্গে খানখান হয়ে যায়। একদিন সে বাড়ি ছেড়ে দুদিনের জন্যে ওর মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলো। কিন্তু ওর মা কে বাড়িতে না পেয়ে পরদিনই ফিরে আসে। ওর স্বামী জানতো না যে ও তাড়াতাড়ি ফিরছে। সেদিন সন্ধায় ও বাড়ি ফিরে ওর স্বামীকে আরেকটি মেয়ের সাথে বিছানায় আবিষ্কার করে। সেদিনই সে তার একটা সন্তানকে নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। কিন্তু দুবছর আগে সেই সন্তানটাও মারা যায়। ও যখন স্কুল শেষে হেটে বাড়ি ফিরছিলো তখন এক মধ্যপ ড্রাইভার ওর উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেয়। ও ঘটনাস্থলেই মারা যায়। কথাগুলি বলার সময় ওর চোখ দিয়ে অঝরধারায় পানি পড়ছিলো। আহ বেচারি। সেই আক্সিডেন্ট ওর জীবনটাকে একদম এলোমেলো করে দেয়। এসব দুঃখ ভুলে থাকতেই ও মদ আর বহুগামিতায় ডুবে যায়। প্রতি সপ্তাহান্তেই ওর দু বোতল শ্যাম্পেইন আর অন্তত একজন নতুন পুরুষসঙ্গীর প্রয়োজন হয়। ও একজনের সাথে একরাতের বেশী দুরাত কাটায় না। এতে সম্পর্ক গভীরে পৌছে না, তাই বিচ্ছেদের কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে না। ও পাশ্চাত্যের উদ্দাম যৌনতার এক মর্মান্তিক শিকার। আজ ইউরোপে যৌন স্বাধিনতার নামে উদ্দাম যৌনতার বিষবাষ্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যৌন স্বাধিনতা আর উদ্দাম যৌনতা দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। যৌন স্বাধিনতা হল একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক মানুষের একান্ত ব্যাক্তিস্বাধিনতা। এই স্বাধিনতা নিশ্চিত করে যে সে দ্বৈত সম্মতিক্রমে তার ভালবাসার মানুষটির সাথে মিলিত হতে পারবে কোন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই। অপর দিকে উদ্দাম যৌনতা হল চোখের সামনে যাকে পাওয়া যায় তার সাথেই মিলন। যৌনতা মানুষের শ্রেষ্ঠ উপাসনা হলেও, উদ্দাম যৌনতা নিঃসন্দেহে একটা পাপাচার। এই পাপাচারে সমগ্র ইউরোপ আজ ছেয়ে গেছে। মনিকার পরিবারের মতোই আরো অনেকগুলি সুখি পরিবার এই পাপাচারের শাস্তি সরূপ আজ ভেঙ্গে যাচ্ছে। এখানে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ আজ তলানিতে ঠেকেছে। গতিশীল সামাজপরিবর্তনের ধারা এখানে স্থিমিত হয়ে গেছে। সমগ্র ইউরোপীয় সমাজ ব্যাবস্থা যেন পচনধরা একটা বিশাল মৃত তিমি। এর গা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরুলেও এর মৃত চোখ দুটো এখনো উজ্জল। বাহ্যিক এই উজ্জ্বলাতায় মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ান যুবসমাজ আকৃষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এরাই যদি কাছে যেয়ে এর গন্ধ শুকতো তবে এর থেকে পালিয়ে বাচার জন্যে মরিয়া হয়ে উঠতো। ইউরোপের এই দুষিত বাতাস ইন্ডিয়া হয়ে আমার সোনার বাংলাতে ও প্রবেশ করতেছে। ভয় হয় হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশও উদ্দাম যৌনতায় আক্রান্ত হবে। হায় খোদা আমার দেশ ও সমাজকে এই দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত রেখো। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে নাস্তা হয়ে এসেছে বুঝতে পারিনি। ওভেনের ওয়ার্নিং বেল পড়তেই আমার হুশ হলো। তাড়াতাড়ি খাবার গুলি বের করে ডায়ানিং টেবিলে সাজিয়ে রাখলাম। তারপর ড্রয়িং রুমে বসা মনিকার উদ্দেশ্যে হাক ছাড়লাম, “মনিকা, নাস্তা তৈরি। তাড়াতাড়ি খেতে আসো।” কিন্তু ও সাড়া দিলো না। আবার ওর নাম ধরে ডাকলাম। কোন সাড়া নেই। কি আশ্চর্য! মেয়েটা ডায়ানিং রুমে চুপচাপ বসে কি করছে? এগিয়ে গেলাম দেখার জন্যে! কিন্তু, হায় ডায়ানিং রুম তো খালি। ও সেখানে নেই! তখনই লাইব্রেরী থেকে ওর চিৎকার শুনলাম। “বাচাও, বাচাও। আমাকে দরজা আটকে ফেলেছে। সাঞ্জে বাচাও।” আমার হৃদপিণ্ডটা ধড়াক করে উঠলো! লাইব্রেরীর দরজার উপর আলেসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে কি ও পরপারে যায় নি? এসব ভাবতে ভাবতেই আমি লাইব্রেরীর দিকে দোড় তুললাম। ,,, (চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now