বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-৩৬,৩৭,৩৮,৩৯,৪০ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) ব্যাগ খুলে দড়ি বের করে ক্রশের সাথে বেধে নিলাম। অতপর যন্ত্রপাতিতে ভরা সাইডব্যাগটা হাতের কাছেই রাখলাম যেন ঘড়িটা বাজার সাথে সাথেই নীচের সিমেট্রিতে ফেলে দিতে পারি। আমি ক্রশের পাদদেশে বসে ঘড়িতে বারোটার ঘন্টা বাজার অপেক্ষা করছিলাম। বিশাল ক্রুশটা আমায় বৃষ্টি ও বাতাস দুটো থেকেই আড়াল করছিলো। অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না।একটু ঝিমুনি চলে এসেছিলো। গীর্জার ঘন্টা বাজতেই তড়াক করে লাফিয়ে উঠলাম। অবশেষে রাত বারোটা বেজেছে। ব্যাগটা ছুড়ে দিলাম নীচের আঁধারে। ঘন্টার এক টানা ঢং ঢং আওয়াজের মধ্যে ব্যাগটা যেন নিঃশব্দেই হারিয়ে গেলো। এবার আমি ঝুলন্ত দড়িটা বেয়ে নামতে শুরু করলাম। বলাবাহুল্য আমি একজন দড়াবাজিকর নই। তবে দড়িটা ধরে ছেচড়ে নামতে আমার তেমন একটা বেগ পেতে হলো না। তবে অর্ধেকটা নামার পরেই বিপত্তিটা ঘটলো। বৃষ্টিতে ভিজে দড়িটা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিলো। বুঝতেই পারিনি কখন হাত থেকে পিছলে গেছে। মনে হলো যেন অনন্তকাল হাওয়ায় ভাসছি। তারপরেই একটা বিধ্বংসী পতন।প্রায় একতলা উপর থেকে নীচে পড়ে গেলাম। ভাগ্য ভালই বলতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজে মাটি একদম কাঁদা কাঁদা হয়ে গিয়েছিল। প্রায় আধ হাতের মতো গেড়ে গেছি কিন্তু হাড় একটাও ভাঙ্গেনি। কাদা ছাড়িয়ে উঠতেই হাপিয়ে গেলাম। একে তো আঠালো কাদা তার উপর চুল বুনো নল খাগড়ায় আটকে গেছে। ওখান থেকে ছাড়াতে গিয়ে প্রায় দু মুঠো চুল রেখে আসতে হলো। মনে হলো আজ রাতে যদি বেঁচেও যাই তো কাল সকালে আয়নায় আলেসের বদলে টেকো মাথায় নিজেকেই দেখবো। ওটা আরো বেশী ভয়াবহ হবে। কাদায় একদম মাখামাখি অবস্থা। চোখ মুখ থেকে খানিকটা কাদা সরিয়ে সাইড ব্যাগটা খুজতে লাগলাম। নিরেট আধারে কোথায় যে পড়েছে ওটা। পকেট হাতড়ে পেন্সিল টর্চটা বের করে আলো জ্বালালাম। একটা ক্ষীণ আলোক রেখায় সামনেটা একটু দৃশ্যমান হলো। খানিক দুরেই ওটা পড়ে আছে। ওটা তুলে পিঠে ঝুলিয়ে নিলাম। বৃষ্টির বেগটা যেন আরো বেড়ে গেছে। পোল্যান্ডের বৃষ্টি বাংলাদেশের বৃষ্টির মতো উপভোগ্য নয়। ওখানে বৃষ্টি হলেই তাপমাত্রা ১০°সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে। বৃষ্টিতে বেশীক্ষণ ভীজলে দেহে কাঁপুনি শুরু হয়, মাথা ঝিম ধরে আসে। ইতিমধ্যেই আমার প্রচন্ড ঠান্ডা লাগতে শুরু করেছে। তবে একটাই আশা। আমি প্রিস্টের কবর খোড়া শুরু করলে পরিশ্রমের দ্বারা দেহ অনেকটাই গরম হয়ে উঠবে। কিন্তু শয়তানটার কবরটা যেন কোথায় ছিলো? ধ্যাত। আমি আবার ভুলে গেছি। দু তিনবার ভুল পথে চক্কর কেটে অবশেষে কবরটা খুজে পেলাম। ইতিমধ্যেই রাতের মূল্যবান দেড় ঘন্টা চলে গেছে। সূর্যদয়ের আগে আর মাত্র ঘন্টা তিনেক সময় হাতে আছে। যা করার এ সময়ের মধ্যেই করতে হবে। দ্রুত হাত লাগানো উচিৎ। ব্যাগ খুলে কোদাল আর শাবল বের করলাম। ঠান্ডায় হাত পা কাঁপা শুরু হয়ে গেছে। এই অবস্থায় কিভাবে এত বড় কবর খুঁড়বো তা আমার ধারণার বাহিরে। তার উপর জীবনে কখনই আমি কোদাল শাবল ধরিনি। মা বাবার একমাত্র মেয়ে বলে অতি আদরে কায়িক পরিশ্রম ছাড়াই বেড়ে উঠি। ধ্যাত। খামাখা এসব ভেবে ভেবে আমি সময় নষ্ট করছি। আজ কিছুতেই ব্যার্থ হওয়া যাবে না। ঘ্যাত করে কোদালের প্রথম কোপটা বসিয়ে দিলাম কবরের মাটিতে। আঠাঁলো কাঁদা মাটি যেন কোদালটাকে কামড়ে ধরলো। কিছুতেই মাটি সহ উঠতে চাইছে না। শেষে না পেরে শাবল দিয়ে মাটিতে খুঁচাতে লাগলাম। মাটি কিছুটা আলগা হলে অবশেষে কোদালটা তুলে আনতে পারলাম। বুঝলাম, এভাবে হবে না। আমাকে কোদাল দিয়ে আস্তে কোঁপ দিয়ে অল্প অল্প করে মাটি তুলতে হবে, নইলে কোদাল আবার মাটিতে আটকে যাবে। প্রায় দশ কোদাল মাটি তুলতেই আমার অবস্থা কাহিল। মনোবল তখন তলানিতে ঠেকেছে। নাহ। আমায় দিয়ে হবে না। আমি এক রাতের মধ্যে কিছুতেই একটা কবর খুড়তে পারবো না। কোদালটা মাটিতে গেঁথে আমি ঐ কবরের উপরেই শুয়ে পড়লাম। অনুভব করলাম চোখ দিয়ে অঝরে পানি ঝরছে। বৃষ্টির ঠান্ডা পানি নয়। তপ্ত গরম অশ্রু। এতটা কাছে এসে হেরে যাওয়া আমি মেনে নিতে পারছি না। এতো গুলি মেয়ের নির্যাতিত আত্মাকে আজ আমি হতাশ করতে চলেছি। মনে পড়লো আলেসের ডায়ারীর কথা। সে শত নির্যাতনেও ভেঙ্গে পড়েনি। কিন্তু আমি একটা কবর খুড়তে গিয়েই কাহিল! কটেজে ফিরে কি জবাব দিবো আমি আলেসের কাছে? নাহ। এ কিছুতেই হতে পারে না। আজ আমায় ব্যার্থ হওয়া চলবে না। টলমল পায়ে আবার উঠে দাঁড়ালাম। কোদালটা হাতে ধরে বড় একটা নিঃশ্বাস নিয়ে আবার কোপাতে শুরু করলাম। কতক্ষণ কুপিয়েছি জানি না। একটা সময় ঘটাং করে কোদালে কিছু বিদ্ধ হওয়ার শব্দ শুনতে পেলাম। হায় খোদা! আমি ওর কফিনের নাগাল পেয়ে গেছি! আর সামান্য খুঁড়লেই ওর কফিনটা বেরিয়ে পড়বে। খুশিতে কোদাল ছেড়ে আলতো হাততালি দিয়ে বসলাম। তখনই ব্যাপারটা বেশ ভালভাবেই অনুভব করলাম। অনভিজ্ঞ হাতে কোদাল চালাতে যেয়ে হাতলের ঘর্ষণে দুহাতের তালু ছিলে ছড়ে একাকার হয়ে গেছে। ছড়ে যাওয়া চামড়ায় বৃষ্টির পানি পড়ে যন্ত্রনাটা আরো বাড়িয়ে তুলছে। দাঁতেদাঁত চিপে ব্যাথাটা হজম করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু লাভ হলো না। মনে হচ্ছে যেন ব্যাথাটা হাত থেকে যেয়ে মগজের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে। আমার মাথা ঘুরতে শুরু করলো। অর্ধেক খুড়া কবর থেকে হাচড়ে পাচড়ে উঠে পড়লাম। আর পারবো না। কাজটা শেষ করার আগে, এখন আমায় একটু জিরোতে হবে। কবরের নামফলকের সাথে হেলান দিয়ে বসে পড়লাম। তৃষ্ণায় বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আকাশের দিকে মুখ তুলে, হা করে যতটা সম্ভব বৃষ্টির পানি মুখে ধরার চেষ্টা করলাম। কিন্তু তা কখনোই আমার পিপাসার সাথে পাল্লা দিতে পারছিলো না। এক ঢুক এক ঢুক করে যতই পানি খাচ্ছিলাম ততই পিপাসাটা যেন বেড়েই চলছিলো। পিপাসা মেটাতে আমি এতটাই ব্যাস্ত ছিলাম যে স্থান কাল পাত্র সবই ভুলে গিয়েছিলাম। মনেই ছিলো না এটা কবরস্থান। এখানে পদে পদে বিপদ ওৎ পেতে থাকে। আমার এই অন্যমনষ্কতার সুযোগে আপদটা কখন যে কাছে চলে এসেছে বুঝতেও পারি। আমার পেছনে প্রায় পনেরো বিশ হাত দুরেই একটা তীব্র সাদা আলো জ্বলে উঠলো। আমি সে আলো থেকে বাঁচতে নামফলকের আড়াল নিলাম। হায় খোদা। একটা গার্ড একেবারেই কাছে চলে এসেছে! ও কি বুঝে গেছে আমি এখানে আছি? ও কি আরো কাছে আসবে সবকিছু ক্ষতিয়ে দেখার জন্যে? আমি এটা হতে দিতে পারি না। পাশেই পড়ে থাকা সাইড ব্যাগটা আস্তে করে খুলে বিশাল হাতুড়িটা বের করে নিলাম। খানিকের জন্যে নিজেকে গ্রীক দেবতা থরের সমকক্ষ মনে হলো। পরক্ষণেই সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার সময় হয়েছে এই গার্ডটাকে থামানোর। আলোর উৎসটাকে লক্ষ করে নিঃশব্দে এগুতে শুরু করলাম। আমার চোখটা ততক্ষণে গাঢ় অন্ধকারে অনেকটাই সয়ে এসেছিলো। খানিক এগুতেই ইউনিফর্ম পরা এক লোককে আমার দিকে পেছন ফিরে দাড়িয়ে থাকতে দেখলাম। বেচারা হতভাগা। আজ ওর জীবনে নিঃসন্দেহে একটা বাজে অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। ওর নাগালের কাছাকাছি এসে হাতুড়িটা বাগিয়ে ধরতেই মনো হলো হাতুড়িটা অসম্ভব ভারী। এটা দিয়ে এমন গোবেচারা গার্ডকে পিটালে একদম ঘিলু বেরিয়ে যাবে। তারচেয়ে বরং খানিকক্ষণ অপেক্ষা করি। ও একটু পরে হয়তো ঘুরে অন্যদিকে চলে যাবে। বসে থাকতে থাকতে কেমন যেন একটা পোড়া পোড়া গন্ধ পেলাম। বুঝলাম শালা বদের হাড্ডিটা সিগারেট টানছে। সিগারেট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ও এখান থেকে যাবে না। আমার হাতে ওতো সময় নেই যে ওর জন্যে সারারাত এখানে বসে থাকবো। একে পিটিয়েই বিদায় করতে হবে। তবে এটাও দেখতে হবে যেন মরে না যায়। দ্রুত আমার শার্টটা খুলে হেমার হাতুড়িতে জড়িয়ে নিলাম। আশাকরি শার্টের কোশন থাকায় জোরে মারলেও ঘিলু বেরুবে না। কিন্তু হাতে ক্ষত নিয়ে আমি হাতুড়িটা বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারছিলাম না। আমার নতুন কেনা ভেলভেটের কোমল ব্রা টা খুলে হাতুড়ির হাতলে পেঁচিয়ে নিলাম। ইশ। কেন যে এই বুদ্ধিটা আগে মাথায় আসলো না। কোদালের হাতলে ব্রা টা জড়িয়ে নিলেই হাতে এত বড় ক্ষতের সৃষ্টি হত না। রাগে দুঃখে নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিলাম, যেন এই ক্ষতটা হাতে শতবর্ষ স্থায়ী হয়। এবার পা টিপেটিপে গার্ডের একদম পেছনে যেয়ে উপস্থিত হলাম। তবে এত সতর্কতার কো প্রয়োজনই ছিলো না। লোকটা কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শোনায় ব্যাস্ত। একদিকে গান শুনছে অন্যদিকে সিগারেট টানছে। বাহ। এতো দেখছি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ। দাড়া। এই দিচ্ছি তোর সুখের ঘরে আগুন লাগিয়ে। ইয়ায়ায়ায়া ধড়াম,,,,,,,। বিনা চিৎকারে গার্ডকে লুটিয়ে পড়তে দেখে নিজের আত্মবিশ্বাসটা এভারেস্ট ছাড়িয়ে গেলো। হাহ। একেই বলে মিসেস থর ওরফে সাঞ্জে। গার্ডটা পড়ে যেতেই ওর শক্তিশালী টর্চটাও নিভে গেল। ভালই হল।এখন অন্ধকারকেই আমার বেশী সাচ্ছন্দদায়ক মনে হচ্ছে। কিন্তু ও নড়ছে না কেনো? মরে টরে গেল না কি? উবু হয়ে বসে ওর মাথায় আমার পেন্সিল টর্চের আলো ফেললাম। নাহ। তেমন কিছুই তো হয়নি। এমনকি রক্তও বেরুয় নি। শুধু মাথার পেছনে একটা পেয়ারা গজিয়েছে। তবে আশা করছি খুব শীঘ্রই ওটা ছোটখাটো একটা ফুটবল আকৃতি ধারণ করবে। ও অজ্ঞান থাকতে থাকতেই এবার ওকে বেধে ফেলা যাক। ওর শার্টটা খুলে তার হাতা দিয়ে ওর পা দুটো শক্ত করে বাধলাম। ভেবেছিলাম ওর শার্ট দিয়ে পা বাঁধবো আর নীচের গেঞ্জি দিয়ে হাত। কিন্তু কি আশ্চর্য! লোকটা শার্টের নীচে গেঞ্জি পরেনি! এমন অগোছালো কেবল পুরুষ মানুষই হতে পারে। আমি বাজি ধরে বলতে পারি ডিউটিতে বেরুনোর সময় ব্রা ছাড়া বেরিয়েছে এমন কোন নারী এই পৃথিবীতে নেই। তবে গেঞ্জি ছাড়াই বেরিয়েছে এমন হাজারো পুরুষ আছে। এই মাত্র আমি এমন একজনের সম্মুখীন হয়েছি। কি স্টুপিড স্বভাব এদের! অবশেষে বাধ্য হয়েই আমার শার্ট দিয়েই ওর হাত বাধলাম। জেগে উঠে যেন চেঁচামেচি করতে না পারে সেজন্যে আমার পেন্টিটা খুলে ওর মুখে ভরে দিলাম। ও এখনো অজ্ঞানই আছে। এবার ওকে জাগানো যাক। আমি নিশ্চিত হতে চাই ও সত্যি সত্যিই অনড় অক্ষম হয়ে বাধনে ঠিক মতোই আটকা পড়েছে। ও যদি কোনক্রমে ভোরের আগে ছাড়া পায় তবে আমার শশুরবাড়ি যাত্রাটা কারো নাক কেটেই আটকানো যাবে না। হঠাৎ আমার নজর ওর জ্বলন্ত সিগারেটের উপর আটকে গেলো। এতো বৃষ্টির মাঝেও এখনো জ্বলছে। একজন ধোমপায়ীর জ্ঞান ফিরাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেটের চেয়ে কার্যকর কিছু এখনো আবিষ্কার হয় নি। সিগারেটটা কুড়িয়ে নিয়ে ওর নাকের ডগায় ঠেসে ধরলাম। নাকে ছ্যাকা খেতেই ও ধড়মড়িয়ে নড়ে উঠলো। আমার দিকে চোখ পড়তেই ও গো গো করতে শুরু করলো। কাঁদা মাখা আমাকে দেখে ও সম্ভবত শেওড়া গাছের পেত্নী ভেবেছে। আমি এগিয়ে গিয়ে ওর গালে ঠাস করে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম। ঘটনার আকর্ষিকতায় ও একদম হতভম্ব হয়ে গেছে। এবার আমি স্পষ্ট পোলিশ ভাষায় ওর কানে ফিসফিসিয়ে বললাম, “এই থাপ্পড়টা হল কর্তব্যে ফাঁকি দিয়ে সিগারেট টানার জন্যে।” ও বুঝলো আমি ভুতপ্রেত কিছুই না। ওরই মতো মানুষ। এটা বুঝা মাত্র ও নিজেকে ছাড়ানোয় মন দিলো। দেহটাকে সংকোচিত করে একটা বান মাছের মতোই ঘুরাতে শুরু করলো। আমি হাতুড়িটা হাতের কাছেই রাখলাম। যদি ও ছুটিয়ে ফেলতে পারে তবে আবার এক ঘা বসিয়ে দেব। তবে এবার হাতুড়িকে মুড়ানোর জন্যে আমার শার্টটা থাকছে না। সেটা ইতিমধ্যেই ওর হাতে বাধন হিসেবে শোভা পাচ্ছে। এবার যদি মারি তো একদম আসল হাতুড়ির ঘা টাই পড়বে। এতে ওর অক্কা পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। কিন্তু ওর কপালের জোর অনেক বেশী। এতো টানা হেচড়ার পরেও ও বাধন খুলতে পারলো না। এক সময় ক্লান্ত হয়ে নেতিয়ে পড়লো। যাক। অনেক হয়েছে। এবার কাজে ফিরতে হবে। ঘড়িতে প্রায় আড়াইটা বেজে গেছে। আর ঘন্টা খানেকের মধ্যেই সূর্যদয় হবে। এই এক ঘন্টার মধ্যেই আমাকে সেই প্রিস্টের দফারফা করে দিতে হবে। গার্ডের নিতম্বে কষে দুটো লাথি বসিয়ে আবার ফিরে গেলাম প্রিস্টের কবরে। এবার আর কোদালের হাতলে ব্রা টা জড়িয়ে নিতে ভুললাম না। এমনিতেই গার্ডকে পিটিয়ে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে তার উপর হাতের ব্যাথাটাও কমে এসেছে। তাই কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে গেলো। পনেরো মিনিটের মধ্যেই কবর খুড়ে প্রিস্টের কফিনটা বের করে ফেললাম। কিন্তু এ কি! কফিনটার এ কি অবস্থা! এটা কোন সাধারণ কাঠের কফিন নয়। আগা গোড়া লোহায় তৈরি। আর সবচে আশ্চর্যজনক ব্যাপারটা হল কফিনের ডালাটায় একটা বিশাল তালা ঝুলছে! ব্যাপারটা অনুমান করতে কষ্ট হলো না যে কেন এতো আয়োজন। লোহার কফিনে তালা লাগিয়ে কোন লাশকে কখনোই দাফন করা হয় না। এ পদ্ধতিটা কেবল জীবন্ত দাফনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে। তবে কি এই শয়তানটাকে জীবন্তই পুঁতে দেয়া হয়েছিলো? সত্যিই যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে বড্ড অন্যায় করা হয়েছে। এই শয়তানটাকে কমপক্ষে তিনদিন তিনরাত গণধোলাই দিয়ে, পরদিন ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মেরে তারপরেই কফিনে ঢুকানো উচিৎ ছিলো। কিন্তু এ তালার চাবি কোথায় পাবো? হঠাৎ মনে পড়লো সাইডব্যাগে একটা হেক্সো ব্লেড থাকতে আমি চাবি খুজতে যাবো কেন? ব্লেডটা দিয়ে তালা কেটে ফেললেই তো হয়। অতপর ব্যাগ থেকে ব্লেডটা নিয়ে এসে তালায় ঘসতে শুরু করলাম। তীক্ষ্ণ একটা কীচ কীচ শব্দ গোরস্থানের নিরবতা ভঙ্গ করলো। একটা সময় ঘট করে তালাটা খুলে পড়লো। একরাশ ভয় এসে আমায় গ্রাস করে নিলো। কফিনের ভেতর জীবন্ত কবর দেয়া শয়তানটা কি এখনো বেঁচে আছে? যদি থাকে তো আমায় দেখে কি হবে ওর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া। প্রচন্ড ইচ্ছা করছে এসব ফেলে ছুটে পালিয়ে যাই। কফিনটা না খুললেই কি নয়? কফিনটা খুললে যদি ওটা মুক্ত হয়ে যায় তখন কি হবে? কিন্তু আমি এর শেষ না দেখে ছাড়ছি না। আজ এর একটা বিহিত করেই ছাড়বো। বৃষ্টিটা হঠাৎ করেই এখন থেমে গেছে। চারিদিকে সুনসান নিরবতা। প্রকৃতিও যেন এক অজানা অঘটন ঘটার প্রতিক্ষায়। আমার কাঁপাকাঁপা হাত দুটো কফিনের ডালাটায় রাখলাম। তারপর একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে হঠাৎ ডালাটা হেচকা টানে খুলে ফেললাম। হায় খোদা, আমি এ কি দেখছি!!! এটা কিভাবে সম্ভব!!! এই লাশটা তো দেখছি একদমই জ্যান্ত ,, কফিনটা খুলে একদম বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। মধ্যযুগে কবর দেয়া কারো লাশ এতটা জীবন্ত হতে পারে। মনে হচ্ছে যেন সদ্যমৃত বা ঘুমিয়ে থাকা একটা জান্ত দেহ! মুখের অবয়ব, মুখভঙ্গি, উন্নত নাসিকা, খাড়া খাড়া কান! তবে কি আমি ভুল কবর খুঁড়েছি? কিন্তু তা হতে যাবে কেন? কফিনটা তো একটা মধ্যযুগীয় লোহার কফিন। এখনকার কফিনগুলি সাধারণত উন্নত প্লাস্টিক বা কাঠ দ্বারা তৈরি। তার উপর তালাটা আমি নিজের হাতেই খুলেছি। কেউ যে আমার আগে লাশ বদলে দেবে তার সম্ভাবনাও নেই। সবচেয়ে বড় কথা হলো লাশটার হাতে এখনো সেই আংটিটা চকচক করছে! কিন্তু লাশটা একদমই অক্ষত। আমি স্তম্ভিত হয়ে ভাবছিলাম এই লাশটা কি ভাম্পায়ারের মতোই রাতে জেগে উঠে জ্যান্ত মানুষের রক্ত খায়? সেজন্যেই হয়তো এখনো পচন ধরেনি। ওটা কি এখন ক্ষুধার্ত! এবার কি আমাকে খেতে আসবে? আরে ধ্যাত। আমি এখানে লাশ নিয়ে গবেষণা করতে আসি নি। হয়তো প্রিস্ট এতো বড় শয়তান হয়ে গিয়েছিলো যে শবখোর পোকাদেরও ওকে খেতে অরুচি ধরে গেছে। সে যাই হোক। এখানে ওকে নিয়ে আমার কোন কাজ নেই। শুধু ওর আংটিটা আমার প্রয়োজন। আংটিটা ওর হাত থেকে ভালয় ভালয় খুলে নিতে পারলেই, ওটা নিয়ে দে চম্পট। কিন্তু ও যদি বাধা দেয়? হাতুড়িটা তো আছেই। মেরে ঘিলু বের করে দেবো। এক হাতে হাতুড়িটা বাগিয়ে ধরে অন্য হাতটা ওর আংটি পরা হাতে রাখলাম। ঠান্ডা আঠালো একটা অনুভুতি হলো। লাশ ঠান্ডা হতেই পারে কিন্তু আঠালো হবে কেনো? হাত তুলে একটু পিছিয়ে গেলাম। অনুভব করলাম হাতে একটা চটচটে আঠালো পদার্থ লেগে আছে! ঘেন্নায় আমার গা রি রি করে উঠলো। সম্ভবত ওর পঁচা গলা চামড়া আঠালো হয়ে আমার হাতে উঠে এসেছে। একটু ইতস্তত করে হাতটা নাকের কাছে নিলাম। আমি মধ্যযুগীয় একটা মৃতদেহের পঁচা দেহজ তরলের একটা উৎকট দুর্গন্ধ আশা করেছিলাম। কিন্তু এর বদলে পাইন গাছের আঠার মতো গন্ধ পেলাম। আশ্চর্য! ব্যাপারটা নিশ্চিত হতে পেন্সিল টর্চটা জ্বালিয়ে আমার হাতটা পরিক্ষা করলাম। আরে! এটাতো পাইন গাছের আঠা ই। আমি আলোটা লাশের মুখে ফেলে ভাল করে ঝুকে দেখলাম। এবার আমার কাছে প্রিস্টের জ্যান্ত লাশের রহস্য উন্মোচিত হলো। প্রাচীন মিশরীয় ফারাও রা নিজেদের দেহকে সংরক্ষিত করে রাখতো মমি হিসেবে। ওদের বিশ্বাস ছিলো মৃত্যুর পর ওদের আত্মা সে দেহে আবার ফেরত আসবে। এই শয়তানটাও সে বিশ্বাস ধারণ করে নিজের দেহকে সংরক্ষণ করিয়েছিলো। কিন্তু মিসরের মতো ততকালীন ইউরোপে মোমি করার জন্যে যথেষ্ট মোম ছিলো না। সম্ভবত সেজন্যেই ওর দেহটাকে পাইনের আঠা দ্বারা মমি করা হয়েছিলো। মমি করা দেহে যেকোন সময় আত্মা ফেরত আসতে পারে। প্রিস্ট যেকোন সময় কবরের মধ্যেই জেগে উঠে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে পারে, এমন বিশ্বাস থেকেই ওর দেহটাকে লোহার কফিনে পুরে তালা দিয়ে আটকে দেয়া হয়। প্রিস্টের অনুসারীরা হয়তো ভাবতেই পারেনি সহস্রাব্দ পরে একটা মেয়ে এসে সেই তালা ভাঙবে। নইলে হয়তো আরো শক্ত কিছু দিয়ে কফিনটা বন্ধ করতো। সেসব বোকা লোকগুলির কথা ভেবে বেশ হাসি পেলো। বেশ তো। এবার ওর আংটিটা বের করে নেয়া যাক। কাঁপাকাঁপা হাতে ওর বা হাতের মধ্যমায় পরানো আংটিটা ধরে টান দিলাম। উহঃ। খুলছে না। সম্ভবত পাইনের আঠায় ভালভাবেই আটকে গেছে। অপর হাত থেকে হাতুড়িটা ফেলে এবার দুহাত দিয়েই আংটিটা খুলার চেষ্টা করলাম। এখনো খুলছে নাহ! এক হাত দিয়ে প্রিস্টের কব্জি চেপে ধরে অন্য হাতে আংটিটা ধরে সর্বশক্তিতে টানছি। আংটিটা নিয়ে বেশী ব্যাস্ত থাকায় কখন যে প্রিস্টের মাথাটা ঘুরে আমার দিকে স্থির হয়েছে আমি তা খেয়ালই করিনি। হঠাৎ ওর আংটা পরা হাত আমার ডান হাতটা সজোরে চেপে ধরলো। হায় খোদা। আমার হৃদপিণ্ডটা এবার থেমে যাওয়ার উপক্রম। মাথাটা ভনভন করে ঘুরতে শুরু করেছে। এ কি হচ্ছে আমার সাথে! আমি আবার কোন স্বপ্ন দেখছি নাতো। আমি বা হাত দিয়ে হাতড়ে হাতুড়িটার খোজ করতে লাগলাম। কিন্তু আমি তো ইতিমধ্যেই ওটাকে ফেলে দিয়েছি। এখন তো ওটাকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু নির্মম বাস্তবতা হল ওটা আমার বা হাতের নাগালের বাহিরে! প্রিস্টের লাশটা আমার ডান হাতটা শক্ত করে চেপে আছে। আমাকে ওর দিকে টেনেও নিচ্ছে না আবার ছেড়েও দিচ্ছে না। আমি যতই ছাড়ানোর চেষ্টা করছি ও ততই শক্ত করে আকড়ে আছে। তখনই হঠাৎ মনে পড়লো গতরাতে বেসমেন্টে দেখা স্বপ্নের কথা। সেখানে কিলবিল করতে থাকা শুঁয়োপোকাটার মাধ্যমে আলেস আমায় বুঝাতে চাইছিলো প্রিস্টের দেহটা এখনো জীবন্ত। আর আমি কি না সেটাকে স্রেফ ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ ভেবে ভুল করেছি। স্বপ্নে আমি যখনই শুঁয়োপোকাটার কবরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম তখনই হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে যায়। যদিও তখনো ভোর হতে ঘন্টা খানেক বাকী ছিলো। বাকিটা রাত আমি আর কোন স্বপ্নই দেখিনি। এটা একটা সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা ছিলো। আলেস বলতে চাইছিলো যে, আর যা ই কর না কেন, কখনই প্রিস্টের কবরে নেমো না। আমি সেই সতর্কবার্তাটাও সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছি। এমন কিছু হতে পারে তা আমার কল্পনায় ও আসে নি। আমি যখন আমার অমার্জনীয় ভুল গুলির জন্যে অনুতাপ করছিলাম ঠিক তখনই শয়তানটা আমার হাত ধরে হেচকা টান দিলো। আমি তাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে, কফিনের মধ্যে, ওর লাশের উপরই উপুর হয়ে পড়লাম। এবার ওর মুখটা আমি খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছিলাম। ওখানে একটা আকর্ণ বিস্তৃত, বিকৃত হাসি ছড়িয়ে পড়েছে। পিলে চমকে উঠলাম। ভয়ে আমার গলাটা শুকিয়ে কাঠ। সর্বউচ্চ চেষ্টা করেও মুখ দিয়ে কোন চিৎকার বের করতে পারলাম না। প্রিস্টের আংটি পরা হাতটা এবার আমার হাতকে ছেড়ে দিয়ে আমার কোমড় পেঁচিয়ে ধরলো। আর অপর হাত দিয়ে কফিনের উপরের ডালাটা বন্ধ করে দিলো। ঠিক তখনই আমি গলা ফাঁটিয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম। কিন্তু ততক্ষণে এ চিৎকারটা নিষ্ফল হয়ে গেছে। ডালা বন্ধ কফিনের ভেতর থেকে আমার চিৎকার কখনই বাহিরের গার্ডদের কানে পৌছবে না। হায় খোদা! এটা কি হলো! উদোম গায়ে আমি আটকা পড়েছি এক অর্ধমৃত মধ্যযুগীয় রেপিস্টের কফিনে। মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে। এখন ও যদি আমায় মেরে ফেলে তবে আমার আত্মাটা কি বাকিটা সময় প্রিস্টের যৌনদাসী হয়েই থাকবে? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই কফিনের ভেতর চারপাশ থেকে অসংখ্য নারীকণ্ঠের আর্তনাদ, বিলাপ, আর ক্রন্দন ধ্বনি ভেসে আসতে লাগলো। উহঃ। কি অসহ্য। কান ফেটে যাবে মনে হচ্ছে।আমি দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পিঠ দিয়ে কফিনের ডালাটা উপরের দিকে ঠেলতে লাগলাম। কিন্তু ওটা কিছুতেই খুলতে চাইছে না। মনে হয় আটকে গেছে। মনে হচ্ছিলো সব শেষ। আমি আর এখান থেকে বেরুতে পারবো না। আলেসকে ভুল বুঝে আমি নিজেই নিজের বিপদ ডেকে এনেছি। অনুভুতি গুলি কাজ করছে না। এভাবে মরতে হচ্ছে বলে নিজের মধ্যে কোন অনুভুতি বা অনুশোচনা হচ্ছে না। শুধু মরার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছা করছে। আমার আত্মাটার কি হবে? মৃত্যুর পরেও কি আমি এই প্রিস্টের কবল থেকে মুক্তি পাবো না? পরিশ্রম আর উত্তেজনা শেষে অবসাদে দেহটা নেতিয়ে পড়লো প্রিস্টের দেহের উপর। আমার উদোম শরীরে ওর দেহ থেকে আঠা লেগে চটচট করছে। আমি হাল ছেড়ে দিয়েছি। শুধু চাইছি মৃত্যুটা যেন দ্রুত ও বেদনাহীন ভাবে হয়। মাথাটা ঝিমঝিম করছে আর প্রচন্ড ভারী মনে হচ্ছে। অবশেষে নিরুপায় হয়ে প্রিস্টের আঠালো বুকে মাথাটা এলিয়ে দিলাম। ক্ষাণিকের জন্যে আমার বাগদত্তা অভিকে খুব মনে পড়লো। শৈশবটা একসাথেই কাটিয়েছি আমরা। কৈশরে এসে রঙিন ভালবাসা। প্রায় দশটা বছর ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেম করছিলাম আমরা। কিন্তু আমার আম্মুটার সেটা সহ্য হলো না। বিয়ের আয়োজন করে বসলো। ওর সেই চশমা পড়া গোলগোল মায়াবী চোখ, আর প্রশস্ত চওড়া বুকের ছাতি। অনেকদিন হলো ওর বুকে এভাবে মাথা রাখতে পারিনি! অনুভব করলাম প্রিস্টের হাত দুটো আমার কোমর থেকে নগ্ন পিঠ বেয়ে উপরে উঠে আসছে। মনে হলো যেন পিঠে দুটো শুঁয়োপোকা কিলবিল করছে। ঠিক যেমন সপ্নে দেখেছিলাম। একসময় হাত দুটো ধীরে ধীরে আমার গলার দিকে এগুতে লাগলো। ও সম্ভবত আমায় গলা চিপে মারতে চায়। বাধা দেওয়ার শক্তি বা ইচ্ছা কোনটাই নেই। আমি শুধু অধীর আগ্রহে জীবনের শেষ পরিণতির জন্যে অপেক্ষা করছি। হতাশায় চোখ দুটো বুজে এলো। তখনি আমি নিজেকে কফিনে একা আবিষ্কার করলাম। প্রিস্টের দেহটা অদৃশ্য। উজ্জ্বল পরিষ্কার চাঁদনি রাত। আমি একা শুয়ে আছে এই লৌহ কফিনে। ডালাটা উপরে তুলা আছে। হঠাৎ কবরের নামফলকের পাশে এক পরমা সুন্দরি অপরূপাকে দেখতে পেলাম। বাথরুমের আয়নায় প্রথম দর্শনে আলেস যে এক প্রস্থ কাপড় পড়েছিলো, ঠিক তেমনি একটা কাপড় পড়েছে মেয়েটি। আমার দিকে তাকিয়ে খানিকটা হেসে ওর একটা হাত নাড়লো। তারপর সেই হাতের মধ্যমাটা অন্য হাত দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে ছিড়ে ফেললো। কি বিদঘুটে কান্ড। তারপর একটা রহস্যময় হাসি দিয়েই সে দৌড়ে চলে গেলো। ও চলে যেতেই মেঘ গুলি চাদকে ঢেকে দিলো। চারিদিক আবার অন্ধকার হয়ে এলো। অনুভব করলাম এ অন্ধকারেই এক জোড়া হাত আমার গলা জড়িয়ে ধরছে। নিজেকে আবারো কফিনের ভেতরই আবিষ্কার করলাম, প্রিস্টের সাথেই। ও আমার গলা চিপে ধরেছে। আমার মাথায় দ্রুত কিছু ভাবনা খেলে গেলো। আলেসের কাপড় পড়া সুব্দরী মেয়েটি মার্টিনী না হয়ে যেতেই পারেনা। ওরা জীবদ্দশায় বন্দিশালায় কাপড় শেয়ার করেছিলো। তাই ওদের অশরীরী দুটো একই কাপড়ে আবির্ভাব হয়। ও আমায় একটা বার্তা দিয়ে গেছে। প্রিস্টের বা হাতের মধ্যমায় পরা আংটিটাই ওকে আবার বাঁচিয়ে তুলেছে। ওটাই ওকে এতটা ক্ষমতাবান করেছে। ওর আংটি পরা মধ্যমাটা যদি ভেঙ্গে দিতে পারি তবেই আমার প্রাণ বাচবে। মেয়েগুলির আত্মাও মুক্তি পাবে। ওর হাতের আঙুল গুলি আমার চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। অন্ধকারে ঠিক বুঝতে পারছিনা কোনটা সেই কাঙ্খিত আংটি পরা মধ্যমা। তবে হাতড়ে অনুমান করার চেষ্টা করছি। হঠাৎ আমার আঙুলের ডগায় সেই আংটির স্পর্ষ পেলাম। শয়তানটা নীচে শুয়ে থেকে, দু হাতের আটটি আঙুল দিয়ে আমার ঘাড় চেপে ধরেছে। আর বুড়ো আঙুল দুটো দিয়ে সরাসরি শ্বাসনালীর উপর চাপ দিচ্ছে। আমার শ্বাস প্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। ফুসফুসটা বাতাসের অভাবে যেকোন সময় ফেটে পড়বে। অক্সিজেনের অভাবে সারা শরীরে খিচুনি শুরু হয়েছে। হাত পা গুলি তিরতির করে কাঁপছে। এই সঙীন অবস্থায়, ঘাড়ে বসে যাওয়া ঐ আঙুলটাকে আমি কিছুতেই মুচড়ে ভাঙতে পারবো না। মনেমনে বলতে চাইলাম দুঃখিত মার্টিনী, তোমার বার্তাটা আমি কাজে লাগাতে পারলাম না, অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু গলা দিয়ে শুধুই গড়গড় শব্দ বেরুলো। »চলবে….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now