বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ডাকিণী-১, পর্ব-৩১,৩২,৩৩,৩৪,৩৫
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
(WORNG.....গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।)
গীর্জাটা সিমেট্রির একদম ঘাড় ঘেসে দাঁড়ানো। কোনভাবে যদি আমি গীর্জার ছাদে হাতুড়ি শাবল কোদাল ইত্যাদি তুলতে পারি তো ওখান থেকে সেগুলি ছুড়ে দিলেই তা সিমেট্রির দেয়ালের ভেতরে গিয়ে পড়বে। তারপর নিচে গিয়ে, সিমেট্রিতে ঢুকে সেগুলি কুড়িয়ে নিলেই হলো। আর হাতে শাবল থাকা অবস্থায় একজন গার্ডকে আমি সহজেই কাবু করতে পারবো। শুধু লক্ষ রাখতে হবে যেন কাজটা নিঃশব্দে করা হয়। আর্তনাদ করার আগেই গার্ডকে পিটিয়ে অজ্ঞান করে দিতে হবে। এতে হাতে প্রায় একঘণ্টার মতো সময় পাওয়া যাবে। এই এক ঘন্টার মধ্যেই আমাকে কবর খুঁড়ে প্রিস্টের লাশের হাত থেকে আংটি বের করে, আবার ওটাকে মাটিচাপা দিতে হবে। স্পষ্টতই বুঝতে পারলাম এ কাজটা দিনের আলোয় অসম্ভব। রাতের আধারে গা ঢাকা দিয়েই কাজটা সারতে হবে। ব্যাপারটা ভাবতেই ভয়ে গা ছমছম করে উঠলো। একবার গীর্জায় ঢুকা প্রয়োজন। ওখানে প্রাহারার ব্যবস্থাটা একবার দেখতে হবে। তবে আশাকরি এতটা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে না। সিমেট্রির পেছনের ফটক গলে গীর্জা প্রাঙ্গণে পা রাখলাম। গীর্জাটা একদম খালি। ছাদে একটা বিশাল ক্রুশ দাড়িয়ে। তার নীচে একটা বিশাল পেণ্ডোলিয়াম ঘড়ি। বাহ। আমার কাজের জন্যে একদম আদর্শ। জিনিসপত্র সব ক্রুশের নীচে লুকিয়ে রাখবো আর ঘড়িটা যখন প্রতি ঘন্টায় ঢং ঢং করে বেজে ঊঠবে তখন সেগুলি ছাদ থেকে সিমেট্রির ভেতরে ফেলে দেব। এতে ওগুলির পতনের শব্দ ঘড়ির ঘন্টার শব্দে ঢাকা পড়বে। তারপর ক্রুশের সাথে দড়ি বেধে সেটা সিমেট্রির দেয়ালের ভেতর ছুড়ে দেব। সেই দড়ি বেয়ে, অন্ধকারের আড়াল নিয়ে, গার্ডের অলক্ষে, সিমেট্রিতে ঢুকে পড়বো। আপন মনে শীষ দিলাম। মাঝে মধ্যে নিজের বুদ্ধি দেখে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই। হি হি হি। কিন্তু এখনই এতটা নিশ্চিত হওয়া উচিৎ হবে না। গীর্জার ভেতরে ঢুকে দেখতে হবে কেউ আছে কি না। খৃষ্টানরা তো আবার সাপ্তাহিক ধার্মিক। সারা সপ্তাহ মদ গিলে রোববার গীর্জায় গিয়ে যিশুর কাছ থেকে মাফ চেয়ে নেবে। কি আজব সিস্টেম এদের। আজ বুধবার। তাই আমি সম্ভবত আজ গীর্জাটা ফাঁকাই পাচ্ছি। তবুও সাবধানের মার নেই। দোতলার জানালায় আমি যেন একটা ছায়াকে সরে যেতে দেখলাম। এবার একটু অভিনয় করতে হবে। ছাদে দাঁড়ানো ক্রুশটার দিকে খানিকক্ষণ একাগ্রচিত্তে তাকিয়ে থেকে বুকে পরপর তিনবার ক্রুশ আকলাম। আশা করি অভিনয়টা নিখুঁত হচ্ছে। দোতলার জানালা থেকে কেউ যদি আমায় অনুসরণ করেও থাকে তবে ওর যেন মনে হয় আমি এক ধর্মপ্রাণ খৃষ্টান। ভাবলেশহীন চেহারায় স্থির পদক্ষেপে এগিয়ে গেলাম গীর্জার ফটকের দিকে। দরজা খুলে ঢুকে পড়লাম সাক্ষাৎ নরকের ভেতর। গলাটা উঁচু করে পোলিশ ভাষায় হাক ছাড়লাম, ভেতরে কি কেউ আছেন? প্রত্যুত্তরে একটা ইঁদুর মেঝে দিয়ে দৌড়ে গেল। আবার হাক ছাড়লাম কিন্তু কোন উত্তরই পেলাম না। গীর্জার প্রার্থনা ঘর, কনফেশন রুম, বাথরুম সবখানে ঢু মারলাম। কেউ নেই দেখে পা টিপেটিপে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলাম। শুন্য গীর্জায় নিজেকে একা পেয়ে একটা অজানা ভয় মনের ভেতর দানা বাধলো। আমি তখনো জানতাম না আমি এখানে একা নই। উপরের তলায় কেউ একজন আমার জন্যে অপেক্ষা করছে। গীর্জার নীচতলায় কাউকে না পেয়ে আমি ভেবেছিলাম হয়তো এখানে কেউ নেই। তাই দ্বিতীয় তলা চেক না করেই সিঁড়ি ভেঙ্গে সোজা ছাদের দিকে রওনা হই। হঠাৎ পেছনে বলে উঠে “এসো তনয়া। আমি তোমার জন্যেই অপক্ষা করছিলাম। একদম পিলে চমকে উঠেছিলো। নিজের অজান্তেই সারেন্ডারের ভঙ্গিতে দু হাত মাথার উপর উঠে গিয়েছিলো। ঘাড় ফিরিয়ে বুড়ো পাদ্রিটা লাঠিতে ভর করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হাত নিচে নামালাম। খানিকের জন্যে আমি ভেবেছিলাম আমি হয়তো ধরা পরে গেছি। এখন আর ভয়ের কিছুই নেই। এই হাড় জীর্ণ বুড়োটা আমার কিছুই করতে পারবে না। একটা ধাক্কা দিলেই পড়ে অক্কা পাবে। তবুও আমি সৌজন্যতা দেখিয়ে ওকে হাত জোড় করে বাউ করলাম। তারপর গৎবাঁধা বুলি আওড়ালাম,” ফাদার, আমি জীবনে অনেক ভুল করেছি। আমি এর থেকে মুক্তি চাই। আপনি আমার জন্যে যীশুর কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করুন। নইলে যে আমাকে আজীবন নরকে জলতে হবে।” আমার কথাবার্তায় ফাদারকে অনেকটাই সন্তুষ্ট মনে হল। হয়তো লোকটার এসব দেখতে দেখতে অভ্যেস হয়ে গেছে। খৃষ্টানরা ব্যাক্তিজীবনে কোন অপরাধ করলে গীর্জায় এসে পাদ্রীর কাছে সব খুলে বলে। অতপর পাদ্রী নাকি ওদের পক্ষ হতে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই রীতিকে ওরা কনফেশন বলে। ক্ষমা হয়ে গেলে ওরা খুশি মনে গীর্জায় সামর্থ অনুযায়ী ডোনেশন করে। এই ডোনেশনের টাকায়ই বর্তমানে গীর্জাগুলি চলে। কিন্তু গীর্জার অতীত এতটা করুন ছিলো না। একটা সময় ছিলো যখন গীর্জাগুলি মানুষের দয়া দাক্ষিণ্যের উপর নির্ভর না করে তার প্রয়োজনীয় সম্পদটা ছিনিয়ে নিতো। আলেসের ডায়ারীতে তৎকালিক গীর্জা কর্তৃক তার পারিবারিক সরাইখানা দখলই তার প্রমাণ। কিন্তু কালের আবর্তে সেই গীর্জা এখন পাহাড়ী সিংহ থেকে ঘরোয়া বিড়ালে পরিণত হয়েছে। আগে জোর করে ছিনিয়ে নিতো, আর এখন দিলে খায়- না দিলে উপোস করে। “তুমি ভুল সময়ে এসেছো বাছা।” পাদ্রীর কথা শুনে আমি ভাবনার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরলাম। আমি বিনীত কন্ঠে বললাম, “আমি দুঃখিত ফাদার, কি বলেছেন শুনতে পাইনি।” বুড়োটা আবার বলল, “তুমি ভুল সময়ে এসেছো। আজ বুধবার। এখানে কনফেশন হয় শনিবার ও রবিবার বিকাল ৯টায়।” আমি তটস্থ কণ্ঠে বললাম, “আমি দুঃখিত ফাদার। উইকএন্ডে আমায় কাজে যেতে হয়। আপনি যদি কাল সন্ধায় আমায় একটু সুযোগ দিতেন তো আমার বড্ড উপকার হতো।”
বুড়ো রাজি হয়ে গেল। আমি আবার বললাম, “কাল বিকাল ১০টায় আমি আবার আসবো ফাদার। এখন আমায় একটা কাজে যেতে হবে। তবে যাওয়ার আগে এই গীর্জাটা একটু ঘোরে ফিরে দেখতে চাই। আপনার আপত্তি নেইতো? ” বুড়োটা মাথা নেড়ে, দুইতলায় নিজের কক্ষে যেয়ে খিল দিলো। ওর ভাবভঙ্গী দেখে মনে হলো না ও কিছু আঁচ করতে পেরেছে। ও চলে যেতেই আমি এক দৌড়ে গীর্জার ছাদে উঠে গেলাম। বাহ। ছাদটা যেন আমারই জন্যে বানানো হয়েছে। ছাদের তিনদিকে রেলিং থাকিলেও সিমেট্রির পাশটায় রেলিং নেই, একদম খোলা। শীতে ছাদে তুষার জমলে এই দিকেই ঠেলে নিচে ফেলা হয়। এদিকে দড়ি ফেলে সহজেই উঠানামা করা যাবে। আজ এখানকার কাজ শেষ। এখন বাড়ি ফেরার পালা। কাল সব জিনিসপত্র নিয়ে আবার এখানে চলে আসবো। কাল রাতের মধ্যেই কাজটা শেষ করতে হবে। যে করেই হোক। গীর্জার প্রাঙ্গণ ছেড়ে আবার সেই সিমেট্রিতে ঢুকে পড়লাম। আগের মতো এদিক ওদিক না ঘুরে এবার প্রিস্টের কবরটা খুজে বের করলাম। ঠিক যেমনটা স্বপ্নে দেখেছিলাম তেমনি আছে। কবরের ফলকে সেই আংটির চিহ্ন। অনেক কষ্টে প্রস্রাবের বেগটা থামালাম। মনে মনে বললাম, এখন না। কাল তোমায় খুঁড়ে তোলে তারপর ভেজাব। সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লো। ছায়াগুলি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সূর্যাস্ত নামবে। আলোছায়া ময় ভৌতিক পরিবেশে মনের মধ্যে এক উদ্ভট প্রশ্ন জাগলো। আচ্ছা, এই গোরস্থানে শুয়ে থাকা সবাইকি মৃত? নাকি দু একজন কবরের মধ্যে আধবোজা চোখে শুয়ে আছে, আধার নামার প্রতিক্ষায়। ভাবতেই গা গুলিয়ে উঠলো। কাল রাতে আমাকে এখানেই আসতে হবে। একাকী,,,,, নাহ। এসব নিয়ে আর ভাবা চলবে না। যত ভাববো ততই ভয় বাড়বে। তারচেয়ে দিনের আলো থাকতে থাকতেই এখান থেকে বেরিয়ে পড়া যাক। বাড়ি ফেরার জন্যে ঘুরে দাড়াতেই ধপাস করে প্রিস্টের কবরের পাশেই আছড়ে পড়লাম । পড়িমরি করে উঠতে যেয়ে অনুভব করলাম বা পা টা কে যেন টেনে ধরেছে। হৃদপিণ্ডটা ধড়াস করে উঠলো। তবে কি কটেজে দেখা সেই ভয়াবহ স্বপ্নটা সত্যি হতে চলেছে! আমি ভেবেছিলাম একটা আংটি পড়া হাত আমার পা চেপে ধরেছে। এবার একটু একটু করে কবরের কাছে টেনে নিয়েই ঝপাং করে ভেতরে ঢুকিয়ে নেবে। মাটিতে পড়ে গিয়ে একটা গাছের শেকড়কে প্রাণপণে জড়িয়ে ধরলাম। যেন প্রিস্ট আমায় টেনে নিয়ে যেতে না পারে। তবে অনেক্ষণ ধরে পায়ে টান না পড়ায় শেষে ঘাড় ঘুড়িয়ে আটকে যাওয়া পায়ের দিকে নজর দিলাম। নাহ। ওটা কোন মানুষের হাত নয়। একগুচ্ছ বুনো লতায় পা টা আটকে আছে। পা ছাড়াতে যেয়ে বুঝলাম ওটা কাঁটাওয়ালা লতা। পায়ের চামড়া মাংস সব ছিড়ে নিচ্ছে। অনেক কষ্টে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে পড়লাম। এই কবরস্থানটা দিনের বেলায়ই এতটা ভয়ঙ্কর। রাতে না জানি আরো কত কি! সিমেট্রির প্রধান ফটক দিয়ে বেরুবার সময় আবার গার্ড দুটোকে দেখলাম। ঠায় দাড়িয়ে আছে। কাল আমায় এদের চোখকেও ফাঁকি দিতে হবে। কি হবে ওরা যদি আমায় কবর খুড়তে দেখে ফেলে? চোখের সামনে শ্বশুরবাড়ি (কারাগারের) চিত্রটা ভেসে উঠলো। বাড়ি ফিরতে ফিরতেই সূর্য ডুবে গেলো। ঘড়ির দিকে তাকালাম। সাড়ে এগারোটা বাজে। পোল্যান্ডে গ্রীষ্মে ২০ ঘন্টা দিন আর মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘন্টা রাত। অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে কাজ সারতে হলে আমাকে এই চার ঘন্টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। বুঝতে পারছি কাল অনেকটা বাঁচা মরার লড়াই হতে চলেছে। আমাকে এতে জিততেই হবে। আলেস সহ আরো শখানেক মেয়ের মুক্তিটা যে আমার হাতেই ঝুলছে। বাড়ি ফেরে ডিনার সারলাম। কিছুতেই মাথা থেকে আগামীকালের দুশ্চিন্তা সরাতে পারছিলাম না। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে হবে। সামনে একটা নির্ঘুম রাত অপেক্ষা করছে। ড্রয়িংরুমের ঘড়ি থেকে রাত বারোটার ঘন্টা বেজে উঠলো, ঢং ঢং। সিদ্ধান্ত নিলাম আজ রাতে বেসমেন্টে ঘুমাবো। কটেজের বাকী সব ঘরের তুলনায় ওখানেই আলেসের প্রভাব সবচেয়ে বেশী। শেষ মুহুর্তে ও যদি কোন বার্তা দিতে চায় তবে যেন সহজেই স্বপ্নে দেখিয়ে দিতে পারে। ব্যাপারটা অনেকটাই স্বেচ্ছায় দুঃস্বপ্ন দেখার মতো। তবে আজ রাতের দুঃস্বপ্নটাই হয়তো কাল রাতে আমার প্রাণ বাঁচাতে পারে। একটা ফোন, বালিশ, বেডশীট আর আলেসের ডায়ারীটা সাথে নিয়ে সিড়ি ভেঙ্গে বেসমেন্টে চলে গেলাম। সেই পরিচিত সেলে ঢুকে দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করলাম। বেডশীটটা বিছিয়ে তার উপরে বালিশ রেখে শুয়ে পড়লাম। আমি জানি আজ স্বপ্নে আলেসকে দেখবই। অন্তত কালকের ভয়াবহ অভিযানের সাফল্য কামনা করতে আজ রাতে সে আসবেই। ফোনের আলোটা নিভিয়ে দিলাম। রাজ্যের ক্লান্তি আর নিরেট আধারে মুহুর্তেই ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলাম।
তার কিছুক্ষণ পরেই নিজেকে ঐ গীর্জার ছাদে আবিষ্কার করলাম। হাতে একটা কালো ব্যাগ ধরা। ওতে কুদাল, শাবল, এক বাণ্ডিল নাইলনের দড়ি, একটা বিশাল হাতুড়ি, একটা হেক্সো ব্লেড আছে। পকেট হাতড়ে একটা পেন্সিল টর্চ, একটা পকেট নাইফ, একটা লাইটার আর গাড়ির চাবি পেলাম। বেশ তো। এবার তাহলে যাওয়া যাক। ব্যাগ থেকে দড়ি বের করে ক্রুশের সাথে ভাল করে বাধলাম। দড়ির অপর প্রান্ত ছাদ থেকে ঝুলিয়ে দিলাম নিচে।তারপর রাত বারোটার ঘন্টা বাজতেই ব্যাগটা ছুড়ে ফেললাম সিমেট্রির দেয়ালের ভেতর। ওটা নিচের অন্ধকারে স্রেফ অদৃশ্য হয়ে গেলো। তারপর দড়ি বেয়ে নামতে শুরু করলাম সিমেট্রির ভেতরে। ভেতরে ঢুকতেই দেখলাম আমার সামনে একটা নতুন কবর খুড়া। পেন্সিল টর্চের আলো ফেলতেই ওর ভেতরটা নজরে পড়লো। একটা মানুষের মতো আকারের বড় শুঁয়োপোকা ওতে কিলবিল করছে। ওর মাথায় দুই শুঁড়ের মাঝখানে আছে ঐ আংটিটা। আমি মরিয়া হয়ে পকেট থেকে নাইফ টা খুলে বাগিয়ে ধরে সেই কবরে ঝাপ দিলাম। সাথে সাথেই স্বপ্নটা ভেঙ্গে গেলো। হাতড়ে ফোনটা বের করে আলো জ্বালালাম। স্কিনে দেখলাম রাত দুটো বাজে। ঘুম ভাঙ্গার পর কেন জানি মনে হলো আলেস আমার পরিকল্পনাটা পছন্দ করেছে। না হলে ও এমন স্বপ্ন দেখাবে কেন? তবে ও প্রিস্টকে এতটাই ঘৃনা করে যে ওর লাশটার স্থলে একটা শুঁয়োপোকা দেখিয়েছে। আমি খুশি মনে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। সেরাতে আর কোন স্বপ্ন দেখিনি। পরদিন সকালে উঠে প্রথমেই বেসমেন্ট থেকে স্টোররুমে গেলাম। একটু ঘাটাঘাটি করতেই একটা শাবল, কোদাল হেক্সো ব্লেড পেয়ে গেলাম। আর হাতুড়িটা সম্ভবত গ্যারাজে আছে। বেডরুমের খাটের নীচ থেকে কালো সাইড ল্যাগেজটা বের করে ওতে যা যা প্রয়োজনীয় সবই ভরলাম। তারপর ওটা গ্যারাজে নিয়ে গড়ির বুটে ঢুকিয়ে দিলাম। আজ আর অফিস শেষে বাসায় ফিরবো নাহ। সোজা কাজে লেগে পড়বো। গাড়িটা স্টার্ট দিয়ে কটেজ থেকে বেরিয়ে আসলাম। তখন একবার রিয়ারভিউ মিররে চোখ গেলো। দেখলাম গাড়ির পেছনে আলেস হাসি মুখে কুয়োটার পাশে দাড়িয়ে আছে। আমি যদি আজ আংটিটা নিয়ে আসতে পারি তবে এটাই আলেসের সাথে আমার শেষ দেখা। এরপর ও হয়তো পরপারে চলে যাবে। কিন্তু কি হবে যদি আমি এই কটেজে আর না ফিরি? এই ভাবনাটাকে আমি দুরে সরিয়ে রাখতে চাই। তাই গাড়িতে ফুল ভলিউমে গান ছেড়ে এক্সেলারেটরে পা দাবিয়ে দিলাম। গাড়িটা ছুটে চলল অফিসের পথে। সেদিন অফিসে প্রচন্ড কাজের চাপ। আমার ডেক্সে প্রায় ১৫টা ফাইল জমে আমায় প্রায় ঢেকে দিয়েছিলো। সবগুলি না পড়েই এপ্রোভড করে দিলাম। কিন্তু তৎক্ষণাত আরো ফাইল আসলো। ওয়ারশোয় একটা কান্ট্রি মিটিংএ কনফারেন্স রুমে বসে ভার্চুয়ালি আটেন্ড করতে হল। এত কিছুর পরেও আমি এক ঘন্টা হাতে রেখেই অফিসের কাজ গুলি গুছিয়ে ফেলি। তারপর অফিসের ডেস্কের একটা নোট লিখে টেপ দিয়ে আটকে দিলাম। ওতে লিখেছিলাম, “নতুন CEO কে স্বাগতম। শুভেচ্ছান্তে সাঞ্জে।” আসলে আমার মনে হচ্ছিলো ওটাই আমার অফিসে শেষ দিন। আজকের পর আমি আর কখনোই অফিসে আসতে পারব না। তাই আমার পোষ্টে যে নতুন আসবে তাকে অগ্রিম শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগটুকু হাতছাড়া করতে চাইনি। অতপর আমি অফিসের সকল কর্মচারীর ডেস্কে গিয়ে ওদের সাথে কথা বললাম, হাত মেলালাম। হয়তো কাজের চাপে অনেক সময় এদের সাথে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছি। কিন্তু আজ ছেড়ে যাবার সময় এদেরই খুব আপন মনে হচ্ছে। সেই বিশাল দেহের শন হাউন্সন। আমি অফিসে নতুন জয়েন করার পর সে আমায় প্রপোজ করতে করতে এক সময় কাঁদিয়ে ফেলেছিলো। তারপর একদিন হাল ছেড়ে দিয়ে নতুন একটা মেয়ের লেজ ধরে। কদিন হলো সে মেয়েটাও ওকে ছেড়ে দিয়েছে। ওর ডেস্কে যেয়ে ওর সাথে কথা বলা শেষে যখন হাত মিলাচ্ছিলাম তখন ও হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। খানিকের জন্যে মনে হচ্ছিলো ওকে তো আমি চাইলেই পেতে পারি। কি দরকার আজ রাতে ঐ গোরস্তানে মরতে যাবার। এর চেয়ে আজ রাতটা ওর সাথে কাটালেই তো ভাল হয়। আমার অভিশপ্ত কটেজ থেকে দুরে ওর উষ্ম আলিঙ্গনে। পর মুহুর্তেই নিজেকে সামলে নিয়ে আমার হাতটা ছাড়িয়ে নিলাম। আজ রাতে মেয়েগুলির আত্মার মুক্তি আমার উপরই নির্ভর করছে। আমি এদের নিরাশ করে নিজে সুখ সাগরে ভাসতে পারি না। ও আমার দিকে লুলোপ দৃষ্টিতে তাকালো। আমি মুখে একটা অবজ্ঞার হাসি এনে ওর কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলাম। আসার সময় দরজায় লাগানো আয়নায় আমি ওর প্রতিবিম্ব দেখতে পেলাম। ওর চোখ দুটো আমার নিতম্বে গেঁথে আছে। ওর কক্ষ থেকে বেরিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনেমনে বললাম, হায় রে পুরুষ। সেদিন অফিস শেষে বেরিয়ে আসার সময় অনুভব করলাম, চাকরীটা যতই বিরক্তিকর হোক না কেন আমি একে ভালবেসে ফেলছি। চোখ ফেটে দু ফোটা জল বেরিয়ে এলো। হৃদয়ে পাষাণ বেধে গাড়ি ছোটালাম সেই গীর্জার পথে। মনে হলো জীবনকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি সাক্ষাৎ মৃত্যুর দিকে। গীর্জার কাছাকাছি একটা রেস্তোরাঁয় ডিনার সারলাম। আমার প্রিয় বাগদাচিংড়ি আর পিজা। সামান্য কোক ও গিললাম। প্রায় ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে আয়েশ করে খেলাম। তখনো সবে সাড়ে ছয়টা বাজে। গীর্জার ফাদারের কাছে আমার কনফেশনের সময় বিকাল ১০ টায়। এখনো হাতে প্রায় তিন ঘন্টা বাকী। খেয়ে উঠে গীর্জায় চলে গেলাম প্রায় আড়াই ঘন্টা আগেই। গীর্জা প্রাঙ্গণে গাড়ি পার্ক করে ঢুকে পড়লাম সিমেট্রিতে। গার্ডরা যথাযথ অবস্থানে পাহারারত। আমি স্বাভাবিক ভাবে হেটে হেটে প্রিস্টের কবরটা ভাল করে চক্কর দিয়ে দেখে এলাম। যেন রাতের আঁধারে হারিয়ে না ফেলি। অতঃপর কনফেশনের ঘন্টা খানেক আগে গাড়ি থেকে সাইড ব্যাগটা বের করে ওটা সহ গীর্জায় প্রবেশ করলাম। পা টিপেটিপে নিঃশব্দে গীর্জার দ্বিতীয় তলায় উঠে এলাম যেন ফাদার আমার উপস্থিতি টের না পান। দুতালায় খানিকক্ষণ কান পেতে দাড়িয়ে রইলাম। নাহ। কোন সাড়া শব্দ নেই। অতপর ছাদে উঠে পড়লাম। ধ্যাত। বুড়োটা ছাদে দাড়িয়ে আছে! মনে মনে বুড়োর বাপ দাদা চোদ্দগোষ্টি উদ্ধার করলেও মুখে বিনীত হাসি টেনে বাউ করলাম। “ফাদার, আমি চলে এসেছি।” আমাকে দেখে ও খুশি হল না রাগ করলো ঠিক বুঝা গেলো না। শুধু বলল “তনয়া। আমি নিচে কনফেশন কক্ষে যাচ্ছি। তুমি খানিক পরে চলে এসো।” বুড়োটার উপর সব রাগ পড়ে এলো। বাহ। ও আমায় ছাদে একা রেখে নেমে যাচ্ছে। খুব ভালো। ও নেমে যেতেই ক্রুশের পাদদেশে আমি সাইড ল্যাগেজটা লুকিয়ে ফেললাম। তারপর খুশি মনে সিড়ি ভেঙ্গে নিচে নামলাম। এখন আমার কাজ অর্ধেকটাই শেষ। এবার শুধু কনফেশনের নাম করে সন্ধার আগ পর্যন্ত গীর্জায় অবস্থান করা। তারপর ফাদারের অলক্ষে রাতে গীর্জার ছাদে উঠে যাওয়া। কিন্তু আমার পরিকল্পনায় একটা বড় ঘাটতি ছিলো। আমি কি কনফেস করবো তা ঠিক করে আসিনি। হায় খোদা। সন্ধা হতে আরো প্রায় দুঘণ্টা বাকী। এ দু ঘন্টা আমায় শুধু আমার কুকর্মের বর্ণনা দিয়ে কাটাতে হবে? যেগুলি আমি আদৌ করিনি। ভাবতেই গলার ভেতরে প্রচন্ড শুষ্কতা অনুভব করলাম। তবুও ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম কনফেশন রুমের দিকে।
কনফেশন কক্ষে তারজালির বেড়ার ওপাশে ফাদার বসেছেন। তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। আমি আসতেই ফাদার বললেন, “তনয়া, জীবনে সবাই ভুল করে। চলার পথে কোথাও না কোথাও মানুষ পথ হারিয়ে ভুল পথে যায়। তবে যখন আবার ফিরে আসে তখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না। আজকের পর থেকে তুমি জীবনের ভুল গুলির দিকে আর ফিরে তাকাবে না। শুধুই সামনে এগিয়ে যাবে। নাও। এবার শুরু কর।” মনে মনে ভাবলাম এই সেরেছে। জীবনে খুব কমই মিথ্যা বলেছি। কিন্তু আজ,,,, এত ভাবাভাবি বাদ দিয়ে আমি শুরু করলাম, “ফাদার, আমি এক পাপী অধম। দু বছর হল আমি বিবাহিত। আমার একজন অসাধারণ প্রিয়তম স্বামী রয়েছে আর এক জোড়া জমজ সন্তান। আমি ওদের খুবই ভালবাসি। আমরা একটা চমৎকার যৌন জীবন উপভোগ করছিলাম। কিন্তু মাস খানেক আগে আমি ওর এক বন্ধুর সাথে জড়িয়ে পড়ি। সে অত্যন্ত সামর্থবান আর শক্তিশালী পুরুষ ছিলো। আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি,,,,,,,,,,,,,,,সেক্স,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, তারপর একটা বারে আমার একজন বারটেণ্ডারের সাথে পরিচয় হয়। আমার স্বামী তখন ব্যবসার কাজে নরওয়ে গেছে। আমি ঐ বারটেণ্ডারকে সেরাতে বাড়িতে নিয়ে আসে। ওকে আমার গাড়িতে বসিয়েছিলাম। আসার সময় পথেই ও গাড়ি পার্ক করে আমায়, ,,,,,,,,,,,,,,সেক্স,,,,,,,,,,,,,,, ওকে নিয়ে বাসায় এসে দেখলাম আমার বাচ্চারা ডে কেয়ার থেকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর ওকে আমাদের বেডরুমে নিয়ে যাই। ওকে আমার স্বামীর নাইট গাউন পড়তে দেই। তারপর আমরা সেরাতে,,,,,,,,,,,,,,,সেক্স,,,,,,,,,,,,,,,,,। তারপর এইতো দুসপ্তাহ আগে আমার অফিসের এক বিবাহ নতুন সহকর্মীকে ভাল লেগে যায়। সেদিন অফিসের পর কিছুই ভালো লাগছিলো না। আমার স্বামীকে ফোন করে বলে দিলাম বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। তারপর নতুন সহকর্মীর সাথে ডিনারে গেলাম। ওখানে খেতে খেতে এক পর্যায়ে ও আমায় চুমু খেলো। তারপর ডিনার শেষে আমরা একটা ভালো হোটেলে উঠলাম। তারপর, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,সেক্স,,,,,,,,,,,,,,,,,,,। ” নিজের সম্পর্কে এতগুলি বাজে অপবাদ দিতে খারাপই লাগছিলো। কিন্তু সময় তো পার করতে হবে। কিছুতেই আধার নামার আগে কনফেশন শেষ করা যাবে না। কথা বলার সময় বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিলো যেন সেকেন্ডের কাটাটি প্রতি ঘন্টায় একবার করে নড়ছে।এতগুলি কথা বলার পরেও মাত্র সাড়ে দশটা বেজেছে। সূর্যাস্ত হতে আরো ১৫-২০ মিনিট বাকি। এই সময়টাতে আর কি বলা যেতে পারে! এসব যখন ভাবছিলাম তখন পাদ্রীর কথায় আমার চিন্তায় ছেদ পড়লো। উনি বললেন, ” এতটা অপকর্মের পরেও তোমার আত্মউপলব্ধি জেগেছে দেখে আমি সত্যি আনন্দিত। ঈশ্বর নিশ্চই তোমার অন্তরের কালমা মুছে দিবেন। তুমি শীঘ্রই সত্যের আভায় আলোকিত হয়ে উঠবে। ” স্পষ্টত বুঝতে পারছিলাম পাদ্রী কনফেশন পর্বটা শেষ করতে চাইছে। কিন্তু আমার ঘড়িতে সময় এখনো কিছুটা বাকী। তাই মরিয়া হয়ে ওকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “না না ফাদার। আমার আরো কিছু বলার আছে।” পাদ্রী বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলল, “হা, তনয়া। বলে যাও। আমি শুনছি।”
যাক বাবা। বাঁচা গেল। একটা ঢোক গিলে লম্বা শ্বাস নিয়ে আবার শুরু করলাম। “আমার বাচ্চাদের গভর্ণেস হিসেবে আমি গত সপ্তাহে একটা মেয়েকে নিয়োগ করি। মেয়েটা অসম্ভব সুন্দরি আর রূপবতী। ওর বয়স সবে ১৮ পেরিয়েছে। দুধে আলতা গায়ের রঙ, সুডৌল স্তন, উন্নত নিতম্ব। এক কথায় অসাধারণ। আমি ওকে আমার সাথে শুতে সম্মত করার অনেক প্রচেষ্টা চালাই। কিন্তু ও রাজি ছিলো না। তিনদিন আগে আমার স্বামীর অবর্তমানে আমি ওকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে দেই। ও ঘুমিয়ে পড়লে ওকে আমার বেডরুমে এনে বিছানায় বেধে ফেলি। তারপর ও জেগে উঠার অপেক্ষা করতে থাকি। ও জেগে উঠলে আমি জোরপূর্বক ওর সাথে সমকামিতায় লিপ্ত হই। তারপর মেয়েটাকে বেশ কিছু টাকা পয়সা দিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেই। তারপর ,,,,,তারপর, ,,,,,,,,, তারপর আর কিছু নাহ। ” আমি কনফেশন শেষ করে ফেলি। প্রায় এগারোটা বাজে। সূর্যাস্ত ইতিমধ্যেই হয়ে যাওয়ার কথা। এবার এই বুড়োর কাছে থেকে উঠা যাক। তারপর ফাদার আমাকে আজীবন ভাল হয়ে চলার প্রমিজ করালো। বাইবেল থেকে কি সব যেন পড়ে শুনালো। তারপর কনফেশন শেষ করে উঠে গেলো। ও কনফেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে গীর্জার জন্যে কিছু অনুদান প্রদানের জন্যে অনুরোধ করলো। আমি ওর সামনেই একটা পাঁচশো ইউরোর নোট গীর্জার দানবক্সে ফেলে দিলাম। ওর মুখে একটা তৃপ্তির হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠলো। তবে তা খানিকের জন্যে। মুহুর্তেই আবার ভাবগাম্ভীর্যময় চেহারাটা ফিরিয়ে আনলো। এবার ও আমায় বিদায় জানিয়ে সিড়ি বেয়ে দোতালায় উঠে গেলো। আমিও ওকে বাউ করে সম্মান জানিয়ে পেছন ফিরে হাটতে লাগলাম। কিন্তু খানিক পরে যখন দোতালায় ওর কক্ষের দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শোনলাম তখন আবার সিড়ির কাছে ফিরে এলাম। পা টিপেটিপে একটা একটা করে সিড়ি ভেঙ্গে দুতলা ছাড়িয়ে ছাদে উঠে এলাম। এবার শুরু করতে হবে। কিন্তু শুরু করার আগে ফোনটা বের করলাম। ইচ্ছা ছিলো মা কে ফোন দিবো। কিন্তু গীর্জার ছাদে ওয়াই ফাই নেটওয়ার্ক নেই। থাক তাহলে। এই তো গত উইকএন্ডেই আম্মুকে দেখে এসেছি। এভাবে ফোন দিয়ে উনাকে ঘনঘন বিরক্ত করার কোন মানেই হয় না। এসব বলে মনকে প্রবোধ দেয়ার চেষ্টা করলাম। ছাদে এসে বুঝতে পারলাম আজ দিনের অবস্থা ভালো না। সন্ধা থেকেই ঠান্ডা হাওয়া বইছে আর ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে। না জানি রাতে কি হয়। মনে পড়লো অফিসে আজ কয়েকজন একটা সামুদ্রিক ঝড়ের কথা আলোচনা করিছিলো। এটা কি তারই পূর্বাভাস? বৃষ্টি হয়তো আমার কাজের সুবিধাই করে দিবে। কবর খুড়তে যেয়ে শরীরে কাদা বালি লাগলেও বৃষ্টিতে খানিকক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেই সব ধুয়ে যাবে। আর বৃষ্টির স্রোত আমার পায়ের ছাপ এক রাতের ভেতরেই মুছে দিবে। বাহ! এযেন স্রষ্টার আশীর্বাদ।
»চলবে….
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now