বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ডাকিণী-১, পর্ব-২১,২২,২৩,২৪,২৫

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ডাকিণী-১, পর্ব-২১,২২,২৩,২৪,২৫ লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা (গল্পে কিছু অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট আছে, যা নিতান্তই গল্পে পূর্ণতা আনতে ব্যবহার করা হয়েছে । দয়া করে নেতিবাচক ভাবে নেবেন না ।) ভয়ে চিৎকার এক সময় মনে হল গলা ফেটে রক্ত বেরুবে। নাহ। এভাবে মাথা গরম করলে এখান থেকে বেরুনো যাবে না। আলেসের মতো সারা জীবনের জন্যে এখানে আটকে পড়বো। মায়ের উপদেশগুলি মনে পড়লো। বিপদে মাথা ঠান্ডা না রাখলে ঘাড়ের উপর মাথাটা আস্ত থাকবে না। ক্লান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ে লম্বা লম্বা নিঃশ্বাস নিতে লাগলাম। একটা সময় ভয়, উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়ে এলো। স্থির হয়ে ভাবতে শুরু করলাম। কয়েকটা গুরুতর ভুলের কারণে আমি এখানে আটকে গেছি। প্রথম ভুল হলো আলেসকে বিশ্বাস করা। ওকে বন্ধু ভাবা। একটা অশান্ত আত্মা কখনোই কারো বন্ধু হতে পারে না। আমার কোনভাবেই আলেসের ডাকে সাড়া দেয়া উচিৎ হয়নি। ওর ডায়ারী মতে একাকীত্বই ওকে ক্ষুদা, পিপাসা, চাবুকের থেকেও বেশী কষ্ট দেয়। তবে কি ও আমাকে মেরে ওর মতোই অশরীরী বানিয়ে নিবে, কেবল ওকে সঙ্গ দেয়ার জন্যে! মনে পড়লো একবার টিভিতে একটা রিয়ালিটি হরর শো তে এক প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর বলেছিলো যে ভয় হলো কালো-আত্মার প্রধান অস্ত্র। ওদের নাকি আকার আকৃতি, স্থিতি-জড়তা নেই। তাই ওরা কাউকে গলা টিপে মেরে ফেলতে পারে না। কিন্তু ওরা শিকারকে ভয় দেখাতে থাকে যতক্ষণ না ভিক্টিম অতিরিক্ত ভয়ে হার্ট আটাক বা জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার মতো আত্মঘাতী কিছু একটা করে বসে। ওদের ভয় না পেলেই ওদের হাতে মৃত্যুর আশংকা বুঝি ৯৯ ভাগ কমে যায়। আমি কখনোই টিভিতে দেখানো উদ্ভট কোন কিছু বিশ্বাস করি না। তবে এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে বিশ্বাস না করে উপায় নেই। মনেমনে প্রতিজ্ঞা করলাম আজ যদি এখানে মরতেই হয় তো ভয়হীন ভাবে নিজের আত্মসম্মান নিয়েই মরবো। আলেসের ভয়ে ভীত হয়ে হার্ট ফেইল করে মরবো। চিৎকার করে বললাম, “আলেস। তুমি হয়তো আমায় মেরে ফেলতে পারবে কিন্তু ভয় দেখাতে পারবে না।” বদ্ধ বন্দিশালায় আমার চিৎকার প্রতিধ্বনি তুললো। ভয় তাড়ানোর জন্যে মেঝেতে বসে বসে গুনগুন করে গান গাইতে লাগলাম। কখন যে চোখ জুড়িয়ে এসেছে বুঝতে পারিনি। যখন চোখ খুললাম তখন দেখলাম সিড়ির খোলা মুখ দিয়ে চুইয়ে দিনের আলো ঢুকছে! আমি কালকের ভয়ঙ্কর রাতটা উৎরে গেছি। ওয়াও! আমি এখনো বেঁচে আছি! কিন্তু রাতে কিসে আমার সেলের দরজা আটকেছিলো! ভাবতেই উঠে গিয়ে সেলের দরজাটা পরীক্ষা করলাম! আশ্চর্য! দরজায় বাহিরে থেকে একটা বিশাল তালা ঝুলছে! তারমানে গতরাতে যখন আমি যখন সেলে প্রবেশ করি তখনই কেউ একজন আমাকে বাহিরে তালা মেরে আটকে দেয়! কিন্তু কে সেটা! আলেস? মনে হয় না। লাইব্রেরীতে বেশ কয়েকবারই আলেস আমায় ভেতরে রেখে দরজা আটকে দিয়েছিলো। কিন্তু তখন তো ওর তালার প্রয়োজন হয় নি! কিন্তু এখন দরজায় তালা ঝুলানো কেন! অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেলো এটা কোন মানুষের কাজ! আশেপাশে মানুষ থাকতে পারে ভাবতেই নিজের কাপড় চোপড় নিয়ে সচেতন হয়ে উঠলাম। মনে পড়ে গতরাতে গোসল শেষে একটা তোয়ালে জড়িয়ে বেরিয়েছিলাম আমি। কিন্ত ওটা এখানে আটকে পড়ার পর একটা শক্তিশালী দমকা হাওয়ায় উড়ে যায়। কিন্তু ওটা এখন কোথায়?চারিদিকে খুঁজাখুঁজি করেও আমি সেই সাদা তোয়ালেটা খুজে পেলাম না। তবে সেলের কোনে বাদামি রঙের তালি মারা ছেড়া এক প্রস্থ কাপড় পেলাম। অগত্যা সেটাই জড়িয়ে নিলাম দেহে।তখনই আমি কতগুলি ভারী পায়ের শব্দ শুনতে পেলাম। ওরা সিড়ি ভেঙ্গে এদিকেই এগিয়ে আসছে! নিজেকেই যেন প্রশ্ন করলাম কারা ওরা? কি চায় ওরা আমার কাছে? কিন্তু উত্তরটা আমার জানা নেই। কারাগারের শিকের ওপাশে বিচিত্র বেশভূষার কতজন বিশালদেহী পুরুষ এসে উপস্থিত হল। আশ্চর্য ব্যাপার হল ওদের সবার দেহ ভারী বর্মাবৃত, আর হাতে বেঢপ লম্বা তরোয়াল। তবে এদের মধ্যে একজনের হাতে তরোয়ালের বদলে ঝিলিক দিচ্ছে লকলকে সাপের চামরার চাবুক! এই বন্দুকের যুগে এদের এহেন অস্ত্র সস্ত্র দেখে আমার নিতান্তই হাসি পেল। মনে মনে ভাবলাম ইশ, আমার ডেজার্ট ঈগলটা (আমার লাইসেন্স করা পিস্তল) এখন যদি হাতের কাছে থাকতো তো সবকটার পায়েই একটা করে বিচি ঢুকিয়ে দিতাম। আমাকে সারারাত এখানে আটকে রাখার জন্যে এটাই হতো ওদের উচিৎ শিক্ষা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। পিস্তলটা আমি আমার বেডরুমে, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ফেলে এসেছি। ওদের তিনজনের মধ্যে তলোয়ারওয়ালা দুজন বাহিরে দাড়িয়ে রইলো। আর চাবুকওয়ালাটা আমার সেলের তালা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লো। তারপর সোজা আমার দিকে এগিয়ে এসেই সপাৎসপাৎ দু ঘা বসিয়ে দিলো। আমার শরীরে যেন আগুন জ্বলে উঠেছে। কোথায় মেরেছে জানি না কিন্তু সারাটা শরীর জ্বলতেছে। আমি প্রায় লাফিয়ে উঠে দাড়ালাম। লোকটা আমার চুল ধরে টানতে টানতে সেল থেকে বের করে সিড়ি বেয়ে উপরে নিয়ে যেতে লাগলো। ওদের এহেন ব্যবহারে আমি চোখে সর্ষেফুল দেখতে লাগলাম। মহিলাদের প্রতি এতটুকু মর্যাদাবোধ বা সৌজন্য এদের মধ্যে নেই। সিড়ি বেয়ে যতই উপরে উঠছি ততই একদল মানুষের সম্মেলিত শোরগোল শুনতে পাচ্ছি। ওরা আমায় কটেজের কাঠের সিড়ি ধরে একদম ছাদে নিয়ে গেল। ছাদে গিয়ে দেখলাম এক ঝাক মানুষ নিচে জড়ো হয়েছে! আমার কটেজে এরা ঢুকলো কি করে! আমি যখন বিষ্ময়ে উপস্থিত জনতাকে দেখছিলাম তখনই চাবুকওয়ালাটা এসে আমার হাত দুটো পিছ মোড়া করে বেধে দিলো। কি হচ্ছে এসব! বিষ্ময় আর ভয়ে নুয়ে পরার উপক্রম। এবার দু তলোয়ারওয়ালা আমার দুপাশে এসে, দু কাঁধ শক্ত করে ধরলো। এত শক্ত যে মনে হলো শোল্ডার জয়েন্ট গুঁড়ো হয়ে যাবে। ওদিকে চাবুকওয়ালাটা ছাদে একটা খাম্বার সাথে বাধা দড়ি এনে আমার গলায় ফাঁস পড়িয়ে দিলো। হায় খোদা! এরা কি আমায় ফাঁসি দিতে চলেছে? তলোয়ারওয়ালা দুজন আমার কাঁধ ধরে ঠেলতে ঠেলতে ছাদের কিনারায় নিয়ে গেল। উপস্থিত জনতা প্রবল হর্সধ্বনি দিয়ে আমার আসন্ন মৃত্যুকে স্বাগত জানালো। আমি মা কে শেষবার দেখার জন্যে হৃদয়ে এক প্রবল আকুতি অনুভব করলাম। জীবনে কতই না দুঃখ দিয়েছি মাকে। মা আমাকে যে কাজটাই নিষেধ করতো সেটাই আমি প্রথমে করতাম। মায়ের অবাধ্য হওয়াটাই আমার কাছে একটা থ্রিল ছিলো। কিন্তু তবুও মা একটু রাগ করলেও পরক্ষণেই খুকি বলে আমায় জড়িয়ে ধরতো। মায়ের মিষ্টি চেহারাটা আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো। হঠাৎ অনুভব করলাম কেউ একজন আমায় ছাদের উপর থেকে নিচে ছুড়ে ফেলেছে। কিন্তু একদম মাটিতে আছড়ে পরার বদলে আমার গলায় পড়ানো দড়িটিতে আমি ঝুলতে লাগলাম! হায় খোদা! এরা আমায় ফাঁসি দিয়ে দিচ্ছে! আমি মারা যাচ্ছি! বাতাসের অভাবে ফুসফুসটা যেন ফেটে যাবে! হৃদপিণ্ডটা ধীরেধীরে থেমে আসছে। অনুভব করলাম সারা শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়েছে। ব্যাথার অনুভুতিগুলি আস্তে আস্তে ভোঁতা হয়ে এলো। নিঃসীম কালো আধার চোখ দুটোকে ঢেকে দিলো।কিছুক্ষণ অন্ধকার থাকার পর আস্তে আস্তে সবকিছুই পরিষ্কার হয়ে গেল। আমার দেহটা তখনো ঝুলছে আর ঘাড়টা বেঁকে আছে, ঠিক স্বপ্নে দেখা আলেসের লাশের মতো। এখনো ফাঁসিতে ঝুলছি তবে আর দম বন্ধ হয়ে আসছে না। মাথাটা অনেক হালকা মনে হচ্ছে। নিজের দেহের দিকে তাকালাম। দেহটা নিথর হয়ে আছে। তবে একটু আগে হওয়া প্রচন্ড খিঁচুনিতে তালি মারা এক প্রস্থ কাপড়টা নীচে খসে পড়েছে। অজস্র মানুষের সামনে আমার দেহটা সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে দড়িতে ঝুলেছে। ছিঃ ছিঃ। কি লজ্জা। নিচে জমায়েত মানুষগুলি কেউ আমার দিকে তাকিয়ে দাত বের করে হাসছে, কেউবা সভয়ে বুকে ক্রুশ আঁকছে। তারপর এরা একে একে যে যার পথে চলে যেতে শুরু করলো। খানিক পরে ঐ চাবুকওয়ালাটা আমার দেহটাকে দড়ি ধরে টেনে ছাদে তুলল। তারপর দেহটাকে একটা কালো কাপড়ে ঢেকে দিলো। যাক। এবার তো কিছুটা পর্দা হলো। আমি সব কিছুই দেখছিলাম। তবে অনেকটা দুর থেকে থ্রিডি টিভি দেখার মতো করে। স্পষ্ট বুঝতে পারছি আমি জীবন্ত জগৎ থেকে দুরে সরে গেছি। আমিও এখন আলেসের মতোই একটা অশরীরী। ওরা আমার দেহটা একটা কাপড়ে বেধে ঝুলিয়ে নীচে নিয়ে গেল! আমিও চললাম ওদের সাথে সাথে। হেটে হেটে নয়। অনেকটা বাতাসে ভেসে ভেসে। নীচের প্রাঙ্গণে নিয়ে আমার পায়ে দড়ি বেধে উল্টো করে কুয়ায় চুবিয়ে নিলো। তারপর দেহটাকে টেনে তুলে কাপড়ে মুড়িয়ে পাজঁকোলা করে বয়ে নিয়ে যেতে লাগলো। কটেজে পৌছলে ওরা আমায় লাইব্রেরীর টেবিলে শুইয়ে দিলো। তারপর সবাই আমার দেহটাকে ঘিরে দাড়িয়ে কিসব মন্ত্র পড়তে লাগলো। বড় আজব তো ওদের আচার অনুষ্টান। ওরা যখন দেহটাকে নিয়ে ব্যাস্ত আমি তখন লাইব্রেরীটা ঘুরে দেখায় মন দিলাম। লাইব্রেরীটা ঠিক তেমনি আছে। তবে উঁচু তাক গুলোতে বইয়ের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম! ওরা কি আমার বই চুরি করে ফেলেছে? খানিক পরে ওদের রিচুয়াল শেষ হলো। আমায় লাইব্রেরী থেকে নিয়ে এসে ওরা বেডরুমে প্রবেশ করলো। বেডরুমটা ওরা রাতারাতি বদলে দিয়েছে দেখছি! গত শীতে কিনা সুন্দর ঝাড়বাতিটার যায়গায় একটা বিশ্রী আংটা বেরিয়ে আসছে। ওরা সেই আংটায় দেহটাকে ঝুলালো। রুমের ওপাশ থেকে স্বপ্নে দেখা সেই খোঁচা খোঁচা দাড়িওয়ালা প্রিস্ট বেরিয়ে এসে আমার দেহে হলি ওয়াটার ছিটিয়ে দিলো। বাহ। শয়তানটা আজ বড়ই অদ্ভুত সাজে সেজেছে। মাথায় কালো অলঙ্কার খচিত বেল্ট, পরনে লাল টকটকে আলখাল্লা। একদম ভাঁড়ের মতো লাগতেছে ওকে। খানিক পরে সে আমাকে আংটা থেকে খুলে পাজঁকোলা করে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলো। যে লোক গুলি আমায় এখানে বয়ে নিয়ে এসেছিলো তারা একে একে চলে যেতে শুরু করলো। বেডরুমে শুধু আমি আর সেই প্রিস্ট রয়ে গেলাম। বুঝলাম আলেসের ডায়ারীর লেখাগুলি সত্যি হতে চলেছে। ও এখন আমার দেহটাকে নিয়ে মেতে উঠবে। উঠুক।আমার কিছু যায় আসে না। আমি এখন আর সেই দেহে নেই। আমি এখন জাগতিক দেহ বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। প্রিস্ট বিছানায় উঠে তার কাপড় খুলতে লাগলো। আমি সত্যিই আর তাকাতে পারছিলাম না। ওকে আমার মৃতদেহকে ভোগের অবারিত স্বাধিনতা দিয়ে আমি বেডরুম থেকে লাইব্রেরীতে চলে আসলাম। আমি শুধু দেখতে চাইছিলাম লাইব্রেরীর ওই তাকে আলেসের ডায়ারীটা আছে কি না। যা ভেবেছিলাম তাই। নেই। ওরা সম্ভবত ওটা নিয়ে গেছে। পাশের বেডরুম থেকে তখন প্রিস্টের যৌন সুখের গোঙ্গানি শুনা যাচ্ছে। কি বিকৃত মস্তিষ্কের এই লোকটা! কেন জানি মনে হল ও স্রষ্টার সৃষ্টি জগতের বাহিরে, এক শয়তানের সৃষ্টি। কিংবা নিজেই একটা ধারি শয়তান। লাইব্রেরীতে আর কাজ নেই। এভাবে ঘরে বসে না থেকে একটু বাহিরে থেকে ঘুরে আসা যাক। লাইব্রেরী থেকে বেরিয়ে প্রধান করিডোর ধরে সোজা বেরিয়ে এলাম কটেজের বাহিরে। বাহিরে ততক্ষণে রাত হয়ে এসেছে। চারিদিকেই অন্ধকার। কিন্তু এর চেয়েও বেশী অন্ধকার ঐ আলো ঝলমলে কটেজের ভেতরটায়। এক প্রাগোঐতিহাসিক অন্ধকার যা হাজারো বাতি দিয়েও দুর করা যায় না। হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ঐ অভিশপ্ত কটেজ থেকে দুরে সরে যেতে লাগলাম। ঐ তো কটেজের প্রধান ফটক দেখা যাচ্ছে। ওটা দিয়ে আমি এই অভিশপ্ত নরক থেকে বেরিয়ে যাব মুক্ত বিশ্বে। কিন্তু পথিমধ্যে দেখলাম কিছু লোক ফটকের সামনে কুয়োটার পাশে কাঠ জড় করে এক উঁচু ঢিবি তৈরি করেছে! আমি থমকে দাড়িয়ে ওদের দেখতে লাগলাম। একবার পেছনে ফিরে দেখলাম চারজন লোক আমার দেহটাকে একটা খাটিয়ায় শুইয়ে কটেজ থেকে বের করে নিয়ে আসছে। যাহোক। এবার আমার দেহটাও ঐ অভিশপ্ত কটেজের বাহিরে। রাতের মৃদু মন্দ হাওয়ায় আমার দেহের চুল গুলি ঊড়ছিলো। হঠাৎ নিজেকেই অপরূপা হিসেবে আবিষ্কার করলাম। খোদাকে ধন্যবাদ। উনি আমাকে এমন একটা রোগমুক্ত সুন্দর দেহে কিছুদিন বেঁচে থাকতে দিয়েছিলেন। খুব ইচ্ছা করছিলো আবার ঐ দেহে ফিরে যেতে। কিন্তু আমি জানি সেটা আর সম্ভব না। আমি ওটা ছেড়ে বেরিয়ে এসেছি চিরতরে। ওরা খাটিয়াটা আমার পাশ দিয়ে নিয়ে গিয়ে কুয়ার পাশে রাখলো। তারপর আমার দেহকে খাটিয়া থেকে তুলে ঐ কাঠের ঢিবিতে শুইয়ে দিল। বুঝলাম এরা এবার দেহটাকে পুড়িয়ে দিবে। ওদের মধ্যে নেতা গোছের একজন বুকে ক্রুশ একে ঐ ঢিবিতে একটা মশাল ছুড়ে ফেলল। তার দেখাদেখি বাকিরাও আরো কয়েকটা মশাল ছুড়লো। কাঠে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লো। নিজের দেহটা চোখের সামনে পুড়তে দেখে আমি হাহাকার করে উঠলাম। দাউদাউ আগুনের শিখায় রাতের আধার সরে গিয়ে চারিদিক এক উজ্জ্বল আলোয় ভেসে উঠলো। আমার চোখ ধাঁধিয়ে গেল। আলোটা খানিক সয়ে এলে নিজেকে সেই বেসমেন্টের বন্দিশালায় আবিষ্কার করলাম। অশরীরী নয়, একদম জলজ্যান্ত আমি। দিনের আলো সিড়ির দরজা দিয়ে চুইয়ে ঢুকে অন্ধকারকে হঠিয়ে দিয়েছে। ওহ খোদা! এতক্ষণ তাহলে আমি আরেকটা দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম! এ স্বপ্নে আলেয়া তার শেষ পরিণতি আমায় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। মেয়েটার প্রতি সত্যিই মায়া হল। আমি উঠে দাড়ালাম। সেলের দরজাটা এখন খুলাই আছে। আমার তোয়ালেটাও আমার পাশেই পড়ে আছে। ওটা কুড়িতে নিয়ে দেহে জড়ালাম। টলমল পায়ে বেরিয়ে এলাম সেই ভয়াবহ বন্দিশালা থেকে।হায় খোদা। এসব আমার সাথে কি শুরু হলো আমার কটেজে! আলেস মেয়েটার আত্মা আমার সাথে এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছে।গতরাতে ও আমায় বেসমেন্টে আটকে রেখেছিলো। সারাটি রাত আমার এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে কেটেছে। সকালে যখন বেসমেন্ট ছেড়ে বেরুলাম তখন নিজেকে নিঃশেষিত মনে হল। পরপর দুরাতের দুঃস্বপ্ন আমায় এতটুকু শান্তিতে ঘুমাতে দেয়নি! ঘুমে চোখ দুটো বুজে আসছে। কিন্তু এখন আমাকে অফিসে যেতে হবে! আরেকটি কর্মময় দিন সামনে। বাথরুমে ঢুকে যতটা সম্ভব আয়নার দিকে না তাকিয়েই কাজ সারলাম। তারপর কাপড় পড়ে বেরিয়ে পড়লাম এই ভয়ানক কটেজ থেকে। আজ আরেকটি রোদ্রউজ্জল দিন। দিনের উষ্মতা আমার মন থেকে গত রাতের স্মৃতিগুলি মুছে যেতে সাহায্য করলো। হেটে গ্যারাজে গিয়ে গাড়িটা স্টার্ট দিলাম। ড্রাইভ করে প্রধান ফটকের কাছাকাছি যেতেই চোখ পড়লো বাতিল কুয়োটার দিকে। এখানেই গতরাতে আমার মৃতদেহকে পুড়াতে দেখেছিলাম। ঘাড় বেয়ে একটা শীতল রক্তের ধারা নীচে নেমে গেল। তবে সেদিন আর খারাপ কিছু ঘটলো না। কোন অঘটন ছাড়াই সেদিন কটেজটা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি এটা ভেবে একটু শান্তি পাচ্ছিলাম। যদিও জানি দিনের শেষে আমাকে এখানেই ফিরতে হবে। আরেকটা ভয়াবহ রাতের জন্যে। সেদিন অফিসে খুব খারাপ দিন গেল। একজন অধস্তন কর্মচারীর সাথে রাগারাগি করলাম। ফোন আসলে বারবার চমকে উঠছিলাম। ডেস্কে রাখা কলম পেন্সিল খুজে পাচ্ছিলাম না। একটা সময় ডেস্কে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। অফিস থেকে বাসায় ফেরার আগে ভাবলাম একবার ইমেল গুলি চেক করে নেই। আজ শুক্রবার। আগামী দুদিন উইকেন্ড তাই অফিসে আসবো না। যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ ইমেল থেকে থাকে তো তার রিপ্লাই দিতে দুদিনের বেশী দেরি হয়ে যেতে পারে। মেইল বক্স খুলতেই একটা ইমেইলে চোখ আটকে গেল! প্রেরক, আদিন আদিজু। একটা জিপসি টাইপের ছেলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পোল্যান্ডে হিটলার প্রায় দুই লক্ষ ঈহুদিকে হত্যা করে। সে সময় অধিকাংশ ইহুদিই হয় মারা যায় নয়তো দেশ ছেড়ে পালায়। তারপরেও মুষ্ঠিমেয় কতগুলি ইহুদি পরিবার পোল্যান্ডে টিকে থাকতে পেরেছিলো। সেসব ভাগ্যবান পরিবার গুলির মধ্যে একটা হলো আদিনের পরিবার। ছেলেটার সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় MSN এ প্রায় চার মাস আগে। তারপর কদিন ইয়াহুতে কথা হয়েছিলো। ওর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছিলাম সে একজন ভবঘুরে ইহুদি ও স্বপ্রনোদিত পার্টটাইম প্যারানরমাল আক্টিভিটি ইন্সপেক্টর! একজন মুসলমান হিসাবে একজন ইহুদির প্রতি আমার একটা বাজে মনোভাব ছিলো। সে একে তো ইহুদি তার উপর আবার ভবঘুরে! তাই আমি ওকে ইগনোর করতে শুরু করি। ওর ইমেইলের রিপ্লাই দিতাম না, ওর ইয়াহু কল রিসিভ করতাম না। একটা সময় সেও ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আমার লেজ ছেড়ে সটকে পড়ে। আজ ও মেইল করে জানিয়েছে দুসপ্তাহের মধ্যে ও বিয়ে করতে যাচ্ছে। এখন সে ভবঘুরে নয়। একটা ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানিতে চাকুরী করছে। আমাকে ওর বিয়েতে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আসল কথা হলো সে আমায় মনে মনে পছন্দ করতো। কিন্তু আমার প্রত্যাখ্যান তার ব্যক্তিত্বে আঘাত হানে। তাই তার বিয়েতে আমায় নিমন্ত্রণ জানিয়ে সে তার বদলা নিতে চাইছে। বেচারা আদিন। ওকে কখনোই বলা হয়নি যে আমি এঙ্গেইজড, খুব শীঘ্রই বিয়ের পিড়িতে বসতে যাচ্ছি। হঠাৎ মনে পড়লো ভৌতিক ব্যাপার স্যাপারে ওর অনেক অভিজ্ঞতা আছে। ওকে আলেসের ব্যাপারটা খুলে বলা যেতে পারে। কিন্তু ওকে আমায় বিশ্বাস করবে? বিশ্বাস করলেও ও কি পারবে আলেসকে আমার কটেজ থেকে সরাতে? আচ্ছা। একবার বলেই দেখা যাক। ওর প্রফাইল ঘেটে ওর ফোন নম্বর বের করে ফোন দিলাম। হ্যালো আদিন। কংগ্রেটুলেশন। যাক বাবা। অবশেষে তুমি স্থির হয়ে সংসারব্রত পালনে মন দিয়েছো। আমিতো ভেবেছিলাম এই পাগলা ঘোড়াকে আটকায় এমন কোন b***h এ জগতে জন্মায়নি। ও মৃদু হেসে ধন্যবাদ জানালো। এবার আমি সরাসরি টু দি পয়েন্ট চলে আসলাম। আদিন। তুমি কি আজ আমার সাথে ডিনার করবে? আজ আমি তোমাকে খাওয়াতে চাই। ও বলল, আমি যা খেতে চাই তুমি তো তা দিবে না। বুঝলাম ও যৌনতার দিকে ইঙ্গিত করছে। হাহ। ছেলেদের এক চিরায়ত দুর্বলতা, অবারিত যৌন পিপাসা। আমি ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ইগনোর করে ব্যস্ত কণ্ঠে বললাম, শোন আদিন, আমার নতুন কটেজে ভৌতিক কাণ্ডকারখানা চলতেছে। তুমি কি এটা থামাতে আমায় সাহায্য করবে? »চলবে….


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now