বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাগকন্যে
- অর্থহীন অমিত
শীতের বিকেল গুলোর মাঝে অদ্ভুত একটা ভালো লাগা আছে। মিষ্টি রোদের স্পর্শে, চারদিক ডুবে থাকে ক্ষাণিকটা সময় তারপর প্রকৃতি যেনো আস্তে আস্তে কুয়াশার চাদরে নিজেকে আবৃত করায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এই বিকেল গুলো সবসময় বড্ড ভালো লাগে তুলির কিন্তু আজ কেনো জানি প্রচন্ড মন খারাপ হচ্ছে। বিরাট একটা শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে নিজের সত্ত্বায়, ভেতর থেকেএকটা কান্নার গুমট ভাব তাড়া দিচ্ছে, কেনো যে শুভ্র এতো দেরী করছে। কত করে বললো তাকে তাড়াতাড়ি আসার জন্য আর সে। আজ আসুক, আসলে ইচ্ছেমতো বকে দিবো । চিন্তাটা শেষ করতে পারলো না তুলি, পেছন থেকে কেউ চোখে চেপে ধরলো। এটাই যে শুভ্রের স্পর্শ, তা বুঝতে বাকী রইলো না তুলির।
শুভ্র চায়ের কাপটা মুখে নিয়ে সড়াৎ করে টান দিতেই তুলি তার দিকে মুখ তুলে তাকালো আর বললো,
-- তোমাকে না একশবার বলছি এভাবে শব্দ করে চা খাবে না,কথা শুনো না কেনো ?
শুভ্র সে দিকে কর্ণপাতও করলো না, সে আয়েশী ভঙ্গিমায় চা খাচ্ছে আর তুলির দিকে পিটপিট করে তাকাচ্ছে। অবশ্য মুখে সবসময়ের মতো এক চিলতে হাসি লেগে আছে তার। রেগে গেলে নাকি মেয়েদের সুন্দর দেখায় সেই অনুভূতিটা তুলিকে দেখেই প্রথম হয়েছে শুভ্রের। তবে আজ রাগের পরিমাণটা একটু বেশি। এর পিছনে যথেষ্ট কারনও আছে। গত তিন দিন আগে তুলি ফোন দিয়ে শুভ্রকে আজ বিকেলে, তার ক্যাম্পাসে আসতে বলেছিলো আর শুভ্র আসবে বলে প্রায় দুই ঘন্টা লেইট করে আসছে। শুভ্র আসার পর থেকে তুলি একেবারে নিশ্চুপ, কোন কথা বলছে না। শুভ্র আসার সময় বাদাম নিয়ে আসছিলো, কিন্তু তুলি ঐ গুলো ছুঁয়ে পর্যন্তও দেখেনি। শুভ্রও কিছু না বলে একটা একটা করে সব গুলো বাদাম শেষ করেছে। তার পর শসা কিনে তুলির সামনেই লবন আর মরিচের গুড়ো দিয়ে কচকচ করে খেয়েছে।একবার অবশ্য সে তুলিকে জিজ্ঞেস করেছিলো খাবে কিনা এর উত্তরে কয়েকটা কিল ঘুষি উড়ে এসে পড়েছে বেচারার উপর। এই মেয়েটার প্রচন্ড জেদ আর রাগ। বিষয় বস্তু যাই হউক না কেনো, অভিমান করে গাল ফুঁলিয়ে কেঁদে কেটে একাকার করতেই যেনো তার ভালো লাগে। মাঝে মাঝে তুলির মন খারপ থাকলে শুভ্র মন খারাপের কারণ জানতে চায়, আর কারণ শুনার পর সে বহু কষ্টে হাসি চেপে রাখে। তুচ্ছ কোন বিষয়ে মন খারাপ করা তুলির অভ্যেস। কিচ্ছুক্ষণ আগে সে তুলি কে প্রশ্ন করেছিলো,
- ভালো আছো ?
প্রশ্ন করে শুভ্র নিজেই ফিক করে হেসে দিলো। তা দেখে তুলির রাগ চরম পর্যায়ে পৌছেছে। শুভ্র অনেক কাকুতি স্বরে বললো,
- একটু হাসোনা প্লিজ, প্লিজ
তুলি হাসলো না, সে তখনো নির্বাক। শুভ্র আবার বললো,
- রাগ করলে তোমার মাথায় পেইন আসে তা কি তুমি ভুলে গেছো ? আচ্ছা তোমার মাথাতো এখন গরম আর মাথা গরম হলে কি করতে হয় জানো, আমি কিন্তু জানি, বললো ?
তুলি ঐ দিকে ভ্রুক্ষেপ করলো না সে তখনো মাথা নিচু করে বসে আছে । শুভ্র আবার বললো,
- রাগ করলে তোমাকে পঁচা লাগে এই যে এই রকম,
বলেই সে তুলির দিকে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো আর নিজেই অনেকক্ষণ হাসলো কিন্তু তুলি মুখ গোমড়া করে বসে আছে। শুভ্র আবার বললো,
- কথাটা কিন্তু সেটা নয়, আসল কথা হলো এই শীতের বিকেলে প্রচুর শীত করছে একটু উষ্ণতা দরকার বুঝছো
তুলি বড় বড় চোখ করে তাকালো শুভ্রের দিকে, শুভ্র আবার বললো,
- এভাবে তাকাবে না, ভয়ে জান উড়ে যায়। আর কথাতো পুরোটা শেষ হয় নি,আগে কথাটা শুনো তারপর তাকাও। বলছিলাম কি, ভালোই শীত পড়েছে আর তোমার মাথাও গরম। এক কাজ করি চলো, জামাল ভাইয়ের স্টলে এক কাপ চা খাই। শীতও কাটবে তাছাড়া তোমার মাথাও ঠান্ডা হবে কেনোনা গরমে গরম
কাটে, যাবে ?
চলনা যাই, প্লিজ
তুলি মুখে কিছু বললো না, তবে বসার জায়গাটা ছেড়ে উঠে দাড়ালো।
- আমি জানতাম আমার RK যাবে।
এটা শুনেই তুলি আবার বসে পড়লো কারণ RK মানে হচ্ছে ‘রাগকন্যা’ যা শুভ্রের দেয়া নাম। অবশ্য শুভ্র এটা ভয়ে স্বীকার করে না। তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলে এটার মানে ‘রাজকন্যা’। তার আবার বসে পড়া দেখে শুভ্র সেই একই কথা বললো,
-আরে বোকা, এটার মানে হচ্ছে রাজকন্যা বুঝছো।
সে তুলির হাত ধরে জোর করে টেনে ধরলো। তারা জামাল ভাইয়ের চা স্টলে ঢুকলো। জামাল ভাই শুভ্রের পরিচিত কারণ ক্যাম্পাসে থাকা কালিন সময়ের
কিছুটা এখানেই কাটায় সে বন্ধুদের সাথে। তাকে দেখে জামাল ভাই লম্বা একটা সালাম দিলো, একটু পর চাও এলো। শুভ্র, তুলিকে আবার রাগানোর জন্যই চায়ের কাপে জোরে শব্দ করে চুমুক দিলো কারণ সে জানে এই শব্দটা তুলি সহ্য করতে পারেনা।
- শব্দ করে চা খাওয়াতে একটা আলাদা মজা আছে , তুমিও খাও তখন বুঝবে এর মজাটা বুঝছো।
-- তুমি খাও
- যাক অবশেষে কথা ফুটছে তোমার মুখে।
-- ন্যাকামি করবানা একদম, অনেক কথা বলছো এতোক্ষণ এখন আমি বললো তুমি শুনবা।
- জ্বী আচ্ছা, বলেন কি করতে হবে ?
-- আগে চা তো শেষ করো।
তাদের সম্পর্কের শুরু আজ থেকে প্রায় ৩
বছর আগে। এক সময় একই বাসায় ল থাকতো তারা। শুভ্র এখন একটা ব্যান্ড দলের ভোকালিস্ট। তখন অবশ্য তার এতো নাম ডাক ছিলো না। তবে তখন সে প্রায় প্রতিদিনই গিটার নিয়ে ছাদে বসে বসে গিটারের কড গুলো মুখস্থ করার চেষ্টা করতো। মাঝে মাঝে গুনগুনিয়ে কয়েকলাইন গাইতো। একই বাসায় থাকার সুবাদে প্রায় তাদের দেখা হতো, ভালো মন্দ কথা বার্তা হতো । তুলিও বিকেলে ছাদে ঘুরতে যেতো , কখনো কখনো মন দিয়ে শুভ্রের গান শুনতো। পরিচয় থাকলেও তাদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব হয় ভার্সিটিতে পরীক্ষা দেয়ার সময়। এক সাথেই বেশ কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেয় তারা। শুভ্র চান্স পায় নিজ শহরের ভার্সিটিতে আর তুলি ঢাকায়। দুরত্ব তৈরী হওয়ায় তারা একে অপরের প্রতি টানটা ভীষন ভাবে অনুভব করতে শুরু করে। তার পর সেখান থেকেই আস্তে আস্তে ভালো লাগার ব্যাপারটা ভালোবাসায় রূপান্তরিত হয়। তাদের যে খুব একটা দেখা হয় তা কিন্তু নয়, শুধু তুলি যখন নিজ শহরে আসে অথবা শুভ্র মাঝে মধ্যে ঢাকায় যায় তখন দেখা হয়। শীতকালীন ছুটিতে তুলি বাড়ি আসায় তাদের আজকের সাক্ষাত। শুভ্র চা শেষ করে বললো,
- এবার বলো, কি ?
-- আমি কাল চলে যাবো ঢাকায়।
- হুম
-- হুম কি ?
- এর জন্যই তোমার মন এত্ত খারাপ, তাই না ?
তুলি নির্বাক, কোন কথা বললোনা। শুভ্র বললো,
- তুমি এতো বোকা কেনো, শুনো কাল হতে এখনো ঢের বাকী বুঝছ, আর আমি কয়েকদিন পরে ঢাকায় আসতেছি।
-- কবে আসবে ???
- এইতো কয়েকটা দিন পর। এক কাজ করি চল রিক্সায় করে ঘুরি, ঘুরবে?
তুলির মুখে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো, কারণ এই ব্যাপারটা তুলির সবচেয়ে ভালো লাগার। হাতে হাত রেখে পাশাপাশি একসাথে বসা, কথা বলা, কিছু মজার স্মৃতি হবে যে গুলো একান্তই তুলির নিজস্ব। শুভ্র থেকে দূরে থাকার একলা সময়টাতে এগুলোই তার সব। তারা একটা রিক্সায় করে পুরোটা শহর ঘুরবে, কত খুনসুটি হবে। কথার ফাঁকে ফাঁকে তুলি হাসবে, আর শুভ্র তুলির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে। এটাই মায়াময় সেই, যে হাসিটার জন্য শুভ্র সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে পারে, কারণ এই হাসিটার মালিক একান্তই সে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now