বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

টোকাই

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X টোকাই - অরূপ সুহৃদ ১. 'আর এক টান দে মামা, পায়ে লাগি তোর।' রুদ্রর কন্ঠে আকুতি ঝরে পড়ে। কিন্তু সেটা কোনোও ভাবান্তর ঘটায় না রুদ্রর সাথে নেশারত ছেলেটার মনে। ছেলেটি নিরবে সিগারেট টা শেষ করে। বলা বাহুল্য, সিগারেট এর ঠোঙার ভিতরে ছিল গাঁজার একটা 'পুরিয়া' কিংবা 'স্টিক'। - 'ধুর শালা।' বলে ওঠে রুদ্র, 'তুই এত স্বার্থপর কেন রে? আরও একটু দিতেই পারতি আমায়।' - 'ধুর্ব্যাডা! এক স্টিক গাঞ্জার দাম বিশ ট্যাহা। ট্যাহা কি তর বাপে জোগায়?' - 'একটু বেশি হইয়া যাইতেছে। বাপের কথা উঠাবি না কইলাম। পিনিকে আছি, খুন কইরালামু।' - 'ভাগ তো, ম্যালা বকিস না। সামনের মাইয়াডারে দেখ, নাইলে গিয়া কাগজ টোকা।' - 'তুই টোকাইতে যাবিনা?' রুদ্র বলে। পাশের ছেলেটা কোনো কথা বলেনা। শুধু সামনের দিকে তাকিয়ে শীষ দিতে থাকি। আর রাস্তা দিয়ে চলে যাওয়া মেয়েটি নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে একবার তাকায়। অতঃপর আবার হাটতে থাকে। এরপর রুদ্রর সাথে উঠে কাগজ টোকাতে চলে যায় ছেলেটি। রুদ্র, একজন টোকাই। রেলওয়ে কলোনীতে থাকে। একটা মাত্র ঘরে রুদ্র, তার মা আর ছোট বোন তানিয়াকে নিয়ে থাকে। মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে, আর বোনটি মা কে সাহায্য করে। 'নুন আনতে পান্তা ফুরায়' একটা অবস্থা ওদের। এরই মাঝে রুদ্র নেশা করত। রুদ্র, জন্মের পর মা-বাবা নাম রেখেছিল রুদ্র। যার মানে 'ঈশ্বর'। ভেবেছিল, 'ছেলে আমার বড় হয়ে ঈশ্বরের মতই আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করবে। যেমনটা করে থাকেন ঈশ্বর।' কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়ে অনেক আগেই, যখন রুদ্রর বাবা আরেকটা বিয়ে করে রুদ্র, আর মা কে বাড়ি থেকে বের করে দেন। রুদ্রর বয়স তখন মাত্র ৪ বছর মাত্র। তানিয়া তখন মায়ের গর্ভে! একটা বারের জন্যও খোজ নেয়নি লোকটি। এরপর জিবীকার তাগিদে রুদ্রর মা অন্যের বাসায় কাজ শুরু করে, আর রুদ্র কলোনীর ছেলেদের সাথে কাগজ টোকানো, কখনও চকলেট/বাদাম বিক্রয় করত। কখনও ভিক্ষাও করত। আর খুব ছোট বেলা থেকেই সিগারেট খাওয়া শুরু করেছিল, এরপর বিভিন্ন নেশা। আজ সময় অনেক পেরিয়ে গিয়েছে। রুদ্র এখন অনেকটা বড় হয়েছে, আর বেড়েছে নেশার চাহিদা। কাগজ টুকিয়ে যখন নেশার পয়সা জোগাড় হয়না, মা'র কাছে জোর করে টাকা নেয়। মাঝে মাঝে ছিনতাই ও করে বড় ছেলেদের সাথে। এভাবেই চলে রুদ্রর। ২. 'ভাইয়া।' তানিয়ার ডাকে পিছে ফিরে তাকায় রুদ্র। স্টেশানের ধারে বসে একা একা সিগারেট ফুকছিল রুদ্র। কখন যে পিছে এসে পিচ্চি তানিয়া দাড়িয়েছে, খেয়াল করেনি রুদ্র। সিগারেট খাওয়ার সময় উটকো ঝামেলা একদম সহ্য হয়না রুদ্রর। মেজাজ খারাপ হয়ে যায় ওর। উচ্চস্বরে বলে ওঠে, 'কি হইছে? এইহানে কেন আইছোস?' - 'মা'য়ে তোমারে ডাকে।' - 'কেন?' - 'আমারে কইছে নাকি? আমি জানিনা। তুমি গিয়া দেইখা আসো।' - 'যা আইতেছি।' কথাটা বলেই রুদ্র বিদেয় করে তানিয়াকে। তানিয়া ধীরপায়ে চলে যায়। রুদ্র আরও কিছুক্ষন বসে থাকে সেখানে। আরও একটা সিগারেট জ্বালায়। 'শেইখ সিগারেট', দাম কম। ৫টাকায় তিনটা পাওয়া যায়। তাই এটাই খাই ও। মাঝে মাঝে টাকা বেশি থাকলে সিগারেট এর ভিতরে গাঁজা ঢুকিয়ে খাই। সিগারেট টা শেষ করে উঠে আসে রুদ্র। ঘরের সামনে যেতেই শুনতে পায় ছেলেটি, তার মা কাঁতরাচ্ছে। সম্ভবত খুব অসুস্থ। ঘরে ঢোকে রুদ্র। মা'কে বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে, মনটা কাঁদেনা তবুও। উচু কন্ঠে বলে, 'কি হইছে? ডাকিস কেন?' - 'বাপ! জ্বরডা খুব বাড়ছে।' - 'তো আমি কি করুম? ডাক্তার দেখা। আমি ডাক্তার নাকি?' - 'ট্যাকা লাগব বাপ। ডাক্তারের কাছে গেলেই শ-খানেক ট্যাকা ফুরাইয়া যাইব। অত ট্যাকা নাই আমার। তুই আমার মাথায় জলপট্টি কইরা দিতে পারবি?' - 'তানিয়া কই গেছে? ওরে কস না ক্যা?' - 'ওরে আমি সাহেব এর বাসায় পাঠাইলাম। আমি যাইতে পারুম না আইজ, এইডা কওনের লাইগা। আর কিছু ট্যাকাও দিতে পারে।' টাকার কথা শুনে চোখটা চকচক করে রুদ্রর। মনে মনে ভাবে, 'আইজ একটু ফুর্তি হইব তাইলে!' এরপর বসে পড়ে মায়ের মাথার পাশে। একটা ন্যাকড়া ভিজিয়ে সেটা মায়ের মাথায় লাগায় সে। মা আবেশে চোখ বন্ধ করে থাকে। কিছু একটা ভাবতে থাকে মনে মনে। কারন, চোখের কোনা দিয়ে একটু জল গড়িয়ে পড়ে তার। রুদ্র এটা খেয়াল করেনা। সে তখন তানিয়ার অপেক্ষায় আছে। কখন টাকা নিয়ে আসবে ও। কিছুক্ষন পরেই তানিয়া ফিরে আসে। এসে দেখে রুদ্র জলপট্টি করছে। কিছু একটা চিন্তা করেই হাতটা পিছনে নেয়। যেটা রুদ্রর ও চোখে পড়ে। তানিয়া বলে, 'মা, সাহেবের বাসায় গেছিলাম। কইল পরে ট্যাকা দিব। আইজ নাই।' রুদ্রর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। জলপট্টি দেয়া ন্যাকড়া টা ছুড়ে ফেলে দুরে। রাগত স্বরে বলে ওঠে, 'দেই নাই মানে? হারামী, মিছা কস ক্যা? পিছে কি লুকাইছস? হাতডা বাইর কর।' - 'ভাই।' কাঁদতে কাঁদতে বলে তানিয়া, 'মায়ের ঔষধ কেনন লাগব ভাই। দোকানেও ম্যালা বাকি আছে। তুই এই ট্যাকাডা নিস না ভাই।' রুদ্র কোনো কথা কানে নেয়না, হাত থেকে জোর করে কেড়ে নেয় টাকা গুলো। গুনে গুনে দেখে, চারটা একশত টাকার নোট। খুশি হয় মনে মনে। এরপর কি যেন ভেবে একটা নোট তানিয়ার দিকে ছুড়ে দিয়ে বলে, 'যা ভাগ!' এরপর বেরিয়ে আসে বাসা থেকে। পিছনে মা আর বোনটা চোখের পানি মুছতে থাকে। ৩. বুকটা এখনও কাঁপছে রুদ্রর। হাত পা ঠান্ডা হয়ে আছে মনে হয়। মাথাটা কাজ করছেনা একদম। পাশে বসা ছেলে দুইটা বেশ স্বাভাবিক। জ্বল জ্বল চোখে তাকিয়ে আছে রুদ্রর দিকে। ওরা রুদ্রর বন্ধু, নেশা করার বন্ধুত্ব আর কি। - 'আগেই কইছিলাম এই হালারে এত দিস না। এহন তো হেই চোখ উল্টায়া বইয়া রইছে।' বলে ওঠে একজন। ওর সুর ধরেই আরেকজন বলে, 'আমি কি বুঝছিলাম যে হিরোন (হেরোইন) এইডার উপর এত্ত ঘা দিব! বুঝলে তো দিতাম না। যাউকগা, মরলে মরুক ব্যাডা।' - 'হ। আর আমরা কেস খাই? নাকি?' - 'ঐডা ব্যাপার না। কেস খামু ক্যা? দু-একশ ধরাই দিমু শ্বশুর এর হাতে। হা হা হা।' নিজের রসিকতায় নিজেই হেসে ফেলে ছেলেটি। সাথে যোগ দেয় আরেকজন, রুদ্র নির্বাক। আজই প্রথম হেরোইন সেবন করছে ও। তাই একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে একটা খুশির খবর হল, হেরোইন খাচ্ছে বন্ধুর পয়সায়। পকেটে এখনও অনেক টাকা আছে তাই। - 'ঐ তোরা কি করোস রে? নেশা করোস নাকি? চল একটু ডান্ডা খাবি আয়।' পেছন থেকে বলে ওঠে কেউ একজন। চমকে ওঠে রুদ্র আর ছেলেগুলো। পিছন ফিরে দেখে দুজন রেলওয়ের পুলিশ। একটা ছেলে উঠে দৌড়ানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ধরা পড়ে যায়। রুদ্র আর আরেকজন নির্বাক, বসে থাকে। - 'চল আজ একটু ডাল-ভাত খাবি ১৪ শিকে। হা হা...' - 'স্যার, আসলে আমরা নেশা করতেছিলাম না। বইসা আড্ডা দিতেছি।' - 'হ বুঝছি তো। তোরা খুব ভদ্র পোলা, তাই আড্ডা দিচ্ছিস! চল একটু আমাদের সাথে আড্ডা দিবি।' হেসে ওঠে পুলিশ এর একজন। রুদ্র এবার মুখতোলে। কথা বলার চেষ্টা করে। বলে, 'স্যার ছাইরা দেন। আইজ ই প্রথম। আর আমরা তো ধান্দা করিনা এইডার, খালি খাই।' - 'হ। তোগোরে পিঠের ছাল ছাড়াইয়া ছাড়ুম হ্রামীর পো...' আরও বিশ্রি কিছু গালি ছাড়ে একজন পুলিশ, ধমকে ওঠে। হঠাৎ আরেকজন পুলিশ বলেই ফেলে, 'কিছু মাল-পানি ছাড়। রাতের খাবারটা হোক। তোরাও বাড়ি যা, আমরাও যাই।' 'কুত্তার বাচ্চা!' মনে মনে বলে ওঠে রুদ্র। - 'রুদ্র, কিছু আছে? থাকলে বাঁচা আইজ। মাল আনতে ফুরাইছি সবডি।' - 'হ।' বলেই পকেট থেকে বের করে ৩টা একশ টাকার নোট, এরপর ওদের হাতে দিয়ে দেয়। একটা পুলিশ বলেই ওঠে, 'হারামীর বাচ্চা, মাত্র তিনশ! যাউকগা, আইজ ছাইড়া দিলাম। পরেরবার ছাড়ুম না।' বলেই টাকাটা পকেটে ঢোকাতে ঢোকাতে চলে যায় ওরা। রুদ্র আর তার বন্ধুরা বসে থাকে সেখানেই। একজন তিনটা সিগারেট বের করে দেয়, জ্বালায় তিনজন। এরপর হাটতে থাকে বাড়ির পথে। ৪. 'রুদ্র!' মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙে রুদ্রর, 'বাপ, ঘরে একটা পয়সা নাই। একটু দেখবি কিছু করতে পারিস না কি? নইলে তো খাওন জুটব না। আমিও যাইতে পারিনা কাজে, শরীরডা খুবই খারাপ।' - 'হ, যাইতেছি। কিছু খাইতে দেও। আমি মুখ ধুইয়া আসি।' বলেই বাইরে চলে যায় রুদ্র। একটু পর হালকা কিছু খেয়েই বেরিয়ে পড়ে ছেলেটি। কিছু কাজের খোজে। গত সপ্তাহে টাকাটা খোয়ানোর পর কিছুতেই নেশার টাকা জোগাড় হয়নি। মাথাটা খুব খারাপ হয়ে আছে তাই। কয়েকজন ছেলের সাথে কাগজ টোকাতে শুরু করে রুদ্র। একপর্যায়ে একজন বলে, 'মামুরা, মাল খাইতে মুঞ্চাইতেছে। ট্যাকা পয়সা কিচ্ছুই নাই এক্কেরে। কি করুম?' - 'আমারও একই অবস্থা রে। কিছু একটা তো করন লাগব।' বলে ওঠে রুদ্র। - 'খুর বাদামু মাইনষের গলায়, ছিনতাই আর কি। রাজি?' - 'কহন? আইজ রাইতে?' - 'হ।' - 'আইচ্ছা চইলা আমুনে।' রুদ্র ওর টোকানো জিনিসের বস্তাটা কাঁধে নিয়ে গুদামের দিকে হাটতে শুরু করে। এগুলো বেচে কিছু টাকা পাই। তা থেকে কিছুই খরচা করেনা। সরাসরি বাসায় আসে। কিন্তু এসে দেখে বাড়িতে তানিয়া কাঁদছে। কাঁন্নার কারন হিসেবে বলে, 'ভাইয়া, মা ম্যালা অসুস্থ। কথা কইতে পারতেছে না, ডাক্তার ডাকা দরকার। ট্যাকা তো নাই। কি করুম?' - 'মরুক গিয়া। আমার কি?' আজকের আয়ের টাকাটা ছুড়ে ফেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে রুদ্র। বুকটা মায়ের জন্য একটু কাঁদেও হয়ত। কিন্তু কিছুই করতে পারেনা। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরেই থাকে। সন্ধ্যার সময় কয়েকজন মিলে কিছু টাকা ছিনতাই ও করে। হেরোইন আর গাঁজার ব্যাবস্থা ও হয়। সবাই মিলে খায়। কিন্তু রুদ্রর নেশা আরও বেড়ে যায়। ওর আরও মাদক চাই! পাগলের মত হয়ে ওঠে ও। দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ির দিকে যেতে থাকে। হয়ত কিছু টাকা পাওয়া যাবে, এই আশায়। টকটকে লাল চোখ নিয়ে বাড়িতে পৌছে গিয়ে দেখে, বাড়ির সামনে বড় ধরনের জটলা, কাঁন্নার আওয়াজ ও আসছে। ভিতরে গিয়ে দেখে চাদরে জড়ানো মাকে। কিন্তু তার মাথায় তখন একটাই চিন্তা, টাকা আর মাদক। হঠাৎ ওকে দেখে তানিয়া চিৎকার করে কেঁদে ওঠে। বলে, 'ভাইয়া রে! মা চইলা গেছে রে ভাই। মা চইলা গেছে!' রুদ্রর কোনো ভাবান্তর হয়না। হঠাৎ খেয়াল করে তানিয়ার হাতে কিছু টাকা। পাগলের মত হামলা করে তানিয়ার হাতের ওপর। বলে ওঠে, 'দে! ট্যাকা দে!!' ছিনিয়ে নিয়েই দৌড়ে বেরিয়ে যায় ঘর থেকে। কিছু প্রতিবেশী আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়। - 'ভাই!' চিৎকার করে তানিয়া। বলে ওঠে, 'এইডা নিসনা। এইডা আমার মায়ের কাফন কিনার ট্যাকা! দিয়া যা ভাই, দিয়া যা!!' কিন্তু রুদ্র ততক্ষনে অনেক দুরে চলে যায়, চলে যায় মাদকের কাছে। আর পিছনে পড়ে থালে ক্রুন্দনরত ছোট বোন, আর মায়ের অসাড় শরীরটা। রাত বাড়তে থাকে, প্রাত্যহিক নিয়মেই বাড়তে থাকে। শুধু পার্থক্য তৈরি করে একটা আত্মচিৎকার, 'ভাই! এইডা নিস না, এইডা আমার মায়ের কাফন কিনার ট্যাকা! দিয়া যা ভাই! দিয়া যা!!'


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ টোকাই
→ টোকাই রাজা
→ এক টোকাই এর গল্প
→ টোকাই

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now