বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ধ্বংস টাওয়ার চ্যাপ্টার-১ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আহমদ মুসা তাকাল রিসেশনিস্ট লিসার দিকে। তারপর নুমা ইয়াহুদের দিকে ফিরে বলল, এইভাবে বলা যাবে না মিস নুমা।’ নুমা ইয়াহুদ ব্যাপারটা বুঝল। সেও তাকাল একবার লিসার দিকে। আহমদ মুসাও তাকাল আবার লিসার দিকে। বলল, ‘মিস লিসা, তোমার ভ্যানিটি ব্যাগটা কি আমি দেখতে পারি?’ সঙ্গে সঙ্গেই লিসার মুখ ভয়ে এতটুকুন হয়ে গেল। ফ্যাকাসে হয়ে গেল তার মুখের রং। পাথরের মত সে স্থির হয়ে গেছে। ভ্যানিটি কেস ধরা তার হাত কাঁপছিল। ভ্যানিটি কেস তুলে ধরার শক্তি যেন তার নেই। ‘মাফ করবেন লিসা’ বলে আহমদ মুসাই তার হাত থেকে ভ্যানিটি কেসটি নিয়ে নিল। আহমদ মুসা ভ্যানিটি কেসটি খোলা দেখতে পেয়েছিল, এখনও খোলাই আছে। আহমদ মুসা ভ্যানিটি কেসে দেখল দিয়াশলাই সাইজের একটি রেকর্ডার চালু রয়েছে। আহমদ মুসার মুখে একটুরো হাসি ফুটে উঠল। বলল লিসাকে লক্ষ্য করে, ‘তোমার কক্ষেই তুমি এটা অন করেছিলে, তারপর তো এটা অন করাই ছিল। তাহলে তো সব কথাই রেকর্ড হয়েছে, তাই না?’ কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে রেকর্ডার অফ করে দিয়ে অন করল রেকর্ড প্লেয়ারের সুইচ। ফিরল আহমদ মুসা ড. আয়াজ ইয়াহুদের দিকে । চলছে রেকর্ড প্লেয়ার। তাদের এতক্ষণের সব কথাই আবার বলে যাচ্ছে রেকর্ডার। স্তম্ভিত ড. আয়াজ ইয়াহুদরা সকলেই। এক সময় ড. আয়াজ ইয়াহুদ তীব্র কন্ঠে বলে উঠল, ‘এতো সাংঘাতিক গোয়েন্দাগিরী? লিসা, এটা কি তুমি সরকারের নির্দেশে করছ।’ ভীত, বিপর্যস্ত লিসা বলার আগেই আহমদ মুসা বলল, ‘না সে সরকারের পক্ষে নয়, ড. হাইম হাইকেলের কিডন্যাপকারীদের পক্ষে কাজ করছে।’ ‘বুঝলেন কি করে?’ জিজ্ঞাসা নুমা ইয়াহুদের। ‘তার ভয়ের ধরন দেখে বুঝেছি।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ও গড!’ বলে আর্তনাদ করে উঠল ড.আয়াজ ইয়াহুদ। ‘আমি কি ঠিক বলেছি লিসা?’ আহমদ মুসা জিজ্ঞেস করল লিসাকে। ভয় ও আতংকে পান্ডুর মুখটি নত করল লিসা। ‘তুমি কত টাকার বিনিময়ে এই কাজ করছ লিসা?’ ফুপিয়ে কেঁদে উঠল লিসা। কান্নার মধ্যে সে বলল, ‘এক পয়সা আমি নেইনি। পয়সা নিয়ে স্যারের বিরুদ্ধে এমন কাজ আমি করতে পারি না। আমি একাজ না করলে ওরা আমাকে ও আমার আব্বা-আম্মাকে মেরে ফেলবে। রাজী না হওয়ায় আমার আব্বাকে ওরা কিডন্যাপ করেছিল। বাধ্য হয়ে আমি রাজী হয়েছি।’ কান্নায় রুদ্ধ হয়ে গেল তার শেষ কথাগুলো। দুহাতে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল লিসা। আহমদ মুসা দুপা এগিয়ে তরুণীর মাথায় আলতোভাবে হাত বুলিয়ে বলল, ‘তোমাকে ওরা কি ধরনের দায়িত্ব দিয়েছিল?’ মেয়েটি মুখ তুলল। বলল, ‘স্যারের সাক্ষাত করতে আসা লোকদের সাথে কি আলাপ হয় এবং টেলিফোনে কি কথা উনি বলেন, এসব রেকর্ড করা ছিল আমার দায়িত্ব। স্যারের অফিসের কথা-বার্তা ও টেলিফোনের কথা-বার্তাও রেকর্ড করা হয়েছে।’ ‘অফিসে কে করছে এই কাজ?’ দ্রুত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। ‘আপনার পার্সোনাল এ্যাসিস্টেন্ট ‘জন’।’ আমার বিশ বছরের পুরানো কর্মচারী জন!’ বিস্ময় ও উদ্বেগ ঝরে পড়ল ড. আয়াজের কন্ঠে। কথা শেষ করেই ড. আয়াজ ইয়াহুদ আবার বলে উঠল, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কেউ জড়িত আছে কি না তুমি জান?’ ‘শুধু এটুকু জানি প্রফেসর ও প্রসাশনের মধ্যে আরও দুতিনজন জড়িত আছে। কিন্তু তাদের নাম জানি না স্যার।’ বলল লিসা। ‘তুমি যে তথ্য যোগাড় কর, সেগুলো কি তারা এসে নিয়ে যায়?’ জিজ্ঞেস করল আহমদ মুসা। ‘না ওরা কেউ আসে না। ওদের নির্দেশ মত ক্যাসেট বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় রাখতে হয়। ওরা এসে সেখান থেকে নিয়ে যায়।’ লিসা বলল। ‘তুমি ওদের কাউকে চেন না?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘ওদের একজনই দুবার আমাদের সাথে দেখা করেছে। আর কারো সাথে দেখা হয়নি। ঐ একজন লোক ছাড়া আমি কাউকে চিনি না।’ বলল লিসা। ‘ওরা এসব কেন করছে, কেন ড. হাইম হাইকেলকে কিডন্যাপ করেছে, এ ব্যাপারে কিছুই জান না তুমি?’ ‘হ্যাঁ, আমাকে রাজি করার যুক্তি হিসাবে ওরা বলেছে, ‘নবী মুসা যেভাবে বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের হাত থেকে রক্ষা করেছিল, সেভাবে আমরাও ইহুদী জাতিকে বিশেষ করে মার্কিন ইহুদী সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য কাজ করছি। সব ইহুদীরই উচিত আমাদের সহযোগিতা করা।’ লিসা বলল। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল। তাকাল ড. আয়াজ ইয়াহুদের দিকে। বলল, ‘স্যার আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। কয়েকটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনার কাছ থেকে পেয়েছি। প্রয়োজনে আপনাদেরকে যে কষ্ট দিয়েছি সেজন্য আপনাদের সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আহমদ মুসা কথা শেষ করতেই লিসা কান্নাজাড়িত স্বরে বলল, ‘স্যার আমার কি হবে? আমি যদি ওদের তথ্য সরবরাহ করতে না পারি, তাহলে ওরা আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।’ ‘কেন, তুমি এই ক্যাসেটটা নিয়ে যাবে। তাদের দেবে, তবে একটা শর্তে। শর্তটা হলো, ক্যাসেটটা ওরা যেখানে রাখতে বলবে, সে স্থানের কথা আমাকে সঙ্গে সঙ্গেই জানাতে হবে। তুমি বিপদে পড় এমন কিছু করব না।’ বলল আহমদ মুসা। ‘সর্বনাশ এ ক্যাসেট ওরা পেলে তো আমরা বিপদে পড়ব।’ বলে উঠল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘স্যার নিশ্চিত থাকুন, ওরা ক্যাসেট শোনার সুযোগ পাবে না।’ আহমদ মুসা বলল। ‘এতটা নিশ্চয়তা আপনি কিভাবে দিতে পারেন। ঝুঁকি থেকেই যাবে’। বলল নুমা ইয়াহুদ। ‘ঝুঁকি আবশ্যই থাকবে এবং এ ধরনের ঝুঁকি নিতে হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘ক্যাসেটে যা আছে তাতে আমাদের পরিবার মহাবিপদে পড়বে। লিসা তো ক্যাসেট না দিলেও পারে, ওরা তো এ ঘটনার কথা জানছে না।’ বলল নুমা ইয়াহুদ । ‘এতেও ঝুঁকি আছে। কারণ এ বাড়িতে বাইরের কে কখন আসছে এটা জানবার জন্য ওদের লোক আরো থাকতে পারে। বলল আহমদ মুসা। নুমা এবং ড. আয়াজদের সকলের মুখ ম্লান হয়ে গেল। ‘স্যার আমি আপনাদের বিপদে ফেলার জন্য আসিনি, অন্তত এ ব্যাপারে নিশ্চত থাকুন।’ সান্ত্বনার সুরে আহমদ মুসা বলল। বলেই আহমদ মুসা তার মোবাইল নাম্বার ও ক্যাসেট সমেত ভ্যানিটি ব্যাগ তুলে দিল লিসার হাতে আর বলল, প্রতিশ্রুতির কথা মনে রেখো লিসা।’ ‘ফিরল আহমদ মুসা ড. আয়াজ ইয়াহুদের দিকে। বলল, এক্সকিউজ মি স্যার, এক্সকিউজ মি ম্যাডাম, আমি আসি।’ ‘না, জনাব, আপনার কথা শেষ হয়েছে, কিন্তু আমাদের কথা শেষ হয়নি।’ অনেকটা প্রতিবাদের সুরে সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠল নুমা ইয়াহুদ। আহমদ মুসা সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আবার রেলিং-এ হেলান দিয়ে দাঁড়াল। ‘আংকেল ড. হাইম হাইকেল এমন কি ভয়ংকর তথ্য জানতেন যার জন্য তার এই পরিণতি এবং যা চাপা দেয়ার জন্য এতো কিছু ঘটছে?’ বলল নুমা ইয়াহুদ। ‘ইহুদীবাদীদের এক ভয়ংকর পাপ তিনি জানেন।’ আহমদ মুসা বলল। ‘কি সে পাপ কাহিনী?’ বলল নুমা ইয়াহুদ। ‘স্যরি, বলার আগে আমাকে ভাবতে হবে। আমি চলি। সিকিউরিটি দুজনের সংজ্ঞা এখনি ফিরে আসবে।’ বলে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াতে গেল। ‘শুনুন আমার প্রশ্ন শেষ হয়নি।’ আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে বলল নুমা ইয়াহুদ। দ্রুত আবার ঘুরে দাঁড়াল আহমদ মুসা। মুখ ফেরাল নুমা ইয়াহুদের দিকে। নুমা ইয়াহুদই আবার কথা বলল, ‘এতক্ষণের ঘটনায় আমার মধ্যে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে সেটা হলো, আপনি কে? আমি যতটা শুনেছি তাতে একজনের সাথে আপনার মিল আছে। তিনি আহমদ মুসা। বলুন আপনি কে? আপনি আমেরিকান নন, অথচ এত কথা জানেন এবং ড. হাইম হাইকেলকে বন্ধু বলছেন। ড. হাইম হাইকেল কোনদিন বিদেশে যাননি। তার মত ঘরকুনো মানুষের বিদেশী বন্ধু থাকার কথা নয়।’ ‘স্যারি নিরাপত্তাজনিত কারণেই আমার পরিচয় এখন আমি বলব না। তবে আমার সাথে আহমদ মুসার মিল দেখার ব্যাপারটা মজার হয়েছে। আহমদ মুসার সাথে তুলনা করার মত অত তথ্য আপনি কার কাছ থেকে পেয়েছেন?’ বলল আহমদ মুসা। ‘আমি জেনেছি আমার এক বন্ধু সারাহ জেফারসনের কাছ থেকে। আজ সকালেও তার সাথে কথা বলেছি।’ বলল নুমা ইয়াহুদ। ‘উনি এত কথা জানেন কি করে?’ আহমদ মুসা বলল। ‘শুধু জানেন তা নয়, আমার মনে হয় তিনি....... কথা বলার মাঝখানে হঠাৎ থেমে গেল নুমা ইয়াহুদ। বলে উঠল, না থাক। অনুমানে কোন কথা বলা ঠিক নয়।’ থেমে পরমুহূর্তেই আবার বলে উঠল, ‘ভেবে বলবেন বলেছেন। কিভাবে বলবেন? আবার কি দেখা হবে?’ ‘পৃথিবী গোল। দেখা হওয়াই স্বাভাবিক।’ বলেই আহমদ মুসা ‘সকলকে ধন্যবাদ, বাই’ কথাটি উচ্চারণ করে দ্রুত নামল সিঁড়ি বেয়ে। আহমদ মুসা চোখের আড়াল হতেই মিসেস ইয়াহুদ, নুমা ইয়াহুদের মা, নিজের দেহকে সশব্দে সোফায় এলিয়ে দিয়ে বুকে ক্রস এঁকে বলল, ‘কি দেখলাম, কি ঘটল! সিনেমার চেয়েও ভয়ংকর। ঈশ্বর রক্ষা করেছেন।’ হাসল নুমা ইয়াহুদ। বলল, ‘তুমি এত ভয় পেয়ে গেছ আম্মা!’ ‘ভয় পাব না! তোর আব্বার কথা, তোর কথা যদি বিশ্বাস না করতো, আরো কথা যদি আদায় করতে চাইতো, তাহলে কি ঘটতো ভাবতেও..............। দেখলি তো, তার হাতের এক ঘায়ে সিকিউরিটির লোক কুপোকাত। দেখতে নেহায়েত ভদ্রলোক, কিন্তু কাজে একেবারে আগুন।’ বলল মিসেস ইয়াহুদ। ‘তুমি ঠিক বলেছ আম্মা। তবে মি.আইজ্যাক দানিয়েল ক্রিমিনাল নন।’ নুমা ইয়াহুদ বলল। ‘ক্রিমিনাল এভাবে এত কিছু ঝুঁকি একজন ভালো লোককে সাহায্য করতে আসে না।’ বলল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। একটু থামল। তারপর সোজা হয়ে বসে বলল, ‘আমি ভাবছি লোকটির মিশন নিয়ে। আমরা ড. হাইম হাইকেলের আশা ছেড়ে দিয়েছি ভয় ও চাপে পড়েই। কিন্তু এই লোকটি এই লস্ট কেস নিয়েই ছুটেই এসেছে এবং মনে হচ্ছে সে ছুটবেই। এটা খুব বড় একটা ঘটনা এবং লোকটাও একজন বড় কেউ হবে।’ ‘আব্বা উনি যে ভয়ংকর তথ্যের কথা বললেন, যা ড. হাইম হাইকেল আংকেল জানতেন বলেই তাঁর এই দুর্ভোগ, সে সম্বন্ধে তুমি কিছুই জান না আব্বা?’ বলল নুমা ইয়াহুদ। ‘আমি সত্যি জানি না। তবে সেটাও কোন বড় ঘটনা হবে। হাইকেল পরিবার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। তারাই এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। ড. হাইম হাইকেল বিশ বছর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার পর কি হল তিনি বিশ্বাবদ্যালয় পরিচালনা থেকেই সরে দাঁড়ালেন! সরে দাঁড়ালেন আগের বিশ্বাস থেকে! সরে দাঁড়ালেন সামাজিকতার সকল ক্ষেত্র থেকেও! আমার মনে হতো, কি এক অসহ্য যন্ত্রণা তিনি চেপে রাখতে সদাব্যস্ত। লোকটির কথিক ‘ভয়ংকর তথ্য’-এর সাথে ড. হাইম হাইকেলের এই গোটা মানসিক অবস্থার কি কোন যোগ আছে! যদি থাকে তাহলে তা হবে ভয়ংকর বড় এক তথ্য।’ ড. আয়াজ ইয়াহুদ থামল। শান্ত গম্ভীর কন্ঠ তার। ‘আব্বা, মি আইজ্যাক দানিয়েলের কথা যদি সত্য হয়, তাহলে ড. হাইম হাইকেলের সে ভয়ংকর তথ্যটি সামষ্টিক ও সম্প্রদায়গত। যদি তাই হয়, তাহলে ভয়ংকর তথ্যের ভয়ংকরতা আরও ভয়ংকর হতে বাধ্য।’ নুমা ইয়াহুদ বলল। ‘আমিও তাই মনে করি।’ বলল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। ‘তাহলে পুলিশকে ব্যাপারটা বলা উচিত নয় কি?’ নুমা ইয়াহুদ বলল। ‘কিন্তু তথ্যটা আমরা জানি না। বলব কি?’ বলল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। ‘তাহলে আব্বা মি. আইজ্যাক দানিয়েলকে আমাদের প্রয়োজন। তিনি সাহায্য চাইতে এসেছিলেন। এখন দেখছি, আমাদেরই সাহায্য চাওয়া উচিত তাঁর কাছে।’ নুমা ইয়াহুদ বলল। কথা শেষ করেই নুমা ইযাহুদ উঠে দাঁড়াল। রেলিং-এর উপর ঝুঁকে পড়ে নিচের দিকে তাকিয়ে ডাকল রিসেপশনিষ্ট লিসাকে। লিসা আহমদ মুসার পরপরই নিচে নেমে গিয়েছিল। দৌড়ে উপরে উঠে এল লিসা। নুমা ইয়াহুদ লিসার কাছ থেকে আহমদ মুসার মোবাইল নাম্বারটা নিয়ে নিল। তারপর ফিরে এসে নিজের জায়গায় বসতে বসতে বলল, ‘এখন আমার মনে হচ্ছে, আইজ্যাক দানিয়েল ঈশ্বর প্রেরিত। তাকে আমাদের সাহায্য করা প্রয়োজন।’ ‘কোন আবেগকে প্রশ্রয় দিও না। ড. হাইম হাইকেল হারিয়ে গেছেন। ড. জ্যাকব খুন হতে বেঁচে গেছেন। শুধু নিজের জন্য নয়, প্রতিষ্টানের স্বার্থও আমাদের কাছে বড়। এই স্বার্থ নিশ্চিত করে কিছু করা গেলে সেটা দেখা যাবে।’ বলে উঠে দাঁড়াল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। তার সাথে সাথে মিসেস ইয়াহুদও। একটা বড় শ্বাস ছেড়ে মাথাটাকে একটু হাল্কা করার চেষ্টা করে সোফায় গা এলিয়ে দিল নুমা ইয়াহুদ। হাতের মোবাইল নাম্বারটার দিকে অলসভাবেই একবার চোখ বুলাল। নিউইয়র্ক ফিফথ এভিনিউ-এর ফুটপাত ধরে এগুচ্ছিল একজন যুবক ও একটি বালক। যুবকটি আগে, বালকটি পেছনে। ফিফথ এভেনিউ-এর যেখানে ইহুদী মিউজিয়াম ও রাব্বানিক্যাল ইউনিভার্সিটির সীমা একসাথে মিশেছে, সেখানে পৌঁছে যুবকটি দাঁড়াল। ফিরে তাকাল বালকটির দিকে। পরক্ষণেই ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার হাঁটতে শুরু করল যুবকটি। আর বালকটি পেছন ফিরে উল্টো দিকে হাঁটতে শুরু করল। যুবকটিকে দাঁড়াতে দেখে আহমদ মুসা সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ দুই সীমানার ঐ সংযোগস্থলেই লিসা তার ক্যাসেটটি রেখেছে বলে তাকে জানিয়েছে। আহমদ মুসা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার সবচেয়ে কাছের গেটে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে। আহমদ মুসা নিশ্চিত, ক্যাসেটটি রাখার পর তা নিতে ওরা খুব দেরি করবে না। তাই আহমদ মুসা খবরটি লিসার কাছ থেকে পাওয়ার পরই এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছে। যুবকটিকে চলে যেতে দেখে এবং বালককে উল্টো যাত্রা শুরু করতে দেখে হতাশ হলো আহমদ মুসা। আহমদ মুসা বুঝল, কোন কথা হঠাৎ মনে হওয়ায় যুবকটি বালককে কোন কাজে কোথাও ফেরত পাঠিয়েছে। ওরা তার টার্গেট নয়। দুতিন মিনিটও যায়নি। হঠাৎ আহমদ মুসা দেখল বালকটি তার সামনে দিয়ে আবার ফিরে আসছে। বিস্মিত হলো আহমদ মুসা। যে সময় গেছে তাতে বালকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাও পার হতে পারেনি। কি কাজে গিয়েছিল? এরই মধ্যে কি কাজ শেষ হলো? আহমদ মুসার চোখ বালকটিকে অনুসরণ করলো। বালকটি গিয়ে থমকে দাঁড়াল সে সংযোগ স্থলে। অজান্তেই আহমদ মুসা সোজা হয়ে উঠল। সেই একই জায়গায় বালকটি আবার দাঁড়াল। কি ব্যাপার? প্রশ্নটি মনে জেগে ওঠার সাথে সাথে আহমদ মুসার সব স্নায়ুতন্ত্রী খাড়া হয়ে উঠল। বালকটি দাঁড়িয়ে পড়েই দুপা এগিয়ে সীমান্ত রেলিং-এর পাশে পৌঁছেই নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ল এবং রেলিং-এর ফাঁক দিয়ে ডান হাত ভেতরে ঢুকিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আবার বের করে নিল। তারপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়েই হাঁটা শুরু করল সামনে যেদিকে যুবকটি গেছে সেদিকে। আহমদ মুসার কাছে সব বিষয়ই পরিস্কার হয়ে গেল। বালকটিকে ক্যাসেট দেখিয়েই ফেরত পাঠানো হয়েছিল পরে একা এসে নিয়ে যাবে এ জন্য। খুব সাবধানী ওরা, ঝুঁকিটা বালকের উপর দিয়ে যাচ্ছে। বালক ভাড়া করাও হতে পারে। আহমদ মুসা পিছু নিল বালকটির। বালকটি একই গতিতে হাঁটছে। একবারও পেছনে ফিরে তাকায়নি। ইহুদী মিউজিয়াম পার হবার পর বালকটি একটা গলিতে ঢুকে গেল। আহমদ মুসা তাকে অনুসরণ করল। আহমদ মুসার লক্ষ্য হলো, তাকে অনুসরণ করে ওদের কোন ঠিকানার সন্ধান লাভ করা এবং সেই সাথে ক্যাসেটটি তাদের হাত থেকে উদ্ধার করা। বালক দক্ষিণমুখী সে গলি থেকে পুর্বমুখী আরেক গলিতে প্রবেশ করল। পুবের গলিতে বেশ কিছুটা এগুবার পর আহমদ মুসার হঠাৎ মনে হলো বালটিকে তার এ ফলো করা ওরা ধরে ফেলেছে। জেনে ফেলেছে বালকও। তারা সময় ক্ষেপণ করছে আহমদ মুসাকে ফাঁদে আটকাবার জন্যে। এই চিন্তা মনে আসার সাথে সাথেই আহমদ মুসা মনে করল, ওদের ফাঁদ পাতা সম্পূর্ণ হবার আগেই বালককে ধরা প্রয়োজন এবং ক্যাসেটটাকে হাত করা দরকার। বালকের কাছ থেকেও ওদের কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। নিঃশব্দে আহমদ মুসা দৌড় দিল বালকটিকে লক্ষ্য করে। কয়েক লাফে আহমদ মুসা পৌঁছে গেল বালকটির কাছে। শেষ মুহূর্তে বালকটি টের পেয়ে গিয়েছিল। সেও দৌড় দিয়েছিল। কিছুটা এগুলোও। কিন্তু ধরা পড়ে গেল আহমদ মুসার হাতে। আহমদ মুসা তার এক হাত চেপে ধরে বলল, ‘আমি তোমার শত্রু নই। আমি ক্যাসেটটা খুজঁছিলাম। তুমি পেয়ে গেছ। আমাকে দিয়ে দাও।’ আহমদ মুসার হাসি এবং তার শান্ত কথা শুনে বালকটি তাকাল আহমদ মুসার দিকে। তার চোখে আস্থা স্থাপনের একটা জিজ্ঞাসা। পাশেই গাড়ির শব্দ শুনতে পেল আহমদ মুসা। শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আহমদ মুসা বালকটির হাত ছেড়ে দিয়ে এক ধাপ পিছিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তীব্র গতিতে একটা গাড়ি রাস্তার ওপাশ দিয়ে সামনের দিকে ছুটে আসছিল। গাড়িটি ছোট মাইক্রো। দরজা খোলা। স্টেনগানের একটা নগ্ন ব্যারেল ঝিলিক দিয়ে উঠল আহমদ মুসার চোখে। স্টেনগানের ব্যারেল ঝিলিক দেয়ার সাথে সাথেই আহমদ মুসার কাছে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আহমদ মুসা হাত বাড়িয়ে বালকটির জামার কলার ঠেনে ধরে পেছনে দিকে ছিটকে পড়ল। তার আগেই স্টেনগান গর্জন করে উঠেছে। আর্তনাদ করে উঠেছে বালকটি। আহমদ মুসার বাম হাত প্রচন্ড শক্তির একটা ছোবলে কেপেঁ উঠছে। ছিটকে পড়েই তাড়াতাড়ি উঠে বসল আহমদ মুসা। তাকাল সে বালকটির দিকে। কাতরাচ্ছে সে। দেখল বালকের বামপাশটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। নিজের হাতের যন্ত্রণাও সে অনুভব করতে পারছে। মনে হচ্ছে তার কনুয়ের একটু উপরে কিছুটা জায়গায় যেন ধারালো কিছু দিয়ে কেউ কেটে তুলে নিয়ে গেছে। দৃষ্টি ফেরাল আহমদ মুসা গুলি বর্ষণকারী গাড়ির দিকে। মুহূর্তের জন্য সে দেখতে পেল গাড়িটাকে। উত্তর দিকে বাঁক নিয়ে গড়িটা চোখের আড়ালে চলে গেল। বুঝল আহমদ মুসা বালক এবং সে দুজনই ওদের টার্গেট ছিল। তবে বালকটি ছিল প্রধান টার্গেট। তারা চায়নি বালকটি আহমদ মুসার হাতে পড়ুক। বালকটি জ্ঞান হারায়নি। আহমদ মুসা তাকে পাঁজকালো করে তুলে নিয়ে সাত্বনা দিয়ে বলল, ‘আমি তোমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। তুমি ঠিক হয়ে যাবে। ভয় নেই তোমার।’ বালকটি আহমদ মুসার দিকে তাকাল। যন্ত্রণাকাতর কন্ঠে বলল, ‘আপনি কি পুলিশের লোক?’ ‘না, আমি পুলিশ নই।’ বলল আহমদ মুসা। ‘ওরা আমাকে মারল কেন? কান্নায় সুরে বলল বালকটি। ‘ওরা কারা তুমি জান?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। তার চোখে একটা আশার আলো। ‘ঐ গাড়ি আমি চিনি। ওদের গাড়ি ওটা।’ বালকটি বলল। ‘ওরা কারা?’ জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। ‘পরিচয় জানি না। ওদের একজনকে আমি চিনি। বাসায় গেছি।’ কথা বলতে বলতেই এগুচ্ছিল আহমদ মুসা। পেয়ে গেল একটা ট্যাক্সি। বালককে নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে বলল, ‘ড্রাইভার প্লিজ কোন হাসপাতালে নিয়ে চলুন।’ ছুটতে লাগল ট্যাক্সি। ‘আমার তো ইনসিওরেন্স কার্ড নেই। হাসপাতালে দেখাবার টাকাও নেই।’ বালকটি দুর্বল কন্ঠে করুণ সুরে বলল। আহমদ মুসা মিষ্টি হাসল। বলল, ‘বলেছি না তোমার ভয় নেই, চিন্তা নেই। টাকা আমার কাছে আছে।’ বালকটি কিছু বলল না। পরে বালকটি তার ডান হাত দিয়ে তার জ্যাকেটের বুক পকেট থেকে একটা মিনি ক্যাসেট বের করে আহমদ মুসার হাতে দিল। বলল, ‘এতে কি আছে? এখানে পড়েছিল কেন?’ ‘এসব তুমি পরে শুনো। বেশি কথা বলা তোমার ঠিক নয়।’ আহমদ মুসা বলল। বালকটি চুপ করল। কিন্তু একটু পর আবার বলে উঠল,‘খাবার সময়ও বাড়ি না গেলে মা খুব ভাববে। আমার মাকে আপনি খবর দিতে পারবেন? মা ছাড়া আমার কেউ নেই।’ ‘বাড়ির ঠিকানা আমাকে দিও। আমি আবশ্যই তোমার মাকে খবর জানাব। কি করেন তোমার মা?’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমার মা পঙ্গু। হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন।’ বলল বালকটি। একটা বেদনার ছায়া নামল আহমদ মুসার চোখে-মুখে। বলল, তোমাদের চলে কিভাবে?’ ‘মা একটা ভাতা পান। কিন্তু সেটাও কমে গেছে। সব খরচ তাতে চলে না। আমাকেও কিছু আয় করতে হয়।’বালকটি বলল। ‘কি আয় কর তুমি? জিজ্ঞাসা আহমদ মুসার। বালকটি আহমদ মুসার প্রশ্নের কোন জবাব দিল না। চোখ নামিয়ে চুপ করে থাকল। আহমদ মুসা বুঝল এই বয়সে তাকে এমন কালো পথে নামতে হয়েছে, যা সে বলতে পারবে না। হঠাৎ আহমদ মুসার মনে একটা কথা ঝিলিক দিয়ে উঠল। ঐ ক্যাসেটটা ওখানে থাকার খবর আহমদ মুসার জানার অর্থ কি ওরা এটাই ধরবে না যে, লিসাই তাকে এ তথ্যটা জানিয়েছিল কিংবা লিসাই পেতেছিল এই ফাঁদটা! যদি এই অর্থ তারা ধরে তাহলে লিসা কি ওদের নতুন ক্রোধের শিকার................। আহমদ মুসা চিন্তা শেষ করতে পারল না। ড্রাইভার বলে উঠল, স্যার হাসপপাতালে এসে গেছি।’ তার কথার সাথে সাথেই ট্যাক্সিটি দাঁড়িয়ে পড়ল। আহমদ মুসা দ্রুত ভাড়া চুকিয়ে বালকটিকে পাঁজকোলা করে নিয়ে নেমে পড়ল। আহমদ মুসা হুইল চেয়ার ঠেলে বালকটির মা মিসেস প্যাকারকে ড্রইংরুমে তুলে দিয়ে বলল, ‘মিসেস প্যাকার আমি এখন বিদায় নিতে চাই।’ মিসেস প্যাকার আহমদ মুসার দিকে পরিপূর্ণ দৃষ্টি তুলে তাকাল। বলল, ‘আপনি কে জানি না। আপনার নামও এখনও আমাকে বলেননি। যাই হোক আপনি একজন সৎ মানুষ। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ।’ আহমদ মুসা পকেট থেকে কিছু ডলার তুলে নিয়ে মিসেস প্যাকারের হাতে গুজে দিয়ে বলল, ‘আপনার এক ভাইয়ের পক্ষ থেকে এই টাকা আপনি রাখুন। আপনার ছেলে প্যাকার জুনিয়রের সুস্থ হতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। আর ডাক্তারের সাথে আমি কথা বলেছি। আজই আপনার ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসুন। এলাকার কম্যুনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তার ও নার্সকে বললেই তারা প্রতিদিন দেখে যাবে। কিছু পয়সা তার জন্য লাগবে। হাসপাতালে তাকে রাখা নিরাপদ নয়। মিসেস প্যাকারের চোখ অশ্রুতে ভরে গেল। বলল, ‘আমি আমার ছেলের কাছ থেকেই সব শুনেছি। আজ দুবার তাকে আপনি মৃত্যুর অবস্থা থেকেই বাঁচিয়েছেন। হাসপাতালের বিল চুকিয়ে দিয়েছেন। আবার নিজেকে ভাই বলছেন এক অসহায় মহিলার। কোন আমেরিকানই এভাবে কারো ভাই হতে আসে না। বলবেন কি আপনি...............।’ মিসেস প্যাকারকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠল, ‘সুযোগ পেলে বলব একদিন সব। আমাকে এখনি যেতে হবে। তাড়া আছে।’ আহমদ মুসা কথা শেষ করতেই তার মোবাইল বেজে উঠল। মোবাইল হাতে নিয়ে তাকাল মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠা টেলিফোন নাম্বারের দিকে। অপরিচিত নাম্বার দেখে ভ্রু-কুঁচকে উঠল তার। টেলিফোন রিসিভ করল আহমদ মুসা। ‘হ্যালো’ বলে সাড়া দিতেই ওপ্রান্ত থেকে একটা মেয়ে কন্ঠ বলে উঠল, ‘আমি নুমা। লিসাকে ওরা গুলী করে মেরে ফেলেছে।’ কান্নায় তার কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল। নুমা মানে নুমা ইয়াহুদের টেলিফোন। কথাটা শোনার সাথে সাথে আকস্মিক শক খাওয়ার প্রচন্ড এক যন্ত্রণা আহমদ মুসার গোটা দেহে ছড়িয়ে পড়ল। মুহূর্তের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে গেল যেন তার। নিজেকে সামলে নিয়ে আহমদ মুসা বলল, ‘স্যরি। এমন আশংকার কথা আমি ভেবেছিলাম। কিন্তু তাকে সাবধান করার সময় পেলাম না। মোবাইলে তাকে পাইনি। ওঁর কাছেই যাচ্ছিলাম আমি। স্যরি।’ ‘ক্যাসেটের খবর কি? ওদের হাতে পড়েনি তো?’ বলল নুমা ইয়াহুদ। কাঁপা কন্ঠে ঝরে পড়ছে সীমাহীন উদ্বেগ। ‘ভয় নেই। ক্যাসেটটি এখন আমার কাছে। এতেই ওরা ক্ষেপেছে। ওরা মনে করেছে, লিসাই সব জানিয়ে দিয়েছে ওদের শত্রু পক্ষকে।’ বলে মুহূর্তের জন্য থেমেই আবার বলা শুরু করল, ‘আমি লিসাদের ওখানে যাচ্ছি নুমা। বেচারার পরিবার খুব সংকটে পড়ল।’ সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত কন্ঠে বলে উঠল নুমা, ‘আমি লিসাদের ওখান থেকেই কথা বলছি। আমরা সবাই এখন লিসাদের বাড়িতে।’ ‘নুমা আমি আসছি। বাই।’ বলে আহমদ মুসা টেলিফোন শেষ করতেই মিসেস প্যাকার বলল, ‘কিছু ঘটেছে? কোন দুঃসংবাদ?’ উদ্বিগ্ন কন্ঠ মিসেস প্যাকারের। একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে দ্বিধায় পড়ে গেল আহমদ মুসা। শুনলে মিসেস প্যাকার ভয় পেয়ে যাবে। তার ছেলের ব্যাপারে আরও উদ্বিগ্ন হবে। কিন্তু পরে ভাবল, তাদের ভয় পাওয়ার দরকার। তাতেই বাস্তবতার ব্যাপারে তারা সাবধান হতে পারবে। এই চিন্তা করে আহমদ মুসা বলল, যারা আপনার ছেলেকে কাজে লাগিয়েছে, যারা আবার তাকে খুন করার চেষ্টা করেছে, তারা রাব্বানিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টের পি.এ মিস লিসাকে খুন করেছে।’ ‘কেন?’ উদ্বিগ প্রশ্ন মিসেস প্যাকারের। ‘লিসাকে ওরা জোর করে কাজে লাগিয়েছিল। লিসা তাদের তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে বলে ওদের ধারণা।’ আহমদ মুসা বলল। প্রবল এক ভয়ের অন্ধকার নতুন করে নেমে এল মিসেস প্যাকারের মুখে। বলল, ‘আসলে ঘটনা কি মি. আইজ্যাক দানিয়েল?’ ওরা কি চাচ্ছে, কি করছে?’ ‘রাব্বানিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. হাইকেল নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তার ব্যাপারে যাতে কেউ কিছু জানতেই না পারে এজন্যই অজ্ঞাত পরিচয় ঐ লোকেরা এসব করছে।’ বলল আহমদ মুসা। বিস্ময় ফুটে উঠল মিসেস প্যাকারের চোখে-মুখে। মুহূর্ত কয়েক চিন্তা করল। তারপর বলল, ‘ড. হাইম হাইকেলকে নিরুদ্দেশ বলা হচ্ছে কেন? আমি যতদূর জানি, তিনি একজন মানসিক রোগী হিসাবে কোন এক মানসিক হাসপাতালে আছেন।’ বিস্ময় ফুটে উঠল আহমদ মুসার চোখেও। বলল, ‘আপনি জানেন কিছু? কি করে জানেন? ‘আমার স্নায়ু সংক্রান্ত অসুখের জন্যে আমি কিছুদিন সাইক্রিয়াটিস্ট ড. নিউম্যান-এর প্যাসেন্ট ছিলাম। আমি দুদিন তাকে টেলিফোনে ড. হাইম হাইকেলের বিষয় আলোচনা করতে শুনেছি। দুদিনই আমি তার কাছেই বসা অবস্থায় তিনি টেলিফোন ধরেন। ঘরের একপ্রান্তে সরে কথা বললেও তার সব কথাই আমার কানে এসেছিল। প্রথম দিন তিনি যা বলেছিলেন তার সার কথা হলো, ‘আমি ভেবে দেখেছি, ড. হাইম হাইকেলকে মানসিক হাসপাতালে রাখাই নিরাপদ। আজীবনও রাখা যাবে। আমি একটা সার্টিফিকেট দেব, তবে ঐভাবে।’ দ্বিতীয় দিন তিনি যা বলেছিলেন তাহলো, হ্যাঁ ড. হাইম হাইকেলের পরিবার সবচেয়ে বড় সমস্যা। তবে অন্য সবদিক ঠিক থাকলে, হাইম হাইকেলের পরিবারও এক সময় বিষয়টাকে স্বাভাবিক হিসাবে মেনে নেবে। যে কোন মূল্যে তার পরিবারকে শান্ত রাখতে হবে।’ থামল একটু মিসেস প্যাকার। থেমেই আবার বলে উঠল, কথাগুলো থেকে তখন আমি যে অর্থ ধরেছিলাম, তাহলো ‘ড. হাইম হাইকেল অসুস্থ। তাকে মানসিক হাসপাতালেই রাখা হচ্ছে। তিনি ড. নিউম্যানের প্যসেন্ট। ড. হাইম হাইকেলের এই অবস্থায় তার পরিবার নিয়ে তারা সমস্যায় পড়েছেন।’ ‘ধন্যবাদ মিসেস প্যাকার। আপনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। দয়া করে কি ডা. নিউম্যানের ঠিকানা দিতে পারেন?’ আহমদ মুসা বলল। ডা. নিউম্যানের ঠিকানাটা আহমদ মুসাকে দিতে দিতে বলল, ‘আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি বুঝতে পারছি আমার ছেলের সম্পর্কে আমাকে আরও সাবধান হতে হবে।’ ‘ধন্যবাদ ম্যাডাম, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আবার দেখা হবে। বাই।’ বলে আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্রুত দরজার দিকে পা বাড়াল। আহমদ মুসার ট্যাক্সি ছুটছে ডা. নিউম্যানের বাড়ির দিকে। ডা. নিউম্যানের সন্ধান পেয়ে আহমদ মুসা দারুন খুশি। প্রথমে সে ডা. নিউম্যানের কথা শুনেছিল ড. আয়াজ ইয়াহুদের কাছে। কিন্তু ডা. নিউম্যানের ঠিকানাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে মিসেস প্যাকার। লিসার ওখানে গিয়ে আহমদ মুসা খুব বেশি দেরি করেনি। ওখানে তার যাওয়া ছিল লিসার বাবা-মাকে সমাবেদনা জানানো, তাদের আর্থিক অবস্থা সর্ম্পকে জানা এবং লিসার মোবাইল পরীক্ষা করা। কিন্তু গিয়ে শোনে যে, খুনিরা লিসাকে খুন করে তার মোবাইল নিয়ে গেছে। আহমদ মুসা দেখল, লিসার আব্বা-আম্মা সহজ সরল খুবই ভালো মানুষ। কিন্তু তাদের চোখে-মুখে মহাবিপর্যয়ের ছাপ। আহমদ মুসা ড. আয়াজ ইয়াহুদকে জিজ্ঞাসা করেছিল, লিসার পরিবার তো তার উপর নির্ভরশীল ছিল। এখন চলবে কি করে ওদের। আহমদ মুসার প্রশ্ন শুনে পিতার পাশে দাঁড়ানো বিস্মিত নুমা ইয়াহুদ প্রশ্ন করেছিল আহমদ মুসাকে, ‘এ প্রশ্ন আপনার মাথায় এল কি করে? আপনি তো কোনভাবেই লিসার পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট নন?’ আহমদ মুসা বলেছিল, লিসা নিহত হয়েছে আমাকে সাহায্যে করতে গিয়েই। আমি আপরাধবোধ করছি এই অসহায় পরিবারের কাছে।’ ‘এখন কি করতে চান?’ জিজ্ঞাসা করল নুমা ইয়াহুদ। তার ঠোঁটে মুখ টেপা হাসি। ‘যতটা সম্ভব আমি পরিবারটির ক্ষতিপূরণ করতে চাই।’ বলে আহমদ মুসা। ‘সত্যি আপনি প্রয়োজনের চেয়েও ভালো মানুষ। লিসা তো আপনাকে সাহায্য করতে যেয়ে খুন হয়নি। খুন হয়েছে আমাদেরকে সাহায্য করতে গিয়ে।’ বলেছিল নুমা ইয়াহুদ। ‘কেমন করে?’ আহমদ মুসা বলেছিল। ‘প্রকৃতপক্ষে লিসা সাহায্য করেছিল ড. হাইম হাইকেল আংকেলকে, আপনাকে নয়। সুতরাং লিসার দায়িত্বটা আমাদের।’ বলেছিল নুমা ইয়াহুদ। নুমার কথা শেষ হতেই ড. আয়াজ ইয়াহুদ বলে উঠেছিল, ‘হ্যাঁ মি. আইজ্যাক দানিয়েল, আমরাই ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে লিসার নামে একটা পেনশন তার পরিবারকে দেব।’ ধন্যবাদ জানিয়েছিল আহমদ মুসা ড. আয়াজ ইয়াহুদকে। তারপর আহমদ মুসা ক্যাসেটকে কেন্দ্র করে বালক জুনিয়র প্যাকারের দুর্ঘটনার কথা তাদের জানিয়েছিল। কাহিনীটা শুনে নুমা ইয়াহুদ বলেছিল, ‘আপনিও নিশ্চয় আহত। আপনার বাম বাহুটাকে আজ শুরু থেকেই একটু বাঁকা অবস্থায় দেখছি কোটের হাতার আড়াল সত্ত্বেও।’ ‘ও কিছু না, সামান্য।’ বলেছিল আহমদ মুসা। ‘গুলীর আঘাত?’ উদ্বিগ কন্ঠে প্রশ্ন করেছিল মিসেস ইয়াহুদ। ‘জি, হ্যাঁ।’ বলেছিল আহমদ মুসা। তারপরই সে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল ড. আয়াজ ইয়াহুদের দিকে হ্যান্ডশেকের জন্য। বলেছিল, ‘স্যার বিদায় দিন, জরুরি একটা কাজ আছে।’ ‘কি কাজ?’ হ্যান্ডশেক করতে করতে জিজ্ঞেস করে ড. আয়াজ ইয়াহুদ। ‘স্যার আপনার কাছে ডা. নিউম্যান এর নাম শুনেছিলাম। আর ঠিকানা পেয়েছি মিসেস প্যাকারের কাছে। তার দেয়া তথ্য অনুসারে ডা. নিউম্যান জানেন ড. হাইম হাইকেল কোথায় আছেন। আমি এখন তার সন্ধানে যাব।’ বলেছিল আহমদ মুসা। ‘এই আহত অবস্থায়?’ বিস্মিত কন্ঠে প্রশ্ন করেছিল নুমা ইয়াহুদ। নুমার কথা শেষ হতেই ড. আয়াজ ইয়াহুদও বলেছিল, ‘তুমি জান ওরা কত বেপরোয়া, ভয়াবহ। লিসা, জুনিয়র প্যাকার এবং তার আগে ড. জ্যাকবের দৃষ্টান্ত তোমার সামনেই আছে। আহত অবস্থা নিয়ে তোমার ঐ ধরনের কাজে যাওয়া ঠিক নয়।’ ‘আপনাদের এই শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ স্যার। কিন্তু ওরা যতটা বেপরোয়া, তার চেয়ে বেশি বেপরোয়া হতে না পারলে ওদের সাথে পারা যাবেনা। ওদের কোন সময় দেয়া যাবে না। ক্যাসেট উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যদি আমি লিসার সাথে যোগাযোগ করতে পারতাম, তাহলে এই দুর্ঘটনা রোধ করা যেতেও পারতো।’ বলেছিল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু তুমি একা ওদের সাথে লড়াই করবে কি করে? পুলিশের উপরের অবস্থা কি আমি জানি না। কিন্তু পুলিশের নিচের লোকেরা ওদের কেনা।’ বলেছিল আয়াজ ইয়াহুদ। ‘এই অবস্থার মধ্যেই কাউকে না কাউকে এগুতে হবে স্যার, পথ তো বের করতে হবে।’ কথা শেষ করেই ‘বাই টু অল’ বলে ঘুরে দাঁড়াতে যাচ্ছিল আহমদ মুসা। চোখ ভরা একরাশ বিস্ময় নিয়ে ভাবছিল নুমা ইয়াহুদ। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াতে গেলে সে বলে উঠল, ‘মি. আইজ্যাক দানিয়েল, আপনি কি শুধুই একজন আইজ্যাক দানিয়েল? শুধুই কি একজন শুভকাঙ্ক্ষী ড. হাইম হাইকেল আংকেলের? আমরাও তো তার শুভাকাঙ্ক্ষী। কিন্তু আমরা কেউইতো এই দায়িত্ব নিচ্ছি না। আসলে কে আপনি? কেন্দ্রীয় কোন গোয়েন্দা সংস্থার লোক আপনি নন, কারণ আপনি বিদেশী। তাহলে কে আপনি?’ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল আহমদ মুসা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই কিছু বলল না সে। গম্ভীর হয়ে উঠেছিল তার মুখ। একটু ভেবে বলল, ‘নুমা তুমি যা বলেছ তার সবই সত্য। আমি আইজ্যাক দানিয়েল নই। দুঃখিত আমি, এ মুহূর্তে আমি কে তা বলব না। আমি ভয় করি, পরিচয় কাজের পথে বাধা হতে পারে।’ নুমার বিস্মিত চোখে জেগে উঠে হাজারও প্রশ্ন। বিস্ময়-বিমুগ্ধ চোখ ড. আয়াজ ইয়াহুদের। এক ধাপ এগিয়ে একেবারে মুখোমুখি দাঁড়াল আহমদ মুসার। বলল, ‘আমরা আর তোমার পরিচয় জিজ্ঞাসা করব না। আমি এরাবিয়ান ক্লাসিক্যাল স্টোরিতে হাতেম তাই-এর কাহিনী পড়েছি। তুমি আরেক হাতেম-তাই। তুমি ড. হাইম হাইকেলের শুভকাঙ্ক্ষী বলেছ, সেটা ঠিক নয়। তুমি তাকে চিনই না। ঠিক কিনা?’ ‘জি, হ্যাঁ।’ বলেছিল আহমদ মুসা। ‘তাহলে তুমি কার জন্য কাজ করছ? ড. হাইম হাইকেলের জন্য তো অবশ্যই নয়। হাতেম তাই একজন প্রেমিক শাহজাদার স্বার্থে একজন পরিজাদীকে শাপমুক্ত করার জন্য কাজ করেছিল। তোমার লক্ষ্য কি?’ বলেছিল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। হেসেছিল আহমদ মুসা। বলেছিল, ‘আমি কোন পরিজাদীকে নয়, এক পরম সত্যকে চরম মিথ্যার অবগুণ্ঠন থেকে মুক্ত করতে চাই।’ ‘সেই সত্যটা বা মিথ্যাটা কি তুমি অবশ্যই বলবে না, কিন্তু সেই সত্য বা মিথ্যার সাথে ড. হাইম হাইকেলের সর্ম্পক কি?’ অপার বিস্ময় নিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। ‘সেই সত্যের জগতে প্রবেশের তিনিই আমার কাছে এখন একমাত্র সিংহদ্বার। বলেছিল আহমদ মুসা। ভ্রুকুঁচকাল ড. আয়াজ ইয়াহুদ। অবাক বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেছে নুমা ইয়াহুদের দুচোখ। কথা যেন হারিয়ে গেছে ড. আয়াজ ইয়াহুদের মুখ থেকে। সে বুঝতে পারছে ড. হাইম হাইকেল তাহলে এমন তথ্য জানে যা মিথ্যার অবগুণ্ঠন উন্মোচন করে দেবে। যুবকটি এই তথ্যের জন্যেই তাহলে ড. হাইম হাইকেলকে খুঁজছে। কিন্তু কি এমন তথ্য ওটা। হঠাৎ তার মনে হল ড. হাইম হাইকেলের জীবনের যে পরিবর্তন তার সাথে এই সত্য বা মিথ্যার কি যোগ আছে? অবশেষে এই প্রশ্নই করল আহমদ মুসাকে, ‘বৎস, তুমি আমার ছাত্রের মতো, ছেলের মতো। বলত, ড. হাইম হাইকেলের জীবনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের সাথে তোমার কথিত ঐ সত্য বা মিথ্যার কোন সর্ম্পক আছে কি?’ ‘এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ায় কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু দুঃখিত, আমি বিষয়টা সত্যই জানি না।’ আহমদ মুসা থামতেই নুমা ইয়াহুদ বলে উঠল, ‘সেই সত্যটা আপনি না বলুন, কিন্তু সেই সত্যের সাথে আপনার সর্ম্পক কি? না হাতেম তাই-এর মত নিছকই জনসেবা এটা?’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘নুমা জনসেবা আসলে আত্নসেবাই। কারণ জনের উপকার নিজেরও উপকার আসে। উপকারের রূপ এক নয়, বহু।’ কথা শেষ করেই আহমদ মুসা ‘বাই’ বলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। চলতে শুরু করল। পেছন থেকে নুমা বলেছিল,‘মি. .................. সেই জনের মধ্যে কিন্তু ‘নুমা’ও একজন, তার পিতা আছেন এবং মাতাও। সুতরাং .............।’ ‘সুতরা আমার কাজ আপনাদেরই কাজ।’ মুখ না ঘুরিয়ে চলতে চলতেই বলেছিল আহমদ মুসা। নুমার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে। ‘ধন্যবাদ।’ বলে নুমা অনেকটা স্বগতোক্তির মত। আহমদ মুসার কানে কথাটা পৌঁছায় না। হাঁটা দ্রুত করেছিল আহমদ মুসা। পেছন ফিরে আর তাকায়নি সে। ডা. নিউম্যানের চিন্তা তখন আহমদ মুসার মাথা জুড়ে। ডা. নিউম্যানের বাসা ‘ইস্ট রিভারে’র পশ্চিম তীরে বিখ্যাত রুজভেল্ট ড্রাইভ-এর একটু পশ্চিমে নিউইয়র্ক হসপিটাল ও কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের মাঝখানে। আহমদ মুসা কার্ল সুজ পার্কের মুখে রুজভেল্ট ড্রাইভে উঠে দক্ষিণে ছুটে চলল। দুহাত আহমদ মুসার স্টিয়ারিং হুইলে। দৃষ্টি তীরের মত সোজা রাস্তার উপর প্রসারিত। ভাবছে আহমদ মুসা। নিউইয়র্ক এসে এ পর্যন্ত যা পেয়েছে তা কম নয়। কিন্তু ড. হাইম হাইকেলের সন্ধান এখনো পায়নি। কিন্তু তিনি কোথায় থাকতে পারেন তা জানা গেছে। প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবারও সুযোগ হয়েছে। ড. হাইম হাইকেলের বাড়ির ঠিকানা পাওয়া গেছে। এখন ড. নিউম্যানের সহযোগিতায় আরও কিছুটা এগুনো যাবে। আহমদ মুসার গাড়ি নিউইয়র্ক হাসপাতাল বরাবর এসে পশ্চিম দিকে মোড় নিয়ে নিউইয়র্ক হাসপাতাল ও কর্নেল মেডিকেল সেন্টারের মাঝের স্ট্রিট ধরে এগিয়ে চলল। ডা. নিউম্যানের বাড়ি খুঁজে পেতে বেশি বেগ পেতে হলো না আহমদ মুসার। স্ট্রিট থেকে একটা ছোট বাইলেনের মাথা জুড়ে বাড়িটা। গাড়ি বারান্দায় গাড়ি পার্ক করেই গাড়ি থেকে নামল আহমদ মুসা। গাড়ি বারান্দা থেকে তিন ধাপের একটা সিঁড়ি পেরোলেই একটা বড় বারান্দা। বারান্দায় উঠলেই সিঁড়ির সোজা সামনে বড় দরজার একটা গেট। দরজার এক পাশে কলিং বক্স। সুইচ টিপল কলিং বক্সের।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now