বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঝড়ের বেগে ড্রইংরুমে প্রবেশ করল ৪ জন অপরিচিত লোক আর তাদের বাধা দিতে আসা দুজন সিকিউরিটির লোক।
ড্রইংরুমে প্রবেশ করেই ওরা চারজন সোজা হয়ে এসে দাঁড়াল আহমদ মুসার সামনে। তাদের হাতের চার রিভলবার তারা তাক করল আহমদ মুসার লক্ষ্যে। বলল তাদের একজন চিৎকার করে, ‘আমাদের সংজ্ঞাহীন করে গাড়িতে বন্ধ করে রেখে মনে করেছিলে এখানে কাজ সেরে চলে যাবে। কিন্তু তা আমরা হতে দিচ্ছি না। চল, এবার আমরা তোমাকে কি করি দেখবে।’
প্রথমে বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউন আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারল, এদেরকে আহমদ মুসা গাড়িতে বন্ধ করে এসেছিল। এরা এ্যালেন শেফারের লোক। পাহারা দিচ্ছে যাতে কেউ ড. হাইম হাইকেলের বাড়িতে তার পরিবারের সাথে মিশতে না পারে। এদের ক্রোধ আইজ্যাক দানিয়েলের উপর। আইজ্যাক দানিয়েলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল তারা দুজনেই। এর বাইরেও বারবারা ব্রাউন যে বিষয়টা ভাবছিল তা হলো, এরা নিশ্চয় ইহুদী গোয়েন্দা সংস্থার লোক। কিন্তু তাদের সে চেনে না কেন? এদের কি অন্য জায়গায় থেকে আনা হয়েছে! কিন্তু তাকে বলা হয়নি কেন? হতে পারে, বারবারা ব্রাউন ইহুদী গোয়েন্দা সংস্থার বিশ্বাসের পরীক্ষায় উর্ত্তীন হতে পারেনি। সেটাই ভাল। এসব অস্বচ্ছ ‘হাইড এন্ড সীক’ খেলার কাজ তার মোটেই পছন্দ নয়।
আর আহমদ মুসা ওদের চারজনকে চিনতে পেরেছিল। ওদের একজন চিৎকার করে আহমদ মুসাকে শাসানো শেষ হলে আহমদ মুসা হাসিমুখে বলল, ‘তোমাদের তো আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত তোমরা এখনও বেঁচে আছ এবং এখানে আসার সুযোগ পেয়েছ এজন্যে।’
ওরা চারজন তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল আরও। ওদের তর্জন-গর্জনের মধ্যে একজন তার রিভলবারের ট্রিগারে তর্জনী চেপে বলল, ‘আর একটু চাপলেই বুলেট তোমার কপাল ফুটো করে মগজ লন্ড ভন্ড করে দেবে।’
আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘তোমার রিভলবারের গুলী আছে কিনা পরীক্ষা করেছ?’
একথা বলতেই লোকটিই চমকে উঠে তার রিভলবার পরীক্ষা করল। গুলী নেই। তার চোখ ছানা-বড়া হয়ে উঠল গুলী নেই দেখে। সে তাকাল অন্য তিনজনের দিকে। ওরা তিনজনও একে একে রিভলবার পরীক্ষা করল। প্রত্যেকেরই চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠল বিস্ময়ে। কারও রিভলবারে গুলী নেই।
আহমদ মুসা ওদের বিপর্যস্ত চোখের সামনে ঝুঁকে পড়ে দুহাত দিয়ে দুপায়ের মোজায় আটকানো দুটি রিভলবার বের করে আনল। আহমদ মুসা সরে এল ড্রইংরুমের দরজার দিকে। ওরা চারজনসহ হাইম বেঞ্জামিন ও বারবারা ব্রাউনও এবার তার সামনে।
আহমদ মুসা তাক করেছে তার রিভলবার দুটো ওদের চারজনের দিকে। বলল, ‘দেখলে তো নাটকের দৃশ্য কিভাবে পাল্টে গেল? তোমরা কি করে ধরে নিলে যে বুলেট ভরা রিভলবারগুলো আমি তোমাদের কাছে ফেলে এসেছি? মাত্র মৃত্যুই এ ধরনের ভুলকে ডেকে নিয়ে আসে।’
ওদের চারজনের বিমুঢ় মুখে এবার আতংক নেমে এল। বলল, দেখ আমরা সরকারী লোক। গায়ে হাত দিলে ভাল হবে না। আমরা নিজে করিনি। সরকারী হুকুম তামিল করার জন্যেই আমরা এসেছিলাম।
আহমদ মুসা হাসল। বলল, ‘ভয় করো না আমার রিভলবারের মূল্যবান বুলেট তোমাদের জন্যে নয়। সামান্য কয়টা পয়সার বিনিময়ে এসেছ আমাকে মারতে। এই ধরনের খারাপ কাজ আর করো না।’
বলেই আহমদ মুসা তাকাল রিভলবার দুটো পকেটে ফেলে তাকাল হাইম বেঞ্জামিনের দিকে। বলল, ‘জানি আমি বেরোনের পর আপনারা থানায় গিয়ে কেস করবেন যে, আমি আপনাদের হুমকি দিতে বা হত্যা করতে এসেছিলাম। তবে আমার অনুরোধ এই চারজন নকল গোয়েন্দা সম্পর্কেও থানায় অভিযোগ করবেন। ওরা সরকারী গোয়েন্দার পোশাকে এসেছিল নিজেদের উদ্দেশ্য সাধন করতে। এটা অপরাধ।’
হাইম বেঞ্জামিন ভালভাবে তাকাল লোক চারজনের দিকে। ঠিক তো, ওদের চারজনেরই পরনে সরকারী গোয়েন্দা পোশাক।
আহমদ মুসা থামতেই ওদের চারজনের একজন বলে উঠল, ‘মিথ্যা কথা। সরকারী হুকুমেই আমরা এসেছি।’
‘সরকারী কোন লোকের হুকুম হতেই পারে। কিন্তু সেটা সরকারী হুকুম নয় এবং তোমরা সরকারী লোক নও। ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ প্রধানকে জিজ্ঞাসা করলেই এটা জানা যাবে।’ বলল আহমদ মুসা।
তারপর আহমদ মুসা ‘সকলকে গুডবাই’ বলে ড্রইংরুম থেকে বেরিয়ে এল।
আহমদ মুসার পরপর বেরিয়ে গেল ওরা চারজনই। যাবার সময় বেঞ্জামিনকে বলল, ‘স্যরি স্যার আমরা শয়তানটাকে আটকাতে পারিনি। আপনাদের কোন ক্ষতি করেনি তো? ভীষণ চালাক আর ধড়িবাজ লোকটা। আমরা এসে পড়ে ভালই হয়েছে। চলে যেতে বাধ্য হলো।’
‘আপনাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছিল কে? জিজ্ঞাসা বারবারা ব্রাউনের।
‘দুঃখিত, আমরা বলতে পারব না ম্যাডাম।’ বলে তারা চারজন বেরিয়ে গেল ড্রইংরুম থেকে।
ওরা চলে গেলে বারবারা ব্রাউন বলল, ‘বেঞ্জামিন তুমি একটু দাঁড়াও। আমি একটা টেলিফোন করে আসি।’ বলে মোবাইল নিয়ে টেলিফোন গাইডের খোঁজে হাইম বেঞ্জামিনের ঘরে গেল।
মিনিট তিনেক পর ফিরে এল বারবারা ব্রাউন। তারপর সে ও হাইম বেঞ্জামিন সোফায় ফিরে এসে পাশাপাশি বসল। বারবারা ব্রাউনই প্রথম কথায় বলল, ‘অনেক প্রশ্নেরই সমাধান আজ হলো বেঞ্জামিন। মি.আইজ্যাক দানিয়েল ঠিকই বলেছেন, এরা চারজনই ভূয়া গোয়েন্দা। আমি ফিলাডেলফিয়ার পুলিশ প্রধান মি. টেলারের কাছে টেলিফোন করেছিলাম। তিনি খোঁজ নিয়ে জানালেন, কোন ওয়াচার বা গোয়েন্দাকে ড. হাইকেলের বাসায় পাঠানো হয়নি আজ।’
‘তাহলে এই প্রতারণামূলক কাজ করল কে?’ জিজ্ঞাসা হাইম বেঞ্জামিনের।
‘যারা এ্যালেন শেফারকে পুলিশ অফিসার সাজিয়েছিল, তারাই সাজিয়েছে এদেরকেও।’ বলল বারবারা ব্রাউন।
‘কিন্তু আশ্চর্য হচ্ছি, আইজ্যাক দানিয়েল এদের ঠিক ঠিক চিনে ফেলল কি করে!’ হাইম বেঞ্জামিন বলল।
‘আইজ্যাক দানিয়েল সাধারণ কেউ নয় বলেই আমি মনে করি। দেখলে না, ওরা চারজন তাকে ঘিরে ফেলল, তখন তার চোখে-মুখে ভয়ের সামান্য কোন প্রকাশ ঘটেনি। আর দেখ ওদের রিভলবার আগেই খালি করে ওখানে রেখে এসেছিল। কি বিস্ময়কর দুরদৃষ্টি। আরেকটা ব্যাপার, তাঁকে সার্চ করে তার পকেটের রিভলবার গেটে রেখে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা কি কল্পনা করতে পেরেছি যে, তার দুমোজার সাথে গোজা রয়েছে আরো দুটি রিভলবার! এখানেও অদ্ভুত দুরদৃষ্টির পরিচয় দিয়েছেন। আমার ..................।’ শেষ করতে পারলো না বারবারা ব্রাউন তার কথা।
তার কথার মাঝখনেই হাইম বেঞ্জামিন বলে উঠল, ‘কিন্তু এখানে সে কি আমাদের সাথে প্রতারণা করেনি? সে আমাদের সার্চকে ফাঁকি দিয়েছে, অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেছে।’
‘তোমার কথা একদিক দিয়ে ঠিক। কিন্তু প্রয়োজনেই এটা সে করেছে। আমরা তো ভেবেছি আমাদের কথা। কিন্তু তিনি ভেবেছেন আমাদের বিষয় ছাড়াও তার আরও শত্রুর কথা। সুতারাং তাকে প্রস্তুত থাকতে হয়েছে। তা যে ঠিক তা প্রমাণই হলো।’ বলল বারবারা ব্রাউন।
‘ঠিক বলেছ বারবারা। ওদের একটা করে রিভলবার খালী করে রেখেছিল। ওদের কাছে আরও রিভলবার যদি থাকতো।’ হাইম বেঞ্জামিন বলল।
হাইম বেঞ্জামিন একটু থেমেই আবার বলা শুরু করল, ‘দেখ আইজ্যাক দানিয়েল কেমন চালাক। তার সাথে আমাদের সম্পর্কের বিষয়টা ওদের চারজনকে জানতে দিল না, বরং বিপরীতটাই বুঝিয়ে দিল তার বিরুদ্ধে থানায় কেস করার প্রসঙ্গটি অন্যভাবে ঘুরিয়ে বলে।’
‘তার মানে তার দৃষ্টি দেখ সব দিকেই আছে। আবার দেখ যেমন তার বুদ্ধি, তেমনি এক্সপার্ট দেখ ফাইটিং-এও। আমার মনে হচ্ছে, নুমা ইয়াহুদ তাঁর সম্পর্কে যা বলেছে, তার চেয়েও তিনি বড়। দেখ এক সিটিং-এই তিনি আমাদের সামনের অন্ধকারকে একদম স্বচ্ছ, ঝরঝরে করে দিয়েছেন।’ বলল বারবারা ব্রাউন।
‘ঠিক বলেছ। আমার আনন্দ লাগছে, আব্বার উদ্ধারে তার মত লোকের সাহায্য পাব। এখন বল বারবারা, আমরা এগুবো কিভাবে। আমাদের উপর দায়িত্ব হলো, এ্যালেন শেফারদের মাধ্যমে আমাদের আব্বার অবস্থান জানার ব্যবস্থা করা। এখন কেমন করে ওদের সাথে যোগাযোগ করব।’ হাইম বেঞ্জামিন বলল।
‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইরেক্টর মি. ফ্রান্সিসের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। তিনি সব ব্যবস্থা করবেন বলে মনে হয়।’ বলল বারবারা ব্রাউন।
‘ঠিক আছে কালই মি. ফ্রান্সিসের সাথে যোগাযোগ করব। দরকার হলে নিউইয়র্ক যাব।’ বলল হাইম বেঞ্জামিন।
‘ঠিক আছে বেঞ্জামিন। আমি তাহলে এখন উঠি।’ বারবারা ব্রাউন বলল।
‘না চল, ডিনার খেয়ে যাবে। টেবিলে বোধ হয় রেডি।’ বলে উঠে দাঁড়াল হাইম বেঞ্জামিন।
বারবারা ব্রাউনও উঠে দাঁড়াল।
আজর ওয়াইজম্যানের সামনের টেবিলের ওপাশে বসেছিল বিল পুলম্যান।
বিল পুলম্যান ওয়ার্ল্ড ফ্রিডম আর্মি (WFA) ও ইহুদী গোয়েন্দা সংস্থার নিউইয়র্ক অফিসের প্রধান সমন্বয়কারী।
কথা বলছিল বিল পুলম্যান, ‘স্যার আইজ্যাক দানিয়েলকে এ পর্যন্ত যে কয়জন দেখেছে, তাদের বর্ণনা থেকে নিশ্চিত প্রমানিত হয় না যে তিনিই আহমদ মুসা।’
‘কিন্তু তার প্রতিটি কাজ প্রমাণ করে যে সে আহমদ মুসা না হয়ে পারে না।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘তা ঠিক স্যার। অবশ্য আহমদ মুসা ছদ্মবেশ ধরতে উস্তাদ। সাধারণ ছদ্মবেশেও সে নিজেকে পাল্টে ফেলতে পারে। বিশেষ করে খুব অভ্যস্ত চোখ না হলে তার ছদ্মবেশ ধরা মুশকিল। অতএব আমি মনে করি, তাকে আহমদ মুসা হিসাবে ধরেই আমাদের অগ্রসর হওয়া দরকার।’ বিল পুলম্যান বলল।
‘যদি তা ধরে নিতে হয়, তাহলে সেটা এক বিপদের কথা। কারণ মার্কিন সরকার ও প্রসাশনের সকল পর্যায়ের সে সহযোগিতা পাবে। তবু কিন্তু এ লড়াইয়ে আমাদের জিততে হবে পুলম্যান।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘অবশ্যই স্যার। নিউইয়র্কের লিবাটি টাওয়ার ও ডেমোক্র্যাসি টাওয়ার ধ্বংসের সত্যটা যদি প্রকাশ হয়ে পড়ে, তাহলে স্যার ইহুদীবদীরা আবার রোমান যুগের মত অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে। সুতরাং যে কোন মূল্যে সত্যের প্রকাশ রোধ করতে হবে।’ বিল পুলম্যান বলল।
‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে, স্পুটনিকের যোগাড় করা সব ডকুমেন্ট আমরা ধ্বংস করতে পেরেছি এবং অবশিষ্ট যেগুলো ওদের হাতে ছিল, সেগুলোর সবটাই আমাদের হাতে এসে গেছে। না হলে আমরা মহাবিপদে পড়ে যেতাম। সে ডকুমেন্টগুলো ওরা হারিয়েছে বলেই খোদ আহমদ মুসাই পাগলের মত ছুটে এসেছে ড. হাইম হাইকেলের সন্ধানে। ড. হাইম হাইকেলকে পেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট তারা নতুন করে তৈরি করতে পারবে। সুতারাং যেভাবেই হোক ড. হাইম হাইকেলকে আড়ালে রাখতে হবে। তাকে না পেলে আহমদ মুসারা এক ইঞ্চিও সামনে এগুতে পারবে না।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘মাফ করবেন স্যার। দেখা যাচ্ছে ড. হাইম হাইকেল প্রকৃত অর্থেই আমাদের জাতির জন্যে এক বিপজ্জনক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের এখনকার সব শক্তিই তাকে আড়ালে রাখার চেষ্টায় ব্যায়িত হচ্ছে। এই অবস্থায় এই বোঝা আমাদের জাতিদেহ থেকে ঝেড়ে ফেলার মধ্যেই জাতির কল্যাণ।’ বিল পুলম্যান বলল।
‘কোন আমেরিকানের কাছে তুমি কখনই এ ধরনের কথা বলবে না। কোন আমেরিকান ইহুদীর কাছে তো নয়ই। যতদিন মার্কিন রাষ্ট্র থাকবে ততদিন হাইম সলমন মাকির্নীদের মধ্যে বেঁচে থাকবে এবং হাইম পরিবারও জাতীয় সম্মানের এক কেন্দ্রস্থল হিসাবে বর্তমান থাকবে। যদি ড. হাইম হাইকেলের কিছু হয়, তাহলে আজ না হয় কাল তা প্রকাশ পাবেই। তখন যে প্রতিক্রিয়া হবে সেটা আমরা ইহুদীবাদীরা বহন করতে পারবো না। অন্যভাবে তাকে ধীর প্রক্রিয়ায় মুছে ফেলতে হবে। অবশ্যই তাকে আড়াল করার শেষ রক্ষা যদি নাই হয়, তাহলে আশু জাতীয় স্বার্থকেই বড় করে দেখব। তাকে সরিয়ে দেয়ার দরকার হলে সরিয়েই দেব।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘ধন্যবাদ স্যার। তাকে শুধু পাগল প্রমাণ করা নয়, সত্যিই পাগলে পরিণত করার কাজটাই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কেন এই কাজটা আমরা করতে পারছি না।’ বিল পুলম্যান বলল।
‘এই কাজ আমরা প্রথম থেকে শুরু করেছি। কিন্তু ডাক্তারদের বক্তব্য হলো ড. হাইকেল অত্যন্ত শক্ত মন ও নিখাদ চরিত্রের লোক। ঈশ্বরমুখিতা তার এতই দৃঢ় যে, তার মনকে, চিন্তাকে বিছিন্ন ও বহুমুখী করার কোন পন্থাই এখনও সফল হয়নি। এই চেষ্টা আমাদের জারি আছে। আমরা সম্প্রতি তার ব্রেনের উপর ইলেক্ট্রনিক ওয়েভকে কার্যকর করার চেষ্টা শুরু করেছি। এই চেষ্টা যদি যথেষ্ট পরিমাণে সফল হয়, তাহলে তার চিন্তা-পদ্ধতিকে বিকৃত করা সম্ভব হবে।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘ধন্যবাদ স্যার। স্যার আরেকটা কথা। আহমদ মুসাকে ‘শুট এট সাইট’ এর নির্দেশ দিন। এটা প্রমাণ হয়েছে, তাকে বন্দী করে আমরা এঁটে উঠতে পারছি না, অতীতেও পারিনি। সুতরাং তাকে বন্দী নয় দেখামাত্র হত্যার নির্দেশ দিন।’ বিল পুলম্যান বলল।
‘ঠিক বলেছ বিল। আমিও এ রকমই ভাবছি। আমরা যদি এতদিন এ সিদ্ধান্ত নিতাম, তাহলে অনেক আগেই আমরা আহমদ মুসার হাত থেকে মুক্তি পেতাম। আমাদের......................।’
কক্ষের দরজায় এসে দাঁড়াল আজর ওয়াইজম্যানের পার্সোনাল সেক্রেটারী। বলল আজর ওয়াইজম্যানকে, ‘স্যার পুলিশ অফিসার এ্যালেন শেফার ও রাব্বানিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টর মি. ফ্রান্সিস এসেছেন।’
‘ওঁদের নিয়ে এস।’ নির্দেশ দিল আজর ওয়াইজম্যান।
‘ফিলাডেলফিয়ার কোন খবর আছে স্যার।’ জিজ্ঞাসা করল বিল পুলম্যান।
‘ঐ ব্যাপারেই আসছেন এ্যালেন শেফার ও ফ্রান্সিস। বলল ওয়াইজম্যান।
কক্ষে প্রবেশ করল ফ্রান্সিস ও এ্যালেন শেফার।
তারা কক্ষে প্রবেশ করে আজর ওয়াইজম্যানকে রাজাসুলভ দীর্ঘ বাও করল।
আজর ওয়াইজম্যান তাদের ইংগিত করলে তারা বসল গিয়ে বিল পুলম্যানের বাম পাশে পাশাপাশি।
ওরা বসতেই আজর ওয়াইজম্যান চেয়ারে হেলান দিয়ে তাকাল এ্যালেন শেফারের দিকে। বলল,‘মি. শেফার বলুন ফিলাডেলফিয়ার খবর কি?’
এ্যালেন শেফারের প্রকৃত নাম জোসেফ এরাম। তিনি ইয়র্কভিল ডিস্ট্রিক্টের ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার। সেদিন এ্যালেন শেফার নাম নিয়ে ফিলাডেলফিয়ায় ড. হাইম হাইকেলের বাসায় গিয়েছিলেন। সে একজন কট্টর ইহুদীবাদী।
‘স্যার আজই আমি ফিলাডেলফিয়া থেকে জানতে পেরেছি, বারবারা ব্রাউন আমাদের সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছে।’ আজর ওয়াইজম্যানের প্রশ্নের উত্তরে বলল ‘এ্যালেন শেফার ওরফে জোসেফ এরাম।’
‘তার মানে সেদিন আইজ্যাক দানিয়েল ড. হাইম হাইকেলের ছেলে হাইম বেঞ্জামিনের সাথে কি আলাপ করেছে তার কিছুই আমরা জানতে পারিনি!’ আহত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করল আজর ওয়াইজম্যান।
‘জি হ্যাঁ, বারবারা ব্রাউন জানিয়ে দিয়েছে, হাইম পরিবারের বিরুদ্ধে যায় এমন কোন কাজ সে করতে পারবে না এবং সেদিনের আলোচনা সম্পর্কেও সে কোন কথা বলবে না। তবে এটুকু বলেছে যে, এ্যালেন শেফারের প্রস্তাবে হাইম বেঞ্জামিন রাজী আছে এবং হাইম বেঞ্জামিনের সাথে দেখা করতে আসা আইজ্যাক দানিয়েল লোকটিকে সে সন্দেহের চোখে দেখছে। সে কেস করেছে এ কারণেই।’ বলল এ্যালেন শেফার।
‘বারবারা ব্রাউনের এ পরিবর্তনের কারণ কি? সে তো একজন ভালো ইহুদী গোয়েন্দা কর্মী।’ আজর ওয়াইজম্যান বলল।
‘সে জানিয়েছে এটা তার নীতিগত সিদ্ধান্ত। হাইম পরিবারের সম্পর্কিত কোন কিছুই সে নিজেকে জড়িত করবে না।’ এ্যালেন শেফার জানাল।
‘দেখা যাচ্ছে হাইম বেঞ্জামিন আসার পরই তার এ পরিবর্তন। কারণ কি?’ আবার প্রশ্ন করল আজর ওয়াইজম্যান।
‘স্যার অনেকেই ভাবছেন প্রেম ঘটিত কোন ব্যাপার রয়েছে এর পেছনে। সে হয়তো মনে করছে বেঞ্জামিনের উপর কোন গোয়েন্দাগিরী করা তার ঠিক হবে না। এ রকম কিছু ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।’ বলল এ্যালেন শেফার।
এ্যালেন শেফার থামতেই আজর ওয়াইজম্যান বলে উঠল, ‘তার এই পরিবর্তন বা কোন প্রকার ঠুনকো সেন্টিমেন্ট গ্রহণযোগ্য নয়। তার ব্যাপারে আমরা পরে ভাবব।’ বলে আজর ওয়াইজম্যান তাকাল ফ্রান্সিসের দিকে। বলল, ‘মি. ফ্রান্সিস হাইম পরিবারের সাথে যোগাযোগের ব্যাপারটা সবাইকে বলুন।’
রাব্বানিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইরেক্টর নেইল ফ্রান্সিস নড়ে-চড়ে বসে বলল, ‘হাইম বেঞ্জামিনের সাথে আমরা দেখা করে আসার পর হাইম বেঞ্জামিনই আমার সাথে প্রথম যোগাযোগ করেছে। প্রথম দিনেই সে বলেছে, এ্যালেন শেফারের দেয়া প্রস্তাব অনুসারে আমাদের দেখা করার ব্যবস্থা করুন। এরপর আরও তিনবার সে টেলিফোন করেছে। প্রতিবারেই সে ঐ ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছে। অধৈর্য হয়ে পড়েছে তারা। এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের বুঝিয়ে রাখা যাচ্ছে না।’
নেইল ফ্রান্সিস থামলে আজর ওয়াইজম্যান বিল পুলম্যানকে বলল, ‘তুমিও তো ব্যাপারটা জান। তুমি কি ভাবছ বল।’
‘জি স্যার, আমি সব শুনেছি। আমি তাদের অধৈর্য হওয়াটাকে পছন্দ করছি না। এ্যালেন শেফার যে প্রস্তাব দিয়ে এসেছেন, আমরা তা আমাদের সুবিধা অনুযারী বাস্তবায়ন করব। দেখা করানোর ব্যাপারটাকে যতটা পারা যায় আমি ‘ডি’লে’ করানোর পক্ষপাতী।’ বিল পুলম্যান বলল।
আজর ওয়াইজম্যান আবার তাকাল এ্যালেন শেফারের দিকে। বলল, ‘জোসেফ এরাম তুমি এ ব্যাপারে কি বলতে চাও?’
জোসেফ এরাম ওরফে এ্যালেন শেফার তাকাল আজর ওয়াইজম্যানের দিকে। বলল, ‘স্যার আমার হাইম পরিবারকে এই প্রস্তাব দেওয়ার আসল কারণ হলো তাদের শান্ত রাখা, আমাদের হাতে রাখা। যাতে এ নিয়ে তারা হৈচৈ না বাধায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে স্যার আমি মনে করি, ড. হাইম হাইকেলকে দেখার ওদের সুযোগ দেয়া দরকার। দেখা হলে তারা নিশ্চিত হবে যে, ড. হাইম হাইকেল বেঁচে আছেন। তিনি অসুস্থ। তার চিকিৎসা হচ্ছে। তারা এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য করার প্রয়োজন অনুভব করবে না। এতে আমাদের কাজের সুবিধা হবে।’ থামল পুলিশ অফিসার জোসেফ এরাম।
আজর ওয়াইজম্যান এবার সোজা হয়ে বসল। বলল, ‘হাইম পরিবারকে দেয়া আমাদের প্রস্তাব নিয়ে আমরা কি করব, এ ব্যাপারে তোমাদের প্রত্যেকের কথার পেছনেই যুক্তি আছে। কিন্তু তোমরা কেউই বারবারা ব্রাউনের পরিবর্তনের বিষয়টাকে সামনে রেখে হাইম পরিবার সর্ম্পকে আমাদের করণীয় বিচার-বিবেচনা করে দেখনি। বারবারা ব্রাউনের এই পরিবর্তন ছোট বিষয় নয়। তার চিন্তা-ধারার এই পরিবর্তনের মত হাইম পরিবারের চিন্তা ধারায় কোন পরিবর্তন এসেছে কিনা আমরা জানতে পারছি না। যতদিন এটা জানা না যাবে ততদিন হাইম হাইকেলের সাথে তার পরিবারকে দেখা করানো যাবে না।’
‘কিন্তু স্যার বেশি দিন দেরি হলে করলে তারা বিরক্ত হবে, বিক্ষুব্ধ হবে এবং ধৈর্য্যহারা হলে এই বিষয়টা সরকার ও সংবাদপ্রত্রের কাছে চলে যেতে পারে।’ বলল নেইল ফ্রান্সিস।
‘কিন্তু মি. ফ্রান্সিস, এমন ধরনের কিছু যাতে তারা না করতে পারে তার ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু দেখা করার পর কেউ যদি হোস্টাইল হয়, কিংবা হোস্টাইল কাউকে যদি দেখা করানো হয়, তাহলে যে ক্ষতি হবে তার প্রতিবিধানের কোন পথই থাকবে না। তার ফলে গোটা প্ল্যান আমাদের ভন্ডুল হয়ে যাবে। যে কোন মূল্যেই এটা হতে দেয়া যাবে না।’ বলল আজর ওয়াইজম্যান।
‘স্যার ঠিকই বলেছেন। কিন্তু স্যার এখন ওদের মুখ বন্ধ করা যাবে কিভাবে?’ বলল নেইল ফ্রান্সিস।
‘খুব সহজে। বিল পুলম্যান একদিন যাবে ফিলাডেলফিয়ায় ড. হাইম হাইকেলের বাড়িতে। বলবে বেঞ্জামিনকে শত্রুপক্ষের সাথে যেন পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ কোনভাবেই তারা যোগাযোগ না করে। অন্যথা যদি হয় তাহলে তারাও বিপদে পড়বে, ড. হাইম হাইকেলকেও মেরে ফেলবে। তাদের আচরণের উপরই নির্ভর করবে কবে কখন তারা ড.হাইম হাইকেলের সাথে দেখা করতে পারবে। অন্যথায় ড. হাইম হাইকেলের মতই বেঞ্জামিনও একদিন হারিয়ে যাবে।’ আজর ওয়াইজম্যান বলল।
‘বুঝলাম। তার আগ পর্যন্ত আমি কি বলব ওদের। ওরা আজ কিংবা যেকোন সময় যোগাযোগ করতে পারে।’ বলল ফ্রান্সিস।
‘জানাবেন, ক’দিনের মধ্যেই আমাদের লোক আপনাদের ওখানে যাবে আলোচনার জন্যে। এ বিষয়ে তারাই কথা বলবে।’ আজর ওয়াইজম্যান বলল।
‘স্যার, আহমদ মুসা যদি সত্যিই এসে থাকে, তাহলে সে কি শুধু হাইম পরিবারের উপরই নির্ভর করবে? সরকার ও প্রশাসনের ক্ষমতাবান অনেকের সাথেই তার সখ্যতা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সে যোগাযোগ করছে কিনা আমরা কি তার খোঁজ রাখছি?’ বলল বিল পুলম্যান।
‘আহমদ মুসার এ সুবিধা আছে। জেনারেল শ্যারন জেলে থাকায় আমাদের বিরাট অসুবিধা হয়েছে এক্ষেত্রে। বিরাট ভীতি ও হতাশাও ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের যারা অবশিষ্ট আছে তাদের মধ্যে। এরপরও তাদের যথাসাধ্য সাহায্য আমরা পাচ্ছি।’ আজর ওয়াইজম্যান বলল।
কথা শেষ করেই আজর ওয়াইজম্যান উঠে দাঁড়াল। বলল, ‘তোমরা এস। আমার জরুরি এনগেজমেন্ট আছে। আমি চললাম।
আজর ওয়াইজম্যান বেরিয়ে গেলে অন্যরা সবাই উঠে দাঁড়াল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now