বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাৎ হঠাৎই মন খারাপ হয়ে যায় সুশানের ।
ছুটির দিনগুলোর এই সময়টাতে সে যদি বাসায় থাকে— কিচ্ছু করবে না সে। কথা বলবে না কারো সাথে, কম্প্যুটারের স্কৃনে বসে কোনো কিছুতে চোখ বুলোবে না, সারাক্ষণ গুনগুন করে গান গাওয়া স্বভাব, তাও সে করবে না— স্রেফ পা ঝুলিয়ে চুপচাপ বসে থাকবে বিছানার উপর।
শোবার ঘরের সাথে লাগোয়া রান্নাঘর। নীহা হয়তো সেখানে বসে মাছ-তরকারি কিছু কুটছে, বা অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত আছে— সে গলা চড়িয়ে বলবে— ‘একটা গান শোনাও তো, সু। চুপচাপ কাজ করতে ভালো লাগছে না— তোমার গান শুনি আর কাজ করি। মৌসুমী ভৌমিকের ঐ গানটা শোনাও— আমি শুনেছি সেদিন তুমি সাগরের ঢেউয়ে চেপে...। ঐ গানটা তোমার কণ্ঠে বেশ লাগে।’
সুশান কোনো গানও গাইবে না, অন্যকিছুও করবে না— চুপচাপই বসে থাকবে, সেভাবেই। নীহা বুঝে নেবে সব— সব কাজ ফেলে ওড়নায় হাত মুছতে মুছতে সে চলে আসবে ঘরে। সুশানের সামনে একমুহূর্ত দাঁড়িয়ে বলবে— ‘কী হয়েছে তোমার?’ তারপর কোনো জবাব পাবার জন্যে অপেক্ষা না করে সরে আসবে সুশানের অতি নিকটে। তার দু’পায়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মাথার এলোমেলো চুলগুলো আঙুল গলিয়ে পরিপাটি করে দিতে দিতে আস্তে আস্তে বলবে— ‘চুপ করে বসে আছো। বললাম একটা গান শোনাও— শোনালে না।’
সুশান নিশ্চুপ।
না, আর কোনো কথা বলবে না নীহা। সে জানে, আর একটা কথা বললেই সুশান বাচ্চাদের মতো ভ্যাক্ করে কেঁদে ফেলবে। এবং সেই কান্না লুকোবার জন্যে সে অদ্ভুত একটা কাণ্ড করবে— নীহার বগলের নিচ দিয়ে মাথাটা গুঁজে দিয়ে চুপ করে থাকবে। এই ঘটনায় যতোটা না হাসি পায় নীহার, তারওচে’ বেশি পায় কষ্ট। তার মনটা ক্রমশ আর্দ্র হয়ে যেতে থাকে তখন থেকেই। কিন্তু সাধারণত এমনটাই হয়— বলবে না বলবে না করেও সে বলেই ফেলে— ‘খারাপ লাগছে? মা’র কথা মনে পড়েছে?’
ব্যাস্, সুশানের যে কাজ, সে তাই করবে। তারপর যা করার নীহাকেই করতে হবে। হাসতে হাসতে সে বলবে— ‘এতোক্ষণ কাজ করতে করতে ঘেমে গেছি। অতএব, আমার বগলে কিন্তু ঘামের গন্ধ। বের হও, মাথা বের করো। আচ্ছা বাবা ঠিক আছে, আর কাঁদতে হবে না। সামনের হলিডেতে আর বাসায় থাকতে হবে না। আমি আগের দিন রাতে সবকিছু রেডি করে রাখবো— ভোরের ট্রেনে মা’র কাছে চলে যেয়ো। সারাদিন মা’র সাথে কাটিয়ে রাতে লাস্ট ট্রিপের বাস ধরে চলে এসো। দুই-একটা হলিডেতে বৌ’র কাছে না থাকলে বৌ কিছু মাইন্ড করবে না। এখন বের হও সোনা। ঘামের গন্ধ কিন্তু। বের হও বের হও।’
ঘামের গন্ধ থাক আর যা-ই থাক, সুশানের তাতে কিছু না— সে মাথা বের করবে না। নীহা-ই জোর করে তার মাথাটা বের করে আনবে। দু’হাত দিয়ে মুখটা তুলে ধরে সে দেখবে তার চোখে জল নেমেছে। চোখের জল মুছে দেয়াটাই সংগত। কিন্তু নীহা তা করবে না— দু’হাত দিয়ে সুশানের মাথাটাকে শক্ত করে চেপে ধরবে তার বুকের সাথে। কাঁদুক, মন ভরে কাঁদুক। জন্মদাত্রী মায়ের জন্যে মন পুড়ছে— মায়ের জন্যে মন পুড়লে কাঁদবে না তো কি গরু-ছাগলের জন্যে মন পুড়লে কাঁদবে?
তারপর সুশানকে আর ঠেকায় কে— প্রশ্রয় পেলে যে কোনো কষ্টই বর্ধিত হয় হু হু করে। সে কারণেই হয়তো সুশানও নীহার কোমর জড়িয়ে ধরে মুখটা আরো একটু গুঁজে দেবে তার বুকে। কিছু সময় পর নীহা টের পাবে— কোনো শব্দ নেই, কিন্তু বেশ জোরে-সোরেই কাঁদছে সুশান। বুকের কাপড় ভেদ করে ইতিমধ্যেই নীহার স্তন স্পর্শ করেছে তার চোখের জল।
নীহাও নির্জলা থাকতে পারবে না আর, একসময় তারও চোখ বেয়ে নেমে পড়বে জল। কতো কী মনে পড়ে যাবে হঠাৎ— মায়ের মুখ, বাবার চশমা-চোখ, জল-টলটলা পুকুরটায় ঝাঁকবদ্ধ হাঁসের খেলা , দূরে আকাশ নুয়ে পড়া প্রশস্ত মাঠ...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now