বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফিরে আসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফিরে আসা - মোঃ নাযিফ হাসান চৌধুরী নাহিদ আনমনেই রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। এই মুহুর্তে বোধহয় তার চেয়ে দুঃখী মানুষ এই শহরে খুব কমই রয়েছে। এইজন্যই নাহিদের মনটা খারাপ , বেশ খারাপ। কারন এখন থেকে ঠিক ৪৭ মিনিট আগে নাহিয়ানের চাকরিটা চলে গিয়েছে। হ্যা , যদি যৌক্তিক কোন কারনে চাকরি চলে যেতো তবে নাহয় নাহিদ বুঝত। অন্তত , সেটুকু বোঝার মতো যোগ্যতা নাহিদের আছে। কিন্তু চাকরিটা খামোখাই চলে গেল তার্। আসলে নাহিদ ছেলেটা যাকে বলে অতিরিক্ত রকম সৎ। অন্যায় অনিয়ম সহ্য করতে পারেনা। গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে বেকার ছিল কিছুদিন , পরে তিনমাস আগে একটা মাল্টিন্যাশনাল ম্যানুফ্যকচারিং কোম্পানিতে প্রোডাকশন ম্যানেজারের জব পায় , তাও আবার মামা খালুর দাপট ছাড়াই অনেক কষ্টে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছিল সে , কোম্পানির একাউন্টস এ বড় রকমের ঝামেলা। অর্ডারের চাইতে শিপমেন্ট বেশি লেখা হচ্ছে। বায়ারের অজান্তেই তাদের থেকে অনেক টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজটা এতটাই টেকনিক্যালি করা হচ্ছে যে বুঝার জো নেই। নাহিদ কয়েকদিন খুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে হিসেবের গরমিলগুলো। এত পরিকল্পিত গরমিল তার মনে সন্দেহ জাগায়। পরে সে প্রোডাকশন ম্যানেজারকে জানায়। ম্যানেজার তো কমপ্লেন নিলই না , উল্টে তাকে যাচ্ছেতাইভাবে অপমান করে নিজের চরকায় তেল দিতে বললো। তখনই নাহিদ বুঝে গেল যে , স্বয়ং ম্যানেজার এই মারিং কাটিং এর সাথে জড়িত। এরপরে নাহিদ আর উপায় না দেখে ম্যানেজমেন্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ করে ফেলে। যেকোন অভিযোগ আগে এজিএম বরাবর যায় , তারপরে জিএম হয়ে এমডি। কিন্তু এজিএম নিজেই যে এই চুরি বাটপাড়ির সাথে জড়িত তা নাহিদ চিন্তাও করতে পারেনি। নাহিদকে এজিএম সতর্ক করে যাতে এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি নাহিদ না করে। এমনকি মুখ বন্ধ রাখার জন্য নাহিদকে টাকাও অফার করে। কিন্তু নাহিদের বিবেক নাহিদকে বলে , এমডি সাহেবকে সতর্ক করা দরকার , বায়ারদের কাছে এই চুরি ধরা পড়ে গেলে কোম্পানির কতটা বদনাম হতে পারে। আজ দুপুরে অফিসে বসে কমপ্লেইন লেটার টা টাইপ করছিলো , এমনসময় পিয়ন এসে বললো , "স্যার এজিএম স্যারে আপনেরে ডাকে" নাহিদের তখন আর বুঝতে বাকি ছিলোনা যে কি ঘটতে চলেছে। এজিএম এর বিলাসবহুল চেম্বারে ঢুকেই সে নার্ভাস হয়ে গেল। এজিএম তাকে ইশারায় বসতে বললেন। বসার সাথে সাথেই তার দিকে একটা সাদা খাম এগিয়ে দিয়ে বললেন , "ইউর রেজিগনেশন লেটার্। সাইন এন্ড রিজাইন। অনিয়মের দায়ে এমডি স্যারের অনুমতিক্রমে আমি আপনাকে রিজাইন করতে বললাম। ইউ আর ফায়ারড। " নাহিদ হতভম্ব হয়ে বসে থাকে। এজিএম মৃদু হেসে বললেন , "টাকা অফার করেছিলাম , নিলেন না। আবার এমডি বরাবর অভিযোগ করবেন। হুহ। ভেবেছেন বসে বসে আমার পেটে লাথি মারবেন আর আমি মেনে নিবো? নেভার! গেট লস্ট।" এরপরে নাহিদ রেজিগনেশন লেটার টা হাতে নিয়ে কিভাবে অফিস থেকে বেরিয়ে এল , আর কিভাবে ৪৭ মিনিট একটানা হেঁটে এইপর্যন্ত এল তা সে নিজেও জানেনা। ঐতো সামনে ভাঙ্গা ব্রিজ আর ব্রিজের নিচেই খরস্রোতা কুমারী নদী। নাহিদ ব্রিজে এসে রেলিং এ ভর দিয়ে দাঁড়ায়। পড়ন্ত বিকেলবেলা। এই ব্রিজে লোক চলাচল এমনিতেই কম , তার উপরে একটু পরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে আরও নিরিবিলি হয়ে যাবে। পকেট থেকে গোল্ডলিফ বের করে ধরায়। ধোঁয়া ছাড়ে। সচরাচর ধুমপান করেনা নাহিদ , কিন্তু এইমুহুর্তে মনে হচ্ছে একপশলা নিকোটিন তার খুবই প্রয়োজন , খুউব। আসলে সততা , শালার সততাই তাকে ডুবাল। আর তেলবাজির অভাব। ভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারে যখন বন্ধুরা তাদের থিসিস টিচারদের তেল দিয়ে নরম করিয়ে আজেবাজে থিসিস এপ্রুভ করিয়ে নিয়েছিল , তখন নাহিদের চমৎকার থিসিসটা তেলবাজির অভাবে বহুদিন প্রফেসরের টেবিলে চাপা পড়ে ছিল। রিয়া মেয়েটা ২ বছরের রিলেশনশিপ ব্রেকাপ করে চলে গেল নাহিদকে 'কাপুরুষ' বলে কারন বেকার নাহিদ রিয়াকে পালিয়ে বিয়ে করতে রাজি হয়নাই। আচ্ছা , রিয়াকে একবার শেষবারের মত ফোন করবে? পকেটে হাত দিয়ে ফোন বের করতেই দেখে ফোনটা কখন যেন চার্জের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নাহিদ মৃদু হাসে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। ব্রিজ এখন খালি , গোধূলির নিভৃত আলোয় কষ্ট বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকটা এখন একা , তাকে কেউ দেখবেনা। গোধুলির আবির ছড়িয়ে পড়েছে নদীর জলে। নাহিদ ভাবে , ইশশ! এভাবে যদি সেও নদীর জলে মিশে যেতে পারতো। ***** নাহিদের বাসায় কান্নাকাটির রোল পড়ে গিয়েছে। আজ সন্ধ্যায় নাহিদের বন্ধু মাহবুব নাহিদকে ভাঙ্গা ব্রিজের উপরে রেলিং এ ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে। তারপরে আর কোন খবর নাই। নাহিদ কখনই এত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকেনা। নাহিদের মা ওর অফিসে ফোন দিয়েছিলেন , আর জানতে পারেন নাহিদের চাকরি চলে গিয়েছে। ওর ফোনও সুইচড অফ। বিধবা মায়ের মন তাই কু ডাক ডাকছে। তাই বুঝি তার অশ্রু বাধ মানছেনা। ছোট্ট স্কুলপড়ুয়া বোনটিও দাদার জন্য অঝোরে কাঁদছে। ওর নাম নীলা। মাহবুব সমানে সান্ত্বনা দিচ্ছে , "খালাম্মা আপনি কেঁদেন না। ওর কিচ্ছু হয়নাই। আমরা দেখছি।" নাহিদের বন্ধুরা ওকে তন্নতন্ন করে খুঁজছে। এমন সময় নীলা হঠাৎ চেঁচিয়ে বলে , "মা! দাদা এসেছে।" নাহিদের মা দেখেন , দরজা দিয়ে নাহিদ ঢুকলো। ক্লান্ত , বিধ্বস্ত চেহারা। কোন কথা না বলে নাহিদকে মা বুকে টেনে নেন , " কি হইসে তোর বাপ? কই ছিলি? চাকরি চলে গেসে তাতে কি? নতুন একটা পাবি। কিন্তু তুই ছাড়া আমার আর নীলার কে আছে বল?" নাহিদ বুঝতে পারে , চাকরি যাওয়ার খবর মা ঠিকই পেয়ে গেছেন। নীলার দিকে তাকায় , পাগলিটা কাঁদছে। দাদাকে এত ভালবাসিস , কিন্তু কখনও আগে তো মনে হয়নি। ওকে ইশারায় কাছে ডাকে। নীলা নাহিদের পাশে এসে বসে। দুইহাত দিয়ে দুইজনকে জড়িয়ে ধরে নাহিদ। মনে মনে বলে , নাহিদ। পাগলামি বাদ দাও। তোমার এখন অনেক কাজ , মা কে দেখতে হবে। নীলার পড়াশোনা শেষ করিয়ে ওর বিয়ে দিতে হবে , বাবার সব দায়িত্ব পালন করতে হবে। এত তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে পড়লে চলবে কেন? একহাতে নীলাকে জড়িয়ে ধরে অন্যহাতে মায়ের চোখের পানি মুছে দিয়ে নাহিদ মৃদুস্বরে বলে , "আর কেঁদো না মা। আমি ফিরে এসেছি। তোমাদের ছেড়ে আর কক্ষনো কোথাও যাবোনা। সত্যি"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মাটির টানে ফিরে আসা
→ ফিরে আসা
→ ইতিহাসের ফিরে আসা
→ ফিরে আসা
→ আবারো ফিরে আসা.............!
→ ফিরে আসা
→ ফিরে আসা
→ ফিরে আসার গল্প(সুমু)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now