বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিন্দু বিন্দু জল
--------------------------
*** এসাম আহমেদ ***
৫টা বাজার এক্টু আগেই স্টেশনে পৌছালো শাহেদ।নেমেই রমিজের চা দোকানে ঢুকলো।চা দোকানটা সুন্দর।ভিতরে বসার সুন্দর জায়গা আছে।চা দোকান ঠিক বলা যায় না এটাকে মিনি ফুডকোর্ট বলা যেতে পারে।একসময় নিয়মিত আসা হতো এখানে।কারো সাথে দেখা করতে,সুখদুঃখের কথাগুলো ভাগাভাগি করতে।
ভালোবাসা পেতে,ভালোবাসা দিতে আর ভবিষ্যতের স্বপ্নে মেতে থাকতে।
রমিজ চাচাকে চা দিতে বলে ট্রেনের টিকেট কাটতে গেলো শাহেদ।টিকেট কেটে এসে চা এর কাপটা হাতে নিয়ে স্টেশনের বেঞ্চিতে বসলো।সাথে নিয়ে আসা পত্রিকায় মুখ ডুবিয়ে পড়তে আরম্ভ করলো।ট্রেন সাড়ে ৬টায়।বেশ লম্বা অপেক্ষা।
'এই যে শুনছেন?চিটাগাং এর ট্রেনটা কটায় বলতে পারেন?'
মেয়েলি কন্ঠে জিজ্ঞাসা।
পত্রিকার ভেতর মুখ গুঁজে চোখ না উঠিয়েই শাহেদ জবাব দিলো,
'না,স্টেশন মাস্টারকে জিজ্ঞেস করুন।আমি জানি না।'
'স্টেশন মাস্টার রুমে নেই।এক্টু খুঁজে দেখবেন?'
এবারে পত্রিকা থেকে মুখ উঠালো শাহেদ।তাকিয়েই চমকে গেলো।চমকে গেলো প্রশ্নদাত্রীও।মুখটা ভীষন চেনা চেনা লাগছে!
-নীলা! শাহেদই সামলে নিয়ে বললো
-শাহেদ...
-হুম আমি।তুমি?
-চিটাগাং যাবো।স্টেশন মাস্টার নেই।টিকিট করতে পারছিনা।
-দাঁড়াও দেখছি।
বলে চলে গেল শাহেদ।স্টেশন মাস্টারকে পাওয়া গেলো এক্টু দূরেই।দাঁড়িয়ে গল্প করছেন।টিকিট নিয়ে ফিরে এল শাহেদ।চট্টগ্রামের ট্রেন ছয়টায়।
-তুমি কই যাচ্ছো?নীলার জিজ্ঞাসা।
-বাড়ি যাচ্ছি।তুমি চিটাগাং কই যাবা?শাহেদের জিজ্ঞাসা।
-শ্বশুর বাড়ি।
-তো,আছো কেমন?
-এই আছি...
-আছি মানে?
-এইতো,বেঁচে আছি।
-বেঁচে আছি কেন?তোমার তো ভালো থাকার কথা।
-কেন?
-কত ভালো জায়গায় বিয়ে হলো...
-আহ!ভালো জায়গায় বিয়ে হলেই কি সুখি হওয়া যায়?
-কেন,কি হয়েছে?
-আমাদের বিয়ের দু বছর পরই একটি মিথ্যা অভিযোগে ওর চাকরিটা চলে যায়।
-তারপর?
-তারপর আর কি?এরপর আর শত চেষ্টাতেও চাকরি মেলেনি।এখন ছোটখাটো জব করে।
-তুমি কিছু করলেই তো পারতা...
-আমি বিয়ের পর আর পড়ালেখা কন্টিনিউ করতে পারি নি...
-ওহ!
-এরপর বেশ খানিকক্ষণ নীরবতা।কল্পনায় ডুবে যায় শাহেদ।সেই সাত বছর আগে এই স্টেশনেই শেষ দেখা।দুজনই তখন পড়াশোনা করে।হঠাৎ করেই নীলার ফোন।হঠাৎ করেই দেখা করতে বলা।
-'আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে' নীলা বললো।
-হুম,শাহেদের উত্তর।
-হুম কি?কি হবে এখন?
-আমি কি করতে পারি?
-এক্টা ছোটখাটো চাকরি জুটিয়ে আমাকে বিয়ে করতে পারো,হাঁদারাম!
-দেখো নীলা,এ সময় কেউ চাকরি দেবে না।তাছাড়া,আমার রেজাল্ট খারাপ।চাকরি করতে গেলে রেজাল্ট আরো খারাপ হবে।
-ওরা আমাকে খুব পছন্দ করেছে।ছেলে ইঞ্জিনিয়ার,ভালো চাকরি করে।তাই মা বাবাও খুব করে চাচ্ছেন।
-তো,আমি কি করবো?বিরক্তিভরে বলে শাহেদ।
-তাহলে কি 'হ্যাঁ' বলে দিবো?
-হুঁ,দিয়ে দাও।
কিছুটা রাগ করেই বলে শাহেদ।কেন জানি শাহেদের বারবার মনে হচ্ছিলো এ সব নীলার বানানো,মিথ্যে অভিনয়।নীলারই এখানে বিয়ে করার খুব ইচ্ছা ।শাহেদকে এখন আর ভালোবাসেনা নীলা।
'এই,কোথায় হারিয়ে গেছো?'নীলার কথায় বাস্তবে ফিরে আসে শাহেদ।
-না,হারিয়ে যাই নি।
-জানো,বিয়ের সাত বছর হয়ে গেছে এখনো আমাদের কোন বেবি হয় নি।অত্যন্ত দুঃখভরে বলে নীলা।
-ওহ,তাই?অস্ফুটে বলে শাহেদ।
এরপর অল্প সময় আবার নীরবতা।তারপর নীলার প্রশ্ন,
'আমি কেবল আমার কথাই বলে যাচ্ছি।তোমার কথা বলো এবার।তুমি কেমন আছো?
-ভালো আছি।
-কি করো এখন?
-চাকরি করি।
কোম্পানির নাম বললো শাহেদ।নীলা চিনতে পারলো।খুব নামকরা কোম্পানি।
-এটা তো খুব ভালো কোম্পানি।ভালো চাকরি পেয়েছো।
-তোমাকে বলা হয় নি নীলা,ভার্সিটিতে থার্ড ইয়ার আর ফোর্থ ইয়ারে আমার রেজাল্ট খুব ভালো হয়েছিলো।মাস্টার্সেও।ভার্সিটি থেকে বের হওয়ার সময় সিজিপিএ খারাপ ছিলোনা।
-ওহ!ভালো তো।
হালকা হেসে বলে নীলা।
-বিয়ে করেছো?
-হুম,দুই বছর হয়।প্রেম করে।
-কিভাবে হলো?
-মানুষের মনের দরজাটা অনেক বড় নীলা।কখন কে সেই দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ে,কে জানে!আর আমি তো আমার মনের দরজাটা খোলাই রেখেছি।
-ওহ,আচ্ছা।খুব সুখী তাহলে তুমি?
-হুম,তা বলা যায়।হেসে বলে শাহেদ।
এরপর দুজনই কিছুক্ষণ চুপচাপ।ঘড়িতে ছয়টা বেজে দশ।নীলার ট্রেন চলে আসে।'চলো,তোমাকে উঠিয়ে দিয়ে আসি'শাহেদ বলে।'চলো' নীলা বলে।
নীলাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়ে বিদায় জানিয়ে দূরে এসে দাঁড়িয়ে থাকে শাহেদ।হঠাৎ করেই কেমন জানি লাগতে শুরু করে তার।কি দরকার ছিলো নীলাকে এসব মিথ্যা বলার?শাহেদ তো আসলে চাকরি করেনা,ভার্সিটিতে তার রেজাল্ট শেষ পর্যন্ত ভালো হয় নি,তার প্রেম বিয়ে কোনটাই হয় নি।ভালো চাকরি না পাওয়ায় তার আর চাকরিও করা হয় নি।সে তো সুখি নয় বরং নীলার মতই দুখী। কি দরকার ছিলো এসব বানিয়ে বলার?শোধ তোলার নেশায় একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছিলো।নীলার দুঃসময় জেনেই সুযোগটা কাজে লাগালো।অথচ এমনও তো হতে পারতো সেদিনের সেই ঘটনায় নীলার আসলেই কোন দায় ছিলো না।বাধ্য হয়েই তাকে বিয়েটা করতে হয়েছে।নিজেকে প্রচন্ড অপরাধী ভাবতে থাকে শাহেদ।তার চোখে পানি চলে আসে।
তখন সন্ধ্যা হয় হয়।গোধুলীবেলার রং ছড়ানো আকাশে ধীরে ধীরে আঁধার নামতে থাকে।পাখিরা নীড়ে ফিরে।বিকেলের শেষ বাতাসে গাছের ডালগুলো দোল খায়।সেসব কিছুই ছুঁয়ে যায় না শাহেদকে।হঠাত হুইসেল বাজে।ট্রেন ধীরে ধীরে ছাড়তে শুরু করে।শাহেদ ট্রেনের দিকে তাকায়।নিজের কামরা থেকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নীলা।চশমার কাঁচের ভেতর দিয়ে জলমগ্ন চোখে নীলাকে দেখে শাহেদ।নীলার চোখে কোন বেদনা বা কষ্টের ছাপ আছে কিনা খুঁজে বেড়ায় সে।কিছু বোঝা যায় না।শাহেদের চশমার কাঁচ ক্রমশ ঘোলাটে হয়ে আসে।হঠাত করেই শাহেদের মনে হয়,আচ্ছা,তার কান্না কি দেখতে পাচ্ছে নীলা?শাহেদের জানা নেই,তার কান্না নীলার চোখের আড়ালেই থেকে যায়।নীলা তা দেখতে পায় না,তার চোখ এড়িয়ে যায়।ঠিক যেমনিভাবে শাহেদেরও চোখ এড়িয়ে গিয়েছিলো সাত বছর আগে শেষ দেখায় নীলা নামে কোন এক তরুণীর চোখে জমে উঠা উঠা বিন্দু বিন্দু জল.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now