বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বৃষ্টি বিরক্তি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বৃষ্টি বিরক্তি ---------------------------------- ***আশিকুল ইসলাম খান নিশাত*** বৃষ্টির দিন আমার খুব একটা পছন্দ না। এর অনেকগুলো কারণ আছে। এখন আমি পরীক্ষার হলে থাকলে, আর বৃষ্টি পছন্দ না হওয়ার কারণ প্রশ্নে আসলে খুব অল্প কয়েকটাই লিখতে পারতাম। বেশিরভাগ জানা সত্বেও হয়ত আশেপাশের কারো কাছ থেকে দেখতাম। এখন আসা যাক বৃষ্টি অপছন্দ করার কারণে। একে তো এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিজছি,আরেক কারণ হয়ত ছোটবেলা থেকেই আমার বৃষ্টি নিয়ে সুখকর কোন অভিজ্ঞতা না থাকা। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় বাসার সামনে খুব নোংরা ধরনের পানি জমত, মাঝেমধ্যে সেই পানি ঘরেও ঢুকত। টিনের চাল দিয়া ঘরে পানি পড়া তো আছেই। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সময় দুপুর ১২ টার কিছু বেশি। আমি আছি গুলিস্তান গোলাপশাহর মাজারের সামনে। তারিখ ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ ইংরেজি। ১৫ ই চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। ঠিক এক বছর আগে এই দিনে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমি এডমিট কার্ড নিয়েছিলাম। আর এক বছরের মাথায় কোথায় আমার ভার্সিটির পড়াশোনা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করার কথা, মোটা ভারি ফ্রেমের চশমা পড়ে বড় বড় বই মুখস্থ করার কথা, তা না করে আমি এই দুপুর বেলা বিরক্তির এই বৃষ্টিতে ভিজছি। অবশ্য এখন এই অবস্থায় থাকার কোন কারণ নেই আমার। আমি ছাত্র হলেও পড়ালেখা করি না, সারাদিন প্রকৃতি দেখি,আর পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষা দেই। মাঝেমধ্যে দুই একটা টিউশনি করে কিছু টাকা পাই। আমার হিসাবে আমি বেশ বড়লোক ই বলা যায়। অবশ্য আমার হাবভাবে সবাই ই ভাবে আমি খুব বড়লোক মানুষ। সকালে বের হয়েছিলাম ঢাকা ঘুরতে। কাজ না থাকলে যা হয় আর কি! গুলিস্তান আজকের ঢাকা ভভ্রমণেরই অংশ। আমার ঘোরার নিয়ম হচ্ছে বাসে উঠি, বাস যতদূর যায় ততদূর আমিও যাই। আবার সেই বাস যখন ফেরত আসে তখন আমিও ফেরত আসি। আজকে একটু ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে। গুলিস্তান আসার পর সারা রাস্তায় টাকা চেয়ে না পাওয়ায় বিরক্ত হেলপার আমার কাছে শেষবারের মত ভাড়া চাইতে আসলে পকেটে হাত দিয়ে দেখি মানিব্যাগ নেই। তাই আমাকে সসম্মানে বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে(!) মোবাইল টা বাসা থেকে নিয়ে বের না হওয়াতে বিপদ টের পাচ্ছি। ভাগ্যিস মোবাইল নিয়ে আসিনি। হয়ত সেটাও আজকে যেত। আশেপাশে কয়েকটা টং দোকান আছে। কিন্তু বৃষ্টি থেকে বাঁচার কোন রাস্তা নেই, দাঁড়ানোর মত যথেষ্ট জায়গা নেই। দোকানদার গুলো মুখ কাঁচুমাচু করে বসে আছে। এদের মূল ব্যবসা হচ্ছে চা আর সিগারেট। কিন্তু কোন অদ্ভুত এক কারণে আজ কোন দোকানেই চা বানানোর সরঞ্জাম চোখে পড়ছে না। বৃষ্টিতে ভিজেও কেউ সিগারেট খায় না। এ কারণেই হয়ত আজ ব্যবসা হচ্ছে না দেখে দোকানদার রা কিছুটা বিরক্ত। আমি এসব ভাবছি কেন? আমার এসব ভাবা একদমই উচিৎ না। যাদের পকেটে মানিব্যাগ অর্থাৎ টাকা থাকে না,তাদের এসব ভাবা অন্যায়। আজও অন্যসব দিনের মত বড়লোকি ভাবসাব নিয়ে বের হয়েছিলা। মানিব্যাগে টিউশনির হাজারখানেক টাকা ছিল। এই কথা ভাবতে ভাবতে পকেটে হাত দিয়েই মনে হল ৪৪০ ভোল্টের শক কোন না কোনভাবে খেয়েছি। আমার পকেটে ৩৫০ টাকা(!) সকালে বাটপার শাকিলের কাছে দুই বছর আগের ২০০ টাকা পাওনা, আর পিচ্চি ইকবালের কাছে ১৫০ টাকা পেতাম। সেটা ফেরত যে দিয়েছে ওরা এ কথা আমার খেয়ালই ছিল না। তাড়াতাড়ি আগে গেলাম টং দোকানে। এক লোকের সাথে কোনরকমভাবে ছাতা শেয়ার করে ফুসফুস টা ঠাণ্ডা করলাম। বৃষ্টি কমছে না। সময়ও যেন কাটে না। কি বিরক্তিকর ব্যাপার। আবার ক্ষুধাও লেগেছে। এখন আমি গোলাপ শাহর মাজারের সামনে নেই। স্টেডিয়ামের কাছাকাছি কোথাও আছি। বিরিয়ানির দোকান খুঁজছি। কথায় কথায় একবার সামছু ভাইয়ের কাছে শুনেছিলাম এদিকে তার নাকি বিরিয়ানির দোকান দেয়ার কথা, মূলত তার শালার জন্য। শশুড়বাড়ি গুলিস্তান হওয়ায় বেকার শালাকে একটা ব্যবসা ধরানোর চিন্তাভাবনা করছিলেন। এই ক্ষুধার সময় বিরিয়ানি পাওয়া গেলে খুব একটা খারাপ হয় না। খুব একটা খোঁজার আগেই পরিচিত কণ্ঠ শুনতে পেলাম। সামছু ভাই! আমাকে তিনি দেখে ডাক দিচ্ছেন। খুব খুশি লাগলো। ভেতরে ঢুকতেই একটা গামছা ধরিয়ে বললেন, বাইরে ভিজেন ক্যান? বাড়িত বইয়া কাম পান না? আপনাগো গো এইটাই সমস্যা। উত্তরা বৃষ্টি হইয়া কুল পায় না, গুলিস্তান আইছেন ভিজতে! উনাকে কে বুঝায় আমার অবস্থা। যাই হোক এই ব্যাপারে তর্কে যাওয়া মোটেই ভালো কাজ না। মানুষ ভালো হলেও সামছু ভাই গোয়ার ধরনের। একবার ভালোমতো এই কথা নিয়ে লাগতে পারলে দিন শেষ। আমি গামছা দিয়ে মাথা মুছতে মু্ছতে জিজ্ঞেস করলাম, সামছু ভাই, চালাবন বাদ দিয়ে এখানে কি করেন? সামছু ভাই বিরক্ত মুখে বললেন, আপনার ভাবি একবারে চৈদ্দ গুষ্টি নিয়া বাপের বাড়ি আইছে বেড়াইতে। কইলাম আমি দোকান বন্ধ কইরা যামু না। তাও আইতে হইল। আইয়া ভাবলাম শালা ব্যবসা বুঝে না, শালার দোকানেই বহি। আপনের লগে আমার আইজকা দেখা হওন কপালে আছিল। বিরানি খান। ওই সবুজ, বিরানি দে ভাইরে আমি বিরানির জন্য অপেক্ষা করতে করতে খেয়াল করলাম এক বয়স্ক রুগ্ন লোক এক কোনার টেবিলে চুপচাপ বসে আছে। আমাকে সেদিকে তাকাতে দেখে সামছু ভাই বললেন, আর কইয়েন না। বুড়াডা সকালতোন বইয়া আছে। কিছু খায়ও না, যায়ও না। বুড়া দেইখা উডাইতাছিও না। ভদ্রলোকের পাশে গিয়ে কিছুক্ষণ ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, কাকা, দুপুরে খেতে এসেছেন? লোকটা একবার আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জাবোধ করে মাথা নিচু করে ফেলল। বুঝতে পারলাম উনার খুব খুধা লেগেছে। সবুজকে বললাম উনাকেও এক প্লেট দিতে। সবুজ কিছুক্ষনের মধ্যেই দুই প্লেট বিরিয়ানি দিয়ে গেলো। ভদ্রলোক খুব স্বাভাবিক ভাবে বিরিয়ানি খেলেন। কোনভাবেই উনাকে খুব একটা গরীব বা অস্বচ্ছল পরিবারের মনে হচ্ছে না চালচলনে। বিরিয়ানির দাম এক প্লেট ১৪০/-, এই টাকা দেয়ার মত না বলে হচ্ছে না উনাকে দেখে। যাই হোক আমার কাছে ৩৪০ আছে এখন, দুই প্লেট ২৮০ দিলেও বাসায় যাওয়ার ভাড়া হয়ে যাবে আমার। খাওয়া শেষ করে ভদ্রলোক আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জার একটা হাসি দিয়ে বললেন, বাবা, তোমার চেয়ে কিছু বড় আমার এক ছেলে। সারাজীবন সরকারি চাকরি করে যে অল্প কিছু টাকা রোজগার করেছি তা দিয়ে ছেলেকে মানুষ করেছি। এখন আমরা বৃদ্ধ, ছেলে বড়লোক এক মেয়ে বিয়ে করে আলাদা থাকে। আমাদের কথা হয়ত মনেও থাকে না। আজ তো খুব বৃষ্টি, বাবু বৃষ্টিতে বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করত। যত কষ্টই হোক ওকে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম। সকালে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় এই দোকানে ঢুকেই বাবুর কথা মনে পড়ল। ভাবলাম বিরিয়ানির দোকান, আজ খেয়েই যাব। বাবুর মা কে কিছু একটা বলে আসব। কিন্তু মাসের শেষদিকে বয়স্ক ভাতাই বা আর কত থাকে! পকেটে কোনো টাকাই নেই। তাই বসেই আছি। বুড়া মানুষ আমরা, বাতিলের খাতায়, তাই বাবু কোনো খোঁজখবর নেয় না। এত বড় করে শিক্ষিত করে এত টাকার চাকরি করার মত যোগ্য করে তুললাম, আর ছেলে এখন আমাদের মত বৃদ্ধ খেয়ে আছে নাকি তাও খবর নেয় না। এটুক বলে ভদ্রলোক শার্ট এর হাতা দিয়ে চোখ মুছে আবার বললেন, বাবা তুমি বয়সে আমার ছেলের মতই। বেশি কথা বলছি দেখে বিরক্ত হচ্ছ না তো? আমি খেয়াল করলাম, বৃষ্টিতে ভেজার সময় যে বিরক্তি কাজ করছিল আমার ভেতর, সেটা এখন আর নেই। আমি বললাম, না না কাকা, মোটেই না। উনি আবার বললেন, তুমি যখন আমার জন্য এক প্লেট দিতে বললে, আসলে তখন না করতে পারি নি। আমি খুবই ক্ষুধার্ত ছিলাম। তোমাকে কি বলে যে ধন্যবাদ দেবো। আমি বললাম, না না এভাবে লজ্জা দেবেন না। চলুন বের হই। বের হয়ে ভদ্রলোক খুব পিড়াপিড়ি করলেন তার বাড়িতে এক কাপ চা খেয়ে যেতে। নগদ টাকা একবারেই না থাকলেও অন্তত দুই বৃদ্ধ চলার মত যথেষ্ট আছে বললেন তিনি। আমি আজ যাবো না বুঝতে পেরে শেষে ঠিকানা দিয়ে তিনি বললেন কোনদিন যেন একবার অন্তত তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসি। তার বাবুর মা আজ এই ঘটনা শুনে পরে আমাকে দেখে খুব খুশি হবেন। আমি তার সাথে দেখা করব বলে বিদায় নিলাম। কি অদ্ভুত দুনিয়া! আমরা যারা সারাদিন ঘুরি ফিরি তারা সত্যিই তো চিন্তা করি না আমাদের জন্য কত কষ্ট করে আমাদের বাবা আয় করে পড়ান। কিন্তু বড় হয়ে যদি আমরা তাদের বৃদ্ধ বয়সে উপকারেই না আসি তবে আমরা কি সত্যিই মনুষ্যজাতির অন্তর্গত? মনুষ্যত্ব বিলোপ তাহলে এটাই। এধরনের ছেলেপেলের জন্য বৃদ্ধাশ্রম শব্দটা এখনো ডিকশনারিতে টিকে আছে। মনুষ্যত্ব লোপ পেয়ে জন্তুর স্বভাব আয়ত্ত্ব করারই হয়ত উদাহরণ ওই ভদ্রলোকের ছেলে। তিন কাঁটা মাছের জীবনে দেখতে পাই অপত্য যত্ন শেষে পিতা মাছ কিন্তু একবারে প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত পোনা মাছকে লালন করে না। সাপ, বাঘ, গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কুকুর এসব কোন প্রাণীর মধ্যেই এই স্বভাব নেই। আছে শুধু মানুষের মধ্যে। এই জন্যই হয়ত মানুষ আলাদা। কিন্তু সব মানুষ হয়ত মানুষ হতে পারে না। আজ থেকে মানুষ হওয়ার চেষ্টায় নামতে হবে। জীবনে অনেক টাকাপয়সা নষ্ট করেছি, যা বুঝলাম। কোন কাজেই আসেনি। পুস্তক নিয়ে পড়ালেখা করে "দুর্জন" হওয়ার চাইতে আগে নিজে সত্যিকার মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। এদিকে বৃষ্টি কমে গেছে। যা আছে তা না ধরলেও চলে। তবে বাতাস টা খুব সুন্দর লাগছে। বর্ষাকাল আমার একেবারেই অপছন্দ। সারা রাস্তা কাদায় ভরা। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, এটা তো বর্ষাকাল না, বসন্তকাল। আকাশ এখনো মেঘে ঢাকা। বৃষ্টির চাইতে আমার আকাশ বেশি পছন্দ। তাই হয়ত আমি শরতের নীলাকাশ বেশি পছন্দ করি। বসন্তের এই বিরক্তিকর বৃষ্টি দেখলে শাহ আব্দুল করিম ভুলেও সেই বিখ্যাত গান টা লিখতেন না। "বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে..." বসন্তে বর্ষার ফিলিং নিয়ে আমি গুলিস্তান দাঁড়িয়ে আছি বাসের অপেক্ষায়। সময় বিকাল ৪ টা। ২৯ মার্চ ২০১৭, ১৫ ই চৈত্র ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। আমি বাপের টাকা প্রতিনিয়ত নষ্ট করা একজন সুনাগরিক দাঁড়িয়ে আছি বাসের অপেক্ষায়। বাড়ি গিয়েই প্রথম কাজ আমার মানুষ হতে হবে। প্রাণীর বৈশিষ্ট্য থাকলে প্রাণী হওয়া যায়, মনুষ্যত্ব না থাকলে আর যা ই হোক, মানুষ হওয়া যায় না। June 13, 2016 at 8:32pm · Public Save · More Like React Comment Share Like406 Write a comment... Attach a Photo · Mention Friends Sarwar Khan sheser kothata osthir silo "" প্রাণীর বৈশিষ্ট্য থাকলে প্রাণী হওয়া যায়, মনুষ্যত্ব না থাকলে আর যা ই হোক, মানুষ হওয়া যায় না। "" Like · 4 · Reply · Report · Jun 14, 2016 Sea Sky তোমাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম । -কই , পাইনি তো। পোস্ট করিনি। আমার কাছেই আছে। -আমাকে দিবে চিঠিটা ? না। আমার কাছেই থাক। -অভ্র তুমি এমন কেন ? আচ্ছা কি লিখেছিলে সেটা বল। না থাক। শুনতে হবে না। আচ্ছা অএলিতা আগের মত মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গে না তোমার ? -হুম, এখনো – প্রতিদিনই ভাঙ্গে। ঘুম ভেঙ্গে আমাকে আর খুজো না? ফোন দিতে ইচ্ছা হয় না আগের মত? -সত্যি শুনতে চাও। না থাক।শুনতে চাই না।অনেক দিন হল জোনাকী দেখিনা। খুব জোনাকী দেখতে ইচ্ছা হয় ইদানিং। -অভ্র তুমি ঠিক আছো তো ? -হুম ঠিক আছি। শুধু মাঝে মাঝে মনে হয় আমি হয়ত বেশি দিন বাচব না। কয়েকদিন আগে কাশতে কাশতে রক্ত দেখলাম। গত কয়েকদিন শেষ রাতে শরীর কাপিয়ে জ্বর আসে। -এসব কথা আর বলবে না। কিচ্ছু হবে না তোমার,সিগারেট টা ছেড়ে দাও।ভাল একটা ডাক্তার দেখাও। -জানো মাঝে মাঝে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মনে হয়।যা কিছু দেখছি তার সব কিছুই আগে থেকে দেখা জিনিস কিন্তু কোন কিছুরই কোন মানে নেই। কেন দেখছি – জানিনা। মাথার ভিতর টা একদম ধবধবে সাদা কাগজ। খালী– শুন্য।বুঝতে পারিনা আমি মৃত্যুর পরে আছি না জন্মের পর।কিছুই মনে করতে পারিনা। -সবটুকু কি মনে করতেই হবে ?মনে না করলে হয় না।নতুন করে শুরু করা যায় না? পৃথিবীতে হাজার হাজার সুস্থ মানুষ আছে যারা সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছে। তুমিও না হয় একটু ভুলে গেলে। - সেলফিস মনে হবে নিজেকে। -না হয় একটু সেলফিস হলে – নিজেকে নিয়ে না হয় এবার একটু ভাব। -মাঝে মাঝে মনে হয় এই শহরের ল্যাম্প পোস্ট গুলো যদি না থাকতো তাহলে কত্ত ভাল হত।জোনাক পোকা গুলোকে আলো ছড়াতে দেখতে পেতাম। কথা ঘুরাবে না অভ্র। -আচ্ছা, তুমি কি আগের ঠিকানায় আছো – একদিন বয়াম ভর্তি জোনাকী পাঠিয়ে দেব তোমার ঠিকানায়। প্লিজ ডাক্তার দেখাও। -জানো মাঝ রাতে আমারো এখন ঘুম ভাঙ্গে। ঘুমের ঘোরেই মোবাইল টা হাতে নিই – মনে হয় হয়ত তুমি ফোন করেছিলে। কিন্তু তুমি ফোন কর না একদিন ও... হয়ত বা তোমার ঘুম ভাঙ্গে না , হয়তবা ভাঙ্গে , হয়তবা ফোন কর – অন্য কাউকে .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now