বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ স্পর্শ

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শেষ স্পর্শ ------------------- *** মারজানা মনি *** ১.গাড়ির জন্য এ জায়গায় একমুহুর্তও দাঁড়ানোর ইচ্ছা নেই মাইশার। অল্পকিছুক্ষনের মধ্যেই বরযাত্রী বেরিয়ে পড়বে। ওকে এখানে অনেক বেমানান লাগছে। অদ্ভুত! মানুষের জীবনের একটা অপূর্ণতা সবকিছুকেই অপূর্ণতার চাদরে মুড়িয়ে দেয়। রাস্তার পাশের বাড়িটাতে ও যেদিন এসেছিলো, সবাই ওকে দেখার জন্য ভীড় জমিয়ে দিয়েছিলো। আজ ও ঐ বাড়িটাতে অনেক ভীড়। কিন্তু মাইশা আজ ওই বাড়িটার সাথে অর্ধেক ছিঁড়ে যাওয়া খাতার পাতার মতো আছে। অনেকটাই ছিঁড়ে গেছে, শুধু কোনো একজায়গায় একটু আঁটকে আছে। সেই আঁটকে থাকাটা কি দয়া নাকি ভালবাসা সেটা মাইশার মাথায় ঢুকছে না। গতকাল থেকেই ও ভাবছে, রাইয়ান ওকে ডিভোর্স দিতে চাচ্ছে না কেনো! ও মাইশাকে ভালবাসে কিনা সেটা মাইশার আজো জানা হয়নি। কয়েকবার জানতে চেয়েও কোনো এক বাঁধা যেন আর জানতে দেয়নি। রাইয়ান কি তবে দয়া দেখাচ্ছে! মাইশাই বা কি করবে!সেই ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা ওকে অনেক সংগ্রাম করে বড় করেছে।মা নিজেই চলছে কোনোরকম স্কুলের চাকরীটা দিয়ে। আর এখন যদি স্বামী পরিত্যক্তা ওকে উনার ঘাড়ে পড়তে হয় তাহলে কষ্টটা বেড়ে যাবে তার। তারচেয়ে বরং এভাবেই থাক, অন্তত মাসের খরচটা তো রাইয়ান দেবে বলেছে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে হেঁটে অনেকদূর চলে এসেছে টের পায়নি। নাহ, মাথাটা খুব ঘুরাচ্ছে! আর পারছে না কন্ট্রোলে রাখতে নিজেকে। এই মাঝ রাস্তায় ওকে কে বাসায় পৌঁছে দিবে! কোনো রিক্সার দেখা নেই! ২.বাসায় এতো মানুষ তবুও রাইয়ানের খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। যখন চোখ কোনো একজনকে খোঁজে তখন তাকে না দেখলে সব শূণ্যস্থান মনে হয়, তা রাইয়ানের আজ মনে হলো। সেই একজনকে আগে এভাবে ও অনুভব করেনি। আজ বুকের কোনো একপাশে যেন মরুভূমির মতো ধূ-ধূ বালুচর হয়ে আছে! সেই একজনকে দেখতে পেলে হয়তোবা ওর পিপাসার্তের মতো উন্মুখ চাহনী কিছুটা তৃপ্তি পেতো। জীবনের সমীকরণগুলো ও কিছুতেই মিলাতে পারে না। অথচ বুয়েট থেকে পড়াশুনা করেছে ও! যতো ফাংশন, লগ সব ওর জানা কিন্তু জীবনের সমীকরণ মিলানোর সূত্রগুলো ও আজ ও আয়ত্ব করতে পারেনি।আচ্ছা মাইশা কি তাহলে চলেই গেলো! ও আর এ বাড়িতে আসবে না বলে দিয়েছে।এ বাড়ির শুধু রাইয়ান ওকে আলপিনের মতো একটা সম্পর্কে জড়িয়ে রেখেছে। আর সবাই চায় ও না আসুক। আর আসবেই বা কেনো! ও যে নতুন একজনের জন্য জায়গা খালি করে দিতে চলে গেছে! শুধু রাইয়ান ওর মনকে এ বাড়ির মতো সংকীর্ণ করতে পারেনি। মাইশাকে ডিভোর্স না দিয়েই বিয়েতে রাজি হয়েছে।মাইশার সাথে এটা অন্যায় হচ্ছে কিনা রাইয়ান জানে না!আচ্ছা মাইশা কি সত্যি ভেবেছে রাইয়ান দয়া দেখাচ্ছে! রাতের পর থেকে ওকে আর খুঁজে পায়নি রাইয়ান। পেলে জানিয়ে দিতো মাইশার জন্য ওর অনুভূতিগুলো। নিজেকে অপরাধী ছাড়া এই মুহুর্তে আর কিছুই ভাবার নেই। তবুও কিছুটা আশার আলো যে, মাইশা কাল রাতের কথাগুলোকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিয়েছিলো। তবে ওর একটা কথার তীব্রতা রাইয়ানকে এখনো খোঁচা দিচ্ছে। মাইশা সত্যিই রাইয়ানকে চিনে উঠতে পারে নি। আর চিনে উঠলে মাইশার কষ্টটাই আরো বেশি হতো। থাক না চেনাই ভালো। "কিরে এখনো রেডি হলি না? "ওপাশ থেকে মায়ের গলা শুনে রাইয়ান সম্বিত ফিরে পেলো। মায়ের কন্ঠটা শুনে মনে হচ্ছে খুশির তীব্রতা অনেক।এতোদিন পর তিনি পেরেছেন তার ছেলেকে কিছুটা রাহুমুক্ত করতে! যদিও রাহু পুরো মুক্ত হয়নি তবুও বাড়ি থেকে তো বিদায় হয়েছে। রাইয়ান ভেবে পায় না মানুষের বদলে যাওয়ার জন্য এতো কম সময় কি করে লাগে! সময়ের চেয়েও কি এই বদলে যাওয়ার গতি বেশি? থাক এখন আর হিসেব কষতে ইচ্ছে করছে না। "কিরে এভাবে বসে আছিস কেনো? সবাই তৈরি হয়ে আছে আর তুই এখনো বসে আছিস। কি ভাবিস এতো? আরে মা তোর জন্য রাজকন্যা আনবো এবার দেখিস! ছবিটা তো দেখলিই না এবার বাস্তবেই দেখবি। " মায়ের কথা শুনে রাইয়ানের খুব হাসি পেলো। খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, মা মাইশাকে এ বাড়িতে এনে তুমি বলেছিলে এমন বউ আমাদের পুরো এলাকায় খুঁজলেও পাওয়া যাবে না। এখন সত্যিই পাওয়া যাবে না। কারণ ও এই এলাকা থেকে চিরতরে চলে গেছে বলা যায়। ৩.রাস্তার পাশে ভীড় জমে গেছে! মেয়েটি কে চেনা মনে হচ্ছে রিফাতের। মেয়েটাকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার।কিন্তু মেয়েটা কে তা ও জানা প্রয়োজন। আল্লাহই জানে হাসপাতালে নিয়ে না জানি আবার কোন বিপদে পড়ে ফোনের কন্ট্যাক্ট লিস্ট থেকে একটা নাম্বারে কল দিয়ে কাউকে পাওয়া গেলো না, ফোন সুইচ অফ । রিফাত মেয়েটাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। কিন্তু ওর তো ক্লাস আছে! কতক্ষন এখানে থাকবে। আরেকটা নাম্বারে কল দিয়ে পাওয়া গেলো। মহিলাটি মনে হয় মেয়েটির মা। হাসপাতালের ঠিকানা দিয়ে রিফাত ফোন কেটে দিলো। ৪.বিয়েটা শেষ পর্যন্ত হয়েই গেলো। রাইয়ান ভাবতেই পারছে না। আচ্ছা মাইশা কি করছে এখন! নিজের মনকে বোঝায়,মাইশা ওকে ছেড়ে যায়নি যে এটাই অনেক ।মাইশা ওর আছে, একান্তই ওর। উফফ! ফুলের ঘ্রাণ অসহ্য লাগছে রাইয়ানের। রুমে ঢুকতেই খাটে বসা মেয়েটি ভীষন লজ্জা পেলো মনে হয়।রাইয়ান চুপচাপ গিয়ে খাটের একপাশে বসে মেয়েটাকে শুয়ে পড়তে বললো। কি জানি হয়তোবা মেয়েটি কিছুটা আশাহত হবে কিন্তু এতে রাইয়ানের কিছু যায় আসছে না।ওর মনে মাইশার জায়গাটা অনেক বিস্তৃত। সেখানে যদি সত্যিই কোনো ফাঁকফোকর থাকে তবে এই মেয়েটি হয়তো কিছুটা স্থান পাবে। মেয়েটি কিছুই বললো না একপাশ হয়ে শুয়ে পড়লো। রাইয়ান ও কিছুটা স্বস্তি পেলো। ৫. হাসপাতাল থেকে মাইশাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়েছে দুপুরে। ডাক্তার ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়েছিলো। অনেকক্ষন যাবত ঘুমিয়ে ছিলো মনে হয়। রাতে ঘুম ভাংলো ওর। মাকে ডাকবে কিনা ভাবছিলো..... "কিরে মা ঘুম ভেংগেছে? " মা রুমে ঢুকেই হাসিমুখে মাইশার দিকে তাকালো। "মাইশা জানিস ডাক্তার কি বলেছে? " কি মা? "তোর ভেতর এখন আরেকটা জীবনের বাস। তোদের ঘরে নতুন অতিথি আসছে। রাইয়ানকে এতো ফোন দিলাম কিন্তু পেলাম না । এই খুশির খবরটা ছেলেটাকে জানাতে পারলাম না! হয়তো ব্যস্ত ছিলো অফিসের কাজে! থাক তুই জানিয়ে দিস। " মাইশা দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে গিয়েও নি:শ্বাসটাকে ছোট করে নেয়। ও অবাক হতে গিয়েও হয় না, খুশি হবে কিনা ভাবছে। তাও যেন অসম্ভব মনে হচ্ছে।ওর অনূভূতি আসোলে কি হওয়া উচিত ও বুঝছে না। স্রষ্টার কি সুন্দর হিসেব এটা! ও বেবি কনসিভ করলো তাও এতোদিন পর! সব যখন শেষ! যদিও রাইয়ান শেষ করেনি।কিন্তু ও তো কাউকে ভাগ দিতে চায়নি। মা এখনো জানে না বিষয়টা। কাল কথা বলতে হবে। জানি না কিভাবে নিবেন ব্যাপারটা। রাইয়ানকে তো বলে এসেছে ওর দয়া নিয়ে বেঁচে থাকাতে খারাপ লাগবে না। মা কখনোই চাইবেন না তার মেয়ে দয়া নিয়ে বেঁচে থাকুক। কিন্তু মাঈশা সমাজকে খুব ভালো করে চিনে। ও যতোটা মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাইবে সমাজ তার চেয়ে বেশি চাইবে ওকে নিচু করতে। এই সমাজে স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে এখনো অভিশাপ। আর এখন আরেকটা জীবন আসছে। ওর পরিচয় লাগবে। আর রাইয়ান তো ওকে ফেলে দিচ্ছে না। থাক ও দয়া নিয়েই বেঁচে। কি এমন হবে ভালবাসার মানুষের দয়ায় বেঁচে থাকলে। ভালবাসার ছায়া না পেলো দয়া তো পাচ্ছে। ৬.আজ একমাসে রাইয়ান একবার ও মাইশাকে ফোন দেয়নি। আশ্চর্য! যে মেয়েটাকে নিয়ে ওর ভাবনার অন্ত ছিলো না আর তাকে এতোদিন ফোন না দিয়ে কি করে ও রয়েছে নিজেও ভাবতে পারছে না। সাবিহা খুব দ্রুত নিজেকে রাইয়ানের মনের সাথে মিশিয়ে দিতে পেরেছে। মেয়েটা অত্যন্ত কৌশলী। মা ভুল কিছু বলেননি। রাজকন্যাই এনেছেন রাইয়ানের জন্য। মাইশাকে যে মেয়ে এতোদ্রুত ভুলিয়ে দিতে পারে সে যে কৌশল জানে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।মাইশার কথা মনে হলে রাইয়ান এখনো কিছুটা চমকে উঠে। মাইশার জন্য ওর ফিলিংস আছে এখনো, মরে যায়নি। কিন্তু মাইশার সাথে ও অন্যায় করেছে খুব। একদিন অন্তত খোঁজ নেওয়া উচিত ছিলো। হাজার হোক বিয়েটা তো আছে এখনো। রাইয়ান ফোন হাতে নিলো মাইশাকে ফোন দিবে। "কি ব্যাপার তুমি এতো তাড়াতাড়ি উঠলে যে? " ওহ! সাবিহা চলে এসেছে। ও দেখলে কষ্ট পাবে, তাই রাইয়ান দ্রুত কল না যেতেই ফোন রেখে দিলো। ইদানীং সাবিহার কষ্টটা ওকে ভাবায়। মাঝে মাঝে নিজেকেই ওর অচেনা মনে হয়। কি করে ও পেরেছে সব ভুলে থাকতে! কল কেটেও লাভ হলো না। সাবিহা ফোন হাতে নিয়েছে। রাইয়ান ফোন কেড়ে নিতে চাইলো কিন্তু পারেনি। "মাইশা!! তুমি মাইশাকে কল দিয়েছো? ওই মেয়েটাকে এখনো ডিভোর্স দাওনি এইজন্যে? যাতে ফোনে আলাপ করা যায়? কি চুপ করে আছো কেনো? " চমকে উঠলো রাইয়ান। সাবিহা এরকম ব্যবহার করছে কেনো। যে মেয়েটাকে রাইয়ান ভালবেসে ফেলেছে শুধু ওর কোমল আচরণের জন্য। আর সে মেয়ে এতোটা রেগে গেলো। ওতো মাইশার ব্যাপারে সব জানে। তারপরেও এভাবে রিএক্ট করছে কেনো। "কি ব্যাপার কথা বলতে ভালো লাগছে না? নাকি আমি এসে ডিস্টার্ব করেছি বলে মুড অফ? শোনো আমি সব মেনে নিয়েছিলাম। যা তুমি বলেছো। কিন্তু তুমি ওই মেয়ের সাথে প্রেমালাপে মগ্ন থাকবে তা মানতে পারবো না। তুমি বলেছিলে ও যাতে সমাজের চোখে ছোট না হয় তাই বিয়েটা রাখছো। আমি রাজি হয়েছি, কিন্ত এখন আর তা হবে না। ডিভোর্সটা কবে করাচ্ছো বলো? আমি এভাবে থাকতে পারবো না। " মাইশা কি কখনো অধিকার ফলাতে এসেছে? নাকি তোমাকে সব ছেড়ে যেতে বলছে? ও ওর মতোই আছে। আর আমিতো ওর খোঁজ ও নিচ্ছি না তোমার জন্য। ও থাক না স্বামী পরিত্যক্তা কালিমাটুকু ছাড়া। কিছুই তো পায়নি ও। রাইয়ান এক নি:শ্বাসে বলে ফেললো সব। "তুমি ওর জন্য দয়া দেখাবে আর তোমার মা তার ছেলের আগের বউয়ের রান্নার হাতের গুণগান গাইবেন তা আমাকে সহ্য করতে হবে? " যাও মাকে না করে দেবো যাতে তোমার সামনে ওর কথা না বলে। আর আমিতো অপদার্থের মতো মাইশাকে ভুলেই আছি। তোমার সামনে ও আর ওর অস্তিত্ব প্রকাশ করবো না। ও অবহেলা নিয়েই বেঁচেছিলো এখনো তাই থাকবে। সাবিহা আর কিছু বলেনি। রেগেমেগে চলে গেছে রুম থেকে। মায়ের সাথে কথা বলতে হবে। অদ্ভুত এখন আবার মাইশার রান্নার তুলনা করছেন কেনো! নিজের হাতেই তো মেয়েটার জীবন শেষ করে দিয়েছেন উনি। রাইয়ান আর ভাবতে পারে না। ও নিজেও তো অপরাধী। ৭.মাইশার রাতগুলো নির্ঘুম কেটে যায়।দিনগুলোকে ও ঠিক হিসেব করতে পারে না। কতো ভাবনা যে উঁকি দিচ্ছে। সেদিন থেকেই ভাবছে কি করবে ও। যে বাচ্চা আসতে যাচ্ছে সে বাচ্চাটা আরো কয়দিন আগে ওর আগমনী বার্তা দিলে ওর জীবনটা আজ ঝুলে থাকতো না।কতো খুশি হতো ও বাড়ির মানুষগুলো। জানি না এখন জানলেও খুশি হবে কিনা। বিয়েটা তো আর ভাংগেনি। অনাগত শিশুটা তো ও বাড়ির ভবিষ্যৎ। যদিও মাইশা এখন অতীত।মাইশা রাইয়ানকে আর ফোন দেয়নি। অনেকবার দিতে চেয়েছিলো কিন্তু মা দিতে দেয়নি। সব জেনে মা ডিভোর্স এর জন্য চাপ দিচ্ছিলো কিন্তু মাইশা মাকে বুঝিয়েছে। এই অনাগত বাচ্চার জন্যেই এই সম্পর্ক থাকতে হবে। মা কেনো যেন আর কিছুই বললেন না। হয়তো সমাজকে জানেন বলেই। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনিও তো দেখেছেন এই সমাজকে। মানুষের কথার তিক্ততা মা জানেন। তাই আর কিছু বলেননি। শুধু মাইশাকে বলে দিয়েছেন রাইয়ান খোঁজ না নেওয়া অবধি মাইশা যেন কোনো ফোন না দেয়। মাইশাও দেয়নি আর। রাইয়ান আর ফোন দেয়নি ভেবে মাইশা অবাক হয়নি বিন্দুমাত্র ও। ও জানে ছেলেরা ভালবাসা আর সৌন্দর্যের কাংগাল।হয়তো ওই মেয়েটি ওকে অনেক ভালবাসে নতুবা মেয়েটি অনেক সুন্দরী। যাকে দেখে ও সব ভুলে যেতে পারে। কলিংবেল বাজলো কয়েকবার। হয়তো রিফাত এসেছে। সেদিনের পর থেকেই ছেলেটা নিয়মিত আসছে। রোজ একবার দেখে যাবে বলেছিলো। রিফাত এর ছোট ভাইকে মাইশা পড়াতো স্টুডেন্ট লাইফে। মাইশা রিফাতকে দেখেই চিনেছে।ওর উপকারের কথা কিছুতেই ভুলতে পারবে না মাইশা। রাইয়ান যখন কোনো খোঁজ নিচ্ছে না তখন এই রিফাত বাহিরের কেউ হয়েও নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছে। মাইশা রিফাতের চোখে কিছু লক্ষ্য করেছে। কিন্তু সেই কিছুটাকে ঠিক উপলব্ধি করতে পারেনি। দরজা খুলতেই রিফাত ঘরে আসলো। মাইশার সাথে অনেক ভালো ফ্রেন্ডশিপ হয়েছে। "মাইশা! আজকে তোমার সাথে অনেক সময় গল্প করতে চাই কিছু মনে করবে নাতো? " আরে না,কি যে বলছো। "আচ্ছা মাইশা তুমি তো এখনো নিজের সম্পর্কে কিছুই বললে না আমাকে? " কি জানতে চাও বলো? "আচ্ছা তোমার রাইয়ান এর সাথে পরিচয় তো করিয়ে দাও। " রাইয়ান? হা হা হা। "হাসছো কেনো?" রাইয়ান আরেকটা বিয়ে করেছে। "কি?" হ্যাঁ, যখন বিয়ের তিনবছর হয়ে গেলো আমি মা হতে পারলাম না তখন ওর মা চাইলেন ঘরে নতুন বউ আসুক। যে তাদের বংশে প্রদীপ জ্বালাবে। রাইয়ান বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলো না। কিন্তু ওর মা আমাকে বাধ্য করেছিলো রাইয়ানকে বলতে। তারপর রাইয়ান রাজি হলো, কিন্তু আমাকে ছাড়তে চাইলো না। ও বলেছিলো, ওর আমাকে প্রয়োজন। আমাদের বিয়েটা অন্তত টিকে থাকুক। আমি মেনে নিয়েছিলাম সব। রাইয়ানকে ভীষন ভালবাসতাম। আমি ও চাইছিলাম না আমাদের বিয়ে ভেংগে যাক। অন্যের কোলে যদি রাইয়ানের সন্তান আসে আর ও খুশি থাকে সেটা তো আমার ও খুশি। "তুমি ডাক্তার এর সাথে কথা বলোনি কখনো? " না, আমার ভয় ছিলো। আমি ভেবেছিলাম সত্যি আমি মা হতে পারবো না।রাইয়ান কয়েকবার চেয়েছিলো আমি যেন ডাক্তারের কাছে যাই। "কিন্তু এখন তো নতুন অতিথি আসছে। " হ্যাঁ, সব তো নিয়তি! আমি চাইছি না আর ওদের জানাতে।এভাবেই বেঁচে থাকবো। ডিভোর্স এর জন্য এখন আমিও রাজি। মা ওদের সাথে কথা বলবে। "আচ্ছা এভাবে কি তোমার জীবন চলবে? " কেনো চলবে না, স্কুলের চাকরীর জন্য এপ্লাই করেছি। ওটা হয়ে গেলেই নিজের মতো বাঁচতে পারবো। "কিন্তু একজন সংগীর প্রয়োজনীয়তা কি নেই? " যার চারিপাশে এলেই সব কোলাহল নি:শব্দ হয়ে যায় তার সংগী হয় না। সে একা বাঁচতে পারে। কখনোই তার হাত ধরার কেউ লাগে না। আর অনূভূতিহীন মানুষদের সংগী লাগে না। আর পাশে কেউ থাকলেও তারা অনুভব করতে পারে না। রিফাত খুব নি:শব্দেই চলে গেলো। মাইশা মুচকি হাসে। আর মনে মনে বলে, "অনূভূতিহীন মানুষগুলো, চোখের ভাষা পড়তে জানে খুব। কোথায় তুমি স্বপ্ন দেখো, কোথায় দাও ডুব। " ৮.আটমাস পর মাইশার নাম্বার থেকে কল এসেছে। রাইয়ান ফোনের স্ক্রীনে মাইশা নামটা দেখে ভূত দেখার মতোই চমকে উঠেছে। রিসিভ করার সাহস পাচ্ছে না। কি করে ও কথা বলবে। অপরাধ করেছে ও। অনেক বড় অপরাধ। যার কোনো ক্ষমা হয় না। :হ্যালো! :আপনি কি রাইয়ান? :জ্বি। :আমি রিফাত বলছি মাইশার বন্ধু। এখুনি আপনাকে ঢাকা মেডিকেলে আসতে হবে। :কেনো? কি হয়েছে মাইশার? :প্লিজ দ্রুত আসুন। আসলে সব জানবেন। রিফাত ফোন কেটে দিলো। মাইশার হার্টবিট খুব দ্রুত উঠানামা করছে। রিফাত এর কোলে নার্স রাইসাকে দিয়ে গেলো। মেয়েটা ঠিক মাইশার মতোই হয়েছে। মাইশাকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে রিফাত। রাইসাকে মাইশার মায়ের কোলে দিয়ে ও ভেতরে গেলো। :রাইয়ান আসেনি তাই না? :মাইশা ও আসবে। আমি ওকে জানিয়েছি। :না রিফাত ও আসবে না। আমার সময় খুব কম।কিন্তু তোমার সাথে অনেক কথা ছিলো, অনেক। :না, মাইশা তুমি ঠিক হয়ে যাবে। রিফাতের গলা ধরে আসে। ডাক্তার বলে দিয়েছে আর সম্ভব নয়। তবুও মিথ্যে স্বান্তনা দিচ্ছে। :না রিফাত। আমি জানি, আমার নি:শ্বাসগুলো এখন গোনা যাবে। তুমি গুনে নিতে পারো। আমার চারিপাশের সব সংকীর্ণ হয়ে আসছে। আমি তোমার ঋণ শোধ করতে পারবো না সত্যি। মৃত্যুপথযাত্রী একজন মানুষকে তুমি ক্ষমা করে দিও।বেবিটার নাম তোমার প্রিয় নামেই রাখলাম। রাইসাকে তুমি রাইয়ানের কাছে দিও না। রাইসা আমার মেয়ে। শুধুই আমার মেয়ে। তুমি ওকে আগলে রাখতে না পারলে ওকে এতিমখানায় দিয়ে এসো। তবুও রাইয়ানের কাছে না।কথা দাও রিফাত প্লিজ। তুমি ওকে রাইয়ানের কাছে কখনোই দিবে না, প্লিজ কথা দাও। :আমি কথা দিচ্ছি মাইশা। ও শুধু তোমার মেয়ে না।ও আমার ভালবাসার আমানত। আমি ওকে সেভাবেই রাখবো যেভাবে আমার ভালবাসাকে মনের মাঝে পুষেছিলাম। :তুমি তোমার জীবনকে গুছিয়ে নিও। আমি কখনোই নিজেকে মিথ্যের জাল থেকে বের করতে পারিনি। তাই হয়তো তোমাকে কিছু বোঝানো হয়নি। থাক সব কিছু স্পষ্ট হতে নেই। আচ্ছা রাইসাকে একটু দেখতে চাই। দেখাবে? রিফাত দৌড়ে বাহিরে গেলো। রাইসাকে কোলে নিয়ে মাইশার কোলে দিলো। রাইসা মায়ের স্পর্শ পেয়ে কেঁদে দিলো। ও হয়তো বুঝে গেছে, এটা মায়ের শেষ স্পর্শ ছিলো। June 14, 2016 at 4:30pm · Public Save · More Like React Comment Share LikeSadLove851 Write a comment... Attach a Photo · Mention Friends Su Mi রাইয়ানের মতো অপদার্থ,দায়িত্বহীন আমাদের সমাজে যথেষ্ট আছে।এই গল্পটা বাস্তব কাহিনীর মতো। Like · 29 · Reply · Report · Jun 14, 2016 4 replies Sea Sky তোমাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম । -কই , পাইনি তো। পোস্ট করিনি। আমার কাছেই আছে। -আমাকে দিবে চিঠিটা ? না। আমার কাছেই থাক। -অভ্র তুমি এমন কেন ? আচ্ছা কি লিখেছিলে সেটা বল। না থাক। শুনতে হবে না। আচ্ছা অএলিতা আগের মত মাঝ রাতে ঘুম ভাঙ্গে না তোমার ? -হুম, এখনো – প্রতিদিনই ভাঙ্গে। ঘুম ভেঙ্গে আমাকে আর খুজো না? ফোন দিতে ইচ্ছা হয় না আগের মত? -সত্যি শুনতে চাও। না থাক।শুনতে চাই না।অনেক দিন হল জোনাকী দেখিনা। খুব জোনাকী দেখতে ইচ্ছা হয় ইদানিং। -অভ্র তুমি ঠিক আছো তো ? -হুম ঠিক আছি। শুধু মাঝে মাঝে মনে হয় আমি হয়ত বেশি দিন বাচব না। কয়েকদিন আগে কাশতে কাশতে রক্ত দেখলাম। গত কয়েকদিন শেষ রাতে শরীর কাপিয়ে জ্বর আসে। -এসব কথা আর বলবে না। কিচ্ছু হবে না তোমার,সিগারেট টা ছেড়ে দাও।ভাল একটা ডাক্তার দেখাও। -জানো মাঝে মাঝে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মনে হয়।যা কিছু দেখছি তার সব কিছুই আগে থেকে দেখা জিনিস কিন্তু কোন কিছুরই কোন মানে নেই। কেন দেখছি – জানিনা। মাথার ভিতর টা একদম ধবধবে সাদা কাগজ। খালী– শুন্য।বুঝতে পারিনা আমি মৃত্যুর পরে আছি না জন্মের পর।কিছুই মনে করতে পারিনা। -সবটুকু কি মনে করতেই হবে ?মনে না করলে হয় না।নতুন করে শুরু করা যায় না? পৃথিবীতে হাজার হাজার সুস্থ মানুষ আছে যারা সবকিছু ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করতে চাচ্ছে। তুমিও না হয় একটু ভুলে গেলে। - সেলফিস মনে হবে নিজেকে। -না হয় একটু সেলফিস হলে – নিজেকে নিয়ে না হয় এবার একটু ভাব। -মাঝে মাঝে মনে হয় এই শহরের ল্যাম্প পোস্ট গুলো যদি না থাকতো তাহলে কত্ত ভাল হত।জোনাক পোকা গুলোকে আলো ছড়াতে দেখতে পেতাম। কথা ঘুরাবে না অভ্র। -আচ্ছা, তুমি কি আগের ঠিকানায় আছো – একদিন বয়াম ভর্তি জোনাকী পাঠিয়ে দেব তোমার ঠিকানায়। প্লিজ ডাক্তার দেখাও। -জানো মাঝ রাতে আমারো এখন ঘুম ভাঙ্গে। ঘুমের ঘোরেই মোবাইল টা হাতে নিই – মনে হয় হয়ত তুমি ফোন করেছিলে। কিন্তু তুমি ফোন কর না একদিন ও... হয়ত বা তোমার ঘুম ভাঙ্গে না , হয়তবা ভাঙ্গে , হয়তবা ফোন কর – অন্য কাউকে .....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ অনুভূতির স্পর্শ (পঞ্চম ও শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now