বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

গল্পের ওপারে গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X গল্পের ওপারে গল্প --------------------- *** রুইয়াহ ইসলাম *** ফোনটা ভাইব্রেট করে যাচ্ছে টানা। এখন সকাল ৫ টা। স্ক্রীনে ভাসছে, “বউ”। পাগল মেয়েটা যে আমাকে ঘুম থেকে তুলে ফজরের নামাজ পড়াতে চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। সে তো আর জানেনা যে সারারাত আমি না ঘুমিয়ে তারা দেখছিলাম ছাদে শুয়ে আর বুঝতে চাইছিলাম কেন নাহিদ, মানে আমার বউ তারাগুলো এত বেশি পছন্দ করে। তারারা কি আমার চেয়ে উজ্বল? লাজুক মেয়েটা তো আমার ব্যাপারে কখনো ওরকম ঘোর লাগা কন্ঠে কথা বলেনা যেভাবে বলে, তারাগুলো কি প্রচন্ড সুন্দর খেয়াল করেছ রন? মেয়েটার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে এক মাস আগে। অদ্ভূত এক মেয়ে। মানুষ কত সহজে প্রেম করছে বলে কত কিছু করে,আর এই মেয়ে প্রথম আমার হাত ধরেই কেঁদে ফেলে। মায়া মায়া চোখগুলো তুলে বলে, “চল বিয়ে করে ফেলি। আমার এভাবে প্রেম করাটাকে কেমন যেন চুরির মত মনে হয়।” ৪ বছর ধরে সারাক্ষণ “চল বিয়ে করি” শুনতে শুনতে আমিও অনার্স ফোরথ ইয়ারের একটা বেকার ছেলে হঠাত করে একদিন নিজেকে আবিষ্কার করলাম কাজি অফিসে। আমার সাথে লজ্জায় জড়সড় হয়ে থাকা পুচকি একটা মেয়ে। যেই মেয়েটাকে আমি ভয়ংকর রকম ভালবাসি। বিয়ে যে হয়েছে এটা কেও জানেনা এখনো। আমি চাকরী পেলেই ওর বাবার সামনে দাঁড়িয়ে বলব যে আব্বু, এতদিন আমার বউটা আপনার কাছে ছিল,আজকে আমি নিতে আসছি! আবার ভাইব্রেশন। “হ্যালো!” - কই? ওঠনাই? নামাজ পড়নাই? - হুম, পড়সি তো! - কি কর? - শুয়ে আছি এখন ছাদে। - রাতে ঘুমাও নাই? - নাহ! তোমার সাথে কথা বলার জন্য যে ছাদে আসছিলাম, তখন থেকেই এখানে। আজান হইসে পরে নামাজ পড়ে এসে আবার আসছি। - খুব ভাল করস। এখন বুকে ঠান্ডা বসলে বইলনা যে “পুচকি তুমি চলে আস। আমার একা একা ভাল লাগেনা। আমার জ্বর।” তুমি কি! জেগে আছ আমাকে বললেও তো পারতা!অদ্ভুত! আমার মুখ ভর্তি হাসি। আহ! কয়জনের ভাগ্যে এমন বউ হয়! ৩০৭ নাম্বার রুমের schizophrenic patient রনর প্রতি আমি গভীর এক ধরণের মমতা অনুভব করি। প্রথম যখন তার বন্ধু আমার কাছে তাকে নিয়ে আসে, তখন থেকেই দেখছি ছেলেটা বেশ লাজুক, চুপচাপ। গত এক মাস ধরে সে এই প্রাইভেট মনোরোগ গবেষণাগারে আছে। কোন উন্নতি দেখছি না আমি তার মধ্যে। কেস স্টাডিতে যা জেনেছি তা হল মা নেই,বাবা মা চলে যাওয়ার পরে থেকেও নেই অনেকটা। নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে স্নাতক প্রায় শেষ এখন। খুব একটা মিশতে না পারা ছেলেটা ভয়াবহ এক ধরণের একাকীত্ব থেকে তার ভালবাসার মেয়ে,তার বউ, তার delusion সৃষ্টি করেছে। তার সাথে কথা বলতে গেলেই খুব লাজুক ভঙ্গীতে তার হাতে ধরে রাখা খেলনা মোবাইল টা দেখিয়ে বলে, ম্যাম এক মিনিট। ওর কল। রিসিভ না করলে আবার কান্না করে দেবে। আমার নির্দেশেই ওর হাতে প্লাস্টিকের ফোনটা দেওয়া। চেষ্টা করছি কোনভাবে তাকে সুস্থ করতে। জানি একদিন এই ফোনটাও হয়ত নিয়ে নিতে হবে। ক্লিনিকাল সাইকোলজিতে দক্ষ আমার কোন বন্ধুকে হয়ত বলতে শুনব রনকে শক দিতে হবে। কিভাবে ওই দিনগুলো পার করব ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা! এই অসম্ভব নিঃসঙ্গ ছেলেটাকে আর বলা হয়ে ওঠেনা আমার সে চাইলে আমি তার নাহিদ হতে পারি। আমার রাতগুলো নির্ঘুম চলে যায়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আমি নিজের স্ট্রেস লেভেল বাড়াতে থাকি। কিছুই বলতে পারিনা।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ গল্পের নাম: "কুয়াশার ওপারে কেউ নেই"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now