বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
গ্রিফিনোঃদ্য গার্ডিয়ান অফ ইজিপ্সিয়ান ট্রেজার —পর্বঃ ২ (শেষ পর্ব)
X
গ্রিফিনোঃদ্য গার্ডিয়ান অফ ইজিপ্সিয়ান ট্রেজার
জাকিউল অন্তু
ফ্যান্টাসি
পর্বঃ ২ (শেষ পর্ব)
নিকষ কালো অন্ধকারে নিজের হাত পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছিনা। এটা যে কতবড় অস্বস্তির বিষয় তা বলে বোঝানো যাবে না।
ওদিকে অজানা অচেনা প্রানীটার পায়ের থপথপ শব্দ বেড়েই চলেছে। একবারের জন্য মনে হলো আধারে জ্বলতে থাকা দুটো লাল চোখ এগিয়ে আসছে আমার ঠিক সামনে থেকে।
তারপর বিরাট কোন পাখির ডানা ঝাপটানোর আওয়াজ পেলাম আর চোখদুটো ও খানিকটা সরে আমার ডানদিকে চলে গেলো।
আবার ওটার হাটার শব্দ পেলাম।আমি প্রাণীটাকে দেখিনি তবুও ওটার চারটে পা মেঝেতে পড়ামাত্র যে কাঁপন তৈরি হচ্ছে তাতে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ আলাদাভাবে বোঝা যাচ্ছে।
বেশ বুঝতে পারছি চারপেয়ে কোন দৈত্য বৃত্তাকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাকে ঘিরে। পিরামিডের ভেতরটা কিছুক্ষণ পরপর থরথর করে কেঁপে উঠছে । সেইসাথে কেঁপে উঠছি আমিও,খানিকটা ভয়ে আর খানিকটা মেঝের কাঁপুনি তে। একটু পরপর যেন ভূমিকম্প হচ্ছে।
আমি এখনো ঠাহর করে উঠতে পারছিনা কেনই বা আমি সুদূর বাংলাদেশ থেকে এই দেশে এসে পড়েছি আর কেনই বা পিরামিডের ভেতর বন্দী হয়েছি। এটা নিছক ভাগ্যচক্র হতে পারেনা।
একটা অতি সাধারণ ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেকে এইরকম অভাবনীয় আর অস্বাভাবিক বিপদে কে ফেলতে চাইছে?এটা কি কোন ধরনের পরীক্ষা?সেটাই যদি হয় তবে এর শেষ কোথায়?
কোনরকম সতর্কবাণী দেওয়া ছাড়াই আমাকে এই ঝামেলাপূর্ণ পরিবেশে এনে অসহায় ভাবে ছেড়ে দেয়ার একটা উদ্দেশ্য আছে নিশ্চই।
অন্ধকার যে মনের মধ্যে কতটুকু বিতৃষ্ণা,কতটুকু অসহায়ত্ব সৃষ্টি করতে পারে তা এইমূহুর্তে আমিই সবচেয়ে বেশী টের পাচ্ছি।
দিনের আলো আমার কাছে মহামূল্যবান কিছু বলে মনে হচ্ছে। এক চিলতে রোদের জন্য মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠছে।
শুধু অন্ধকার হলে তবুও হয়তো চলতো, কিন্তু যখন অনুভব করতে পারছি যেখানে কারুর থাকার কথা নয় সেরকম নির্জন একটা যায়গায় সম্পূর্ন অদেখা একটা প্রানী আমাকে টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে তখন সময়টাও যেন স্থির হয়ে যায়।
মনে হয় অনন্তকাল ধরে আমি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামীর
মত অপেক্ষা করছি আমার শাস্তির।
প্রাচীনকালে রাজরাজড়াদের আমলে কিছু কিছু অঞ্চলে গুরুতর অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিলো বেশ অমানবিক ।
এই পরিস্থিতে একটা শাস্তির ধরনের কথা বেশ মনে পড়ছে। নিয়মটা ছিলো এইরকম। অপরাধী কে আধুনিক কালের স্টেডিয়ামের মত দেখতে 'কলোসিয়াম' নামক একটা জায়গায় ছেড়ে দেয়া হতো।
তারপর তার সাথে ছেড়ে দেয়া হতো ক্ষুধার্ত সিংহকে। সেই জায়গা থেকে বেরোবার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেয়া হতো, যেন অপরাধী সিংহের নাগালের বাইরে যেতে বা পালাতে না পারে।
ক্ষুধার্ত সিংহ অল্প সময়ের মধ্যেই তার হিংস্রতম রুপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তো অপরাধীর ওপর। বেচারা অপরাধী চরম ভীতি নিয়ে অসহায় অবস্থায় দেখতো তার দেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলো কিভাবে ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে সিংহটা।
অর্ধেক খাওয়া হতেই তাকে খাঁচায় পুরে দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। যেন পরবর্তী অপরাধী কে খাওয়ার ইচ্ছেটা জিইয়ে থাকে।
যাদের দু চারটা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ খাওয়া হতো তারা প্রচুর রক্তক্ষরণ এর ফলে কিছুক্ষনের মধ্যেই মারা পড়তো । মাঝে মাঝে পুরো মানুষটাকেই খেয়ে সাবাড় করতো সিংহ।
কলোসিয়ামের দর্শক সারি তে বসে থাকতেন স্বয়ং রাজা এবং তার প্রজারা। তারা এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে পৈশাচিক আনন্দ লাভ করতেন!
আমি নিজেকে এখন সেই অপরাধীর জায়গায় দেখতে পাচ্ছি । মনে হচ্ছে যে কোন সময় আশেপাশে ঘুরতে থাকা প্রানীর আক্রমণের শিকার হবো আমি। কেউ আমাকে বাঁচাতে আসবে না।আসবে কি করে? কেউ ই তো জানেনা যে আমি এখানে!
আচ্ছা এই প্রাণীটা কি পরিচিত কোন প্রাণী হওয়ার সম্ভাবনা আছে?
আমি আলোর গর্ত আর পিরামিডের ভেতর ঢোকার সময় দুটো প্রাণীর ডাক শুনতে পেয়েছিলাম। একটা ঈগলের চিৎকার আরেকটা সিংহের গর্জন। হতে পারে আমাকে পাহারা দিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুটো প্রাণী ই।
ডানা ঝাপটানোর শব্দটা হয়তো ঈগলের আর পদধ্বনি টা মস্ত বড় কোন সিংহের।
এবার আরেকটা ব্যপার ঘটলো। কাছেই কোথাও মানুষের কথাবার্তা শুনতে পেলাম!তারমানে আমি ছাড়াও অন্য কেউ আছে এই পিরামিডের ভেতরে?
বুকে সাহস ফিরে পেলাম। নিশ্চই প্রত্নতাত্ত্বিকদের কোন দল পিরামিড দেখতে ভেতরে ঢুকেছে।আমি বোধহয় শেষপর্যন্ত বেঁচে যাবো।
হ্যা আমার ধারনাই ঠিক। দেখলাম তিনজনের একটা দল মশাল জ্বালিয়ে আমাকে পাশ কাটিয়ে খুব দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর কি নিয়ে যেন দুর্বোধ্য ভাষায় তর্ক করছে নিজেদের মধ্যে।
মশালের আলোয় যতটুকু বোঝা গেলো তাতে মনে হলো এরা এদেশীয় কেউ নয়। প্রত্যেকের মুখেই চিন্তিত আর ভয়ার্ত ভাব ।খুব গোপনে কোন অপরাধ করতে গেলে অপরাধীর চেহারার যে অভিব্যক্তি থাকে অনেকটা সেরকম।এরা চোর ডাকাত নয়তো?
যেই হোকনা কেন এখন আমাকে বাঁচতে হলে ওদের সাহায্য নিতেই হবে। দরকার হলে পায়ে পড়বো।
কিন্তু লক্ষ্য করলাম আমার উপস্থিতি যেন গ্রাহ্যই করলো না ওরা। নাকি দেখতে পায়নি? আমিতো পথের মাঝেই দাঁড়িয়ে আছি।
আমি প্রানপণে চিৎকার করলাম কিন্তু তাদের কানে সেই আওয়াজ পৌছুলো না। উপায় না দেখে মাতালের মত ছুটলাম তাদের পিছু পিছু।
ওদের কাছে যে আলো ছিলো সেটা সামনের রাস্তাটা মোটামুটি আলোকিত করে রেখেছে। খুব বেশী দূরে যায়নি তাহলে।
সেই আলোর ভরসাতেই ছুটে চলেছি। কিন্তু ওটা যেন মরুভূমির আলেয়ার মতই আমার সাথে একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে এগিয়ে চলেছে। বহু চেষ্টা করেও ওটার নাগাল পাচ্ছিনা।
ছুটতে ছুটতে একটা হলঘরের মত জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বেশ হাপিয়ে গেছি।প্রচণ্ড পানির তেষ্টা পেয়েছে।কিন্তু এখানে পানি পাবো কোথায়?
সামনে তাকিয়ে দেখি ঘরের এক কোনায় একটা গর্তের মত জায়গায় মশালটা গুঁজে রেখেছে লোকগুলো। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখি সারিসারি কফিন সাজানো রয়েছে পুরো ঘরজুড়ে।
এগুলোর ভেতরেই বোধহয় ফারাও রাজাদের মমি করা মৃতদেহ রয়েছে। সেগুলোর একটা কফিনের ঢাকনা খুলে কি যেন পরীক্ষা করছে তিন অভিযাত্রী।
হাতড়ে হাতড়ে দেখছে কফিনের ভেতরে কি আছে। আমি তাদের খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম কিন্তু আগেরবারের মতই আমার অস্তিত্ব কে কেউ পাত্তাই দিলোনা!
কাছে গিয়ে দাঁড়াতে একটা চোখ ধাঁধানো দৃশ্য দেখতে পেলাম! ওরা যে কফিনটা খুলেছে তার ভেতরে মমি নেই তার বদলে আছে মহামূল্যবান সব হীরা, মনি মানিক্য।কিছু সোনার অলঙ্কার আর থালাবাসন ও চোখে পড়লো।
তিনজনেই উল্লাসে ফেটে পড়েছে এত দামী সব জিনিস দেখে। চিৎকার চেঁচামেচি করতে করতে একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে লাফালো কিছুক্ষণ। তারপর পাগলের মত ছুটে গিয়ে প্রত্যেকটা কফিনের ডালা খুলে খুলে দেখতে লাগলো।
হ্যা!সবগুলোতেই বিপুল ধনরত্নের সমাহার। ওদের চোখে লোভ চকচক করছে। দেখলে মনে হয় অনেকদিন পর তাদের অতি আকাঙ্ক্ষিত ধনসম্পদ পেয়েছে তারা। ওদের উল্লাস যখন থামলো ঠিক তখুনি একটা মারাত্মক ঘটনা ঘটলো।
প্রথমে পিরামিডের মেঝে কেঁপে উঠলো। তারপর আগের মতই পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ পেলাম।ওরা তিনজন না বুঝলেও আমি ঠিকই বুঝতে পারলাম সেই অজানা প্রানীটা এদিকেই এগিয়ে আসছে।
অবাক হয়ে দেখি হুট করে ঘরের ভেতর উজ্জ্বল আলো জ্বলে উঠলো।হাজার হাজার মশাল একসাথে জ্বালানো হলে যেমন আলো হয় তেমন। চোখ ঝলসানো আলো বুঝি একেই বলে।
আর সেই আলোতে চোখে পড়লো এমন এক অকল্পনীয় দৃশ্য যা ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। তিন অভিযাত্রীর মাথার খানিকটা ওপরে মস্ত বড় দুটো ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে উড়ছে ভয়ংকর একটা প্রাণী।
ওটা মুখ দিয়ে যে শব্দটা করছে তার সাথে একইসঙ্গে ঈগলের কর্কশ ধ্বনি আর সিংহের গর্জনের মিল আছে। প্রানীটার গর্জন শুনলে ভয়ে কলিজা শুকিয়ে যায়।
ওটার মাথা দেখতে বিকট একটা ঈগলের মাথার মতন! গলা থেকে বাকী শরীর বিশাল সিংহের মতন! শুধু সামনের পায়ের পাতা দুটো ঈগলের পায়ের পাতার মত নখরযুক্ত!
প্রানীটার চোখেমুখে ভয়ানক ক্রোধ দেখতে পেলাম। চোখদুটো যেন আগুনের লেলিহান শিখার মত জ্বলছে।
এবার প্রানীটা তিনজনের একজনকে উড়ে এসে ছোঁ মেরে উপরে তুলে নিয়ে গেলো। তারপর সজোরে আছড়ে ফেললো মেঝেতে। আর্তনাদ করার সময়টুকু পেলো না বেচারা। সাথে সাথে মারা গেলো।
ওর এই অবস্থা দেখে বাকী দুই সঙ্গী ভয়ে যে যেদিকে পারলো ছুটে গেলো। কিন্তু প্রানীটার নাগালের বাইরে যেতে পারলো না। প্রানীটা বিকট একটা চিৎকার দিয়ে প্রথমে একজনের বুক বরাবর ধারালো নখর গেঁথে দিলো। তারপর ঈগলের চঞ্চুর মত চঞ্চু দিয়ে মানুষটার হৃদপিন্ড টা ছিঁড়ে বের করে নিয়ে এলো!
শেষের লোকটা এই দৃশ্য দেখে ভয়েই আধমরা হয়ে গিয়েছিল। সে আর এগুতে পারলোনা। হাতদুটো জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গী তে প্রানীটার সামনে হাটুগেড়ে বসলো।
কিন্তু প্রানীটা ক্ষমার কি বোঝে? তাই ডান পায়ের থাবাটা উঁচিয়ে ধরে একটানে লোকটার মুন্ডুটা ধর থেকে আলাদা করে ফেললো।
তিনজন লোকের মর্মান্তিক এই মৃত্যুর অসহ্য দৃশ্য দেখতে দেখতে আমি নিজেও আমার মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। ওদের পরেই তো আমার পালা। প্রানীটাকে কিভাবে বোঝাবো যে আমি ওদের দলের কেউ নই। ধনসম্পদের লোভে আমি এখানে আসিনি। আমি যে এসবের কিছুই জানতাম না। সবই নিয়তি। আজ আমি নিয়তির চক্রে পড়ে বলি হতে চলেছি।
আমি তখনো জানিনা কি অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটতে চলেছে সামনে।
আমাকে তৃতীয়বারের মত অবাক করে দিয়ে প্রানীটা এগিয়ে এসে আমার সামনে ওর ঈগলের মত মাথাটা ঝুঁকিয়ে দিলো।ওর পেছনে তিন জনের ছিন্নবিচ্ছিন্ন লাশ কোন এক জাদুবলে অদৃশ্য হয়ে গেছে!এক ফোটা রক্ত পর্যন্ত দেখা যাচ্ছেনা!
প্রানীটা এখনো মাথা ঝুঁকিয়ে রেখেছে।ওর এই আচরণ দেখে ভয়টা কর্পূরের মত উবে গেলো। আমার কেন জানি ওর মাথাটা বুলিয়ে দিতে ইচ্ছে হলো খুব। পোষা প্রানীদের মানুষ যেভাবে আদর করে ঠিক সেভাবে।
ওর মাথায় আমার কাঁপা কাঁপা হাতটা রাখতেই বিদ্যুতের একটা ঝলকের মত নিমেষেই বুঝতে পারলাম সবকিছু!
আমার এখানে আসার সমস্ত কারন পানির মতই পরিষ্কার হয়ে গেলো । আমাকে তো একদিন না একদিন আসতেই হতো এখানে। এই পিরামিডের শহরেই তো এককালে বসবাস করতাম আমি।
আমি ছিলাম মিশরের সবচেয়ে কমবয়সী ফারাও রাজা। প্রজাদের সবচেয়ে পছন্দের বালক রাজা। অথচ সামান্য একটা ভুলের কারনে দেবতারা অভিশাপ দিলো আমাকে। অনেক ক্ষমা চেয়েও কোন লাভ হলোনা।
দেবতাদের অভিশাপের প্রকোপে পড়ে মরনব্যাধিতে আক্রান্ত হলাম আমি। রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেছিলাম খুব অল্প বয়সে আর তাই বোধহয় অল্প বয়সেই মরতে হলো।
জীবিত অবস্থায় আমার অগাধ সম্পত্তি মানুষের পাশাপাশি পাহারা দিতো গ্রিফিন নামের এই প্রানীটি। আমি ওকে পোষ মানিয়েছিলাম। আদর করে নাম দিয়েছিলাম গ্রিফিনো।কতবার যে ওর পিঠে চড়ে পুরো মিশর উড়ে উড়ে ঘুরে বেরিয়েছি তার হিসেব নেই।
এতবছর হয়ে গেলো অথচ গ্রিফিনো এখনো আমাকে ভোলেনি। আমার আগের জীবনের স্মৃতিগুলো মনে করিয়ে দেবার জন্যই এখানে নিয়ে এসেছে।
এসে দেখেছি আমাকে মমি করার পর তার সাথে কফিনের পর কফিন ভর্তি করে যে ধনরাশি পিরামিডে রাখা হয়েছিল সব অভিভাবকের মতই আগলে রেখেছে সে।
ঐ তিনজন অভিযাত্রী তো উদাহরণ ছিলো মাত্র। এরকম আরো বহু লুটেরাকে ধ্বংস করে দিয়েছে আমার রাজ্যের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য এই প্রানীটি।
এই অভিশপ্ত বালক রাজা তুতানখামেন কে সবাই ইতিহাসের পাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেললেও ভুলতে পারেনি তার পোষা প্রানী গ্রিফিনো। ভাবতেই গর্বে বুকটা ভরে গেলো।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now