বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ধ্বংস টাওয়ারের নীচে
চ্যাপ্টার- ৭
বাকি অংশ
জেফারসন হাউজ।
দুতলার বিশাল লাউঞ্জে কামাল সুলাইমান, ড. হাইম হাইকেল বসে। তাদের সামনের টি টেবিলে ফ্রান্সের দৈনিক লা-মন্ডে পড়ে আছে। আর তাদের সামনে কয়েকটি টেলিভিশন সেট। বিভিন্ন টিভি স্ক্রীনে বিভিন্ন চ্যানেল। কিন্তু তাদের সামনে তাদের বিষয়টাই ঃ ধ্বংস টাওয়ারের অন্তরাল থেকে সত্য উদ্ধার, ষড়যন্ত্রে মুখোশ উন্মোচন।
সবারই দৃষ্টি টিভি স্ক্রীনের দিকে।
‘কামাল সুলাইমান, এখনও আমার স্বপ্ন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা। এমন কিছু ঘটেছে! ঘটতে পারে! খবরের এমন ভয়াবহ বোমা কোথাও কোন দিন ফাটেনি।’ বলল ড. হাইম হাইকেল।
‘মিথ্যার প্রাসাদ যত বড় ছিল, যত দৃঢ় ছিল, বোমাটি ততখানিই শক্তিশালী হয়েছে। যাতে মিথ্যার প্রাসাদ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।’ কামাল সুলাইমান বলল।
বুমেদীন বিল্লাহ লাউঞ্জে প্রবেশ করল। তার মুখ বিষণœ। একটা সোফায় বসতে বসতে বলল, ‘গত রাতে আহমদ মুসা ভাই যে কোথায় গেলেন, এখনও কিছুই জানালেন না তিনি। এদিকে তার নামে তিনটা ই-মেইল এসেছে।’ থামল বুমেদীন বিল্লাহ।
কামাল সুলাইমান ও ড. হাইম হাইকেল দুজনেরই মুখে নেমে এল দুশ্চিন্তার ছাপ। কামাল সুলাইমান বলল, ‘গত রাতে উনি আজর ওয়াইজম্যানের পিছু নেবার জন্যে বেরিয়েছেন। ব্যাপারটা উদ্বেগেরই বটে। কিন্তু আল্লাহ ভরসা। বর্তমান মিশনের শেষ কাজটি করার জন্যে তিনি বেরিয়েছেন। আল্লাহ তাকে সফল করবেন।’
‘আমিন।’ বলল ড. হাইম হাইকেল এবং বুমেদীন বিল্লাহ দুজনেই।
‘কোত্থেকে ই-মেইল এসেছে? কি ই-মেইল?’ জিজ্ঞাসা ড. হাইম হাইকেলের।
‘তিনটা ই-মেইল এসেছে। একটা মক্কার রাবেতা আলম আল-ইসলামী থেকে। আর অবশিষ্ট দুটি ই-মেইল এসেছে জোসেফাইন ভাবীর কাছ থেকে। এ দুটি ই-মেইলই জরুরি।’ কামাল সুলাইমান বলল।
‘জরুরি বিষয়টা কি? আপনারা পড়েছেন তো?’ বলল ড. হাইম হাইকেল।
‘জি না। ভাইয়ার পার্সোনাল ই-মেইল আমরা দেখি না।’ বলল বুমেদীন বিল্লাহ।
কথা শেষ করেই চিৎকার করে উঠল বুমেদীন বিল্লাহ, ‘ভাইয়া আসছেন।’
সবাই তাকাল। দেখল, আহমদ মুসা সিঁড়ি দিয়ে দুতলায় উঠে আসছে। সিঁড়ি মুখেই কামাল সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহ তাকে জড়িয়ে ধরল।
ড. হাইম হাইকেলও উঠে দাঁড়িয়েছিল। বলল, ‘মোবারকবাদ আহমদ মুসা। মানুষ স্বপ্নেও যা ভাবেনি, তা আজ বাস্তব হলো।’
‘আজকের হিরো তো বিল্লাহ। তার সাংবাদিকতার ‘গোল্ডেন ডে’ আজ।’ বলল আহমদ মুসা।
‘আর এই গোল্ডেন ডে’র মেকার তো আপনি।’ বলল বিল্লাহ প্রতিবাদের সুরে।
‘না। আজকের গোল্ডেন ডে’র মেকার আমাদের স্যার ড. হাইম হাইকেল। তাঁর দেখানো পথে আমরা হেঁটেছি মাত্র।’ আহমদ মুসা বলল।
‘শক্তি, বুদ্ধি কোন কিছুতেই আপনাদের সাথে পারব না। বিনয়েও পারব কি করে? যাক, আজকের দিনের মেকার আমরা কেউ নই, আল্লাহ।’ বলল ড. হাইম হাইকেল।
‘আলহামদুলিল্লাহ।’ সবাই এক সাথে বলে উঠল।
আহমদ মুসা বসতে যাচ্ছিল সোফায়। কামাল সুলাইমান বাধা দিয়ে বলল, ‘ভাইয়া বসবেন না, ভাবীর জরুরি ই-মেইল এসেছে। আগে সেটা দেখুন।’
আহমদ মুসা কোন কথা না বলে ছুটল তার ঘরের দিকে।
আহমদ মুসার মনে তখন নানা কথার ভীড়। কি খবর দিয়েছে ডোনা? সে ভাল আছে তো? গত কদিন ধরে সে একটা খবরের জন্যে উদগ্রীব, সে খবর এল কি?
দ্রুত আহমদ মুসা কম্পিউটার খুলল। ওপেন করল মেইল বক্স।
পরপর দুটি ই-মেইল। পড়ল।
প্রথমটি পড়েই ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলে সিজদায় গেল আহমদ মুসা।
আহমদ মুসার পেছনে কামাল সুলাইমানরাও আহমদ মুসার দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল।
তারা আহমদ মুসাকে সিজদায় যেতে দেখল। সিজদা থেকে উঠলে কামাল সুলাইমান বলল, ‘কি খবর ভাইয়া?’
ঘুরে দাঁড়াল আহমদ মুসা। তার মুখে হাসি, চোখে পানি। বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ। সুখবর। তোমাদের ভাতিজা হয়েছে।’
কামাল সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহ ছুটে গিয়ে আনন্দে জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসাকে। কামাল সুলাইমান বলল, ‘আজ খুশির উপর মহাখুশির সংবাদ। ভাতিজার একটা ভাল নাম চাই ভাইয়া। নিশ্চয় ঠিক করেছেন?’
হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘এ প্রসংগ একটু পরে। তোমার ভাবী দ্বিতীয় ই-মেইলটায় কি লিখেছে পড়ে নেই।’ বলে আহমদ মুসা আবার কম্পিউটারে বসল।
কামাল সুলাইমানরা ঘরের সোফায় গিয়ে বসল।
একটুপর আহমদ মুসা কামাল সুলাইমানদের দিকে ফিরে তাকাল। হেসে বলল, ‘নাম করণে একটু জটিলতা আছে।’ বলে ঘড়ির দিকে তাকাল। বলল, ‘এখন ১২টা বাজতে যাচ্ছে। ঠিক ১২ টা ১ মিনিটে তোমাদের ভাবী ই-মেইলে একটা নাম সাজেষ্ট করবে। আর ঠিক ১২ টা ১ মিনিটে আমিও একটা নাম সাজেষ্ট করব। দুটো নামের মধ্যে লটারি করে একটা নাম ঠিক করা হবে।’
‘ই-মেইল কেন ভাইয়া। টেলিফোনে কথা বলুন।’ বুমেদীন বিল্লাহ বলল।
‘না তা হবে না। কেউ তার নাম আগে বলতে রাজি নয়। কারণ আশংকা হলো, পরে যে বলবে, সে তার নাম আর নাও বলতে পারে।’
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আহমদ মুসা আবার বসল কম্পিউটারে।
রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে কামাল সুলাইমানরা। একটু পরপর ঘড়ি দেখছে।
তাদের অপেক্ষার ইতি ঘটিয়ে আহমদ মুসা ঘুরে বসল তাদের দিকে। তার মুখ ভরা হাসি। বলল, ‘মিরাকল।’
‘মিরাকল! কি ঘটেছে ভাইয়া।’ বলল বুমেদীন বিল্লাহ।
‘মিরাকল মানে, দুপ্রান্ত থেকে দুজনের চয়েস এক। একই সময়ে দুজনের ই-মেইলে একই নাম সাজেষ্ট করা হয়েছে। দুপক্ষের সাজেষ্ট করা সে নাম ‘আহমদ আবদুল্লাহ।’ বলল আহমদ মুসা। ‘আহমদ আবদুল্লাহ?’ বলে দুজনে এক সাথে চিৎকার করে উঠল।
এ সময় ঘরে ঢুকল ড. হাইম হাইকেল। তার হাতে দুটি প্যাকেট।
‘কি ব্যাপার এত চিৎকার কেন? ‘আহমদ আবদুল্লাহ’ কে?’ বলল ড. হাইম হাইকেল।
দুজনে এক সাথে বলে উঠল, ‘আমাদের নবজাত ভাতিজা।’
‘ও! নামকরণ হয়ে গেছে? তাহলে মিষ্টিমুখে তো দেরি করা যায় না?’ বলে ড. হাইম হাইকেল কাগজের প্লেটে একটা খেজুর ও একটা করে মিষ্টি সবাইকে বিতরণ করল। বলল, ‘হতাশ হবার কারণ নেই, এটা উপস্থিত পরে আরও হবে।’
‘নিউইয়র্কে খেজুর কোথায় পাওয়া গেল এ সময়?’ বলল কামাল সুলাইমান।
‘শুধু খেজুর কেন, নিউইয়র্কে গোটা দুনিয়া পাওয়া যায়।’ ড. হাইম হাইকেল বলল।
তারপর পকেট থেকে দুপিস ক্যান্ডি বের করে কামাল সুলাইমান ও বুমেদীন বিল্লাহকে দিয়ে বলল, ‘ভাতিজার জিনিস চাচারা খেতে পারে, বাপকে দেয়া যাবে না।’
হেসে উঠল সবাই।
‘ভাইয়া, রাবেতা থেকে একটা ই-মেইল এসেছিল, ওটা কি দেখেছেন?’ বলল বুমেদীন বিল্লাহ।
‘দেখেছি, কিন্তু পড়িনি। প্রিন্ট নিয়েছি। এদিকের সব কাজ শেষ হলে পড়ব।’ আহমদ মুসা বলল মুখে একটু হাসি টেনে।
‘তার মানে ভাইয়া, নতুন কোন মিশন.........।’ কামাল সুলাইমান বাক্য শেষ না করেই থেমে গেল।
‘থাক এ কথা এখন। বললাম তো ও প্রসংগটা পরে। আমি এখন একটা জরুরি টেলিফোন করব।’ আহমদ মুসা বলল।
‘ঠিক আছে ভাইয়া। আমরা পরে আসছি। ভাবীকে আমাদের সালাম ও মোবারকবাদ, আর আহমদ আবদুল্লাহর জন্যে দোয়া দেবেন।’
ঘর থেকে বেরিয়ে গেল কামাল সুলাইমানরা সকলে।
আহমদ মুসা দরজা ভিড়িয়ে দিয়ে মোবাইলটা হাতে নিতেই রিং হতে লাগল মোবাইলে।
আহমদ মুসা দেখল ডোনা জোসেফাইনের টেলিফোন।
‘আস্সালামু আলাইকুম। মোবারকবাদ জোসেফাইন। কেমন আছ তুমি? কেমন আছ আবদুল্লাহ।’
‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম। আমি ও বাচ্চা ভাল, আলহামদুলিল্লাহ। তোমাকে কনগ্রাচুলেশন।’ ওপ্রান্ত থেকে বলল ডোনা জোসেফাইন।
‘আমাকে মোবারকবাদ কেন? অসীম খুশির এক ভান্ডার তুমি উপহার দিয়েছ, তাই হাজারো মোবারকবাদ তোমার প্রাপ্য।’
‘আমাদের এই খুশি তোমার আমার এবং আমাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের জন্যেই শুধু, কিন্তু তুমি যে আনন্দ সংবাদ সৃষ্টি করেছ, যে আনন্দ সংবাদ আজ ভোর থেকে হাজারো সংবাদপত্র ও হাজারো টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে পৃথিবীর পৃথিবীর ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে। সে আনন্দ শুধু পৃথিবীর দেড়শ কোটি মুসলমানের নয়, পৃথিবীর সব শান্তি ও সুবিচারকামী মানুষের। তোমাকে লাখো মোবারকবাদ দিলেও তা কম হবে।’
‘জোসেফাইন, আমরা এখন আমাদের কথা বলছি। বাইরের কথা থাক না।’
‘ঠিক বলেছ। কিন্তু ঘর বাহির নিয়েই তো আমাদের জীবন এবং আমাদের আনন্দও। জান, আজ রাতে হাসপাতালের বেডে শুয়ে বারবার তোমাকে মোবাইল করেছি, সকালেও। কিন্তু তোমাকে পাইনি। এক সময় অস্থির হয়ে উঠেছিলাম। বুক ভরে গিয়েছিল ক্ষোভে। পরক্ষণেই যখন মনে হলো, শান্তির শয্যা ছেড়ে তুমি কাঁটা বিছানো পথে ঘুরে বেড়াচ্ছ, অবিরাম ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছ তোমার জন্যে নয়, আল্লাহর জন্যে, আল্লাহর বান্দাদের জন্যে, তখন হৃদয়ের সকল ক্ষোভ আনন্দের অশ্রু হয়ে বের হয়ে এল দুচোখ দিয়ে। জান, দুনিয়ার কোন কষ্টই এ আনন্দের চেয় বড় নয়। আমাদের ঘর বাহির আলাদা নয কোনো ভাবেই।’
‘ধন্যবাদ জোসেফাইন। তোমার কাছ থেকে এ শক্তি না পেলে আমি এত কাজ করতে পারতাম না।’
‘গতরাত এবং সকালে তুমি কোথায় ছিলে। মোবাইল সাথে নাওনি কেন?’
‘আমি আজর ওয়াইজম্যানের পিছু নিয়েছিলাম। মোবাইল বন্ধ রেখেছিলাম। সকালে তাকে ধরা গেছে। তাকে ধরার পর আমাদের সাফল্য পূর্ণ হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।’
‘আলহামদুলিল্লাহ। তুমি এখন কোথায়? বাইরে কোথাও, না জেফারসন হাউজে?’
‘জেফারসন হাউজে।’
‘আমাদের সোনামনির খবর সারাকে দিয়েছি। ও এখন ইস্তাম্বুলে।’
‘সারাকে কেমন করে পেলে?’
‘তুমি যখন তার টেলিফোন নাম্বার দিতে পারলে না, তখন ভার্জিনিয়াতে ওঁর আম্মার কাছ থেকে টেলিফোন নাম্বার নিয়েছিলাম।’
‘জোসেফাইন, আবদুল্লাহর কথা যে কিছু বলছ না! বল সে কেমন হয়েছে। আজই ই-মেইলে ওর একটা ছবি পাঠাও!’
‘কেমন আছে বলব না, ছবিও পাঠাব না।’ বলে হেসে উঠল ডোনা জোসেফাইন।
‘আমি তো আসছি। অতএব এই কষ্ট না দিয়ে কিছু বল এবং ছবি পাঠাও।’
‘আমি বলব না। কারণ তার বর্ণনা দেবার মত ভাষা আমার জানা নেই। ছবি পাঠাব না, কারণ ছবি কখনই আসল হয় না।’
‘ধন্যবাদ। তোমার যুক্তি মোক্ষম। দুধের সাধ ঘোলে মিটানো ঠিক নয়। জান্নাত থেকে আসা সোনার টুকরাকে প্রথম সরেজমিনেই স্বাগত জানানো উচিত। আমি আসছি।’
‘তুমি কষ্ট পাচ্ছ। শোন, দুধের সাথে যদি সুন্দর অনুপাতে তরল সোনা মেশাও, তাহলে কেমন রং হবে সেটা সামনে রেখে কল্পনা কর আবদুল্লাহর রং-এর কথা। আর তোমার শিশু চেহারাকে তো তুমি দেখনি, দেখলে বলতাম সে এক শিশু আহমদ মুসা। তবে আব্বা-আম্মা বলেন, ‘ওঁর মুখ আমার মতো, আর চোখ-চুল কপাল তোমার........।’
ডোনা জোসেফাইন কথা শেষ করতে পারল না। তাকে বাধা দিয়ে আহমদ মুসা বলে উঠল, ‘আর বলতে হবে না, আবদুল্লাহর একটি চবি আমি এঁকে ফেলেছি জোসেফাইন।’
‘তোমার মধ্যে এ পরিবর্তন কেন?’ হঠাৎ জিজ্ঞাসা জোসেফাইনের।
‘কি পরিবর্তন?’
‘আমাকে কখনও ‘জোসেফাইন’ ডাকতে না, ‘ডোনা’ বলতে।
‘ডোনার আসন থেকে তুমি এখন অনেক উঁচুতে উঠেছ। পূর্ণ মানুষের এক মহিয়ান-গরিয়ান আসনে এখন তুমি। ছোটবেলার ছোট্ট ডাক নাম ‘ডোনা’র মধ্যে আমার মনে হচ্ছে তোমার এই পরিচয় সার্থক হয়ে উঠছে না। খুব ইচ্ছে করছে তোমাকে ‘জোসেফাইন’ নামে ডাকতে। এই নামেই যেন তুমি আমার কাছে পূর্ণ হয়ে উঠেছো।’ বলল আহমদ মুসা। আবেগে ভারী হয়ে উঠেছে তার কণ্ঠ।
‘ধন্যবাদ।’ বলে একটু থামল জোসেফাইন। তারপর ধীর কণ্ঠে বলল, ‘তুমি অনেক ভাবছ আমাকে নিয়ে। অতদূর থেকে এমন ঘনিষ্ঠভাবে ভাবতে নেই। কষ্ট তাতে বাড়ে। এখন বল ওদিকের কাজ শেষ কিনা? কবে আসছ?’ আবেগ-জড়িত ভারী কণ্ঠ জোসেফাইনেরও।
‘এখানে আমার কাজ শেষ। এখন যা করণীয় তা করবে মার্কিন সরকার। তবে যাওয়ার দিন ঠিক করিনি। সবার সাথে আলোচনা করে দেখি। জানাব তোমাকে। আব্বা আম্মাসহ ওদিকে সবাই কেমন?’
‘ভাল আছেন। জান, মসজিদে নববীর ইমাম সাহেব এসেছিরেন আহমদ আবদুল্লাহকে দেখতে। তিনি কি উপহার দিয়েছেন জান? রূপার ফ্রেমে কাঁচের আধারে রাখা রূপোর প্লেটে খোদিত সোনা বিছানো ইসলামী বিশ্বের একটা মানচিত্র। আহমদ আবদুল্লাহর পাওয়া এটাই প্রথম গিফট।’
‘আলহামদুলিল্লাহ। আব্বার মাধ্যমে ইমাম সাহেবের কাছে আমার সালাম পৌছাবে।’ আহমদ মুসা বলল।
এ সময় দরজায় এসে দাঁড়াল কামাল সুলাইমান। তার হাতে মোবাইল। ইশারায় সে আহমদ মুসাকে জানাল তার টেলিফোন এসেছে। কামাল সুলাইমানের মোবাইলে।
‘জোসেফাইন একটু হোল্ড কর। সম্ভবত আমার টেলিফোন এসেছে। কার টেলিফোন জেনে নেই।’ বলে মোবাইলটা মুখ থেকে নামিয়ে বলল, ‘কার টেলিফোন কামাল সুলাইমান?’
‘এফ.বি.আই প্রধান জর্জ আব্রাহাম জনসন। কয়েকবার আপনার টেলিফোনে চেষ্টা করেছে। না পেয়ে আমাকে টেলিফোন করেছে। কি একটা জরুরি বিষয়।’ বলল কামাল সুলাইমান।
আহমদ মুসা তার মোবাইল তুলে নিল। কিছু বলার জন্যে মুখ খুলেছিল। কিন্তু তার আগেই ওপার থেকে ডোনা জোসেফাইন বলল, ‘শুনেছি আমি, মি. জর্জ আব্রাহাম জনসন তোমার জন্যে টেলিফোনে অপেক্ষা করছে! এখন রাখছি। পরে টেলিফোন করব। আস্সালামু আলাইকুম।’
‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম। ধন্যবাদ জোসেফাইন।’
আহমদ মুসা তাড়াতাড়ি মোবাইলটা রেখে কামাল সুলাইমানের মোবাইল হাতে নিল।
আহমদ মুসার কণ্ঠ ওপার থেকে শুনতে পেয়েই জর্জ আব্রাহাম জনসন আহমদ মুসাকে থামিয়ে দিয়ে বলে উঠল, ‘আসসালামু আলাইকুম। আহমদ মুসা তোমাকে প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে এবং আমার তরফ থেকে মোবারকবাদ। তুমি অসাধ্য সাধন করেছো। তোমার জন্যে আমার গর্ব হচ্ছে আহমদ মুসা।’
‘ধন্যবাদ জনাব।’ বলল আহমদ মুসা।
‘অল্পক্ষণের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নিজে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন টাওয়ার ধ্বংসের প্রসঙ্গ নিয়ে। আর ড. হাইম হাইকেল ও মি. মরিস মরগ্যানের সাথে আমি কথা বলেছি। তারা নিউইয়র্কে আজ একটি সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলতে রাজি হয়েছেন। আমাদের লোকেরা সব ব্যবস্থা করবে। আমরা চাই, তুমি তাদের একটু গাইড করো।’ জর্জ আব্রাহাম জনসন বলল।
‘ধন্যবাদ। খুব ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। ড. হাইকেল এবং মরিস মরগ্যানের সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা খুব জরুরি। আমি ওঁদের সাথে অবশ্যই কথা বলব।’ বলল আহমদ মুসা।
‘ধন্যবাদ আহমদ মুসা। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তোমার জন্যে একটা মেসেজ আছে।’ জর্জ আব্রাহাম জনসন বলল।
‘কি মেসেজ?’
‘তিনি আজ তোমার সাথে কথা বলতে চান। তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনের পর যে কোন সময়ে। বিমান বাহিনীর একটা হেলিকপ্টার তোমাকে নিয়ে আসবে। কখন আসতে পারছ, সময়টা আমাকে দাও।’
‘প্রেসিডেন্ট আমাকে ডেকেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমার গাড়িতে যাব, সামরিক হেলিকপ্টারে নয়। বাদ মাগরিব সাক্ষাতের সময় নির্দিষ্ট করলে ভাল হয়ে জনাব।’
‘হেলিকপ্টারে আপত্তি কেন? দ্রুত আসার জন্যেই এই ব্যবস্থা।’
‘আমি সরকারের কোন মেহমান নই, কিংবা ‘আসামী’ও নই। সরকারি বা সামরিক হেলিকপ্টার আমাকে দেয়া হবে কেন?’ আহমদ মুসা বলল।
‘বুঝেছি তুমি সরকারকে সম্মানিত হবার সুযোগ দিতে চাচ্ছ না। ঠিক আছে, তোমার জন্যে প্রাইভেট হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করছি।’
‘আপনি আপনার বক্তব্যের প্রথম অংশকে যদি সত্যিই ‘মিন’ করে থাকেন, তাহলে সামরিক হেলিকপ্টারেই আমাকে যেতে হবে।’ বলল আহমদ মুসা।
হেসে উঠল জর্জ আব্রাহাম জনসন। বলল, ‘আমি তা ‘মিন’ করিনি আহমদ মুসা। একটু রসিকতা করলাম। তোমার বেসরকারি হেলিকপ্টারে আসাই সব দিক থেকে ভাল হবে।’
‘ধন্যবাদ। তাহলে সময়টা বাদ মাগরিব মানে সাড়ে ছটার দিকে হলেই ভাল হয়।’ আহমদ মুসা বলল।
‘ধন্যবাদ আহমদ মুসা।’ তখনই তোমার সাথে দেখা হচ্ছে ইনশাআল্লাহ। এখনকার মত শেষ করছি। বাই।’
‘ধন্যবাদ জনাব। বাই।’ বলে মোবাইল রেখে দিল আহমদ মুসা।
ড. হাইম হাইকেল এসে দাঁড়িয়েছিল সেখানে।
আহমদ মুসা তাকে বলল, ‘স্যার আপনি ও মরিস মরগ্যানের সাথে আমার কিছু কথা বলা দরকার। আসুন আমরা বসি।’
‘আমিও সেটাই আশা করছি। কিন্তু তুমি উপস্থিত না থাকলে আমাকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন হবে না।’
আমি নিউইয়র্কে থাকলেও আপনার সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে থাকতে পারবো না। তার দরকারও হবে না। যা প্রয়োজন আমরা এখনি আলোচনা করে নিতে পারি।’
বলে আহমদ মুসা এগুলো সোফার দিকে বসার জন্যে। তার সাথে এগুলো সকলেই।
পরবর্তী বই
কালাপানির আন্দামানে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now