বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(পর্ব-১৪)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ।
গাড়ি চালিয়ে সরাসরি বাড়ি গেলো না রবার্তো।
পথিমধ্যে অভি সেজে একটা রেজিস্ট্রি অফিসে যেয়ে তার
আগের বাড়িটা একটা খৃস্টান
চ্যারিটির
নামে রেজিস্ট্রি করে দিলো।
ফলে বাড়ী পৌছাতে সর্বসাকুল্যে প্রায়
পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় লাগলো ওর।
বাড়ী পৌঁছে নিশ্চিন্ত
মনে গাড়িটা গ্যারেজে পার্ক
করলো সে। গ্যারেজ
ছেড়ে বেরিয়ে এসে সোজা বাসার দরজার সামনে এসে দাড়ালো ।কিন্তু বাড়ির ভেতর টা অন্ধকার কেন ? কোন বাতি জলছে না। অনেকক্ষন ধরে ডোর বেল চাপলেও কেউ দরজা খুললো না। নিজের পকেট হাতরে রবার্তো চাবির গোছা টা বের করলো । তারপর মেইন ডোরের চাবিটা খুঁজে বের করে দরজাটা খুলে ভেতরে চলে গেল ।
....................................
প্রায় দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে বাড়ি ফিরলো বাচ্চারা।
এমনভাবে দৌঁড়াচ্ছ যেন পেছনে হিটলারের
ভূত ওদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
বাড়ির কাছাকাছি আসতেই ওরা দৌঁড়
থামিয়ে পা টিপেটিপে এগুতে থাকলো।
মিখাইলঃ "শশশয়তানটা কি আমাদের
বাড়িতে চলে এসেছে?"
লিয়েরোঃ "গ্যারেজে পার্ক করা ঐ
জাগুয়ারটা দেখেও
কি বুঝতে পারছো ও কোথায় আছে?"
সুখাইলঃ "হা, ও এখন বাড়ির
ভেতরেই আছে। দেখো এই মাত্র
দোতলার স্টররুমের
আলোটা জ্বলে উঠলো।"
লিয়েরোঃ "হমহমহমহমহম। ও
তাহলে স্টোররুমেই আছে! চলো ওর
মহাযাত্রার মহায়োজন শুরু করি।"
মিখাইল
বেলচাটা বাগিয়ে ধরে বাড়ির
দিকে হাটা দিতে দিতে বললো,
"হা চলো।" লিয়েরা তাতক্ষণাত
ওকে ঝাঁপটে ধরে থামালো।
লিয়েরোঃ "করছোটা কি? এত্ত
উতলা হলে কি চলে? আমার
কথাটা এখনো শেষ হয়নি। আমার
কথাটা তো আগেই শোন।"
সুখাইলঃ "হা, তুই
কি যেনো বলতেছিলি তাড়াতাড়ি বল।
ওই শয়তানটাকে মারার জন্যে আমার
আর তর সইছে না।" লিয়েরাঃ "শোন,
আমি পা টিপে টিপে ছাদে উঠে বিদ্যুতের
মেইন লাইনটা কেটে দেবো।
মেঝো ভাই নীচতলার ডায়ানিংরুম
থেকে বড় টেবিল
ক্লথটা নিয়ে নিঃশব্দে দোতলায়
উঠে যাবে। আলো নিভে যেতেই
তুমি টেবিল ক্লথ
দিয়ে শয়তানটাকে মুড়িয়ে ফেলবে......"
মিখাইলঃ "আর আমি কি করবো?"
লিয়েরোঃ " উফ! কথার
মাঝে কথা বলোনা তো ভাইয়া।
তোমার হাতের ওই
বেলচাটা দিয়ে কি করা লাগবে তুমি সেটা বুঝ
না? দমাদম ওটার মাথায় কয়েক
ঘা বসিয়ে দিবে। ব্যাস।"
মিখাইলঃ "বাহ! খুব ভালো প্লান
বানিয়েছিস তো দেখছি।"
লিয়েরাঃ "সেটা তোমাকে আর
বলতে হবে না।" চলো এবার
যাওয়া যাক।" বাড়ির প্রধান
ফটকের
সামনে এসে কলিং বেলটা টিপে দিতে যাচ্ছিলো মিখাইল,
লিয়েরা খপ করে ওর হাত
চেপে ধরলো, লিয়েরাঃ "আরে!
করছোটা কি ভাইয়া? পাগল
হয়ে গেলে নাকি?" মিখাইলঃ "ওহ,
সরি, বাড়িতে ঢুকার আগে বেল
টিপতে টিপতে অভ্যেস
হয়ে গেছে যে।" বড়ভাইয়ের
নির্বুদ্ধিতা দেখে মনেমনে হতাশায়
মুষড়ে পড়লো লিয়েরো। এদের
দিয়ে আর যাই হোক এসব খুন
খারাবি হবে না। ওর ষষ্ট ইন্দ্রীয়
বলছে আজকের এই কাজটায় কোথাও
একটা গন্ডগোল বাঁধবেই বাঁধবে।
কিন্তু ভাইয়েদের মনোবল
ভেঙ্গে পড়বে ভেবে ও আর
সেটা প্রকাশ করলো না।
ভায়েদের কাছ
থেকে আলাদা হয়ে ছাদে উঠে যাওয়ার
সময় লিয়েরা ফিসফিসিয়ে তাদের
প্রতি শেষ মুহুর্তের কিছু উপদেশ
দিলো। লিয়েরাঃ " শোন বোকারা,
আমরা জানি শয়তানটা রূপ
বদলাতে পারে। তাই স্টোর
রুমে যেই থাকুক না কেন,
ধরে নিবে ওটাই সেই শয়তানটা।
রুমে যেই থাকুক না কেন তাকে আজ
রাতে মরতেই হবে।
এমনকি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও
যদি ওখানে থাকে তাহলেও ওর
প্রতি কোন দয়া দেখানো যাবে না।
বুঝা গেছে আমার কথা?"
ভাইয়েরা মাথা নেড়ে তার কথায়
সম্মতি জানালো।
লিয়েরাঃ "আরেকটা কথা, কোন শব্দ
করা যাবে না।
কাজটা করতে হবে একদম নিঃশব্দে।
আমি চাইনা ও আমাদের
উপস্থিতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে যাক।
তাছাড়া মরার
আগে শয়তানটা যেনো একটা চিতকারও
করার সুযোগ না পায়
সেদিকে খেয়াল রাখবে।"
ভাইয়েরা সুবোধ বালকের মতো তার
কথা মেনে নিলো। অতপর ভাইয়েদের
সাথে একটা শেষ আলিঙ্গন
সেরে লিয়েরা তরতরিয়ে ছাদে উঠে গেলো।
ছাদে উঠার পর চরম এক অস্বস্তিকর
অনুভুতি মেয়েটাকে গ্রাস
করে নিলো। কেবলই
মনে হচ্ছে কোথায়
যেনো একটা ঘাপলা আছে।
কি একটা ব্যাপার
যেনো সে এড়িয়ে গিয়েছে। ওর হৃদয়
চিতকার করে কাজটা না করার
জন্যে ওকে মানা করছে। কিন্তু এখন
খুব বেশী দেরী হয়ে গেছে। ওর
ভাইয়েরা সম্ভবত
এতক্ষণে স্টোররুমের দরজার
সামনে পজিশন নিয়ে ফেলেছে। এখন
পিছিয়ে আসা মানেই ওর ভাইয়েদের
বিপদে ফেলে দেওয়া। এখন বিদ্যুত
না গেলে একটা সময় ওর
খেপাটে ভাইয়েরা অধৈর্য
হয়ে ভরা আলোতেই বহুরূপীটার উপর
ঝাঁপিয়ে পড়বে।
সেক্ষেত্রে হাতাহাতি যুদ্ধে তাদের
পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
অবশেষে মনটাকে শক্ত করে মেইন
লাইনটা কেটেই দিলো লিয়েরা।
লিয়েরার আশঙ্কাটা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
কাজটা ওরা যতটা কঠিন
ভেবেছিলো তার চেয়েও
সহজে সারা গেছে।
আলো নিভে যেতেই বহুরূপীটা হতদন্ত
হয়ে স্টোররুম
থেকে বেরিয়ে এসেছিলো। সুখাইল
সেই সুযোগে পেছন থেকে টেবিল
ক্লথ দিয়ে তাকে পেঁচিয়ে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়।
অতঃপর ক্ষুদে দৈত্যটা তার
বেলচা দিয়ে একের পর এক
আঘাতে ওর মাথাটা থেঁতলে দেয়।
পিতৃঘাতকের মাথায় সর্বসাকুল্যে মোট
ছাপ্পান্নটা আঘাত হেনেছে মিখাইল। ওটার
মাথাটা এক ইঞ্চির মতো ছোট ছোট
খন্ডে ভাগ হয়ে গেছে।
দেখে বোঝার উপায় নেই
ওটা আদতে দেখতে কেমন ছিলো।
অন্ধকারে টেবিলক্লথে পেঁচিয়ে লাশটাকে অনেক কস্টে কোনমতে নীচতলায়
নামিয়ে আনে ওরা । এমন ভারি একটা লাশ কে বহন করা চাট্টি খানি কথা নয় ।
নিচে অপেক্ষমান লিয়েরার
সাথে ওদের ফের দেখা হয়। আরেক
দফা আলিঙ্গন শেষে ওরা তিনজনই
কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। তবে কান্নার
কারনটা অস্পষ্ট ছিলো।
সেটা কি বাবা হারানোর
বেদনা নাকি অভাবনীয় সাফল্যর
আনন্দ তা ওরা নিজেরাই জানে না।
(চলবে)
( আগামী পর্বে সমাপ্ত )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now