বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২— পর্ব ১৩

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব -১৩) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা লিয়েরার সন্দেহটাই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। খুনে আগুন্তুকটা আর কেউ নয় এটা স্বয়ং ওর বাবা, শেরিফ রবার্তো বরিস। ইনফ্যাক্ট ওটা শেরিফের নকল কার্বণ কপি। ছবি সংগ্রহের পর ঠিক আগের জায়গাতেই ফিরে এলো মেয়েটা। ওকে আসতে দেখেই ভাইয়েরা যেনো হাফ ছেড়ে বাঁচলো। যাক, এবার ওদের পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার উপর আর কোন বাঁধা রইলো না। কিন্তু লিয়েরার তোলা ছবিগুলি দেখতে দেখতে তাদের সেই প্রতিশোধ স্পৃহাটা উবে গেলো। ওদের তিনজনের কেউই বুঝতে পারছেনা কোনটা ওদের আসল বাবা। ওদের বাবা কি একজন মৃত পুলিশ অফিসার নাকি একজন জীবিত আততায়ী? উত্তরটা তাদের কারোরই জানা নেই। নিজের লাশটা বয়ে নিয়ে যেতে যেতে একদম হাপিয়ে উঠে রবার্তো। এত্ত ভারী কেন ও? খেয়ে খেয়ে একদম ষণ্ডামার্কা দেহ বানিয়েছে। পথিমধ্যে একটু থেমে জিরুনো দরকার। বোঝাটা নামিয়ে রেখে তার পাশেই বসে পড়লো রবার্তো। ঠিক তখনই হাতে ক্ষুদে চতুর্ভূজাকৃতির কি একটা যেনো ঠেকলো। একটা ইনফ্রারেড ক্যামেরা। এটা এখানে আসলো কি করে?তবে কি কেউ একজন ওর উপর সত্যিসত্যিই নজর রাখছে? আরো সতর্ক হয় বহুরূপিটা। চট করে ভোল পাল্টিয়ে গেইটের একজন দারোয়ানের বেশ ধরে ও। তবুও আরেকবার চারপাশে সতর্ক নজরদারি চালায়। তবে এবার আর খালি চোখে নয়, ইনফ্রারেড ক্যামেরাটা চোখে লাগিয়ে চারপাশে ঘুরিয়ে আনে। নাহ, সত্যিই ধারে কাছে কেউ নেই। তবুও একজানা টেনশন তার ভেতরটা তোলপাড় করতে থাকে। কাজটা দ্রুত শেষ করে বাড়ি ফেরার জন্যে ভেতরে ভেতরে একটা তাগিদ অনুভব করে। কাজ শেষে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলো রবার্তো। ঠিক তখনই ওকে চমকে দিয়ে পকেটের ফোনটা বেঁজে উঠে। রবার্তোর ছোট মেয়েটা ফোন দিয়েছে। দ্রুত দারোয়ানের বেশ ছেড়ে রবার্তোর চেহারায় ফিরে এলো বহুরূপিটা। রূপান্তরটা ওকে করতেই হতো, নয়তো গলার স্বরের পার্থক্যের জন্যে ধরা পড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিলো। ফোন রিসিভ করতেই একটা মিষ্টি কন্ঠ বললো, "বাবা, কোথায় তুমি? আজ আমার জন্মদিন। তোমায় ছাড়া আজকের দিনটায় আমার কিছুই ভাল লাগছে না।" চোখে মুখে রাজ্যের বিরক্তি নিয়ে রবার্তো বললো, "হা, এই তো আসছি। আরো আধাঘন্টা লাগবে। একটু সবুর করো লক্ষিটি।" এইটুকু বলেই ও ফোনটা কেঁটে দিলো। তারপর দ্রুত গাড়ীতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলো সে। বাচ্চারা চোখেমুখে চরম অবিশ্বাস নিয়ে ইনফ্রারেড ক্যামেরার ডিস্প্লেতে প্রহরীর রুপান্তরের দৃশ্যটা দেখলো। বুদ্ধিটা অবশ্য লিয়েরারই ছিলো। ও ফোন দিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছিলো যে ওদের ওর বাবা সেজে থাকা আগুন্তুক আর এই প্রহরীর মাঝে কোন না কোন জোগসুত্র আছে, নইলে ওরা একই পোশাক পড়ে থাকতো না। লিয়েরার অনুমানটাই অবশেষে সঠিক হলো। প্রহরী আর শেরিফ দুজনেই একই ব্যাক্তি। একটা বহুরূপী। "এএএএখন আআআআমরা কি করবো লিয়ো? এই ভুভুভুভুতটাকে কি করে মারবো?" কোনমতে তোতলাতে তোতলাতে কথাগুলি বললো মিখাইল। ওর কথার উত্তর দিতেই যেনো বহুরূপীটা গাড়ীতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট দিলো। তাই দেখে মিখাইল কঁকিয়ে উঠলো, "হায় হায়! চলে যাচ্ছে তো! ওই শালাটাকে থামাও। মারো ওকে।" লিয়েরোঃ "চুপ করো গাঁধার দল। ও যদি সত্যিকারের ভুত হয়ে থাকে তাহলে গোরস্থান হলো ওর প্রকৃত বাড়ি। এখানে ওর সাথে লাগতে যাওয়া মোটেও ঠিক হবে না। কিন্তু আমরা জানি ও এখন কোথায় যাচ্ছে। একটু আগে ও ফোনে কি বলেছে? আধা ঘন্টার ভেতরে বাড়ি ফিরছি। তারমানে ও এখন আমাদের বাড়িতেই যাচ্ছে। ওকে আমরা খুন করবো ঠিকই কিন্তু ওর বাড়িতে নয়, আমাদের বাড়িতে, যেখানে আমাদের এডভান্টেইজই বেশী।" ভিতু মিখাইল চাইছিলো না এই গুরোস্থানে ভুতের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তে। মিখাইলঃ "তুই ঠিকই বলেছিস রে বোন। চল, বাড়ি যাই।" লিয়েরোঃ "আমার এই জন্মদিনের সবচেয়ে শ্রেষ্ট উপহারটা হবে আমার বাবার খুনির মাথাটা। চলো যাই।" শেরিফ গাড়ি চালিয়ে গোরস্থান থেকে বেরিয়ে গেলো। তার খানিক পরেই বাচ্চারাও দেয়াল ডিঙ্গিয়ে ওই মৃত্যুপুরী থেকে বেরিয়ে আসলো। এবার এই শয়তান বহুরূপীটার উপর একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়তে ওরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একটা সম্মেলিত প্রয়াসের মাধ্যমে এবার ওরা শয়তানটাকে নরকে পাঠিয়ে দেবে। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now