বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(পর্ব - ১২)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ।
চিত্রগুলি দেখার পর অনেক্ষণ ধরে কারো মুখেই রা ছিলো না। অবশেষে বেলচা হাতে রাগে গজগজ করতে করতে মিখাইলই প্রথম মুখ খুললো। মিখাইলঃ "কত্ত বড় সাহস! ওই বেটা আমার বাপকে মেরেছে আর আমি বোকার মতো ওর ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে এসেছি! বোকা লিয়েরার বাচ্চা, তুই আমায় আগে বলিসনি কেন? ওই শালাকে আমি এক্ষুনি লাশ বানিয়ে রেখে আসছি। আমার আব্বুটা না জানি কত্ত কষ্ট পেয়ে মরেছে।" সুখাইল হয়তো জীবনে এই প্রথমবারের মতো তার বড় ভাইয়ের কথায় সম্মতি জানালো, সুখাইলঃ "হা, ভাই ঠিকই বলেছে। ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ঐ বেটাকে আমি এক্ষুনি নরকে পাঠিয়ে আসছি।" কিন্তু লিয়েরা এবার ওদের পথ আগলে দাঁড়ালো। লিয়েরাঃ " হায় জোয়ালের গাঁধারা, দয়া করে একটু থামো। ব্যাপারটা মানতে আমারও কষ্ট হচ্ছে যে আমাদের বাবা মৃত। কিন্তু একটা জিনস আমি বুঝতে পারছি না, পঁচা লাশটা যদি বাবার হয়ে থাকে তাহলে আজ সারাদিন কে বাবা সেজে আমাদের ঘরে বসে ছিলো? উফ! একশন নেওয়ার আগে মাথাটা ঠান্ডা করে একটু ভাবতে দাও আমায়। লোকটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে আমি চেহারাটা একবার কাছ থেকে দেখতে চাই।" মিখাইলঃ "ওসব দেখা দেখি পরে হবে। আগে শালার কতগুলা হাড়্গোড় ভেঙ্গে লুলা বানিয়ে দেই। তারপর তোর যত্ত খুশি ওর চেহারা দেখিস, কিচ্ছু বলবো না।" কথা বলতে বলতেই মিকাইল সাই করে বেলচাটা মাথার উপর দিয়ে এক পাঁক ঘুরালো। কথায় আছে পায়লওয়ানদের বুদ্ধি হাটুতে থাকে। মিখাইল এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। লিয়েরা এবার দৃঢ় কন্ঠে বলে, "আমাকে ওর চেহারা দেখতেই হবে, এবং সেটা কোন একশন নেওয়ার আগেই দেখতে হবে। তোমরা দুজন চুপ করে এখানে একটু অপেক্ষা করবে প্লীজ। আমি একদৌড়ে যেয়ে ওর চেহারাটা দেখে আসবো।" সুখাইলঃ "আচ্ছা বাবা। তোর কথাই সই। কিন্তু তোর এই দেখা দেখি হয়ে গেলে আমায় জানাতে ভুলিস নে। আজ যেকোনমূল্যে ঐ বেটাকে এখানে খুন করে রেখে যাবো আমি।" মিখাইলঃ "এই অন্ধকারে ওর চেহারা দেখবি কি করে? এই ধর। আমার টর্চলাইটটা নিয়ে যা।" মিখাইলের এহেন বোকামী দেখে লিয়েরা এক্কেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো। লিয়েরাঃ "আমি বর দেখতে যাচ্ছি বুঝি, যে লাইট নিয়ে যেতে হবে। লাইট জ্বালালে ওই বেটা টের পেয়ে যাবে না? তখন আমাকেও বাবার কাছে পাঠাবে সে।"
মিখাইলঃ "ঠিকই বলেছিস রে বোন। তুই ঐ বেটার পেছনে একা লাগতে গেলে তোর ক্ষতি হতে পারে। তাই আমরাও আসছি তোর সাথে। তাছাড়া তোর চেহারা দেখা হয়ে গেলে ওকে খুন করতে হবে না? তুই তো আর একাএকা অমন নোংরা কাজ করতে পারবি নে।" লিয়েরাঃ "অনেক হয়েছে। আর একটা কথাও না। আমি একাই যাচ্ছি। আমি শুধু যাবো আর আসবো। আসার সময় ইনফ্রারেড ক্যামেরা দিয়ে ওই লোকটার কতগুলি ক্লোজআপ স্নেপ তুলে আনবো। তোমরা গেলে নির্ঘাত ভেজাল বাঁধাবে। দোহাই তোমাদের এখানে দশটা মিনিট চুপ করে বসে থাকো।প্লীজ।" লিয়েরার কন্ঠে আদেশমূলক এমন কিছু ছিলো যা দুই ভাইকে একান্ত বাধ্যগত ছাত্রের মতো তার কথা মেনে চলতে বাধ্য করে। ভাইয়েদের বসিয়ে রেখে পা টিপে টিপে গাড়িটার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে মেয়েটা।
বেলচাটা হারিয়ে বড্ড বেকায়দায় পড়ে গেছে রবার্তো। ওর গাড়িটা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও খুঁড়ার মতো কিছু পেলো না। পাওয়ার কথাও না। একদম ঝকঝকে পিনপিনা নতুন গাড়ি। হাড়কিপটে প্রস্তুতকারকেরা তাদের ব্রান্ড নিউ গাড়ির সাথে বেলচা জাতীয় কোন কিছু ফ্রি দিতে মোটেও ইচ্ছুক নন। তবে কি আজকের কাজটা বাকি পড়ে থাকবে? অগত্যা সে মাথা ঘেঁটে একটা ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া বের করলো রবার্তো। অষ্টবিংশ শতকের প্রথমার্ধের কবরগুলি গভীর করে খনন করা গভীর করে খনন করা এবং চুন-সুরকী দিয়ে চাউনি দেওয়া। এমন পুরাতন দুয়েকটা কবর খুঁজ পেলে কেল্লাফতে। কবরের চুনসুরকীর ছাদে পা দিয়ে দাপিয়ে ছোটখাটো একটা গর্ত করবে তারপর সেই গর্ত দিয়ে একটা একটা করে লাশ গুলি গুঁজে দেবে। কাজ শেষে গর্তটা মাটি দিয়ে ভরাট করে দেবে। এতে একদিকে যেমন তার কবর খোঁড়ার পরিশ্রম বাঁচবে তেমনি মূল্যবান সময়ের ও অপচয় হবে না। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি নিয়ে গোরস্থানের ভেতরে পড়ে থাকলে প্রহরীদের মনে সন্দেহ জাগতে পারে। তাদের দুয়েকজন যদি ভুল করে এদিকটায় এসে পড়ে তাহলে তাকে আরো একটি খুন করতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে আরো একটি লাশকে গুম করতে হবে। তারমানে রাতের ঝামেলাটা আরো একটু বৃদ্ধি পাবে। অন্ধকারে অনেক্ষণ ধরে খুঁজাখুঁজির পর অবশেষে মনপূত একটা কবরের সন্ধান পেলো রবার্তো। অতপর তাতে গর্ত করে অভি আর সোনিয়ার লাশদুটো তাতে গুঁজে দিলো। এবার শুধু রবার্তোর লাশটা এখানে ঢুকাতে পারলেই কাজ সমাপ্ত হবে।
গাড়ি থেকে রবার্তোর লাশটা বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় নকল রবার্তোর বারবার কেন জানি মনে হতে লাগলো কেউ একজন ওর উপর খুব কাছ থেকে নজর রেখে চলেছে। তাই বার দুয়েক থেমে যেয়ে চারপাশটা ভাল করে দেখে নিয়েছে সে। সন্দেহজনক তেমন কিছুই চোখে পড়েনি দেখে ফের হাটা শুরু করেছে।
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now