বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২— পর্ব ১১

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব - ১১) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা ভেতরে ওর বাবার ফুলে ওঠা সপ্তাহখানেকের পঁচা লাশ পড়ে আছে। তাই দেখে নিরব কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটা। কিন্তু দ্রুত সে নিজেকে সামলে নেয়। ভাইয়েদের ভয় পাওয়ার দৃশ্য ফ্রেমবন্দি করার জন্যে গোরোস্থানে আসার সময় সে নিজেও একটা ছোট্ট ইনফ্রারেড ক্যামেরা এনেছিলো। ঝটপট ওটা দিয়ে লাশের ছবি তুলতে থাকে। লাশের বিভতস চেহারার ছবি, গলায় আড়াআড়ি ভাবে বসে যাওয়া ক্ষত চিহ্নের ছবি, লাশের গায়ে নখের আঁচড়, বাটের পেছনে আদ্র মাটিতে বসে যাওয়া আগুন্তুকের পায়ের ছাপ, গাড়ির নাম্বার প্লেট, সহ যাবতীয় প্রমাণাদির ছবি তুলে রাখে সে। গাড়ীর বনেটের উপর আঁকা বিচিত্র নকশাটার একটা ক্লোজআপ ফটো তুলতে যাচ্ছিলো লিয়েরো। ঠিক তখনই খসখস শব্দে একটা বিশাল ছায়ামূর্তি ঝুপ থেকে বেরিয়ে সোজা ওর দিকে ধেয়ে আসে। আতঙ্কে কুঁকড়ে যায় মেয়েটা। ভয়ের আতিশয্যে চোখ বন্ধ করে ফেলে ও। " লিয়েরা, এই লিয়েরা, থ্যাংক্স গড তুই এখানে। আমি ঐ পাশটায় তোকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি। ওখান থেকে চলে আসলি যে?" ভাইয়ের ডাকে চোখ খুলো মেয়েটা। হায় ইশ্বর। ওর দৈত্যাকৃতির বড় ভাইটা অবশেষে ফিরে এসেছে। মিখাইল সত্যিকার অর্থেই অতটা সাহসী ছিলো না। চ্যালেঞ্জে নেমে অল্প কিছুদূর যেয়েই ভয়ের ঠেলায় ফিরে এসেছে। এত্ত অন্ধকারের মাঝে চ্যালেঞ্জে জেতার চেয়ে রণে ভঙ্গ দিয়ে সুস্থ দেহে বাড়ি ফেরাটাই তার কাছে অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে লিয়েরা হয়তো বড়ভাইয়ের এহেন কাপুরষোচিত কাজের জন্যে উপহাস করতো কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। ভাই কে দেখেই দৌঁড়ে যেয়ে দৌত্যটাকে জড়িয়ে ধরলো সে। আমাবস্যার অন্ধকারে সে বুঝতেই পারলো না ওর ভাইয়ের বা হাতে একটা বেলচা ধরা আছে। হঠাতই ঝটকা দিয়ে আলিঙ্গন ছেড়ে দুরে সরে গেলো লিয়েরো। ওর পিঠে ঠান্ডা কি একটার যেনো স্পর্ষ পেয়েছে ও। ওর এহেন আচরণে মিখাইল একদম ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে গেছে। মিখাইলঃ "কি রে, তোর আবার কি হলো। ব্যাথা পেয়েছিস নাকি? অবশ্য আমার মতো এত্ত বড় পায়লোয়ানের বোকে ওমন করে ঝাঁপিয়ে পড়লে ব্যাথা পাওয়াই স্বাভাবিক। হেহেহেহেহ।" লিয়েরো কিন্তু ভাইয়ের রসিকতায় একটুও হাসলো না। কেবল কঠোর গলায় জিজ্ঞেস করলো, "তুমি এই বেলচাটা কোথায় পেয়েছো ভাইয়া, সত্তি করে বলবে কিন্তু, নইলে খুব খারাপ হবে।" মিখাইলঃ "কেন রে, এই তো ঝোপের ওপাশে কুড়িয়ে পেলাম। বড্ড কাজের জিনিস বুঝলি? এটা না পেলে ঘন কাঁটাওয়ালা ঝোপটা আমার সুন্দর মসৃণ চামড়ার একটা দফারফা করে ছাড়তো।" প্রত্যুত্তরে লিয়েরা আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলো, ঠিক তখনই ঝোপ ভেঙ্গে দোড়ঁদাড়ঁ করে একটা পদধ্বনিকে এদিকে এগিয়ে আসতে শোনা গেলো। মিখাইল ধরে নিয়েছিলো ওটা সুখাইলই হবে। হেড়ে গলায় হাক দিলো, "সুখাইল নাকি রে? ছবি টবি পেলে কিছু........" মিখাইলের কথা শেষ হতে না হতেই লিয়েরো ওর মুখ চেপে ধরলো। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। ঝোপের ওপাশে থাকা আগুন্তুক সতর্ক হয়ে গেছে। তিনটে লাশের মধ্যে দুটোকে দুই কাঁধে তুলে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলো রবার্তো। তৃত্বীয় ভারী লাশটা গাড়িতেই ছিলো। ওর উদ্দেশ্য ছিলো প্রথমে হালকা দুটোকে কবরস্থ করে ভারীটায় হাত দিবে। দুহাতে দুটো লাশ থাকায় দাঁতে কামড়ে বেলচাটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। পথিমধ্যে অন্ধকারে হোঁচট খাওয়ায় মুখ থেকে বেলচাটা খসে পড়ে। ও ভেবেছিলো লাশ দুটোকে জায়গামতো নামিয়ে রেখে এসে বেলচাটা খুঁজে বের করবে। কিন্তু পরবর্তীতে শত চেষ্টা করেও বেলচাটা আর খুঁজে পায়নি। অগত্যা সে সিদ্ধান্ত নেয় গাড়িতে এমন কিছু একটা খুঁজে আনবে যে দিয়ে বেলচার মতো মাটি খোঁড়া যায়। বেলচার খুঁজে গাড়ির কাছাকাছি আসতেই কে একজন যেনো ওর ছেলের নাম ধরে হাঁক ছাড়ে। বেলচার খুঁজে একটু অন্যমনষ্ক ছিলো রবার্তো। তাই এত্ত কাছ থেকেও লোকটা কি বলছে তা শুনতে পায় নি। হাক শুনে সে চমকে উঠেছিলো। কিন্তু কন্ঠস্বরটা ওর কাছে কেমন জানি চেনাচেনা মনে হয়েছে। কোথায় যেনো শুনেছে। সবচেয়ে দুশ্চিন্তার ব্যাপার এই যে হাক টা ওর গাড়ির আসেপাশে কোথাও থেকে এসেছে। ধীরে সাপের মতো নিঃশব্দে ঝোপঝাড় এড়িয়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে যায় সে। কিন্তু গাড়ির কাছে যেয়ে কাউকেই আর খুঁজে পায়না। গাড়ির বাটের ডালা তুলে চেক করে লাশটা ঠিকঠাক আছে কি না। তারপর ডালা নামিয়ে আবারো চারপাশে সতর্ক দৃষ্টি বুলায়। নাহ, কাউকেই তো চোখে পড়ছে না। এটা মনের ভুল নাকি? হয়তো গোরস্থানের ভৌতিক পরিবেশে এসে ওর ছোট ছেলের নামটা কোনভাবে ওর মনে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। হয়তো সবই তার মনের ভুল। হাক ডাকের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কাজে মন দেয় রবার্তো। ভাইয়ের হাত ধরে টানতে টানতে পেছন ফিরে দৌড় লাগায় লিয়েরা। হতভম্ব মিখাইল বোনের এই আকর্ষিক আচরণে ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে গেছে। কিছু বুঝে ওটার আগেই সেও দৌড় লাগালো। ওর মাথায় এখন কেবল ভূতের ভয়টাই খেলা করছে। সম্ভবত কোন জিন্দালাশ ওদের পিছু নিয়েছে। ওর বুদ্ধিমান বোনটা ব্যাপারটা হয়তো আগেই আঁচ করতে পেরে ছুট লাগিয়েছে। বিনা প্রতিবাদে সেও বোনের পিছু নিলো। ছুটতে ছুটতে ওরা গোরস্থানের দেয়ালের কাছাকাছি সেই অংশে পৌছে গেলো যেখান থেকে ওরা আজ রাতের মিশনটা শুরু করেছিলো। সুখাইল ওখানে আগে ভাগেই ওখানে পৌঁছে ওদের জন্যে অপেক্ষা করছিলো। ওদের ছুটে আসতে দেখে লাফিয়ে উঠে চিতকার করতে যাচ্ছিলো। "আআআআআআ......" কিন্তু ধাবমান লিয়েরা এবার আর তেমন কোন ভুল হতে দেয় নি। দশ হাত দূর থেকে ভাইয়ের উপর লাফিয়ে পড়ে ওর মুখ চেপে ধরে। গলার ভেতরে আটকে পড়া চিতকারটা গিলে ফেলে সুখাইল। তারপর আস্তে করে বোনের হাতটা মুখ থেকে সরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক গলায় বলে উঠে "আমিই সত্যিকারের সাহসী। এই যে দেখ, ১৭৩৯ সালের একটা কবরফলকের ছবি তুলে এনেছি...... আরে! ক্যামেরা গেলো কোথায়! কি আশ্চর্য।" পরিবারের সবাইকে একসাথে পেয়ে লিয়েরা এবার হাফ ছেড়ে বাঁচলো। লিয়েরাঃ "ওসব ছাঁইপাশ বাদ দাও। আমি তোমাদের কিছু ভয়ঙ্কর জিনিস দেখাতে যদি তোমরা কথা দাও যে ওটা দেখে একটুও চিতকার করবে না।" ভাইয়েরা এটাকে সাহসিকতার আরেকটা পরীক্ষা ভেবে নিশ্চিন্তে কথা দেয়, ওরা চিতকার করবে না। অতপর মেয়েটা কাঁপাকাঁপা হাতে তার কটিদেশে লুকায়িত ক্যামেরাটা বের করে। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৯
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now