বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

বহুরূপী-২— পর্ব ৯

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤ (পর্ব - ৯) লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা। পোল্যান্ডে পুলিশের কাজে ব্যাবহৃত সকল গাড়িরই সরকারি বীমা করা থাকে। সামান্য কিছু কাটাছেঁড়া ছাড়া দুর্ঘটনায় তেমন কোন ক্ষতিই হয়নি রবার্তোর। বিকালের মধ্যেই তার জন্যে বরাদ্দকৃত নতুন গাড়িটা এসে হাজির হলো। গাড়িটা পছন্দ হয়েছে ওর। একটা সম্পূর্ণ নতুন কালো জাগুয়ার এফ টাইপ। ওর নিজের গাড়িটা রিকন্ডিশন্ড হয়ে আসার আগ পর্যন্ত এটাই হবে ওর নতুন বাহন। গাড়ির বনেটে মালকাওয়ালারুশ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের মনোগ্রাম আঁকা রয়েছে। রবার্তের এই মনোগ্রামটা একটূও ভাল লাগে নি। তাই সে তাতক্ষণাত ওটা তুলে সেই স্থানে একটা চক্র আঁকলো যার ভেতরে একটা আয়তক্ষেত্র সুস্পষ্ট। অতপর গাড়ির ইঞ্জিনটা চালু করলো। বন্য গর্জন তুলে চালু হলো জাগুয়ার। কিন্তু ইঞ্জিনের শব্দ ছাপিয়ে গেলো মিউজিক প্লেয়ারের কান ফাঁটা ঝংকার। লাফিয়ে আগে বাড়লো গাড়িটা। গন্তব্য ডাক্তারের সেই আলিসান মৃত্যুপুরী। আজ সারাদিন ধরে এই সময়টার অপেক্ষায়ই ছিলো লিয়েরা। গাড়ি হারানোর পর থেকে বাবা সারাদিন বাসায় পড়ে ছিলো। মা ও আজকে সকালের ডিউটিতে যায়নি। বিকাল আড়াইটার দিকে মা বাইক নিয়ে বেরিয়ে যান। তারপর সন্ধ্যা হতেই নতুন গাড়িতে চেপে বাবা ঘর ছাড়েন। আজ রাতে সম্ভবত ওরা একাই থাকছে এই বাড়িতে। তাই রাত বিরাতে গোরস্থানে যাওয়ার পথে বাঁধা দেওয়ারও কেউ থাকছে না। খুশিতে নাচতে ইচ্ছে হচ্ছে লিয়েরার। সন্ধ্যার আধাঁরটা আরেকটু গাঁঢ় হতেই ভাইয়েদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লো সে। মিখাইল ও সুখাইল আজ সাহসিকতার জন্যে লড়বে। ওরা আজ প্রমাণ করে দেবে ভয় বলে কোন শব্দ নেই ওদের অভিধানে। দৃপ্ত মনোবলে লিয়েরার পিছুপিছু ওরা দুজন এগুতে থাকে। ওদের প্রত্যেকের হাতে এখন একটা করে ইনফ্রারেড ক্যামেরা শোভা পাচ্ছে। এসবের আয়োজন কিন্তু লিয়েরার উদ্দোগে। টিফিনের বাঁচানো টাকায় ভাইয়েদের জন্যে ক্যামেরা কিনে এনেছে সে। ও চায় ভাইয়েদের এডভেঞ্চারটা স্মৃতি হয়ে ক্যামেরায় বন্দি থাকুক। গুরুস্থানের সামনে এসে খানিকের জন্যে থমকে দাঁড়ালো ওরা। প্রধান ফটকের সামনে কয়েকজন সশস্ত্র রক্ষিকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ওরা দমবার পাত্র ছিলো না। গুরুস্থানের দেয়াল টপকে ঠিকই ভেতরে ঢুকে পড়লো ওরা। ভেতরে ঢুকে লিয়েরা ভাইয়েদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বায়িত্ব নিলো। মিখাইল এবং শুখাইলকে আলাদা আলাদা ভাবে এই বিশাল কবরস্থানের ভেতরে যেয়ে কবরের প্রস্থর ফলকের চিত্র তুলে আনতে হবে। কিন্তু যেনো তেনো কবর হলে চলবে না। ঊনবিংশ শতক বা তার আগে মারা যাওয়া লোকেদের কবরের প্রস্তর ফলকের ছবি তুলতে হবে। যে যত পুরাতন ফলকের ছবি তুলতে পারবে সেই বিজয়ী নির্বাচিত হবে। ভাইয়েরা তাতক্ষনাত রওয়ানা দিলো। কিন্তু ওরা জানতো না লিয়েরা এখানে একটা দুরদর্শী চাল চেলেছে। লিয়েরা জানে এই কবরস্থান অনেক অনেক দিক আগের তৈরি। তাই কবরস্থানে অনেক অনেক দিন আগের মৃতদেহও সমাধি করা হয়েছে। প্রাথমিক দিকে কবরস্থানটার পরিধী ছোট ছিলো। পরে ক্রমান্নয়ে মুর্দাদের সংখ্যাবৃদ্দির সাপেক্ষে দফায় দফায় এর পরিসীমাও বাড়ানো হয়। তাই পুরাতন কবরগুলি কবরস্থানের গহীন কেন্দ্রের দিকে পড়ে যায়, আর নতুন কবরগুলি অপেক্ষাকৃত পরিধীর দিকে। পুরাতন কবরের ফটো তুলতে হলে ভাইয়েদের গোরস্থানের গহীন থেকে গহীনে যেতে হবে। এতে তাদের ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসার কিংবা পথ হারানোর সম্ভাবনা জামিত্যিক হারে বৃদ্ধি পাবে। লিয়েরা তার ভাইয়েদের সাহসিকতার পরীক্ষা নিতে এই গোরস্থানে ডেকে আনেনি। এর পেছনে তার আরেকটা দুরভীসন্ধী ছিলো। প্রকৃতপক্ষে ওর লক্ষ হলো গোরস্থানের ভেতরে ভাইয়েদের পথ ভুল করিয়ে তাদের সারা রাত সেখানে আটকে রাখা। অতপর সকালে তাদের ভয়ার্ত ভীত সন্ত্রস্ত চেহারার ছবি তুলে প্রমাণ করে দেওয়া যে ওরা দুজনেই ভিতুর ডিম। প্রকৃত সাহসি তো সে নিজেই। লিয়েরা দ্যা মাস্টার মাইন্ড। নিজের প্লানের কথা ভাবতে ভাবতে নিজের অজান্তেই ঠোটের কোনে এক চিলতে শয়তানী হাসি ফুটে লিয়েরার। কিন্তু একটা বন্য গর্জনে তার চিন্তায় চ্ছেদ পড়লো। একটা কালো জাগোয়ার গোরস্থানের গেইটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আরোহী গেইটের দারোয়ানদের সাথে কি যেনো কথা বললো। দারোয়ানরা সসম্মানে পথ ছেড়ে দিয়ে সেলুট ঠুকলো।নীরব গুরুস্থানটার আত্মিক প্রশান্তিকে ছিন্ন করতেই যেনো গাড়িটা হাই ভল্যিউমের রক মিউজিক বাজাতে বাজাতে ভেতরে প্রবেশ করে। খোয়া বিছানো ওয়াকওয়ে ধরে চলতে চলতে এর শেষ প্রান্তে যেয়ে অবশেষে ব্রেক কষে ওটা। গোরস্থানে রক মিউজিক কেমন জানি অসহ্য লাগছিলো লিয়েরার। সে সিদ্ধান্ত নেয় এই রক মিউজিক বাজানোর আপরাধে আরোহীকে এমন ভয় দেখাবে যে লোকটা মরার পরেও গোরস্থানে আসতে ভয় পাবে। শয়তানী উদ্দেশ্য নিয়ে সে গাড়িটাকে ফলো করতে থাকে। রাতের আঁধারে মিশে নিঃশব্দে জাগোয়ারটার দিকে এগিয়ে যায় সে। অনেকদিন পর আজ সন্ধ্যায় অভি তার ঘরে প্রবেশ করে। ইদানিং সে বাহিরে থেকে থেকে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। ঘরে আসতে ওর মনই চায়না। কিন্তু তবুও মনের গহীনে এই ঘরের জন্যে কেমন জানি একটা দুর্বার আকর্ষণ অনুভব করে ও। এই ঘরটার ছোট্ট লীভিংরুমে তার পূনর্জন্মের পর প্রথম এগারোটি বছর কেটেছে। এগারোটি বছর সে একটা ছোট্ট দেহে আবদ্ধ হয়ে ছিলো। ঐ দেহটা এই লীভিং রুমের চেয়েও আয়তনে ছোট্ট ছিলো। কিন্তু এখন সে মুক্ত, কেবল সেই ছোট্ট রুম থেকে নয়, বরং তার সেই ছোট্ট দেহ থেকেও। তবুও কেন জানি আজ শেষবারের মতো সেই ছোট্ট লিভিং রুমে ধ্যানে বসার ইচ্ছে জাগলো তার। দ্রুত বদলে যাচ্ছে অভির দৈহিক গঠন, আকারে আরো ছোট হয়ে যাচ্ছে সে। একসময় সে ছোট্ট জুবায়েরে রূপান্তরিত হলো। দ্বিতীয় জন্মের পর থেকে যতটি রূপ সে গ্রহণ করেছে তার মধ্যে এই জুবায়েরের রূপটাতেই সে সবচেয়ে বেশী সাচ্ছন্দবোধ করেছে। রুপান্তর শেষে লিভিং রোমের মেঝেতে আকা চক্রের মাঝখানে যেয়ে সুবোধ বালকের মতো চোখ বুজে বসে পড়লো জুবায়ের। সে হিসেব মেলাতে চাইছে। নিজের অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মধ্যে একটা সাধারণ যোগসুত্র আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। খানিকক্ষণ পর ধ্যান ছেড়ে উঠে বসলো ও। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলো মাস্টার বেডরুমের দিকে। দরজা খুলতেই পঁচা লাশের তীব্র গন্ধ তার নাকে ঝটকা দিলো। তবুও সে নির্বিকার ভঙ্গিমায় ভেতরে ঢুকে পড়লো। বেডরুমের সুরম্য ডাবল বিছানায় এক সারীতে তিনটে লাশ পড়ে আছে। এর মধ্যে মাঝের লাশটার উপর জুবায়েরের দৃষ্টি আটকে গেলো। এটা ওর বাবার লাশ। (চলবে...)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৫ (শেষ)
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৪
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১৩
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১১
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১০
→ বহুরূপী-২— পর্ব ৮
→ বহুরূপী-২— পর্ব ২
→ বহুরূপী-২— পর্ব ১
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ৩
→ বহুরূপী-২—প্রর্ব ২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now