বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(বহুরূপী-২)
পর্ব - ৮
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা।
মিখাইল বোরিস, সুখাইল বোরিস আর লিয়েরা বোরিস। রবার্তো বরিসের ছেলে মেয়ে। ছেলে দুটো ঠিক বাপের মতো হয়েছে। বাপের মতোই দৈহিক গঠন ওদের। ছয়ফুট লম্বা শক্তিশালী মাংসল দেহ নিয়ে ওরা এক একজন যেনো এক একটা ক্ষুদে দৈত্য। তবে মেয়েটা হয়েছে ওদের মায়ের মতো হয়েছে। দুজনেরই সোনালী চুল, ছেলেদের মতো খাটো করে ছাঁটা। ওদের মা রিভানা যৌবনে অনেকটা টমবয়ের মতো জীবন যাপন করতো। যাবতীয় মেয়েলি জিনিসপত্রেই তার আপত্তি ছিলো। এখনো তার পছন্দের তেমন একটা হের ফের হয়নি। চুলগুলি যথারীতি খাটো করে কাটা থাকে, পরণে জিন্স আর টিশার্ট, মাথায় কাউবয় হ্যাট, মোবিলিটি সল্যুশনের জন্যে পুরুষালী হারলে ডেভিডসন বাইক। দূর থেকে রিভানাকে মেয়ে হিসেবে চেনার কোন উপায়ই থাকে না। রিভানার এই চালচরিত্র যৌবনে তাকে ছেলেদের কাছে আকর্ষণহীন করে তুলেছিলো। ছেলেরা সাধারণত মেয়েলীত্ব বিশিষ্ট নারীদের প্রতিই বেশী আকৃষ্ট হয়, কিন্তু রিভানা ছিলো তার সম্পূর্ণ বিপরীত। ফলে দীর্ঘদিন তাকে একা থাকতে হয়। অবশেষে একদিন রবার্তোর সাথে তার পরিচয় হয়। রবার্তো তখন সবে পুলিশের চাকুরীতে ঢুকেছে। প্রথম দেখাতে রবার্তো তাকে দ্রুত গতিতে বাইক চালানোর জন্যে পঞ্চাশ ইউরো ফাইন করেছিলো। রিভানা রাগে গজগজ করতে করতে ফাইন পরিশোধ করেছিলো। পরদিন রবার্তো ফের রিভানার বাইক আটকায়। তবে এবার ফাইনের জন্যে নয়। ওর হাতে একটা গোলাপফুল ধরিয়ে দিয়ে ছেড়ে দেয় সে। পরদিন ফের বাইক আটকে আরেকটি গোলাপফুল দেয়। এভাবে প্রায় একমাস ধরে ফুল বিনিময়ের পর কোন এক উইকেন্ডে তারা ডেটিং এ যেতে সম্মত হয়। এবং সেদিনই রবার্তো তাকে রুপার আংটি পরিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তার পরের উইকেন্ডে ওরা দুজন বিয়ের পীড়িতে বসে। ওদের দুজনের জীবনদুটো হঠাত করেই একীভূত গেছে। অনেক পুরুষের কাছে বিরক্তিকর হলেও রিভানার পুরুষালি হাবভাব রবার্তোর কাছে চরম আকর্ষনীয় মনে হতো। কেবল এর জন্যেই সে মেয়েটার প্রেমে পড়েছে। এজন্যেই রিভিনাকে পাগলের মতো ভালবাসে সে এবং মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত ভাল বেসে গেছে। রিভানার ছোট মেয়ে আদতে হুবহু মায়ের মতো হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই সে চুল ছোট রাখতে পছন্দ করে। ছেলেদের মতো নিয়মিত জীমে যায়, বিশাল ডিয়াল বিশিষ্ট পুরুষালী হাতঘড়ি পড়ে, মেয়েলী স্কার্ট-টপ জাতীয় পোশাকগুলি দুচোখে দেখতে পারে না সে। এক কথায় তাদের ছেলে মেয়েগুলি যাবতীয় ফিজক্যাল ওয়েলবিইং সহকারে বেড়ে উঠেছে। বাচ্চাদের মধ্যে বড় ছেলেটা একটু হাবাগোবা টাইপের। দৈত্যদের বুদ্ধিসুদ্ধি বরাবরই একটু কম থাকে, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। মেঝো ছেলেটা অবশ্য ভালই বুদ্ধিমান, এবং পড়াশোনায়ও বেশ মনযোগি। কিন্তু ছোট মেয়েটা বুদ্ধিতে বাপে হুবহু কার্বণকপি। এত্ত বুদ্ধি মেয়েটার তবুও সে এগুলিকে তেমন একটা ভাল কাজে লাগায় না। ওর বুদ্ধিগুলিই ব্যাবহৃত হয় ক্লাসমেইটদের ব্যাগের ভেতরে তেলাপোকা ঢুকিয়ে দেওয়ায়, কিংবা কারো জন্মদিনের কেকের ভেতরে জ্যান্ত গুবরেপোকা ছেড়ে দেওয়া সহ নানান অকাজ কুকাজে। ওর জ্বালায় স্কুলের টিচারেরাও মাঝে মধ্যে অতিষ্ট হয়ে বাড়িতে নালিশ দেয়। কিন্তু এসব একটুও গায়ে মাখেনা লিয়েরা। আপন মনে নিজের শয়তানী বুদ্ধির চর্চা চালিয়ে যায়। পৃথিবীর তাবত শয়তানী কাজেই যেনো তার সামগ্রিক বিনোদন লুকিয়ে আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিনোদন মূলক কাজটা হলো কৌশলে তার দু ভাইয়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে দেওয়া। ওর দৈত্যাকৃতির ভাইয়েরা যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করে তখন সে কেমন জানি একটা বিকৃত আনন্দ পায়। কিন্তু ঝগড়াটা যখন হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয় তখন সে ঠিকই দুই ভাইয়ের মাঝে পড়ে একটা সুষ্ট মিমাংসা করে দেয়। বলতে গেলে দুই ভাইকে আঙ্গুলের ইশারায় নাচায় ও। বেচারারা বুঝতেও পারে না তারা ছোটবোনের দাবার গুটি হিসেবে ব্যাবহৃত হচ্ছে।
এই যেমন ধরা যাক, গতকালের ঝগড়ার কথা। লিয়েরা কৌশলে বড় ভাইয়ের বালিশের নিচে একটা বিশাল মাকর্শা ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর বিছানার ঠিক পাশেই মেঝো ভাইয়ের একটা হাত মোজা ফেলে রেখে এসেছে। অতপর খানিক পরেই বড়ভাইয়ের রুম থেকে ত্রাহি চিতকার শোনা গেলো। মাকড়সা দেখে ভয়ে মিখাইলের জ্ঞান হারানোর দশা। কোনমতে মাকড়সাটাকে বিছানা থেকে ফেলে পায়ের নিচে পিষে মারার পর পরই গ্লাভসটা তার চোখে পড়লো। সে ধরেই নিলো এটা সুখাইলের কাজ। সাথে সাথেই দু ভাইয়ের মাঝে শুরু হলো এক প্রলঙ্কারি ঝগড়া। গালাগালি চিতকার চেচাঁমেচি সবই চললো সমান তালে। মিখাইলঃ "তুই আমার বিছানার নিচে এই ধামড়া মাকড়সাটা রেখেছিলি কেন? এক্ষুনি বল, তুই কেন রেখেছিস। নইলে আজকে তোকে মেরেই ফেলবো।" সুখাইলঃ "তোর সমস্যাটা কি? তোর যাই হয় সবই আমার দোষ! আমার কি ঠেকা পড়েছে যে তোর ওই নোংরা বেডরুমে ঢুকে মাকড়সার চাষ করবো। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী মাকড়সাটাও তো তোর ওই অগোছালো বেডরুমে ঢুকতে লজ্জা পাবে।" মিখাইলঃ "মুখ সামলে কথা বল। এই দেখ, আমার রুমে তোর গ্লাভস পেয়েছি। এটা হাতে পড়ে তুই মাকড়সাটাকে আমার বালিসের নিচে ডুকিয়েছিস। কিন্তু পরে আর ওটা নিয়ে আসতে ভুলে গেছিস। এখন সত্যি করে বল কেন এমনটা করেছিস। জলদি বল, নয়তো আজ তোর একদিন কি আমার যত দিন লাগে লাগবে।" সুখাইলঃ "হেহ, সামান্য একটা মাকড়সা দেখে যে ছেলেটা ভয়ে মুর্ছা যায় তার মুখে এসব বড়বড় কথা খাতে না। চুপ কর ভিতুর ডিম।" মিখাইলঃ "কি বললি? আমি ভিতুর ডিম! তবে রে, দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা ..............." রাগে অন্ধ হয়ে ছোট ভাইয়ের টুটি চেপে ধরতে যাচ্ছিলো মিখাইল। কিন্তু লিয়েরা ওকে মাঝপথে থামিয়ে দিলো, লিয়েরাঃ "আরে আরে! করছো কি তোমরা! থামো, আমি বলছি থামো। কি? হয়েছেটা কি বলবে তো আমায়?" সুখাইলঃ "আর বলিস না লিয়ো, মাকড়সা দেখে ভয়ে ও বেটা পাগল হয়ে গেছে।" মিখাইলঃ "মিথ্যা কথা, আমি ভয় পাইনি। ওই শয়তানটা আমার বালিশের নিচে একটা পুচকে মাকড়সা ঢুকিয়ে রেখেছিলো, আবার বলে আমি নাকি ভিতুর ডিম। মিখাইল কত্তবড় সাহসী সে ব্যাপারে তোর মতো গর্ধভের কোন ধারনাই নেই।" লিয়েরাঃ "আচ্ছা আচ্ছা, থামো তো একটু। সুখাইলের কথায় যুক্তি আছে।
আমি একটু আগেই তো বড় ভাইয়াকে প্রাণভয়ে চিতকার করতে শুনলাম। একটা সামান্য মাকোড়সা দেখে ও এত্ত জোরে চিতকার করবে সেটা আমি কল্পনাও করিনি।" মিখাইলঃ "কি! তুইও শেষ পর্যন্ত ঐ শয়তানটার পক্ষ নিলি! আমি তো স্রেফ চমকে গিয়ে চিতকার করেছিলাম। ভয় পেয়ে নয়। তোরা চাইলে এক্ষুনি আমার সাহসের পরীক্ষা নিতে পারিস। আমি প্রমাণ করে দেবো মিখাইল কোন কিছু কে ভয় পায় না।" সুখাইলঃ "বড় বড় কথায় তো তোমার একমাত্র সম্বল। আমার দিকে তাকাও, আমি সুখাইল, কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।" লিয়েরাঃ "আচ্ছা, একটু থামো তোমরা। আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা তোমাদের মধ্যে ঠিক কে বেশী সাহসী। তাই দুজনের সাহসের একটা পরীক্ষা হয়ে যাক, কি বলো?" দুই ভাই এক বাক্যে লিয়েরার কথায় সায় দিলো। দুজনেরই সমর্থন পেয়ে লিয়েরা আবার বলতে শুরু করলো, লিয়েরাঃ " দুদিন পরেই তো আমাবস্যার কালো রাত। সেরাতে তোমাদের জন্যে একটা সাহসিকতার পরীক্ষা আয়োজন করলে কেমন হয়? তোমাদের দুজনকে সেরাতে কবরস্থানের গভীরে যেয়ে দুটো করে আদিম কবরের প্রস্থর ফলকের ছবি তুলে আনতে হবে। যে পারবে সেই সবচেয়ে সাহসী হিসেবে বিবেচিত হবে।" দুই ভাইই তার এহেন প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলো। তাদের কেউই বোনের চালাকিটা ধরতে পারলো না।
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now