বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিংকর্তব্যবিমূঢ়
- খালিদ মিঠুন
অনেকক্ষণ ধরেই বিয়ে বাড়িতে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে এক সুন্দর মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে মাহি। যদিও মাহি সাধারণত কোন মেয়ের দিকে এভাবে কোনদিন তাকিয়ে থাকে না, কিন্তু আজ কেন জানি এই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকতে অন্যকরম এক অনভুতি হচ্ছে মাহির। মনে হচ্ছে তাকিয়ে থাকি তো তাকিয়েই থাকি।
মেয়েটাও বারবার মাহির দিকে তাকাচ্ছে। কিন্তু সে চাহনীতে রোমান্টিকতার ছিটেফোঁটাও নেই। বিরক্ত আর রাগের বহিঃপ্রকাশ খুব সুন্দরভাবেই ফুটে উঠছে সে চাহনীতে। মনে মনে হয়তো ভাবছে "এই ছেলেটা এত নির্লজ্জ কেন? এই ছেলের বাসায় কি মা বোন নেই?? হাহাহা!!
মেয়েটা যথেষ্ট রূপবতী। সাধারণত রূপবতী মেয়েদের চোখ বিষন্ন হয়। কিন্তু এই মেয়েটার চোখে বিষন্নতার "ব" ও নেই। আর মেয়েটির যে জিনিসটা মাহির সব থেকে ভাল লাগছে সেটা হচ্ছে মেয়েটার লাস্যময়ী হাসি!! মেয়েটা এত সুন্দর করে হাসে কিভাবে? জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু সেটা তো সম্ভব না, এমনিতেই মেয়েটার ভাবগতি পজিটিভ নাহ!!
মাহি এক ঘন্টা ধরে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছে। মেয়েটা যেখানেই যায় মাহি সেখানে উপস্থিত!!! অবশ্য সেটা একটু নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রেখে। মেয়েটা এতক্ষন মাহির আড়ালে আড়ালে থাকার চেষ্টা করেছে, কিন্তু হঠাৎ করেই মেয়েটা সোজাসুজি মাহির দিকে আসতে লাগলো। ব্যাপারটা কি?
-আচ্ছা!! আপনার সমস্যাটা কি বলেন তো?
-জী!! আমাকে বলছেন? (ইচ্ছা করেই না বোঝার চেষ্টা করে মাহি)
-আপনার আশে পাশে অনেকে থাকলেও কথাটা আমি আপনাকেই বলছি!! কারন আপনিই আমার সমস্যা!!!
-ওহ!! আচ্ছা!! তো কি সমস্যা জানতে পারি?
-আপনি অনেকক্ষন ধরে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন, কেন?
-আপনাকে দেখতে ভাল লাগছে তাই!!
- আজিব!! আপনি তো আচ্ছা নির্লজ্জ টাইপ মানুষ!! আপনি আর আমার দিকে তাকাবেন না!!
-আমি তাকাচ্ছি সেটা আপনি কিভাবে দেখলেন? তারমানে আপনিও আমার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন?
-নাহ!! আমি তাকাবো কেন? আমি তাকাই না!! (একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলে মেয়েটা)
-আপনিও তাকিয়ে ছিলেন আদিবা!! আমি দেখেছি!!
-জী না! আমি তাকাই নি, আর হ্যা আপনি আমার নাম জানলেন কিভাবে?
-চেষ্টা করলে কি না হয় বলেন? চেষ্টা করলে এভারেস্ট জয় ও করা যায়!
-আজিব!! আচ্ছা!! আপনি কোন পক্ষের? পাত্র পক্ষের না পাত্রী পক্ষের?
-কোন পক্ষের না!! রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম, দেখলাম বিয়ে হচ্ছে, অনেক দিন বিয়ে খাওয়া হয় না, তাই বিয়ে খেতে চলে আসলাম!! grin emoticon
-আপনি তো আসলেই একজন নির্লজ্জ মানুষ!! অপরিচিত মানুষের বিয়েতে চলে আসছেন?
-জী!! আমি প্রায়ই এসব করি, বন্ধুরা মিলে বিনা দাওয়াতে অনেক বিয়ে খেয়েছি!! এখানে আমার আরো কয়েকজন বন্ধু আছে!! ওরা বিয়ে খেয়ে চলে গিয়েছে, কিন্তু আমি থেকে গিয়েছি, আপনাকে দেখার জন্য!! আপনি যথেষ্ট রূপবতী!!! আর আপনার হাসিটা অনেক সুন্দর!! সৌন্দর্যের বিচারে অনেকটা লিওনার্দো ভিঞ্চির আঁকা "মোনালিসার" হাসির কাছাকাছি। বিশ্বাস করলে করেন, না করলে নাই!! আর হ্যা এই কথাটা বলার জন্যই আমি এতক্ষণ অপেক্ষা করেছি, অপেক্ষা করা সার্থক হয়েছে, ভাল থাকবেন। আশা করি আমাদের আবার দেখা হবে!!
কথাটা বলেই মাহি হনহন করে বিয়ে বাড়ির গেইটের দিকে হাটা শুরু করলো। মেয়েটা পিছন থেকে মাহিকে ডাকছে,,
-এই!! এই যে!! কোথায় যাচ্ছেন আপনি? আমার কথা বলা শেষ হয়নি তো!! এই যে শুনছেন!! দাড়ান!!
মাহি পিছন দিকে আর তাকালো না!! মনে মনে হাসছে সে। মিশন সাকসেসফুল!!! সে এখানে বিয়ে খেতে আসেনি!! আদিবাকেই দেখতে এসেছিল। বাড়ি থেকে তার বিয়ের জন্য মেয়ে ঠিক করেছে, মেয়ের ছবিও দেখেছিল সে, কিন্তু মাহি তার মাকে বলেছিল মেয়েকে সামনাসামনি না দেখে সে কিছু বলবে না, মেয়ের ফ্যামিলি ও ব্যাপারটা জানে!! তাই আজ মেয়েটিকে দেখতে এসেছিল আর কি!! মেয়েটাকে ভালই ভড়কে দেওয়া গেল!!
মেয়েটিকে তার ভাল লেগেছে!!! মেয়েটা কাল কি অবাকই না হবে যখন সে দেখবে কাল এই ছেলেটাই তাকে বাড়িতে ছেলেপক্ষ হয়ে দেখতে আসবে আর শুনবে আজকের ব্যাপারটা পুরোটাই সাজানো ছিল!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now