বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(পর্ব - ২)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
মারিয়া ভাবে, জুবায়েরের বাপটা ছেলের প্রতি
কত্ত উদাসীন। একটুও যত্ন নেয় না ছেলেটার।
নয়তো এত্ত জ্বর হওয়া সত্বেও
জোবায়েরকে কেন হাসপাতালে নিয়ে গেলো
না? সবার আব্বু যে ওর আব্বুর মতো সারাক্ষণ
সন্তানকে আদর করতে থাকবে তেমন কোন
কথা নেই, তাই বলে অসুখ বিসুখেও ছেলের
দিকে ফিরেও তাকাবে না, তাই কি হয়? আজ আচ্ছা
করে অভিকে বকে দেবে সে। কিন্তু কোথায়
গেলো ওই হতচ্ছাড়া বুড়োটা? জুবায়েরকে ডাকার
নাম করে সেই যে ছেলের রুমে ঢুকেছিলো
আর বেরুয় নি। এটা কেমন বাবা যে, ছেলের
বেডরুমে ঢুকে বসে থাকে! ওর লজ্জা করে
না! অগত্যা ভাবনা চিন্তার জাল ছিড়ে জোরে
হাঁকিয়ে উঠলো মারিয়া, "অভি আংকেল, অভি
আংকেল। এক্ষুনি জুবায়েরকে হাসপাতালে নিয়ে
যাওয়ার ব্যাবস্থা করুন, ওর খুব জ্বর এসেছে।"
কিন্তু ও ঘর থেকে অভির বেরুনোর কোন
লক্ষণই দেখা গেলো না। এবার মারিয়ার কৌতুহল
চরমে উঠলো। এই লোকটা ঠিক কি করছে
জুবায়েরের রুমে! কি এমন কাজ যা এত্ত
মনোযোগ দিয়ে করতে হয় যে, মাত্র দশ হাত
দুরে থেকে কেউ ডাকলেও প্রত্যুত্তর দেয়ার
ফুসরত পাওয়া যায় না! এই প্রশ্নের উত্তর না
পেলে আজ রাতে ঘুম আসবে না মারিয়ার। অগত্যা
সে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়লো। জুবায়ের
অবশ্য হাত নেড়ে মাথা ঝাঁকিয়ে তাকে বাঁধা দেওয়ার
যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলো ঠিকই কিন্তু মারিয়া তাতে
ভ্রুক্ষেপ করলো না। ঘরে ঢুকে জুবায়েরকে
পাশ কাটিয়ে সোজা এগিয়ে গেলো সেই রুমের
দিকে। জুবায়ের হতভম্ভ হয়ে অসহায় দৃষ্টিতে তার
গমন পথের দিকে তাকিয়ে রইলো। তার
চোখের সামনেই মেয়েটা দরজা খুলে তার
রুমে সেঁধিয়ে গেলো। এহেন দৃশ্য দেখে
জুবায়ের ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেললো।
চোখ বন্ধ করে সে একটা চেহারা মনে করার
চেষ্টা চালালো। উন্নত গ্রীবা, সুঁচালো নাক,
সোনালী চুল, নীলচে চোখ বিশিষ্ট একজন
মধ্যবয়সী আমেরিকান নারীর চেহারা যার সাথে
মারিয়ার চেহারার অবিকল মিল রয়েছে।
রুমে ঢুকে মারিয়া বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলো।
ভেতরে কেউ নেই। শুন্য রুমটা কেবল খাঁখাঁ
করছে। রুমের মাঝখানে একটা জটিল বৃত্ত যার
ভেতরে একটি আয়তক্ষেত্র আঁকা। সেই
আয়তের চারকোণে চারটে রক্তলাল মোমবাতি
জ্বলছে। কিন্তু সেখানে অভির কোন নাম নিশানাই
নেই। কোথায় যে গেলো বুড়োটা। বাথরুমে
হবে হয়তো। কিন্তু বাথরুমের দরজার খিড়কি তো
বাহিরে থেকেই লাগানো। তাছাড়া ঘরের সবকটা
জানালো ভেতর থেকে বন্ধ করা। কি আশ্চর্য!
অভি কি তাহলে জাদু বলে হাওয়া হয়ে গেলো
নাকি! অভির অবর্তমানে অসুস্থ জুবায়েরকে নিয়ে
কি করবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলো না মারিয়ে।
একা কিভাবে ছেলেটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে
ও। এমতাবস্থায় সম্ভবত ওর ইমার্জেন্সি সার্ভিসে
কল করে সাহায্য চাওয়া উচিত। কিন্তু ওর ফোনটা
তো বাসায় ফেলে এসেছে। কিঙ্গকর্তব্যবিমূর
হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো মারিয়া। কিন্তু একটি পরিচিত
কন্ঠের ডাকে সে বুকে সাহস ফিরে পেলো।
"মারিয়া, মারিয়া কি এই ঘরে এসেছে? রাত বিরাতে
কোথায় যে যায় না মেয়েটা! উফ। ওকে নিয়ে
আর পারি না।" কন্ঠটা শুনেই মারিয়া চিনে ফেললো,
এটা ওর মা, মিস জানেট জোন্স। মারিয়া, "এই যে
আম্মু, আমি ভেতরে। জুবায়ের খুব জ্বর
এসেছে, তুমি কি আমায় একটু সাহায্য করবে ওকে
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে?" জোন্সঃ "হা
রে মা। অবশ্যই। কিন্তু কোথায় জোবায়ের?
ওকে তো দেখছি না।" জোবায়ের নেই
মানে! রুমে ঢুকার আগে মারিয়া ছেলেটাকে
সদর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে
দেখেছিলো। অগত্যা নিজেই সব কিছু খতিয়ে
দেখার জন্যে ঝড়ের বেগে জুবায়েরের রুম
থেকে বেরিয়ে এলো সে। কিন্তু বাপের
মতো জোবায়েরও হাওয়া। দরজার সামনে কেবল
ওর মা দাঁড়িয়ে আছেন। মারিয়া আমতা আমতা করে
কৈফিয়তের সুরে মাকে বললো, "না মা, মানে
আমি ওকে এখানেই দাঁড় করিয়ে রেখে
গিয়েছিলাম। হয়তো বাহিরে কোথাও ঘুরতে
গিয়েছে ও।" মিস জোন্স এবার উপদেশের
সুরে বললেন, জোন্সঃ "ছিঃ মা, কারো
অবর্তমানে তার বাড়িতে প্রবেশ করা মোটেও
ভাল কাজ নয়। চলো এখান থেকে যাওয়া যাক।"
মারিয়াঃ "হা মা। চলো যাই।" আর কোন উচ্চবাচ্চ ছাড়াই
মায়ের হাত ধরে জম্বি মেয়েটা বেরিয়ে এলো
সেই অদ্ভুত দুতালা বাড়ি থেকে। কিন্তু অল্প
সময়ের মধ্যেই মারিয়ার মুখে ফের খই ফুটতে
শুরু করলো। "মারিয়াঃ "জানো মা, অভি আংকেল না
খুব ভালো জাদু জানেন। তিনি মেঝেতে একটা
জাদুর চক্র একে তার মধ্যে বসে হাওয়া হয়ে
যেতে পারেন। কি অদ্ভুত তাই না?" জোন্স
অন্যমনষ্ক হয়ে হাটতে হাটতে মেয়ের কথায়
সায় দিলেন, "হা অদ্ভুত।" মারিয়াঃ "কিন্তু মা, জুবায়ের
না তার বাপের চেয়েও আরো বড় জাদুকর। তার
হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়ার জন্যে এসব চাঁইপাশ চক্রটক্র
লাগে না। সে এমনিতেই হাওয়া হয়ে যেতে
পারে। এমনকি অসুস্থ শরীর নিয়েই সে এই
কাজটা অবলীলায় করতে পারে। এই যেমন ধরো
তুমি আসার আগে সে দরজার পাশেই দাঁড়ানো
ছিলো। কিন্তু তুমি আসতে আসতেই সে হাওয়া।
বেশ মজার ব্যাপার। আমি আজকের এই ঘটনাটা
স্কুলের সবাই কে বলবো। কাল স্কুলের সবার
সামনে জুবায়েরকে ভ্যানিশ হয়ে প্রমাণ করতে
হবে যে সে সত্যিই একজন বড় মাপের জাদুকর।
ওকে আমি এভাবে ছেড়ে দেবো না। বলে
দিলাম। হিহিহিহিহি।" মিস জোন্স কিন্তু মেয়ের সাথে
হাসিতে যোগ দিলেন না। তাকে খুবই গম্ভীর
আর অসন্তুষ্ট দেখাচ্ছিলো। চেহারায় দুশ্চিন্তার
ছাপ সুস্পষ্ট। অগত্যা তিনি চারপাশে একবার সতর্ক
দৃষ্টি বুলিয়ে নিলেন। চাঁদনী রাতের আলোয়
চারপাশে কাউকেই দেখা গেলো না। দেখা যাওয়ার
কথাও নয়। কথার তালে তালে নিরুদ্দেশ হাটতে
হাটতে মা মেয়ে কবে যে পাশ্ববর্তী নির্জন
খৃষ্টান কবরস্থানে ঢুকে পড়েছে সে ব্যাপারে
তার খেয়ালই ছিলো না। আশেপাশে কেউ নেই
দেখে মিস জোন্স মারিয়ার কাঁধে হাত রেখে তার
হাটা থামালেন। মারিয়া থেমে যেয়ে মায়ের মুখের
দিকে তাকালো, মারিয়াঃ "কি ব্যাপার মা? তোমার
শরীর খারাপ করছে নাকি? হঠাত করে তোমায়
এত্ত বিমর্ষ দেখাচ্ছে যে?" প্রত্যুত্তরে মিস
জোন্সের হাত দুটো মারিয়ার কাঁধ ছেড়ে গলায়
চেঁপে বসলো। দুটো দানবীয় হাত ছোট্ট
মেয়েটার গলাটা সজোরে চেঁপে ধরেছে।
সামান্য বাতাসের জন্যে মারিয়ার ফুসফুসটা হাঁসফাঁস
করছে। কিছুক্ষণ হাত-পা ছুঁড়াছুড়ির পর অবশেষে
মারা গেলো মেয়েটা। মৃত্যুর আগ মুহুর্তে তার
চোখ দুটো চরম বিষ্ময় নিয়ে দেখলো ওর
নিজ মায়ের খুনে চেহারাটাকে।
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now