বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
¤¤¤ বহুরূপী-২ ¤¤¤
(পর্ব - ১)
লিখেছেনঃ সানজিদা সুলতানা সুমা
হ্যালুউনের রাত। ৮৭ ড্রীন স্ট্রীট,মালকাওয
়ালারুশে পোল্যান্ড। একটা রক্তাক্ত পিচ্চি মেয়ে পা
টেনে টেনে বহু কষ্টে নিজেকে হাটিয়ে
নিয়ে চলেছে। মাথার চুলগুলি তার উষ্কু খুষ্কু।
পরনের কাপড়ে অযত্নের সুস্পষ্ট ছাপ। নাকে
মুখে প্রচুর রক্ত লেগে আছে ওর। বা হাতে
একটা রক্তাক্ত ঝুড়ি ধরা। একগাঁদা রক্তমাখা নাড়িভুঁড়ি
আছে ওতে। সম্ভবত এসব ওর বাবা মার। কিংবা রাস্তার
কোন নিরিহ পথিকের যে মেয়েটার প্রথম শিকার
হয়েছিলো। হ্যালুউনের চাঁদের আলোয় প্রচন্ড
বিভতষ দেখাচ্ছে মেয়েটাকে। এক নজরে পিলি
চমকিয়ে দেওয়ার মতো। প্রথম দৃষ্টিতে
দেখেই যে কেউ বুঝে নিবে ও একটা জম্বি
শিশু। অল্প বয়সেই নিজের অনাকাঙ্খিত মৃত্যুটা
মেনে নিতে পারছে না সে। তাই তো মৃত্যুর
পরেও জোর করে বেঁচে থাকার এই আপ্রাণ
প্রয়াস। হাঠতে হাঠতে জম্বিটা একটা বিশাল দুতলা বাড়ির
সামনে এসে থামলো। বাড়ির প্রধান ফটক খোলাই
ছিলো। তাই বাড়ির পরিসীমার ভেতরে ঢুকতে তার
মোটেও বেগ পেতে হয় নি। বাড়ির ভেতরে
ঢুকে ও উঠুনের চারপাশটায় একবার ভাল করে
চোখ বুলিয়ে নিলো। উঠুনের কেউ নেই
দেখে অবশেষে বাড়ির সদর দরজার দিকে হাটা
দিলো। ক্ষুদা লেগেছে ওর। প্রচন্ড মৃত্যুক্ষুদা।
এই ক্ষুদাই এখন ওকে পরিচালিত করছে তার
দ্বিতীয় শিকারের দিকে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
হাতড়ে হাতড়ে কলিংবেলটা টিপে দিলো ও।
ভেতরে তেমন কোন সাঁড়া শব্দ নেই। আবার
টিপলো কলিং বেল। পরপর চারবার টিপার পর একটা
পদধ্বনিকে বাড়ির ভেতর থেকে দরজার দিকে
এগিয়ে আসতে শোনা গেলো। তাই শোনে
মেয়েটার মুখে একটা বিভতষ্য হাসি ছড়িয়ে
পড়লো। এবার শুধু দরজা খুললেই হয়। মুহুর্তেই
সে ঝাঁপিয়ে পড়বে তার দ্বিতীয় শিকারের উপর।
সদ্য অবসর প্রাপ্ত পশু চিকিতসক অভি আজ সন্ধ্যায়
একটু যোগব্যাম করতে বসেছিলো। সবে ও
চোখ বন্ধ করে ধ্যানে মন দিয়েছে, ঠিক
তখনই কলিংবেলের কান ফাটানো শব্দ। প্রথম
প্রথম ও দরজা খুলতে চায়নি। আশা করছিলো
আগুন্তুক কেউ নেই ভেবে চলে যাবে। কিন্তু
চার চারটে বেল বাজার পর আর দরজা না খুলে
পারলো না। আগুন্তুক খুবই ছেঁচড়া স্বভাবের
বলেই মনে হচ্ছে। অগত্যা ধ্যান ছেড়ে উঠে
দরজার দিকে হাটা দিলো ও। দরজা খুলতেই
"ভুউউউউউউউউউউউউওও।" একটা পিচ্চি মেয়ে
চিতকার করে তাকে পিলে চমকে দিলো।
সবিষ্ময়ে দুই পা পিছিয়ে এলো সে। কিন্তু দ্রুত
বিষ্ময়ের ঘোর কাটিয়ে মেয়েটাকে চিনে
ফেললো অভি। ও সান্টিনা মারিয়া। ওর ছেলে
জুবায়েরের ক্লাসমেট। কিন্তু মেয়েটার এই কি
দশা হয়েছে! "তুমি ঠিক আছো তো মারিয়া?
তোমার একি হাল হয়েছে!" হতচকিত হয়ে
প্রশ্নটা করলো অভি। একগাল হেসে মিষ্টি
মেয়েটা নাক ফুলিয়ে উত্তর দিলো, " বারে, তুমি
ভুলে গেলে আংকেল আজ হ্যালোউন। আমার
কস্টিউম দেখে খুব ভয় পেয়েছিলে বুঝি? ভয়
তো পাওয়ারই কথা, আমার আম্মু সাজিয়ে দিয়েছে
তো। তুমি জানো, বছর পাঁচেক আগে আমার
আম্মু একজন প্রফেশনাল মেইকাপউমেন ছিলো।
বলিউডের স্পেশাল এফেক্টে কাজ করতো
সে। কিন্তু তারপর একদিন হলো কি, সে আব্বুর
প্রেমে পড়ে গেলো। অতপর কি আর করা,
আমেরিকা থেকে সকল পাঠ চুকিয়ে সোজা
উড়ে এলো এই সুন্দর দেশ পোল্যান্ডে.....
.......... মারিয়া মেয়েটা ছোট্ট হলেও বড়দের
মতো বেশ পাঁকা পাঁকা কথা বলে। বস্তুত ওর কথা
একবার শুরু হলে থামানোই দায় হয়ে উঠে।
শ্রোতার বিরক্তি মেয়েটার কথা বলাকে এতটুকু
বিচলিত করে না। অভি দীর্ঘ সময় ধরে দরজার
সামনে দাঁড়িয়ে মেয়েটার বকবকানি শুনে
যাচ্ছিলো। একটা সময় বিরক্ত হয়েই ধমকের
সুরে ওকে জিজ্ঞাস করলো, অভিঃ"তা হঠাত কি
মনে করে এই তল্লাটে এলে বলতো। রাত
হয়েছে, আমার মনে হয় এবার তোমার বাড়ি ফেরা
দরকার।" মারিয়াঃ "কি যে বলো না আংকেল, আজ
হ্যালুউন না? হ্যালুউনের রাতে এত্ত তাড়াতাড়ি বাড়ি
ফিরলে কি চলে? আজ পাড়ার সকল ঘরে ঘরে
যেয়ে সবাইকে পিলে চমকে দেবো আর
চকলেট চাইবো। খুব মজা হবে তাই না?" অভিঃ "হা,
শুনে তাই মনে হচ্ছে।" মারিয়াঃ "হিহিহিহিহি। কিন্তু
আংকেল, একা একা ঘুরতে আমার একদমই ভাল
লাগে না। আপনার কোন আপত্তি না থাকলে
জুবায়ের ও চলুক না আমার সাথে।" অভিঃ "আচ্ছা,
আমি জুবায়েরকে ডেকে দিচ্ছি। ওর যদি কোন
আপত্তি না থাকে তাহলে আমারও কোন আপত্তি
নেই।" মারিয়াঃ "ঠিক আছে আংকেল, আমি এখানেই
দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি, আপনি বরং জুবায়েরকে
ডেকে দিন।" অভি এতটাই বিরক্ত হয়েছিলো যে
মেয়েটাকে ভেতরে এসে বসার আমন্ত্রনটাও
জানালো না। দরজার সামনে দাঁড় করিয়ে রাখলো।
কিন্তু মেয়েটার দেহে যেনো গন্ডারের
চামড়া। অভির এহেন অসৌজন্যমূলক আচরণ সে
গাঁয়েও মাখলো না। এটা স্পষ্টত যে জুবায়েরের
প্রতি মেয়েটার একটা বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে।
সম্ভবত জুবায়ের কথা বলতে পারেনা বলেই তার
প্রতি ওর এত্ত আকর্ষণ। আসলে মারিয়ার একজন
ভাল শ্রোতা চাই। যে নির্দিধায় তার বকবকানি হজম
করতে পারে। সেই হিসেবে জুবায়েরই ওর
জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত ছেলে। তাই
জুবায়েরের প্রতি ওর এত্ত দুর্বলতা। এসব ভাবতে
ভাবতে জুবায়েরের রুমে প্রবেশ করলো অভি।
ওদিকে দরজার ওপাশ থেকে তার গমন পথের
দিকে উতসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মারিয়া।
কিছুক্ষণ পরেই ও ঘর থেকে জুবায়ের
বেরিয়ে এলো। মারিয়া আশা করেছিলো ও
হয়তো তার এই উদ্ভট সাজ দেখে একইভাবে
চমকে উঠবে। কিন্তু জুবায়েরের চেহারায়
বিষ্ময়ের কোন ছিটেফোটাও ছিলো না।
যেনো সে মেয়েটাকে এই সাজে দেখে
অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তার এই প্রতিক্রিয়ায় মনে
মনে একটু নাখোশ হলো মারিয়া, কিন্তু মুখে
সেই উজ্জল হাসি টেনে বললো, "এই যে
জুবায়ের। হ্যালুউনের এক ভীতিপ্রদ শুভেচ্ছা
তোমার জন্যে।" এইটুকু বলেই সে বালতির
সমস্ত প্লাস্টিকের নাঁড়িভুঁড়িগুলি জুবায়ের মাথায়
ঢেলে দিলো। কিন্তু জুবায়ের তাতেও ভয়
পেলো না। যেনো একটু আগেই সে দেখে
নিয়েছে ঐ বালতিটায় ঠিক কি আছে। কেবল স্মৃত
হেসে মাথা থেকে নাঁড়িভুঁড়ি গুলি ঝেড়ে
ফেললো ও। কিন্তু মেয়েটা খপ করে ওর হাত
ধরে ফেললো। মারিয়াঃ "থাক না। এটাই হোক
তোমার হ্যালুউনের সাজ। বেশ ভয়ঙ্কর
দেখাচ্ছে তোমাকে। চলো বাহিরে থেকে
একটু হাওয়া খেয়ে আসি।" কিন্তু জুবায়ের হাতটা
ছাড়িয়ে নিয়ে প্রবলভাবে মাথা ঝাঁকিয়ে মানা করে
দিলো। আজ ও বাহিরে যাবে না। শরীর ভালো
না। মারিয়া ওর কপালে হাত দিয়ে দেখলো জ্বরে
ছেলেটার গাঁ পুড়ে যাচ্ছে। হায় হায়!
(চলবে...)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now