বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হ্যারি পটার ফ্যানফিকশন
বাকবিক
সালেহ আহমেদ মুবিন
৫ম পর্ব (শেষ পর্ব)
৬
সকালটা দেখেই আন্দাজ করা যায় সারাটা দিন কিভাবে কাটবে। সে হিসেবে সিরিয়াসের আজকের দিনটা জঘন্য কাটবার কথা। এর পিছনের কারন দুটি। প্রথমটা খুব স্বাভাবিকভাবেই ডিটেনশন। দ্বিতীয় ব্যাপারটা হচ্ছে অন্যদের মজার পাত্র হওয়া। মাঝরাতে কোন মেয়ের সাথে ডর্মিটরি ছেড়ে স্কুলের বাইরে ঘোরাঘুরি করে ধরা পড়লে, মানুষ আপনার দিকে কৌতুক দৃষ্টিতেই তাকাবে। করিডর ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় চ্যাং জর্ডান স্বগতোক্তি করল, "তোমার জন্য সমবেদনা, সিরিয়াস। আশা করি পরের ডেটটা দারুণ হবে।"
সিরিয়াস বলতে পারে জর্ডান হাসি আটকানোর প্রাণপণ চেষ্টা করছে। সে প্রতিবাদী কন্ঠে বলে উঠল, "ওটা কোন ডেট ছিল না।"
জবাবে জর্ডান মৃদু হাসল। ছোটদের বোকামী দেখে বড়রা যেরকম হাসি দেয় আরকি। এরকম কথাবার্তা আরো প্রচুর শুনতে হল। সবার মুখেই মেকী সমবেদনা, চেষ্টা করছে রীতিমত মজা নেয়ার। শেষ পর্যন্ত সিরিয়াসের মনে হল এর চেয়ে ফিলচের অধীনে ডিটেনশন বেশি আরামদায়ক। দুঃখজনক হলেও সিরিয়াসের ভাগ্যে তা-ই জুটল। কোন জাদু ব্যবহার না করতে দিয়ে দীর্ঘ তিন ঘন্টা রীতিমত তাকে খাটাল ফিলচ। হগওয়ার্টসে সংরক্ষিত প্রাইজগুলো খুটিয়ে পরিষ্কার করতে হল তাকে। ফিলচের জন্য লিখে দিতে হল গাদাখানেক চিঠি। এর চেয়ে জঘন্য কাজ, মিসেস নরিসের জন্য বিছানা বানিয়ে দিতে হল সিরিয়াসকে। তবে ভাল ব্যাপারটা হচ্ছে ফিলচের ডেস্কে ছাত্রদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা দারুণ কিছু জাদুসামগ্রী পাওয়া গেল। ফিলচের অজান্তে সেগুলো পকেটবন্দী করল সিরিয়াস। লাভ বলতে এটুকুই। ওদিকে র্যাচেলও ডিটেনশন পেয়েছে। তবে তার বিষয়ে খোঁজ নিতে ব্যর্থ হয়েছে সে। কাউকে তার কথা জিজ্ঞেস করলেই সে কৌতুকদৃষ্টিতে তাকাচ্ছে সিরিয়াসের দিকে। খারাপ খবর সত্যিই খুব দ্রুত ছড়ায়।
তবে এত কিছুর মধ্যেও স্বস্তির ব্যাপারটা কাল রাতেই টের পেয়েছে সিরিয়াস। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল খুব বেশি কিছু জানতে পারেন নি। তিনি ভেবেছেন দুইজন আন্ডারএজ জাদুকর শুধু হালকা এ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে স্কুলের বাইরে বেরিয়েছিল। আসল ব্যাপারটা ধরতে পারলে তাদের কপালে এক্সপেলের মত জটিল শাস্তি জোটার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। হাউজ থেকে কোন পয়েন্টও কাটেননি তিনি। আরেকটা ভাল খবর হচ্ছে আজ বিকেলে তার বাবা আসবে স্কুলে। হ্যাগ্রিডের খবর পেয়েই যে সে ছুটে আসছে তা বোঝার জন্য জ্যোতিষি হতে হয় না।
ডিটেনশন আর জঘন্য ক্লাসগুলো করতে করতেই দিনটা কেটে গেল। অবশেষে বিকালে র্যাচেলের সাথে দেখা হল তার। হাতে গাদাখানেক বই নিয়ে করিডর ধরে হেঁটে আসতে দেখা গেল তাকে। মুখে কালিঝুলি মাখা, বিরক্ত দৃষ্টি। সিরিয়াস তাই তাকে আর ডিটেনশন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে সাহস করল না। শুধু চোখ তুলে বলল, "ওয়াও র্যাচেল, তোমাকে দারুণ দেখাচ্ছে।"
র্যাচেল আহত দৃষ্টিতে তাকাল শুধু।
একসাথে তারা গ্রিফিন্ডর কমন রুমের দিকে এগিয়ে গেল। ভাগ্য ভাল করিডরে তেমন কারো সাথে দেখা হল না। সবাই হয়তো কমন রুমে নয়তো মাঠে ঘোরাফেরা করছে। কমনরুমে অবশ্য অ্যালবাসের কটুক্তি থেকে বাঁচতে পারল না সিরিয়াস। তবে পাত্তা না দিয়ে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নিল সে। এরপর হ্যাগ্রিডের খোঁজ নেয়ার জন্য রওনা দিল নিষিদ্ধ বনের ধারে। খুব স্বাভাবিকভাবেই পিছু নিল অ্যালবাস আর র্যাচেল।
.
হ্যাগ্রিডের মেজাজ খুব ফুরফুরে। সে উৎফুল্লতার সাথে ব্যস্তভাবে বাগান মেরামত করছে। বাকবিকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার চেষ্টা আরকি। সিরিয়াসকে দেখেই উত্তেজিত হয়ে উঠল বাকবিক। হ্যাগ্রিড হাক ছাড়ল, "সিরিয়াস! দেখে যাও কি অদ্ভুত কান্ড! বাকবিক হঠাৎ করেই একদম সূস্থ্য হয়ে গেছে। পুরো ম্যাজিকের মত!"
র্যাচেল আর সিরিয়াস দৃষ্টি বিনিময় করল। এরপর প্রবল বিস্মিত হবার অভিনয় করতে হল তাদের। অ্যালবাস অবশ্য সত্যিই অবাক হল। হিপোগ্রিফটার চারপাশে ঘুরে খুটিয়ে দেখতে শুরু করল সে।
"হ্যারিকে খবর দিয়েছি", হ্যাগ্রিড বলল, "এই সুন্দর ব্যাপারটা ওর দেখা উচিৎ।"
সিরিয়াস বাকবিকের দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। অ্যালবাস তাকে বশ করার চেষ্টা করছে।
বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। হ্যারিকে কিছুক্ষণের মধ্যেই ছুটে আসতে দেখা গেল। কাজের মাঝখান থেকেই উঠে এসেছে বেচারা। এ সময়টায় চাপ একটু বেশি থাকে।
বাকবিককে দেখে হ্যারির মুখে চওড়া একটা হাসি ফুটে উঠল। সে হিপোগ্রিফটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। এরপর হ্যাগ্রিডকে জিজ্ঞেস করল, "ঘটনা কি?"
"কাল রাতের ঘটনা, হ্যারি", উত্তেজিত স্বরে বলতে শুরু করল হ্যাগ্রিড, "হঠাৎ বাগানে আওয়াজ শুনে বেরিয়ে আসি। বাকবিককে চেক করতে এসে দেখি ও পুরোপুরি সুস্থ্য। বিশ্বাস করতে পারিনি নিজের চোখকে। একদম আজব ঘটনা!"
হ্যারি চট করে তাকাল সিরায়াসের দিকে। সিরিয়াস হঠাৎ করেই বাকবিকের পালকের প্রতি অতি আগ্রহী হয়ে উঠল। হ্যারি দৃষ্টি ফিরিয়ে হ্যাগ্রিডের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করল। "সেটা বড় কোন ব্যাপার না, হ্যাগ্রিড। বাকবিক ভাল হয়ে উঠছে এটাই বড় কথা।"
.
হ্যারির হাতে বেশি সময় নেই। মিনিস্ট্রিতে ফিরে যেতে হবে তার। অ্যালবাসের মাথায় হাত বুলিয়ে কিছু উপদেশ দিয়ে দিল। এরপর সিরিয়াসের কাঁধে হাত রেখে চলে এল কিছুটা সামনে।
"তো সিরিয়াস, সবকিছু ঠিকঠাক? পড়াশোনা চলছ ঠিকমত?"
সিরিয়াস দ্রুত মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
"হ্যাগ্রিড বলল কাল রাতে সে কিসের যেন শব্দ পেয়েছে। এরপরই দেখা গেল সুস্থ্য হয়ে উঠেছে বাকবিক। অদ্ভূত না?"
সিরিয়াস আরো জোরে মাথা নাড়ল।
"আর আসার সময় প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন গত রাতে তুমি নাকি বিছানার বাইরে ছিলে?"
বিব্রত ভঙ্গীতে হাসল সিরিয়াস।
হ্যারি একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলল। এরপর হেসে বলল, "পড়াশোনা করবে ঠিকমত। মাঝেমধ্যে নিয়ম কানুন হালকা মেনে চলার চেষ্টা করবে কেমন?"
"অবশ্যই বাবা।"
হ্যারি গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকাল। "শোন সিরিয়াস, তোমার নাম রাখা হয়ে আমার দেখা সবচেয়ে ভাল মানুষটার নামে। সিরিয়াস ব্ল্যাক। তুমি কি জান বাকবিকের মালিকানা তার ছিল? আমি জানি তুমি তাঁর কোন অসম্মান করবে না।"
মৃদু হাসল সিরিয়াস। ধীরে ধীরে বলল, "চিন্তা করো না বাবা। আমি ভালভাবেই থাকব।"
হ্যারি ভালমত হাসল এবার। "আচ্ছা ঠিকাছে। আমার যাওয়া দরকার এখন। অ্যালবাসকে দেখে রেখো।"
"আচ্ছা বাবা। গুডবাই।" সিরিয়াস বাবাকে বিদায় জানিয়ে হ্যাগ্রিডের বাগানের দিকে ফিরে গেল।
হ্যারি ফিরে চলল ক্যাসেলের দিকে। হঠাৎ কি মনে করে থেমে গেল সে। পিছনে ফিরে ডাক দিল, "র্যাচেল!"
দৌড়ে আসল র্যাচেল। "জ্বি আঙ্কেল হ্যারি?"
"তোমার বাবা তোমাকে আদর জানিয়েছে। পড়াশোনা করতে বলেছে ঠিকঠাকমত।"
"ধন্যবাদ আঙ্কল। বাবাকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করবেন।"
"অবশ্যই। আর শোন র্যাচেল", বিশেষ দৃষ্টিতে তাকাল হ্যারি, "সিরিয়াসকে দেখে রেখো।"
চওড়া হাসল র্রাচেল। "খুশি মনে রাখব আঙ্কেল।"
মৃদু হেসে মাথা নাড়ল হ্যারি। এশ ফিরে চলল ক্যাসেলের দিকে। মিনিস্ট্রিতে যেতে হফে তার। ধীরে ধীরে দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল সে।
র্যাচেল ফিরে আসলে সিরিয়াস আগ্রহী স্বরে জিজ্ঞেস করল, "বাবা কি বলল তোমাকে?"
গম্ভীর স্বরে র্যাচেল বলল, "সেটা তোমার জানবার কোন বিষয় না।"
চোখ কুচকে তাকাল সিরিয়াস।
.
সূর্যটা ঢলে পড়ছে পশ্চিম দিকে। শেষ বিকেলের মায়াবী আলোকরশ্মি হগওয়ার্টস ক্যাসেলে সৃষ্টি করছে সোনালী প্রতিফলন। মাঠে অনেক ছাত্র ছাত্রী ঘোরাফেরা করছে। কেউ কেউ খেলাধুলা করছে, কেউ আবার চেষ্টা চালাচ্ছে গোপন জাদুচর্চা করার। সিরিয়াস অ্যালবাসের দিকে তাকাল। সে বাকবিকের সাথে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করছে।
"একটা বিষয় খেয়াল করছ, জেমস?" র্যাচেল আচমকা জিজ্ঞেস করল।
সিরিয়াস প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে।
"এল্ডার ওয়ান্ডের বর্তমান বৈধ মালিক হচ্ছ তুমি", র্যাচেল বলল। "উত্তরাধিকার সূত্রে ইনভিসিবিলিটি ক্লোকটাও তোমার। কেবলমাত্র রিসারেকশন স্টোনটা পেলেই তুমি পরিণত হবে মাস্টার অফ ডেথে।"
সিরিয়াস কোন উত্তর দিল না। সূর্যটার দিকে তাকিয়ে রইল। তবে সে সত্যিই ধারণা করেনি যে র্যাচেল ব্যাপারটা খেয়াল করবে। মনে মনে তার প্রশংসা করল সে। মেয়েটা মাথায় সত্যিই বুদ্ধি রাখে। সত্যি বলতে তার মাথায় এখন একটাই চিন্তাঃ রিসারেকশন স্টোন!
সিরিয়াস সামনে তাকাল। অ্যালবাস বাকবিকের কাঁধে চেপে বসেছে। ডানা ঝাপটাল বাকবিক। এরপর লাফিয়ে একদম সিরিয়াসদের উপর দিয়ে উড়াল দিল। আনন্দ চিৎকার দিয়ে উঠল হ্যাগ্রিড। সূর্যের রশ্মি বাকবিকের ডানায় পড়ে স্বর্ণের মত চকচক করছে। স্বচ্ছ নীল আকাশের পটভূমিতে তাকে দেখাচ্ছে দেবদূতের মত। সিরিয়াস মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অপূর্ব দৃশ্যটার দিকে।
(সমাপ্ত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now