বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিহিন আর মেঘের ভালোবাসার মিষ্টি খুনসুটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X নিহিন আবার ওর মোবাইলের প্যাটার্ন লকটা খুলে সময় দেখলো । ৩টা ৫০ বাজে । অথচ মেঘের আসার নাম গন্ধ পর্যন্ত নেই । নিহিনের মেজাজ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে ! মেজাজ খারাপের প্রধান কারন হচ্ছে ওর পেটের ভিতর বিড়ালের বাচ্চা দৌড়াদৌড়ি করছে সেই কখন থেকে ! সকাল থেকে কিছুই পেটে পড়ে নি । একটা ক্ল্যাস টেস্টের পরেই একটানা তিন ঘন্টা ধরে প্রাকটিক্যাল ক্লাস করতে হয়েছে ! কিছু মুখে নেওয়ার সুযোগ হয় নাই ! এখন বসে আছে কিছু খাবে বলে ! . ঝামেলা টা সেখানেই ! নিহিনের ইচ্ছা ছিল ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন থেকেই খেয়ে বের হবে ! কিন্তু মেঘের কারনে সেটা হয় নাই । ক্লাস থেকে বের হয়ে যখন ক্যন্টিনের দিকে যাবে তখনই মেঘ ওর সামনে এসে দাড়ালো ! . -কোথায় যাচ্ছিস ? -ক্ষুধা লেগেছে । -আমারও লেগেছে । -তাহলে চল ! এক সাথে খাই ! -উহু ! এখানে না । চল তোকে জব্বার মামার সেপ্শাল বিরিয়ানী খাইয়ে নিয়ে আসি ! . নিহিন একটু ভাবলো ! তারপর বলল -না থাক ! এখন ভাল লাগছে না ! প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছে । এখন আর কোথাও যেতে ভাল লাগছে না ! -আহা ! চল না ! পাঁচ মিনিটের পথ ! প্লিজ ! তুই গিয়ে কদম তলায় বস ! আমি গিয়ে নিয়ে আসবো ! চল না ! প্লিজ ! . নিহিনের যদিও ইচ্ছা ছিল না ! তবুও মেঘের কথা ফেলতে পারলো না ! নিহিন আবার ঘড়ি দেখলো ! ঠিক বাইশ মিনিট আগে মেঘ ওকে এখানে বসিয়ে রেখে গেছে ! এখনও ফেরার নাম নাই ! যতই সময় যাচ্ছে নিহিনের মেজাজ ততই খারাপ হচ্ছে ! নিহিনেয় রাগ যখন বিরক্তির চরম সীমায় পৌছে গেছে তখন মেঘের দেখা পাওয়া গেল ! . -এতো সময় লাগলো ? মেঘ একটা হাসার চেষ্টা করলো ! নিহিনের তবুও মেজাজটা ঠান্ডা হল না ! . -আসলে তোর সাথে আমার আসাটাই ভুল হয়েছে ! এতোক্ষনে খেয়ে- দেয়ে একটা ঘুম দিতে পারতাম হলে গিয়ে ! তা না ! -আর এতো রাগছিস কেন ? তোকে নিয়ে কি যে করবো না ! জানি না বিয়ের পরে আমার কপালে কি আছে ! -কি বললি ? বিয়ে ? -কেন ? আমাকে বিয়ে করবি না ? -মরে গেলেও না ! -আচ্ছা দেখা যাবে । -হুম । দেখা যাবে । . নিহিনের গলার আওয়াজ একটু নমনীয় হয়ে এল ! যদিও মুখে কিছু বলল না তবুও একটু রাগ পরে এল মেঘের উপর থেকে ! -কোথায় তোর বিরিয়ানী ! . মেঘ বিরিয়ানীর একটা প্যাকেট বের করে দিল ! নিহিন অবাক হয়ে বলল -সেকিরে ! একটা কেন ? তোর টা কই ? -তুই খা ! তোর খিদে লেগেছে না ! আমি পরে খাচ্ছি ! -পরে খাচ্ছি মানে কি ? এখনই বের কর ! -আহা ! আমি খাবো তো ! তুই শুরু কর ! -দেখ ঢং করবি না ! আমার সাথে লাঞ্চ করবি বলে আমাকে নিয়ে এলি আর এখন বলতেছিস পরে খাবি ! . মেঘ চুপ করে রইলো ! -কথা বলছিস না কেন ? -আসলে ? -কি আসলে ? . মেঘ বলল -আরে এভাবে কেন কথা বলছিস ? আমার কাছে টাকা ছিল না ! দোকানে কিনতে গিয়ে দেখি টাকা নাই দুইটা কেনার ! . নিহিন কিছুক্ষন মেঘের দিকে তাকিয়ে রইলো ! মেঘ যেন কিছু লুকাতে চাইছে ! আর মেঘের পকেটে টাকা নাই এটা কেমন যেন শোনালো ! অন্তত নিহিন মেঘকে যতদিন ধরে চেনে মেঘ রুম থেকে বের হওয়ার আগে আর কিছু চেক করুন না করুন নিজের মানিব্যাগ আর মোবাইলটা ঠিকই চেক করে ! সুতরাং টাকা না নিয়ে বের হবে এটা ঠিক বিশ্বাস যোগ্য না । তার উপর ওর কাছে যদি টাকা না থাকতো তাহলে মেঘ কোন দিনই নিহিনকে বিরিয়ানী খাওয়ানোর জন্য এখানে নিয়ে আসতো না ! . -মেঘ ! -হুম ! -আমার দিকে তাকা ! -বল ! -সত্যি করে বল ! কি হয়েছে ! . মেঘ একটু ইত্স্তত করলো ! কিছু একটা বলবে কিন্তু বলতে পারছে না ! -বল বলতেছি ! -আসলে ! আমি বিরিয়ানী আনতে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে একটা মাঝ বয়সী লোক আমাকে ডাক দিলো ! -তারপর ! -লোকটার সাথে আর একটা বুড়ি মত মহিলা ছিল ! মনে হয় লোকটার মা ! এছাড়া লোকটার স্ত্রীও ছিল ! সাথে দুটো বাচ্চা ! -তো ? -লোকটা বলল ওরা নাকি সকালে ঢাকায় এসেছে । খুলনা থেকে বাসে উঠেছিল ! তারপর ওদের পকেট নাকি মার হয়ে গেছে ! এখন আর কারো কাছে কোন টাকা নাই ! সকাল থেকে ওরা না খেয়ে আছে ! -ও বুঝেছি । আর আপনি ওমনি সব টাকা ওদের কে দিয়ে দিয়েছেন ? -সব দেই নি তো ! তোর বিরিয়ানীর টাকাটা রেখে দিয়েছিলাম ! . নিহিন খুব বিরক্ত হল ! -তোর কি বুদ্ধি শুদ্ধি হবে না কোন দিন ? -না দেখ । সত্যি মনে হচ্ছিল ওরা বিপদে পরেছে । -হয়েছে । বুঝলাম ! আমি বুঝতেছি না তোকে নিয়ে আমি কি করবো ! দেখা যাবে তুই চাকরীর বেতন নিয়ে আসছিস ! কেউ তোর কাছে হাত পাতলো ! তখন পুরো টাকাটা তুই দিয়ে দিবি ! . মেঘ একটু হাসার চেষ্টা করলো ! -দাঁত বের করবি না খবরদার ! থাপড়িয়ে সবগুলা ফেলে দেব ! তখন আমি কি করবো ! পুরো মাস আমি চালাবো কিভাবে ? -চালাবি ! তুই চাকরী করবি না ? -তাই না ? আমি চাকরী- বাকরী করতে পারবো না ! আমাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব তোর ! আহা ! বিয়েও করবে আবার বউকে দিয়ে চাকরীও করাবে ! -আচ্ছা ঠিক আছে । এখন আর রাগ করিস না ! আমি এবার থেকে সাবধান থাকবো ! কোন চিন্তা করিস না । এখন একটু খেয়ে নে ! তোর না খিদে লেগেছে ! . নিহিন কিছু বলতে গিয়েও আর বলল না ! প্যাকেট খুলল ! ওর আসলেই বেশ ক্ষুধা লেগেছে ! মেঘ মোবাইল বের করে কি যেন টেপাটেপি শুরু করলো ! . -নে ! -আরে তুই খা ! -ঢং করতে হবে না ! -আরে বাবা ! আমার ওতো খিদে লাগে নি তো ! তুই খা ! -বলেছি না ঢং করতে হবে না ! নে ! . মেঘ নিহিনের হাতের খাবার টুকু মুখে নিল ! একটু খেতে খেতে বলল -বিয়ের পরেও এভাবে খাইয়ে দিবিতো ? -আগে বিয়ে করে নে, তারপর ! -চল ! এখনই তোকে বিয়ে করবো ! -হয়েছে ! নে ! . এভাবেই দুজনের খুনসুঁটি গল্প এগিয়ে চলতে থাকে ! হয় তো সামনে এমন দিন আসেবে তখন নিহিন প্রতিদিন এই ভাবেই মেঘকে নিজের খাবার থেকে খাইয়ে দিবে ! অথবা মেঘকে সামনের দিন গুলোতে একা একাই খেতে হবে ! কে জানে ভাগ্যে কি লেখা আছে !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now