বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে ভালোবাসা অসহায়
সেদিনের আগেও জানতাম না ছেলেটা প্রতিবন্ধী। হাটার সময় এক পা খুড়িয়ে হাটে।. মোটা ফ্রেমের চশমা পড়া ছেলেটার অসহায় মায়াবী এক জোড়া চোখ অনেক কথাই বলতে চাচ্ছে ….
ছেলেটা বসে আছে আমার সামনের চেয়ারটাতেই। ছেলেটার গায়ে সুপারম্যানের স্টিকার লাগানো লাল একটা টি-শার্ট ! থাই জিন্স টা-ও টি-শার্ট টার সাথে দারুন মানিয়েছে।
."ভাইয়া জানেন এই টি-শার্ট টা গতসপ্তাহে আমার প্রিয়ন্তী আমাকে গিফট করেছে,,আমি নিজেকে ল্যাংড়া লুলা ভাবলেও ও বলে আমি নাকি ওর কাছে সুপারম্যান !!
হাহাহা".
কথা গুলো শেষ করতে না করতেই ছেলেটার চোখ দুটো চিকচিক করে ভিজে ওঠে।হয়তো এ এক অতি সুখের অশ্রু ……
আমি মুগ্ধ হয়ে ছেলেটার কথা গুলো শুনছি। যে সময় টুকু ছেলেটার
সাথে থাকলাম,সারাক্ষণ শুধু প্রিয়ন্তীর কথাই বলল ছেলেটা।তাদের দুষ্টু- মিষ্টি ভালোবাসার গভীরে ডুবে গিয়েছিলাম ক্ষনিকের জন্য।
.এমন ভালোবাসা এখনো পৃথিবীতে আছে !!
একটা ছেলেকে একটা মেয়ে কিভাবে এত বেশী ভালো বাসতে পারে আমার গোবর ভর্তি মাথায় তা ঢুকছিলো না।সত্যিই এমন অকৃত্রিম নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা শুনলে অজান্তেই নিজের বুকের ভিতর
লুকানো কষ্টগুলো দূর হয়ে যায়।
.ছেলেটার নাম আহসান। তারসাথে আমার পরিচয় ফেইসবুকেই। অল্পকিছু দিনেই আমরা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম। ছেলেটার প্রায় সব কথাই শেয়ার করতো আমার সাথে।
.একই শহরে পাশাপাশি থাকায় ছেলেটার আবদার মেটাতে দেখা করেছিলাম প্রায় মাস ছয়েক আগে।
.ব্যাক্তিগত কারনে ফেইসবুক থেকে দূরে ছিলাম বেশ কিছুদিন। এ কয়টা দিন কোনো যোগাযোগ ছিলনা ছেলেটার সাথে।.
.আজ অনেকদিন পর ফেইসবুকে ঢুকে ইনবক্সটা চেক করতেই একটা টেক্সট দেখে চোখ আটকে যায় ….."ভাইয়া জানেন আমার প্রিয়ন্তী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে !!
আমি ওকে ধরে রাখতে পারিনি। সপ্তাহ তিনেক আগে আমার বাবা মারা যায়। পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে আমার হাতে। তারপর থেকে ওকে আর নিয়মিত শপিং করার জন্য টাকা দিতে পারিনি আমি,,তারপরেই প্রিয়ন্তী আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় ।
.জানেন ভাইয়া ও চলে যাওয়ার দিন একটা কথাই বলেছিলো,একটা ল্যাংড়া ছেলের সাথে নাকি জীবন কাটানো যায় না।
ভাইয়া বিশ্বাস করেন সেদিন রাতে অনেক কেঁদেছিলাম আমি। এখন আর কেউ আমাকে সুপারম্যান বলে না।.
.ভাইয়া আপনি কি আর একটা দিন দেখা করতে পারবেন আমার সাথে ??অনেক জমানো কথা বলার ছিলো আপনাকে। প্লিজ ভাইয়া অন্তত দশ টা মিনিটের জন্যও কি পারবেন দেখা করতে, ??
. কি রিপ্লাই দিব বুঝতে পারছি না। লিখতে গিয়ে বার বার হাতের আঙুল কেঁপে কেঁপে উঠছে আমার।
আচ্ছা আবার দেখা করার দিন ছেলেটা কি সেদিনের সেই সুপারম্যানের স্টিকার লাগানো লালটি- শার্ট টা পড়ে আসবে ???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now