বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

আমার ছেলের বউ করে 2

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিল জুঁই। বাসরঘরে একা সে পার করেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। এখনো ঘরে ঢোকেনি আকাঙ্ক্ষিত পুরুষটি। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে রুমের এসি বন্ধ করে জানালার পর্দা সরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠল সে। মহাশূন্যের আঁধারে ঢলে থাকা চিকন চাঁদ ক্রমেই ডুবে যাচ্ছে, উড়াল আঁধারের ভয়াল গ্রাস গিলে ফেলছে চাঁদ। তখনই অভিমানের জোনাকির ঝাঁক আচমকা আক্রমণ করল তার মনের সোনালি স্তর। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে...জোছনাকে যেমন গিলে খায় অমাবস্যার রাত্রি, দুর্ভাবনার মেঘও তেমনি গিলতে উদ্যত হয়েছে মিটিমিটি জ্বলতে থাকা নিজের মধ্যে জেগে ওঠা জোনাকির আলো। সব আলো কি তবে নিভে যাবে? চারপাশে কি কেবল জেগে থাকবে দৈত্যবাহুবিস্তারি দুর্ভেদ্য কোনো অন্ধকার? আচমকা একটা শব্দ হলো দরজায়। হুক খোলা ভেজানো দরজার দিকে চট করে ঘুরে দাঁড়াল জুঁই। বাসররাতে স্বামীর অপেক্ষায় জ্বলতে থাকা জোনাকির নিবু নিবু আলোর কণা দুমদাম জ্বলে উঠল উৎসারিত আতশবাজির ঝলসানো আলোর মতো। এবার দরজায় টোকা পড়ল...ঠক ঠক ঠক... এগিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল জুঁই। হ্যাঁ। বাসরঘরে ঢুকছে প্রত্যাশিত মানুষটি। জুঁই ভেবেছিল ঘরে ঢুকেই হয়তো মানুষটি বুকে জড়িয়ে নেবে তাকে; হয়তো পাঁজাকোলা তুলে নিয়ে শুইয়ে দেবে বিছানায়। না, তেমন কিছুই ঘটল না। পাশ কাটিয়ে খাটের দিকে যেতে যেতে তুষার বলল, ‘দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়ো। আমার ঘুম আসবে না। রাতে ঘুমাতে পারি না। ঘুম এলেও ভোররাতে ভেঙে যায়। কখনো কখনো উঠি দুপুরের দিকে। আশা করি, ডিস্টার্ব করবে না আমাকে। ঘুমের সময় ঘুমুতে দেবে।’ একি কথা! নতুন বউকে কি বাসররাতে এভাবে কোনো কথা বলতে পারে কেউ! কথার মধ্যে রাগ নেই। ধীরস্থিরভাবে অকপটে যা বলার বলেই খাটের পাশে রাখা ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসল তুষার। ছুরির ঘা খেল জুঁই। কতখানি ক্ষত হলো টের পেল না সে। ধেয়ে আসা নীরব রক্তস্রোতও বাইরে ভিজিয়ে দিল না তাকে। বিড়বিড় করল একবার। কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারল না। দরজায় হুক লাগিয়ে গুটি মেরে বসল খাটের কোণে। অনুভূতিশূন্য নববধূ না-বলা কথার মাধ্যমে দেহের ভাষায় জানান দিল, ‘আমিও ঘুমাব না।’ তুষার বলল, ‘দেখো। মা-ই তোমাকে পছন্দ করে এ বাড়ির একমাত্র ছেলের বউ করে এনেছেন। শাশুড়ির আদরের ঘাটতি হবে না। প্রাচুর্যের অভাব নেই। ইচ্ছেমতো জীবন উপভোগ করতে পারবে এখানে।’ আবার বিষছুরির ফলা ঢুকে যেতে লাগল জুঁইয়ের বুক ফুঁড়ে। রক্তবন্যায় ভেসে যেতে লাগল সে। অন্তর্গত লাল স্রোতে ডুবে যাওয়ার আগেই আকুল চোখে তাকাল পরিচিত হওয়ার বাসনায় অচেনা লোকটির দিকে। চোখাচোখি হওয়া মাত্রই তুষার আবার বলল, ‘আমি যাকে ভালোবাসি, তার নাম চৈতি। আর আমার মা যাকে ছেলের বউ করে এনেছেন তার নাম জুঁই, তুমি। তোমার আর আমার মাঝে চিরজীবনের জন্য শুয়ে থাকবে একটা লাশ। সেটা হচ্ছে মৃত ভালোবাসার লাশ। এ লাশ টপকিয়ে তোমাকে ছুঁতে পারব না আমি, তুমিও ছোঁয়ার চেষ্টা কোরো না আমাকে, কেমন।’ ভোর হলে কচি সূর্য ওঠে। আলো ছড়ায়। তেজ বাড়ে আলোর। সন্ধ্যা এলে তেজ কমে, আঁধারে ডুবে যায় আলো। জুঁইয়ের মনে হলো, তার ভালোবাসার কচি সূর্যটা আঁধারেই ডুবে গেল এখনই, দিনের সূর্য আর দেখবে না কোনো দিন। শোঁ শোঁ আওয়াজ হচ্ছে। শব্দের তোড়ে জাগতিক শব্দও ডুবে যাচ্ছে মধ্যকর্ণের খাদে। মাথার ওপর ফ্যান ঘুরছে। ওপরের দিকে তাকাল জুঁই। ছাদের হুকে আটকে আছে ফ্যান। ঘুরছে। শোঁ শোঁ আওয়াজ আরও তীক্ষ হচ্ছে। আর জীবনতরঙ্গে ডুবে যাচ্ছে সেও। তাকিয়েই আছে সে ফ্যানের দিকে। ঘোরতর আঁধার জেগে উঠল চোখে। আঁধারেই টের পেল, ফ্যান নয়, হুকে আটকে গিয়ে নিজেই শাঁই শাঁই করে ঘুরছে জীবনপাখায়। আর পাখার ঘূর্ণনে ছড়িয়ে যাচ্ছে লাশের গন্ধ। দুর্গন্ধ নয়, লাশ থেকে বেরোচ্ছে সুঘ্রাণ। অন্য রকম ঘ্রাণটি নাকে টেনে বড় বড় চোখ মেলে তাকাল শূন্যে, দেখল নিজেকে খাটের কোণে। চেয়ারের বসা তুষারকেও দেখল। আর দুজনের মাঝে অটল বৃক্ষের মতো দাঁড়ানো একটা লাশও সে দেখল, এ লাশ কার? তুষারের মৃত ভালোবাসার? চৈতির? নাকি নিজেরই? কিছুই বুঝতে পারল না জুঁই...কিছু না। তুষারও টের পেল না অদৃশ্য এক লাশ বহন করতে গিয়ে বাসররাতেই সে নববধূকে উপহার দিল একটি জীবন্ত লাশ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ আমার ছেলের বউ করে 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now